
কর্নেল সমগ্র ৪
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
লাভার্স বিচ
দুদিন ধরে ওদের এই অদ্ভুত লুকোচুরি খেলা দেখছি। ছেলেটি এসে সমুদ্রতীরে উঁচু বালি-মাটিতে ভাঙাচোরা পাথরের বাড়িগুলোর ভেতর দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর মেয়ে টিকে আসতে দেখলেই লুকিয়ে পড়ে। মেয়েটি এসে তাকে খোঁজে। যেই টের পায় তার অস্তিত্ব, অমনি শুরু হয় ওই লুকোচুরি। কখনও বা উল্টোটা। আগে মেয়েটি এসে অপেক্ষা করে। তারপর ছেলেটিকে আসতে দেখলে অমনি লুকিয়ে পড়ে। একই লুকোচুরি খেলা শুরু হয়। শেষে দেখি, ঢালু পাড়ের বালিয়াড়ি ভেঙে দুজনে হাত ধরাধরি, গড়াতে-গড়াতে বিচে নামে এবং ছেলেটি, কখনও মেয়েটি আগে দৌড়ুতে থাকে। দুর্বিনীত সামুদ্রিক বাতাসে দুজনের চুল ওড়ে। শাড়ির আঁচল খসে পড়ে। পরস্পরকে তাড়া করার ভঙ্গিতে প্রলম্বিত সংকীর্ণ বিচ ধরে কতদূর-বহুদূর ছটে চলে। তারপর শালীনতাবশে আমি বাইনোকুলার নামিয়ে ফেলি চোখ থেকে। আমি এক বৃদ্ধ মানুষ। চিরকুমার। আমার জীবনে কখনও এমনতরো ঘটনা ঘটেনি, যদিও আমার একদা ওই বয়স ছিল। চপলতা ছিল। আবেগ ছিল। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে পারতুম। অথচ কখনও সে বয়সে কোনো তরুণীর সঙ্গে এমন খেলা খেলার সুযোগ পাইনি। তাই ওদের ওই খেলাটাকে ঈর্ষাজনক এবং অদ্ভুত লাগে। কী সুখ এমন খেলায় আমি জানি না, বুঝতে পারি না।
চন্দনপুর-অন-সি ওড়িশার সমুদ্রতীরে একটি ছোট্ট জনপদ। বেমরশুমে, এই সেপ্টেম্বরে তার বিচ একেবারে জনহীন খাঁ খাঁ। সেই ভোরে–অতি প্রত্যূষে দীর্ঘ বিচের উত্তরপ্রান্তে যেখানে জেলেবস্তি, তেলুগুভাষায় যাদের বলে নুলিয়া, কঁক বেঁধে ছোট-ছোট নৌকো নিয়ে সমুদ্রের সঙ্গে লড়াইয়ে নামে। এ সমুদ্র বড় উদ্ধত। অহঙ্কারী। তবু এক ঝক কালো কালো শীর্ণকায় মানুষের এ লড়াই বেঁচেবর্তে থাকার লড়াই। এই লড়াই দিয়েই আবহমানকালব্যাপী মানুষ প্রকৃতিকে পরাজিত করেছে। এ সমুদ্রও প্রকৃতি। তার বুকে ছোট-বড় নানা গড়নের কালো পাথর মাথা উঁচিয়ে আছে। প্রচণ্ড ঢেউ আর ওইসব কালো পাথরের অস্ত্র দিয়ে সমুদ্র মানুষকে রুখতে চায়। পারে না। দুপুর নাগাদ যখন ক্লান্ত নুলিয়ারা ফিরে আসে, তখন তাদের নৌকো-ভরা ঝকঝকে রুপোলি সমুদ্র শস্য। তারপর আবার বিচ জনহীন খাঁ খাঁ-নিরুপদ্রব। পাড়ে বালিয়াড়ির মাথায় শক্ত মাটিতে দাঁড়ানো প্রচীনযুগের পর্তুগীজ আর মুঘল বণিকদের পাথরের বাড়িগুলো নিজস্ব নির্জনতা ফিরে পায়। কী গম্ভীর প্রগাঢ় সেই নির্জনতা–যেন মহাকালের হাঁ-করা মুখ। সমুদ্রের গর্জন, জলপাখিদের চিৎকার, প্রেমিক-প্রেমিকার কণ্ঠস্বর আর হাসি, সবকিছুই সেই হাঁ-করা মুখের ভেতর লুপ্ত হয়ে যায়। কোনো শব্দ আর তখন শব্দ নয়। দিনের আলোও দিনের আলো নয়, কিংবা অন্ধকার বা জ্যোৎস্নাও অন্ধকার বা জ্যোৎস্না নয়। সবই ওতপ্রোত একাকার, গম্ভীর এক সময়সত্তা।
ঠিক বোঝাতে পারছি না, চন্দনপুর-অন-সি বেলাভূমিতে আসলে যেন বিরাটেরই স্বাদ অনুভব করতে পারছিলুম। তাই নিজেকে একা আর তুচ্ছ লাগছিল। মনে হয়েছিল ছেলেটি ও মেয়েটির সঙ্গে আলাপ করি। কিন্তু ওদের কাছাকাছি পৌঁছুতে পারছিলুম না। যখনই পা বাড়িয়েছি, ওরা দ্রুত সরে গেছে দূরে।
তৃতীয় দিনের বিকেলে বিচে একটা প্রকাণ্ড পাথরের ওপর বসে আছি, হঠাৎ ঘসঘস শব্দে চমকে উঠলাম। দেখলাম, ছেলেটি ধ্বংসস্তূপের নিচেকার বালিয়াড়ি দিয়ে একরাশ বালি ধসিয়ে অন্যদিনের মতোই নেমে এল। এসে আমার থেকে আন্দাজ পনের মিটার দূরে দাঁড়াল। তার পরনে অন্য দিনের মতোই হাল্কা ছাইরঙা গেঞ্জি আর জি, পায়ে নীলচে কেডস। তার রুক্ষ বড়-বড় চুলের কাঁপ সামুদ্রিক বাতাসে ছত্রখান হচ্ছিল। কয়েক মিনিট সে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। একটা বড় ঢেউ এসে ভেঙে পড়ল এবং সাদা একরাশ ফেনিল জলের হাল্কা একটা স্তর তাকে পেরিয়ে গেল। তবু সে দাঁড়িয়ে রইল।
একটু কাশলুম। তখন সে আমার দিকে একবার মুখটা ঘোরাল। গলা ঝেড়ে নিয়ে তাকে লক্ষ্য করে বললুম, আকাশ আজ দারুণ পরিষ্কার। কালকের মতো বৃষ্টি নামার লক্ষণ নেই। অথচ সমুদ্রকে কেমন যেন পাগলাটে দেখাচ্ছে। তাই না?
ছেলেটির বয়স চব্বিশ-পঁচিশের মধ্যে। দেহের-গড়নে স্পোর্টস-ম্যানের আদল আছে। ওর বাহুর পেশী শক্ত হয়ে ফুলে উঠেছে এবং মুখেও একটা শক্ত ভাব, চোয়াল আঁটো। চোখে কী একটা হিংস্রতানাকি অভিমান, কিংবা ক্ষোভ, সঠিক বুঝতে পারছিলুম না। একটু অবাক লাগছিল ওর চাউনি দেখে। আমার কথা শুনছিল কি না, জানি না। তবু আলাপ করার প্রগলভতায় এবং চিরাচরিত স্বভাবে বলতে থাকলুম, আসলে পাহাড় বলুন, জঙ্গল বলুন, কী মরুভূমি বলুন– প্রকৃতির সবচেয়ে রহস্যময় জিনিস হলো সমুদ্র। ওই গুমগুম চাপা গম্ভীর শব্দটা শুনুন! পর্দার আড়ালে কী তুমুল একটা কাণ্ড ঘটছে মনে হয়। যেন হয়, এবার প্রকাশ্যেই দেখতে পাব সাংঘাতিক কিছু জাস্ট লাইক অ্যান নিউক্লিয়ার এক্সপ্লোসান!
এইসব কথা বলতে বলতে পাথরটা থেকে নেমে আমি ওর কাছাকাছি গেলুম ও সমুদ্রের দিকে মুখ রেখে আস্তে বলল, আর য়ু আর লেকচারার অফ ফিলসফি?
হেসে ফেললুম। ও নো, নো। জাস্ট অ্যান অবজার্ভেশান।
দেন হু আর য়ু?
নিতান্ত একজন ট্যুরিস্ট।
দীর্ঘ একমিনিট চুপচাপ থাকার পর বলল, আপনার কাছে বাইনোকুলার কেন? আপনি কি বার্ডওয়াচার?
ইংরেজিতেই দুজনের কথা চলছিল। কিন্তু আমার সন্দেহ হচ্ছিল যুবকটি বাঙালি। আজকাল আর আগের মতো বিশেষ করে ছেলেমেয়েদের দেখে বাঙালি-অবাঙালি কিছু বোঝা যায় না। তাহলেও এ চোখ কর্নেল নীলাদ্রি সরকারের। আমি আরও এক পা এগিয়ে তার কাঁধে হাত রাখলুম। সে দ্রুত, যেন, অপ্রত্যাশিত গায়ে-পড়া অন্তরঙ্গতায় খাপ্পা হয়েই ঘুরে দাঁড়াল আমার মুখোমুখি। আমিও দ্রুত বলে উঠলুম, হোয়াট হ্যাঁপড়, ইয়ং ম্যান? কী ঘটেছে?
আস্তে কাঁধ থেকে আমার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলল, নাথিং! কেন এ প্রশ্ন করছেন?
এবার সেও আমারই মতো দ্বিতীয় বাক্যটি বাংলায় উচ্চারণ করল। একটু হেসে বললুম, আপনার চেহারায় কথাটি লেখা আছে। নানা। সংকোচের কোনো কারণ নেই। এই দূরদর্শন যন্ত্রটি দিয়ে প্রকৃতি এবং মানুষ উভয়ই আমি পর্যবেক্ষণ করি। এ আমার একটা হবি। আপনার বন্ধুটি কি আপনার সঙ্গে ঝগড়া করে চলে গেছে?
যুবকটির মধ্যে মুহূর্তের জন্য হিংসা ঝিলিক দিল–তার ব্যক্তিগত ব্যাপারে এক ধূর্ত বৃদ্ধ নাক গলাচ্ছে বলেই। কিন্তু পরমুহূর্তে সে সংযত হলো। লক্ষ্য। করলুম, সে কাকতাড়ুয়ার মতো বিশীর্ণ আর শুকনো হয়ে যাচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে। যেন এখনই ভেঙে পড়বে ভিজে বালির ওপর। সে মুখটা নামাল। তার নাসার ফুলে উঠল। চোয়াল আরও ঠেলে উঠল।
ফের বললুম, মানুষের গতিবিধিও আমার পর্যবেক্ষণের বিষয়। তাছাড়া
আমাকে থামিয়ে দিয়ে হিসহিস করে বলে উঠল, তাহলে আপনি সবই দেখেছেন! য়ু আ পার্ভাটেড ওল্ড ম্যান! আই হেট যু! তারপর সে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল।
বললুম, শুনুন! আমি কর্নেল নীলাদ্রি সরকার!
আই কেয়ার আ ফিগ ফর আ গড়ড্যাম কর্নেল অর আ ব্লাডি হেল! এই গজরানি দিয়ে সে দ্রুত হাঁটতে থাকল সিধে বিচ বরাবর দক্ষিণে। ওদিকে সাদা ও লাল লাইটহাউসটি শূন্যনীল শেষবেলার আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ধু ধু করছে ধূসর জনহীন উঁচু টিলার মতো বালিয়াড়ি। নিচের বিচে একটা নেড়ি কুকুর আর একটি ন্যাংটো নুলিয়া বালক আপনমনে খেলা করছে।
যুবকটি তাদের পাশ দিয়ে এগিয়ে বালিয়াড়িতে উঠে গেল এবং ওপাশে অদৃশ্য হলো। তখন আমি আস্তে আস্তে পেছনকার বিধ্বস্ত পাথুরে বাড়িগুলোর ভেতর উঠে গেলুম। গাঢ় ছায়া সেখানে। কী এক অবচেতন কৌতূহলে–কিংবা ইনটুইশান বশে কী যেন খুঁজতে থাকলুম। একটু পরে মনে হলো, কী খুঁজছি এখানে? কী? কেনই বা অনুসন্ধানবৃত্তি পেয়ে বসল ভূতের মতো?
ঘরগুলোর দেয়াল ভাঙাচোরা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও খানিকটা ছাদের টুকরো ঝুলে আছে। সে-সবের ভেতর দিয়ে শেষদিকে উত্তরপ্রান্তে ঘুপটি একটুকরো ঘর আবিষ্কার করলুম। তার এদিকের দেয়ালে একটা প্রকাণ্ড ফোকর। ফোকরে উঁকি দেওয়ার আগে জ্যাকেটের পকেট থেকে টর্চ বের করে নিলুম। ছোট্ট ঘরটা নিশ্চয় গুদাম ছিল। ওপাশে ভাঙা দরজা। ভেতরটা এখনই গাঢ় আঁধারে ভরে গেছে। টর্চের আলোয় মেঝেটুকু স্পষ্ট হয়ে উঠল।
এইসব বিধ্বস্ত পাথরের বাড়িগুলোর ভেতর শুধু বালি আর বালি ভর্তি। এই টিকে থাকা খুদে ঘরটির মেঝেতেও চাপ-চাপ বালি। সেই বালিতে কয়েকটা জুতোর সোলের স্পষ্ট ছাপ এবং ব্যাপারটা অদ্ভুত একারণেই যে ছাপগুলো শেষ হয়েছে এই ফোকরের নিচেই।
হুঁ, কেউ দাঁড়িয়ে ফোকর দিয়ে কিছু লক্ষ্য করেছিল অথবা লক্ষ্য করত। কিন্তু কে সে? কী লক্ষ্য করত সে?
.
চন্দনপুর-অন-সিতে আমি যে ছোট্ট বাংলোবাড়িতে উঠেছি, সেটি আমার এক বন্ধু অরবিন্দ পাণিগ্রাহীর। তিনি ব্যবসায়ী মানুষ। থাকেন মেহেরগঞ্জে এখান থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরের শহরে। এই বাংলোবাড়ির নাম ‘উদয়াচল। কেয়ারটেকার আছে। তার নাম গউড়-অ। ওড়িয়া ভাষার অ-কারান্ত উচ্চারণ বাংলায় লেখা কঠিন। তাই তাকে বরং গউর বলা যাক, গৌরের বাংলা। অপভ্রংশ। তাছাড়া এই গউর বা গউড়-অ-চমৎকার বাংলা বলে। শুধু তাই নয়, সে হিন্দি এবং তেলুগুও বলতে পারে। এই চতুৰ্ভাষাবিদ লোকটির বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। অতিশয় বুদ্ধিমান এবং মালিকের অতিথির চমৎকার সার্ভিস দিতে পটু। সে-রাতে খেতে বসে তাকে জিগ্যেস করলুম, সমুদ্র তার কেমন লাগে?
আমার প্রশ্নটা নিশ্চয় তার অদ্ভুত লাগল। তাই যেন বলল, কেমন লাগবে স্যার? সমুদ্রের ধারে যার জন্ম আর এতকাল থাকা, তার কাছে সমুদ্র তো সমুদ্রই। আপনি যদি নতুন কিছু দ্যাখেন, তাহলে বুঝবেন সেটা ভাল না খারাপ।
একটু হেসে প্রশ্নটা শুধরে দিলুম। …না–মানে, তুমি সকাল-বিকেল বা কোনো সময় ফুরসত পেলে সমুদ্রের ধারে বেড়াতে যাও কি না?
গউর হাসতে লাগল। …তা যাই স্যার। তবে সমুদ্রের আর নতুন কী দেখব? যাই নুলিয়াদের কাছে মাছ-টাছ আনতে। কখনও কারুর সঙ্গে দেখা হলে বিচে একটু বসে গপ্পসপ্প করি–এই আর কী?
আচ্ছা গউর, গত কয়েকদিনে তুমি কি কোনও যুবক-যুবতী–মানে ছেলে মেয়েকে দেখেছ বিচে?
গউর আরও হাসতে লাগল। …স্যার, চন্দনপুর বিচের একটা পুরনো নাম আছে। আজকাল নামটা সবাই ভুলে গেছে। ব্রিটিশ আমলে–তখন আমি এইটুকু ছেলে, তবু মনে আছে, লোকে বলত লাবার্স বিচ! বড় বদনাম ছিল, স্যার!
লাবার্স বিচ, নাকি লাভার্স বিচ?
ওই হলো আর কী। গউর ঈষৎ লজ্জায় আড়ষ্টভাবে বলল। ক’বছর আগে অব্দি অফ-সিজন বলতে কিছু ছিল না। সব সময় জোড়া-জোড়া–মানে স্যার, বুঝলেন তো? লাজলজ্জার বালাই নেই–সেকালের সায়েবমেমদের মতো ‘নেকিড’ হয়ে বিচে, নয়তো বালিয়াড়িতে…।
সংকোচে সে থেমে গেলে বললুম, বুঝেছি।
গউর বলল, তো শেষে পুলিশ খুব পেছনে লাগল। মাঝে-মাঝে খুনখারাবিও হতো। মানে কে কার বউ ভাগিয়ে নিজের বউ সাজিয়ে এনেছে, আর তা ‘হাজব্যান্ডো’ তক্কেতক্কে চলে এসেছে। শেষে–গউর ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে ফের বলল, কাগজে লেখালেখির চোটে পুলিশ ক্যাম্প বসালে বিচের মাথায়। তারপর এই অবস্থা। ওই এক শীতকালটা যা ভিড়ভাট্টা, তারপর বাকি সময় খাঁ খা পড়ে থাকে। যদি বা কেউ এস পড়ে, মন টেকে না। একটা দিন থেকে চলে যায়।
কেন? গউর এ প্রশ্নে একটু অবাক হল। বলল, মানুষ আসলে ভিড়ভাট্টাই বেশি ভালবাসে, স্যার। এখানে আছেটা কী? না বাজার, না কিছু। একটা মোটে হোটেল বা কারুর এইরকম লজ বা বাংলো। আর হোটেল মানে কী, নিশ্চয় দেখেছেন স্যার?
দেখেছি। মাটির ঘর।
মাটির ঘর। গউর রিপিট করল। শীতের সময়টা বাদ দিলে খাঁ খাঁ। না খদ্দের, না কিছু।
খাওয়া শেষ করে জল খাচ্ছিলুম। তখন গউর এঁটো থালাবাটি গোছাচ্ছিল টেবিল থেকে। জল খেয়ে বললুম, হা-তাছাড়া লাইটহাউসের পেছনে ডিফেন্স ডিপার্টের বিভিন্ন দফতর আছে। আর্মি ট্রেনিং সেন্টার আছে। তাই এখানে আসতে স্পেশাল পারমিট লাগে। সেই ঝামেলায় এই অবস্থা হয়েছে।
আজ্ঞে, আজ্ঞে। গউর সায় দিয়ে বেরিয়ে গেল কিচেনের দিকে।
আরাম করে বারান্দার ইজিচেয়ারে বসে চুরুট টানছি, সবে জ্যোৎস্না ফুটেছে, মনে পড়ল, ওই যা! গউর তো