
কর্নেল সমগ্র ১৭
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
ভূমিকা
বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যে ব্যোমকেশ পরবর্তী সময়ে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লেখা গল্প উপন্যাসে যে সব গোয়েন্দা বা রহস্যভেদীর আবির্ভাব হয়েছে, কর্নেল নীলাদ্রি সরকারের জনপ্রিয়তা তাদের সবার মধ্যে শীর্ষে। ১৯৬৯ সালে সাপ্তাহিক অমৃত পত্রিকায় কর্নেল-এর প্রথম উপন্যাস “ছায়া পড়ে” ধারাবাহিক ভাবে শুরু হয়। পরবর্তীকালে ১৯৭০ সালে বেঙ্গল পাবলিশার্স থেকে এটি প্রথম বই আকারে প্রকাশ পায়। কর্নেল-এর আবির্ভাব সম্পর্কে লেখক “ছায়া পড়ে”-এর ভূমিকাতে যা লিখেছিলেন তা এইরকম–
‘১৯৬৯ সালে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক অমৃত পত্রিকার সম্পাদক শ্রদ্ধেয় কবি মণনীন্দ্র রায়ের আদেশে একটি ধারাবাহিক উপন্যাস শুরু করি। জানি না কীভাবে পটভূমি এসে যায় আমার জেলার মফস্বল শহর লালবাগ, একদা যার নাম ছিল মুর্শিদাবাদ, সুবা বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার রাজধানী। সেই প্রাচীন রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ এক কবর পরিকীর্ণ পটভূমিতে কলকাতার পাঠকদলের যুবক-যুবতীদের নিয়ে প্রকৃতপক্ষে একটি রোমান্টিক কাহিনিরই আদল ছিল মনে। সহসা ঘটে গেল হত্যাকাণ্ড। তারপর থমকে দাঁড়াতে হল। সম্পাদককে টেলিফোনে জানালাম, একটা খুনোখুনি বাধিয়ে ফেলেছি। তবে তিনিই নির্বিকার কণ্ঠে বললেন, বেশ তো। এবার একজন গোয়েন্দা নিয়ে এস। কথাটা আমার অবচেতনায় আঘাত করেছিল। মনে পড়েছিল ১৯৫৬-তে বিয়ের পর হনিমুনে গিয়ে মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক খণ্ডহরে এক বিচিত্র মানুষকে আবিষ্কার করেছিলাম, ‘কর্নেল নীলাদ্রি সরকার’ নামে আমার প্রথম রহস্য উপন্যাসে আবির্ভাব ঘটলো তাঁর।’
দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রথম কর্নেল সমগ্র প্রকাশ পায় ১৯৯৪ সালের কলকাতা বইমেলায়। এখনও মনে পড়ে সেই সময় প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া সত্ত্বেও গোগ্রাসে গিলেছিলাম খণ্ডটা, সেই শুরু, তারপর ‘কর্নেল সমগ্র’ ১৬ খণ্ড পর্যন্ত প্রকাশিত হলেও সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে গ্রন্থিত হয়নি প্রথম উপন্যাস “ছায়া পড়ে”, অবশেষে ১৭ তম খণ্ডতে আরও দুটি উপন্যাসের সাথে অন্তর্ভুক্ত হল কর্নেলের প্রথম উপন্যাস। এই খণ্ডের ‘তখন অনেক রাত’, উপন্যাসটিও বেশ কিছু বছর ধরে আর ছাপা হয় না। কর্নেলের অসংখ্য অনুরাগী পাঠকের কাছে এর থেকে ভালো উপহার হয়তো আর হতে পারে না। পুরো পরিকল্পনাটাই বাস্তবারিত হয়েছে অপুদা সহ দে’জ পাবলিশিং-এর সবার প্রচেষ্টায়, আরও বেশ কিছু কর্নেল এর গল্প উপন্যাস নিয়ে “কর্নেল সমগ্র”-এর পরবর্তী খণ্ডগুলিও শীঘ্রই নিয়ে আসতে পারব আশা করি। যদি কোনও সহৃদয় কর্নেল অনুরাগী পাঠক আমাদের এব্যাপারে সাহায্য করেন তাহলে বিশেষভাবে উপকৃত হব। সবশেষে একটাই কথা বলি “কর্নেল নীলাদ্রি সরকার দীর্ঘজীবী হোন”।
অরিন্দম দীঘাল
যাদবপুর
কলকাতা-৭৫
ছায়া পড়ে
০১.
আড়াইশো বছরের ঠান্ডা কামানটার ওপর পা ঝুলিয়ে বসে কল্পনা গাইড বুকের পাতা ওল্টাচ্ছিল। সামনে শীতের শান্ত নীল গঙ্গা। বালির চরে কয়েকটা লেজনাচানো পাখি। ওপারে রোশনিবাগের কবরখানায় যেখানে সুবে বাংলা-বেহার-উড়িষ্যার এক পরাক্রান্ত নবাব সুজাউদ্দীন অবাধ ঘুমে মগ্ন, সেখানে দীর্ঘ উদ্ধত শিমুলের শীর্ষ লাল ফুলে ভরা। ওদিকেই কোথায় যেন ছিল ভাগ্যহত সিরাজদৌলার সাধের হীরাঝিল। অজস্র গাছ আর ঝোঁপ-জঙ্গলে সবুজের দুর্ভেদ্য দুর্গ ওপারে। বড় রহস্যময় লাগে। সামনে কয়েক পা হাঁটলে মিয়ানো কাতর ঘাসে টাকা প্যালেস চত্বরের শেষ প্রান্তে সাদা পাথরে বাঁধানো ঘাট। ঘাটের ওপর মণ্ডপাকৃতি ছাউনি। সেখানে একটা থামে হেলান দিয়ে বসে আছে নীরেন। তার সামনে দাঁড়িয়ে হাত-মুখ নেড়ে কী আওড়ে চলেছে শুভ। অবাধ উত্তরে-হাওয়ার বেগে তার রুক্ষ চুল উড়ছে। পাঞ্জাবি উড়ছে। ধুতিও ওড়াউড়ি করছে। অত রোগা অত ঢ্যাঙা শুভ! হাওয়ার তাড়ায় এক্ষুনি সোজা গঙ্গার ঠান্ডা জলে গিয়ে না পড়ে! কবিতা শোনাচ্ছে নির্ঘাৎ। কল্পনা মাঝে মাঝে মুখ তুলে দৃশ্যটা দেখছিল আর মুখ টিপে হাসছিল। কিন্তু নীরেনের আজ হল কী? দিব্যি সুবোধ বালকটি বনে শুভর কবিতা গিলছে নিঃশব্দে,–এমন তো হবার কথা নয়!
স্বাতীকে এতক্ষণে ইমামবাড়ির ফটক পেরিয়ে আসতে দেখা গেল। পাশে যথারীতি দিব্যেন্দু। দুজনেরই চোখে গগলস। রোদে অবশ্য তত বেশি উজ্জ্বলতা নেই। একটু ভিজে ভাব থাকায় উষ্ণতাটুকু যে ওম জোগাচ্ছে, তা চোখের পক্ষে স্নিগ্ধ। আকাশের এখানে-ওখানে ছিটেফোঁটা মেঘ রয়েছে। ঘুম ভাঙবার পরই স্বাতীর মুখে খবর জানা গিয়েছিল, আবহাওয়া প্রতিকূল। দারুণ কুয়াশা। সারা আকাশ হাল্কা মেঘে ঢাকা। স্বাতীর খুব ভোরে ওঠা অভ্যাস। উঠে বাইরে কিছুক্ষণ ঘুরে এসেছিল। ও পাক্কা অ্যাথলেট মেয়ে। ওর পক্ষে এটা সম্ভব। বিদেশে-বিভুয়ে বেড়াতে এসেও অভ্যাস বা বিধি বদলায় না। তাতে নাকি হঠাৎ স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে এবং একা রামে রক্ষে নেই, দোসর লক্ষ্মণ সঙ্গে। ওই দিব্যেন্দু। সেও জাত অ্যাথলেট। দুটিতে যা সব কথাবার্তা বা তর্ক-বিতর্ক চলে, সবই খেলাধুলোর রাজ্যের। কল্পনার তাতে বিন্দুমাত্র উৎসাহ বা কৌতূহল নেই। সে মনে মনে বিরক্ত হয়। তেঁকি স্বর্গে গিয়েও যে ধান ভানে, তার জলজ্যান্ত নমুনা ওরা দুটিতে। অবশ্য এবার মুরশিদাবাদ বেড়াতে এসে দিব্যেন্দু সম্ভবত একটু অন্যরকম হতে চাচ্ছিল, হতে পারছে না স্বাতীর জন্যে। দিব্যেন্দু যদি বা ইতিহাসের প্রসঙ্গ তোলে, স্বাতী সঙ্গে সঙ্গে তার মোড় ফিরিয়ে দেয়। সে কি স্বাতীর বাজি জিতে নেওয়ার চেষ্টা? কল্পনা ব্যাপারটা বুঝতে পারে না। দিব্যেন্দুকে সব সময়–অন্তত বাইরে কোথাও গেলে, স্বাতী যে এমনি করে আটকে রাখতে চায়। বাহুবন্ধনে? হয়তো তাই।কল্পনা মুখ টিপে হাসে, কিন্তু খারাপও লাগে। কত কী আছে জীবনে, কত ছোট-বড় সূক্ষ্ম বা গভীর লক্ষ করার বস্তু। ওই সব গাছপালায়, বাতাসে, রোদে, জলে, আকাশে! কল্পনা কবিতা লিখতে পারে না। শুভ পারে। এখানে আসাঅব্দি শুভর প্রতি সে মনোযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু সংকোচ-সংকোচ সে ওই স্বাতীর জন্যে। বাইরে বাইরে যা দেখার মতো ব্যাপার, তা হচ্ছে আপাতত স্বাতীর গারজেন দিব্যেন্দু আর কল্পনার গারজেন স্বাতী।
পোশাকে স্বাতী সবসময় বিদেশিনী অর্থাৎ পশ্চিমি। খুব সফিসটিকেটেড ধরনের মেয়ে। স্বাতীর মতো খেলোয়াড় মেয়ের পক্ষে এটা বেমানান লাগে। সচরাচর খেলোয়াড়েরা-কল্পনার যা ধারণা, একটু বোকাসোকা, সরল, অন-সফিসটিকেটেড হবে। স্বাতী তার উল্টো। গত রাতে নীরেন একটা তর্ক তুলেছিল–যা কিছু ওয়েস্টার্নাইজেশন, তাই মডার্নিজম কি না। কল্পনা টের পাচ্ছিল এ আক্রমণের লক্ষ স্বাতী। হোটেলের ডাইনিং হলে কাল রাতে স্বাতীর অমন আঁটো প্যান্ট আর ক্ষুদে কোট সবার চোখেই হয়তো বিসদৃশ ঠেকছিল। তর্ক জমতে দেরি হয়নি। সেই প্রৌঢ় অধ্যাপকও যোগ দিলেন টেবিলে। কী নাম যেন–দেবতোষ ব্যানার্জি। খুব চেনা লাগে নামটা। কবে যেন শুনেছিল নামটা, মনে পড়ে না। তর্করাত বারোটা অব্দি গড়াচ্ছিল। হঠাৎ ওপর থেকে নেমে এলেন অধ্যাপকের জাঁদরেল জেনারেল গিনিটি। অধ্যাপক নত মস্তকে ত্রাহি ত্রাহি গোন আর্তনাদ তুলে বিদায় নিলেন।……
বেলা বাড়লে কল্পনারা যখন বেরিয়েছে, অধ্যাপক দম্পতিকে দেখা গেছে নহবতখানার ওদিকে। রিকশা চেপে কোথায় চলেছেন দুটিতে। স্বাতী হাসতে হাসতে বলেছিল, শূর্পনখা ব্যানার্জি! অদ্ভুত নাম দিয়েছে নীরেন। কী নাম যেন ভদ্রমহিলার এই শুভ, বলো না নামটা? তুমি তো কাল বিকেলে ওঁর সঙ্গে দিব্যি জমিয়ে ফেলেছ মনে হচ্ছিল।
শুভ বলেছিল, সুদেষ্ণা। তা তোমরা যাই ভাবো ওঁকে, ওঁর হৃদয় আছে।
নীরেন চাঁটি তুলে বলেছিল, থাম ব্যাটা কবি। হৃদয় আবিষ্কার করে বেড়াচ্ছে সেই থেকে। এখন হৃদয়ের বাসস্থান মগজে।তার খবর রাখিস?
প্রকারান্তরে নীরেনের কথাটা যথার্থ হতে পারে। কল্পনার ধারণা–কেন এ ধারণা হল সে জানে না, ভদ্রমহিলা সম্ভবত বুদ্ধিমতী। সব দিকে লক্ষ তীক্ষ্ণ। তা না হলে কল্পনার টুথব্রাশ হারানোর ব্যাপারটা নিয়ে সবাই যখন হাসাহাসি করছে, নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলেছিলেন, বিদেশে এসেছ মেয়েরা, সাবধানে থাকো না কেন? এর পর আস্ত মুখের দাঁত চুরি যাবে, দেখে নিও। ছ্যা-ছ্যা, কী জায়গায় না আসা গেছে!
কে জানে কেন, কথাটা শুনে গা শিউরে উঠেছিল কল্পনার। তবে মজার কথা দাঁত যাবার আগেই স্বাতীর এক পাটি কেডস জুতো গেছে। কুকুর-টুকুর নয় তো? প্যালেস হোটেলের মধ্যে কুকুর নেওয়া নিষেধ। তাছাড়া বাইরের লোকেরা কেউ কুকুর নিয়ে বেড়াতে আসেন না এখানে। এক সম্ভাবনা, স্থানীয় নেড়ি কুত্তা। কিন্তু হোটেলের ম্যানেজারটি ভীষণ উঁদে। ভদ্রলোকের চোখ এড়িয়ে নীচের লনটুকু পার হওয়া কুকুর কেন ছুঁচোর পক্ষেও অসম্ভব। সুতরাং সবাই ধরে নিয়েছে নির্ঘাৎ দলের কারও তামাশা।……।
অন্যমনস্কভাবে কল্পনা গাইডবুকের পাতা ওল্টাচ্ছিল। পড়ছিল না কিছু। স্বাতী আর দিব্যেন্দুকে এদিকে আসতে দেখে তাদের দিকেই তাকিয়ে রইল এবার। বিভাসের কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ। ওদের সঙ্গে ইমামবাড়ির ভিতর ঢুকেছিলেন ভদ্রলোক। এখনও বেরোলেন না যে!
গলায় ঝুলন্ত ভিউফাইন্ডারটা তুলে চোখে রাখল কল্পনা। এদিক ওদিক দেখতে দেখতে দূরে নহবতখানার ওপরতলায় দৃষ্টি পৌঁছল। আরে! থামে হেলান দিয়ে বুকে দুটো হাত বেঁধে বিভাসবাবু তাকিয়ে আছেন ভাঙা কেল্লাবাড়িটার দিকে। শুভর মতো ভাব লেগেছে বুঝি মনে! কল্পনা মুখ টিপে একটু হাসল। ওঁর গানের কলিটা মনে পড়ছে।
আমরা সবাই এসেছিলাম হারিয়ে যাবার খেলায়…..
নিশীথ রাতে পাতাঝরা বনে……
অন্ধকারের ভেলায়…..
বেশ গায় বিভাস। কাটরা মসজিদদের মিনারের ওপরতলায় উঠে জমিয়ে তুলেছিলেন ভদ্রলোক। কেবল বেরসিক নীরেনটা আচমকা ডি এল রায়ের বুড়ো বাদশা শাহজাহান সেজে চেঁচিয়ে উঠেছিল, দিই লাফ, দেবো লাফ…এবং গানটা আকাশের শূন্যে অকালে মারা পড়েছিল কাল বিকেলে।
ভিউফাইন্ডারে বিভাসকে তন্ময় হয়ে দেখছিল কল্পনা। ফরসা রং টানা চোখ নায়কোচিত মুখশ্রী। বড় বড় চুল বাতাসে উড়ছে। একটুখানি অন্যমনস্ক শৌখিনতার ছাপ আছে বেশ-ভুষায়। পলি-সিলকের পাঞ্জাবি, বাদামি স্ট্রাইপড জহর কোট, চওড়া পাড় তাঁতের ধুতি, বিচিত্র কোলাপুরী চপ্পল। সব মিলিয়ে কিছুটা সেকেলে জমিদারি ছাঁদ। নিজেকে ভবঘুরে বলা অভ্যাস আছে বিভাসবাবুর। এখানে এসে আলাপ হয়েছে। কিন্তু মনে হয় কতকালের চেনা। খুব সহজেই কল্পনাদের দলের সঙ্গে মিশে গেছেন।
স্বাতী এসে গেল।……অদ্ভুত মেয়ে যা হোক! চুপচাপ ওই ঠান্ডা কামানটায় বসে কী করছ? উঠে এসো।
কল্পনা হাসল।…তোমাদের দেখছিলাম স্বাতীদি। কাছের মানুষগুলো দূরে গেলে কী অদ্ভুত দেখায়, ভাবা যায় না।
দিব্যেন্দুর মুখটা গম্ভীর। সে বলল, আজকের বারোটা অব্দি প্রোগ্রাম মোতিঝিল আর কাঠগোলার বাগান। চলো, ওঠা যাক।
কল্পনা কামান থেকে উঠেছে। আড়মোড়া খেল। তারপর হাল্কা পায়ে নেমে এল সিঁড়ি বেয়ে। বলল, কালকের মতো হাঁটতে পারব না বলে দিচ্ছি। রিকশা করতে হবে।
স্বাতী বলল, সেটা কর্তার ইচ্ছে।
দিব্যেন্দু হাসবার চেষ্টা করে বলল, আজ কর্তা-টর্তা যা কিছু, সব ওই নীরেন। বাপস! মেয়েদের ম্যানেজ করা আমার পক্ষে অসম্ভব।
কল্পনা ফুট কাটল।…পা ব্যথা করলে কাঁধে চাপতে চায় বুঝি?
পেলে ছাড়ে না কেউ। দিব্যেন্দু মন্তব্য করল। পরক্ষণে স্বাতীর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে নিয়ে কল্পনার দিকে চোখ টিপল।
স্বাতী ফোঁস করে উঠল। থাকো! তোমারও কোনোদিন না কোনোদিন পা মচকাবে। তখন কার কাঁধে চাপবে দেখবোখন।
আগের রাতে নীচের ডাইনিং হলে খেতে আসবার সময় আচমকা সিঁড়িতে পড়ে গিয়েছিল স্বাতী। হাঁটুতে লেগেছিল। এখনও পট্টি বেঁধে রেখেছে। কাল পথ হাঁটতে বেচারার খুবই কষ্ট হয়েছে সন্দেহ নেই। রিকশা নিচ্ছি-নিচ্ছি করে এক মাইল হাঁটিয়েছিল দিব্যেন্দু। বোঝা যাচ্ছে, রাগটা এখনও পড়েনি। দিব্যেন্দু বলল, আচ্ছা, বিভাসবাবু কোথায় গেলেন? ইমামবাড়ির ভিতর গিয়ে আর খুঁজে পেলাম না। ভদ্রলোককে। কী খামখেয়ালি লোক রে বাবা?
স্বাতী বলল, হারিয়ে গেছেন। হারিয়ে যাবার গান গেয়ে বেড়ান কিনা।
কল্পনা বলল, ওই দ্যাখো, নহবতখানায় নহবত বাজাচ্ছেন।
কল্পনার গলা থেকে ভিউফাইন্ডারটা নিল দিব্যেন্দু। চোখে রেখ