
হেমন্ত বেলায়
বুদ্ধদেব গুহ
মনে পড়ে, সেদিন লক্ষ্মীপূর্ণিমা ছিল। উত্তরপ্রদেশের বন ও পাহাড়-ঘেরা অখ্যাত জায়গা তিতিরঝুমায় বেশ ঠাণ্ডা পড়ে গেছিল। আমি কলকাতায় আসছিলাম ছুটিতে। গোরুর গাড়ি করে বারো মাইল পথ আসতে হত তখন, লাঠিয়ালিয়া স্টেশনে ট্রেন ধরতে।
রাতের গাড়ি ধরব বলে বিকেল বিকেল বেরিয়ে পড়েছি। সঙ্গে চৌহান সাব। খড়ের ওপর কম্বল বিছিয়ে তার ওপরে বসে ছইয়ে হেলান দিয়ে আমরা গল্প করতে করতে আসছি।
বাইরে ফুটফুট করছে জ্যোৎস্না। কাঁচা রাস্তা, তাই বয়েলগুলোর পায়ে পায়ে ও গাড়ির চাকায় ধুলো ছিটোচ্ছে, কিন্তু উড়ছে না। কারণ শিশিরে ভিজে ধুলো ভারী হয়ে আছে। দু-পাশে কিতারি ও বজরার খেত। দূরে বিন্ধ্যাচলের পাহাড়ের রেখা দেখা যাচ্ছে। আদিগন্ত সমান উচ্চতায় একটা দেওয়ালের মতো।
ধুলোর গন্ধ, শিশিরের গন্ধ, জ্যোৎস্নার গন্ধ, গোরুর গায়ের গন্ধ, খড়ের গন্ধ, শিশিরভেজা বজরা ও কিতারির গন্ধ মিলে একটা অদ্ভুত মিশ্র গন্ধ বেরুচ্ছে।
দেখতে দেখতে আমরা টুণ্ডুর মোড়ে পৌঁছোলাম। গাড়োয়ান গাড়িটার মুখ ডানদিকে ঘোরাল, এবার আমরা পাহাড়ের সীমানায় তিতিরঝুমার মাঠে এসে পড়লাম। ধু-ধু মাঠের একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে বুটবুটিয়ার খাস জঙ্গল।
রাজিন্দার সিং গোরুর গাড়ির পেছনের দিকে বসেছিল। গায়ের ওপর আলতো করে ফেলে রেখেছিল একটা দেহাতি কম্বল। রংটা এখনও মনে আছে। সাদার ওপরে কালো বড়ো বড়ো চেক। কম্বলের ওপর, রাজিন্দারের কাটা কাটা অথচ ভাবুকমুখে চাঁদের নরম ভিজে আলো এসে পড়েছে। রাজিন্দার পথের পেছনের গাছগাছালি, চন্দ্রালোকিত ধু-ধু প্রান্তর ও দূরের পাহাড়ের দিকে চেয়ে যেন কী ভাবতে ভাবতে চলেছে।
একটা সাদা লঞ্জীপেঁচা পথের পাশের একটা ঝাঁকড়া বাবলা গাছ থেকে উড়ে এসে নি:শব্দে আমাদের চলমান গোরুর গাড়ির ওপরে চক্রাকারে উড়তে উড়তে অনেকখানি এল, তারপর আবার ফিরে গিয়ে সেই গাছে বসল।
হঠাৎ রাজিন্দার বলল নিজের মনেই, আমার দিকে মুখ না ফিরিয়ে বলল, কী সুন্দর আমাদের দেশটা, না বেণিবাবু? বড়ো সুন্দর এই দেশটা। এদেশের মানুষগুলো, মানে আমরা সকলে যদি এই দেশের মতো হতাম?
আমি একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম, দেশের মতো সুন্দর মানে?
ও বলল, শারীরিক সৌন্দর্যের কথা নয়। সুন্দর হত যদি সব মিলিয়ে, যদি মানুষের মতো মানুষ হত!
মানুষের মতো মানুষ মানে তুমি কী বলতে চাইছ? মানুষ তো আমরা সকলেই। কী? আমরা মানুষ নই?
রাজিন্দার আমার দিকে মুখ ফেরাল এবার, বলল, কই? দেশে মানুষ কই? মানুষের মতো মানুষ কই?—আমরা সকলেই বেশিরভাগই তো মানুষের ছাঁচমাত্র। কিছু বদ রক্ত, কিছু জল, কিছু মেদ, কিছু অস্থি-চর্মের সমষ্টি। কতগুলো ছাঁদে-ফেলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জঞ্জাল। এই কোটি কোটি লোকের মধ্যে মানুষ ক-জন আছে বলো?
গোরুর গাড়িটা একটা কালভার্টের দিকে এগোচ্ছিল।
হঠাৎ গাড়োয়ান চাপা ভয়ার্ত গলায় বলল, কালভার্টের ওপরে মাথা-মুখ চাদরে ঢেকে কয়েক-জন লোক বসে আছে। মনে হচ্ছে ডাকাত।
এই তিতিরঝুমার মাঠ ডাকাতির জন্যে কুখ্যাত। ডাকাত অবশ্য আমার কাছে নেবেই-বা কী? তবে জামাকাপড় ও গত একবছরে সামান্য মাইনে থেকে যা সঞ্চয় করেছি সবই সঙ্গের সুটকেসে আছে, নিয়ে গেলেই গেল।
গাড়োয়ান গাড়িটাকে ভয়ে দাঁড় করিয়েই ফেলল।
রাজিন্দার ধমক দেওয়ার গলায় ওকে শুধোল, রোকা কিউঁ?
গাড়োয়ান উত্তরে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, ‘হুজৌর।’
রাজিন্দার ধমকে একটা গাল দিয়ে বলল, ‘তোর ভয়টা কী? তোর না-আছে বুকের ভিতরে কিছু, না বাইরে কিছু—তোর আবার ডাকাতের ভয় কী রে শালা?’ তারপরই বলল, ‘গাড়ি হাঁকা। সোজা হাঁকিয়ে ওদের সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করা। তারপর ওদের দেখাচ্ছি। ওরা জানে না, গাড়িতে আমি আছি।’
দেখতে দেখতে গাড়িটা প্রায় কালভার্টের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। ভয় যে আমার একেবারে করছিল না, তা নয়, ভয় লাগলেও রাজিন্দার সঙ্গে থাকলে ভয় আবার লাগেও না।
গাড়িটা থমকে দাঁড়াল। গাড়িটা দাঁড়াতে দেখেই লোকগুলো উঠে দাঁড়াল।
প্রত্যেকে ছ-ফুটের ওপর লম্বা। এ অঞ্চলের কোনো লোকই বোধ হয় ছ-ফুটের কম নেই। পরনে সব মালকোঁচা-মারা ধুতি, দেহাতি খদ্দরের জামা, গায়ে ভারী দেহাতি চাদর। পায়ে নাল বসানো নাগরা জুতো। হাতে সাত ফুট লম্বা কোঁতকা কোঁতকা লাঠি।
রাজিন্দার তার গম্ভীর কিন্তু চিলের মতো তীক্ষ্ণগলায় একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিল ওদের দিকে। বলল, ‘তু লোগ কওন হো, হো?’
ওরা সমস্বরে হেসে উঠল।
সেই চাঁদের আলোয় তিতিরঝুমার মাঠে দাঁড়ানো আপাদমস্তক ঢাকা লোকগুলোকে ভৌতিক বলে মনে হল।
ওরা হেসে বলল, তেরা বাপ হো।
রাজিন্দার নিরুদবেগ ঘৃণা-ভরা গলায় বলল, ‘তু লোগ সব কুত্তে হো কুত্তে।’ তারপরেই ওদের সকলের সহোদরাদের প্রতি অশ্লীল একটা উত্তরপ্রদেশীয় উত্তপ্ত উক্তি করে বলল, ‘জানসে বাঁচনে চাহতে তো আভভি রাস্তে ছোড়ো, নেহি তো সব শালে লোঁগোকো গেলিসে ভুঞ্জ দিয়া যায় গা।’
লোকগুলো নড়ল না। যেমন দাঁড়িয়েছিল, তেমনি দাঁড়িয়ে রইল।
বলদ দুটো নিরুদবেগ চোখে লোকগুলোর দিকে চেয়ে জাবর কাটতে লাগল।
রাজিন্দার তেমনি বসে বসেই একটুও উত্তেজিত না হয়ে, একটুও না নড়ে বলল, ‘ম্যায় কোই বাঁতে দোবারা নেহি কহতা হুঁ। রাস্তে ছোড়ো কুত্তেকো বাচ্চে।’
হঠাৎ লোকগুলোর মধ্যে একটা চমক খেলে গেল। জলের তলায় চমকে ওঠা একঝাঁক মাছের মতো ওরা দলবদ্ধ হয়েই নড়ে উঠল। তারপর সেই জ্যোৎস্নার মধ্যে ওরা পথ ছেড়ে বুটবুটিয়ার জঙ্গলের দিকে নি:শব্দে চলে যেতে লাগল।
ওদের মধ্যে কে যেন চাপা শ্রদ্ধামিশ্রিত গলায় বলে উঠল, ‘চৌহান সাব!’
আর একজন বলল, ‘জলদি ভাগ। আজ জানসে বাঁচ গ্যয়ে।’
স্টেশন পৌঁছে আলো-ঝলমল ওভারব্রিজ পেরোবার সময় আমি ভালো করে তাকালাম রাজিন্দারের দিকে। পায়জামা আর সবুজ খদ্দরের পাঞ্জাবি পরা সুপুরুষ ভালো মানুষ দীর্ঘদেহী রাজিন্দারকে দেখে কে বিশ্বাস করবে যে, একটু আগে ডাকসাইটে ডাকাতের দল তার নাম শুনেই পালিয়ে গেছে।
একটু পরে রাজিন্দার চলে গেল।
ট্রেন এলে উঠে পড়লাম। প্রথমে বসার জায়গাও ছিল না। এক স্টেশন পরে জানলার পাশে একটার চেয়ার খালি হল। বসে পড়লাম।
জানলায় বসে বসে ভাবতে লাগলাম। ভাবনার পাখি নানা জায়গা ঘুরে এসে আবার রাজিন্দারের দাঁড়ে বসল।
আমার পরিচয় দেওয়ার মতো কিছুই নেই। নানারকম কসরত করে টিউশনি করে কোনোরকমে বি. এসসি. টা পাশ করেছিলাম। এই নয় যে আমার অবস্থা সচ্ছল হলেই আমি মেধাবী হতাম। মেধাবী আমি কোনোকালেও ছিলাম না। কোনোরকমে না-টুকে সাধারণভাবে বি. এসসি.-টা পাশ করেছিলাম। তারপর এই বিশ্বাটাঁড় জায়গায় একটা লাইমস্টোন কোয়ারিতে চাকরি নিয়ে আসি। বিয়ে-টিয়ে করা হয়নি প্রধানত সচ্ছলতার অভাবে, দ্বিতীয়ত, সাহসের অভাবে। বিধবা মা-র খরচ ও আমার খরচ চলে যায় কোনোরকমে, যা পাই তাতে। রোজকার দিনের কথা ভেবেই দিন চলে যায়। কখনো নিজের চাকরি, নিজের মালিক, নিজের মা, নিজের বন্ধুবান্ধব এসবের বাইরের কোনো ভাবনা মাথায় স্থান দিইনি। বরাবর জেনেছি যে, এসবের বাইরে যেকোনো ভাবনাই ‘বড়ো ভাবনা’। যা আমাকে মানায় না।
গত এক বছর হল রাজিন্দারের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর থেকে আমার মাথায় যেন ভাবনার ভূত চেপেছে। আমাদের দেশের কথা, আমার দেশের লোকের কথা, ঘুরে-ফিরেই মনে পড়ে যায়। হয়তো রাজিন্দারের সঙ্গদোষেই এমন হয়েছে, ও সবসময় বলে, ‘কোনো ভাবনাই বড়ো ভাবনা নয়। আমরা সকলেই এ ভাবনাগুলোকে পরের ভাবনা বলে এড়িয়ে যাই বলেই তো আমাদের দেশের এই দশা।’
ও বলে, ‘এ পোড়া দেশ আমার-তোমার প্রত্যেকের কাছে কিছু-না-কিছু আশা করে।’
অথচ ভাবলে আশ্চর্য লাগে যে, রাজিন্দার যে পরিবেশে থাকে, যেভাবে থাকে, ওর যা সঙ্গীসাথি, তাতে ও এতসব কথা ভাবে কী করে?
ও কোনো পার্টি করে না, ওর নেতা হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই, এম. এল. এ. বা এম. পি.ও হতে চায় না। অথচ ও সবসময় এমন ভাবনা ভাবে, এমন সব কাজ করে, তা সাধারণ বুদ্ধিতে ওর এক্তিয়ারের বাইরে থাকা উচিত।
রাজিন্দারের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর থেকে আমার জীবনের মানে যেন বদলে গেল। জীবন মানে যে শুধুই চাকরি করা নয়, শুধুই নিজের পোস্ট অফিস, সেভিংস অ্যাকাউন্টের দিকে চোখ চেয়ে থাকা নয়, নয় নিজের স্ত্রী নিজের ছেলে-মেয়ের গন্ডির মধ্যে দিন কাটানো, তা যেন ওকে দেখে আমি আস্তে আস্তে শিখছি, ততই ওর প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মাথা নত হয়ে আসছে। কেবলই আমার মনে হয়, রাজিন্দারের মতো গোটা কয়েক লোক এদেশে থাকলে এদেশের চেহারাটা বুঝি অন্যরকম হত।
রাজিন্দারের সঙ্গে আমার আলাপটা একটা দুর্ঘটনা বই আর কিছুই নয়। কারণ, এই জঙ্গল পাহাড়-ঘেরা নির্জন প্রবাসে আমার ডেরা থেকে তিন মাইল দূরে গভীর জঙ্গলাকীর্ণ উপত্যকার মধ্যে এককালীন এক অত্যাচারী জমিদারের বিনয়ী ও সাহসী পুত্রের সঙ্গে আমা হেন একজন বাঙালি খনি-বাবুর পরিচয়কে দুর্ঘটনা ছাড়া আর কী বলতে পারি?
বাবা মারা যাওয়ার পর বাবার বন্দুকটা আমার নামে ট্রান্সফার করিয়ে নিয়েছিলাম!
মাছের রক্ত দেখেই আমার মন খারাপ করে, তাই বন্দুকে রক্ত লাগাবার অভিপ্রায়ে আমি ওটাকে সঙ্গে নিয়ে এখানে আসিনি। কিন্তু এখানে আসার পরই আমার বেয়ারা ধক্কনলাল কেবলই আমাকে উসকানি দিতে লাগল, সাহাব একঠো বরহা মারকে দিজিয়ে।
শ্রীমান ধক্কন আমাকে নিয়ে এক রবিবার খাওয়াদাওয়ার পর আমাদের ডেরা থেকে মাইল দুয়েক হাঁটিয়ে নিয়ে পাহাড়ের মালভূমির একেবারে এক কোনায় এনে দাঁড় করাল।
সেই মুহূর্তে সে জায়গায় দাঁড়িয়ে নীচের দিকে চোখ পড়ায় আমি আমার অতীত ভবিষ্যৎ সবকিছু কথা বিস্মৃত হয়ে চুপ করে তাকিয়ে রইলাম।
আমি কলকাতার গলিতে ক্যাম্বিসের বল দিয়ে ক্রিকেট খেলেছি, ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের খেলা দেখতে গিয়ে জামা ছিঁড়ে, জলে ভিজে, মাউন্টেড পুলিশের তাড়া খেয়ে বাড়িতে ফিরেছি, পাশের বাড়ির ফার্স্টইয়ারে পড়া মেয়ে রুমাকে নিষ্ফল প্রেমপত্র লিখে ইট বেঁধে ছুড়ে দিয়েছি। এইসবই আমার অভিজ্ঞতার অভিধানে ছিল অ্যাডভেঞ্চারের পরাকাষ্ঠা। এই নিসর্গ দৃশ্যের সৌন্দর্য এবং ভয়াবহতার সম্মুখীন হওয়ার মতো কিছু যে, এদেশে থাকতে পারে, এমন ধারণাও আমার ছিল না।
আমি বহুক্ষণ বন্দুক কাঁধে স্তব্ধ হয়ে সেখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম।
জায়গাটা বেহড় মতো। মালভূমি এখানেই শেষ হয়ে গেছে—তার নীচে এক বিস্তীর্ণ সবুজ উপত্যকা। উপত্যকার তিনদিক পাহাড় ঘেরা, একদিকের শেষ দেখা যায় না। ছোটো ছোটো টিলা আর ঝোপ-ঝাড়-ঝাঁটি জঙ্গলে উপত্যকাটি ভরে আছে। পাহাড়ের কোলে কোলে নেমে এসেছে গভীর জঙ্গলের সবুজ রোমশ হাত। সময়টা বর্ষাকাল ছিল। পাহাড় থেকে নেমে আসা তিন-চারটি নালা উপত্যকাটিকে কাটাকুটি করেছে।
একটু আগে একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। কিন্তু এখন বর্ষার উজ্জ্বল রোদ, পাহাড়, নদী এবং উপত্যকার নরম সবুজ মখমলের মতো ঘাসে বেঁকা হয়ে এসে পড়েছে। এখানে-সেখানে একদল নীলগাই ইতস্তত ঘুরে ঘুরে খুঁটে খুঁটে ঘাস খাচ্ছে। রোদের লাল, উপত্যকার নীলগাইয়ের মেঘ মেঘ রং এবং আকাশের নীল সব মিলেমিশে কী যে এক অপূর্ব ছবির সৃষ্টি হয়েছে কী বলব।
একঝাঁক টিয়া যৌবনের দ্যুতির মতো পুলকভরা ডাক দিতে দিতে, সে ডাক আমার মাথার মধ্যের সমস্ত কোষময় ছড়িয়ে দিয়ে এতবছরের সমস্ত শ্যাওলাধরা জমে-থাকা অসাড় ভাবনাকে ছিটিয়ে দিয়ে, কী যেন এক নতুন অনাস্বাদিত অনাঘ্রাত সবুজের রাজ্যে আমাকে হাতছানি দিয়ে নিমন্ত্রণ জানিয়ে গেল।
মন্ত্রমুগ্ধের মতো সেখানে দাঁড়িয়ে রইলাম।
ধক্কনলাল বলল, ‘ই সব চৌহান সাহাবকা এলাকা হ্যায় হুজৌর। চলিয়ে, হামলোগ হুঁইয়ে পর চলেঙ্গে।’