
৫০টি প্রেমের গল্প
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
সরষে
‘আমি অনশন করব, আমৃত্যু অনশন।’
সকালের চায়ের কাপ হাত দিয়ে ঠেলে সরিয়ে জানালার দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসলেন প্রকাশবাবু। নাটকের ঘটনাস্থল কলকাতার উপকণ্ঠে, মধ্যবিত্ত পাড়ার সদ্যনির্মিত একটি বাড়ির দোতলার ঘর। পশ্চিম খোলা। জানালায় আকাশ, পরিমিত গাছপালা। দু-একটি বাড়ি। গোটা কতক পায়রা। চরিত্র দু-টি প্রাণী। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত, ডাকসাইটে শিক্ষক প্রকাশ মুখোপাধ্যায়, আর তাঁর স্ত্রী মহামায়া মুখোপাধ্যায়। বিবাহের আগে ছিলেন চট্টোপাধ্যায়।
কাপ থেকে চা ছলকে ডিসে পড়ল। আর একটু জোরে ঠেললে মহামায়ার হাতের তৈরি, নীলের ওপর সাদার কাজ করা টেবিল ক্লথে পড়ত। সেই সম্ভাবনায় মহামায়ার ভুরু কুঁচকে ছিল। মনে মনে প্রস্তুতও ছিলেন, একটু পড়ুক, তারপর কী করতে হয়, আমিও দেখাব। সাত দিন হয়ে গেল বাতের ব্যথায় উঠতে বসতে পারছি না। ডাক্তারের কথা, ওষুধের কথা বলে বলে মুখে ফেকো পড়ে গেল। একদিন নিয়ে এলেন ঢ্যাঁপা ঢ্যাঁপা একগাদা রসুন। এককোষী রসুন রোজ সকালে একটা করে জল দিয়ে কোঁত করে গিলে ফেলো মায়া, সাত দিনে তোমার বাত বাপ বাপ করে পালাবে। আর একদিন নিয়ে এলেন ইয়া মোটা এক স্টিলের পাঞ্জাবি বালা। এটি মায়ের নাম করে ধারণ করে ফেলো মহামায়া, হাত তো ভালো হবেই, দেখবে যৌবনও ফিরে আসছে আবার। শেষ নিয়ে এলেন হাত তিনেক ইলেকট্রিক তার। কোমরে আড়াই প্যাঁচ মেরে বসে থাকো মায়া, প্রথম বর্ষায় প্রথম বিদ্যুতেই অ্যাকসান পেয়ে যাবে। শরীরে কয়েক ওয়াট কারেন্ট ঢুকলেই তোমার হাত-পায়ের গাঁট খুলে যাবে, যৌবনকালের মতো সারা বাড়ি ধুম ধুম করে আবার দাপিয়ে বেড়াবে। কেপ্পন অনেক দেখেছি বাবা, এই মানুষটার মতো এমন হাড় কেপ্পন আমি দেখিনি।
মহামায়া ভারিক্কি গলায় বললেন, ‘চা-টা ছলকে টেবিল ক্লথে পড়ে গেলে কী হত?’
আকাশের দিকে ফেরানো মুখ তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল, ‘যেত, যেত।’
‘সাত সকালে বাবারে মারে করতে করতে চা করে নিয়ে এলুম, উলটে ফেলে দেবার জন্যে! যত বয়েস বাড়ছে, তত তোমার রাগ বাড়ছে। ছেলে-মেয়ে, বউমা এই নিয়ে হাসাহাসি করে, তোমার প্রেসটিজে লাগে না?’
‘না, লাগে না। ওরা হাসার জন্যে ব্যঙ্গ করার জন্যে জন্মেছে, আমি জন্মেছি সেই উপহাস আর ব্যঙ্গ কুড়োবার জন্যে। যুগটাই তো পড়েছে, বাপ-জ্যাঠার কাছা খোলার যুগ। অপমান আমার নয়, অপমান ওইসব চপল বালক-বালিকার। যাদের জীবনটাই হল অনন্ত, অখন্ড, অপার, অপরিমেয়, অনিয়ন্ত্রিত, অলস তামাসার।’
এরপর একগাদা অকারান্ত শব্দ শুনে মহামায়া বললেন, ‘বাপস। রাগের চোটে মুখ দিয়ে অমরকোষের স্রোত বইছে। নাও খুব হয়েছে, চা খেয়ে নাও। ছেলেমানুষের মতো কথায় কথায় অত খেপে যাও কেন?’
প্রকাশ এবার জ্বলন্ত মুখ ঘোরালেন, ‘নো মোর সুগার কোটেড ওয়ার্ডস ম্যাডাম, মিষ্টি কথায় আর চিঁড়ে ভিজবে না, জল চাই, জল। এতকাল যে ট্যাকটিক্সে বোকা বানিয়ে এসেছ, সে কায়দায় আর বোকা বানানো যাবে না। বোকারাও ধাক্কা খেতে খেতে একদিন বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে, তখন আর তাকে বোকা বানানো যায় না, তখন নিজেকেই বোকা বনে যেতে হয়। কথা যত কম হয় ততই ভালো। তোমাদের সব ক-টাকে আমি চিনে নিয়েছি। সব শেয়ালের এক রা।’
‘আমরা কী করলুম যে শেয়াল-টেয়াল বলছ?‘
‘এই সংসারে আমি এখন উপেক্ষিত। এ নেগলেকটেড ওল্ড ফুল। আমার কোনো স্ট্যাটাস নেই। আমি গৃহপালিত দিশি কুত্তার মতো।’
‘আঃ, কী যা তা বলছ?’
‘ঠিকই বলছি, ফ্যাক্ট ইজ ফ্যাক্ট। তোমরা যেই দেখলে, বুড়ো ব্যাটার লাস্ট ফার্দিং বাড়ি তৈরিতে খরচ হয়ে গেছে, রেস্তো ঢুঁ ঢুঁ, ব্যাঙ্ক ব্যালান্স নীল, মরলে একজোড়া চশমা, আর ছেঁড়া একজোড়া চপ্পল ছাড়া আর কিছুই ব্যাটা রেখে যাবে না, তখনই তোমরা সব নিজমূর্তি ধরলে। ক্যাপসুল খুলে গেল। ঠিকই করেছ। জগতের নিয়মেই চলছ। প্রত্যাশা থেকেই মানুষের হতাশা আসে। মনের আর দেহের জোর থাকলে বানপ্রস্থে চলে যেতুম। এতকাল ধরে বোকাটাকে কুরে কুরে খেয়েছ, জ্ঞান যখন হল তখন বোকা দেখলে ছোবড়াটা পড়ে আছে। নড়বার-চড়বার ক্ষমতা নেই। চোখে চালসে, হাত-পা কাঁপছে। পড়ে পড়ে মার খাও। বাঁধা মার। সাংখ্য কী বলছেন জান, জীব তিন ধরনের দুঃখ পায়, আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক আর আধিদৈবিক। আধ্যাত্মিক দুঃখের কারণ আমাদের ইন্দ্রিয়, আর…।’
‘তোমাদের সাংখ্যে গোলি মারো। সারা দিন ওই ছাইপাঁশ পড়ে পড়ে মাথাটি একেবারে গেছে। একদিন সব আগুন লাগিয়ে দেবো, আপদ চুকে যাবে।’
‘বা:, চমৎকার মাস্তানী ভাষা শিখেছ তো। একজন অবসরপ্রাপ্ত, সম্মানিত, জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীর ল্যাংগোয়েজ দেখো। আমাকে জুতো মারা উচিত। আমার গলায় যাঁরা পদক ঝুলিয়েছিলেন, তাঁদের বলো, এবার এসে জুতোর মালা ঝুলিয়ে দিয়ে যাক। যে নিজের বাড়িকে শিক্ষিত করতে পারল না, সে সারাটা জীবন উৎসর্গ করে গেল দেশের শিক্ষায়। অপদার্থ পাঁঠা।’
‘আমি অত কথা শুনতে চাই না, তুমি চা খাবে কি না?’
‘না, খাব না। আমি খ্যাচাখ্যাচি করতে চাই না, নাকে কাঁদতে চাই না, আমি সাবেকপন্থী শান্তিপ্রিয় মানুষ, আমরণ অনশনের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। তুমি এখন যেতে পার। যাবার সময় তোমাদের এই হতচ্ছেদ্যার পিঁপড়ে ভাসা, সর ভাসা, কেলে গামছা নিঙড়োনো গরম জলটা নিয়ে যাও।’
মহামায়া চেয়ার ছেড়ে উঠে চায়ের কাপের সামনে ঝুঁকে পড়লেন, তারপর স্বামীর দিকে ফিরে বললেন, ‘কোথায় তোমার পিঁপড়ে আর সর! দেখাও তো! আর বর্ণ? এমন সোনার বর্ণ চা তোমাকে গ্র্যাণ্ড হোটেলও দিতে পারবে না। না দেখেই, ধেই ধেই নাচ। সারাজীবন ছাত্র ঠেঙিয়ে…।’
প্রকাশ স্ত্রীকে কথা শেষ করতে দিলেন না, নিজেই টেনে নিলেন, ‘গাধা হয়ে গেছি, গাধা। ধোপার গাধা হলে তবু পরিত্রাণের পথ ছিল, স্ত্রীর গাধা হয়ে মরেছি। ইহকাল, পরকাল দুটোই- গেল।’
‘আমি তোমাকে গাধা বলেছি?’
‘ওই কথার পর অবধারিত ওই কথাই আসে। আমার বয়স হয়েছে, ঘাসে মুখ দিয়ে চলি না।’
‘দেখো, সকাল বেলা শুধু শুধু ঝগড়া কোরো না। কোথায় তোমার পিঁপড়ে আর সর। তুমি দেখাও।’
প্রকাশ চশমা পরে চায়ের কাপ সামনে টেনে নিয়ে প্যাথোলজিস্টের মতো চা পরীক্ষা করতে লাগলেন। মহামায়া বিজয়িনীর মতো হাসছেন, ‘পাবে না, পাবে না, ব্যর্থ চেষ্টা।’
প্রকাশ বললেন, ‘ছিল, থাকতে থাকতে গলে গেছে।’
‘গলে গেছে?’ মহামায়া ছেলেমানুষের মতো খিলখিল করে হেসে উঠলেন।
‘হেসো না, হেসো না। ডোন্ট লাফ। আজ হয়তো নেই ভাগ্যক্রমে, অথবা ছিল, অন্যদিন গোটাকতক পিঁপড়ের লাশ, বাসি দুধের সার থাকবেই থাকবে। বুড়োর ব্রেকফাস্ট।’
‘অন্যদিনের কথা আমি জানি না। বউমা কী করে আমি বলতে পারব না।’
‘অ, তোমার বউমা তাহলে যা খুশি তাই করতে পারে। সাতখুন মাপ।’
‘আঃ, কেন পরের মেয়েকে মিথ্যে মিথ্যে দোষী করছ?’
‘অ, আমি হলুম মিথ্যেবাদী, আর তুমি হলে সত্যবাদী যুধিষ্ঠির। এ সংসারে তোমার দলে ভারি বলে দিনকে রাত করবে?’
‘বউমা তোমার যথেষ্ট সেবা করে। শ্রদ্ধা করে। ভয়ও করে। কেন পরের মেয়ের নামে মিথ্যে বল সব!’
‘আমি অন্যের সেবা নেব কেন? তুমি আমার জন্যে কি কর? এই বেওয়ারিশ বুড়োর জন্যে!’
‘আমি কিছু না করলে এতদিনে ভেসে যেতে।’
‘তার মানে তোমার আদরের বউমা কিছু করে না!’
‘উঃ, আচ্ছা জ্বালায় পড়া গেল তো। এগোলেও নির্বংশের ব্যাটা, পেছলেও নির্বংশের ব্যাটা। তুমি কি আগুন জ্বালাতে চাচ্ছ, শুধু শুধু অকারণে?’
‘আগুন-টাগুন নয়, আমার পথ শান্তির পথ। আমরণ অনশন। ধীরে ধীরে নিবে যাওয়া। অনেকদিন এসেছি মহামায়া। পুরোনো হয়ে গেছি। গোরুর দুধ চলে গেলে গোয়ালা কসাইখানায় দিয়ে আসে। তখনও তার দু-পয়সা কামাই হয়। দুর্ভাগ্য তোমার, আমি গোরু নই।’
‘হোল ফ্যামিলি তোমার জন্যে তটস্থ তবু তোমার মন যায় না। এরপর আমাদের আর কিছু বলার নেই।’
‘অই, অই সেই শব্দ। আমাদের, তার মানে তোমরা একটা দল, অনেকটা একালের মাস্তান পার্টির মতো। আর আমি হলুম গিয়ে একা মাইনরিটি। শাসনের নামে দুঃশাসন চলেছে। প্রতিবাদ করার উপায় নেই। লাশ পড়ে যাবে। মেজরিটি যা করবে সব মুখে বুজে সহ্য করতে হবে। নইলে তুমি খিটখিটে বুড়ো, একলষেঁড়ে, বাহাত্তরে ধরেছে, চিরকালের স্বার্থপর। দে বেটাকে একঘরে করে। ধোপা-নাপিত সব।’
মহামায়া হাত-পা নেড়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, ‘মাস্টার না হয়ে তোমার উকিল হওয়া উচিত ছিল। নাম করতে পারতে, দুটো পয়সার মুখও দেখা সম্ভব হত। আমরা মানে, আমরা যারা তোমার সেবা করছি।’
প্রকাশবাবু ব্যঙ্গের হাসি হেসে বললেন, ‘সেবা? তোমরা আমার সেবা করছ! গোপাল সেবা? সিংহাসনে একবার করে ওঠাচ্ছ আর শোয়াচ্ছ। শালগ্রামের শোয়াও যা বসাও তাই। বোঝার উপায় নেই, বসে আছি না শুয়ে আছি। যুগ যুগ জিও।’
‘এটা কী ভাষা?’
‘যুগের ভাষা।’
‘তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে, বুঝলে? সব নাট-বল্টু ঢিলে হয়ে গেছে। সারাজীবন ছাত্র ঠেঙালে ওইরকমই হয়।’
‘কি হয়—গাধা?’
‘সে-কথা বলেছি?’
‘সব কথা কি আর বলতে হয়। বলার আগেই বুঝে নিতে হয়।’
‘এ বুড়োটা তো মহা ঝগড়াটে।’
‘অ, আমি এখন বুড়ো, আর নিজে ভারি যুবতী? যৌবনে শরীর একেবারে মাখামাখি।’
মহামায়া রাগে চেয়ার ঠেলে উঠে পড়লেন, ‘চা খেতে হয় খাও, না খেতে হয় ফেলে দাও। সাত সকালে এই হুলো বেড়ালের মতো ঝগড়া আমার ভালো লাগে না। বয়েস বাড়ছে না কমছে?’
বাতের ব্যথা ভুলে মহামায়া দুম দুম করে ঘরের বাইরে বেরিয়ে গেলেন। নাতিটা দালানের একপাশে পুতুল নিয়ে খেলছিল। দিদাকে দেখে বললে, ‘একটু চুন-হলুদ করে দেবে দিদা, আমার এই গুন্ডা ছেলেটা পা মচকে ফেলেছে।’
অন্যদিন হলে কোলে তুলে নিতেন, আজ মেজাজ ভালো নেই, বললেন, ‘তোমার মামিকে বলো।’
নাতি আপন মনেই বললে, ‘বাবা, মেজাজ একেবারে টপ।’
ছেলে দাড়ি কামাচ্ছিল, মহামায়া বললেন, ‘তোর বাবা সকাল থেকেই অনশন শুরু করলেন, আমৃত্যু।’
‘বাবা! গান্ধী রিলিজ হতে না হতেই সত্যাগ্রহ? কীসের দাবিতে অনশন?’
‘ওঁকে নাকি আমরা সবাই উপেক্ষা করছি। কুকুর-বেড়ালের চেয়েও অধম জ্ঞান করছি।’
‘বৃদ্ধরা একটু অভিমানী হয় মা। কি করেছিলে?’
‘কি আবার করব?’
‘কোনো খোঁচাখুঁচি করনি তো?’
‘না রে বাবা, দুর্বাসা মুনিকে খোঁচাতে হয় না, পান থেকে চুন খসলেই তেলে-বেগুনে।’
‘ঠিক আছে। তুমি আর নাড়াচাড়া করতে যেও না, আমি যাচ্ছি। এই ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি নিয়েই হয়েছে সমস্যা।’
‘বাড়ির যা অবস্থা, ওটাকে এখন নামিয়ে দে না বাবা।’
‘তোমার মা তিলকে তাল করা অভ্যাস। বৃদ্ধদের হ্যাণ্ডল করার আলাদা কায়দা আছে। অনেকটা ট্রানজিস্টার রেডিয়োর মতো, শুধু টিউনিং নব ঘোরালেই হয় না। ধীরে ধীরে দিক পরিবর্তন করতে হয়।’
‘যাও তাহলে। এখন দক্ষিণমুখো বসে আছেন, পুব কী পশ্চিমমুখো করে দেখো।’
‘বলেছো ভালো। এবারে পুজোয় পশ্চিমে নিয়ে যাব, সেই কথাটাই বলি। হয়তো চিত্ত প্রফুল্ল হবে।’
প্রকাশবাবুর বড়ো ছেলের নাম প্রশান্ত। বড়ো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজিকিউটিভ। দু-এক মাসের মধ্যে রাশিয়া যাবার কথা আছে। তাই চিবুকের তলায় দাড়ির চাষ করছে, সযতন সম্পাদনায়। দাড়ির একটা আলাদা অ্যারিস্টোক্র্যাসি আছে। সেকালের জারেদের দাড়ি ছিল, একালের পলিটিশিয়ানদের থাকে। টলস্টয়ের দেশে দাড়ি ছাড়া যাওয়া যায়! প্রশান্তর সবে বিয়ে হয়েছে। স্ত্রীর নাম ঊর্মিলা। মিষ্টি স্বভাবের সুন্দরী মেয়ে! প্রকাশবাবুরই নির্বাচন। পুত্রবধূ পাশে পাশে, কাঁধে কাঁধে থাকবে, মিহি মিহি হাসবে, বাবা বাবা করবে, প্রকাশবাবুর মনে