
মাধুকরী
বুদ্ধদেব গুহ
পর্ব ১
রেলিং-এ বসে বানজার নদীর যেদিকটা দেখা যাচ্ছে, সেদিকটাতেই কানহা টাইগার প্রিসার্ভ-এর কোর-এরীয়া। ভারী সুন্দর এই নদী বানজার।
আই-টি-ডি-সি’র মধ্যপ্রদেশের মুক্কি-লজ-এর একটু উপরে কতগুলো পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়াতে সবসময়ই প্রপাতের মতো একটানা আওয়াজ হয় ঝরঝরানির। পেছন থেকে সেই আওয়াজ রোদ-পিছলানো জলের উপর নাচতে নাচতে দৌড়ে আসছে।
সামনে, পুরনো ভেঙে পড়া কজওয়েটা। আগে তার উপর দিয়েই সরু রাস্তা ছিল। কজওয়ের নিচ দিয়ে কিছুটা বয়ে গিয়েই বাঁক নিয়েছে। বাঁয়ে। রাতের শিশিরে এখনও গা-মাখা, থোরের রঙের পেলব বালির চর। সোনালি চুলের পরিচ্ছন্ন ও চিন্তাশীল একদল হনুমান সেই চর-এর ছির ঘাস-এর মধ্যে কোনও জরুরি ব্যাপার নিয়ে পরামর্শে ব্যস্ত। পশ্চিমের জঙ্গল থেকে প্রায়-উড়াল, বড় বড় বাদামী কাঠবিড়ালিদের লাফানো-ঝাঁপানো চিঁকচিঁক আওয়াজ আর বনে বনে গভীর প্রতিধ্বনি-তোলা, হনুমানদের হুউপ-হুউপ-হুউপ বানজারের জলকে যেন চমকে দিচ্ছে।
চমকানো, চলকানো নদীতে, বহতা জল যেখানে অগভীর অথবা পাথরের মধ্যে যেখানে সামান্যই জমে আছে; সেই তিরতিরে থির জলে বড় বড় সাদা ফুল ফুটেছে, জল আলো করে। জল-পাথুরে ফুল। মধ্যপ্রদেশের এ অঞ্চলের লোকেরা বলে, গান্ধালা। গাংগারিয়া বলেও একরকমের ফুল ফুটেছে।
এক বৃদ্ধ বাইগা এবং তার শিশু নাতি, নদীর মধ্যের একটি প্রস্তরময় জায়গাতে বসে আছে ছিপ ফেলে। নদী ও বনের আঙ্গিকের মতো। অবকাশ, দুজনেরই এই নীলাকাশেরই মতো। আকাশ-ছোঁয়া সব বোতল-সবুজ, জলপাই-সবুজ, ঘাস-ফড়িং-সবুজ গাছ ঝুঁকে পড়ে দেখছে সেই প্রায়-উলঙ্গ বুড়ো আর শিশুকে। কে বেশি শিশু দুজনের মধ্যে তাই-ই দেখছে বোধহয়!
ঠুঠা বাইগা চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল, বাড়ি কোথায় হে?
বুড়ো মুখই তুলল না।
শিশু একবার তুলল।
কি হে, বুড়ো?
ঠুঠা বলল।
বুড়ো বলল, কুরসীপার। প্রায়, ফিসস ফিসস করে।
নানা বিষয়েই প্রৌঢ় ঠুঠা বাইগার বুকের মধ্যে যতখানি উদ্বেল ঔৎসুক্য, ওর গলায় ততখানি জোর নেই। মাঝে মাঝেই, পৃথুর ওকে বলতে ইচ্ছে করে যে, যতখানি ঔৎসুক্য একজন মানুষের বইবার ক্ষমতা থাকে তার চেয়ে বেশি বইতে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
ঠুঠা আবার বলল, পেলে কিছু?
হ্যাঁ।
কী?
সাঁওয়ার।
আর কিছু না?
পাড়হেন।
সাঁওয়ার মাছ দেখতে অনেকটা বাম সাপের মতো হয়। আর পাড়হেন হয় বলাই-পুঁটির মতো।
বেচবে না কি?
বুড়ো কথা না বলে, ফাৎনা আর স্রোতের দিকে চেয়ে মুখও না-ঘুরিয়েই মাথা নাড়ল। দু দিকে। নেতিবাচক।
ঠুঠা আরও কিছুক্ষণ ওদের সঙ্গে কথা-বার্তা চালাবার চেষ্টা করল। কিন্তু ক্বচিৎ হুঁ। হাঁ! পেল উত্তরে।
পৃথুর মনে হল, গভীর বনের গাম্ভীর্য এবং বানজার-এর শান্ত সম্ৰান্ততা আশ্বিন-সকালের কাচ-পোকা-ওড়া কুচি-কুচি রোদ্দুরে বাইগা-বুড়োর মনকে এক অজাগতিক নির্লিপ্তিতে ভরে দিয়েছে। বুড়ো যেন, নদীরই মতো হয়ে গেছে। নদীকে সকলের দরকার, তাকে সকলেই ডাকে; নদী ডাকে না কাউকেই। সে চলে আত্মমগ্ন হয়ে, আপন খেয়ালে।
বনের লোকের মনে গভীরতা থাকে। বনেরই মনের মতো। বেশি কথা, ভালবাসে না তারা।
বাচালতা, শহরেরই রোগ।
ঠুঠা বাইগা তার বন-ময়ূরী গ্রামকে তো খুইয়েইছে, হাটচান্দ্রায় কাজ করে তার বনজ চরিত্রটাও খুইয়েছে।
মনে হয়, পৃথুর।
ওদের দুজনকে মুক্কিতে নামিয়ে দিয়ে মোগাঁও হয়ে মালাঞ্জখণ্ড-এ চলে গেছে জীপটা শর্মা আর কানিটকার সাহেবকে নিয়ে। কিছু কাজ আছে। ওখানে তাঁদের রিস্তেদাররাও আছেন। ওখানেই খাওয়া-দাওয়া সেরে দিনশেষে পৃথুদের আবার তুলে নিয়ে যাবেন ওঁরা।
হাটচান্দ্রা থেকে মুক্কি অনেকই দূর। প্রায় পাঁচটাকা ভাড়া লাগে, বাসে এলে। একটাই বাস। সকালে হাটচান্দ্রা থেকে ছাড়ে আবার ফিরে যায় রাতে। জঙ্গল পাহাড়ের সান্নাটা এলাকা এসব!
ওদের আসতে হয়েছে কুলি সংগ্ৰহর উদ্দেশ্যে। হাটচান্দ্রাতে, ওরা যেখানে কাজ করে, সেই ল্যাক-ফ্যাক্টরীর লেবার কনট্রাকটর ভিখু সিং মারকুট্টে লোক। তার ভাই বাগী হয়ে বেহড়ে চলে গেছে। নামী ডাকাত সে। বয়কট করার হুমকি দিয়েছে ভিখু, কোম্পানীকে। রেট বাড়াতে কোম্পানীর কোনওই আপত্তি নেই। রেসিডেন্ট ডিরেকটর উধাম সিং লোকটিও মারকুট্টে।
ভিখু সিং ইনক্রিমেন্টের পুরোটা নিজেই খেতে চায়। রেট কম, বাড়াতে বলছে সে; কিন্তু নিজে প্রতিমাসে কাট চাইছে। কমিশান হিসেবে। লেবারদের কাছে পৃথুরা এ তথ্য ফাঁস করে দেওয়াতে ভিখু তার নিজস্ব দল নিয়ে চলে যাবে বলেছে মোগাঁও, মালাখণ্ড-এর কাছে। বদলাও নেবে বলেছে।
ঠুঠা বলেছে, দেখা যাবে।
ঠুঠার আদি বাস ছিল এখন যেখানে কানহা টাইগার প্রজেক্টের কোর এরীয়া, তার এক্কেবারে ভিতরে। তাদের গ্রাম অবশ্য নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অনেকদিন আগেই। মহামারীতে। গ্রামটা মহামারীতে নিশ্চিহ্ন হয়েছে বটে, তবে টাইগার-প্রজেক্ট হওয়ার পর ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টও অনেক গ্রাম সরিয়ে নিয়ে গেছেন অন্যত্র। মানুষজন, গোরু-বাছুর, ছাগল-মুরগি সমেত মূল, পুরোপুরি ছিন্ন করে। একদিন যেখানে শিশুর কান্নাহাসির চকিত স্বরে, যুবতীর কলহাস্যে, কুয়োতলার ছলকানো জল, স্নানরতা মেয়েদের পায়ের মল আর ঘড়ার জলজ ধাতব আওয়াজে দারুণ জীবন্ত শব্দমুখর সব প্রেমময়, শান্তির গ্রাম ছিল, আজ সেখানে শুধুই লাল ঘাসের ধু-ধু মাঠে গম্ভীর বারাশিঙা হরিণ লোমের কম্বল গায়ে জড়িয়ে মন্থর পায়ে ঘুরে বেড়ায়। নয়তো কানহা-কিসলীর ভি-আই-পি বাঘেরা আলস্যে শুয়ে থাকে। অথবা শৃঙ্গার করে। শেষ বিকেলের নিস্তেজ শীর্ণ আলোতে পাতা-ঝরা গাছের মরা ডালের উপর ঘুঘু-দম্পতি মাথা ঝুঁকিয়ে ঘুরে ঘুরে বারে বারে অস্তগামী সূর্যকে প্রণাম করে; নামাজ পড়ার মতো করে।
ঠুঠা বাইগার গ্রামের বাসিন্দাদের সব কলেরাতে খেয়েছিল। চল্লিশ পঞ্চাশ বছর আগে। সময়টা ঠিক জানে না ঠুঠা। সময়ের যে খুবই দাম তা তখন জানত না ওরা। সেই-সময়ের কেউই জানত না। না জেনে, কোনও ক্ষতি বা অসুবিধাও হয়নি কখনও। গ্রাম শেষ হওয়ারও আগে শেষ হয়ে গেছিল গোরু-মোষ সব। “রাইণ্ডারপেস্ট” মহামারীতে। গোরু-মোষের মহামারী সে। মানুষের আর গোরু-মোষ-এর এসব অসুখ-বিসুখের ইংরিজি নামগুলো বুড়ো বয়সে এসেই শিখেছে ঠুঠা।
গ্রাম নেই; শুধু স্মৃতিটুকু রয়ে গেছে। গন্ধ, শব্দ, বোধ সব ঝুমঝুমির মত বাজে ঠুঠা বাইগার অনুভবে। তাই, ফাঁক-ফোকর একটু করতে পারলেই, কোনও ছুতা পেলেই, ঠুঠা দৌড়ে আসে মুক্কিতে। এখান থেকে লুকিয়ে জঙ্গলে ঢুকে পড়ে; বানজার নদীর পাড়ে। তার পিতা-প্রপিতামহর গ্রাম খোঁজে; খোঁজে শিকড়।
আশ্চর্য! দশ বছর হল খুঁজছেই ঠুঠা। খুঁজেই চলেছে। কিন্তু আজ অবধিও খুঁজে পেল না গ্রামটাকে। নিশ্চিহ্ন হয়েই হারিয়ে গেল কি? এমন হয় কী করে! ওর গ্রামের নাম ছিল বানজারী, বানজার নদীর ধারে ছিল বলে।
জঙ্গলের গভীরের যে-কোনও গ্রাম পরিত্যক্ত হলেই জঙ্গল তার পাইক-বরকন্দাজদের সঙ্গে সঙ্গেই পাঠিয়ে দিয়ে, পুরনো দিনের অত্যাচারী জমিদারদের মতো, গ্রামের জবরদখল নিয়ে মিশিয়ে দেয় তার জঙ্গলের খাস-মহল-এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে। তাই-ই, চেনা পর্যন্ত যায় না আর পরে। প্রকৃতি, তার সবুজ, হলুদ, লাল, কালো নানা-রঙা নিশান উড়িয়ে দেয় আকাশে আকাশে, বহুবর্ণ গালচে বিছিয়ে দেয় জমিতে, উজ্জ্বল, অগণিত স্পন্দিত তারা আর জোনাকির ঝাড়লণ্ঠন ঝুলিয়ে দেয় আকাশের চাঁদোয়ার নীচে; অন্ধকার রাতে। জঙ্গলের মধ্যে জঙ্গল, গাছের মধ্যে গাছ, পাতার মধ্যে পাতা, ফুলের মধ্যে ফুল, স্মৃতির মধ্যে স্মৃতি সেঁধিয়ে যায়। চেনবার জো-টি পর্যন্ত থাকে না আর।
ঠুঠা বাইগার মনে আছে, গ্রামের দু’ প্রান্তে দুটি মস্ত শিমুল ছিল। বয়সের গাছ পাথর ছিল না তাদের। শীতের সকালের রোদে সোনালি বালাপোষ মুড়ে মগডালে বসে বুড়ো বাজ তীক্ষ্ণ স্বরে ডাক পাঠাত দিকে-দিগন্তরে, ধারালো ঠোঁট দিয়ে, ডানা থেকে সোনালি তুলোর মতো রোদ তুলে নিয়ে রোদ ছিটোত কাচের টুকরোর মতো, আর জ্যোৎস্না রাতে নাঙ্গা বাইগীনের ঘোর লাগা সাদা লক্ষ্মীপেঁচা ঘুরে ঘুরে উড়ে উড়ে বসত এসে ওই শিমুলেরই সটান ডালে। মনে আছে। পরিষ্কার মনে আছে, ঠুঠা বাইগার।
ঠুঠা বাইগা রোদে পিঠ দিয়ে বানজারের ব্রিজ-এর রেলিং-এর উপরে উঠে বসেছিল পা ঝুলিয়ে। পৃথুও বসে ছিল পাশেই।
মুক্তির চেকনাকার চৌকিদারকে ঠুঠা বলে এসেছিল জীপ থেকে নেমেই, ভাত, ডাল আর আলুর চোকা বেঁধে দিতে হবে ওদের দুজনের জন্যে। আসলে, রাঁধবে চৌকিদারের বউ। চৌকিদারের নাম গিদাইয়া। আর তার বউয়ের নাম রুকমানিয়া। বিহারের আররা জেলায় বাড়ি ওদের।
ভাবছিল পৃথু, কোথা থেকে কোথায় আসে মানুষ রুজির তাগিদে।
ঠুঠা একটা চুঠঠা এগিয়ে দিল পৃথুর দিকে। আগুন ধরিয়ে দিতে গেল, দু’হাতের পাতায় হাওয়া আড়াল করে শজারু-মার্কা দেশলাই জ্বেলে। নিভে গেল কাঠিটা। অস্ফুটে দিগবিদিক-জ্ঞানশূন্য হাওয়াটাকে একটা অশ্লীল গাল দিয়ে আবার ঠুঠা দেশলাই জ্বালল। এবার ধরল।
পৃথু ধুঁয়ো ছেড়ে বলল, ঠিক তো করে এলে সব, পরে আবার বেগড়বাই করবে না তো? কোন গ্রামে গেছিলে? গাওয়ানকে সঙ্গে করে নিয়ে এলেই তো পারতে ঠুঠা। গড়বড়-সড়বড় হলে তো গাল খেতে হবে আমাকেই!
ফুঃ।
তোমাকে হাটাচান্দ্রার সকলে তো ভালভাবেই চেনে। পাঠিয়েছে তো বেড়াতেই!
তাচ্ছিল্যের সঙ্গে স্নেহের হাসি হেসে, বলল ঠুঠা।
কথাটা গায়ে মাখল না পৃথু। কারণ, কথাটা সত্যি।
কোন গ্রামে তুমি গেলে তার নামটা অন্তত বলবে তো।
গ্রাম তো অনেকই আছে এদিকে। মুঞ্জীটোলি, বামনি, বানজার-বামনি। আর এই মুক্তি তো আছেই। সব গ্রামের গাওয়ানদেরই বলে এসেছি। তোমার বাবার আশীর্বাদে এখনও শিকারি ঠুঠা বাইগাকে এদিকের সব গোঁদ ও বাইগারা এক নামেই চেনে। ভালও বাসে। গাওয়ানরা না এলেও চিন্তা নেই কোনওই তোমার।
এসব অঞ্চল সত্যিই ঠুঠার নখদর্পণে। কিন্তু পৃথু এ নিয়ে মাত্র দুবার এল মুক্কিতে। আশ্বিনের মিষ্টি রোদে পিঠ দিয়ে বানজার নদীর ব্রিজ-এর রেলিং-এর উপরে বসে বেশ ভালই লাগছিল।
বনে, নির্জনে এলেই ভাল লাগে।
ঝুলে-পড়া সাদা গোঁফের একজন লম্বা, সামান্য কুঁজো বুড়োকে মুক্কির দিক থেকে আসতে দেখা গেল। খটাং-খটাং আওয়াজ তুলে শীতের শান্ত দিনের জঙ্গুলে মাঝবেলার কাচপোকা-ওড়া শান্তিকে ছিদ্রিত করতে করতে আসছিল লোকটা, নাল-লাগানো নাগরা দিয়ে শক্ত কালো পথের মুখে লাথি মেরে মেরে। আশ্চর্য আঁকা-বাঁকা হাঁটার ভঙ্গি তার।
দিন দুপুরেই কি মহুয়া খেলো?
লোকটি, ঠুঠা বাইগাকে দেখতে পেয়েই আনন্দে, বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে বলল, এ হো! ঠুঠা বাইগা!
ঠুঠা সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে নামল ব্রিজ-এর রেলিং থেকে, উত্তেজনায়, তার নাগরার একটি পাটি ছিটকে গেল দূরে। এক পায়ে জুতো নিয়ে নেমেই, বুকে জড়িয়ে ধরল লোকটাকে। অনেকক্ষণ ধরে, ওদের ভাষায় প্রেমময়, উষ্ণ কথাবার্তা বলল দুজনে। তারপর লোকটা আবার তার পথে চলল, ঠুঠার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে।
ঠুঠাকে খুব খুশি এবং উত্তেজিত দেখাল। ও নিজের মনেই বলল, এবার হয়তো আমার বাপদাদার হারিয়ে-যাওয়া “বানজারী”র হদিস হবে।
কী করে?
হবে, হবে।
এ কে রে ঠুঠা? গুঁফো লোকটা?
দেবী সিং। এই জঙ্গল পাহাড়ের খুবই নামী শিকারি ছিল একসময়।
আমার সময়।
আত্মপ্রসাদের হাসির ঝিলিক লাগল ঠুঠার মুখে।
আর ছিল আমার দুশমনও। বম্বে, ভোপাল, ব্যাঙ্গালোর, দিল্লি, কলকাতার সব রহিস শিকারিরা এলে বোদে বাঁধার, বোদেকে বাঘ দি