
একশ বছরের সেরা গল্প
সমরেশ মজুমদার
নিবেদন
বাংলা সাহিত্যের কোন শাখাকে নিয়ে যদি বিশ্বের দরবারে গর্ব করতে হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে সে বিষয়টি হবে ছোট গল্প৷ বিগত বাংলা শতাব্দীতে ছোট গল্প যে ভাবে উন্মেষিত হয়ে নানা ভাবে নানা শৈলীতে বিকশিত হয়ে বর্তমান রূপে এসে পৌঁছেছে, তার সেই ক্রমবিবর্তনের বৈভক-সৌন্দর্য গত একশ বৎসরের বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখকের ছোটগল্পগুলি পাশাপাশি রেখে না পড়লে কিছুতেই উপলব্ধি সম্ভব নয়৷ এই সংকলনটির প্রকাশে সেই উপলব্ধি লাভের তাগিদই প্রধান কারণ৷ এই সংকলনে সেই সব ছোটগল্প নির্বাচিত হয়েছে, যেগুলিতে লেখকের রচনাশক্তি ও শিল্পোৎকর্ষের যুগ্ম সমাবেশ ঘটেছে৷ ‘সেরা’ শব্দটি নিয়ে দ্বন্দ্বের সমাধান কখনও হয়নি৷ লেখকের মতের সঙ্গে সমালোচকের মত মেলে না৷ সমালোচকে সমালোচকে, নির্বাচকে নির্বাচকে তো নয়ই৷ তবু, এই সংকলনের নির্বাচিত গল্পগুলি যে শ্রেষ্ঠ পর্যায়ের সে তথ্য কেউ ঠেলতে পারবেন না৷ ছোটগল্পের প্রথম সার্থক রূপ নিঃসন্দেহে রবীন্দ্রনাথের হাতে৷ বিদগ্ধ সমালোচকেরা বিশ্বসাহিত্যের দশটি শ্রেষ্ঠগল্পের মধ্যে ‘ক্ষুধিত পাষাণ’কে অন্যতম মনে করেন৷ সেইজন্য ‘ক্ষুধিত পাষাণ’কে প্রথমে রেখে গল্পগুলি সংকলিত হয়েছে৷ গ্রন্থের কলেবর সীমাবদ্ধ রাখতে গিয়ে লেখকসূচী বাড়ানো সম্ভব হয়নি৷ এটি বাস্তব অসুবিধা-জনিত একান্তই অনিচ্ছাকৃত অক্ষমতা৷ আশা করি সেজন্য কোন লেখক বা পাঠকের সহযোগিতা ও আনুকূল্য থেকে আমাদের এই উদ্যোগ বঞ্চিত হবে না৷
বজরা
বরেন গঙ্গোপাধ্যায়
পঞ্চাশ বছর আগে হলে দেখা যেত এই বজরাখানারই গমক কত! ঝাড়লণ্ঠনের নিচে ফরাস বিছিয়ে সারেঙ্গীর উপর ছড় টানতো বড়ে মিঞা হারমোনিয়মের বেলো ছেড়ে দিয়ে ফাঁক বুঝে আতরমাখা পান তুলে নিত প্রেমচাঁদ আর রুপোর থালা সামনে মেলে ধরে রূপসী বাঈজীর মাতাল করা গান শুনতে শুনতে মেজকর্তা চেঁচিয়ে উঠতেন—কেয়াবাত কেয়াবাত ফুলবাই মেরি জান। হাঁ হে ওস্তাদ, অমন মিইয়ে পড়ছ কেন? সরাব টরাব ছোঁও না, শেষটায় বেলাইন পাকড়ে বসলে–আঁ? তারপর টুকরো টুকরো হয়ে ভেসে যেত হাসির লহরা… কোমরে কানি গোঁজা ক্ষুদে ক্ষুদে জানোয়ারগুলো গেমোবনের ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখত— মেজকর্তা চলেছেন।
সেই মেজকর্তাও নেই, বজরাখানার ঠাকঠমকও ঘুচে এসেছে। গলুইয়ের সামনে পেতলের কাজ করা সিংহমূর্তিটা চটা উঠে তেকোণা বল্লমের ফলার মত আজও উঁচিয়ে আছে। কাঠের গায়ে সোনার জলের কাজ করা নগ্ন নারী চিত্রগুলোকে আজ আর বলে না দিলে চিনবার উপায় নেই। বজরাখানার সর্বাঙ্গ ছেয়ে আছে অজস্র এবড়ো খেবড়ো চলটায় রক্তদুষ্ট কোন রুগীর মত যেন।
আনন্দ চাটুয্যে বললেন, কত আর শুনবো বলতে বলতে এক মহাভারত হয়ে যায় কি ছিল আর কি হল। বাঈজী আর সরাব, সরাব আর বাঈজী। এক নম্বর ঘেরির ঠিক মুখটায় কতবার যে লাস টেনে বার করল পুলিস কে অত লিখেজুখে রাখে পড়ে পাওয়া বাপের সম্পত্তিতে মেজকর্তা ফুর্তি করেই কাটিয়ে দিতে পারতেন কিন্তু লছমীবিবির বিষ-চক্করে ফেঁসে গেলেন শেষটায়। সেইটাই হল তাঁর কাল। তিন-তিনটে খুনখারাবি করে লটকে গেলেন পুলিসের জালে। শুনতে পাই একা টমাস দারোগাই পঞ্চাশ হাজার রূপোর চাকতি খেয়েছিলা। রাঘব বোয়াল থেকে কৈ খলসে সবাইকে আক্কেলসেলামী দিয়ে জাল ছিঁড়ে মেজকর্তা বেরুলেনা কিন্তু সেই বেরুনোই তাঁর শেষ বেরুনো। কেউ কেউ বলে, মেজকর্তা সন্ন্যাস নিয়েছেন, কেউ বলে সোনা দলুইয়ের বল্লমের খোঁচায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
সোনা দলুই কে?
বজরাখানা দুলে দুলে চলছিল। ভারি গমকী চালে। হ্যারিকেন উসকে দিয়ে আনন্দ চাটুয্যে হাঁক দিলেন, ও বিপিন, তেল ভরিসনি হ্যারিকেনে? নবাব চৌকিদার হয়েছিস দেখছি। হারামজাদা, তেল ভরে দে।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল বিপিন চৌকিদার।
হ্যাঁ, সোনা দলুই! আরে মাস্টার সে অনেক কথা! সোনা দলুইয়ের বাপ ছিল এ তল্লাটে জবরদস্ত লেঠেলা লুঠের মাল বেচে আটশ টাকা নগদ ঢেলে সোনার কালীমূর্তি বানিয়েছিল। কে বানিয়েছিল জানো? বৌবাজারের হীরেন কর্মকার। সে অনেক আগের কথা। কেউ কেউ বলে, প্রথম পুজোয় নাকি নরবলি দিয়েছিল লোকটা। অত না হোক, লোকটার ক্ষমতা ছিল। সারা তল্লাট কাঁপত ওর ভয়ে আটটি রাখনি পুষে কলকাতার ব্র্যান্ডি-হুইস্কি আনিয়ে লোকটার শেষ দিনগুলো ভালোভাবেই কাটছিল, কিন্তু বুড়ো হাড়ে কি যে নেশা লাগল, নজর পড়ল মেজকর্তার বাঈজী লছমীবিবির ওপর
বাঘের খাঁচায় হাত ঢুকিয়ে বাঘের মুখ থেকে খাবার টেনে আনা সইবে কেন? বুড়ো গুম হল। সাত দিন পরে লাস যখন ভাসল, তখন আর কেউ না চিনুক সোনা দলুই চিনেছিল ঠিক। বাপকা বেটা
বুকের পাটা ছিল একখানা।
বিপিন চৌকিদার আলো দিয়ে গেল। তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে রুপো-বাঁধানো সাবেকী কালের গঙ্গড়ায় গুড়ুক গুড়ুক করে কয়েকটা টান দিলেন আনন্দ চাটুয্যে
বাইরে আলকাতরার মত গাঢ় অন্ধকার। ভূতে পাওয়া স্তব্ধ দু’পাশের গেমোবন। নদীর জল বজরার গা চাটতে চাটতে চলেছে। আকাশের তারার মত জোনাকিগুলো চিকমিক করে জ্বলছে। আর নিভছে। কত রাত? ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম, সবে সাতটা।
কিছুদিনের মধ্যেই মেজকর্তার বড় ছেলে বিলেত থেকে ফিরলেন আনন্দ চাটুয্যে আবার টানলেন গল্পটা আশ্চর্য! বরানগরের বাগানবাড়িতে ফুলের জলসা বসল না। বজরা ভাসিয়ে বাঈজী নিয়ে গোলাপজলের হোলি খেলল না শ্রীমান চঞ্চল বসুরায়। রায় ফ্যামেলির হীরের টুকরো ছেলে। চঞ্চল বললে কেউ চিনবে না, সবাই ওঁকে ডাকত বড়সাহেব। বিলিতি বিলিতি গন্ধ থাকত এই ডাকটায়।
লঞ্চ সিন্ডিকেট তখন সবে হয়েছে। তিনটে স্পীডবোট কিনে ফেললেন বড়সাহেব। মাছ ধরার তদারকে লাগিয়ে দিলেন নিজে এসে ধান কাটার দু’চার মাস এই আবাদে পড়ে থাকতেন দু’হাতে টাকা ছড়িয়ে প্রজারঞ্জন করতেন। সরাব ছুঁতে কেউ আমরা দেখিনি ওঁকে। কিন্তু
গড়্গড়ায় আবার দুটো টান দিলেন আনন্দ চাটুয্যে। আগুন চলকে উঠল কলকেয়। হালের ঘর্ষণে মিহি সুরে শব্দ উঠছে একটা। আর সঙ্গে সঙ্গে চারটে দাঁড়ের ভারি ভারি শব্দ, ঝপ ঝপ— ঝপ ঝপা তাকিয়ে দেখলাম আনন্দ চাটুয্যে এখন শুধু ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টই নন, এ আনন্দ চাটুয্যের রূপ আলাদা।
পঞ্চাশ বছর আগেও এমনি করে শব্দ হত দাঁড়ের। আজও সেই একই শব্দ। বিরামহীন সময়ের তালে তাল দিয়ে চলেছে। বোধহয় এই শব্দটার সঙ্গেই তাল রাখতে পারেননি মেজকর্তা। হার স্বীকার করে পালিয়ে গেছেন বড়সাহেবা পালিয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে বসুরায় ফ্যামেলির সম্রাটকুলা জমা আছে, জমি আছে, কি নেই তবে? বুঝে উঠতে পারেনি কেউ। আজ এসেছে পি-ইউ-বি আনন্দ চাটুয্যের মরসুম। কিছু কিছু আমি আগে শুনেছিলাম বলেই গল্পটা আমার কাছে অসত্য মনে হচ্ছিল না।
কি হে মাস্টার, অমন গুম মেরে গেলে কেন? ভাল লাগছে না বুঝি? ওরে বনশী, রাত ভোর করবি নাকি? জোরে জোরে টান!
না না, বেশ লাগছে, তারপর বলুন।
বেশ লাগবেই। আবাদের ইতিহাস কেউ যদি লিখত নাম করে ফেলতা যাক, শোন। বড়সাহেবের কীর্তিটাই শোন। ভালোই গুছিয়েগাছিয়ে বসেছিলেন বড়সাহেবা দুটো টিউবওয়েল বসালেনা ঢেঁড়া পিটিয়ে লোভ দেখিয়ে হাটখোলাটাও বসালেন। লেখালেখি করে লঞ্চ আনলেন কুমিরখালির রাস্তায়। এ রাস্তায় না হলে লঞ্চ আসে! ঘাটা দিয়ে দিয়ে লঞ্চ কোম্পানি পাততাড়ি গোটাতো কবে, কিন্তু বড়সাহেবের নজরানাই টিকিয়ে রাখল শেষতক।
সেই বড়সাহেবও সাপের লেজে পা দিয়ে বসলেন একদিন। হীরা প্রধানের বউটার দিকে নজর ফেললেন। বউটাও ছিল অপরূপা প্রধানের ঘরে কি করে যে অমন গোলাপ ফুল ফুটেছিল কে জানো সাবান তেল গায়ে পড়লে না জানি কি হত। বউটাকে ছিনিয়ে এনে কাছারিবাড়িতে তুললেন বড়সাহেব।
তারপর দিন দুই পেরুতে না পেরুতে রক্তারক্তি কাণ্ড বোষ্টমপাড়ার পুব দিকের চকে ঘোড়া নিয়ে বড়সাহেব বৈকালিক ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। ঘোড়াসমেত উলটে পড়লেন মই না দেওয়া মাটির ডেলায়।
কিন্তু কি জানো মাস্টার, ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার ছেলে বড়সাহেব ছিলেন না। এ সেই হীরা প্রধানেরই কারবার। লোকটা তলে তলে গ্রামটাকে উসকে রেখেছিল।
বড়সাহেবের বুড়ো মা রাণীবিবি খবর পেয়ে ছুটে এলেন। বড়সাহেবকে নিয়ে গেলেন কলকাতায়। তারপর থেকে কলকাতার সিংহাসনে বসে রাজকার্যের ভার নিলেন রাণীবিবি। লেঠেল নিয়ে নায়েব গোমস্তাই দেখাশুনো করতে লাগল জমিদারী।
আর এই জানোয়ারগুলিরও গোঁ বলিহারি। যা ভাববে তা করবেই। তবে আমার কাছে, বুঝলে মাস্টার, ঢিট হয়ে গেছে ব্যাটারা। সকালবেলা বিষ্ণু নাপিতের কাণ্ডখানা দেখলে তো, এক মুঠো ধান চুরির দায়ে কি মারটাই না খেল বিপিনের হাতে! আমি ছিলাম সামনে, ব্যাটা চুপ যাবার বেলা পায়ের ধুলো জিভে ছোঁয়াতেও ভুলল না। মার খেয়ে খেয়ে এখন ওদের শুয়োরের গোঁ কমেছে। দু’দিন থাকো সব দেখবে মাস্টার, সব দেখাবো।
কথায় কথায় কখন যেন নিজের প্রসঙ্গে এসে পড়েছিলেন আনন্দ চাটুয্যো সামলে নিয়ে হেসে উঠলেন হাসিতেই তাঁর ব্যক্ত হয়ে উঠল আর এক অধ্যায়। ইচ্ছে হল জিজ্ঞেস করি, তারপর?
তার আগেই আনন্দ চাটুয্যে শুরু করলেন, হ্যাঁ, যা বলছিলাম—
বলতে বলতে আবার তিনি থামলেন। রুপোর পাতমোড়া নলে টান দিয়ে বুঝলেন আগুন নিভে গেছে কলকেয়া ইতিহাসের স্তূপীকৃত জঞ্জালের মধ্যে হারিয়েই গিয়েছিলেন আনন্দ চাটুয্যে। চিৎকার করে উঠলেন, এই শালা শুয়ার বিপিন, তামাক দিয়ে যা।
বিপিন ভেতরে ঢুকল।
টং হয়ে ঘুমুচ্ছিলি বুঝি? সামলে না চলতে পারিস তো গিলিস কেন অতো, শুয়ার কোথাকার!
আমি বললাম, বজরার কি হল বলুন?
হ্যাঁ বজরা। কি বলব মাস্টার, এই যে জানোয়ারগুলো দেখছ–বিপিন তার পোকায় খাওয়া দাঁতগুলি বের করে আত্মতৃপ্তির হাসি হাসল, এগুলোর স্বভাবই হয়ে গেছে বিটকেলে ধরনের কেবল ঠুকঠুক, কোথায় মদের আড্ডা, কোথায় খানকির বাড়ি। আর বলো না মাস্টার, মেজাজ খিচড়ে দিয়ে যায়।
বজরাখানা ককিয়ে ককিয়ে চলেছে।
পি-ইউ-বি আনন্দ চাটুয্যে আবার শুরু করলেন, হ্যাঁ, বজরাখানার আদর বড়সাহেবও কম করেননি। ইয়ারবন্ধুদের সঙ্গে বন্দুক নাচাতে নাচাতে বজরা চলত সুন্দরবনের দিকে। বজরাতেই। রান্না হত, কলকাতার খানসামার হাতের রান্না, মানিক-জোড়ের তুলতুলে মাংস পোলাওয়া। কিন্তু ঐ পর্যন্ত। বড়সাহেব কলকাতার মিস্ত্রি এনে বার দু’তিন সারাইও করলেন বজরাটা বছর বছর গাব খাওয়ালেনা বাপের শখের বজরা, ছেলে তার অসম্মান করেনি কোনদিন করবার কথা নয় ওদেরা
তারপর?
হয়ত আনন্দ চাটুয্যে আরও অনেক কথাই বলতেনা বজরাটাকে কেন্দ্র করে কয়েক পুরুষের চটকদার ইতিবৃত্ত। কিন্তু একটা ঝাঁকি দিয়ে বজরাটা থেমে গেল।
কোথায় এলাম রে বিপিন?
অন্ধকারের মধ্যে ভাল করে নজরে আসে না। বড় নদী ছাড়িয়ে একটা খালের মুখে এসে দাঁড়িয়েছি বোধহয়।
বিপিন বলল, বউকাটার মুখে
বউকাটা খাল! নামটা শুনলেই বইয়ে পড়া উপন্যাসের মত মনে হয়। জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্যে খালটাকে ভাল করে নজরে আসে না। দু’পারে বসতি, কিছু কিছু জঙ্গল আর ক্ষেত—শাক, আলু, তরমুজ, রবিশস্যের হবে হয়ত।
দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকল বিপিন। বউকাটার মুখে এলাম বড়বাবু।
তা থামলি কেন? বড়বাবু অর্থাৎ আনন্দ চাটুয্যে প্রশ্ন করলেন আমিরী চালে, এসেছে বুঝি শুয়ারটা?
আজ্ঞে হ্যাঁ, দেখা করতে চায়।
দেখা করে কি করবে? না না, ভাগিয়ে দে হারামজাদাকে। যত সব ন্যাকা চৈতন।
বজরায় উঠে পড়েছে বড়বাবু।
উঠে পড়েছে, তবে আর কি, নাচি! আচ্ছা ডাক শালাকে।
বিপিন চলে গেল। আনন্দ চাটুয্যে বললেন, লোকটাকে দেখে রেখো মাস্টার।
পাথুরে কয়লার মত কালো বিরাট লোকটা বজরার মধ্যে ঢুকল। তারপর টানটান হয়ে বড়বাবুর পায়ে হাত ছুঁইয়ে গড় করল।
চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে বয়সেরা শ্লথ শির