
১০টি কিশোর উপন্যাস
আশাপূর্ণা দেবী
উৎসর্গ
আশাপূর্ণা-সাহিত্যের অনুরাগী পাঠককে
কনক দীপ
অসহ্য গুমোটটা ঝড়ের পূর্বসংকেত। সমস্ত দুপুরের অসহ্য গুমোটের পর ঝড় উঠল বিকেলের দিকে। দুরন্ত দুর্দাম ঝড়—যেন উন্মত্ত গরুড়ের ক্রুদ্ধ পাখার ঝাপটানি। তোলপাড় করে তুলতে চায় সমস্ত পৃথিবীটাকে।
চকিত হয়ে বিছানা থেকে উঠে বসলেন মিত্তির সাহেব, সঙ্গে সঙ্গে চাকর এসে ঝটপট বন্ধ করে দিল জানলা দরজাগুলো। শিক্ষিত ভৃত্য, জানে ঝড়ের ধুলো ঘরে ঢুকলে তার চাকরিতে টান পড়তে পারে।
কিন্তু মিত্তির সাহেবের আজ কী হল কে জানে, জানলাগুলো বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিরক্তিসূচক একটা ‘আঃ’ শব্দ উচ্চারণ করে নিজে উঠে গিয়ে দু-হাতে ধাক্কা মেরে বারান্দার দরজাটা খুলে ফেলে বেরিয়ে এলেন।
মার্বেল পাথরে বাঁধানো চওড়া বারান্দা, কেন কে জানে চাকর-বাকরগুলো বলে ‘গাড়ি-বারান্দা’। সেখানে প্রচন্ড শব্দের দাপাদাপি। সেখানে ধুলোর উন্মাদ লাফালাফি। অসংখ্য মুঠোয় কে যেন ধুলোপড়া ছুড়ে ছুড়ে পাগলা করে দিতে চায় মিত্তির সাহেবকে।
প্রথমটা বোধকরি ঝড়ের ঝাপটে অজ্ঞাতসারেই একবার পিছিয়ে এসেছিলেন মিত্তির সাহেব, তারপর দৃঢ় পায়ে এগিয়ে এসে রেলিং ধরে দাঁড়ালেন।
ঝড় মানেই তো ধুলোর ছুটোছুটি।
রাস্তার মাঝখানে মাঝখানে ধূমকুন্ডলীর মতো পাক দিয়ে উঠছে ধুলোর কুন্ডলী, যে কুন্ডলী বাতাসের তাড়নায় বেঁা বেঁা করে ছুটছে চলন্ত রেলগাড়ির মতো। ধুলোর শোভাযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে ছুটছে ছেঁড়া কাগজ, শুকনো শালপাতা।
চাকরটা ঘরের মধ্যে থেকে সবিনয়ে জানাল একবার—‘‘বাবু ভারি ঝড় উঠেছে।’’
এটা বাহুল্য বিজ্ঞপ্তি বটে, তবে কথাটার প্রকৃত অর্থ বোধ করি ‘‘বাবু, খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রকৃতির শোভা দেখবার উপযুক্ত সময় এটা নয়।’’
মিত্তির সাহেব শুনতে পেলেন বলে মনে হল না। চাকরটা খানিকক্ষণ হাবার মতো দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে বাঁচাতে সরে পড়ল।
বাইরের বাতাস এসে তোলপাড় করতে লাগল—রেশমি পর্দা, শাটিনের বেডকভার, ভেলভেটিং কার্পেট। জঞ্জালে ভরিয়ে তুলতে লাগল আয়না পালিশ আসবাবপত্র, শৌখিন টেবল-ল্যাম্প, শ্বেত-পাথরের ফুলদানি, পিতলের বুদ্ধমূর্তি।
শন শন করে কী একটা পাতা ঠিকরে এসে গায়ে লাগল।
কী এ?
পাতা না? কী পাতা?
আম পাতা!
মুঠোয় চেপে ধরে পরীক্ষা করতে গেলেন মিত্তির সাহেব, গুঁড়িয়ে গেল হাতের মধ্যে। হয়তো অজানা বাজে গাছের পাতা, হয়তো বা সত্যিই আমপাতা। কিন্তু শুকনো খড়খড়ে বুড়োপাতা।
কাঁচাপাতা ওড়ে না এখানে? সেই কবেকার কোন ভুলে যাওয়া দিনে যেমন উড়ত অসংখ্য কাঁচাপাতা? ছপাছপ ঝপাঝপ করে গায়ে এসে পড়া সেই পাতাগুলোকে ঝাড়তে ঝাড়তে সন্ধানী দৃষ্টি ফেলে ফেলে যারা দেখছে তাজাপাতার সঙ্গে তাজা মটমটে কাঁচা আমগুলো কোথায় কোথায় পড়ছে, ওরা কারা?
ওই ঝড়ে লুটোপুটি খাওয়া প্রকৃতির মতোই দুর্বার দুরন্ত ওই প্রাণীগুলো? ওরা যে বাগানে লুটোপুটি করছে, কেবলমাত্র কি ওই কাঁচা আমগুলোর আশায়? না লুটোপুটিটাই সুখ?
কিন্তু কোথায় সেই আমবাগান? কবেকার ছবি ওটা?
মিত্তির সাহেবের সঙ্গে ও ছবির কোনো যোগসূত্র আছে?
ঝড়ের বেগ ক্রমশ বাড়ছে, বাড়ছে বুক-কেমন করা শব্দ। কোথাকার একটা ছোট্ট দোকানের শেডটা বুঝি খুলে উড়ে গিয়ে আছড়ে পড়ল রাস্তার ওপর। ভয়ংকর সেই শব্দে কানে তালা দিয়ে উঠল।
এত ধুলোয় আর চোখ বন্ধ না করে উপায় নেই। কিন্তু বন্ধ চোখের সন্ধানী দৃষ্টি, বিস্মৃতির অন্ধকারের মধ্যে হাতড়ে বেড়াতে চাইছে কেন আজ? কী সেখুঁজছে? পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে অবস্থিত সেই আমবাগানটিকে? যেখানে গাছপালা ফলপাতার মতোই প্রবল বর্ষণে নির্ভয়ে ভিজছে কাঁচা আমলুব্ধ প্রাণীগুূলো?
ওরা কী মনুষ্য-শাবক? না ওই দুরন্ত প্রকৃতিরই এক টুকরো অংশ? কিন্তু কোথায় ছিল ওরা? কোথায় কবে করত এই দুরন্ত মাতামাতি?
দেশটার নাম থাক, শুধু ছবিটাই আঁকা হোক।
সাঁেদা সাঁেদা গ্রাম নয়, চড়া কড়া শহর নয়, মাঝারি মফসসল টাউন। যেখানে গ্রাম-শহর দুয়েরই আস্বাদ মেলে। যেখানে সমাজজীবনে ধীরতা স্থিরতা আছে, ঘরে সংসারে আব্রু-সভ্যতা আছে, পুরুষের জীবনে কর্মব্যস্ততা আছে, মেয়েদের জীবনে গতি আছে। তবু আমবাগানে ঝড় ওঠে।
আচ্ছা, চিরকালই কি ঝড়ের আগে পৃথিবীর মাটি থেকে এমনি উত্তাপ ওঠে? এমনিতরো দম আটকানি গুমোট দেখা দেয়? যেমন এই একটু আগে দেখা যাচ্ছিল?
বোধ হয় যায়।
নইলে সেদিন কানু নামক সেই অতবড়ো ছেলেটাকে যখন তার মা-পিসি দু-জনে মিলে গালমন্দ করে ঘরে আটকে রেখে পাখা ঠেঙিয়ে ঠেঙিয়ে ঘুম পাড়াতে চেষ্টা করছিল, তখন ছেলেটার এমনি দম আটকানো গরমের অনুভূতি লাগছিল কেন? কেন ইচ্ছে করছিল দাঁড়িয়ে উঠে মাথার চড় দিয়ে ঘরের ছাদটাকে খুলে ফেলে দিতে? কেন ইচ্ছে করছিল দু-হাত দিয়ে ঠেলে দেয়ালগুলো সরিয়ে দিতে?
অবশেষে ধড়ফড় করে উঠে বসে দেখল আকাশ অন্ধকার!
দিন-দুপুরেই ঘরের মধ্যে সন্ধ্যার ছলনা!
রাসমণির হাত থেকে পাখাটা কখন পড়ে গেছে, গলদঘর্ম রাসমণির নাক ডাকছে স্বচ্ছন্দ তালে। তার পাশে তার ভাই-বউ কমলাও রোগা দেহটাকে একটা ভিজে দড়ির মতো এলিয়ে দিয়ে হাঁ-করে ঘুমোচ্ছে। নিশ্বাসের ওঠাপড়ায় তার পাঁজরের খোঁচাখোঁচা হাড়গুলোরও ওঠাপড়া কাপড়ের আচ্ছাদন থেকেও বোঝা যাচ্ছে।
ওদের মাঝখান থেকে ওঠে সরে পড়া এমন কিছু শক্ত কাজ নয়।
আস্তে আস্তে বেরিয়ে পড়েই কোঁচার কাপড়টা খুলে মাথার ওপর ‘পাল তুলে’ দিয়ে পাঁই পাঁই করে ছুটতে থাকে ছেলেটা। ছুটতে ছুটতে একটা পুরোনো একতলা বাড়ির কাছ বরাবর এসেই কী ভেবে বাড়ির সদরে না ঢুকে পাশ দিয়ে এগিয়ে ‘ওঁচলাগাদা’ ডিঙিয়ে ভেতর দালানের জানলায় গিয়ে ডাক দেয়, ‘‘ফুলি, এই ফুলি!’’
বলাবাহুল্য স্বর উচ্চগ্রামে নয়, তবু ঠিক জায়গায় পৌঁছোতে দেরি হয় না। দালানের জানলার একটা কপাট খুলে গেল, এবং একটি ভীতসন্ত্রস্ত মুখ যেন আলোর মতো ফুটে উঠল!
দু-জনেরই কন্ঠস্বর খাদে।
‘‘কে কানুদা?’’
‘‘হ্যাঁ, বেরিয়ে আয় চুপি চুপি।’’
‘‘কানুদা!’’
‘‘কী হল! চোখ গুলিগুলি করছিস যে!’’
‘‘আবার তুমি আজ বেরিয়েছ কানুদা? দেখছ না আকাশের অবস্থা? বাড়ি যাও শিগগির।’’
কানু মুখ ভেঙচে বলে ওঠে—‘‘আহা! কী কথাই বললেন! ‘বাড়ি যাও শিগগির!’ গাছে আজ আর একটাও আম থাকবে ভেবেছিস? বেরিয়ে আয় চটপট।’’
জানলাটা ভেজিয়ে দিয়ে নি:শব্দে বেরিয়ে আসে ফুলি।
আকাশের ঈশান কোণ জুড়ে অন্ধকারের কী বিরাট সমারোহ! মেঘের মাথায় মাথায় রূপালি জরিফিতের ঝলকানি! আমবাগানের চেহারাটা কল্পনা করে ফুলির ছোট্ট বুকটায় দুরন্ত লোভ স্পন্দিত হয়ে ওঠে সন্দেহ নেই, তবু ফুলি ভারিক্কি চালে বলে ওঠে, ‘‘আচ্ছা বেহায়া তো তুমি কানুদা! তোমার পিঠের দাগ যে এখনও মিলোয়নি। জ্যাঠামশাইয়ের খড়মজোড়া হারিয়ে গেছে বুঝি?’’
এত অপমান অবশ্য নীরবে সহ্য করা কানুর পক্ষে সম্ভব নয়, সেফুলির গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে বলে ওঠে, ‘‘হয়েছে, হয়েছে, খুব পাকামো হয়েছে! যাবি না তো যাবি না, বয়ে গেল! কে তোর জন্যে মরছে!’’
ঝড় ওঠে আকাশে, ঢেউ ওঠে গঙ্গায়।
এক গালের চড় খাওয়া লাল ছড়িয়ে পড়ে সারামুখে।
বালিকার চোখে তরুণীর তীব্রতা!
‘‘যাব নাই তো—! আমি কি তোমার মতো গুরুজনের অবাধ্য?’’
‘‘গুরুজন!’’
‘পাল তোলার’ জন্যে খোলা কোঁচাটা এতক্ষণ কাঁধে জড়ো করা পড়েছিল, সেটাকে টেনে নিয়ে জোরেজোরে কোমরে জড়াতে জড়াতে কানু ফের মুখ ভেঙচে বলে, ‘‘গুরুজনের বাধ্য হয়ে তো সগগের সিঁড়ি হবে! গুরুজনের নাম করিসনে আমার কাছে। ছোটোদের মারতে বকতেই ওরা জন্মেছে।’’
কানুর এহেন মন্তব্যে ফুলি হেসে ফেলে কী যেন বলতে যাচ্ছিল, হঠাৎ চোখ-ধাঁধানো একটা আগুনের ফিতে আকাশের গায়ে যেন সাপের মতো ফুঁসে দুলে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে প্রলয়ংকর একটা শব্দ!
এ শব্দ চেনে না এমন কে আছে?
তবে মনে হল বড্ড কাছাকাছিই কোথাও পড়েছে বাজটা।
বজ্র আর বিদ্যুৎ!
মুহূর্তের জন্য দুজনেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।
এরপরই বড়ো বড়ো ফোঁটায় বৃষ্টি নামল।
বৃষ্টি দেখেই কানু চেঁচিয়ে ওঠে—‘‘এই সেরেছে! বিষ্টি এসে গেল! ফুলি আয় না! না হয় বাড়িতে একটু মারবে।’’ বলেই ফুলির কাঁচের চুড়ি পরা গোলগাল একখানা হাত ধরে হ্যাঁচকা টান মারে।
তথাপি ফুলি আত্মরক্ষা করে ‘‘না ভাই না!’’
‘‘যাবি না তাহলে?’’
‘‘রাগ করিসনে কানুদা—’’ ফুলির মুখের রেখায় রেখায় ভয়ের স্বাক্ষর। গুরুজনের অবাধ্য হওয়ার ভয়, কাল-বৈশাখীর মেঘপ্রমত্ত আকাশের ভয়, আর নাম-না-জানা একটা দুর্বার আকর্ষণের ভয়!
‘‘বেশ যাসনে! ভীতু ব্যাং কোথাকার! ব্যাং ব্যাং কুয়োর ব্যাং!’’
উন্মত্তবেগে ছুটে যায় কানু আমবাগানের দিকে। ফুলি বৃষ্টি থেকে সরে এসে জানলার দিকে দাঁড়ায়। হয়তো এই নিদারুণ অপমানে ওই বৃষ্টির মতোই বড়ো বড়ো কয়েকটি ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে তার চোখের কোল বেয়ে।
ছেলেবেলায় ভীরুতার অপবাদ সব থেকে মর্মান্তিক। আরও মর্মান্তিক, সেভীরুতা যদি নিরুপায়তা থেকে সৃষ্ট হয়।
শহরে ছেলেমেয়েদের চিত্ত-জগৎটা যেন শূন্যোদ্যান! ওর মূল বনেদে না আছে গভীর আনন্দের মাটি, আর না আছে নিবিড় রসানুভূতির শিকড়।
শহুরে ছেলেমেয়েদের বাল্য-কৈশোর যেন মেটে রঙের কালিতে লেখা একটা দিনলিপির খাতামাত্র।
রুলটানা খাতায় একটানা লেখা!
পরবর্তীকালে সেখাতা কোনোদিন উলটে দেখতে গেলে কোথাও চোখ আটকে যাবে না। শহুরে ছেলেমেয়েদের ‘ছেলেবেলা’ বহু বিচিত্র অনেকগুলি ছবির সমষ্টি নয়, ঝাপসা ঝাপসা অনেকগুলো ঘটনার সমষ্টিমাত্র।
নিজের ছেলে ‘টুটুল’, ‘টোকনে’র জন্য করুণা অনুভব করেন মিত্তির সাহেব। যে ছেলেমেয়েরা শেষরাত্রে উঠে পরের বাগানের ফুল চুরির আর রোদে খাঁ খাঁ দুপুরে পরের পুকুরের মাছ চুরির রোমাঞ্চ জানল না, তাদের জন্যে করুণা হবে না?
যারা কালবোশেখীর ঝড়ে আম কুড়োয়নি, যারা খালি পায়ে এক হাঁটু ধুলো মেখে তিন ক্রোশ মাঠ ভেঙে ‘মেলার বাজারে’ যাত্রা দেখতে যায়নি, যারা সেই মেলার বাজারের বাদাম-তেলেভাজা-পাঁপর আর সাতদিনের বাসি ঝালমুড়ি খেয়ে যাত্রার আসরের এক কোণে পড়ে ঘুমিয়ে জ্বর-জ্বর-গা আর লাল-লাল চোখ নিয়ে সকালবেলা বাড়ি ফিরে বাপ-কাকার কাছে পিটুনি খায়নি, যারা গাছে চড়েনি, জলে ঝাঁপাই ঝোড়েনি, পাখির বাসা থেকে ছানা পেড়ে আনেনি, তাদের স্মৃতির ভান্ডারে আছে কী?
কিছু না। শুধু একমুঠো শূন্যতা!
যাত্রা!
যাত্রার কথা মনে পড়তেই—মনে পড়ে যায় কী যেন এক বিখ্যাত অপেরা পার্টির কী যেন ‘পালা’র ভীমসেনকে। ‘পালা’র নাম মনে নেই, ভীমসেনকে মনে আছে।
ইয়া গোঁফের জোড়া, ইয়া ভুরুর জোড়া, ইয়া ভুঁড়িদার সেই ভীমসেনকে ভোলার কথাও নয়। ভোলবার কথা নয় সাংঘাতিক সেই দৃশ্যটাও।
মিত্তির সাহেবের ঠোঁটের কোণে একটু হাসির আভাস।
বীরবিক্রমে নাচতে নাচতে কোমরবন্ধ খুলে পড়েছিল ভীমসেনের। খসে পড়েছিল ভেলভেটের প্যান্ট। হতভাগ্য ভীম বিপদের পূর্বমুহূর্তেও টের পায়নি। যখন পেল তখন ধুপ করে বসে পড়ল বটে, কিন্তু তখন সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
দর্শকমহলে সেকী হাসির ধুম!
আধঘণ্টা ধরে চলতে লাগল সেই হাসির দমক। পালা আর জমলই না তারপর।
সেই হাসির রেশ নিয়ে বাড়ি