
কোথায় পাবো তারে
সমরেশ বসু
পর্ব ১
‘বাবুর যাওয়া হবে কোথায়?’
লোকটির চেয়ে চেয়ে দেখা, একটু হাসি হাসি ভাব দেখেই বোঝা গিয়েছিল, এরকম একটা কিছু বলবে। বাবু ছাড়া, সে-ই আছে। তৃতীয় কোনও যাত্রী নেই। আর আছে মাঝি। কিন্তু এ মাঝির কাছে, জগৎ-সংসার তো যেন নিরাকার। অন্যথায় সে এমন নির্বিকার কেন। নতুন শীতের এই সকালে তার আদুর গা। গায়ে খানে খানে খড়ির দাগ। কালো গায়ে দাগগুলো ফুটেছে পরিষ্কার। ময়লা কাপড়টা হাঁটুর ওপরে গোটানো। মুখে কয়েকদিনের গোঁফদাড়ি। তাও বেশ জুতসই নয়, আধা মাকুন্দের গোঁফদাড়ি। অনেক ফাঁক আছে। চোখ দুটি কালো, ডাগরও বটে, কিন্তু যেন রাজ্যের ঘুম সেখানে জড়ো হয়ে আছে। একে ঘুমকাতর বলে, না ঢুলুঢুলু বলে, কে জানে। সে জল দেখে না, যাত্রী দেখে না, এপার ওপার লক্ষ নেই, বৈঠা টানছে ছপ্ ছপ্। তার যেন শীত-গ্রীষ্ম বোধ নেই। জলে জোয়ার না ভাঁটা, খেয়াল নেই। মাঝি তুমি কী করো। পারাপার করি। আর কী করো। পারাপার করি। মাঝির দিকে তাকিয়ে এমনি মনে হয়, তার জগৎ-জোড়া দরজা বন্ধ।
যেখানে এসে দাঁড়িয়েছিলাম, সেটা আঘাটা নয়। খেয়াঘাট নয়, আন্দাজ করেছিলাম। অতএব, এ মাঝি খেয়া পারানির বাঁধা ঘাট-মাঝি নয়। জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘ওপারটা হিন্দুস্থান না পাকিস্তান।’
‘হিন্দুস্থান।’
মুখ না তুলে, পাটাতন ফাঁক করে, জল সেঁচতে সেঁচতে জবাব দিয়েছিল। একটা বেশি কথা বলবে, সেরকম পাওনি। অচেনা লোক, তাকিয়ে দেখতেও কি চোখ সরে না। সরলে তো দেখতই। সকলের অমন কথায় কথায় চোখ সরে না। অর্থাৎ নড়ে না। দেখছে, জল সেঁচছি। মানুষ এলে, কী বলার আছে বলো, জবাব দিচ্ছি।
কিন্তু এত সোজাসুজি হলে হয়! মানুষটা এল কোথা থেকে, দেখবে তো। তার চলাফেরার ধাঁচ-ধোঁচ, খেই ধরতাই দেখবে তো। শহর থেকে মানুষ এল, মানুষ নয়, বাবু এল, জানো, তার এক কথাতেই চুন খসে যায়। তোমার কাছে একটা কথা পাড়বে, তারপরে যদি তুমি তার মান না রাখো।
তবে মানের বোঁচকা নিয়ে হাঁটা দাও। সে কেন মিছে বকে মরবে। রাজা মহারাজা তো করবে না হে, তবে আর হেসে তাকিয়ে কথা বলে ভেজাল মিশেল দিয়ে কী হবে। আশেপাশে আরও দু’চারখানা নৌকো ছিল। তাদের মাল বোঝাইয়ের বহর দেখে, কিছু জিজ্ঞেস করতে পারিনি। তাই তাকেই জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘পার করে দেবে!’
‘দু’আনা লাগবে।’
এক কথাতেই সব জবাব। দেবে কি দেবে না, অত কথার দরকার বোঝেনি। বারো নয়া তেরো নয়, সে সবও বলেনি, সাবেকি হিসেবেই কথা। নয়া চালের কী-ই বা দেখছ এখানে। এ ইছামতী নদী নয়া নয়। এই যে জোয়ারে উজান যান, এ নয়া নয়। যত পুরুষ পেছিয়ে যাবে, অনেক সাবেকি হিসাব পেয়ে যাবে। তোমার বারো নয়া তেরো নয়ায়, ইছামতীকে নয়া করতে পারনি। আগের ভাঁটার যে পাল এখনও ডোবেনি, তার রং সেই সাবেকি, কালো কুচকুচে, পাতায় মোড়া পাত-ক্ষীরের মতো। গাঙ শালিকেরা ঝাঁক বেঁধে, চঞ্চু খুঁচিয়ে, পোকা খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে সেখানে। সূর্যের ছটা-লাগা আকাশটা সেইরকম সাবেকি। প্রথম শীতের হাওয়ায়, মেঘের ছিটেফোঁটাও উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে। ঝকঝকে নীল পাথরের মতো, এত চেকনাই যে, চোখ রাখা যায় না। ইছামতী জোয়ারে বাড়ন্ত, একটু ঢেউ নেই। ধোয়ামোছা একখানি আরশি, আকাশের ছায়ায় নীল। ওপারে দেখা যায় যে গ্রামখানি, তার আম জাম জারুল গাম্বিল কাঁঠাল নারকেলের গা ভরে রোদ। মস্ত মস্ত হিজল নেই, গেমোর ঝাড় ঝোপ জলে নেমে দাঁড়িয়েছে। কোমর ডুবিয়ে, ডাল বাড়িয়ে ইছামতীর জোয়ারে ছপ্ছপ্ খেলছে। মাঝেমধ্যে ক্যাওরার ঝোপ। বারো নয়া তেরো নয়ার মতো নতুন কিছু নেই, সবই সাবেকি। নয়া তো তোমার মিলের ধুতির পাড়ে, মিলবাবুর জামায়, চোখের জামান কাচের কালো ঠুলিতে, শান্তিনিকেতনী ঝোলায়। কথার ভেজাল বাড়িয়ে লাভ কী। উঠে বসেছিলাম। দরাদরি করা যেত, কেন না, টিকেট যখন ছাপানো নেই। ছাপাছপি না দেখলে, কোনও কিছুতেই এক দর বলে মানতে শিখিনি। কিন্তু এ যা মাঝি, তার এক মুখ খোলা, বাকি সব বন্ধ। কথার ভেজালে নেই, কথাই ছাপানো।
উঠে বসতেই জল সেঁচা বন্ধ করে পাটাতনে বসিয়ে দিয়েছিল। ছই নেই, খোলা, জেলে নৌকার মতো। জালের ভাঁজ ছিল না যে মাঝিকে মাছধরা ভাবব। এই মালবোঝাইয়ের ঘাটে যে সে বেগার দেবার জন্যে বসেছিল না, তাতে সন্দেহ নেই। হতে পারে, মাছ মারে, মাল বহে, পারাপারও করে। নৌকা যখন একটা আছে। কিন্তু আমার তো মনে হয়েছিল, মাঝি তুমি কী করো, পারাপার করি। এ ছাড়া আর কিছু নয়। আর কী করো। পারাপার করি।
নৌকার খুঁটি তুলে ঠেলা মারতে যাবে, তখনি ইনি এলেন, দ্বিতীয় যাত্রী। চিৎকার শোনা গিয়েছিল, ‘অদরদা অদরদা, দাঁড়িয়ে।’
অদর। অর্থাৎ অধর। তবে আমি অধর মাঝিকে ধরতে চেয়েছিলাম! ও ভোলার মন, সবাই কি আর অধর ধরার কল পাততে জানে। দেখ, বগলে কী একটা চেপে, রং ওঠা গেরুয়াই হবে—আলখাল্লার মতো জিনিসটা হাঁটুর ওপর অবধি তুলে কেমন ছুটে আসছিল লোকটা। কোথায় যাবে, যাবে কিনা, দর কত, কোনও জিজ্ঞাসাবাদ নেই। ‘অদরদা দাঁড়িয়ে’, তো অধর নৌকার দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে। অধর মাঝি একবার তাড়া দেবার হাঁক দেয়নি। কালো মুখখানিতে, কপাল বা ভুরুতে কোথাও একটু এদিক ওদিক হয়নি। ঢুলুঢুলু চোখ দুটো তুলে একবার লোকটিকে দেখেছিল মাত্র। সে এসে উঠতেই নৌকা ঠেলে দিয়েছিল। তারপরে শোনো কথা।
‘জয় মুরশেদ। বেলা হয়ে গেল। একটুকুন তাড়াতাড়ি আসতি পারলে জানি, পারের চিন্তা নাই। তবু যাগ্গা, তোমাকে মিলিয়ে দিলে গোরাসায়িবে। বেরুতি যাবো, হরেকেষ্ট আর তার বউয়েতে কী ঝগড়া। পাড়ায় কাক চিল থাকতি চায় না। বিত্তান্ত কি, না হরেকেষ্ট গাই দোয়াবার আগে এক ফেত্তা হুঁকো টানতে বসেছিল। বেরুবার মুখেতেই, এসব বড় খারাপ, দিনটা না বেরথা যায়। দাঁড়িয়ে একটু জোড়াতালি দিলাম, তারপরে…।’
কিন্তু মুরশেদের জয় হয়েছে, গোরাসায়িবে মিলিয়ে দিয়েছে, ঝগড়া মেটানো হয়েছে, সব বৃত্তান্তই বলা হয়েছিল, অধর মাঝি অধর। সে তেমনি নির্বিকার। তার চার পাশে সব যেন নিরাকার। তার বৈঠা জলে পড়ছিল ছপ্ছপ্, সে পারাপার করে। তার দৃষ্টি না জলে না থলে; কথা নেই, শোনে কি না কে জানে। লোকটি এমনি বসে কথা বলছিল না। ছুটে এসে, সে তার কাঁধের ঝোলা ঠিক করছিল। আলখাল্লা না জোব্বা, যা হোক, দেখে নিচ্ছিল। ছিঁড়ে যাবার ভয় ছিল বোধ হয়। দেখে ভাবছিলাম, ছিঁড়বে না বা কেন। ও আলখাল্লার আর আছে কী। শতখানে শতেক তালি, এখানে মচকানো, ওখানে মচকানো। ওটার নাম এখন তালিখাল্লা হলেই ভাল হয়। নয় তো কাঁথাখাল্লা। তালিতে তালিতে এমন মোটা হয়েছে, কাঁথার মতোই দেখাচ্ছে। তার ওপরে যত ঝাড়ে, তত ধুলো ওড়ে। কবে যে রঙে ছোপানো হয়েছিল, কে জানে। এখন গেরুয়া জলে ধোয়া। মাথার পাগড়িটা অন্তত আস্ত আছে, মনে হয়েছিল। সেটা খুলে যখন ঝাড়া দিয়েছিল, জয় মুরশেদ, সেটিতে অজস্র ছিদ্র আর গিঁটে ভরতি। অথচ বাইরে থেকে এমন নিপাট ভাঁজ জড়াবার কেরামতি, সব ছিদ্র বন্ধন। এক কলসিতে নয়টি ছিদ্র, নবম পদ্মদলে। মন, ছিদ্র বন্ধন করো। পাগড়ির খেলা সেই রকম দেখেছিলাম। ঘাড় অবধি বাবরি চুলে, ঝাপটা দিয়ে ধুলো ঝেড়ে ঝেড়ে, আবার পাগড়ি বাঁধতে দেখেছিলাম। তারপরে ওই শোনো, ইছামতীর বুকের ওপরেই ডাক শুরু হয়ে গিয়েছে:
আমি এসে এই দুনে,
মন মুরশেদ না নিলেম চিনে।
আমি যাব কোথা কেউ বলে না
হয় নারে মনে,
আমি ছিলাম কোনখানে
আমারে আনলে কোনজনে।
অধর মাঝি বৈঠা টানে। আর একজন মন মুরশেদকে ডাকে। তার আগে যে অত কথা, হরেকেষ্ট যুগলের গাই দোয়ানো বিভ্রাট, অধর মাঝির কাছ থেকে কি তার কোনও জবাবের প্রত্যাশা নেই। থাকলে শুনতে পেতে। গোরাসায়িবে মিলিয়ে দিয়েছে, তাই দুটো কথা। ও হল কথার কথা। আর সব মনে মনে। যাবে তো পারে হে, নায়ের নাগাল পেয়েছ, আর তো কিছু বলার নেই। হ্যাঁ, হ্যাঁ, এবার যত খুশি হাঁকো, ‘মুরশেদ আমার কোন শিয়রে জাগে রে।’…
উনি সাঁইবাবা না দরবেশ, তা কে জানে। গোঁফদাড়িতে পাক ধরেছে মাত্র, অথচ মুখ দেখ, ফাটাফুটি চৌচির, যেন আদ্যিকালের মুখটি। বালা পরা হাতের চেহারাও তেমনি। যত ফাটার দাগ, তত শির। তবে এই চৌচির মুখে, চোখ ইছামতী। এই রোদ-লাগা চলন্তা জলের মতো। ছোট ফাঁদে, কালো তারা, থেকে থেকেই নড়ে চড়ে, ঝিলিক মারে। কেবল দাঁতের কথা বলো না মুরশেদ, পান খেয়ে খেয়ে পাকা ছোপ ধরিয়ে ফেলেছে। দরবেশের গলাটা কেবল ভরাট নয়। কম করে দুটো গ্রাম পেরিয়ে শোনা যাবে, এত জোর। শহরে হলে, কী হত, বলতে পারি না। এখানে তো দেখি, পলিপাড়ের গাঙ শালিকেরা একবার মাত্র ত্রস্তব্যস্ত হয়ে উঠল। তারপরে আবার পেটের ধান্দায়, চঞ্চু-পাঁকে লড়াই। মন-মুরশেদের ডাক তাদের শোনা আছে। ওপারের বনে বনে, আর এই আকাশের ছায়া পড়া নীল ইছামতীর আরশিতে, মন-মুরশেদের হাঁকে কোনও হকচকানি নেই। যেন পলিপাড় বলো, বন বলো, নদী বলো, মায় অধর মাঝি বলো, সব যেন কান পেতে ছিল। যেন পারাপারের কোথায় কিছু সুর ছিল আবাঁধা। এবার বাঁধা হল।
নিজের কথাই বা বাদ দিই কেন। ‘আমি ছিলাম কোনখানে, আমারে আনলে কোনজনে’ শুনব বলে, আমি কান পেতে ছিলাম না। তবু মনে হয়েছিল, কান পেতেছিলাম, আমার জানা ছিল না। প্রথম কয়েক কলি বেশ হাঁক পেড়েই হয়েছিল। তারপরে ইছামতীর জলে হাত ছুঁইয়ে, আঙুল দিয়ে একটু দাড়ি আঁচড়ে নেওয়া হয়েছিল। নিতে নিতে গুনগুনানি শুনেছিলাম, ‘মুরশেদ আমার কোন শিয়রে জাগে রে, মুরশেদ আমার কোনখানে বিরজে রে।’
বিরজে সম্ভবত বিরাজ। আর গুনগুনানি যে এমন বাঁশির সুরের মতো ভাঁটির টানে সমুদ্রে যেতে চায়, আগে কখনও মনে হয়নি। তখনি দেখেছিলাম, কালো মোটা ঠোঁটের ফাঁকে, পানের পাকা ছোপের দাঁতের হাসি। ছোট ফাঁদের চোখে ধরা কালো তারায় বারে বারে দেখা। দরবেশের চোখে ধন্দ বুঝতে পারি, তার সঙ্গে হাস্য কীসের। তারপরেই, সন্দেহ যা করেছিলাম, ‘বাবুর যাওয়া হবে কোথায়!’
বললাম, ‘ওপারে।’
‘না, বলে, চিনতে পারলাম না কিনা।’
চুপ করে থাকতে চাও, থাকতে পারো। তবে অধর মাঝিকে যা মানায়, তোমাকে কি তাই মানায়। তা ছাড়া দরবেশের গলা কি তোমাকে একটুও মাতায়নি। মুরশেদের ডাক! আমারে আনল কোনজনে। জবাব দিলাম, ‘কেন, অচেনা লোক কি এ তল্লাটে দেখা যায় না।’
‘জয় মুরশেদ!’
বাতাস লাগলে যেমন পাড়ে পাড়ে ঢেউ লাগে, দরবেশের চৌচির মুখে সেই রকম লাগল। বলল, ‘তা আবার যায় না। অচেনা লাগল কিনা, তাই। বোলে সাঁইয়ের ঠাঁই তো সবখানে, এ তল্লাটে বাবুকে দেখি নাই।’
অধর মাঝি কী বলে। কিছু না কেবল বৈঠা ছপ্ছপ্। বললাম, ‘কোথায় যাব, তা জানি না। ওপারে যাবার ইচ্ছা হল, তাই যাচ্ছি। নাম কী ওপারের।’
জিজ্ঞেস করলাম। দরবেশের ঝোলা থেকে তখন একখানি পুরনো ডুপ্কি বেরিয়েছে। ডুপ্কির চামড়ায় টোকা দিতে গিয়ে, সাঁইবাবা হেসে মরে গেল। বলল, ‘বাবু বলে কিগো অদরদা! পারের নাম জানে না।’
অধর সেই রকমই অ-ধরা। সে কেবল পারাপার করে। নৌকা এখন মাঝ দরিয়ায়। আরশির তলায় তলায় টান। উজান কি আর এমনি ওঠে। গোটা সাগর চাপ দিচ্ছে। বৈঠা হাতে নাও, বুঝতে পারবে উজানি টান কাকে বলে।
দরবেশ আবার জিজ্ঞেস করে, ‘তবে যাচ্ছেন কোথায়!’
‘ও পারে।’
‘ওপারে!’ সাঁইবাবার আবার হাসি। বলল, ‘কোনও ঠিকানা নাই?’
লোকটার গলায় যেন হাসির বান আটকে রয়েছে। জবাব শুনলেই কলকলিয়ে ফেটে পড়বে। তবু বলতে হল, ‘না।’
একেবারে দাড়ি ওড়ানো হাসি হাসল দরবেশ। বলল, ‘মজার ব্যাপার তো। বাবু যে মুরশেদ খুঁজতে বেরয়েছেন। আমারে আনলে কোনজনে, আমি ছিলেম কোনখানে। তা আসছেন কোত্থিকে?’
আর একটু কাছে এগিয়ে এসে বসল। মাঝি একটা কথাও জিজ্ঞেস করেনি। সাঁইবাবার কথা ফুরায় না। আমার বাসস্থানের আধা শহরটার নাম বললাম। সে অমনি ঘাড় নেড়ে বলল, ‘গেছি গেছি, আপনার দেশ ঘুরে এসেছি। তা সেখেন থেকে সাত সকালে বেরিয়ে পড়েছেন, ওপারে যাবেন বলে।’
‘হ্যাঁ।’
‘আর ওপারের নামও জানেন না।’
জানবার দরকার কী, তা নিজেই জানি না। নিজেক