আড়ালে মৃত্যুর ফাঁদ

আড়ালে মৃত্যুর ফাঁদ

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আড়ালে মৃত্যুর ফাঁদ

Books Pointer Iconসৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
Books Pointer Iconthriller

Change color


০১.

জয়শ্রী সিনে স্টুডিও ম্যানেজার গোপালবাবু ঘরে ঢুকেই থমকে দাঁড়ালেন। বললেন–উরেব্বা। একসঙ্গে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স! তা যাগগে, ভালই হল।

কথাটা বলেই তিনি আমাদের তিনজনকে নমস্কার করে সোফায় বসলেন। তার হাতে একটা ব্রিফকেস।

কর্নেল বললেন–আজ গোপালবাবুর মুড বেশ চমৎকার দেখছি। ব্যাপার কি? নতুন কোনও ফ্লোর আপনাদের স্টুডিওতে চালু হয়েছে নাকি?

গোপালবাবু মুচকি হেসে বললেন–আর ফ্লোর! তিন নম্বর ফ্লোরে ব্রতীনবাবুর নতুন ছবির আজ শুভ মহরতের কথা ছিল। কিন্তু ভোরবেলা তিনি ফোন করে জানালেন, মহরৎ হচ্ছে না।

আমি জিগ্যেস করলুম–আপনি সম্ভবত স্টুডিও থেকেই সোজা কর্নেলের ডেরায় হাজির হয়েছেন। তার মানে, কিছু একটা অঘটন ঘটেছে।



গোপালবাবু মুখ খোলার আগেই প্রাইভেট ডিটেকটিভ কে. কে. হালদার অর্থাৎ আমাদের প্রিয় ‘হালদার মশাই’ বলে উঠলেন–হঃ বুঝসি! ক্যান কী, উনি ঢুইকাই আমাগো থ্রি মাস্কেটিয়ার্স কইলেন।


গোপালবাবু হাসিমুখেই বললেন–আপনি তো একসময়ে পুলিশ অফিসার ছিলেন। রিটায়ার করে প্রাইভেট ডিটেকটিভ এজেন্সি খুলেছেন। কোনও ফিল্ম প্রোডিউসার যদি শেষ মুহূর্তে নতুন ছবির মহরৎ বাতিল করেন তাহলে তার পেছনে কী কারণ আছে আপনার অনুমান করা উচিত।


হালদার মশাই মুচকি হেসে বললেন–দুইখান কারণ থাকতে পারে। একখান হইল গিয়া ডাইরেক্টরের সঙ্গে বিবাদ। অন্যখান হইল গিয়া হিরো বা হিরোইনের হঠাৎ কম্প দিয়া জ্বর আইসে।


কথাটা শুনে প্রথমে কর্নেল তারপর গোপালবাবু এবং আমি একসঙ্গে হেসে উঠলুম। ইতিমধ্যে ষষ্ঠীচরণ ট্রে-তে করে চার-পেয়ালা কফি আর একপ্লেট স্ন্যাকস এনে সেন্টার টেবিলে রেখে গিয়েছিল। সে জানে, কর্নেলের ঘরে কোনও অতিথি এলে কর্নেল আর এক দফা কফি খেতে চাইবেন।



কর্নেল বললেন–হালদার মশাই হিরো বা হিরোইনের কম্প দিয়ে জ্বর আসার কথা বললেন। আমার ধারণা ছবির হিরোইন-ই জ্বর বাধিয়ে বসেছেন।


গোপালবাবু কফিতে চুমুক দিয়ে বললেন-কর্নেল সাহেব ঠিক ধরেছেন। প্রোডিউসার ব্রতীনবাবুর টেলিফোনে কথাবার্তা থেকে সেরকম কিছু একটা আঁচ করেছি।


আমি বললুম–আমার কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে। কারণ গোপালবাবু কর্মব্যস্ত মানুষ। আজকাল বাংলা ছবির পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। স্টুডিও ছেড়ে কর্নেলের কাছে তার আসার কারণ নায়িকার জ্বরটা একটু অন্যরকম।


কর্নেল বললেন–জয়ন্ত। তুমি একজন সাংবাদিক। কাজেই তুমি গোপালবাবুকে প্রশ্ন করে ভেতরকার খবর বের করে নাও। এমন হতেই পারে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়বে।


গোপালবাবু এবার একটু গম্ভীর হয়ে বললেন–কতকটা তাও বলা যায়। ব্রতীনবাবুর ছবির হিরোইন এতকাল মডেলিং করত। হঠাৎ ব্রতীনাবাবুর চোখে পড়ে তার ভাগ্য খুলতে যাচ্ছিল। কিন্তু জ্বর-এই ব্যাপারটা একটু সন্দেহজনক। বনশ্রী অর্থাৎ হিরোইন সম্পর্কে স্টুডিওতে একটা গুজব শুনে এলুম। তার নাকি এমন জ্বর যে, হঠাৎ রাতারাতি তাকে তার পিসিমা বিহার মুলুকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন। অবশ্য এ কথার সত্যি মিথ্যে আমি জানি না। বনশ্রী যেখানে থাকে, সেখানকার এক ভদ্রলোক আমাদের স্টুডিওর টেকনিশিয়ান। তিনি আমাকে চুপি চুপি বলেছেন, এই কেসটার পেছনে কিছু গণ্ডগোল আছে।



আমি বললুম–গণ্ডগোলটা কি জ্বরঘটিত?


গোপালবাবু মাথা নেড়ে বললেন–তা বলতে পারব না। এখানে আপনারা তিন-তিনজন বিচক্ষণ মানুষ আছেন।


ততক্ষণে কর্নেলের কফি-পান শেষ। ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে বসে চুরুট টানছিলেন। এক টুকরো ছাই তার সাদা দাড়িতে আটকে ছিল। একফালি নীল ধোঁয়া ঘুরতে ঘুরতে তার প্রশস্ত উজ্জ্বল টাক ছুঁয়ে ফ্যানের হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছিল। ওই অবস্থায় থেকেই তিনি বললেন–তাহলে বোঝা যাচ্ছে গোপালবাবু এখানে কোনও একটা রহস্যময় কেস নিয়ে ঢুকেছেন। গোপালবাবু এবার একটু ঝেড়ে কাশলে ভাল হয়।


গোপালবাবু চাপা স্বরে বললেন–আর একটু অপেক্ষা করুন কর্নেল সাহেব। যাঁর কেস, তিনি আমাকে আগে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি এসে যাবেন।


গোয়েন্দাপ্রবর হালদার মশাই আমার কানের কাছে মুখ এনে বললেন–আমি জ্বর কইছিলাম। এখন দেখি জ্বরটা অন্যরকম জ্বর।


কথাটা বলে তিনি একটিপ নস্যি নিলেন। তারপর প্যান্টের পকেট থেকে নোংরা রুমাল বের করে নাক মুছলেন। হালদার মশাইয়ের গায়ের রঙ শ্যামবর্ণ। শরীর শক্ত সমর্থ। মাথার চুল ছোট করে ছাঁটা। কিন্তু তার গোঁফখানি দেখার মতো। পাতলা সরু গোঁফের দুই ডগা সূচালো। একটু উত্তেজনা হলেই তিনি দাঁতে দাঁতে ঘষেন এবং গোঁফের দুই ডগা তিরতির করে কাঁপে। এখন তাকে দেখে বুঝতে পারছিলুম তিনি রীতিমত উত্তেজিত। কারণ তিনি রহস্যের একটা গন্ধ পেয়ে গেছেন।



তার উত্তেজনা লক্ষ্য করে বললুম-হালদারমশাই! আমার ধারণা, গোপালবাবু যাঁর কথা বলছেন তিনি যদি এসে পড়েন তাহলে সম্ভবত কর্নেল আপনাকেই কেসটা দেবেন।


প্রাইভেট ডিটেকটিভ তেমনই চাপা স্বরে বললেন–হিরোইনের নাম কি কইলেন য্যান?


আমি বললুম–বনশ্রী।


–হঃ বনশ্রী। আর বনশ্রীরে লইয়া তার পিসিমা বিহার মুল্লুকে গ্যাসেন। রাতারাতিই গ্যাসেন। না জয়ন্তবাবু! কেসটা মিস্টিরিয়াস মনে হইতাসে। এই সময়ে লক্ষ্য করলুম, কর্নেল সোজা হয়ে বসতেই তার সাদা দাড়ি থেকে ছাইয়ের টুকরোটা নীচে পড়ে গেল। তিনি গোপালবাবুর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন জনৈক ব্রতীনবাবুর ছবির নায়িকার নাম বনশ্রী। সে একসময় মডেলিং করত। আচ্ছা গোপালবাবু গতবছর হরনাথ দত্তের জুয়েলারির দোকানে একটা ডাকাতির ব্যাপারে ঠিক এই নামের একটি মেয়ে–সেও মডেলিং করত। তো সেই মেয়েটি জড়িয়ে পড়েছিল। পরে অবশ্য তার বিরুদ্ধে প্রমাণের অভাবে পুলিশ তাকে রেহাই দিয়েছিল। সেই বনশ্রী আর এই বনশ্রী কি একই মেয়ে?



গোপালবাবু যেন একটু চমকে উঠলেন। তিনি বললেন–আপনার স্মৃতিশক্তি প্রখর। তাছাড়া পুলিশ মহলে আপনার প্রভাবও আছে। কাজেই আমাকে সত্য কথাই বলতে হচ্ছে।


হালদারমশাই কথাগুলো শুনছিলেন। তাঁর গোঁফের ডগা যথারীতি তিরতির করে কাঁপছিল এবং চোখদুটিও গুলি গুলি হয়ে উঠেছিল। তিনি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে বললেন–আঁ! তা হইলে তো গোপালবাবু আইজ একখান হেভি ক্যাস আনসেন।


সেই সময় ডোরবেল বাজল। কর্নেল যথারীতি হাঁকলেন–ষষ্ঠী।


একটু পরে একজন বেঁটে গাবদা-গোবদা চেহারার ভদ্রলোক ঘরে ঢুকে গোপালবাবুকে বললেন–আমার আসতে একটু দেরি হয়ে গেল।


ভদ্রলোকের পরনে প্যান্ট শার্ট এবং গলায় টাই। তাঁর একহাতে গোপালবাবুর মতই একটা ব্রিফকেস। মাথায় একরাশ কাঁচাপাকা এলোমেলো চুল। গোঁফদাড়ি যত্ন করে কামানো। তার গায়ের রং ফর্সা।


গোপালবাবু বললেন–আলাপ করিয়ে দিই। উনি হলেন স্বনামধন্য প্রকৃতিবিজ্ঞানী এবং রহস্যভেদী কর্নেল নীলাদ্রি সরকার। আর আমার পাশে এই যুবক কর্নেলের স্নেহভাজন বন্ধু জয়ন্ত চৌধুরী। ইনি দৈনিক সত্যসেবক পত্রিকার নামকরা সাংবাদিক। আর ওই ভদ্রলোক প্রাক্তন পুলিশ ইনস্পেক্টর এবং বর্তমান প্রাইভেট ডিটেকটিভ মিঃ কে. কে. হালদার। কর্নেল সাহেব! এই ভদ্রলোকের তাড়াতেই আমাকে ছুটে আসতে হয়েছে। এঁর নাম বিজয়েন্দু ব্যানার্জী। ইনি আমাদের সিনেমা মহলের লোক না হলেও ইদানিং এ মহলে ঢোকার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন।



বিজয়েন্দুবাবু গোপালবাবুর পাশে বসলেন। তারপর কর্নেলের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললেন–আপনার কথা আমি গোপালবাবুর কাছে তো বটেই– আমার এক পুলিশ বন্ধুর সূত্রে শুনেছিলাম। কিন্তু আপনি যে এত–মানে…


তাঁর কথায় বাধা দিয়ে গোপালবাবু বললেন–এত বৃদ্ধ বলে মনে হচ্ছে তো? বিজয়েন্দুবাবু! ওঁকে অনেকে কৌতুক করে পাদ্রীবাবা বা সান্তাক্লস বলে থাকেন। কর্নেলসাহেবের বয়সের কথা তুলে লাভ নেই। কিন্তু আফটার অল উনি মিলিটারিতে জীবন কাটিয়েছেন। ওঁর শরীরে এখনও যে কোন যুবকের চেয়ে অনেক বেশি শক্তি।


বিজয়েন্দুবাবু কাঁচুমাচু মুখে কী বলতে যাচ্ছিলেন। কর্নেল তাঁর বিখ্যাত অট্টহাসিটি হেসে উঠলেন। ঘর কেঁপে উঠল। তারপর উনি বললেন- গোপালবাবু আমার সম্পর্কে বাড়িয়ে বলতেই অভ্যস্ত। মিঃ ব্যানার্জি, শারীরিক শক্তির চেয়ে মানুষের মেধার শক্তি জীবনে বেশি কাজে লাগে। যাই হোক আপনার বক্তব্য শোনা যাক।


বিজয়েন্দুবাবু বললেন–গোপালবাবু আপনাকে কী বলেছেন আমি জানি না। কিন্তু আমি বিপদে পড়েই আপনার সাহায্য নিতে এসেছি। কর্নেল বললেন–এক মিনিট। আগে কফি খান। তারপর কথা হবে। কফি নার্ভ চাঙ্গা করে।



ষষ্ঠীচরণ সব সময়েই কফির জল তৈরি রাখে। সে শিগগির এক পেয়ালা কফি এনে দিল। তারপর আমাদের খাওয়া কফির পেয়ালাগুলো ট্রেতে তুলে নিয়ে সে চলে গেল।


বিজয়েন্দুবাবু অনিচ্ছা-অনিচ্ছা করে কফির পেয়ালা তুলে নিয়ে চুমুক দিলেন। তারপর বললেন–গোপালবাবু, কথাটা গোপনীয়। তা আপনি জানেন। কর্নেল বললেন,–জয়ন্ত এবং প্রাইভেট ডিটেকটিভ মিস্টার হালদার অর্থাৎ আমাদের প্রিয় হালদার মশাইয়ের সামনে আপনি গোপন কথা খুলে বলতে পারেন। গোপালবাবুকে জিগ্যেস করুন। এঁরা দুজনই আমার ঘনিষ্ঠ সহযোগী কি না।


গোপালবাবু বললেন–বিজয়েন্দুবাবু, আপনি নিশ্চিন্তে সবকথা খুলে বলতে পারেন। আমি আপনাকে আভাসে বলেছিলুম, দেয়ার আর থ্রি মাস্কেটিয়ার্স। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে তা।


বিজয়েন্দুবাবু চুপচাপ কফিতে কয়েকবার চুমুক দেবার পর চাপা স্বরে বললেন–ফিল্ম প্রোডিউসার ব্রতীন সোমের পাল্লায় পড়ে আমার ব্যবসার কিছু বাড়তি টাকা দিতে চেয়েছিলুম। ব্রতীন আমার কাছে প্রথম দফায় এগারো লাখ টাকা নিয়েছে। তারপর ফিল্মের কাহিনী অভিনেতা অভিনেত্রী এবং বিশেষ করে নায়ক নায়িকাও সে ঠিক করে ফেলেছিল। সে বলেছিল ছবিটা শেষ করতে অন্তত চল্লিশ বিয়াল্লিশ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। আমি শু্যটিং শুরু হলে পর্যায়ক্রমে ওকে অর্ধেক টাকা দিতে রাজি হয়েছিলুম। ছবির শুভ মহরৎ-এর দিন ধার্য হয়েছিল আজ সকাল দশটায়। হঠাৎ কাল সন্ধ্যা ছ’টায় ব্রতীন টেলিফোনে আমাকে। ডেকেছিল। সে থাকে আমহার্স্ট স্ট্রিটে আমি থাকি শ্যামবাজারে। তখনই তার কাছে ছুটে গিয়েছিলুম। কারণ টেলিফোনে তার কণ্ঠস্বর শুনে আমার সন্দেহ হয়েছিল, কিছু একটা ঘটেছে। তো আমি যেতেই সে বলল, সর্বনাশ হয়েছে বিজয়েন্দু। নায়িকাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে নাকি তার পিসিমা কোথায় নিয়ে গেছে। আমি জিগ্যেস করলুম কোথায় নিয়ে গেছে জানতে পেরেছ? সে বলল–ওদের পাড়ায় খোঁজ নিয়ে জেনেছি, বিহারের কোথায় ওদের আত্মীয় আছে সেখানে গেছে। তার চেয়ে সংঘাতিক কথা, নায়িকা বনশ্রী রায় আমার টেবিলের ড্রয়ার থেকে তোমার দেওয়া এগারো লাখ টাকা আর আমারও বেশ কিছু টাকা কখন হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়েছে।



কর্নেল জিগ্যেস করলেন–আপনার টাকা খোওয়া গেছে তা বুঝলাম। অন্তত ব্রতীনবাবু যখন আপনাকে এই কথাই বলেছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন, আপনি ব্রতীনবাবুকে সঙ্গে না নিয়ে একা কেন আমার কাছে এসেছেন? উত্তরটা দিলেন গোপালবাবু-কর্নেলসাহেব, রহস্যের শুরু তো এখানেই। আজ সকাল থেকে ব্রতীনবাবু নাকি নিখোঁজ।


গোয়েন্দাপ্রবর জিগ্যেস করলেন–নিখোঁজ কইতাসেন ক্যান? ওঁর বাড়ির লোক আপনারে কি কইসে উনি নিখোঁজ হইয়া গ্যাসেন?


বিজয়েন্দুবাবু হতাশ ভঙ্গিতে বললেন–আজ্ঞে হ্যাঁ। ব্রতীন নাকি ভোরবেলায় এই গোপালবাবুকে ফোন করেছিল। কিন্তু আমি যখন ওর বাড়ি গেলুম তখন ওর স্ত্রী রমা কান্নাকাটি করে আমাকে এই কাগজটা দেখাল। এই দেখুন, এতে কী লেখা আছে।


বলে তিনি কর্নেলকে বুকপকেট থেকে ভাঁজ করা একটা কাগজ দিলেন। কর্নেল সেটা পড়ে দেখার পর বললেন–ব্যাপারটা সত্যিই অদ্ভুত।


আমি কর্নেলের হাত থেকে কাগজটা নিলুম। তারপর পড়ে দেখলুম তাতে লেখা আছে



আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছি। নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করা ছাড়া উপায় নেই। জীবনে ঘৃণা ধরে গেছে। তাই আমি অজানা দেশের পথে চলে গেলুম। কেউ আমার খোঁজ কোর না। খুঁজলেও আমাকে পাবে না। ইতি—

হতভাগ্য

ব্রতীন সোম।

**********