
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ
পৃথ্বীরাজ সেন
ব্রহ্ম খণ্ড
হে মুগ্ধগণ! পুরাণ প্রভৃতি স্তুতিশাস্ত্র পাঠ করার আগে সেই সর্বব্যাপক ভগবানের উদ্দেশে প্রণাম নিবেদন করো, যিনি গণেশ, প্রজাপতি, ব্রহ্মা, দেবরাজ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও গিরিজা দুর্গা প্রমুখদের ও দেবী এবং মুনি শ্রেষ্ঠগণের প্রণম্য। তিনি স্থূল দেহে এই বিশাল বিশ্বকে নিজের লোমকূপে ধারণ করেছেন। তিনি স্থাবর ও জঙ্গম জগতের সৃষ্টিকারী। তার বন্দনা করো, সেই নিষ্ঠুণ নিরাকার। শ্রী হরির পদবন্দনা করো। যিনি ভক্তদের ধ্যানের জন্য অনুপম, সুচারু, শ্যামসুন্দর রূপ ধারণ করেছেন।
হে মায়ামুগ্ধ জীব, তোমরা সেই অপূর্ব মনোরম ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ রূপ পরমপ্রিয় দুধ পান করো, তার ধ্যান করো। নারায়ণ নরোত্তম নর, দেবী, দূর্গা, সরস্বতী ও ব্যাসদেবের চরণে প্রনাম নিবেদন করো।
ভগবান বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের পাদবন্ধনা সমাপ্তে নারায়ণ, নর, নরোত্তম এবং সরস্বতী দেবী ও অন্যান্য দেবতাকে প্রণিপাত জানিয়ে জয়ধ্বনি দাও। প্রকৃতি ব্রহ্মা বিষ্ণু এবং রুদ্রাদি প্রকাশ ঘটেছে, যা থেকে সেই পরম ব্রহ্মা অচ্যুত কৃষ্ণের ভজনা করো। হে শ্রোতৃবর্গ, তোমরা এই সুন্দর ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ উচ্চারণ করে আনন্দ লাভ করো।
ভারতীয় নৈমিষরণ্যে বলা হয়েছে শৌণক প্রভৃতি সহস্র ঋষিবৃন্দ নিজ নিজ নিত্য সুশাসনে ব্রতী হয়েছিলেন। এই সময় সৌতির আগমন ঘটে, ঋষিবৃন্দ তাকে আসন গ্রহন করার অনুরোধ করলেন। মুনিশ্রেষ্ঠ শৌণক অতিথির উদ্দেশ্যে ভক্তি প্রদর্শন করলেন, তাঁকে প্রীত করলেন ও তার কুশল জানতে চাইলেন।
যে পুরাণ বিষয় শ্রীকৃষ্ণ সখার দ্বারা যুক্ত সেই পুরাণ বিষয়ে সৌতির কাছে সুস্থির আসনে সমাসীন সর্বতত্ত্ব বিশারদ পুরাণবেত্তা মহামুনি শৌনক জানার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেন যে পুরাণ মঙ্গলের আবাসক্ষেত্র, যে পুরাণ সুখ মোক্ষ প্রদানকারী। যে পুরাণ পাঠে তত্ত্বজ্ঞান জন্মায়। যে পুরাণে, স্ত্রী, পুত্র ও পৌত্র বর্ধনকারী। সেই পুরাণ সম্পর্কে দ্বিজ জানতে চাইলেন।
শৌণক বললেন, হে মহাভাগ, আপনার মঙ্গল কামনা করি। আপনার দর্শন লাভে আমরা কৃতার্থ। কলিযুগে আমরা সকলেই অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েছি। মুক্তি লাভে ব্যক্তিদের উদ্ধারের কারণে আপনার এখানে আগমন। হে পুরাণ পরমবেত্তা, আপনি সাধু ও মহান ভাগ্যবান। সেই জ্ঞানবর্ধক পুরাণ বিষয় বর্ণনা করুন। যা শ্রবণ করে শ্রীকৃষ্ণ পদে মতি নিশ্চল থাকে।
হে সৌতে! আপনি সেই পরমব্রহ্মের গুণকীর্তন করুন যিনি জীবগুণের চিত্তে শ্বাশত সুখ ও আনন্দ দান করেন। সেই পরমাত্মার স্বরূপ আকার নিরাকার তাঁর ধ্যান কী ভাবে করা যাবে। তার ভাবনা কী ভাবে করতে হবে, বৈষ্ণবরা কী ভাবে তার জপ করেন, সাধু যোগীপুরুষগণ কী ভাবে ধ্যান করেন, সব কিছু আমাদের সামনে ব্যক্ত করুন।
যে পুরাণে প্রকৃতির আকার প্রকারের কথা বর্ণিত হয়েছে। যে পুরাণে গোলকের বৈকুণ্ঠের ও শিবলোকের বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে স্বর্গের বর্ণময় রূপ পরিস্ফুটিত হয়েছে। যেখানে প্রকৃত ও প্রহতির শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলা হয়েছে। সেইসব শ্রবণ করতে আমরা আগ্রহী।
যে পুরাণ প্রকৃতির অংশ, যা সমগ্র চরিত্র, ধ্যান ও পুজো পদ্ধতি, শুভ স্তোত্র ইত্যাদি বর্ণনা করেছে। সে পুরাণ সম্পর্কে আমাদের অবগত করুন। দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, সাবিত্রী ও অমৃতের মতো অত্যন্ত অপূর্ব রাধিকার কাহিনী। মানুষ কর্মের বিপাকে ও নরকের বর্ণনা যেখানে বলা হয়েছে। কর্মের মন্তন এবং পাপ থেকে মুক্তি লাভের উপায় বলা হয়েছে। বর্ণানুসারে জীব যে যোনিতে জন্মলাভ করে কর্ম থেকে যেসব রোগের উৎপত্তি হয়, যে কর্ম করলে মানুষের মুক্তি লাভ হয় সব কিছু আপনি আমাকে শ্রবণ করান।
হে মুনিবর, যেখানে মনসা, তুলসী, কালী, গঙ্গা, পৃথিবীর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, শালগ্রাম শিলা ও দানের নিরূপণ এবং ধর্মাধর্মের নিরূপণ যেখানে করা হয়েছে, সেই পুরাণের বিষয়ে বলুন।
গণেশের জন্মবৃত্তান্ত, তার চরিত্র ও কাজের কথা, অত্যন্ত ফলদায়ী সূরকবচ মন্ত্রের কথা যেখানে বলা হয়েছে। এমন সব অপূর্ব কাহিনী যা আগে কেউ ব্যক্ত করেননি। একমাত্র আপনিই আমাদের এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন। পরমাত্মা কৃষ্ণের জন্ম পুণ্যক্ষেত্র ভারতবর্ষের কোন পুণ্যবানের গৃহে হয়েছিল। কে বা সেই পরম পুণ্যবতী গর্ভধারিনী জননী? তিনি কেন জন্ম নিয়েছিলেন? কেনই-বা ফিরে এলেন? কে তাঁর কাছে এই পৃথিবীর ভাব অবতরণ প্রার্থনা করেছিল? গোলকধামে প্রত্যাবর্তনের জন্য কোন সেতু নির্মিত হয়েছিল? সেই দুলর্ভ পুরাণ কীর্তন করুন যা মুনিদের দধিজ্ঞেয় যা মনকে পবিত্র রাখার কারণ স্বরূপ।
সৌত বললেন– সিদ্ধক্ষেত্র থেকে আমার আগমন। নারায়ণের আশ্রম উদ্দেশ্যে গমন, আপনার পদ্মরূপ চরণযুগলের দর্শন লাভ করে আমরা মঙ্গল লাভ করলাম, হে ব্রাহ্মণবৃন্দ আপনারা আমার প্রণাম গ্রহণ করুন। ভারতের পুণ্যদানের স্থান ধর্মমিষারণ্য দর্শন হেতু আগমন। দেবতা, ব্রাহ্মণ ও গুরু প্রণম্য। এ নীতি লঙঘনকারী কালসূত্র নরকে পচে মরে। ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ব্রাহ্মণের বেশে ভারতের পুণ্য ভূমিতে সর্বদা চলমান। পুণ্যবান ও সুকৃতিবান বিনীত ভাবে হরিরূপী ব্রাহ্মণের পাদবন্দন করে।
হে ভগবান, আপনি কোন অভিপ্রায় আমার কাছে জিজ্ঞাসা রেখেছেন তা অনুমেয়। ব্রহ্মবৈবর্ত হল সর্বশ্রেষ্ঠ সারবান পুরাণ। অন্যসব পুরাণ, উপপুরাণ ও বেদের অপূর্ণতা দরকারী হরিভক্তি প্রদানকারী, তত্ত্বজ্ঞান বর্ধক। এই পুরাণ পাঠের ফলে গমেছুক কাম প্রবৃত্তি ও মোক্ষকামী মোক্ষলাভ করে। এই পুরাণ কল্পবৃক্ষের ন্যায় বৈষ্ণবদিগকে ভক্তি প্রদান করে। পরব্রহ্ম সমস্ত কিছুর মূলস্বরূপ ব্রহ্মখণ্ডে তা নিরূপিত হয়েছে।
হে শৌনক মহামুনি, সন্তযোগী পুরুষের বৈষ্ণবের কোনো পার্থক্য নেই। সাধুসন্তদের সঙ্গে থাকলে তিনি হন সপ্তপুরুষ আর যোগী পুরুষের সঙ্গলাভে হন যোগী পুরুষ। ভক্ত সঙ্গে বৈষ্ণব। এই ভাবে ক্রমে ক্রমে তারা সদযোগী পুরুষে পরিণত হন। প্রকৃতি খণ্ডে দেবতাদের সমস্ত জীবের সৃষ্টিকারী এবং দেবীদের শুভচরিত নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পুরাণে জীবের কর্মের বিপাক ও শালগ্রাম শিলার নিরূপণ কবচ ও স্তোত্রমন্ত্র সবই নিরূপিত হয়েছে। প্রকৃতির অংশ কলা এবং লক্ষ্মণ সম্পর্ক নির্ণত হয়েছে। পাপ এবং পুণ্যের বিচারে স্বর্গ ও নরকের বর্ণনা করা হয়েছে। নানারকম রোগব্যাধির যুক্তির কথা এই পুরাণে উল্লিখিত হয়েছে।
প্রকৃতির পরে আছে গণেশ খণ্ড। যেখানে গণেশের জন্ম ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। সেখানে অত্যন্ত গূঢ় কবচ স্তোত্র মন্ত্র এবং তন্ত্রের বিবৃত হয়েছে। গণেশ এবং ভৃগুর কথোপকথনের মাধ্যমে ব্যক্ত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম বৃত্তান্ত। তার কাজকর্ম সমস্ত বর্ণিত হয়েছে শ্রীকৃষ্ণ জন্ম খণ্ডে। এই খণ্ড সাধুজনদের সেতু বিধান নিরূপিত করেছে।
হে ব্রাহ্মণ, আমি আপনাকে সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ কীর্তন করছি, যেখানে সমস্ত ধর্মের কথা ব্যক্ত হয়েছে। এ পুরাণ পাঠে সকলের অভীষ্ট পূরণ হয়। আশা আকাঙ্খ পূরণকারী, বেদ স্বরূপ এই পুরাণ সমস্ত পুরাণের সার। এখানে ব্রহ্মর পূর্ণতা সম্বন্ধে কৃষ্ণ ব্যাখ্যা করেছেন। তাই এই পুরাণকে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ নামে অভিহিত করা হয়েছে। প্রথমে এই পুরাণ সূত্র ব্রহ্মাকে দান করা হয়েছিল। ব্রহ্মা আবার তা শ্রীকৃষ্ণকে দিয়েছিলেন।
তারপর এ পুরাণ চলে যায় নারায়ণের হাতে। এটি গ্রহণ করে দেবর্ষি নারদ তা মহানন্দে ব্যাসদেবকে দান করেন। ব্যাসদেব তা মহান রূপে প্রস্তুত করেন। আমি তার কাছ থেকে এই সুমনোহর পুরাণ লাভ করি। ব্যাসদেব বিরচিত আঠারো হাজার শ্লোক সমৃদ্ধ এই পুরাণ শ্রবণ করলে যে ফল লাভ করা যায় যে, একটা অধ্যায় পাঠে তার সমান ফল পাওয়া যায়।
মুনিশ্রেষ্ঠ শৌণকের বিনীত অনুরোধে সৌতি পরব্রহ্ম খণ্ড ব্যাখ্যা করলেন।
তিনি বললেন–মহাতেজস্বী গুরুদেব ব্যাসের পাদবন্দনা করে হরি প্রভৃতি দেবতা এবং ব্রাহ্মণদের প্রণাম নিবেদন করি। হে ব্রাহ্মণ, শ্ৰী ব্যাসদেবের মুখ নিঃসৃত ব্রহ্মখণ্ড শ্রবণ করুন। প্রলয়ের পর এক উজ্জ্বল জ্যোতিঃপুঞ্জের প্রকাশ ঘটে। স্বেচ্ছাধীন ভগবানের ওই জ্যোতি ছিল অত্যন্ত মহান। তার অন্তরালে ছিল এই ত্রিভুবনের জ্যোতি। সবার ওপরে ছিল গোলকধাম। যা তিন কোটি যোজন জুড়ে বিস্তৃত। এ ধাম বহু মূল্য রত্ন সমৃদ্ধ ও তেজস্বরূপ। যেখানে বৈষ্ণবদের গমন ঘটে।
কিন্তু যোগীরা তা স্বপ্নেও দেখতে পারেন না। ভগবান সেই শ্রেষ্ঠ স্থানে অবস্থান করেছেন, এখানে রোগ, জরা, ব্যাধি, মৃত্যুর প্রবেশ নিষেধ। তার নীচে দক্ষিণে আছে বৈকুণ্ঠলোক এবং উত্তরে শিবলোক অবস্থিত–এই দুটি লোক পঞ্চাশ কোটি যোজন জুড়ে বিস্তৃত। গোলকধামের মতো এই দুটি ধামও অমূল্য রত্নরাজিতে সমৃদ্ধ। প্রলয়ের পরে সৃষ্ট বৈকুণ্ঠধামে লক্ষ্মী ও নারায়ণের সহচর, সহচারীগণ চতুঃহস্ত ও পদ বিশিষ্ট। জরা, মৃত্যু এঁদের গ্রাস করতে পারে না।
প্রলয়কালে শিবলোক শূন্য হলেও সৃষ্টির সময় তা শিব ও তাঁর অনুচরবৃন্দের দ্বারা পরিপূর্ণতা লাভ করে। গোলকধামের মধ্যে এক আনন্দপূর্ণ আকার শূন্য ও শ্রেষ্ঠতর জ্যোতি আছে। ভেতরের জ্যোতির গাত্রবর্ণ নতুন মেঘের ন্যায় শ্যামবর্ণের। চোখ দুটি যেন রক্ত পদ্ম। শরৎকালের পূর্ণিমার পূর্ণ চন্দ্রের শোভার ন্যায় অতি মনোহর শোভামণ্ডিত তার মুখ। তাঁর লাবণ্য এককোটি কামদেবের লাবণ্য স্বরূপ। তার হাতে বাঁশি, সদা হাস্যময় দুটি ওষ্ঠ, পরণে পীতবস্ত্র। তিনি মহামূল্যবান অলংকাররাজিতে সুশোভিত।
তিনি ভক্তদের সর্বদা মঙ্গল করেন। কস্তুরী চন্দনে তার দেহে সুবাসিত। তার মস্তকে মহামূল্যবান রত্নখচিত কিরীট। তিনি রত্ন সিংহাসনে আসীন। বুনো ফল তার ভূষণ। তিনি সনাতন পরম ভগবান। তিনিই পরাৎপর। তিনি রাসমণ্ডল রচনাকার। তিনিই সকলের মঙ্গলদায়ক। তিনি অব্যয়। তিনি সিদ্ধিদাতা। তিনি নির্গুণ। তিনি আদি পুরুষ। তিনি সত্যাসত্য স্বরূপ। তিনি অদ্বিতীয় ও অনন্য। বৈষ্ণবরা এই শান্ত পরমপ্রিয় রূপের আরাধনা করে থাকেন। দিক আর আকাশস্থ শূন্য বিশ্বকে তিনিই প্রথম প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এই পরমরূপধারী শ্রীভগবানের চরণে শতকোটি প্রণাম।
সৌত বললেন– হে ব্রাহ্মণ, বায়ু শূন্য, প্রাণী শূন্য, শস্যবিহীন, পাহাড় পর্বত ও সাগর শূন্য গোলককে প্রত্যক্ষ করে ভগবান নিজের ইচ্ছাতে এই সৃষ্টির সূচনা করেন।
প্রথমে তিনি তার ডানদিকে তিন গুণের আর্বিভাব ঘটালেন-সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ। জগতের কারণ স্বরূপ এই ত্রিগুণ মহান, অহংকার, রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ। পরমপুরুষের দাক্ষিণ্যে আবির্ভূত হন স্বয়ং নারায়ণ, তিনি পীত বস্ত্রধারী, শ্যামবর্ণ, চারহস্ত বিশিষ্ট। তিনি চারহাতে শঙ্খ, চক্র, গদা, ও পদ্ম ধারণ করে আছেন। তার গলায় কৌস্তভমণি শোভা পায়। তাঁর ধনু শৃঙ্গ নির্মিত চাঁদের ন্যায় প্রভাযুক্তা। তাঁর সুন্দর মুখমন্ডল। শ্রীবৎস চিহ্ন তাঁর বুকে স্থান পেয়েছে। তিনি শ্রীদেবীর দ্বারা বিভাবিত।
নারায়ণ সেই আদি পুরুষের গুণকীর্তন করলেন এইভাবে–হে প্রভু, তুমি বরের কারণ। তিনি কর্মের কর্মস্বরূপ। তুমি তপস্বীদের তপস্যায় প্রীত হয়ে বর দান করো। সেই আত্মারাম, মনোহর, নবঘন শ্যামকে বন্দনা করি। তুমি সকলের ঈশ্বর, সর্বোত্তম, সর্বকারণ স্বরূপ ফল দান করো। তুমি বেদজ্ঞ। তোমার চরণে প্রণিপাত জানাই, ভক্তিপূর্ণ স্তব শ্রবণ করে শ্রী কৃষ্ণ তার পাশের আসনে উপবিষ্ট হতে বললেন। ত্ৰি সন্ধ্যায় এই নারায়ণ স্তোত্র শ্রবণ বা পাঠ করলে পাপনাশ হয়। সন্তান লাভেছু সন্তান লাভ করে। রাজা রাজ্য লাভ করেন। ধনহীন ধন পায়। কারাগারে বসে এই স্তোত্র পাঠের গুণে বিপদমুক্ত হওয়া যায়। প্রাণ দিয়ে রোগী এই স্তোত্র জপ করার ফলে রোগমুক্ত হয়।
সৌতি বলতে থাকলেন–সেই পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণের বামদিকে দিগম্বর মহাদেবের আবির্ভাব ঘটল। বিশুদ্ধ স্পটিকমণির মতো শুভ্র মাথায় তপ্ত সোনার মতো উজ্জ্বল জটাভার। তিনটি চোখ সমন্বিত মুখমণ্ডলে প্রসন্নতা বিরাজ করছে। চন্দ্র তার কপালের শোভা বৃদ্ধি করেছে। তিনি ত্রিশূলধারী। সেই মহাজ্ঞানী জ্ঞানানন্দময় পরমেশ্বরের এক হাতে পট্টিশ অন্য হাতে জপমালা। তিনি বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ। তিনিও ব্রহ্মতেজ সম্পন্ন। শ্রীকৃষ্ণের সামনে, তিনি করজোড় দণ্ডায়মান। শ্রীকৃষ্ণপ্রেমে তার দেহ পুলকিত।