
ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ
পৃথ্বীরাজ সেন
১
প্রণাম করা উচিত নারায়ণ, নরোত্তম নর এবং দেবী সরস্বতাঁকে। ওঁদের জয়কীর্তন করা উচিত।
দেবতা ঈশানকে প্রণাম করা উচিত। তিনি নিখিল জগতের পতি, তিনি ধ্রুব, শাশ্বত এবং অবিনাশী। তিনিই মহাত্মা মহেশ্বর।
প্রণাম জানানো উচিত ব্রহ্মাকে। তিনিই সর্বজ্ঞ তিনি অপরাজিত লোকস্রষ্টা। তিনি সাধুশ্রেষ্ঠ, ভূত-ভবিষ্যৎ বর্তমানের নিয়ন্তা।
কেবলমাত্র সেই জ্ঞানবানই পুরাণ আখ্যান বিবৃত করতে পারেন যার মধ্যে নিম্নলিখিত সকল গুণের সমাহার ঘটে গেছে। যাঁর জ্ঞান ও বৈরাগ্য অতুলনীয়। যিনি স্থৈর্য সত্য করুণা ও ঐশ্বর্যের অধিকারী। যিনি লোকস্রষ্টা এবং লোকতত্ত্বজ্ঞ। এই বিশ্বের সকল প্রাণীকে যিনি সৃষ্টি করেন, যিনি এই নিখিল বিশ্বের সদাত্মক ও অসদাত্মক উভয় ভাবপদার্থেই সতত অবলোকন করেন, যাঁর মনে কখনও কোনো অবসাদ অসে না, যিনি যোগাবলম্বী এবং যোগী। সেই মতে আমি পুরাণ আখ্যান জানতে ইচ্ছুক। আমি জগৎপতি লোকসাক্ষী অজ এবং বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলাম।
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ, ঋষিশ্রেষ্ঠ মহাত্মা বশিষ্ঠ, তাঁর পৌত্র অতি যশস্বী ঋষি জতুকর্ণ, পুণ্যাত্মা কৃষ্ণ-দ্বৈপায়নকে স্মরণ করে আমি বেদ সম্মত ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ কীর্তন করছি। এই পুরাণ শব্দ, অর্থ যুক্তি সমন্বিত এবং বিবিধ শাস্ত্রবাক্য ভূষিত।
একসময় অতুলতি ভূপতিশ্রেষ্ঠ রাজণ্যবৃন্দ এই ভূমণ্ডল শাসন করতেন। তখন সংযত আত্মা, সত্যব্রত পরায়ণ ঋষিরা বিশিষ্ট ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রে পবিত্র দৃষদ্বতী নদীর তীরে দীর্ঘকাল ব্যাপী এক যজ্ঞ করেন। এই যজ্ঞে অংশ গ্রহণকারী ঋষিরা সবাই ছিলেন সরল, রজঃগুণ শূন্য এবং মাৎসর্য্য দোষ বর্জিত।
সেই ঋষিরা ছিলেন যথাশাস্ত্র দীক্ষিত নৈমিষারণ্যবাসী। তাদের দেখবার জন্য পৌরাণিক প্রবর মহাবুদ্ধি সূত ওই স্থানে সমাগত হয়ে অশ্রুতপূর্ব বক্তৃতার দ্বারা শ্রোতাদের রোমরাজি হর্ষিত করেছিলেন।
এই কাজের জন্যই পরবর্তীকালে ‘রোমহর্ষণ’ নামে তিনি এই পৃথিবীতে প্রশংসিত হন।
রোমহর্ষণ ছিলেন ধীমান বেদব্যাসের শিষ্য। তিনি তপস্যশ্রুতি, সদাচারনিমি ও মেধাবী রূপে ত্রিলোক বিখ্যাত ছিলেন। নিখিল পুরাণ ও বেদ তার অধিগত ছিল। ভূতলে উগত ওষধির মতোই তাঁর পরিভাষা।
সেই ন্যায়বিদ সুত কুরুক্ষেত্র প্রান্তে যজ্ঞাসীন ন্যায়-বুদ্ধি সম্পন্ন সেইসব মুনি পুঙ্গবদের কাছে গেলেন। করজোড়ে তাঁদের প্রণাম করলেন। এইভাবেই তিনি ঐ ঋষিশ্রেষ্ঠদের যথাযোগ্য আপ্যায়িত করার চেষ্টা করলেন। প্রত্যুত্তরে যজ্ঞদীক্ষিত ঋষিবৃন্দরাও মহাত্মা সূতের প্রতি প্রীত হয়ে তাঁকে যথাবিহিত শ্রদ্ধা ও পূজা নিবেদন করলেন।
সমীপে অতি বিশ্বস্ত বিদ্বান ও সত্যনিষ্ঠা সূতকে দেখে সেই ঋষিদের অন্তর পুরাণ কথা শ্রবণের ইচ্ছায় ব্যাকুল হয়ে উঠল। সেই সময় ঐ দীর্ঘকালব্যাপী যজ্ঞস্থলে উপস্থিত ছিলেন সর্বশাস্ত্র শৌনক। তিনি ইঙ্গিত দ্বারা মুনিবৃন্দের অভিপ্রায় বুঝতে পারলেন। এবং সূতকে পুরাণ ব্যাখ্যায় প্রবৃত্ত করতে সচেষ্ট হলেন। বিনয় সহকারে সূতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, সূত তুমি ইতিহাস পুরাণে কৌতূহলী হয়ে মহাবুদ্ধি ব্রহ্মাণ্ড শ্রেষ্ঠ ভগবান শ্রীশ্রীব্যাসদেবকে উত্তমরূপে উপাসনা করেছিলেন। অতীতেও তুমি তাঁর পুরাণ আশ্রয়ী মতিকে দোহন করেছিলে। এই মুহূর্তে তোমার থেকে অধিক পূরাণ ব্যাখ্যা কেউ জানে না। হে মহাবুদ্ধি সূত, এই ধীমান ঋষি প্রবরেরা তোমার কণ্ঠে পুরাণ শুনতে অভিলাষ করছেন। অতএব হে মহৎ প্রাণ, তোমার উচিত এঁদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করে সেই পুরাণ অখ্যান শোনানো।
আজ এই পবিত্র প্রান্তরে এইসব বিভিন্ন গোত্রীয় ব্রহ্মবাদী মহাত্মারা সপুত্র সমাগত হয়েছেন, তুমি এঁদের পুরাণ কথা শ্রবণ করাও। এঁরা পুরাণের মাধ্যমে নিজ নিজ বংশাবলি শ্রবণ করুন। বিশেষত এই কারণেই এই দীর্ঘকালব্যাপী সত্ৰ যজ্ঞ সমাপ্ত হবার আগেই আমরা তোমাকে স্মরণ করেছি।
শৌনকের মুখে এই প্রশংসাবাক্য শুনে সূত বিশেষ প্রীত হলেন। সত্যব্রত পরায়ণ পুরাণজ্ঞ ঋষিদের সমীপে পুরাণ ব্যাখ্যায় প্রেরণা পেলেন। শৌনকের আহ্বানের উত্তরে শুভ ভাষণে সূত বললেন, হে দেবগণ, ঋষিগণ, অমিততেজা রাজন্যবৃন্দ, শ্রুতি নির্দিষ্ট মহাত্মাবৃন্দ এবং ইতিহাস পুরাণে যাঁরা ব্রহ্মবাদী ঋষি বলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, তাঁদের সকলকে আমি প্রণাম জানাই। এঁদের সমীপে পুরাণ ব্যাখায় আমি গর্বিত। কারণ এঁদের বংশাবলি স্মরণে রাখা সজ্জন নির্দিষ্ট স্বধর্ম।
আপনারা নিশ্চয়ই অবহিত যে, বেদে সূতের কোন অধিকার নেই।
এক সময় বেনপুত্র মহাত্মা পৃথু যখন যজ্ঞ করছিলেন তখন সেই যজ্ঞে সূত জাতীয় রমণীর গর্ভে প্রথম বর্ণবিকৃত সূতের আবির্ভাব ঘটে। ভ্রমবশত সেই যজ্ঞে ইন্দ্রের হবির সাথে বৃহস্পতির হবির মিশ্রণ ঘটে যায় আর সেই মিশ্রিত হবি দেবেন্দ্রের উদ্দেশ্যে আহুত হয়, এর পরেই সূত জন্মলাভ করে।
শিষ্যের হবির সাথে গুরুর হবি মিশ্রিত হয়েছিল। অর্থাৎ উত্তম-অধমের মিশ্রণ ঘটেছিল। সেই কারণেই বর্ণ-বিকৃত সূতের উদ্ভব হয়। যদিও এই গর্হিত কর্মের প্রায়শ্চিত্ত বিধান করা হয়েছিল।
ক্ষত্রিয়ের ঔরসে ব্রাহ্মণনিকৃষ্ট যোনিতে সূতের জন্ম হয়। তাই পূর্বের স্বধর্মে সূতের তুল্য ধর্মই উল্লিখিত হয়েছে। সেই কারণেই ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয়ের পরিচর্যার মাধ্যমেই সূত তাঁর জীবিকা অর্জন করে থাকেন। এছাড়া রথ, হস্তী, অশ্বাদি চালনাও সূতের নিকৃষ্ট ধর্ম রূপে নির্ধারিত হয়েছে।
সুতরাং এক্ষণে আমি আমার স্বধর্মে পুরাণ পাঠ করব। আপনাদের মতো ব্রহ্মবাদিদের নির্দেশে ঋষিস্তুত পুরাণ পাঠ অমার অবশ্য কর্তব্য।
পিতৃগণের বাসবী নামে এক মানসী কন্যা ছিল। একবার ক্রোধবশত সেই কন্যাকে পিতৃগণ মৎস্যযোনিতে জন্মাবার জন্য অভিশাপ দেন। অরণী যেমন অগ্নির জন্মের কারণ, তেমনভাবে এই ঘটনাও একটি হিতকারী কাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণ হল। মহাযোগী বেদজ্ঞ শ্রেষ্ঠ ব্যাস সেই মৎস্যযযানিগতা বাসবীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করলেন। আমি এক্ষণে সেই বিধাতৃরূপ ভগবান ব্যাসদেবকে প্রণাম করি। তিনি পুরাণ পুরুষ। বাহ্য এবং অভ্যন্তরে উভয় স্থলে তার নিবাস। তিনি মনুষ্যরূপে বিষ্ণুরূপধারী প্রভু বিষ্ণু। তার আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মসহ সাঙ্গবেদ জাতুকর্ণের কাছ থেকে তার কাছে উপস্থিত হয়েছিল। শ্রুতির সাগর থেকে মতির মন্থন চালিত করে মনুষ্যলোকে মহাভারত চন্দ্রমাকে তিনিই প্রকাশ করেছিলেন। ভূমিগুণ এবং কালগুণ লাভ করে বৃক্ষ যেমন বহু শাখায় বিস্তৃত হয়, তেমন ভাবেই বেদবৃক্ষ তাকে লাভ করে বহু শাখায় বিকশিত হয়েছিল।
আমি সেই সর্বজ্ঞ, সর্ববেদপূজিত, দীপ্ততেজা, ব্রহ্মবাদী ব্যাসদেবের কাছ থেকেই পুরাণ কথা শ্রবণ করেছিলাম। এক্ষণে সেই শ্রুত বাণীই আপনাদের কাছে কীর্তন করব। পূর্বকালে নৈমিষারণ্যবাসী মুনিগণের আহ্বানে মহাপ্রাণ বায়ু তাদেরকেও এই পুরাণকথা বলেছিলেন।
এই পুরাণে নিশ্চিত হয়েছে যে মহেশ্বর হলেন স্বয়ম্ভু, পরম অব্যক্ত, চতুবাহু, চতুর্মুখ অচিন্ত্য, অপ্রমেয় এবং হেতু ভূত। যিনি ঈশ্বর তার থেকে মহেদাদি বিশেষ পর্যন্ত অব্যক্ত নিত্য সদাসদাত্মক কারণের সৃষ্টি ঘটেছে। আর এর ফলে হে হিরন্ময় বস্তুটি আবির্ভূত হয়েছিল, তার আবরণ হল জল, জলের আবরণ তেজ, তেজের আবরণ বায়ু এবং বায়ু আকাশে আবৃত। এইভাবে আকাশ ভূতাদিতে আবৃত, ভূতাদি মহতে এবং মহান অব্যক্তে আবৃত বলে পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। এরপর এতে ঋষিগণ নদী ও পর্বত সমূহের প্রাদুর্ভাব বর্ণিত হয়েছে। তারপর সমস্ত মন্বন্তর ও কল্পের বর্ণনা এবং ব্রহ্মক্ষত্র ও ব্রহ্মজন্মের কীর্তন করা হয়েছে।
তারপর বিবৃত করা হয়েছে কল্পসমূহের বৎসর বিভাগ, জগতের স্থাপন, হরির শয়ন, পৃথিবীর উদ্ধার, বর্ণাশ্রম বিভাগ অনুসারে নগরাদির সন্নিবেশ, বৃক্ষ ও গৃহস্থিত সিদ্ধদের বিনাশ, যোজন পরিমিত পথের বহু বিস্তৃত সঞ্চার, স্বর্গস্থানের বিভাজন, মর্ত্যলোকের ভূবিচরণশীল জীব, ওষধি, লতাদির কীর্তন এবং মর্ত্য লোকের অধিবাসীদের বৃক্ষ ও নারকীয় কীটত্ব প্রাপ্তির বর্ণনা করা হয়েছে। দেবতা ও ঋষিদের দুই প্রকার পথের নির্দেশ, অঙ্গাদি তনু প্রভৃতির সৃষ্টি ও ত্যাগ, এইসব কথাও পুরাণে কীর্তিত হয়েছে।
সব শাস্ত্রের মধ্যে ব্রহ্মা প্রথমে পুরাণ কথা ধারণ করেন। তার পর তার মুখগহ্বর থেকে বেদ, বেদাঙ্গ, ধর্মশাস্ত্র ও ব্রত নিয়মাদি নিঃসৃত হয়।
পুরাণে বর্ণিত হয়েছে পশু ও পুরুষনিচয়ের উদ্ভব ও বিনাশ কল্প পরিগ্রহ, ব্রহ্মা কর্তৃক নয়টি মানস সৃষ্টি, অতঃপর আরও তিনটি মানস সৃষ্টি, তার লোক-কল্পনা, তার অবয়ব সমূহ থেকে ধর্মাদির সমুদ্ভব প্রভৃতি কল্পারম্ভে বারবার দ্বাদশ প্রজা সৃষ্টির কথা, দুইটি কল্পের মধ্যবর্তী সময় ও তার প্রতি সন্ধি, তমোগুণের আবরণবশত ব্রহ্মা থেকে অধর্মের উদ্ভব, সেই ভাবে শতরূপার জন্ম, তারপর নিষ্পাপ, প্রিয়ব্রত, উত্তানপাদ, প্রসূতি এবং আকৃতি–যাঁদের ওপর লোক প্রতিষ্ঠা নির্ভর করছে। প্রজাপতি রুচির সংসর্গে আকৃতিতে মিথুন-উদ্ভব, প্রসূতির গর্ভে দক্ষের কন্যাদের জন্ম, অতঃপর শ্রদ্ধা প্রভৃতি দক্ষকন্যাদের গর্ভে মহাত্মাদের উৎপত্তি, সাত্বিক ধর্মের সুখপ্রদ সৃষ্টি–এসবের কীর্তন করা হয়েছে।
এছাড়াও অধর্মের সংসর্গে হিংসাতে অশুভ লক্ষণ, তামস সৃষ্টি, মহেশ্বর ও সতীর মিলনে প্রজা সৃষ্টি–এই দুটি বিষয়ও বর্ণিত হয়েছে। সেগুলি হল–মুক্তিকাক্ষী দ্বিজদের কাছে যোগনিধির যোগের বিষয়ে বলা, রুদ্রের প্রাদুর্ভাব, মহাভাগ্য ত্রিবৈদ্য কথা, এবং ব্রহ্মা ও নারায়ণের প্রকীর্তিত স্তোত্র। কথিত আছে, ব্রহ্মা ও নারায়ণের স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে দেবেশ ভগবান মহাত্মা ব্রহ্মার অঙ্গে আবির্ভূত হন। কিন্তু মহামনা রোদন করছিলেন বলে তিনি রুদ্র’ নামে পরিচিত হন। স্বয়ম্ভু যেভাবে রুদ্র প্রভৃতি আটটি নাম লাভ করেছিলেন আর সেই আটটি নামের দ্বারা যেভাবে চরাচরে পরিব্যপ্ত হয়েছিলেন, সেই সব বর্ণনাও এই গ্রন্থে আছে।
কীর্তিত হয়েছে ভৃগু প্রভৃতি ঋষিদের প্রজাসৃষ্টি বর্ণনা, ব্রহ্মজ্ঞানী বশিষ্টের গোত্রবর্ণন, অগ্নির থেকে স্বাহাগর্ভে প্রজা সৃষ্টি প্রভৃতি। এরপরে পিতৃবংশ প্রসঙ্গক্রমে মহেশ্বর ও স্বধা থেকে দ্বিবিধ পিতৃগণের উদ্ভব, সতীর জন্য দক্ষের প্রতি ধীসম্পন্ন ভৃগু প্রভৃতির অভিশাপ, রুদ্রের উদ্দেশ্যে অদ্ভুতকর্ম দক্ষের অভিশাপ, দোষদর্শনে বৈরিতা রোধ, বৈরপ্রতিষেধ এসবও কীর্তিত হয়েছে। এছাড়াও মন্বন্তর প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে। কালজ্ঞান, প্রজাপতি কদমের কন্যার গর্ভে প্রিয়ব্রতের পুত্রদের আগমন, ভিন্ন ভিন্ন দেশ ও দ্বীপাদিতে তাদের বাসনিয়োগ, তার স্বয়ম্ভুব সৃষ্টির অনুকীর্তন, মহাত্মা নাভি ও রজের সৃষ্টি, দ্বীপ সমুদ্র পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি। বর্ষ ও নদী ও তার সর্বপ্রকার বিভাজন, সহস্রবিধ দ্বীপ ভেদের মধ্যে সপ্ত প্রকার অন্তর্ভেদ, মণ্ডল ক্রমে জম্বুদ্বীপ ও সমুদ্রের বিস্তার, যোজন অনুসারে পর্বত বিভাজন এসবও কীর্তিত হয়েছে। এখানে হিমবান, হেমকূট, নিষধ, মেরু, নীল, শ্বেত ও শৃঙ্গবান–এই ধরনের কয়েকটি বর্ষ পর্বতের বর্ণনা আছে। এঁদের মধ্যে যাঁরা বিষ্কম্ভ, উচ্ছায়, আয়াম, বিস্তার এবং যোজনাগ্রে বাস করে থাকেন তাদের বিবরণও আছে। বিবরণ আছে নদী, পর্বত, ভূত, গতিশীল ধ্রুব প্রভৃতির সাথে উপনিবিষ্ট ভারতাদি বর্ষ, সপ্ত সমুদ্র পরিবৃত জম্বু প্রভৃতি দ্বীপ, জলমগ্ন দ্বীপ, লোকালোক প্রভৃতি বিষয়গুলিরও। অন্ত-অভ্যন্তরবর্তী এইসব লোক, সপ্তদ্বীপা পৃথিবী, প্রাকৃত আবরণসহ ভূরাদি লোক, তার পাশাপাশি সকলের একদেশিক পরিমাণ এবং ব্যাস পরিমাণ–এসবের কথাও বলা হয়েছে।
সূর্য, চন্দ্র, সমগ্র পৃথিবী, অত্যুন্নত পর্বত সমূহের যোজন প্রমাণ মানসশিখরের পুণ্য মহেন্দ্রাদি আবার এদেরও ওপরে অলাতচক্রতুল্য গতি, নাগবীথি অজবীথির লক্ষণ দুটি কাটা ও দুটি লেখা, মণ্ডল, যোজনা, লোকালোক, সন্ধ্যা, বিষয়ানুসারে দিন, ঊর্ধ্বস্থিত ও চতুর্দিকস্থিত লোকপাল, পিতৃলোক, দেবলোক, গৃহস্থ ও সন্ন্যাসীদের রজঃ ও সত্ত্বগুণাশ্রয় বশতঃ যথাক্রমে দক্ষিণপথ ও উত্তরপথে প্রাপ্তি, ধর্মাদি দ্বারা অবীষ্ঠিত বিষ্ণুপদ, ধ্রুব সামর্থ্যবলে সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ ও জ্যোতিষ্ক পদার্থের সঞ্চার এবং তদনুসারে প্রজাদের শুভাশুভ, প্রয়োজন, বংশে স্বয়ং ব্রহ্মার নির্মিত সৌররথ–যার সাহায্যে স্বয়ং ভগবান স্বর্গে গমন করেন, আর যে রথে অধিষ্ঠান করেন দেবগণ, আদ