
বায়ু পুরাণ
পৃথ্বীরাজ সেন
প্রথম অধ্যায়
নারায়ণকে নমস্কারের পরে গুণী মানুষকে নমস্কার করা উচিত। এভাবেই বাগদেবী সরস্বতাঁকে নমস্কার করা উচিত। পরাশর পুত্র ব্যাসের জয় হোক। ব্যাসের মুখের বাণী সমস্ত জগত শ্রবণ করে। এখন জগৎপতি মহাদেবকে স্মরণ করছি। আর সেই সঙ্গে আমাদের এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন যিনি, সেই সর্বজ্ঞানী ব্রহ্মাকে স্মরণ করছি। ব্রহ্মাই যোগবলে জগতের সমস্ত প্রাণীকে সৃষ্টি করেছেন।
এবার ব্রহ্মা বায়ু, শিব ও জগতে অন্যান্য মুনিঋষিকে নমস্কার জানিয়ে বায়ু পুরাণের কথা শুরু করছি :
অসীমকৃষ্ণ নামে পৃথিবীতে এক বিখ্যাত রাজা ছিলেন। তিনি যেমন দেখতে সুন্দর ছিলেন, তেমনই ছিলেন শক্তিশালী। একবার তিনি কুরুক্ষেত্রে দৃষ্যদ্বতী নদীর তীরে যজ্ঞ শুরু করলেন। এই যজ্ঞে পণ্ডিত সব ঋষিরা তপোবনে ভ্রমণ করেছিলেন। সূত নামে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি সুন্দর কথা বলে ঋষিদের মন জয় করলেন। মুনিঋষিদের আনন্দ দান করার জন্য তার নাম হল লোমহর্ষণ। লোমহর্ষণ বেদব্যাসের শিষ্য ছিলেন। তিনি পুরাণ, বেদ, মহাভারত ইত্যাদি ছাড়া বিভিন্ন শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন। এই সূত যখন জ্ঞানী ঋষিদের কাছে এসে হাতজোড় করে প্রণাম জানালেন তখন ঋষিরা আনন্দিত হয়ে তার প্রশংসা করতে লাগলেন। লোমহর্ষণকে দেখেই তারা বুঝতে পেরেছিলেন ইনি পুরাণ শাস্ত্রে পণ্ডিত। তাই তাদের মনে পুরাণের গল্প শোনার আগ্রহ বেড়ে গেল। একজন বললেন–আপনি তো বেদব্যাসের মতোই পুরাণ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার জন্য অনেক সাধনা করেছেন। আপনি এখন এই মুনিঋষিদের পুরাণের গল্প শোনান। এঁরা প্রত্যেকেই পুরাণের গল্প থেকে নিজেদের বংশের বিবরণ জেনে নিতে পারবেন। মুনিদের পুরাণের কথা শোনাবেন বলেই যজ্ঞের আগেই আপনাকে বরণ করেছিলাম।
সূতের ধর্মই হল বিখ্যাত রাজা দেবতা, মহাত্মা, ঋষিদের বংশ সম্পর্কে যথার্থ বিবরণ জানানো। ইতিহাস ও পুরাণেই সূতের অধিকার।
বেনের পুত্র পৃথুর যজ্ঞ থেকে সূতের উৎপত্তি। এই যজ্ঞে ইন্দ্রের আহুতির দ্রব্যের সঙ্গে বৃহস্পতির আহুতি দেওয়া দ্রব্য মিশে যায়। তাই এর থেকে বর্ণসংকর সূতের উৎপত্তি হয়। ব্রাহ্মণের থেকে নিচু জাতের গর্ভে সূতের জন্ম হয়।
আপনারা জ্ঞানী, আমার স্বধর্ম জিজ্ঞাসা করেছেন তাই আপনাদের পুরাণের কথা নিশ্চয়ই বলব। পিতার বাসবী নামে একটি কন্যা ছিল। সে মৎস্যগর্ভে জন্মায়। সর্ববিদ্যার অধিকারী বেদব্যাস এই মৎস্যকন্যার গর্ভে জন্ম নেন। তিনি সকল প্রকার বেশিক্ষা করেছিলেন। আমি সেই পুরাণপুরুষ বেদব্যাসকে স্মরণ করে পুরাণ কথা শুরু করব।
অনেকদিন আগে তপোবনবাসী মুনিঋষিরা বায়ুর কাছে পুরাণের কথা জানতে চাইলে, বায়ু তাদের এই পুরাণ বলেন। পরমপুরুষ, চতুর্ভুজ ব্রহ্মাই এই জগৎ তৈরী করেছেন। প্রথমে একটি সোনার ডিমের আবির্ভাব হয়। ডিমের ভিতরের আবরণ জল। তারপর বায়ু, আকাশ ইত্যাদি ছিল। এরপর পর্বত নদী ইত্যাদি সৃষ্টি হয়েছে। এরপর প্রজাসৃষ্টি বর্ণাশ্রম, গাছপালা পশুপাখির উৎপত্তি হয়েছে। আর আছে ব্রহ্মার অবুদ্ধি থেকে নয় রকম সৃষ্টির কথা আর বুদ্ধিজনিত তিন রকম সৃষ্টির কথা। ব্রহ্মার শরীর থেকে ধর্মের উৎপত্তি। প্রিয়ব্রত উত্তানপাদ, প্রসূতি, আকুতি প্রভৃতি নিষ্পাপ ব্যক্তিদের বর্ণনা আছে। আকুতির গর্ভে প্রজাপতি, প্রসূতির গর্ভে দক্ষ কন্যাদের উৎপত্তি হয়। হিংসার গর্ভে যা কিছু অশুভ তার সৃষ্টি। সতীর গর্ভে মহেশ্বরের প্রজাসৃষ্টি। এখানে তিনটি বেদের কথা, ব্রহ্মা ও নারায়ণের মহেশ্বর-এর স্তব; ভৃগু বশিষ্ঠ ইত্যাদির গোত্রগুলির বর্ণনা, স্বাহার গর্ভে অগ্নির প্রজাসৃষ্টি ইত্যাদির বর্ণনা স্থান পেয়েছে। এরপর রয়েছে বিভিন্ন দ্বীপ, সমুদ্র ও পর্বতের বর্ণনা। বৎসর, নদী তাদের ভেদ। হিমবান, হেমকূট, মেরু, নীল ইত্যাদির পর্বতগুলির বিবরণ ও পর্বর্তবাসীদের কথা বলা হয়েছে। এই সমস্ত নানান বিবরণের সঙ্গে সঙ্গে সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর অবস্থানের বর্ণনাও রয়েছে। মানসের উত্তর পাহাড়ের চূড়ায় মহেন্দ্রের পুণ্য সভার কথা বলা হয়েছে। গৃহী সন্ন্যাসীদের পথের কথাও বর্ণনা করা আছে।
স্বয়ং ব্রহ্মার সৃষ্ট এই সৌরমণ্ডলে সূর্য আকাশ পথে ভ্রমণ করছে। এরপর চন্দ্ররথের বিবরণ আছে। এতে দেবতা, আদিত্য, ঋষি, অপ্সরা, সাপ ইত্যাদি আছে। সূর্যের জন্য চাঁদের হ্রাসবৃদ্ধির কথা বলা আছে। ধ্রুব থেকে সূর্য প্রভৃতির বিবরণ শিশুমায়ের কথা বলা হয়েছে। সূর্যের কিরণের জন্য শীত ও গ্রীষ্ম পরপর আসে। সূর্যের কাছাকাছি আসা গ্রহগুলির গতি ও পরিণাম, বিষ খেয়ে শিবের নীলকণ্ঠ হওয়ার বর্ণনাও রয়েছে। শূলপাণির বিষপান, বিষ্ণুর মহেশ্বর বন্দনা, ঐল পুরূরবার মাহাত্ম্যের কথা, পিতৃপুরুষের তর্পণ বর্ণনার কথা ক্রম অনুসারে রয়েছে। ক্রেতা, দ্বাপর, কলিযুগের সংক্ষেপে বর্ণনা। বর্ণ, ধর্ম, আশ্রমগুলির প্রবর্তনের কথা, যুগের প্রভাবে প্রাণীদের বিস্তার উন্নতির কথা, বিভিন্ন নির্দেশ ইত্যাদির কথা বলা আছে।
এরপর বেদ এবং বেদমন্ত্রগুলির কীর্তন, বেদের শাখাগুলির কথা, দেবতা, ঋষি মনু এবং পিতৃগণের বিস্তৃত উদ্ভবের কথা বলা হয়েছে সংক্ষেপে। মনুর থেকে উৎপন্ন মন্বন্তর সংখ্যা নির্ণয়, বর্তমান অতীত ও ভবিষ্যত মন্বন্তরগুলির বর্ণনা, মন্বন্তরের দেবতা ও প্রজাপতির নাম বর্ণনা, প্রজাপতি দক্ষের স্ত্রী, কন্যা এবং নাতি নাতনীদের বিবরণ স্থান পেয়েছে। উত্তানপাদের পুত্র ধ্রুবের প্রজাসৃষ্টি, বেদের পুত্র পৃথুর পৃথিবী দুয়ে ফেলার বর্ণনা করা হয়েছে। সারিষার গর্ভে দশপ্রচেতা থেকে সোমের অংশে দক্ষ। প্রজাপতির জন্ম বর্ণনা ইত্যাদি রয়েছে।
আগামী মনুদের বহু আখ্যান কথা, বৈবস্বত মনুর সৃষ্টি যজ্ঞে মহাদেবের বারণী ধনু ধারণ বর্ণিত আছে। ব্রহ্মের শুক্র থেকে ভৃগু প্রভৃতির উৎপত্তি। ধ্যান যোগে দক্ষ প্রজাপতির প্রজাসৃষ্টির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। নিজের অভিশাপের জন্য ব্রহ্মার পুত্র বারদের মহাকর্ণ দক্ষপুত্রদের হত্যা, ধরিনার গর্ভে বিখ্যাত দক্ষ কন্যাদের উৎপত্তি বর্ণনা তারপর ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের একত্ব, পৃথকত্ব এবং বিশেষত্ব বর্ণনা, ব্রহ্মার দেবতাদের অভিশাপ দান, দিতির গর্ভে মরুঙ্গনের উদ্ভব, তাদের দেবত্বপ্রাপ্তি প্রভৃতির কথা আছে। এরপর পিতার কথামতো তাদের দেবত্ব ও বায়ুর কাঁধে আশ্রয়লাভ, দৈত্য, দানব গন্ধর্ব, উরগ, রাক্ষস, পিশাচ; পশুপাখি লতা অপ্সরাদের উৎপত্তির কথা, সমুদ্র থেকে ঐরাবতের জন্ম, গরুড়ের উৎপত্তি ও অভিষেক বর্ণনা করা হয়েছে। তারপর ভৃগু, অঙ্গিরা, কশ্যপ, পুলস্ত্য প্রভৃতি মুনির সৃষ্ট প্রজাদের বর্ণনা। ইলা ও আদিত্যের বিস্তৃত বিবরণ। তারপর ইক্ষবাকু থেকে বৃহদ্বল পর্যন্ত সব রাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। রাজা যযাতির কথা। যদুবংশের কথা, হৈহয়ের বিবরণ স্থান পেয়েছে, এরপর জামসের মাহাত্ম্য, অনমিত্র বংশ কথা। বুদ্ধিমান বিবম্বানের মণিরত্ন পাওয়া, যুধাজিতের প্রজাসৃষ্টি, পরে দেবকীর গর্ভে বাসুদেব নামে বিষ্ণুর একান্তে জন্ম বৃত্তান্ত, বিষ্ণুর পরবর্তী প্রজাসৃষ্টি, দেবতা ও অসুরের সংঘর্ষে বিষ্ণুর স্ত্রীবধ এবং ইন্দ্রের জীবনরক্ষা, বিষ্ণুর প্রতি ভৃগুর অভিশাপ বর্ণিত আছে।
এরপর ভৃগুর শুক্রমাতার উত্থাপন, সুর ও অসুরদের সংগ্রাম, নরসিংহ প্রভৃতি অবতারের কথা শুক্রের তপস্যা মহাদেবের স্তুতি, শুক্রের জয়ন্তীর সঙ্গে মিলন, বৃহস্পতিকে অভিশাপ দেওয়া বিষ্ণুর মাহাত্ম্য বর্ণনা ইত্যাদি। যযাতি থেকে শুরু করে যদু, তুর্বসু, অনু পুরু প্রভৃতির কথা। কীর্তিমান রাজাদের বিবরণ। সূর্য থেকে অনাবৃষ্টি, অনলের উৎপত্তির বর্ণনা আছে। ভূ ইত্যাদি সাতটি লোকের বর্ণনা তারপর প্রলয়ের সময় সব জীব যেখানে যায়, ব্রহ্মলোকের ওপর শিবের জায়গা নির্দেশ, সব প্রাণীর পরিণাম, প্রাণীদের সংহার কাহিনী আছে।
বায়ু পুরাণে প্রাণের আট রকম ত্যাগ ধর্ম ও অধর্মের আশ্রয়ে ঊর্ধ্ব ও অধোগতির বর্ণনা আছে। ব্রহ্মার অনিত্যত্ব, ভোগের দৌরাত্ম্য, দুঃখ, বৈরাগ্যের বশে সংসারের দোষ দেখা ব্রহ্মাকেই আশ্রয়রূপে দেখা ইত্যাদি আছে। জগতের সব রকম প্রলয়-এর কথা, বশিষ্ঠের প্রাদুর্ভাব, সৌদাসের নিগ্রহ, পরাশর এর উৎপত্তি, পরাশরের প্রতি বিশ্বামিত্রের দ্বেষ, বিশ্বামিত্রকে হত্যা করার জন্য বশিষ্ঠের আগুন সংরক্ষণ, ভগবান ব্যাসের বেদ বিভাগ স্থান পেয়েছে এই বায়ু পুরাণে।
ব্যাসের শিষ্যদের প্রশ্ন অনুসারে বেদের বিভিন্ন শাখার বর্ণনা আছে। বর্ণনায় আছে পবিত্র দেশ পাওয়ার ইচ্ছায় ধার্মিক মুনিঋষিরা ব্রহ্মার কাছে প্রশ্ন করেন, ব্রহ্মা তখন বলেন একটি অনুপম দিব্যরূপ চক্র আছে। এই ধর্মচক্রের পেছনে চলতে চলতে আপনারা যখন দেখবেন চাকার পরিধি অনেক ছোট হয়ে গিয়েছে সেখানেই পাবেন পুণ্যদেশ। একথা বলে তিনি মিলিয়ে গেলেন।
এরপর এই পুরাণে রয়েছে গঙ্গার গর্ভধারণ। তপোবনে মুনিদের যজ্ঞারম্ভ, শরদ্বানের মৃত্যু, ঐড় রাজাকে সমগ্র পৃথিবীর রাজা হিসাবে মুনিঋষিদের বরণ। পরে যজ্ঞক্ষেত্রে মুনিদের সঙ্গে রাজার বিবাদ বাধে। পরে ঐড়ের পুত্র আয়ু যজ্ঞ সমাপন করে। এইসব বিবরণ এই পুরাণে যথাযথ রয়েছে। এই পুরাণ-এর কথা শ্রবণ ও কীর্তন করে পুণ্য লাভ করা যায়।
এ পুরাণ সংক্ষিপ্ত শুনলেও মহান অর্থ লাভ হয়ে থাকে। যিনি উপনিষৎ ও চারিটি বেদ পড়েছেন কিন্তু পুরাণ সম্পর্কে কিছু জানেন না সেইরকম লোক বিচক্ষণ হতে পারেন না। ইতিহাস ও পুরাণের সাহায্যে বেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে হয়। সাক্ষাৎ স্বয়ম্ভু এই অধ্যায়ের বক্তা। এই অধ্যায় পাঠ করলে বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পুরাকালের কথা বলেই এর নাম হয়েছে পুরাণ। ভগবান নারায়ণ এই বিশ্বে বিরাজ করছেন। মহেশ্বর হলেন স্রষ্টার স্রষ্টা। তাই বলা যায় পুরাণের মূল বিষয় হল স্বয়ং মহেশ্বর। তিনি সৃষ্টির সময় সব সৃষ্টি করেন আবার ধ্বংসের সময় সব ধ্বংস করেন।
.
দ্বিতীয় অধ্যায়
শুক বললেন–তপোবনের ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করলেন–হে সূত, কোথায় সেই যজ্ঞ হয়েছিল। প্রভঞ্জন কিভাবে পুরাণ ব্যাখ্যা করেছিলেন? এইসব বিষয়ে তুমি আমাদের জানাও। সূত উত্তর দিলেন বিশ্ব সৃষ্টি করার জন্য হাজার বছর ধরে বিশ্বের স্রষ্টাগণ পবিত্র যজ্ঞ করে আসছিলেন। সেখানে যেভাবে যত যজ্ঞ হয়েছে তার কথা বলছি। যেমন যেখানে স্বয়ং ব্রহ্মা ব্ৰহ্মকাজে ব্রতী হয়েছিলেন, যেখানে ইলার পত্নীত্ব হয়। যেখানে বিবুধরা হাজার হাজার বছর ধরে যজ্ঞ করেছিলেন। যেখানে রোহিণী প্রসব করেন। বুধের জন্ম হয়। যেখানে অরুন্ধতীর গর্ভে একশ জন পুত্রের জন্ম হয়। যেখানে বিশ্বামিত্র বশিষ্ঠের পরস্পর বিদ্বেষ দেখা দেয়, যেখানে পরাশয় মুনির জন্ম হল বশিষ্ঠের পরাজয় হল, সেখানে ব্রহ্মবাদী ঋষিরা যজ্ঞ করেছিলেন। নৈমিষারণ্য যজ্ঞ হয়েছিল বলে মুনিরা নৈমিষের নামে বিখ্যাত রাজা পুরুররা যখন পৃথিবী শাসন করেছিলেন, তখন মুনিদের বারো বছর ধরে যজ্ঞ চলে। স্বর্গের ঊর্বশী এই পুরুরবাকে কামনা করেছিল। রাজা পুরুরবা উর্বশীকে নিয়েই যজ্ঞ করেন। নৈমেষিয় মুনিরা পুরুরবার শাসনকালে যজ্ঞ শুরু করেছিলেন তা সোনার আকার নিয়েছিল। দেব বিশ্বকর্মা সেই সোনা দিয়েই যজ্ঞের বাট তৈরী করেছিলেন। সেই ঋষিদের যজ্ঞে দেবগুরু বৃহস্পতি এসেছিলেন।
রাজা পুরুরবা একদিন শিকারে এসে ঋষিদের সেই হিরন্ময় যজ্ঞভূমি দেখে লোভের বশে তা গ্রহণ করতে চাইলেন। তখন সেই নৈমিষারণ্যবাসী মহাত্মা মুনিরা রেগে গিয়ে তাকে কুশব্রজ দিয়ে আঘাত করলে পুরুরবা দেহত্যাগ করেন। তখন উর্বশীর গর্ভজাত পুত্রকে মুনিরা রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করলেন। নদুষপিতা নামে এই বিখ্যাত রাজা ধার্মিক ও মহাত্মা ছিলেন। তিনি মুনিদের যথাযযাগ্য সম্মান দিলেন। ব্রহ্মজ্ঞ মহর্ষিরা তার ধর্মবৃদ্ধির যজ্ঞ শুরু করেছিলেন। প্রাচীনকালের বিশ্বসৃষ্টির যজ্ঞের মতোই এই যজ্ঞ আশ্চর্যজনক। এই যজ্ঞে বৈশ্বানসেরা প্রিয় সখা বালখিল্যরা, মূর্খ, বৈশ্বানরপ্রভ অন্যান্য মুনিরা দেব, অপ্সরা, গন্ধর্ব, চারণেরা এসেছিলেন। ইন্দ্রের সভার মতোই এই যজ্ঞস্থল সম্পদে ভরে গিয়েছিল। সেখানে দেবগণের স্তুতি করে সম্মান জানানো হল, পিতৃপুরুষেদের অর্চনা করা হল। সমস্ত অতিথিরা সম্মান অনুসারে অর্চিত হলেন। তারপর সবশেষে যজ্ঞে উপস্থিত গন্ধর্বরা নামগান করলেন, অপ্সরারা নৃত্য করলেন। যুক্তিবাদী তার্কিকরা তর্কে অপরপক্ষকে পরাজিত করলেন। অনেক ন্যায়কোবিদ মুনিরা পরস্পর শাস্ত্রের অর্থ বিচার শুরু করলেন। স