দেবলোকের যৌনজীবন

দেবলোকের যৌনজীবন

অতুল সুর

দেবলোকের যৌনজীবন

Books Pointer Iconঅতুল সুর
Books Pointer Iconreligious

Change color

গ্রীকপুরাণ থেকে দেবলোকের যৌনজীবনের যে চিত্র পাওয়া যায়, তা দিয়েই আমি আমার বই শুরু করছি। হিন্দুদের মত গ্রীকরাও তাদের দেবদেবীদের মানুষের প্রতিরূপেই কল্পনা করত। সেজন্য মনুষ্য সমাজে নারীপুরুষের আচরণে যে সব দোষ-গুণ থাকে গ্ৰীক দেবদেবীদের মধ্যেও আমরা তাই দেখি। মনুষ্যসমাজে পুরুষ অপরের স্ত্রীর প্রতি লালসা প্রকাশ করে বা অপরের স্ত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ করে বা নারী-পুরুষ অজাচার ও ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। গ্রীক দেবদেবীদের মধ্যেও তাই হতো।


গ্রীকদের সবচেয়ে বড়ো দুই দেবদেবী ছিল জ্যুস্‌ ডিমিত্রাস্‌। এ দুজনেই আদর্শ চরিত্রের দেবতা ছিলেন না। জ্যুস তার অনূঢ়া ভগিনী ডিমিত্রাসে উপগত হয়ে কৃষিদেবী পারসিফোনের জন্ম দিয়েছিল। আবার পড়ি নিজ দুহিতা মিরহাতে উপগত হয়ে তার পিতা অ্যাডোনিস-এর জন্ম দিয়েছিল। এই অজাচারের জন্য মিরহাকে বৃক্ষে পরিণত হতে হয়েছিল। আবার পড়ি অ্যাক্টিয়ন নামে এক পৌরানিক শিকারী আর্টেমিসকে নগ্ন অবস্থায় স্নান করতে দেখেছিল বলে সে মৃগীতে পরিণত হয়েছিল। আবার পড়ি অ্যালকিন্তু তার নিজ ভগিণী এরিট্রকে বিয়ে করেছিল। এরূপ অজাচারের অনেক দৃষ্টান্তই গ্রীকপুরাণে আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বীভৎস হচ্ছে ইডিপাসের নিজ মাতাকে বিয়ে করে তার গর্ভে চারটি সন্তান উৎপাদন করা। প্রণয়ের দেবী অ্যাফ্রোড়িটিকে আমরা ব্যভিচারে লিপ্ত হতে দেখি এবং ওই ব্যভিচারের ফলে তার অনেকগুলি সন্তান হয়েছিল। অ্যাপোলোকে আমরা দেখি ড্রাইওপি নামক পরীকে অপহরণ করতে। টিটিয়াসকে আমরা দেখি লিটোকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হতে। আবার দেখি সতীত্বের প্রকৃষ্ট প্রতীক হিসাবে। যদিও আর্টেমিসের সঙ্গে আটলাণ্টাকে একীকরণ করা হয়েছিল তা হলেও আটলাণ্টা কুমারী অবস্থায় মেলিয়াগারকে প্রসব করেছিল।


গ্রীক পুরাণে আরও আছে যে দেবতারা যৌনলিন্সার বশীভূত হয়ে পৃথিবীতে আসতো মর্ত্যের মানবীদের সঙ্গে মিলিত হতে। সুতরাং এই বইয়ে হিন্দুদের দেবলোকের যৌনজীবনের যে চিত্র অঙ্কিত করা হয়েছে তাতে আশ্চৰ্য্য হবার কিছু নেই। সবদেশের পুরাণেই দেবতাদের এরূপ যৌনাচারের বিবরণ আছে। তবে এই বইয়ে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে মাত্র হিন্দুদের দেবলোকের যৌনাচার। সেজন্য এই বইয়ে আমরা হিন্দুদের দেবলোকের যৌনাচার নিয়েই আলোচনা করব।


॥ দুই ॥


মামুষ গোড়া থেকেই তার দেবতাকে নিজের স্বরূপে কল্পনা করে নিয়েছিল। সেজন্য মানুষের যে সব দোষ-গুণ আছে, তার দেবতাদেরও তাই ছিল। এটা বিশেষ করে লক্ষিত হয় দেবতাদের যৌনজীবনে। যৌনজীবনে মানুষের যে সব গৰ্হিত আচরণ আছে, দেবতাদেরও তাই ছিল। যৌনজীবনে সবচেয়ে গৰ্হিত আচরণ হচ্ছে ইনসেষ্ট’ বা অজাচার। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে যে যৌনসংসর্গ ঘটে, তাকেই অজাচার বলা হয়। তবে যে সমাজের মধ্যে এরূপ সংসর্গ ঘটে, সেই সমাজের নীতি-বিধানের ওপরই নির্ভর করে কোনটা অজাচার, আর কোনটা অজাচার নয়। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যেতে পারে যে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের কোন কোন উপজাতির মধ্যে বিধবা বিমাতা ও বিধবা শাশুড়ীকে বিবাহ করার প্রথা আছে। অন্যত্র এটা অজাচার। উত্তর ভারতে বিবাহ সপিণ্ড-বিধান ও গোত্র-প্রবর-বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে অজাচার ঘটবার উপায় নেই। আবার দক্ষিণাত্যে মামা-ভাগ্নী ও পিসতুতো-মামাতো ভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ সামাজিক নিয়ম-কানুন দ্বারা স্বীকৃত। সেখানে এরূপ যৌনসংসর্গ অজাচার নয়। আবার প্রাচীনকালে ভ্রাতা ও ভাতৃবধুর মধ্যে যৌন-সংসর্গ অজাচার বলে গণ্য হত না। ভ্রাতা অস্বীকৃত হলে, অপরকে ডেকেও বিধবা বধূদের গর্ভসঞ্চার করানো হত। এরূপ গর্ভসঞ্চারের ফলেই মহাভারতের দুই প্রধান কুলপতি ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডুর জন্ম হয়েছিল। অথর্ববেদে (৮৬৭ ) পিতা-পুত্রী ও ভ্রাতা-ভগিনীর মধ্যে যৌনমিলনের উল্লেখ আছে। নহুষ তার ‘পিতৃকন্যা’ বিরজাকে বিবাহ করেছিল ও তার গর্ভে ছয়টি সন্তান উৎপাদন করেছিল।


॥ তিন ॥


মানুষের এরূপ যৌনাচারের প্রতিফলন আমরা দেবতাদের জীবনেও লক্ষ্য করি। মানুষের যৌনজীবনে যেমন সংযমের অভাব দেখা যায়, দেবতাদের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ছিল। বস্তুতঃ দেবতাদের আমরা ইন্দ্রিয়পরায়ণ, কামাসক্ত, অজাচারী, বহুপত্নীক ও ব্যভিচারীরূপে দেখি। আর ইন্দ্রের দেবসভা, মর্ত্যের রাজারাজড়াদের অনুকরণেই কল্পিত হয়েছিল। সেই দেবসভার সঙ্গে আমরা পরবর্তীকালের মোগল বাদশাহদের দরবারের বা জমিদার-তালুকদারদের বৈঠকখানা ও বাগানবাড়ীর নাচঘরের কোন প্রভেদ দেখি না। দেবসভায় আমরা যখন অপ্সরাদের নাচতে দেখি, তখন আমাদের মনে হয় তারা যেন নাচছে মহারাজ নবকৃষ্ণ দেব বাহাদুরের শোভাবাজারের রাজবাড়ীর হলঘরে ব। রাজ রামমোহন রায়ের মানিকতলা বাগানবাড়ীতে। বস্তুত দেবসভা মুখরিত হয়ে থাকত অঙ্গরাদের নাচগানে। নামজাদা অপ্সরাদের মধ্যে ছিল উর্বশী, মেনকা, রস্তা, তিলোত্তম, ঘৃতাচী, মুকেশী, মঞ্চঘোষা, অলম্বুষা, বিদ্যুৎপর্ণা, সুবাহু, মুপ্রিয়া, সরসা, পঞ্জিকাস্থল ও বিশ্বাচী। নৃত্যকলায় এরা সকলেই ছিল পারদর্শিনী। তাদের সৌন্দর্য ও যৌন আবেদনের কথা সব সময়ই বিশেষভাবে উল্লিখিত হয়েছে। তারা ছিল স্বর্গের স্বাধীন নারী। তার মানে মর্ত্যলোকের বারযোযিতদের সঙ্গে তাদের কোন প্রভেদ ছিল না।


এবার দেবতাদের যৌনজীবনের দিকে তাকানো যাক। ঋগ্বেদে দেখি যমী তার যমজ ভ্রাতা যমের কাছে সঙ্গম প্রার্থনা করছে ; দস্ত নিজ ভগিনী মায়াকে, লোভ নিজ ভগিনী নিবৃত্তিকে, ক্রোধ নিজ ভগিনী হিংসাকে ও কলি নিজ ভগিনী নিরুক্তিকে বিবাহ করছে। আবার উষা সূর্যের জনয়িত্রী। কিন্তু সূর্য প্রণয়ীর ন্যায় তার অনুগমন করছে ও তাকে স্ত্রীরূপে বরণ করছে। ( পরে দেখুন)। মৎস্যপুরাণ অনুযায়ী শতরূপ ব্ৰহ্মার কন্যা। কিন্তু ব্ৰহ্মা কন্যার রূপে মুগ্ধ হয়ে তার সঙ্গে অজাচারে লিপ্ত হন। এই কন্যার গর্ভে ব্ৰহ্মা হতে স্বায়ম্ভুব মনুর জন্ম হয়। কিন্তু অন্য মতে ইনি স্বায়ম্ভুব মনুর স্ত্রী ও স্বায়ম্ভুব মনু হতে শতরূপার গর্ভে প্রিয়ত্রত ও উত্তানপাদ নামে দুই পুত্র ও কাকুতি ও প্রস্থতি নামে দুই কন্যা জন্মগ্রহণ করে। আবার এদের পুত্রকন্যা হতে মনুষ্য জাতির উদ্ভব হয়। তার মানে জন্ম থেকেই মনুষ্যজাতির রক্তের মধ্যে অজাচারের বীজ উপ্ত হয়েছিল।


যৌনজীবনে দেবতাদের কোনরূপ সংযম ছিল না। আদিত্যযজ্ঞে মিত্র ও বরুণ উর্বশীকে দেখে কামলালসায় অভিভূত হয়ে যজ্ঞকুম্ভের মধ্যে শুক্রপাত করে। অগ্নি একবার সপ্তর্ষিদের স্ত্রীদের দেখে কামোন্মত্ত হয়েছিল। ঋক্ষরজাকে দেখে ইন্দ্র ও সূর্য দুজনেই এমন উত্তেজিত হয়েছিল যে ইন্দ্র তার চিকুরে ও সূর্য তার গ্রীবায় রেতঃপাত করে ফেলে। রামায়ণ অনুযায়ী সূর্যের বীর্য তার গ্রীবায় ও ইন্দ্রের বীর্য তার বালে ( কেশে ) পড়েছিল।


॥ চার ॥


সূর্য অজাচারী দেবতা। চন্দ্র ব্যভিচারী দেবতা। চন্দ্র দক্ষের সাতাশটি মেয়েকে বিবাহ করেছিল। কিন্তু তাতেও তার কাম-লালসা পরিতৃপ্ত হয়নি। কামাসক্ত হয়ে সে দেবগুরু বৃহস্পতির স্ত্রী তারাকে অপহরণ ও ধর্ষণ করে। দেবগুরু বৃহস্পতি নিজেও সাধু চরিত্রের দেবতা ছিলেন না। তিনি কামলালসায় অভিভূত হয়ে নিজ জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার স্ত্রী মমতার অন্তস্বত্বা অবস্থায় বলপূর্বক তার সঙ্গে সঙ্গম করেছিলেন। আবার ঋগ্বেদে দেখি রুদ্রদেব তার নিজ কন্যা উষার সঙ্গে অজাচারে লিপ্ত হয়েছিলেন। পৌরাণিক যুগে বিষ্ণুই হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ দেবতা। কিন্তু তিনিও পরস্ত্রী বৃন্দা ও তুলসীর সতীত্ব নাশ করেছিলেন।


এই তো গেল দেবলোকের যৌনজীবনের নমুনা। আগেই সূর্যের স্ত্রী উষার কথা বলেছি। উষাকে পাবার জন্য অগ্নি, সূর্য, ইন্দ্র ও অশ্বিনীদ্বয় দেবগণের মধ্যে ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। এই পাঁচজন শক্তিমান দেবতা উষার পাণিপ্রার্থী হওয়ায় প্রজাপতিগণ ঘোষণা করেন যে অনন্ত আকাশপথ অনুধাবনে যিনি কৃতকার্য হবেন ও সেই সঙ্গে যত বেশী স্বরচিত বেদমুক্ত উচ্চারণ করতে পারবেন তারই হাতে উষাকে সমর্পণ করা হবে। এই পথের কথা শুনে অগ্নি, ইন্দ্র ও সূর্য আজীবন অগ্রসর হন, কিন্তু তাদের সে চেষ্টা বিফল হয়। তখন অশ্বিনীদ্বয় ইন্দ্রের কাছ থেকে বেদমুক্ত লাভ করে সফল হন ও উষাকে লাভ করেন। কিন্তু এরা সূর্যের অনুচর বলে উষাকে প্রতিগ্রহ করেন নি। তখন সূর্য উষাকে স্ত্রীরূপে বরণ করেন।


॥ পাঁচ ॥


বৈদিক দেবতাদের মধ্যে ইন্দ্রের স্থানই সর্বাগ্রে। ঋগ্বেদের তৃতীয় মণ্ডলে উক্ত আছে যে দেবগণ অসুরগণকে বধ করবার জন্য তাকে সৃষ্টি করেছিলেন। দেবমাতা অদিতি তার মা। আর অদিতির বোন দিতি হচ্ছে দৈত্য বা অসুরগণের মা।


ইন্দ্র অত্যন্ত সুরা ( সোমরস ) পায়ী। ঋগ্বেদে বলা হয়েছে যে সোমরস পান করে ইন্দ্রের উদর স্ফীত হয়েছে। ইন্দ্র নিজ পিতার কাছ থেকেও কেড়ে নিয়ে সুরাপান করে। তার উদর হচ্ছে সোমরসের হ্রদ। তিনি একতন্ত্রী দেবতা। শত অশ্বমেধ যজ্ঞের ফলে পাছে কেউ ইন্দ্রত্ব লাভ করে, সেই ভয়ে ইন্দ্র তপস্বীদের তপস্যা ও সাধনার নানা বিঘ্ন ঘটান। এই কাজে তিনি অঙ্গরাদের নিযুক্ত করেন।


ইন্দ্রের স্ত্রী ইন্দ্রাণী বা শচী। তৈত্তিরীয়ব্রাহ্মণ অনুযায়ী ইন্দ্র তার যৌন আবেদনে আকৃষ্ট হয়ে অত্যান্ত সুন্দরীদের প্রত্যাখ্যান করে ইন্দ্রাণীকে বিবাহ করেছিল। অন্য মতে ইন্দ্র ইন্দ্রাণীর সতীত্ব নষ্ট করে, এবং শাপ থেকে রক্ষা পাবার জন্য ইন্দ্রাণীর পিতা পুলমাকে হত্যা করে ইন্দ্রাণীকে বিয়ে করেছিল।


ইন্দ্র যে মাত্র ইন্দ্রাণীর সতীত্ব নষ্ট করেছিল, তা নয়। মহাভারত অনুযায়ী ইন্দ্র গৌতম মুনির অনুপস্থিতিতে গৌতমের রূপ ধারণ করে তাঁর স্ত্রী অহল্যার সতীত্ব নাশ করেছিল। ইন্দ্র এইভাবে মর্ত্যলোকে এসে মানবীদের সঙ্গে মিলিত হত। এইভাবে বালী ও অর্জুনের জন্ম হয়েছিল। ধর্মও মর্ত্যে এসে মানবীদের সঙ্গে মিলিত হতেন। ধর্মের ঔরসেই কুন্তীর গর্ভে যুধিষ্ঠিরের জন্ম হয়। অনুরূপভাবে অগ্নির ঔরসে মাহিষ্মতী নগরীর ইক্ষাকুবংশীয় রাজকন্যা সুদর্শনার গর্ভ হয়। পবনদেবও হনুমানের পিতা কেশরীরাজের স্ত্রী অঞ্জনার গর্ভে এক পুত্র উৎপাদন করেছিলেন। সেই পুত্রই হনুমান।


পাছে কেউ ইন্দ্রের আসন অধিকার করে, এই ভয় ইন্দ্রের সব সময়েই ছিল। রামায়ণে কথিত আছে একবার রাবণ স্বর্গে গিয়ে স্বৰ্গরাজ্য অধিকারের জন্য ইন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। রাবণ-পুত্র মেঘনাদ কর্তৃক পরাজিত হয়ে ইন্দ্র লঙ্কায় নীত হয়। এ জন্যই মেঘনাদ ইন্দ্রজিৎ নামে সুপরিচিত। ব্ৰহ্মা ইন্দ্রের মুক্তি দিতে অস্বীকৃত হয়। ব্ৰহ্মা প্রত্যাখ্যান করলে, ইন্দ্রজিৎ এমন এক রথ প্রার্থনা করে যে রথে আরোহন করে যুদ্ধযাত্রা করলে ইন্দ্রজিৎ অবধ্য হবে। অভীষ্ট বরের বিনিময়ে ব্রহ্ম ইন্দ্রকে মুক্ত করেন এবং বলেন যে অহল্যার সতীত্ব নাশের জন্যই ইন্দ্রের এই দুৰ্গতি।


একবার ইন্দ্র ব্ৰহ্মহত্যা ও বৃত্ৰাসুরকে মিথ্যাচারে বধ করে শ্রান্ত ও অচেতন হয়ে জলমধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে অবস্থান করছিলেন। তখন দেবতা ও মহৰ্ষিরা নতুষকে দেবরাজ করেন। কিন্তু কথায় বলে, যে আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। ইন্দ্রত্ন লাভ করে নতুষ কামপরায়ণ ও বিলাসী হয়ে, ইন্দ্রের স্ত্রী শচীকে পাবার আকাঙ্খা করে। শচী বৃহস্পতির শরণাপন্ন হয়। তারপর কৌশল করে বৃহস্পতি স্বৰ্গলোক থেকে নতুষের পতন ঘটান ও শচীকে রক্ষা করেন।


ইন্দ্র যে মাত্র পরস্ত্রীর সতীত্ব নষ্ট করেছিল, তা নয়। সে পরনারীর গর্ভনাশও ঘটিয়েছিল। অমৃতলাভের জন্য দেবামুরের মধ্যে যুদ্ধে দেবতারা যখন ইন্দ্রকে হত্যা করতে পারে, এমন এক সন্তান প্রার্থনা করে, তখন কশ্যপ বলেন, দিতি যদি এক সহস্ৰ বৎসর শুচি হয়ে থাকে, তবে প্রার্থিত পুত্র লাভ করবে। ৯৯০ বৎসর তপস্যা করবার পর দিতি একদিন পা না ধুয়ে নিদ্রা যাচ্ছিল। ইন্দ্র তাকে অশুচি জ্ঞানে তার উদরে প্রবেশ করে বজ্রদ্বারা তার গর্ভ সপ্তখণ্ড করে।


॥ ছয ॥


এতক্ষণ দেবলোকের পুরুষদের যৌন চরিত্রের কথা বলা হয়েছে। এখন দেবলোকের দেব-স্ত্রীদের কথা কিছু বলি স্বাহা দক্ষের কন্যা। ইনি অগ্নিকে কামনা করতেন। একবার সপ্তর্ষিদের যজ্ঞে অগ্নি সপ্তর্ষিদের স্ত্রীদের দেখে কামার্ত হয়ে ওঠেন। স্বাহা এটা লক্ষ্য করেন। স্বাহা তখন এক এক ঋষিপত্নীর রূপ ধরে ছয়বার অগ্নির সঙ্গে মিলিত হন। এবং ছয়বারই অগ্নির বীর্য কাঞ্চনকুণ্ডে নিক্ষেপ করেন। এই ঘটনার পর সপ্তর্ষির তাদের স্ত্রীদের সন্দেহ করে পরিত্যাগ করে।

**********