অগ্নি পুরাণ

অগ্নি পুরাণ

পৃথ্বীরাজ সেন

অগ্নি পুরাণ

Books Pointer Iconপৃথ্বীরাজ সেন
Books Pointer Iconreligious

Change color

মৎস্য অবতারের কাহিনী

অতীত কল্পের অবসান প্রায় আসন্ন। পদ্মযোনি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা। তিনি দুচোখ আর খুলে রাখতে পারছেন না। ঘুমে আচ্ছন্ন হলেন। নিদ্রাকালে তার মুখ দিয়ে নির্গত হল নানা উপদেশাবলী। যা বেদ নামে খ্যাত। হয়গ্রীব নামে এক অসুর সেই সব বেদরাজি শ্রবণ করল এবং সেখান থেকে চলে গেল।

এ তথ্য ভগবান শ্রীহরির কাছে অজ্ঞাত রইল না। দানবের কাছ থেকে ওইসব বেদরাজি উদ্ধার করতে হবে। এই উদ্দেশ্যে তিনি একটি ক্ষুদ্র মৎস্যের রূপ ধারণ করলেন।

রাজর্ষি সত্যব্রত বৃতমালা নামে এক নদীতে সে সময় স্নান সেরে তর্পণ করার জন্য অঞ্জলি পেতে নদীর পবিত্র স্বচ্ছ জল ভরতে গেলেন। ঠিক এ সময় শফরী নামধারী মৎস্যরূপী ভগবান তাঁর অঞ্জলিপুটে উঠে এলেন। রাজর্ষি তা দেখে জল ফেলে দিতে উদ্যত হলেন। শ্রীহরি কাতর স্বরে বললেন–হে কৃপাবৎসল রাজা, দোহাই এই নদীর জলে আমাকে ত্যাগ করবেন না। এখানে কেউ আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে না। খেয়ে সাবাড় করে দেবে।



ছোট্ট একটি মাছকে কথা বলতে দেখে রাজর্ষি সত্যব্রত অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। তিনি শফরীকে তার কমণ্ডলুর জলে স্থান দিলেন।


পরের দিনই সেই মাছের আয়তন বেড়ে গেল। কমণ্ডলুতে তার স্থান অকুলান। মাছ বললহে রাজা, ওই কমণ্ডলুতে বাস করতে আমার অসুবিধা হচ্ছে। দয়া করে অন্য কোনও বৃহৎ স্থানে আমাকে রাখুন যাতে আমি সুখে থাকতে পারি।


রাজা তখন তাকে একটি বড় কলসিতে জায়গা দিলেন। এক রাতের মধ্যে মাছের চেহারা এত বেড়ে গেল যে, কলসিতে সামান্য নাড়া চাড়া করাও তার পক্ষে অসম্ভব হল।


মাছের অনুরোধে রাজা এবার তাকে একটি সরোবরে ছেড়ে দিলেন। এক রাতের মধ্যে দেখা গেল মাছটি এমন আকার ধারণ করেছে যে, সরোবরে বাস করাও তার পক্ষে কষ্টকর হচ্ছে। আরও বড়ও পরিসর তার চাই। রাজা এবার তাকে নিয়ে এলেন একটা হ্রদে। সেখানেও একই অবস্থা, এক রাতের মধ্যে ওই মাছ মহামৎস্যে পরিণত হল।


মাছ বলল–আমাকে আরও বড় এক পরিসরে রাখার ব্যবস্থা করুন।



রাজর্ষি ঠিক করলেন, এই মাছের পক্ষে সমুদ্রই শ্রেয়। এই মনে করে সাগরের দিকে হাঁটলেন।


মাছ আঁতকে উঠল–রাজা আমাকে সাগরে দেবেন না। ওখানে কত রকমের বড় বড় জলজ জন্তু আছে। আমায় ধরে ওরা খেয়ে ফেলবে। আমার প্রাণ যাবে। ভয়ে আমার বুক কাঁপছে!


রাজা সত্যব্রত বিনীত কণ্ঠে জানতে চাইলেন–হে রূপধারী মৎস্য, আপনি কে? কৃপা করে আপনি আমাকে আপনার পরিচয় জ্ঞাপন করে আমাকে উৎকণ্ঠা মুক্ত করুন।


মৎস্যরূপী শ্রীভগবান বললেন–হে রাজর্ষি, আজ থেকে ছদিন পরে অর্থাৎ সাতদিনের মাথায় সমুদ্রে প্রলয় শুরু হবে। জলে ভেসে যাবে চারদিক। স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সব জলের তলায় চলে যাবে। সে সময় মস্ত বড় একটা নৌকা তোমার কাছে আসবে, আমিই তা পাঠাবো। তুমি ওই নৌকায় সব ধরনের বীজ, ওষধি এবং সাত ঋষিকে নিয়ে উঠে বসবে। বায়ুর প্রবল বেগে নৌকা টাল সামলাতে না পেরে টলমল করবে। ঠিক এ সময়ে একটা মোটা কাছি হাতের পাশে পাবে। আসলে এটা বহুরূপী এক সর্প, আর আমি এ সময়ে এক শৃঙ্গধারী মৎস্যরূপে জলে ভাসব। তুমি সেই কাছির এক প্রান্তে আমার মৎস্য শৃঙ্গের সাথে বাঁধবে। অন্যপ্রান্ত নৌকার সঙ্গে। দেখবে নৌকা স্থির হয়েছে।



শ্রীবিষ্ণু এই উপদেশ দান করে সেই স্থান থেকে সমুদ্রের অতুল নীল জলরাশিতে অদৃশ্য হলেন। রাজর্ষি সত্যব্রত শ্রীহরির আদেশ অনুসারে, বীজ, ওষধি এবং সাত ঋষিকে একত্রিত করে সেই নির্দিষ্ট দিনটির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।


সপ্তম দিনে দেখা দিল সেই প্রলয় দুর্যোগ। সমুদ্রের জল ফুলে ফেঁপে উঠল। জলে প্রবল আলোড়ন দেখা দিল। প্লাবিত হল সম্পূর্ণ পৃথিবী। রাজা সত্যব্রত দেখলেন একটা নৌকা আসছে। তিনি সেই নৌকায় বীজ, ওষধি এবং ঋষিদের সঙ্গে নৌকোয় উঠে পড়লেন। সমুদ্রের বিশাল বিশাল তরঙ্গের আঘাতে নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম। বিপদের সম্ভাবনা দেখে রাজা সত্যব্রত আকুল হয়ে শ্রী ভগবানের স্মরণ নিলেন। সেই প্রলয় সলিলে এক শৃঙ্গধারী নিযুত যোজন পরিমিত শরীরের একটি স্বর্ণ বর্ণের মৎস্য ভেসে থাকতে দেখা গেল। কাছির ন্যায় দৃষ্ট বহুরূপী বাসুকির দ্বারা নৌকা এবং মৎস্যের শৃঙ্গের সঙ্গে বাঁধা হল মৎস্য অবতারের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী। তারপর নৃপতি শ্রীহরির নাম গান করতে লাগলেন।


হে মহারাজ পরীক্ষিৎ, রাজা সত্যব্রতের স্তবে সন্তুষ্ট হলেন শ্রীহরি। তিনি জলে ভাসমান অবস্থায় রাজাকে নানা তত্ত্বকথা শোনালেন। এইসব তত্ত্ব উপদেশকে নিয়ে মৎস্য পুরাণ লেখা হয়েছে।


এরপর শ্রীহরি হয়গ্রীব নামক অসুরকে বধ করে বেদগুলি উদ্ধার করেন। ইতিমধ্যে অতীত কল্পের অবসান ঘটেছে। ব্রহ্মার নিদ্রা ভঙ্গ হয়েছে। শ্রীহরি কর্তৃক তিনি তাঁর চুরি যাওয়া বেদসকল ফিরে পেলেন। শ্রীবিষ্ণুর অনুগ্রহ লাভ করে রাজা সত্যব্রত হলেন এই কল্পে বৈবস্বত .(শ্রাদ্ধদেব) মনু, রাজর্ষি সত্যব্রত আর মায়া, মৎস্যরূপধারী শ্রীহরির উপদেশ গাথা সম্বলিত মৎস্যপুরাণ পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল জীবের পাপের বিনাশ ঘটে।



কূর্ম অবতারের কাহিনী


স্বর্গলোকের নন্দন কাননের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন মহামুনি দুর্বাসা। শুনতে পেলেন ঘণ্টা ও শঙ্খের আওয়াজ। সেই আওয়াজ লক্ষ্য করে ছুটে গেলেন। সেসময় ঊর্বশী শ্রী বিষ্ণুর পুজোয় ব্যস্ত ছিল।


দুর্বাসা মুনিকে অতিথি রূপে গ্রহণ করে পরম সমাদরে তাঁর পূজা করল ঊর্বশী। গত রাতে ইন্দ্রের কাছ থেকে সে একটি মালা উপহার পেয়েছিল। অতিথি মুনিকে সেই বাসি মালা দিয়ে সে মুনির পুজো শেষ করল।


দুর্বাসা চললেন এবার ইন্দ্র সমীপে। পথেই তার সাথে দেখা হয়ে গেল। ইন্দ্র তখন ঐরাবতে চড়ে বেড়াচ্ছিলেন। মুনি নিজের গলা থেকে মালাটি খুলে ইন্দ্রের গলায় পরিয়ে দিলেন। ইন্দ্রের চিনতে দেরী হল না যে, এ সেই পারিজাত মালা যা, গতকাল তিনি ঊর্বশীকে দিয়েছিলেন। তার মানে ঋষিও ঊর্বশীর প্রতি টান বোধ করেন। মনে মনে তিনি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হলেন। গলা থেকে পারিজাত মালা খুলে ছুঁড়ে দিলেন। সেটি গিয়ে পড়ল ঐরাবতের মাথায়। ঐরাবত সেটি মাটিতে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে থেঁতলে দিল।


ঋষি প্রদত্ত আশীর্বাদী সূচক উপহার অবজ্ঞা ভরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ায় দুর্বাসা মুনি ইন্দ্রের প্রতি রুষ্ট হয়ে তাকে শাপ দিলেন–তুমি শ্রীভ্রষ্ট হবে।



ইন্দ্র শ্রীভ্রষ্ট হলে সুযোগ পেয়ে অসুরগণ দেবতাদের সব কিছু অধিকার করল। স্বর্গচ্যুত হয়ে দেবতারা সদলবলে পদ্মযোনি ব্রহ্মার কাছে এসে হাজির হলেন। ব্রহ্মা তাঁদের সকলকে নিয়ে গেল শিবের কাছে। শিব এবং ব্রহ্মা অন্যান্য দেবতাদের নিয়ে হাজির হলেন ক্ষীরোদ সাগরের তীরে শ্বেতদ্বীপে, সকলে মিলে শ্রীভগবানের স্তব শুরু করলেন।


দেবতাদের প্রতি সদয় হলে শ্রীহরি সেখানে এসে স্বয়ং আবির্ভূত হলেন।


শ্রীহরি বললেন–হে ব্রহ্মা, হে শিব, হে দেবতাগণ শুক্রাচার্যের মন্ত্রণা দ্বারা দানব ও দৈত্যগণ যতদিন পরিচালিত না হবে, ততদিন তোমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ইতিমধ্যে তোমরাও কোনো বুদ্ধির হদিস পাবে। তাই বলছি, তোমরা ওইসব অসুরদের সাথে সন্ধি করো। এতে তোমাদের মঙ্গল হবে।


এখন আমি যা বলছি, মন দিয়ে শোন। ক্ষীর সমুদ্রে সমস্ত রকম ওষধি নিক্ষেপ করো, ফলে অমৃত সৃষ্টি হবে। সেই অমৃত তোলার জন্য মন্দার পর্বত দণ্ডরূপে আর বাসুকি রঞ্জুরূপে তোমাদের সাহায্য করবে। আমিও তোমাদের সহায় হব। এই কাজ করতে গিয়ে অসুরগণ ক্লেশ ভাগী হবে আর তোমরা তার সুখফল ভোগ করবে।



এই বলে শ্রীহরি সেখান থেকে চলে গেলেন।


দেবতাগণ এলেন অসুর রাজ বলির কাছে। শ্রীবিষ্ণুর উপদেশ সম্পর্কে অবগত হলে অসুরেরা অমৃত পানের আশায় দেবতাদের সঙ্গে হাত মেলাল।


এইভাবে শুরু হল সমুদ্র মন্থনের কাজ। বহু কষ্টে দেব ও অসুরগণের সাহায্যে মন্দর পর্বর্তকে। উত্তোলিত করা হল কিন্তু ক্ষীরোদ সাগরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হল না। এবার স্বয়ং শ্রীহরি একাজে হাত লাগালেন। এক হাতে তিনি মন্দর পর্বতকে তুলে ধরলেন। এবং গুরুড়ের পিঠে চাপিয়ে দিলেন। গরুড় অনায়াসে এই পাহাড়কে এনে স্থাপন করল ক্ষীরোদ সাগরের বক্ষে। এবার সর্পরাজ বাসুকিকে পর্বতের চারধারে ঘিরে বেঁধে ফেলা হল। অসুররা রঞ্জুর এক প্রান্ত এবং দেবগণ অন্য প্রান্ত ধরে সমুদ্র মন্থন করতে শুরু করলেন।


কিন্তু দেখা দিল বিপত্তি। গুরুভারে পর্বত সমুদ্রের তলায় ঢুকে যেতে শুরু করল। সবাই শুকনো মুখে ভাবতে লাগলেন কি করা যায়। আবার শ্রীহরির স্মরণ নিলেন সকলে। শ্রীহরি এক কুর্মের রূপ ধারণ করে সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে পৃষ্ঠদেশে তুলে ধরলেন সেই বিশাল মন্দর পর্বতকে। আবার শুরু হল মন্থনের কাজ।



প্রথমে উঠল তীব্র হলাহল বিষ, যে বিষের জ্বালায় ত্রিভুবনের সব প্রাণ বিনষ্ট হবে। লোকপালগণ অতিশয় ভীত হয়ে শিবের স্মরণ নিলেন। শিব স্বয়ং সেই হলাহল পান করে জগতকে বিষমুক্ত করলেন। নিজে হলেন মৃত্যুঞ্জয়। কণ্ঠে ধারণ করে নাম নিলেন নীলকণ্ঠ।


বিষের বিনাশ ঘটল। সুরাসুরগণ আবার মহোল্লাসে মন্থনের কাজ শুরু করলেন, এবার উঠে এল এক গাভী। নাম সুরভি। যজ্ঞাদির প্রয়োজনে পবিত্র ঘৃত কামনা লাভে ব্রহ্মবাদী ঋষিকুল সেই গাভী গ্রহণ করলেন। এবার উঠে এল এক অশ্ব, শ্বেতবর্ণ উচ্চৈঃশ্রবা। দৈত্যরাজ বলি তাকে সাদরে নিয়ে এলেন। পাওয়া গেল ঐরাবত নামক এক হস্তি। চারি দণ্ড বিশিষ্ট সেই গজ নিলেন স্বয়ং ইন্দ্র। ভগবান হরি কৌস্তুভ নামক পদ্মরাগ মণিটি বক্ষে ধারণ করার বাসনায় সেটি গ্রহণ করলেন। পাওয়া গেল এক কল্প বৃক্ষ, নাম পারিজাত। এবার সমুদ্র উথিত করে উঠে এলেন স্বয়ং মহাদেবী লক্ষ্মী। সেই দেবীর রূপের কাছে অসুর ও দেবগণ কামাসক্ত হলেন। সকলে মিলে তার সেবায় রত হলেন। কিন্তু লক্ষ্মীদেবী কারো কাছে গেলেন না, সদয় হলেন শ্রীহরির প্রতি। তাকেই স্বামী রূপে গ্রহণ করলেন।


এবার মন্থন করে পাওয়া গেল সুরা। অসুরগণ তা পান করে মহাতৃপ্ত হল। অতঃপর উঠে এল এক পুরুষ অপূর্ব তার দেহবল্লরী, অলঙ্কারে বিভূষিত, হাতে তাঁর কলস, অমৃত ভাণ্ডার। সুরাসুরগণ এই অমৃতের জন্যই মন্থন চালিয়ে ছিল। সেই আশা তাদের পূর্ণ হতে চলেছে। অমৃতের ভাণ্ড নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে গেল। দেবতারা পারবে কেন দানবের সাথে? অমৃতের ভাণ্ড চলে গেল অসুরদের হাতে। তাদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে গেল, খুবই বিশৃঙ্খলা দেখা দিল, দেবতারা মুখ ভার করে শ্রীবিষ্ণুর কাছে হাজির হলেন। শ্রীবিষ্ণু এক অপরূপা নারীর মূর্তি ধারণ করলেন। তাকে দেখে অসুরদেরও মনে কামনা জাগল। তারাও ওই সুন্দরীর পরিচয় জানতে চাইল। এবং সেই অপরূপা মোহিনীকে অনুরোধ করল অসুরদের মধ্য অমৃত বণ্টন করার জন্য।



নারীরূপী শ্রীহরি বললেন– পণ্ডিতরা বলে থাকেন, কামিনীকে কখনও বিশ্বাস করো না। তোমরা আমার প্রতি এত আস্থাশীল হচ্ছো কেন?


অসুরদের সঙ্গে কামিনীর পরিহাস ছলে নানা কথা বার্তা হল। দৈত্যরা অমৃতের ভাণ্ড নির্দ্বিধায় ওই নারীর হাতে তুলে দিল।


ভগবান বললেন–আমি যা করব, তা যদি তোমরা মেনে নাও, তাহলে হে অসুরগণ, এই অমৃত আমি ভাগ করে তোমাদের দিতে পারি।


অসুরগণ তখনও পর্যন্ত কামিনীর আসল পরিচয় জানে না। তারা বলল–বেশ তোমার কথাই আমরা মেনে নিলাম।


তারপর সেই মোহিনী রমণী দেবতা ও অসুরদের পৃথক পৃথক সারিতে বসতে বললেন। নানা অঙ্গ ভঙ্গি করে কথায় প্রলোভনে অসুরদের ফাঁকি দিয়ে দেবতাদের সেই অমৃত দান করলেন, জরমরণহারিণী অমৃত সুধা থেকে বঞ্চিত হল দানবরা তাদের ভাগে কিছুই পড়ল না। কিন্তু তারা মুখে কিছু বলল না। বিষণ্ণ বদনে বসে রইল।


কিন্তু রাহু নামে এক অসুর সেই মোহিনী রমণীর ছলাকলা বুঝতে পেরে নিজেদের সারি থেকে সে ঢুকে পড়ল দেবতাদের সারিতে, পরনে দেবতার বেশ। সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে একটু জায়গা ফাঁকা পেয়ে সেখানে বসে পড়ল। মোহিনী মূর্তি তাকেও সুধা বিতরণ করল। সে সঙ্গে সঙ্গে তা পান করল। চন্দ্র আর সূর্য ওই দানবের আসল পরিচয় শ্রীহরিকে জানিয়ে দিলেন। শ্রীহরির রাহুর মস্তক সুদর্শন চক্রের সাহায্যে কর্তন করলেন। তখনও পর্যন্ত অমৃত দ্বারা পুষ্ট হ

**********