স্কন্দ পুরাণ

স্কন্দ পুরাণ

পৃথ্বীরাজ সেন

স্কন্দ পুরাণ

Books Pointer Iconপৃথ্বীরাজ সেন
Books Pointer Iconreligious

Change color

অষ্টাদশ মহাপুরাণের মধ্যে স্কন্দ পুরাণ সুবৃহৎ। সাতটি খণ্ডে। এতে আছে প্রকাশিত এই পুরাণ মহেশ্বর খণ্ড, বিষ্ণু খণ্ড, ব্রহ্মা খণ্ড, কালী খণ্ড, অবন্ত্য খণ্ড, নাগর খণ্ড ও প্রভাস খণ্ড।

অষ্টাদশ মহাপুরাণে মোট চার লক্ষ শ্লোক। তার মধ্যে একমাত্র স্কন্দপুরাণেই একাশি হাজার একশো শ্লোক। কাজেই সকল পুরাণের মধ্যে স্কন্দ পুরাণই সুবৃহৎ। তাই বহু উপাখ্যান, বহু তীর্থের মাহাত্ম্য, বহু ভক্তিতত্ত্ব, বহু উপাসনাতত্ত্ব এই মহাপুরাণের মধ্যেই পাওয়া যায়।

এই মহাপুরাণের অধিকাংশ কাহিনীর বক্তা কার্তিকেয়। তাঁর আর এক নাম স্কন্দ। সে কারণেই বোধ হয় এই পুরাণের নামকরণ হয়েছে স্কন্দ পুরাণ। সাত্বিক, রাজসিক ও তামসিক ভেদে এই মহাপুরাণ তামসিক।


.

বিশ্বাসঘাতকতার ফল



মহারাজ ধর্মগুপ্ত পরম ধার্মিক, দাতা, প্রজাপালক, দণ্ডদাতা। তার শাসনে সকল প্ৰজাই নিজের ধর্মপালন করে। সবাই খুশি।


মহারাজ ধর্মগুপ্তের খুব মৃগয়ার সখ ছিল। একদিন তিনি একটি উত্তম অশ্বে চড়ে বনে গেলেন। অপূর্ব শোভা, বহু সুন্দর সুন্দর গাছ, সুন্দর পাতা, আর বহু তপস্বীদের বাস সেখানে। রাজা প্রায় সারাদিনই বনের মধ্যে ঘুরে বেড়ালেন। কোনও শিকার মিলল না। সন্ধ্যা হয়ে এল। নিত্য দিনকার মত রাজা একস্থানে বসে সন্ধ্যায় গায়ত্রী জপ করলেন।


তারপর দেখলেন ঘন অন্ধকার। এই অবস্থায় প্রাসাদে ফিরে যাওয়া যাবে না। গভীর অরণ্যে রাত্রি যাপনের ক্ষেত্রে আবার বাঘ-সিংহের ভয়, কি করা যায় এখন? উপস্থিত বুদ্ধিতে উঠে পড়লেন একটা গাছের উপর। রাতটা কোনো রকমে গাছের শাখায় কাটিয়ে দেবেন, সকাল হলে বাড়ি ফিরবেন।


কিন্তু তিনি গাছে উঠে দেখলেন– সেই গাছে পূর্ব থেকেই একটা ভাল্লুক আশ্রয় নিয়েছে। বুঝি ওই একই কারণ হবে। খুব ভয় পেয়ে গেলেন রাজা।


ভাল্লুক রাজাকে দেখে বলল- রাজা, আপনি ভয় পাবেন না। আমরা আজ রাতটা দুজনেই এই গাছেই কাটিয়ে দেব। ওই দেখুন একটা ভীষণ আকৃতির সিংহ এই দিকেই আসছে। সারাটা রাত না ঘুমিয়ে থাকা যায় না। আপনি রাত্রির প্রথম অর্ধেকটা সময় ঘুমিয়ে নিন। আমি আপনাকে রক্ষা করব। তারপর বাকী অর্ধেক রাত্রি আমি ঘুমাব। তখন আপনি আমায় রক্ষা করবেন।



রাজা ভাল্লুকের পরামর্শ মেনে ভাল্লুকের কোলে ঘুমিয়ে পড়লেন।


সেই সিংহটি সেখানে এসে রাজাকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে ভাল্লুককে বলল– রাজা এখন ঘুমাচ্ছে। ওকে নীচে ফেলে দাও। আমি খুব ক্ষুধার্ত। ওকে পেলে আমার পেটের জ্বালা মিটবে।


সিংহের কথায় ভাল্লুক বলল– হে পশুরাজ, তোমার ধর্মজ্ঞান নেই। ত্রিলোকে বিশ্বাসঘাতকতার মত পাপ আর হয় না। অযুত যজ্ঞ করলেও মিত্রদ্রোহীর পাপ নষ্ট হবে না। ব্রহ্মহত্যাদি পাপের প্রায়শ্চিত্ত থাকলেও বিশ্বাসঘাতক পাপীর পাপ কোটি জন্মেও নষ্ট হবে না।


ভাল্লুকের কথা শুনে সিংহ ভাবল– এ ভাল্লুকের যা যুক্তি একে বিপদগামী করা কিছুতেই সম্ভব নয়। এখন অপেক্ষা করা যাক। ভাল্লুক যখন ঘুমাবে তখন রাজাকে বলব। যদি তার দয়া হয় ক্ষুধার্ত সিংহের ওপর।


মাঝরাত্রি হল। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজা জেগে উঠলেন। এবারে রাজার কোলে মাথা রেখে ভাল্লুক ঘুমালে আগের মত সিংহ রাজাকে বলল- হে রাজন, এই ভাল্লুক বড়ই হিংস্র। আপাততঃ ওর পেট ভর্তি ছিল তাই আপনি এতক্ষণ জীবিত। যখন ক্ষুধা পাবে নিশ্চই আপনাকে হত্যা করবে।



ওকে নীচে ফেলে দিন আমার পেটের জ্বালা মিটুক।


রাজা সিংহের কথা শুনে ভাবলেন- সিংহ ঠিক বলছে, তখন রাজা ঘুমন্ত ভাল্লুককে নীচে ফেলে দিলেন, কিন্তু ভাল্লুকটি গাছের ডাল ধরে কোনো রকমে আত্মরক্ষা করল। তারপর রাজার কাছে গিয়ে বলল- হে রাজন, আমি ভাল্লুক নই। আমি ভৃগুবংশজাত ধ্যানকাষ্ট। আমি ভাল্লুক রূপে আপনার কাছে এসেছি। আমি নিরপরাধ। তাছাড়া অর্ধেক রাত্রি আমি আপনাকে রক্ষা করেছি, তাহলে আপনি কেন আমাকে সিংহের মুখে ফেলে দিলেন? এখন আপনি আমার অভিশাপে উন্মত্ত হয়ে এই ধরাতলে বিচরণ করুন।


তারপর সেই ধ্যানকাষ্ঠ সিংহকে বললেন– হে যক্ষ, তুমিও সিংহ নও। পূর্বে কুবেরের সচিব ছিলে তুমি মহাযজ্ঞ। একদিন তুমি পত্নীর সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে মহর্ষি গৌতমের আশ্রমে গেলে সেই সময় মুনিবর আশ্রমে ছিলেন না, তখন তুমি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে রতিক্রিয়া করলে মুনিবর তোমাকে বিবস্ত্র দেখে অভিশাপ দিলেন– আজ থেকে তুমি সিংহ রূপ ধারণ কর।


সেই অভিশাপের সঙ্গে সঙ্গেই তোমার এই রূপ। আগে তোমার নাম ছিল ভদ্র, কুবেরের মন্ত্রী ছিলে তুমি, মাহাত্মা কুবের যেমন ধার্মিক তার অনুচরেরাও তেমন ধর্মশীল। আমি বনবাসী ঋষি, তুমি ধার্মিক হয়ে কেন আমাকে হিংসা করছ? আমি ধ্যানবলে সবই জেনেছি। ধ্যানকাষ্ঠের এমন কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সেই সিংহ যক্ষরূপ ধারণ করলেন। তারপর হাতজোড় করে ধ্যানকাষ্ঠকে বললেন–আজ আমার সব কথাই মনে পড়েছে। মহর্ষি গৌতম আমাকে শাপ দেবার পর বলেছিলেন যখন কোন ভাল্লুক তোমাকে এই সংবাদ বলবে তখন তুমি আবার স্বর্গধামে যক্ষরূপে ফিরে আসবে।



তারপর, যক্ষ ভদ্র বিমানে চড়ে স্বর্গপানে চলে গেলেন। এদিকে উন্মত্ত রাজা নিজের রাজ্যে ফিরে গেলে সকল প্রজা ও মন্ত্রীরা বড় আশ্চর্য হল। এই উন্মত্ততা দূর করার কোনো উপায় কারোর জানা নেই। তাই মন্ত্রীগণ রাজাকে নিয়ে তার বাবার কাছে গেলেন। মহারাজ নন্দ পুত্র ধর্মগুপ্তের হাতে রাজ্য দিয়ে রেবানদীর তীরে তপস্যার জন্য আশ্রমে অবস্থান করেছিলেন।


নন্দ মুনি তখন পুত্র ধর্মগুপ্তকে উন্মত্ত দেখে চিন্তিত হলেন। তারপর তিনি মহাত্মা জৈমিনির কাছে গিয়ে পুত্রের সকল বৃত্তান্ত নিবেদন করলেন। মহর্ষি জৈমিনি ধ্যানযোগে সব জেনে বললেন– ঋষি ধ্যানকাষ্ঠের অভিশাপে ধর্মগুপ্তের এমন অবস্থা। এখন এই উন্মত্ততা নিবারণের উপায় বলছি। সুবর্ণমুখরীর নামে এক মহাতীর্থ আছে। সেখানে তোমার পুত্রকে স্নান করাও, তাহলে তার উন্মত্ততা দূর হবে। মহর্ষি জৈমিনির উপদেশমত মুনি নন্দ তার পুত্র মহারাজ ধর্মগুপ্তকে মহাতীর্থে স্নান করালেন। তখন তাঁর উন্মত্ততা নষ্ট হল। নন্দমুনি সেই তীর্থে পুত্র সহ একরাত্রি বাস করলেন। তারপর তিনি পুত্রকে বহু উপদেশ দিয়ে ফিরে গেলেন নিজের আশ্রমে।


ধর্মগুপ্ত এখন শাপমুক্ত। ভক্তি সহকারে বেঙ্কটপতির উদ্দেশ্যে বহু ধন, ভূমি, গাভী প্রভৃতি দান করলেন ব্রাহ্মণকে। তারপর প্রাসাদে ফিরে গেলেন।



মহাদেবের লিঙ্গ পূজা


দক্ষযজ্ঞে সতী দেহত্যাগ করার পর মহাদেব পাগলের মত সর্বত্র ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। একসময়ে তিনি উলঙ্গ সন্ন্যাসীর বেশে দারুবনে প্রবেশ করলেন। ঋষিদের আশ্রমের পাশ দিয়ে গেলেন।


সেই সময় মুনিঋষিরা কেউ আশ্রমে ছিলেন না। ঋষি পত্নীরা শিবকে এভাবে দেখে পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, কে এই অপূর্ব দর্শন সন্ন্যাসী ভিক্ষুকরূপে এখানে এসেছেন? এঁকে ভিক্ষা দান করা উচিত। তখন তারা ভালো অশ্বাদি তার উদ্দেশে দান করলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ লজ্জা ত্যাগ করে বললেন– কে আপনি, ভিক্ষুক বেশে এখানে এসেছেন?


শিব বললেন– আমি ঈশ্বর, বর্তমানে সতীর সঙ্গে আমার বিচ্ছেদ হয়েছে, তাই আমি দিগম্বর হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সতী ছাড়া কোন রমণীতেই আমার রুচি নেই।


তারপর মহেশ্বর বহু ভিক্ষা গ্রহণ করে পাত্র পূর্ণ করে কৈলাসের পথে অগ্রসর হলে, সকল ঋষি পত্নীগণ মোহমুগ্ধ হয়ে তাঁরই পেছনে পেছনে চলতে লাগলেন; পতি পুত্র-গৃহকার্যাদির কথা ভুলেই গেলেন।


এমন সময় মুনি ঋষিগণ নিজ নিজ আশ্রমে ফিরে এসে দেখলেন আশ্রমে তাদের পত্নীগণ নেই। চারদিকে খোঁজ করে দেখতে পেলেন; তাঁরা সকলে শিবের পিছু নিয়েছেন খুব রেগে গেলেন ঋষিগণ। অভিশাপ দিলেন–তুমি দেবাদিদেব মহাদেব হয়ে আমাদের পত্নীগণকে হরণ করলেন, কাজেই তুমি ক্লীব হও।


মুনিগণ এমন শাপ দিলেন সঙ্গে সঙ্গেই শিবের লিঙ্গ মাটিতে পড়ে গেল। তারপর সেই লিঙ্গ বাড়তে লাগল। অল্প সময়ের মধ্যে সপ্তপাতাল, সমগ্র পৃথিবী এবং অন্তরীক্ষের সকল স্থানে সেটি বেড়ে চলল, তখন জগতের সব কিছুই সেই লিঙ্গে বিলীন হয়ে গেল। তখন মুনি ঋষিগণ তার নাম ‘লিঙ্গ’ রাখলেন। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্র, বায়ু, অগ্নি লোকপাল সকলে সেই বর্ধিত লিঙ্গ দেখে অবাক হলেন। বিস্মিত হয়ে ভাবতে লাগলেন–এই লিঙ্গের বিস্তার কত? এর শেষই বা কোথায়?



তারপর ব্রহ্মা সেই লিঙ্গের ঊর্ধ্বসীমা দেখার জন্য আর বিষ্ণু নিম্ন সীমা জানার জন্য চললেন। কিন্তু বহুদিন ধরে চেষ্টা করেও উভয়ে সেই লিঙ্গের শেষ দেখতে পেলেন না। তখন উভয়েই ফিরে এলেন। ফিরে আসার সময় ব্রহ্মা মেরুপৃষ্ঠে নামলেন, সেখানে সুরভীর সঙ্গে তাঁর দেখা হল। সেই সুরভী তখন কেতকী গাছের নীচে দাঁড়িয়েছিল।


ব্রহ্মা সুরভীকে জিজ্ঞাসা করলেন- হে সুরভী, শিবের লিঙ্গ ত্রিভুবন বিস্তার করছে। তুমি কি দেখেছ? সেই লিঙ্গের ঊর্ব সীমা দেখবার জন্য আমি গিয়েছিলাম। কিন্তু বহু খোঁজ করেও দেখতে পেলাম না। তাই ফিরে যাচ্ছি। দেবতারা আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, আমি কি উত্তর দেব? এখন আমি যদি মিথ্যা কথা বলি, তারা বিশ্বাস করবে না। তাই তোমাকে অনুরোধ করছি– তুমি যদি মিথ্যা সাক্ষ্য দাও, তাহলে আমার সম্মান বাড়ে।


ব্রহ্মার কথায় সুরভী রাজি হলেন, সেই সঙ্গে কেতকীও। ব্রহ্মা তখন আনন্দে দেবতাদের কাছে গিয়ে বললেন– আমি লিঙ্গের উপর তল দেখে এসেছি। অপূর্ব সেই লিঙ্গের মস্তক। সেই লিঙ্গ বিশাল, বিমল, সুদৃশ্য। কিন্তু সেই লিঙ্গ ছাড়া আর কোনো কিছু আছে বলে মনে হয় না।


ব্রহ্মার কথা শুনে দেবতাগণ স্তম্ভিত। এদিকে পাতাল থেকে ফিরে এলেন বিষ্ণু। বললেন–অনেক জায়গা ঘুরলেন অতল, বিতল, সুতল, অনাতল, মহাতল, রসাতল, এমনকি পাতালেও গেলাম, তারপরে স্থান শূন্য বলে মনে হল আমার। কিন্তু সেই লিঙ্গের মূল মধ্য কিংবা শেষ কিছুই দেখতে পেলাম না। এখন আমি বুঝতে পেরেছি মহাদেবই লিঙ্গরূপী, তিনিই এই জগৎ ধারণ করে আছেন, তারই প্রসাদে দেবতা ও ঋষিগণের সৃষ্টি!



বিষ্ণুর মুখে লিঙ্গের কথা শুনে দেবতারা সেই তথ্যকেই সত্য বলে স্বীকার করলেন। তখন বিষ্ণু হাসতে হাসতে ব্রহ্মাকে বললেন– হে ব্রহ্মা, আপনি যদি লিঙ্গের মস্তক দেখে থাকেন তাহলে এই ব্যাপারে কেউ কি সত্য সাক্ষী দিতে পারবে? বিষ্ণুর জিজ্ঞাসার উত্তরে ব্রহ্মা ব্যগ্রভাবে বললেন– এ ব্যাপারে আমার সাক্ষী আছে সুরভী আর কেতকী।


তখন দেবতাগণ সত্য উদ্ঘাটনের জন্য সুরভী ও কেতকীকে ডাক দিলেন। তারা মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে বললেন, ব্রহ্মাদেব লিঙ্গের মস্তক দেখেছেন এবং কেতকী ফুলের দ্বারা লিঙ্গের পূজাও সম্পন্ন করেছেন।


সহসা সেখানে আকাশবাণী হল- হে দেবগণ, সুরভী ও কেতকী যা বলল, সব মিথ্যা কথা। ব্রহ্মা কখনই লিঙ্গের মস্তক দেখেনি। এই লিঙ্গের আদি বা অন্ত নেই।


তখন দেবতাগণ সুরভীকে অভিশাপ দিলেন– হে সুরভী, তুমি যে মুখে মিথ্যা কথা বলেছ, সেই মুখ সর্বদা অপবিত্র থাকবে, আর হে কেতকী, তোমার ফুল সুগন্ধ, কিন্তু আজ থেকে তোমাকে দিয়ে আর কেউ শিব পূজা করবে না।


তারপর সেই আকাশবাণী ব্ৰহ্মাকে উদ্দেশ্য করে বললেন– হে ব্রহ্মদেব, তুমি কিসের জন্য মিথ্যা কথা বললে? এই অপরাধে কেউ তোমার পূজা করবে না।



দেবতাগণ সেই আকাশবাণী শুনে মনে করলেন স্বয়ং শিবই এই অভিশাপবাণী উচ্চারণ করলেন, তারপর সকলে তাঁর স্তব-স্তুতি করলেন এবং ভক্তিভরে লিঙ্গ পূজা করলেন।




শিবভক্ত শ্বেতরাজার কাহিনী


মহাত্মা শ্বেত পরম ধার্মিক, শিবভক্ত ও মহাবীর। রাজা হিসাবে তার প্রচুর খ্যাতি, তিনি শ্রেষ্ঠ প্রজাপালক। শিবের পূজা না করে জল গ্রহণ করেন না। মুখে সব সময় মহাদেবের কথা, শিবের প্রসাদে তার দেহে কোনো ব্যাধির সংস্রব নেই। তার রাজ্যের ব্রাহ্মণাদি চার বর্ণ। প্রত্যেকই নিজ নিজ ধর্ম পালন করত। কেউ কখনও পুত্রের মৃত্যুজনিত দুঃখ পায়নি। অসময়ে কারও মৃত্যু হত না, গরীবও ছিল না কেউ, শিব পূজার ফলেই তাঁদের সকল কার্য সফল হত।


শ্বেতের বয়স হয়েছে। বৃদ্ধ দশা, কিন্তু তার নিত্য শিবপূজা করা চাই। অতঃপ

**********