
কিংবদন্তির নায়ক
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
প্রথম পরিচ্ছেদ – আশ্বিনের এক বিকেল
হেই…..হৈ….হো…..ও……ও……।
আশ্বিনের রাত্রির আকাশে তখন নক্ষত্রেরা উজ্জ্বল। তখন চণ্ডালিকার অন্ধকার মাঠে ঘাসের পাতায় ধানের শীষে শিশিরের চুপিচুপি স্পর্শ। নির্জন নিঝুম শান্ত সেই মাঠের জগতে কুয়াশার গভীরে মৃত্যুর নৈঃশব্দ্য চিরে ঠিক তখনই কে প্রচণ্ড চিৎকার করে ওঠে:
হেই….হৈ….হো….ও….ও!
গ্রামের নাম চণ্ডালিকা। চণ্ডালিকার পশ্চিমমাঠ থেকে এই তীব্র তীক্ষ্ন ধ্বনিপুঞ্জ ছড়িয়ে যায় উত্তর মাঠে। তারপর পূর্বে। ফের দক্ষিণে।
সব নৈঃশব্দ্য আর মৃত্যুর শান্তি ভেঙে এইসব কণ্ঠস্বর। কারা জেগে আছে। নির্জন রাতের মাঠে—মাঠে ছড়িয়ে পড়া এই কণ্ঠস্বর যাদের, তারা ‘জাগাল’। এক মাঠ থেকে অন্য মাঠে আরও অনেক কণ্ঠস্বরে তাদের জেগে থাকার চিহ্ন। গ্রামের গৃহস্থ আশ্বস্ত হয়ে পাশ ফেরে শয্যায়। ওরা জেগে আছে। ওরা ‘জাগাল’।
বছরের পর বছর ফসলের পাহারায় এই কণ্ঠ নিয়ে জেগে থাকে, তারা ‘জাগাল’। সারারাত ডাক দেয়। তীব্র তীক্ষ্ন সেই ডাকগুলো পরস্পরকেই যেন সচকিত করে। বলে—আমরা জেগে আছি। ফসলের রাজদেউড়ীতে জেগে থাকা কোতোয়াল। মাঠ—কোটাল।
দূর চণ্ডালিকার রেলস্টেশনের সিগনালপোস্টে লাল আলো সবুজ হয়ে যায়। রাত তিনটের ডাউনট্রেন আলো ফেলে। সুঁদিপুরের গয়লারা ডহরের পথে একপাল মোষ ডাকিয়ে নিয়ে যায় চণ্ডালী ঝিলের দিকে এবং কুঁড়ে থেকে জাগালেরা হেঁকে ওঠে : হেই…হৈ…হো..।
দলে আছে উল্লাস ঘোষ। অতিকায় দানব একটা। লম্বা লাঠিটা তুলে মোষের পিঠে বাড়ি মারে। —ধোঃ, ধোঃ! তারপর কোমর থেকে ছোট্ট বাঁশের বাঁশি বের করে বাজাতে থাকে। শেষ রাতের অন্ধকারে আকাশের নক্ষত্রে দিগন্তের নীলাভ কুয়াশায় যেন পুঞ্জ পুঞ্জ সুরের রেণু জমে ওঠে। এখানে গভীর বিহ্বলতায় চোখের পাতা বুজে আসে নতুন জাগাল ছকুলাল গায়েনের। অন্য এক সুর তরঙ্গ তোলে মনে। গান গাইতে ইচ্ছে করে। ক্ষুব্ধভাবে নিজেকে এই বিহ্বলতা থেকে মুক্ত করতে চায় সে। তখন চিৎকার করে জাগালী হাঁক দেয়। মনে মনে বলে: আমি জাগাল, আমি জাগাল? আমি আর গায়েন লই।
ছকুলাল কর্কশ কণ্ঠে জাগালী হাঁকে। নিজেকেই যেন দমিয়ে রাখে; ওখানে পথ চলতে চলতে উল্লাস বলে—মাগীর হাঁক। শুনতে মিষ্টি। ও কে?
—লোকটা ছকু গায়েন হে, উল্লাস।
—ব্যাটা হাভেতে বোষ্টমটা আবার জাগাল হল কোন দুঃখে? বাঁশি থামিয়ে হা হা করে হাসে উল্লাস। মোষ ডাকায়। —ধোঃ, ধোঃ!
ধীরে অতি ধীরে এই হিমময় অন্ধকার আলোয় মুখোমুখি পৌঁছে যায়। আকাশের নক্ষত্র মুছে উজ্জ্বল আলোয় প্রবাহ পূর্বদিগন্তে জেগে ওঠে। বর্ণচ্ছটায় কেন্দ্র থেকে এক সময় পদ্মফুল সূর্য উন্মোচিত হয়েছে। চণ্ডালিকার পূর্ব মাঠ থেকে ভেসে আসছে সায়েব চাষা শরদিন্দুর ট্রাক্টরের শব্দ। ট্র…..রা….রা….রা! খালপোলের রেলিঙে বসে থাকা দাঁড়কাকটা ভয় পায় না। কেবল সোনাডাঙ্গার আকাশ থেকে একঝাঁক আগন্তুক কাক চমকে গেছে। গতিপথ বদলে উড়ে যাচ্ছে উত্তরে সুঁদিপুরের দিকে।
এখানে পশ্চিম মাঠে ছকুলাল গায়েন পীরপুকুরের পাড়ে ঘনছায়ায় দাঁড়িয়ে জল দেখছে। ধানের মাঠ দেখছে। অন্তহীন সবুজের প্রসারে বাতাসের তরঙ্গ দেখে সে সুখী হতে পারছে। তার মনে হচ্ছে, নতুন বউ ওলাঙ্গিনী হয়তো ভুল বলে না। এই ব্যাপক স্পষ্টতাতেই মানুষ সুখী হতে পারে। মাঠ—রোদ—দৃশ্যের জগৎ এখন ওলাঙ্গিনীর মুখের মতো সহজ মনে হয়। এবং এই আবিষ্কারে আপনমনে বলতে বলতে হাসে সে: আমি আর বাউলের ভেক লিবো না রে ওলাঙ্গিনী। আমি চাষাকুনাই বংশের ছেলে। আমি মাটির আশেপাশেই থাকব।
ঠান্ডা জলে মুখে ধুয়ে ছকুলাল এগিয়ে চলে কুঁড়ের দিকে। কুঁড়ের অপরিসর গর্ভে খড়ের ওপর তখনও বুড়ো জাগাল যোগীবর ভালুকের মতো মুখ গুঁজে পড়ে রয়েছে। কেবল বায়তুল্লা সেখ তার লম্বা লাঠিটা কাঁধে নিয়ে ডহরের পাশে চলে গেছে। গয়লাদের কুকীর্তির চিহ্ন খুঁজতে সে ঝিলের প্রান্ত পর্যন্ত চলে গেছে। ফিরে এসে গালাগালি করবে। পরের রাতটি সম্পূর্ণ জেগে কাটানোর প্রতিজ্ঞা করবে। তারপর ধুপ করে বসে যোগীবরকে বলবে—একটুকুন খৈনী খাওয়াও দিনি বঁধু। মুখটা পচে যেয়েছে গাল দিতে দিতে।
হাসতে হাসতে হঠাৎ থেমেছে ছকুলাল। আজ যেন মাঠের ওপর রোদ আরও উজ্জ্বল। লক্ষকোটি ধানের শিষ বাতাসের দোলায় মেতে উঠেছে। আলো ঝলমল সবুজে বিন্দু বিন্দু শিশির। তাতে রোদের রেণু নামে লক্ষকোটি প্রজাপতি ছড়িয়ে আছে মনে হয়। বিহ্বল অস্ফুট কণ্ঠে সে বলে উঠেছে : ধন্য, ধন্য মা বসুমতী! তারপর প্রণাম করেছে দুহাত তুলে।
ওখানে বায়তুল্লা অভ্যাসমতো হাসছে এই দৃশ্য দেখে। ছকুলাল কাছাকাছি গিয়ে বলে ওঠে—আহা বেহ্মাণ্ড কী পেকাণ্ড হে বায়তুল্লো!
—জাগালী জীবন সত্যি বড় দুঃখের। ওলাঙ্গিনীই বলেছিল একথা। আমি জানি। আমি মাঠে মাঠে অনেক ঘুরেছি তো। বলতে বলতে ফোঁস করে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল সে।—তবু ইটা ভালো। তুমার ভিক্ষের চেয়ে ভালো ইটটা।
মনে মনে আহত হলেও ছকুলাল চুপ করে ছিল। এই চারনম্বর বউটি একেবারে অন্যরকম। চলতে ফিরতে এ শুধু সংসারের ছবি আঁকে। সহজ স্পষ্ট একটি সংসার। তার জন্যে চোখে যেন ঘুম থাকে না। অনেকটা রাত্তির অবধি বিড়বিড় করে। ছকুলাল কিছু শোনে, কিছু শোনে না। সে তার অন্য বউগুলোর কথা ভাবে। তুফানী, আদরবালা ও সুবাসীর কথা। কত সহজে সব এল। চলে গেল। কেবল তুফানী তার ভালোবাসার একটি স্বাক্ষর রেখে গেল ছকুলালের জীবনে। একটি সন্তানের মধ্যে তুফানী নিজেকে রেখে গেল পৃথিবীতে। আদর করে তার নাম রেখেছিল : রতন। সে এখন কলকাতায়। বোন কাজলের কাছে লেখাপড়া শিখে মানুষ হচ্ছে। বোনের নিজের কোনো ছেলেপুলে নেই। তায় ছকুলাল ছন্নছাড়া বাউণ্ডুলে প্রকৃতির মানুষ। কাছে থাকলে ছেলেকেও ভিক্ষের পেশা ধরাত।
আদরবালাকে ঘরে আনার পর কাজল খুবই ভর্ৎসনা করেছিল। আদর মরে গেলে আবার এল সুবাস। সুবাসলতা। জংলী মেয়ে একেবারে। ঝিলের জলে সাপে কামড়াল তাকে। একবছর পরে ছকুলাল হঠাৎ এই ওলাঙ্গিনীকে সংগ্রহ করেছে। এবার যেন আশ্বস্ত হতে পারা যায়। সংসারের সঙ্গে এ মেয়ের নাড়ির যোগ এত গভীর ও দৃঢ় মৃত্যুর কারচুপি হয়তো এবার ব্যর্থ হবে। ওদিকে কলকাতায় কাজল কীভাবে কথাটা জানতে পেরে কড়া করে চিঠি লিখেছিল। লজ্জায় আগের মতো মধ্যে—মাঝে ছেলেকে দেখে আসবার লোভ সম্বরণ করেছে ছকুবালা। এখন ভাবে, নতুনবউ সংসারটা গুছিয়ে তুললেই কাজলকে ডাকবে। সে লিখবে : ভগ্নী, এবার আমি ঘোর সংসারী মানুষ। আর ভয় করোনা। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসো। বাপের ছোঁওয়া লেগে তার আর দোষ ঘটবার ভয় নাই।
প্রতি বছর মাঠগুলোর বন্দোবস্ত হয়। তিন—চারজন মিলে একেকটি মাঠ নেয়। কিছু টাকা দিতে হয় মণ্ডলদের হাতে। ছকুলাল জাগালী জীবনের দুঃখকষ্টের কথা কিছু কিছু জানত। সে ভেবেছিল টাকার অছিলায় পাশ কাটিয়ে যাবে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখল, ওলাঙ্গিনী টাকা সংগ্রহ করেছে কীভাবে।
তারপর শুরু হল জাগালী।
এ যেন এক প্রবাসী জীবন। সারাটি দিন ও রাত আকাশের নীচে ফসলের মাঠে ক্লান্তিহীন চলাফেরা। ঘরে যাওয়ার এতটুকু অবসর নেই। শেষ গ্রীষ্মের প্রখর রোদ শরীরকে ঝলসে দিয়েছে। বর্ষার মত্ত বর্ষণধারা সব লালিত্য ধুয়েছে। এখন শরতের মুক্ত আকাশে ক্লান্তি ও ক্ষয়ের পালা শেষ হয়ে আসার সংকেত। এখন কিছু আশা মনে। এই মাঠ হয়ে উঠবে সোনালি। পুঞ্জ পুঞ্জ সোনার সমারোহ জমে উঠবে এই প্রবাসী জগতে। তখন ঘরে ফেরার পালা। যোগীবর বলে,—শোননি সেই গল্পকথা, রাজা গেলেন বিদেশে, সওদাগর বাণিজ্যেতে….তা’পরে ফিরে এলেন সঙ্গে নানান সওদা লয়ে।…
এও ঠিক তাই। প্রবাস অনেক কষ্ট। অনেক ক্লেশ সইতে হয় মুখ বুজে। কিন্তু বায়তুল্লা একটু ভিন্নরূপ ভাবে। সে বলে—আমরা হলাম মাঠের বাদশা। এবং এই ভাবটি সবসময় সে সঙ্গে নিয়ে ফেরে। মাথায় পরিপাটি পাগড়ি বাঁধে ছেঁড়া কাপড় জড়িয়ে। হাতে নেয় মস্ত একটা লাঠি। তারপর দাড়িতে হাত বুলিয়ে অত্যন্ত অকারণ বিকট হাঁক মেরে বসে।
যোগীবর বুঝতে পারে এর গূঢ় কারণটা। সে বলে জাগালীর একটা নেশা আছে, বঁধু। ফাঁকা মাঠে ঘুরে ফিরে এই নেশাটা জেঁকে ওঠে। রক্তের মধ্যতে মিশে যায়। আমারও যেয়েছে, তুমারও। তাই না? বায়তুল্লা হাসলে ওপরের গোঁফবিহীন ঠোঁট সার কালো মাড়ি চকচক করে। সে হঠাৎ হাসে, হঠাৎ ক্রুদ্ধ হয়। কিন্তু হাসলে তাকে মনে হয়, নগ্ন শরীরের ওপর চামড়ার শিথিলতা ও হাড়ের রেখাগুলো দেখে মায়া হয়। আফশোশ করে বলে,—বাপজান বেঁচে থাকলে আমি রোজ তিন সের দুধ খেতে পেতাম।
দুধের কথায় ছকুলাল মুখ খোলে।—আম্মো খেতাম স্যাকভাই, বুঝলে। বেঁচে থাকলে…
বায়তুল্লা ভুরু কুঁচকে তাকায় চোখে—চোখে। ওর এই ভঙ্গিটা বড় কটু। কিছু বিদ্রুপ কিছু অবিশ্বাস দিয়ে এটা তৈরি। ছকুলাল ক্রুদ্ধভাবে থেমে গেলে যোগীবর একটু কাশে। গলা ঝেড়ে নেয়। বলে—বাছা আমার রাখোরাজার কথা বলছে হে। চল্লিশটে গাইগোরু ছিল তিনির। এই ছকুর বাবা নাথুলাল সেগুলা দুইত। বড় বড় দুধের জাবনা ছিল উঠোনে পাতা।
ছকুলালের নীচের ঠোঁট তখন ঝুলে পড়েছে। বড় বড় কাঁধছোঁওয়া লালচে চুলগুলো আবার খসে গেছে ঝুঁটি থেকে। ফাঁক পেলেই সে, ইতিহেস, সে—একটা ‘ইতিহেস’ এই কথাগুলো যোগীবরের গল্পে যোগ করে দিতে ব্যস্ত। তার হৃদস্পন্দন তখন দ্রুততর। তার শ্বাসপ্রশ্বাস ঘন হয়ে উঠেছে।
রাখো রাজা! অর্থাৎ রাখোহরি রাজা। অর্থাৎ রাজা দুর্গাপ্রসাদ। সে—যুগের ডাকসাইটে জমিদার এই চণ্ডালিকা পরগনার। সরকার খুশি হয়ে তাঁকে রাজা খেতাব দিয়েছিলেন। ঘোড়ায় চেপে দিনমান ঘুরে বেড়াতেন মহাল থেকে মহালে। অমন সোনার রং রোদে বাতাসে পুড়ে তামাটে হয়ে গিয়েছিল। নগ্ন শীর্ণ শরীরের ঊর্ধ্বভাগে জড়ানো একখানি সাদা ওড়না। ধুতির কোঁচা নাভির কাছে গোঁজা। পায়ে হরিণের চামড়ার চটি। হাতে চাবুক। খাড়া নাকের নীচে সূক্ষ্ম গোঁফের রেখা তাঁকে যেন দেবতাসুলভ আকৃতির মহিমা দিত। রাঙা চোখে ক্রোধের চেয়ে বরাভয় ছিল বেশি। তাই প্রজারা আদর করে নাম দিয়েছিল রাখোরাজা। হরি শব্দটা পরে কে যোগ করে দেয়।
মায় একটা শোলার টুপিও পরতেন দুর্গাপ্রসাদ।
এবং এই বিচিত্রবেশে যখন মাঠ অতিক্রম করতেন, রাখালেরা চিৎকার করে উঠত, রাখে হরি মারে কে!
বুড়ো জমিদার চাবুক কষে ঘোড়াকে তাদের পেছনে ধাবিত করতেন। রাখালেরা ছুটে পালাত চণ্ডালী ঝিলের দিকে। দারুণ আতঙ্কে ঝিলের জলে ঝাঁপিয়ে পড়ত।
ঘোড়া থেকে নামতেন দুর্গাপ্রসাদ। জিনে আটকানো ব্যাগ থেকে মুঠো মুঠো সন্দেশ বের করে ছুঁড়ে দিতেন তাদের মুখ লক্ষ্য করে। সকৌতুক হাসতেন। বলতেন—মারে হরি, রাখে কে।
ওরা বিড়বিড় করে বলত—রাখে হরি, মারে কে।
জিনের সংলগ্ন ব্যাগটা একটা আস্ত হাসপাতাল ছিল। অ্যালোপাথি, হোমিয়োপ্যাথি আর কবরেজি ওষুধে ভরতি সেটা।
আরও অনেক নেশা ছিল দুর্গাপ্রসাদের। কিছু ভালো, কিছু মন্দ। আজ সবই মনে হয় প্রাচীন লোককথার মতো। সব ভালো—মন্দের অতীতে বেঁচে আছে মানুষের স্মৃতিতে।
বায়ুতুল্লা শুনতে শুনতে মন্তব্য করে—পরগনায় কেচ্ছা কি কম? বঁধু বলো না সেই মন্দিরের গপ্পটা।
—দেবী চণ্ডালিকা? যোগীবর তৎক্ষণাৎ চোখ বুজে একটি প্রণাম করে। চণ্ডালিকা গ্রামের এক প্রান্তে মন্দির এখনও রয়েছে। একটি প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ। তাকে ঘিরে সহস্রবাহু জন্তুর মতো তেমনি প্রাচীন ছায়াঘন বটগাছ। কোন যুগের রাজধানী ছিল এই গ্রাম। লোকে বলে—বামুনরাজার চণ্ডাল রানি। পাপ ঢুকল রাজ্যে। সেই বেদিমূলে একদিন নিজের রক্ত দান করে চণ্ডালী রানি মুক্তির জগতে চলে গেল। পড়ে রইল স্মৃতি। সে—স্মৃতিকে আর কেউ কলঙ্ক বলে অপমানিত করে না।
যোগীবর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে—আহা, মেয়েটি বড় কাঁদত গো! বড় যন্তনা ছিল জেবনে তার…।
ছকুলালের হঠাৎ তখন মায়ের কথা মনে পড়ে গেছে। তার মা আমোদিনীও এমনি করে কাঁদত। দাওয়ার মাথা ভাঙত। ছটফট করত দারুণ কী যন্ত্রণায়। কাকে কুৎসিত ধিক্কার দিত। চুল ছিঁড়ে পাগলিনীর মতো চিৎকার