হয়তো – প্রেমেন্দ্র মিত্র

হয়তো – প্রেমেন্দ্র মিত্র

রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়

হয়তো – প্রেমেন্দ্র মিত্র

Books Pointer Iconরঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়
Books Pointer Iconthriller

Posted byমৌ বর্মণ05-Aug-2025

Change color

গভীর দুর্যোগের রাত্রি⋯

ভীত শহর যেন এই অন্ধকার ঝড়ের রাত্রে নিরাপদ আশ্রয়ে নিজেকে সঙ্কুচিত করিয়া গোপন রাখিতে চায়।

নির্জন পথের যেখানে যেখানে গ্যাসের আলো পড়িয়াছে, সেখানে মাটি আর চোখে পড়ে না—শুধু বৃষ্টিধারাহত জল চিক্‌চিক্‌ করিতেছে দেখা যায়। পথের ধারের গাছগুলি ঝড়ের তাড়নায় অসহায় বন্দীর মত মাটির শৃঙ্খল ছিঁড়িবার জন্য যেন উন্মত্ত হইয়া উঠিয়াছে।


এমনি রাত্রিতে আকাশের উৎপীড়নে বিপর্যস্ত পৃথিবীকে হঠাৎ বড় অসহায় বলিয়া মনে হয়। অকস্মাৎ যেন এই ক্ষুদ্র গ্রহটির দুর্বল কয়েকটি প্রাণীর ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে গভীর হতাশায় মন আচ্ছন্ন হইয়া যায়।


পথের ধারে গ্যাসের আলোগুলি কেমন নিষ্প্রভ হইয়া গেছে—সমস্ত মানব-জাতির আশার সঙ্গে, কেন জানি না, তাহার একটি উপমা বারবার মনে আসিতে চায়।


বাস হইতে নামিয়া নির্জন কর্দমাক্ত পথ দিয়া, বৃষ্টির ঝাপটা হইতে দেহকে বাঁচাইবার নিষ্ফল চেষ্টা করিতে করিতে এমনি সব চিন্তা লইয়া বাড়ি ফিরিতেছিলাম। কিন্তু মানব-জাতির ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে অস্পষ্ট হতছ্ছাড়া আরেকটি ভয় মনের গোপনে ছিল—সে-আশঙ্কা ব্যক্তিগত ও তাহার হেতু অত্যন্ত স্পষ্ট।


পথ অনেকখানি ; মাঝে একটা নূতন অর্ধসমাপ্ত সেতু পার হইতে হইবে। সেতুটি এখনও চলাচলের উপযুক্ত হইয়া ওঠে নাই। চলিবার রাস্তা সঙ্কীর্ণ। ধারের রেলিং দেওয়া হয় নাই। সাধারণ অবস্থাতেই এক-একটি কাঠের তক্তার উপর সন্তর্পণে পা রাখিয়া চলিতে হয়—এই দুর্যোগের রাত্রে সে-সেতু পার হইতে বিশেষ বিপদের সম্ভাবনা। মনে মনে সেই বিপদের সম্মুখীন হইবার জন্যই সাহস সঞ্চয়ের চেষ্টা করিতেছিলাম।


পোলের নিকট আসিয়া কিন্তু অনেকটা আশ্বস্ত হইলাম। সারাদিনের ভিতর পোলটির নির্মাণকার্য বেশ অগ্রসর হইয়া গিয়াছে। ধারে রেলিং দেওয়া হয় নাই কিন্তু কাঠের তক্তার ফাঁক দিয়া গলিয়া পড়িবার ভয় আর নাই—কাঠগুলি মজবুত করিয়া ইতিমধ্যে জোড়া হইয়াছে।


চেন দিয়া ঝোলানো পোলটি ঝড়ের বেগে দুলিতেছিল। ভয় যে একটু না হইতেছিল এমন নয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত মরিয়া হইয়া তাহার উপর পা বাড়াইয়া দিলাম। পোল পার না হইলে এই ঝড়বৃষ্টি মাথায় করিয়া আরও এক মাইল পথ ঘুরিয়া যাইতে হয়।


পা দিয়াই বুঝিলাম ঝড়ের সহিত যুঝিয়া এই দোদুল্যমান পোল পার হওয়া সহজ কথা নয়। শুধু সাহস নয়, শক্তিরও প্রয়োজন। ঝড়ের বেগ খোলা নদীর উপর এমন প্রচণ্ড হইয়া উঠিয়াছে যে প্রতি মুহূর্তেই একেবারে নিচে গিয়া পড়িবার সম্ভাবনা।


লোকজন কেহ কোথাও নাই। এই জনহীন সেতুর উপর অহঙ্কার বিসর্জন দিয়া হামাগুড়ি দিয়া গেলেই বা ক্ষতি কি—চিন্তা করিতে করিতে কিছুদূর অগ্রসর হইয়াছি এমন সময়—


থমকিয়া দাঁড়াইয়া পড়িলাম। পোলের এপার হইতে একটি টিমটিমে কেরোসিনের বাতি প্রাণপণ চেষ্টা করিয়া ওপারের অন্ধকারকে একটু তরল করিতে পারিয়াছে মাত্র।


সেই তরল অন্ধকারে দুইটি অস্পষ্ট মূর্তি চোখে পড়িল। তাহারা ওধার হইতে পোল পার হইবার জন্য চেষ্টা করিতেছে। তাহাদের একটি মূর্তি নারীর।


এই অন্ধকার দুর্যোগের রাত্রে দুইটি নরনারী কি এমন প্রয়োজনে এই বিপদসঙ্কুল সেতুপথ পার হইতে আসিয়াছে, এ-কথা ভাবিয়া সেদিন থমকিয়া দাঁড়াই নাই।


এ দুর্যোগের রাতে এরূপ ব্যাপার যতই কৌতূহলজনক হোক না কেন, বিস্ময়কর নয়।


কিন্তু ওপারের তরল অন্ধকারে দুইটি নাতিস্পষ্ট নরনারী-মূর্তির যে-আচরণ চোখে পড়িল তাহা সত্যই অসাধারণ।


মেয়েটি আসিতে চায় না। শুধু পোল পার হইবার ভয়ে, না আর কোন গভীর আশঙ্কায় জানি না, সমস্ত শক্তি দিয়া প্রাণপণে পুরুষটির আকর্ষণ সে যেন প্রতিরোধ করিতে চাহিতেছিল। ঝড়ের শব্দের ভিতর দিয়া তাহাদের যে কয়েকটি কথা শুনিতে পাইতেছিলাম তাহাতে পুরুষটি তাহাকে আশ্বাস দিতে চাহিতেছে বলিয়াই মনে হইল।


ঝড়ের সহিত যুঝিয়া তখন সেতুর মাঝামাঝি আসিয়া পৌঁছিয়াছি। দেখিলাম, শেষ পর্যন্ত মেয়েটি অত্যন্ত যেন অনিচ্ছার সহিত রাজী হইয়াছে। পুরুষটি তাহার হাত ধরিয়া ওদিক হইতে পোলের উপর অগ্রসর হইতে লাগিল।


আরও খানিকটা অগ্রসর হইয়া তাহাদের মুখোমুখি হইলাম। পুরুষ ও মেয়েটি উভয়েই সর্বাঙ্গে তিনপুরু কাপড় মুড়ি দিয়া আছে। কিন্তু সেই কাপড়ের জঙ্গলের ভিতরেই কেরোসিন তেলের বাতির অস্পষ্ট আলোকে মেয়েটির মুখটি চকিতে দেখিয়া আর একবার চমকিয়া উঠিলাম।


শীর্ণ রুগণ্‌ মুখে, দুইটি দীর্ঘায়ত চোখ—সে-চোখে অসহায় আতঙ্কের যে-ছবি প্রত্যক্ষ করিলাম তাহা মানুষের চোখে সম্ভব বলিয়া ভাবি নাই। কৌতূহল বাড়িয়াই যাইতেছিল। কিন্তু উপায় কি !


পোল প্রায় পার হইয়া আসিয়াছি। এমন সময় পিছনে অমানুষিক চিৎকার শুনিয়া চমকিয়া ফিরিয়া দাঁড়াইলাম।


সর্বনাশ!


আমার চোখের উপর অসহায় চিৎকার করিয়া মেয়েটি পোলের ধার হইতে টাল সামলাইতে না পারিয়া নিচে পড়িয়া গেল। যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি সেখানে ছুটিয়া গেলাম। পুরুষটি বোধ হয় আতঙ্কে হতবুদ্ধি হইয়া গিয়াছিল। যেভাবে সে কাঠের মত আড়ষ্ট হইয়া দাঁড়াইয়া আছে, তাহাতে তাহার নিকট কোন সাহায্য পাইবার আশা নাই বুঝিলাম।


কিন্তু অন্ধকারে এই ঝড়ের ভিতর গভীর নদী হইতে মেয়েটিকে উদ্ধার করিবার জন্য আমিই বা কি করিতে পারি।


এতক্ষণে স্রোতের টানে সে কোথায় তলাইয়া গিয়াছে, কে জানে! সাঁতার জানিলেও এই রাত্রে তাহাকে নদী হইতে উদ্ধার করা একরকম অসম্ভব!—সাঁতারও জানি না।


হঠাৎ বহু নিম্ন হইতে অস্পষ্ট কাতর আহ্বান শুনিয়া চমকিয়া উঠিলাম। পর মুহূর্তেই তাহার শাড়ির প্রান্তটুকু চোখে পড়িল।


পড়িবার সময় তাহার শাড়ির একটি অংশ কেমন করিয়া লোহার একটি বলটুতে আটকাইয়া গিয়াছে—মেয়েটি জলে পড়ে নাই। কাপড়ের সহিত জড়াইয়া নিম্নমুখ হইয়া অন্ধকার নদীর উপর ঝুলিতেছে।


ঠেলা দিয়া অপরিচিত লোকটির আচ্ছন্ন ভাব দূর করিবার চেষ্টা করিয়া বলিলাম, ‘শিগ্‌গির এসে ধরুন, এখনও হয়তো টেনে তুলতে পারি।’ লোকটি যন্ত্রচালিতের মত আসিয়া আমার আদেশ পালন করিল।


মেয়েটি সেদিন নিশ্চিত মৃত্যু হইতে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাইয়াছিল। কৃতজ্ঞতা বিনিময়ের তখন সময় ছিল না, পরিচয় জিজ্ঞাসারও নয়—নইলে অনেক কথাই হয়তো শুনিতে পারিতাম।


সাবধানে তাহাদের পার করিয়া দিয়া আবার সেই পোলের উপর দিয়া সভয়ে পার হইবার সময় যে কয়টি কথা শুনিতে পাইয়াছিলাম তাহাই আমার মনে চিরন্তন সন্দেহ ও বিস্ময় জাগাইয়া রাখিয়াছে।


মেয়েটি পুরুষের সহিত চলিয়া যাইতে যাইতে বলিতেছিল, ‘কি আশ্চর্য দেখ, পড়ে যাবার সময় আমার যেন মনে হল তুমি আমায় ঠেলে দিলে। পা ফসকে তো পড়িনি, আমার যেন ঠিক মনে হল তুমি ঠেলে দিলে⋯’


তাহাদের কথা ক্রমশ অস্পষ্ট হইয়া আসিতেছিল। লোকটির হাসি শুনিতে পাইলাম। সে যেন বলিতেছিল…


‘পাগল! কি যে বল ; আমি ঠেলে দেব তোমায়…’


সে-ঘটনাটি ভুলিতে পারি নাই। সময়ে অসময়ে সেই বিপদসঙ্কুল সেতুর উপর অস্পষ্টভাবে দেখা মূর্তি দুইটি সম্বন্ধে নানা সন্দেহ, নানা প্রশ্ন মনে জাগে। তাহারা সেই ঝড়ের রাত্রে কেন কোথা হইতে সে-পোল পার হইতে আসিয়াছিল, মেয়েটি কেমন করিয়া পড়িয়া গিয়াছিল, রক্ষা পাইয়া অমন কথাই বা সে বলিল কেন এবং তাহার পর তাহারা কোথায় যে গেল তাহার কিছুই জানি না। তবু তাহাদের সম্বন্ধে অস্পষ্টভাবে নানা কথা মন রচনা করে।


সেই অসাধারণ ঘটনা ও সেই অস্পষ্ট দেখা দুইটি মূর্তিকে কেন্দ্র করিয়া একটি কাহিনী মনের ভিতর আপনা হইতেই গড়িয়া ওঠে।


প্রকাণ্ড সাতমহলা দালান।


কিন্তু এখন আর তাহার কিছুই অবশিষ্ট নাই। চারিধারে শুধু ভাঙা নোনা-ধরা ইট-কাঠের স্তূপ। বাহির হইতে দেখিলে ভুতুড়ে পোড়ো বাড়ি বলিয়া মনে হয়। এই জরাজীর্ণ বাড়িটির কোন গোপন কক্ষে এখনো তাহার মুমূর্ষ প্রাণ ধুকধুক করিতেছে এ-কথা সহজে বিশ্বাস করিতে প্রবৃত্তি হয় না। দিনের বেলায় সে-প্রাণের কোন লক্ষণই দেখা যায় না। দেউড়ির সিংদরজা ভেদ করিয়া যে অশ্বথ্থগাছটি শাখায় প্রশাখায় বিপুল হইয়া বাড়িয়া উঠিয়াছে তাহার পত্রচ্ছায়ায় বসিয়া ঘুঘু ডাকে। কাঠবেড়ালির দল নির্ভয়ে ভূতপূর্ব বারবাড়ির ধ্বংসাবশেষের উপর দিয়া পরম্পরকে তাড়া করিয়া ফেরে।


এই ধ্বংসাবশেষের অন্তরালে কোথায় মানুষের জীবনের ধারা বহিয়া চলিয়াছে তাহার সন্ধান পাওয়া সহজ নয়।


রাত্রে কিন্তু বহু দূর হইতে দেখা যায় ধ্বংস্তূপের মাঝখানে কোথা হইতে ক্ষীণ আলোকের রেখা আসিতেছে। এ-বাড়ির ইতিহাস যাহাদের জানা নাই, বিদেশী সেসব পথিক ভয়ও যে পায় না এমন নয়।


গাঁটছড়া বাঁধা হইয়া এই ধ্বংসাবশেষের পাশে একদিন লাবণ্য পালকি হইতে নামিয়াছিল। বাপের বাড়ি হইতে যে-ঝি সঙ্গে আসিয়াছিল সে তো মাটিতে পা দিয়াই ঝঙ্কার দিয়া বলিয়াছিল, ‘কেমনতর বেআক্কিলে বেহারা গা! এই বাড়িটার সামনে নামালে-বরকনের অকল্যাণ হবে না!’


যে-পুরোহিত বরপক্ষের হইয়া বিবাহ দিতে গিয়াছিলেন পথে তাঁহার সহিত পরিচারিকার কয়েকবার বাক্‌যুদ্ধ হইয়া গিয়াছে। তাঁহার দিক দিয়া বিশেষ সুবিধা করিতে না পারিলেও, সম্বোধনের দূরত্বটা ঘুচিয়া গিয়াছিল।


তিনি দাঁত খিঁচাইয়া জবাব দিলেন, ‘মর মাগী, ভুতুড়ে বাড়ি হতে যাবে কেন? নিয়োগীদের সাতপুরুষের কোটা—এ-তল্লাটে জানে না এমন লোক নাই। ওর কাছে হল ভুতুড়ে বাড়ি !’


ঝি কপালে চোখ তুলিয়া সবিস্ময়ে বলিয়াছিল, ‘ওমা, এরা বলে কি গো! এই পোড়াবাড়িতে মানুষ থাকে!’ তাহার পর কন্যার পিতার উদ্দেশেই বোধ হয় কঠোর মন্তব্য করিয়া বলিয়াছিল, ‘মিন্‌সে পয়সা খরচের ভয়ে করলে কি গো! মেয়েটাকে সাপে কামড়ে মেরে ফেলতে এই জঙ্গলে পাঠালে!’


অবগুণ্ঠিত লাবণ্য তখন স্বামীর সহিত গাঁটছড়া-বাঁধা হইয়া পালকি হইতে নামিয়াছে।


পুরোহিত ঝিয়ের সহিত বাক্যব্যয় নিস্ফল মনে করিয়াই বোধ হয় পথ দেখাইয়া আগে চলিতে শুরু করিয়াছেন।


পথ দেখানোটা কথার কথা নয়, একান্ত প্রয়োজন। ভাঙা ইট-কাঠের স্তুপের উপর দিয়া, হাঁটুভর জঙ্গলের ভিতর দিয়া সুড়ঙ্গের মত অন্ধকারে বহুদিনের সঞ্চিত শেওলার ভ্যাপসা গন্ধভারাক্রান্ত পথ দিয়া পদে-পদে হোঁচট খাইতে খাইতে লাবণ্য তাহার স্বামীর পিছু পিছু চলিতেছিল। পিছনে ঝি বাধ্য হইয়া তাহাদের অনুসরণ করিতে করিতে আপন মনেই গজগজ করিতেছিল, ‘সাত জন্মে এমন বিয়ের কথা কোথাও শুনিনি মা। বিয়ে করতে এল, তার বর-যাত্তর নাই, বরকর্তা নাই। ট্যাং ট্যাং করে এক মড়িপোড়া পুরুত এল বরকে নিয়ে ; আর খোঁজ নিলে না, শুধুলে না, মেয়েটাকে হাত-পা বেঁধে ধরে দিলে গা! আর এরা কোথাকার আকখুটে গো! জ্ঞাতগোত্তর নেই, পাড়াপড়শী নেই, বিয়ে করে এল তা বরকনেকে বরণ করতে এল না কেউ! শ্যাল-কুকুরের বিয়েতেও যে এর চেয়ে নেমকানুন আছে…’


লাবণ্য এত কথা শুনিতে বোধ হয় পায় নাই। আচ্ছন্নের মত ভীত অসহায়ভাবে চলিতে চলিতে শুধু তাহার মনে হইতেছিল, কেহ যদি শুধু হাতটা বাড়াইয়া একবারটি তাহাকে ধরে তাহা হইলে সে বাঁচিয়া যায়।


কিন্তু কেহ হাত বাড়াইল না।


গজগজ করিতে করিতে একসময়ে ঝি ঝঙ্কার দিয়া উঠিল, ‘বলি, ও মুখপোড়া বামুন, কোন চুলোয় নিয়ে চলেছ শুনি?’


ব্রাহ্মণ এইবার উত্তর দিলেন, ‘তোকে গোর দিতে রে মাগী!’


উত্তরে ঝি যাহা বলিতে শুরু করিল, তাহাতে আর যাহাই হোক লাবণ্যের প্রথম স্বামীগৃহে পদার্পণের পুণ্যক্ষণ মধুর হইয়া উঠিল না।


ঝিয়ের আস্ফালন কতক্ষণ চলিত বলা যায় না। সহসা অন্ধকার পথ কাহার সুমধুর কলহাস্যে মুখরিত হইয়া উঠিল।


ঝি চমকিয়া চুপ করিল। লাবণ্য ঘোমটা ঈষৎ ফাঁক করিয়া এই সুমধুর হাস্যের উৎস ঠাওর করিয়া দেখিবার চেষ্টা করিল।


যে হাসিয়াছিল তাহারই অপরূপ কণ্ঠ শোনা গেল, ‘দাদা যে চুপিচুপি বউ এনে ফেলেছে গো!’


অন্ধকার পথ তখন শেষ হইয়াছে।

**********