
জুলেখা
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
সে আমার হাফপেণ্টুল পরা সময়ের কথা, যখন প্রবীণদের মনে হত একেকটি দুর্দান্ত দৈত্য এবং দিনের নির্দোষ বৃক্ষলতা সূর্যাস্তের পর নির্দয় রহস্যে ভরে যেত। চারপাশে ঘটত অনেক সন্দেহজনক ঘটনা। ভয় করতাম অনেক কিছুকেই। আর সেই ভয় থেকে আমাদের রক্ষা করত যে, তার নাম ছিল কালু। কালু ছিল একটা কালো রঙের দিশি কুকুর। তার ছোট্ট শরীরটা ছিল যেন একটা সাইরেনযন্ত্র। সে আমাদের বাড়ি আসার পর থেকে দরমার মুর্গিচুরি বন্ধ হয়েছিল। তাই প্রথমদিকে তাকে ছিঘেন্না করা হলেও পরে সে আদরযত্ন পেতে শুরু করেছিল।
বাড়ির আয়তনের তুলনায় আমাদের সংসারটা ছিল ছোটই। বাবা, মা, আমি আর, জুলেখা নামে একটি মেয়ে, এই চারজন মোটে মানুষ। একটা গাইগরু, তার বাছুর আর একদঙ্গল মুর্গি, যাদের মাথায় ছড়ি ঘোরানোর জন্য ছিল এক তাগড়াই মোরগ, জুলেখা যার নাম দিয়েছিল বাদশা।
জুলেখার ডাকনাম ছিল জুলি। আমার সেই হাফপেণ্টুলের বয়সে জুলি শাড়ি ধরেছিল। আমার জন্মের পাঁচ বছর আগে জুলির বয়স ছিল মোটে দুই। প্রতি শীতে উত্তরের পদ্মা-এলাকা থেকে যে গরিব মানুষেরা দল বেঁধে রাঢ় এলাকায় ভাত খাওয়ার লোভে ছুটে আসত, তারা নিজেদের বলত ‘মুসাফির’ এবং অন্নের জন্য সেই অভিযানকে তারা বলত ‘সফর’। সেবার মাঘ মাসের এক বৃষ্টির রাতে দলছাড়া হয়ে এক মুসাফির মা ও তার দু বছরের মেয়ে আমাদের দলিজঘরের বারান্দায় আশ্রয় নেয়। ভেদবমি হয়ে মা শেষরাতে মারা গেল, আমার দয়ালু দাদু তার সদ্গতি করেন। বাচ্চা মেয়েটি আমাদের বাড়িতেই থেকে যায়। অতটুকু মেয়ের চুলের বহর লক্ষ করে দাদু তার নাম রাখেন ‘জুলেখা’—কেশবতী।
কী অবিশ্বাস্য বিশাল ছিল তার চুল! সেই চুলের বিশালতা আমাকে ভীষণ টানত। জুলির চুল ধরে আমি ঝোলাঝুলি করতাম। চুলের ভেতর লুকিয়ে পড়ে মাকে দিতাম কুকি। খিড়কির ছোট্ট পুকুরে সেই চুল ধরেই আমি সাঁতার কাটা শিখেছিলাম। আসলে জুলি হয়ে উঠেছিল আমার ক্রীড়াভূমি। সে শুয়ে থাকলে তার ওপর দিয়ে লংজাম্প হাইজাম্প খেলতাম। গাছে ওঠার জন্য সে ছিল আমার নির্ভরযোগ্য সিঁড়ি। নিজের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে তার চেয়ে ভাল বুড়ি কল্পনা করা যায় না। আর এমনি করে দিনে দিনে তার শরীরের অনেকটা আমার চেনা হয়ে গিয়েছিল। আসলে জুলি ছিল আমার বহুবার পড়া ভূতের গল্পের বই, যার গল্পটা পুরনো হয়ে গেলেও ভূতটা রহস্য দিয়ে বারবার কাছে টানে।
জুলি অনেক গল্প জানত। তার কাছেই রাতে আমাকে শুতে দেওয়া হত। জুলি চাপা গলায় গল্প শোনাত। তবে শর্ত ছিল আমাকে ক্রমাগত হুঁ দিয়ে যেতে হবে। হুঁ বন্ধ হলেই সে ডাকত, ‘অঞ্জু! ঘুমোলে?’ তারপর খোঁচাখুঁচি করে জাগানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে বলত, ‘না শুনলে আমার কী?’ গল্পটা ভাল না লাগলে আমার এই ছিল চালাকি। কিন্তু কোনো-কোনো রাতে টের পেতাম তার গল্প বলার মুডই নেই। খাপছাড়া করে একটুখানি শুনিয়েই আমাকে কাছে টেনে পিঠে হাত রেখে শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে বলত, ‘ঘুমোও। ভোরে ইস্কুলে যেতে পারবে না। তখন ভাবীজী মুখ করবেন।’
সে মাকে বলত ভাবীজী, বাবাকে বলত ভাইজান। একরাতে সে আমাকে খুব কাছে টেনে নিলে তার বুকের অদ্ভুত কোমলতা আমাকে চমকে দিয়েছিল। আমি সেই কোমলতা হাত বাড়িয়ে খোঁজার চেষ্টা করতেই সে পিঠে থাপ্পড় মেরে ফিসফিসিয়ে উঠেছেল: ‘ছিঃ! আমি তোমার ফুফু (পিসি) হই না?’
আমি তো ভীষণ—ভীষণ অবাক। নাস্তিক বাবার ঔদাসীন্যে আমার খৎনা দিতে দেরি হয়েছিল। খৎনা দেওয়ার পর বালিশে হেলান দিয়ে আমাকে বসিয়ে রাখা হলে জুলি আমার মুখে সেদ্ধ ডিম গুঁজে দিচ্ছিল আর সান্ত্বনা দিচ্ছিল, ‘কেঁদো না! কালই ঘা শুকিয়ে যাবে।’ সে আমাকে দু’হাতে তুলে নিয়ে খিড়কির ঘাটে জলে নামিয়ে হাতের তালুতে জল ঠেলে-ঠেলে ক্ষতস্থানে ঢেউয়ের ঝাপটানি দিত। দ্রুত ঘা সেরে যাওয়ার জন্য এটাই ছিল প্রচলিত পদ্ধতি। মাঝে মাঝে আঁচল টেনে কামড়ে ধরে সে লজ্জারও ভান করত। সে ঘাটের কাঠে বসে থাকত এবং কিছুই দেখছে না এমন ভঙ্গিতে হাসি চাপত। কখনও সে সাবধানে ঘায়ের অবস্থা পরখ করে বলত, ‘আর দুটো দিন।’
ঘা শুকিয়ে সব স্বাভাবকি হয়ে গেলেও সে বলত, ‘লাগছে না তো?’ ব্যথা করছে না শুনে সে ফোঁস করে যে নিঃশ্বাসটি ফেলেছিল, এতকাল পরেও তা কানে লেগে আছে। তার কাছে আমার লজ্জার কিছু ছিল না।
এই জুলি বাড়ির যে-সব কাজ করত, তা বাঁদিরাই করে থাকে। কিন্তু তাকে বাড়ির মেয়ের মতোই দেখা হত। তার বিয়ের বয়স বাড়ছিল দেখে বাবা ভেতর-ভেতর পাত্র খুঁজতেন। কোনো পাত্রই পছন্দ হত না মায়ের। মা ছিলেন খুব খুঁতখুঁতে মেয়ে। বলতেন, ‘যে ঘরেই ওর জন্ম হোক, খানদানী বাড়িতে মানুষ হয়েছে। মুনিশখাটা ঘরে গিয়ে থাকতে পারবে? কষ্ট হবে না?’
বাবা রাগ করে বলতেন, ‘কোন খানদানী ঘরের ছেলে ওকে বিয়ে করবে? লেখাপড়া জানে?’
মা দ্বিগুণ রেগে গিয়ে বলতেন, ‘শেখাওনি কেন লেখাপড়া? কর্তব্য ছিল না তোমার?’
বাবা দমে গিয়ে বলতেন, ‘তুমি শেখালেই পারতে। অল্পস্বল্প একটুখানি হলেও অন্তত—’
মা একই সুরে বলতেন, ‘আমি তোমার সংসার সামলাব, না কাউকে ক খ শেখাব—ভারি আমার বলেছ!’
তবে দু’জনেই দেখতাম ভীষণ পস্তাতে শুরু করেছিলেন ওকে লেখাপড়া শেখানো হয়নি বলে। জুলেখা ওই সময়টাতে খুব আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কাতর চোখে তাকিয়ে সে আঙুল খুঁটত। একদিন আড়ালে আমাকে চুপিচুপি বলেছিল, ‘জানো অঞ্জু, আমার বিয়ের কথা হচ্ছে? আমি কিন্তু বিয়েই করব না দেখবে।’
‘কেন জুলি?’ অবাক হয়ে জিগ্যেস করেছিলাম ওকে। ‘কেন তুমি বিয়ে করবে না?’
জুলি আস্তে বলেছিল, ‘আমি কারুর বাড়ি থাকতে পারব না। আমার খুব কষ্ট হবে।’
‘বিয়ে কী জুলি?’
জুলিও খুব অবাক হয়ে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ দু’হাতে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল। ফিসফিস করে বলেছিল, ‘তুমি ছাড়া আর কারুর পাশে আমি শুতে পারব না। আমার লজ্জা করবে খুব।’
‘বিয়ে করলে পাশে শুতে হয়? সত্যি বলছ।’
‘হুঁ। সে গম্ভীর হয়ে বলেছিল। ‘পাশে শোবার জন্যই তো বিয়ে।’
‘কেন পাশে শুতে হয়, জুলি?’
অমনি জুলি আমার পিঠে থাপ্পড় মেরে বলেছিল, ‘বলতে নেই। ছি। আমি তোমার ফুফু হই না?’
তারপর যত দিন যাচ্ছিল, জুলির বিয়ে কেন্দ্র করে যেন একটা সমস্যা মাথাচাড়া দিচ্ছিল। প্রায়ই দেখতাম বাবার সঙ্গে মায়ের কথা কাটাকাটি চলেছে। মা খেপে গিয়ে বলেছেন, ‘মেয়েটা তোমার গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে তো? ওকে যেমন করে হোক, না তাড়িয়ে শান্তি নেই। নইলে কোন্ আক্কেলে তুমি ওই আধবুড়ো ল্যাংড়া-ভ্যাংড়া লোকের বাড়ি ঠেলতে চাইছ?’
বাবা বলেছেন, ‘কী মুশকিল। বদরু তো খানদানী ঘরের ছেলে। মিলিটারিতে বাবুর্চির চাকরি করত। জাপানিদের গুলি লেগে একটা পা জখম হয়েছিল। রীতিমতো সরকারি পেন্সন পাচ্ছে। এদিকে খাসি কেটে হাটবারে ভালই কামাচ্ছে। তুমি ওকে ল্যাংড়া-ভ্যাংড়া বলে ঠাট্টা কোরো না। দুনিয়া চরে খায় বদরুদ্দিন।’
বদরুর একটা পা ছিল না। সে ক্র্যাচে ভর করে হাঁটত। হাটবারে তাকে দেখতাম রাস্তার ধারে ছোট্ট একটা নিমগাছের ডালে রক্তাক্ত খাসি ঝুলিয়ে ছাল ছাড়াচ্ছে। তার চেহারায় একটা নিষ্ঠুরতা ছিল। অথচ সে যখন হাসত, তখন তাকে ভদ্রলোক দেখাত। সম্ভবত সে যুদ্ধের সময় ফ্রণ্টে ছিল এবং যেন নিজেও যুদ্ধ করেছে সেইটাই বোঝাতে চাইত চেহারায় একখানা নিষ্ঠুরতা চাপিয়ে। বাসে বা ট্রেনে নাকি তাকে ভাড়া দিতে হত না। বাসে বা ট্রেনে চাপার সময় সে তার মিলিটারি উর্দিটি গায়ে চড়াত, আর তখন তার সেই বহিরঙ্গের নিষ্ঠুরতাটা যেন ভয়াল হয়ে উঠত।
এমন একটা লোকের পাশে গিয়ে জুলিকে শুয়ে থাকতে হবে, ভাবতেই রাগে দুঃখে আমার কান্না পাচ্ছিল। আমি জুলির আরও কাছ ঘেঁষে থাকছিলাম। বাড়ির পেছনে ছোট্ট পুকুরটার পাড়ে আমাদের বাগান ছিল। জনহীন দুপুরবেলায় সেই বাগানে আমরা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতাম। আর কালুও ছিল আমাদের সেই ষড়যন্ত্রের এক শরিক। আমরা দু’জনে কালুকে খুব প্ররোচনা দিতাম, বদরুর বাকি পা-খানাও যেন সে কামড়ে খেয়ে ফেলে। কোথাও বদরুকে দেখামাত্র চুপিচুপি কালুকে লেলিয়েও দিয়েছি। কিন্তু কালু হতচ্ছাড়া ওকে যেন প্রাক্তন যোদ্ধা ভেবেই সম্মান জানাত লেজ নেড়ে। ক্রমশ কালুর ওপর আস্থা খুইয়ে একদিন জুলি মাথার ওপরকার লম্বাটে একটা ডাল দেখিয়ে বলেছিল, ‘ল্যাংড়া বদরু আসুক না বিয়ে করতে। এসে দেখবে আমি ওখান থেকে ঝুলছি। এক হাত জিভ বের করে চুল এলিয়ে—’ বলে সে সত্যি জিভ বের করে একটা ভয়ানক ভঙ্গী করেছিল।
আমার ভীষণ খারাপ লেগেছিল। বলেছিলাম, ‘ধুস! বিচ্ছিরি দেখাবে।’
‘দেখাবেই তো। দেখে বদরুর বিয়ের সাধ ঘুচে যাবে।’
একটু ভেবে বলেছিলাম, ‘উঁহু। ওকে বিশ্বাস নেই। তবু বলবে বিয়ে করব।’
জুলি হেসে অস্থির। ‘আর কী করে করবে? তখন আমি তো মরে গেছি।’
সঙ্গে সঙ্গে তাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরেছিলাম। ফুঁপিয়ে উঠে বলেছিলাম, ‘না, না।’ আর জুলি সেই জনহীন দুপুরবেলার বাগানে আমাকে বুকে চেপে নিঃশব্দে কতক্ষণ ধরে কান্নাকাটি করেছিল। কালু আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ব্যথিতভাবে লেজ নাড়ছিল। হঠাৎ মুখ তুলে তাকে দেখে মনে হয়েছিল, দৈত্যদের পৃথিবীতে আমার আর জুলির মতো কালুও এত অসহায়!
বাবা আমার কোমলহৃদয়া মাকে যখন অনেকটা নুইয়ে ফেলেছেন, গন্ধে গন্ধে খোঁজ নিতে এসে পড়েছে হুরমতি নামে এক নাচুনি—যার বগলে সবসময় একটা ঢোলক আটকানো, এমনকি পাশের বাড়ির হাতেমের বউ এসে হলুদ বাটার জন্যে শিলনোড়া চাইছে, সেই সময় একদিন ডাকপিওন একটা পোস্ট-কার্ড দিয়ে গেল।
বাবা পোস্ট-কার্ডটা হাতে করে বাড়ি ঢুকে ঘোষণা করলেন, ‘ডেপুটিসাহেব আসছেন।’ সঙ্গে সঙ্গে একটা হিড়িক পড়ে গেল। মা দৌড়ে গিয়ে পোস্ট কার্ডটা ছিনিয়ে নিয়ে প্রায় চিক্কুর ছাড়লেন, ‘ভাইজান আসছেন। ভাইজান আসছেন।’ তারপর বড় বড় চোখে চিঠিটা দম আটকানো ভঙ্গীতে পড়ে নিয়ে ছুটোছুটি শুরু করলেন। ‘জুলি! ও জুলি! শিগগির হাসুর মাকে খবর দে। আর শোন, ছোট্টু বলে আসবি।’ জুলি পা বাড়াতেই ফের চিক্কুর ছাড়লেন, ‘অ্যাই বাঁদরমুখী! আরও শোন্। পর মেলে দিলে সব কথা না শুনেই।…’
আমার মায়েরা ছিলেন সাত বোন এক ভাই। মা সবার ছোট, আর ভাইটি সবার বড়। সেই ভাই ছিলেন ইংরেজ আমলের এক পরাক্রান্ত ডেপুটি। চাকরি থেকে রিটায়ার করার পর তাঁর একটাই বাতিক ছিল, পালাক্রমে বোনদের খোঁজখবর নিতে যাওয়া। তিনি ছিলেন বিপত্নীক এবং ছেলেরাও ছিল লায়েক। মেয়েদের পাত্রস্থ করে ফেলেছিলেন জীবনের সুদিনে। তারা দেশভাগের পর পাকিস্তানে চলে যায়। ফলে বোনদের প্রতি তাঁর স্নেহের মাত্রা ছিল প্রগাঢ় ও বিপুল। ট্রেন থেকে নেমে এলেও যেমন গতিবেগ ঘোচে না, রিটায়ার করার পরও তাঁর দেহমন থেকে তেমনি আমলাতন্ত্রের গতিবেগটি ঘোচেনি। পালে বাঘ পড়ার মতো এসে পড়তেন বোনেদের বাড়িতে। আমার বাবা ছিলেন স্কুলমাস্টার। গ্রামের স্কুলে ইন্সপেক্টর আসার অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল। তিনি তাঁর ডেপুটি শ্যালককে বাইরে বাইরে ঠাট্টা করলেও ভেতরে-ভেতরে খুব সমীহ করে চলতেন। কারণ ওই জাঁদরেল প্রাক্তন আমলার দরুন গ্রামে তাঁর প্রভাব বাড়ত। বাবা বলতেন বটে, ‘নাও। ডেপুটিসাহেব ট্যুরে বেরিয়ে পড়েছেন, কিন্তু তাঁর ন্যালাভোলা বাড়ি আর অগোছাল সংসারকে ব্যস্তভাবে সাজিয়ে ফেলতে মায়ের সঙ্গে পাল্লা দিতেন।
আমার ডেপুটিমামা ডিসিপ্লিনের খুব পক্ষপাতী ছিলেন। পান থেকে চুন খসলে চটে যেতেন। তাগড়াই আর ফর্সা পাঠান চেহারার মানুষ। কাঁচাপাকা একরাশ চুলদাড়ি। পরনে সাদা ঢোল পাঞ্জাবি-পাজামা, পায়ে কালো পামশু। হাতে সারাক্ষণ একটা বেতের মোটা ছড়ি। উত্তরোত্তর ধর্ম তাঁকে যত টানছিল, তত শরীর থেকে অসংখ্য চোখ গজিয়ে উঠছিল যেন। ডিসিপ্লিন, পরিচ্ছন্নতা, আদবকায়দা এসব জিনিসের দিকে অসংখ্য সেই চোখে লক্ষ রাখতেন এবং প্রত্যেকটির পেছনে শাস্ত্রীয় সমর্থন দাঁড় করাতেন।
তিনি আসছেন শুনে আমাদের বাড়িতে সাজো-সাজো রব পড়ে যেত। সদর দরজার চটের পর্দাটা বদলানো হত। দেয়াল, সিলিং, মেঝে ঝাড়পোঁছ করে তকতকে রাখা হত। উঠোনের ইঁদারাতলায় তৈজসপত্রের পাহাড় জমিয়ে হাসুর মা বালি আর ছ