
গরল
শক্তিপদ রাজগুরু
সাত সকালেই পাড়ার নীরবতা ভঙ্গ করে তীক্ষ্ণসুরে বাঁশিটা বেজে ওঠে ‘ফুরু রুরু ফুর রুরু’। বেশ কয়েকবারই বাজে বাঁশিটা, যেন মাঠের দুদিকে এগারোজন করে প্লেয়ার ধড়াচূড়া পরে তৈরি হয়ে আছে। মাঝমাঠে বলটা রাখা। এইবার খেলা শুরু হবে। প্রথম প্রথম এমনি ভাবটাই এই বিজয়রত্ন বাইলেনের মানুষদের মনে হতো, অনেকে বের হয়েও আসতো কী ঘটবে এরপর সেটা দেখার জন্য, কিন্তু ক্রমশ মানুষ ধাতস্থ হয়ে গেছে।
ওই বাঁশি বাজার পরই শোনা যায় ঘড় ঘড়াং একটা ধাতব কর্কশ শব্দ। রাস্তা দিয়ে ভাঙাচোরা নববড়ে একটা ছোট হাতগাড়ি টেনে আনছে যদু। যদু পাশোয়ান এই অঞ্চলের জঞ্জাল সাফাই-এর কাজ করে।
ইদানীং আর বাড়ির জঞ্জাল নিয়ে গিয়ে বাইরে ভাঙা ডাস্টবিনে ফেলতে হয় না। তখন ময়লা সেখানেই পড়ে বৃষ্টিতে পচতো, কুকুরে রাস্তাময় ছিটোতো সব ময়লা, এখন তাই কর্পোরেশন থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে বাড়ির সামনে হাতগাড়ি নিয়ে যাবে সাফাইকর্মীরা। গৃহস্থ তাদের বাড়ির সব আবর্জনা, নোংরা ওই গাড়িতে তুলে দিয়ে তাদের ঘর মালিন্যমুক্ত করে রাখবে।
তাই যদু পাশোয়ান আসে রোজ সকালে। ঘরে ঘরে গিয়ে ওই পাড়ার সব সংসারের ময়লা সাফ করে নিয়ে যায়।
নবীনবাবু এ-পাড়ার পুরোনো বাসিন্দা। ওর পিতৃপুরুষের স্বর্ণশিল্পের ব্যবসা ছিল। তখন দমদম বাজারে একটা এঁদো ঘরে সামান্য পুঁজি নিয়ে সোনা রূপার গহনা গড়তো। অবশ্য তখন এই এলাকায় এত ঘর বাড়িও ছিল না। কিছু পুরানো বসতি ছিল, আর ছিল কলকাতার রইস আদমিদের বাগানবাড়ি। শনিবার, রবিবার জমজমাট মহফিল বসতো বাগানবাড়িতে। জুড়িগাড়ি আসতো, সারেঙ্গির সুর উঠতো, বাঈজির ঠুংরির কলিও শোনা যেতো।
বাবুরাই পেয়ারের বাঈজির জন্য গহনাপত্র গড়াতো, আর কিছু গহনা তৈরি করাতো সাধারণ গৃহস্থ তাদের ছেলেমেয়েদের বিয়ের সময়। ওই সব করে কোনমতে টুকটাক করে নবীনের বাবা নরহরি দাস সংসার চালাতো। আর এই অঞ্চলে ছিল তার বাড়ি। একটা ডোবা এদিকে, দু’চারটে আপনা আপনি গজিয়ে ওঠা আম, গাব-এর গাছ আর কিছু বাঁশবন। তারই একদিকে একটা ইঁটের দেওয়াল টিনের চাল দেওয়া সাবেকি ধরনের বাড়ি।
সেই অঞ্চলকে এখন নবীনের বাবা নরহরিও যদি স্বর্গলোক থেকে কোন দিন যদি আসে আর চিনতেই পারবেনা। আর দমদমের দোকানটাকে খুঁজেই পাবে না ভিড় আর আলোর ঝকমকানিতে। সেখানে নবীন এখন চারতলা বিল্ডিং করে নিজে একতলা জুড়ে বিশাল শোরুম বানিয়েছে। আর বাকিটা কোন ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়ে মাসিক বিশাল অঙ্কের টাকা আমদানি করছে।
আর নিজের বাড়ির ওই অঞ্চলেও এখন প্রাচীরঘেরা বিশাল বাড়ি আর একদিকে সুরক্ষিত সোনার গহনার কারখানা গড়েছে। মজবুত গ্রিল দিয়ে ঘেরা। ওদিকে লাখ লাখ টাকার সোনার রকমারি গহনা গড়াচ্ছে। বড়বাজারে পাঠায় সেসব গহনা। দেশ-বিদেশের বাজারেও রপ্তানি করে।
নবীন দাস এখন এই এলাকার নামী লোক। অবশ্য এই এলাকার চেহারাই বদলে গেছে এখন। সেই বনজঙ্গলের কিছুমাত্র নেই। সাবেক আমলের দু’চারটে গাছ টিকে আছে অতীতের সাথি হয়ে, বাকি সব কিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়ে সেখানে উঠেছে বড় বড় বাড়ি আর রাস্তা। এসেছে নতুন মানুষ।
ওদিকে সতুমাস্টারের জীর্ণ বাড়িটা এখনও কোনমতে টিকে আছে। সতুমাস্টার ছিলেন এখানের স্কুলের শিক্ষক। তখনকার দিনে স্বদেশী আন্দোলন করে দীর্ঘদিন কারাবাসও করেছিলেন। নিজের হাতে চরকা কাটতেন, আর স্কুলের পরও ছাত্রদের পড়াতেন বিনা পয়সায়। সামান্য মাইনে পেতেন স্কুলে, তার থেকেও গরিব ছাত্রদের বইও কিনে দিতেন। পরীক্ষার ফি দিতে পারছে না শশধর, মেধাবী ছাত্র। সতুবাবুই নিজে তার হয়ে বন্ধুবান্ধবদের কাছে ভিক্ষে করে তার ফি জমা দেন।
শশধর অবশ্য বৃত্তি পেল, সেদিন সতুবাবুর কী আনন্দ। শশধরকে তিনিই কলেজে ভর্তি করান।
সেই শশধর এখন ইঞ্জিনিয়ার। সরকারি চাকরি করে আর বাড়িতেই এখন আর্কিটেক্ট, প্ল্যান-মেকার, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজও দেখেন অন্য পার্টিদের। কর্পোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটির কর্তাদের কর্মীদের কী যাদুবলে বশ করে এখন প্রমোটারদের প্ল্যান স্যাংশন করিয়ে দেন। সেইখানে আইন-কানুনগুলোর কোন বাধাই থাকে না। শশধর এখন বিজয়রত্ন সেনের মুখেই বিশাল বাড়ি করেছে। গ্যারেজে দুখানা গাড়ি, ওদিকে নবীন দাসের বিশাল এলাকা, ওদিকে ধোপার মাঠের বড় পুকুর আর মাঠ-এর চিহ্ন নেই।
এই পুকুর ছিল আয়তনে বেশ বড়, টলটলে জল থাকতো সব সময়। এলাকার মানুষজন স্নান করতো, ধোবারাও এদিকে কাপড় কাচতো। মাঠটায় খেলাধুলা করতো এদিকের ছেলে-মেয়েরা, সন্ধ্যার পর ওখানে গিয়ে বসতো বহু মানুষ, মুক্ত বাতাস পেতো। ক্রমবর্ধমান শহরতলির ওইটুকুই ছিল ফুসফুস। ওই জমির মালিক ছিল মধ্য কলকাতার কোন জমিদার পরিবার। এখন বহু শরিকান সম্পত্তি, অনেকেই বিদেশে, অনেকে মারা গেছেন। তাই ওই মাঠ পুকুর এখন জনগণই ব্যবহার করে।
নবীন দাস এর মধ্যে শশধরবাবুকে বেশ পটিয়ে ফেলেছে। অবশ্য পাড়ার বেশ কিছু লোকই নবীন দাসকে সমীহ করে। কারণ তার টাকা অনেক, বিরাট ব্যবসা, আরও টাকা চাই তার।
ওই এলাকায় নবীন দাসের সোনার কারখানায় বৈকালের দিকে সোনা গলানো হয়, নাইট্রিক অ্যাসিড অন্য অনেক কিছু বিষাক্ত ধোঁয়াও ওঠে। শীতের দিনে ঘন কুয়াশার চাপে ওই বিষাক্ত ধোঁয়া নীচেই থাকে। সারা এলাকার মানুষের যেন দম বন্ধ হয়ে আসে। বাচ্চা কান্নাকাটি করে, বেদম কাশে। মানুষজন এই দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে ক্ষণিকের জন্য উদ্ধার পাবার আশাতেই ওই মাঠে এসে বসে।
পাড়ার দু’চারজন লোক ক্রমশ আপত্তি তোলে। কিন্তু ওদের মুখের উপর কারো কিছু বলার সাধ্য নেই। নবীনবাবুর দুই ছেলে এখন লায়েক হয়েছে। বড় ছেলে সুনীল বাবার ব্যবসাপত্র দেখে, একটা মারুতি হাঁকিয়ে বড়বাজারে অন্যত্র যায়। সঙ্গে থাকে লাখলাখ টাকার সোনা, তাই পাড়ার ন্যাপলা বুলা দুই মস্তান তার সঙ্গে থাকে। শোনা যায় রাত দুপুরেও ওরা গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করে, কি আনা নেওয়া করে কে জানে। তবে ওদের সঙ্গে দামী বিদেশী চেম্বার থাকে তা সকলেই জানে।
আর ছোট ভাই অনিল এখন দোকান ছাড়াও প্রমোটারি ব্যবসাতেও নেমেছে। কলকাতায় আর ঠাঁই নেই। পুরানো বাড়িও মেরামত করার সামর্থ্য নেই। তাই শহরের ওই সব বাড়ি চড়াদামে অবাঙালিদের বিক্রি করে শহরতলির দিকে ছোট ছোট ফ্ল্যাট কিনে চলে আসছে। আর এখানের পুরোনা বাসিন্দারাও আগেকার জায়গা বাড়ি প্রমোটারের হাতে তুলে দিয়ে দু-একটা ফ্ল্যাটও পাচ্ছে সঙ্গে নগদ টাকাও।
তাই ফ্ল্যাটের চাহিদাও আকাশছোঁয়া। সুনীল এখন একটা জিপ হাঁকিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এর মধ্যেই পাড়ার গুপী-নোটনের দল মস্তানি ছেড়ে সুনীলের সঙ্গে ঘোরে। কেউ ইঁট-বালি-সিমেন্ট সাপ্লাই করে, কেউ পাড়ার উঠতি মস্তানদের চমকে জায়গার দখল নিয়ে সেখানে বাড়ি ফাঁদে।
সুনীল সেই মস্তানদের পোষে। এহেন শক্তিধর নবীন দাসকে ওই বিষাক্ত ধোঁয়ার জন্য বলার কেউ নেই। তবু প্রতিবাদ গুঞ্জরিত হয়ে ওঠে।
সতুবাবুও দেখেছেন ব্যাপারটা। তারও অসহ্য ঠেকে। পাড়ার লোকদের সঙ্গে করে তিনিই গেছেন সেদিন নবীনের বাড়িতে।
নবীনের বাড়িতে ইঞ্জিনিয়ার শশধরও আসে। সুনীলের হাতে এখন বেশ কয়েকটা ফ্ল্যাট বাড়ির কাজ হয়েছে। শশধরবাবুর দৌলতে সুনীল মিউনিসিপ্যালিটির লোকদের বশ করে ফ্ল্যাটের পাঁচশো স্কোয়ার ফিট ফ্ল্যাট এরিয়াকে ছশোতে পরিণত করে দু’হাতে পয়সা লুটছে।
এবার তারা নজর দিয়েছে ওই পুকুর আর মাঠটার দিকে। সুনীল জানে গোলমাল কিছু হবে, তবে সামলে দিতে পারলে ভালোই আমদানি হবে। শশধরবাবুকে সে জায়গাটার নকশা দেখাচ্ছে। ওখানে একটা বড়সড় হাউসিং কমপ্লেক্স মার্কেট … কোটি টাকার ব্যাপার।
হঠাৎ সতুবাবুকে পাড়ার নারাণবাবু, রতন ঘোষদের নিয়ে ঢুকতে দেখে একটু বিরক্তই হয় ওরা। নবীন-শশধর সতুবাবুর ছাত্র। সুনীল যখন স্কুলে ঢোকে সতুবাবু তখন রিটায়ার করেছে। শশধর বলে, স্যার আপনি? এখানে।
সতুবাবু এই পরিবেশে যেন বেমানান। ময়লা ধুতি, রংচটা একটা গেরুয়া পাঞ্জাবি, পায়ে সস্তা টায়ার-কাটা চটি। চোখে পুরু লেন্সের চশমা। সামান্য স্কুলমাস্টার, যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে ছিলেন এক সর্বত্যাগী সৈনিক। স্বাধীনতার পর তাদের ভাগ্যে এর বেশি কিছু জোটা যে অসম্ভব তা সতুবাবুও জানেন। স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামই করতে এসেছিলেন তিনি, স্বাধীনতার সুফল পাবার জন্য নয়। তার জন্য রয়েছে ওই নবীন-শশধরবাবুদের দল। সুনীলদের মতো করিতকর্মা জাতির ভবিষ্যৎরা, সতুবাবু তো ঝরাপাতার দলে।
সতুবাবু বলেন—নবীন, শশধর কেমন আছো? নবীন বলে চলছে, মাস্টারমশাই। ব্যবসাপত্রের অবস্থা তেমন ভালো নয়। যা বাজার পড়েছে স্বর্ণশিল্প তো উঠে যাবারই দাখিল।
সতুবাবু বলেন—সেকি? তাহলে রোজ বৈকালে একেবারে চিমনির মত এত অ্যাসিডের ধোঁয়া বের হচ্ছে কেন? পাড়ার লোক তো অস্থির হয়ে উঠেছে বায়ুদূষণে। একটা ব্যবস্থা করো।
নবীন গুম হয়ে যায়। এবার বুঝছে পাড়ার ওই নারাণবাবু, রতনবাবুরাই সতুবাবুকে তাতিয়েছে। আর নেতা সেজে চলে এসেছে ওই বুড়ো ভাম। এখন কেউ ওকে মানে না, নতুন নেতারা সবাই নবীনবাবুর পোষ্য। তাদের জন্য, তাদের দলের জন্য নবীন মোটা টাকা মাসোহারা দেয়। তারাই এলাকার মানুষের প্রতিভূ, তারা কিছু বলে না, এসেছে ওই বাতিল বুড়ো লোকটা তাকে এ নিয়ে কথা শোনাতে।
সুনীলও বসেছিল। সে বলে,
—ধোঁয়া তো ওদিকে যায় না, তবে কেন এসব বলছেন?
সতুবাবু দেখেছে সুনীলকে। ওদের দেখে সতুবাবু নানা জায়গায়। দলবেঁধে পার্কস্ট্রীটের বারেও যায়। এপাড়া কেন স্টেশনেও দেখেছে মেয়েদের গাড়িতে তুলে নিয়ে ওইসব বারে যেতে। পাড়ার লোকদের ও ধমকায় অকারণে। রাস্তা জুড়ে তাদের ইঁট পাথর ফেলে রাখে, বলারও উপায় নেই।
সুনীলের কথায় কান না দিয়ে সতুবাবু নবীনকে বলে,
—ওদের অসুবিধা হচ্ছে, তাই বলে গেলাম তোমাকে। এটার একটা ব্যবস্থা করো।
কথাগুলো বলে চলে যান সতুবাবু। তিনিও বেশ বুঝেছেন এরা এ নিয়ে কিছু করবে না। তবু প্রতিবাদ জানানো দরকার বলেই কথাটা জানিয়ে গেলেন।
চলে যেতেই নবীন বলে—বুড়ো ভাম-এর তড়পানি দেখলে শশধর? আমাকে শাসিয়ে গেল?
সুনীল বলে—এর ব্যবস্থা করছি। ওই পুকুর, জমিটাই এবার কেড়ে নেব। আর কারখানার কাজ যেমন চলছে চলবে।
সেদিন বৈকালে আরও বেশি করেই সোনা গলানো শুরু হলো।
অবশ্য অনিলকে সোনা গলাতেই হতো। নবীনও বলেছিল।
—ওসব মাল গালিয়ে গহনা করে সরিয়ে ফ্যাল। পাড়ার লোক পিছনে লেগেছে মনে হচ্ছে।
নবীন জানে ওসবের সে পরোয়া করে না। ইদানীং রাতারাতি বাইরে থেকে ভালো পরিমাণ সোনার বিস্কুট আসছে, এছাড়াও নবীনের কাছে দু চারটে গ্যাং-এর চুরি ডাকাতি করা অনেক সোনার জিনিসও আসে। অনেক লাভ থাকে এসবে। কিন্তু বিপদও আছে। অবশ্য এসবের জন্য থানাপুলিশ মায় রেলপুলিশকেও প্রণামী দিতে হয়, তবু তাদের চাকরি বাঁচাবার জন্য মাঝে মাঝে কিছু মাল ধরিয়েও দিতে হয়। যদি তেমনি কোনো ব্যাপার ঘটে, তাই মাল ওরা গালিয়ে ফেলে, তাতে ধরা ছোঁওয়ার ভয় থাকে না। তাই সেদিন প্রচুর ধোঁয়াই বের হয়। শীতের সন্ধ্যায় সারা পাড়ার মানুষ কাশতে থাকে।
সতুবাবুও কাশছেন। চোখে জল নামে। সব মানুষ কাচ্চাবাচ্চা মেয়েদের নিয়ে ঘর ছেড়ে ওই মাঠে এসে আশ্রয় নেয়।
নরেনবাবু কাশতে কাশতে বলে সতুবাবুকে,
—ওদের শয়তানি দেখেছেন মাস্টারমশায়? বলতে গেলাম তাই বেশি করে এসব শুরু করেছে। ভাগ্যিস এই মাঠটা ছিল, নাহলে কোথায় যেতাম কে জানে? পাড়া ছেড়ে না যেতে হয়?
রতনবাবু বলে—ওদেরই সুবিধা হয়, জলের দরে বাড়ি কিনবে ওর ছেলে সুনীল আর ফ্ল্যাট বানাবে। আমাদের তোলার জন্যই এইসব শুরু করেছে।
সতুবাবু আজ বৃদ্ধ। তাঁর সময়ের দু-চার জন প্রথম দিকে মন্ত্রী হয়েছিল, তখন রাইটার্সেও গেছেন, পাড়ার রাস্তাঘাট, জলের ব্যবস্থাও করেছেন তাদের বলে। এখন তাদের আর কেউ নেই।
এসেছে নতুন নেতার দল। এদের চেনেন না সতুবাবুর মতো সেদিনের সর্