ডুবজলে যেটুকু প্রশ্বাস

ডুবজলে যেটুকু প্রশ্বাস

মলয় রায়চৌধুরী

ডুবজলে যেটুকু প্রশ্বাস

Books Pointer Iconমলয় রায়চৌধুরী
Books Pointer Iconnovel

Posted byরিয়া দাস24-Jul-2025

Change color

উৎসর্গ : বাবা রঞ্জিত রায়চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধায়

এক

লাশগুলোকে নামানো হচ্ছিল হোসপাইপ কেটে থামানো পাটনামুখো দরোজা-জানলাহীন, টয়লেটের পাল্লাহীন গয়া প্যাসেঞ্জারের অন্ধকার লাগেজ ভ্যান থেকে, একের পর এক আদুল-গা তামাটে পুরুষের পেশিদার শরীর, মহিলাদের ঘোমটামোড়া দেহ, ঠাণ্ডা কাঠ, পূণ্যলাভের জন্য পুড়তে যাবে গঙ্গায়, আর এই লেভেল ক্রসিং থেকে একটু দূরত্বে, রাস্তার ধারে ফোলডিং চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে, ল্যাম্পপোস্টের তলায় বসে স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রমাণপত্র দিয়ে চলেছে পাটনা মিউনিসিপাল কর্পোরেশানের পাকাচুল কদমছাঁট চশমাচোখ ডাক্তার সুনীলরঞ্জন নাহাবিশ্বাস ওরফে বিসওয়াসজি, শ্মশানঘাট কাছেই বলে, প্রতিদিন সন্ধ্যার টিমটিমে বিজলি আর কেরোসিন লন্ঠনের আলোয় ফুলকো মেলার জমজমাট ভিড়, আগেভাগে তৈরি তাদের বাঁশের মাচান, ফুল, শাদা আর গোলাপি থানকাপড়, ঠ্যালা, রিকশা, ট্যাকসি, ধুপ, সিঁদুর, খুচরো টাকা পয়সা, খই-বাতাসা, কাতাদড়ি, নাইলন দড়ি, মাটির কলসি । ফিক্সড প্রাইস । কাউকে দরদস্তুর করতে হয় না । বিহারি সংস্কৃতির মড়া পোড়ার যাকিছু।


পাটনা-গয়া লাইনে দাঙ্গা বা জাতপাত-মারকাট হলে, যখন লাশের সংখ্যা বেড়ে যায়, লেভেল ক্রসিং পেরোতে ঘণ্টাখানেক লেগে যায় । ট্রেনটার কোনো বরাদ্দ সময় নেই থামার । যতক্ষণ লাশ ততক্ষণ আশ । লেভেল ক্রসিং ছেড়ে প্রচুর সময় লেগে যায় ট্রেনটার, স্টিম এনজিনের ভোপ্পোর ভোঁ কয়লাচুরো উড়িয়ে, কিংবা ডিজেল এনজিনের গরম হলকার ধোঁয়া ভাসিয়ে । বর্ষাকালে জলে ডোবা রাস্তা, গ্রীষ্মে জ্যাম, শীতে শবযাত্রীর শিকারে সস্তার রাঁঢ় ।


মোটর সাইকেলে বসে যখন বিরক্তি উথলে উঠছিল, ট্রেনটার যাবার অপেক্ষায়, পাশেই এক যুবক হাতি, পেছনের বাঁ পা জিরেন দিচ্ছিল শ্রীকৃষ্ণের কায়দায়, নীহারিকার বর্ণালী থেকে তখন সবে হেমন্ত নামছে স্হানীয় পৃথিবীতে, অদৃশ্য কানামাছি-ওড়ানো শুঁড়ের ধাক্কায়, যেন বিদ্যুৎ দিয়ে গড়ে নরম মাংস, ঘুরে যায় মুণ্ডু, চকিতে হাজার সর্ষেফুল ফুটে উঠে মিলিয়ে যায়, তারপর গলায় চোঙবাঁধা অবস্হায় নিজেকে খুঁজে পায় সুশান্ত, হাসপাতালে, সরকারি রাজেন্দ্র ব্লকের শতচ্ছিন্ন গয়ের রক্ত পুঁজ মাখা বিছানায়, মাছির দল তার ঠোঁটে বসে ঘুমজাগানিয়া চালিশা শোনাচ্ছিল । হাসপাতাল, তায় সরকারি, পটল অবধারিত জেনে, একহাতে নলসুদ্দু স্যালাইনের বোতল ঝুলিয়ে বাড়ি কেটে পড়েছিল ও, সুশান্ত, রিকশায় চেপে । বাড়িতে ধুদ্ধুমার । অনেককাল লেগে গিয়েছিল সারতে । থানায় গিয়ে মোটর সাইকেলটা নিয়ে এসেছিলেন সুশান্তর বড়োজ্যাঠা, হাতে-টানা ঠ্যালায় চাপিয়ে ।


বিছানায় শুয়ে, গলায় চোঙবাঁধা, কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে, কাকার কাছ থেকে জানতে পেরেছিল সুশান্ত, ওই পালোয়ান হাতিটায় চেপে ইন্দিরা গান্ধি গিয়েছিলেন আক্রান্ত গ্রামের মানুষদের সান্ত্বনা দিতে । এগারোজন তফশিলি মানুষের সাফায়া করে দিয়েছিল পিছড়াবর্গের কুরমি জাতের মহাবীর আর পরশুরাম মাহাতো, যাদের পরে ফাঁসি হয়েছিল । সীতারাম মাহাতো, সিরি মাহাতো, রামকিশুন মাহাতো, রাজেন্দর মোচি, নেপালি, সিমন, বলদেও আর কেশব মাহাতোর কুড়ি বছরের জেল । কিন্তু কালীচরণ, দাসো পাসোয়ান, রামচন্দর মোচি, মহাবীর মাঝি, শ্রবণ পাসওয়ান, রাজো পাসওয়ানদের প্রতি একজন মৃত প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসভঙ্গের আক্রোশ হাতিটা চাপিয়ে দিলে ওর, সুশান্তর, ঘাড়ে !


মুচি মাল্লা শুঁড়িদের হাতে যে-সব দেড়-দু একর জমির কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল, তার মালিক ওই কুরমিরা জেল থেকে তেল, কাপড়, চিনি, টাকা ফি মাসে পাঠাচ্ছে নিজের নিজের বাড়ি ; জমি কেনাকাটা চলছে, অথচ মুসহর দুসাধ চামার আর তেলিরা সুযোগ পেলেই গ্রাম ছেড়ে পাটনা, জ্ঞাতি খুঁজেপেতে কলকাতা । গ্রামে একটা পুলিশ ফাঁড়ি বসিয়ে কর্তাবাবারা নিশ্চিন্ত ।


বেলছির পর যখন পারসবিঘায় গোলমাল হল, লাগেজ ভ্যান থেকে লাশ নামাতে সময় লেগেছিল বেশ, মনে আছে সুশান্তর । রামাশিষ, হরিভগত, শ্যামনারায়ণ প্রসাদ, রামস্বরূপ, সিয়ারাম, কিসমিসিয়া দেবী, হরমণিকুয়ারি, গুলাবিয়া দেবী, পতিয়া দেবী, আর শ্যামপেয়ারিদের জলজ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিল নিরঞ্জন শর্মার ছোটো ভাই মদন শর্মা । তারপর থেকে ভূমিহার আর নিচুজাতের খুনোখুনি । খুনোখুনিতে ঝামরে নষ্ট হয়ে গেছে সবুজ গ্রামের পর সবুজ গ্রাম । এই সব গ্রামে রোদ্দুরেরও শীত করে । কনসারা, দরমিয়া, নোনহি-নগওঁয়া, মলবরিয়া, দনওয়র-বিহটা, মিনবরসিমা, বারা– উড়ন্ত ধুলোয় মানুষহীন প্রান্তর, সাপের পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে সন্দেহময় শুকনো পাতায় পদক্ষেপ । লেঠেল-ঘেরা পাকা ধানের খেত । পাড়ভাঙা যেমন নদীর মুদ্রাদোষ, তেমন সুশান্তর এই লাশ-নামানো-মেলা দেখা, মাঝে-মধ্যে সান্ধ্যকালীন নেশা ।


সুশান্তর চেহারা অবাঙালি । পাঁচফুটের ফর্সা গালফোলা ঘাড়েগর্দান কোঁকড়াচুল চনমনে । গলায় চোঙ বেঁধে হালকা কাজের বিভাগে কিছুকাল কাটাবার পর পৌঁছেছিল অতনুদের ত্যাঁদড়া-কর্মী বিভাগে । ঘোষ বলে অফিসে জাতপাতের বিভাজনে ও দুধিয়া ঘোষ, মানে গয়লা, যাদব, বিহারি যাদব কর্মীরা নিজেরাই ওকে কৃষ্ণায়ত যাদব বানিয়ে দিয়েছে, কংসায়ত যাদবে ফ্যালেনি । অথচ মুঙ্গেরের পিপারিয়ে গ্রামে, যেখানে ওদের প্রচুর জমিজমা, ঘোষ হবার দরুণ সেখানে যাওয়া, ফসল তোলানো, এতোয়ারি হাটের খাজনা তোলা সব বন্ধ । বাবার ঠাকুর্দা, মানে ঠাকুর্দার বাবা, হাইকোর্টে, তখন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা লড়তে যেতে হতো, ভূমিহার রাজনাথ সিংকে ফৌজদারি মামলায় জিতিয়ে দেয়ায়, মুঙ্গেরের রোমহর্ষক দিয়ারায় দুশো একর জমি, আর সাত একর আনাজ-বাগান, আর এতোয়ারি হাট ওর ঠাকুর্দার নামে করে দিয়েছিল । সুশান্ত যায়নি কখনও পিপারিয়ে । ছোটোবেলায় চাল মুসুর অড়র ভুট্টা সর্ষে পটল কচি তরমুজ আম আর হাটের টাকা আসত । তারপর ওখানে কৈলু যাদব, কজ্জল ধানুকদের অপহরণের দল এমন জ্বালাতন আরম্ভ করলে যে সেসব জমিজমা এখন কাদের হাতে তা শুধু কানাঘুষায়, কোনো যাদব ছিটকে পাটনায় এলে, তার মুখে ভাসাভাসা জানা যায় । বাংগালি-তাংগালি বলে, সুশান্তরা আর সেখানে পাত্তা পায় না । লোকমুখে প্রচারও করে দেয়া হয়েছে যে কোনো বাংগালি ঘোষবাবু এলে তার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে দেয়া হবে।


দিয়ারা, দ্বীপের মতন গঙ্গার চর, জেগে ওঠে, থাকে বছরের পর বছর, বেগুসরায় মুঙ্গের থেকে নদীর কিনারে-কিনারে ভাগলপুর কাটিহার ওব্দি । এক জায়গায় ডুবে আরেক জায়গায় কুমিরের পিঠের মতন ভেসে ওঠে অনেক সময়ে, খেলা করা অজস্র মানুষের সুখশান্তি নিয়ে, তাদের দুর্ধর্ষ ক্রুর মমতাহীন আতঙ্কিত করে রাখে আজীবন, ভালা বরছি গঁড়াসা ভোজালি পাইপগান কট্টা তমঞ্চা দিয়ে । ঢেউরা দিনেরাতে হাসি বিলোয় ।


মেদিনি পুলিশফাঁড়ির সুরজগড়হার কাছে হুসেনা গ্রামের পালোয়ান, কোমরে ঘুনসি, গলায় তাবিজ, থলথলে বুক আর উরধ, কদমছাঁট অধিক যাদব, দুধ বিক্রির ফাঁকে, কিষান-কামিলের নূনতম মজুরির মজুরি আন্দোলন পিষে ফেলার লেঠেল হিসেবে জোতদারেরদের স্যাঙাত থাকতে-থাকতে নিজেরাই আরম্ভ করে দিলে জোরজবরদস্তি জমিজমার দখল নেয়া, কানপুর থেকে চটের থলেতে আসত পিস্তল কারতুজ হাতবোমা দোনল্লা একনল্লা, খড়ের গাদায় লুকোনো, পালতোলা নৌকোয় । সামহো-সোনবরসা কুরহা দিয়ারায় গোটাকতক চাষি ট্যাঁফোঁ করলে, তাদের ডান হাত কেটে গঙ্গায় । নিজেদের হুসেনা গ্রামে পুলিশের ওপর কয়েক ঝাঁক গুলি চালিয়ে ভাগাল । তারা আর ওমুখো হয়নি । মেদিনি ফাঁড়ির পুলিশ ইন্সপেক্টর যতীন্দ্রনাথ সিং ছ’জন কন্সটেবলের শং্গে যখন ওদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে, অধিক যাদব গঁড়াসা দিয়ে চারজনের ভুঁড়ি ফাঁসায় । লাশ নদীতে আর বন্দুকগুলো নিজেদের কব্জায় । পেট চিরে মারাকে শিল্পের পর্যায়ে তুলেছিল । পেট চিরে পূণ্যসলিলা গঙ্গায় ফেলেছিল আরও অনেককে, টুকরো-টুকরো, যেমন পাঁঠার দোকানের মাংস, বেশিরভাগ সীমান্ত চাষি, যেমন অঙ্গদ যাদব, এতোয়ারি মাহাতো, ডুকো মাহাতো, দেবেন মাহাতো, সুধীর মাহাতো । অধিক যাদব মরলে, ওর রাজ্যপাট যায় কৈলু যাদবের হাতে, সে পিপারিয়ে গ্রামের অমৃত যাদবের ছেলে । সুশান্তদের গরদানিবাগের বাড়িতে অমৃত যাদব একবার এসেছিল, চার বছরের খালি-গা ধুলোমাখা কৈলুকে নিয়ে ।


লখন তাঁতিকে, পুলিশের মুখবির, মানে চর সন্দেহে, কেন তাড়িয়ে-তাড়িয়ে গ্রামবাসীদের চোখের সামনে থেঁতো করে মেরেছিল কৈলু, অফিসের একজন পিওনের কাছে, যে অবসর পাবের পর প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের কিছু টাকায় কিনে, কোনও এক কমবয়সী তরুণীকে বিয়ে করেছিল, তার কাছ থেকে জানতে পেরেছিল সুশান্ত । পরে, মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যস্হতায়, কৈলু যাদব আর ওর প্রতিবেশী দুলারচন্দ্র যাদবের সন্ধি হলে, অপহরণের ব্যবসা আরমভ করে কৈলু । দিয়ারা থেকে দূরে-দূরে ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসার আওতা, পাটনা রাঁচি মজফফরপুর লখনউ কানপুর এমনকি দিল্লির রাস্তা থেকেও তুলে আনতে পেরেছিল রওনক আগরওয়ালকে । কৈলুকে সাফায়া করার জন্যে সরকার ‘অপারেশান কোবরা’ চালু করলে, সেই যে ও গা ঢাকা দিয়েছে, খুঁজে পাওয়া যায়নি আজ পর্যন্ত ।


কৈলুর জায়গা দখল করেছে কজ্জল ধানুক, আর ধানুকদের নরকে যাওয়া উচিত হবে না ভেবে সুশান্তর বাবা কাকা জ্যাঠারা আর নিজেদের জমিজমা খেতখামার চাষবাস হাটের আয় ইত্যাদির কথা ভুলে গিয়ে ও-মুখো হননি । পিপারিয়াতে ওরা বাংগালি যাদব । বারোটা যাদব বাচ্চাকে একদিন দুপুরে বরছি-ভালা দিয়ে ছিন্নভিন্ন করেছে কজ্জল ধানুক, শুনেছেন ওনারা লোকমুখে । ধানুক বিন্দ আর ভূমিহার এখন একদিকে, যাদবরা অন্যদিকে । লছমিপুর-তৌফির দিয়ারায়, বদলা নেবার জন্যে, গঙ্গার ওপর থেকে ভেসে গিয়ে শীতের কুয়াশা যখন ঘিরে ধরেছে কুঁড়েঘরগুলোকে, যাদবরা দল বেঁধে হামলা করে বিন্দ বাচ্চা বউ বুড়োদের আস্ত রাখা অনুচিত ভেবেছিল ; বিন্দ জোয়ানরা বেঁচে গিয়েছিল কেউ কেউ, অন্ধকারে পিটটান দিয়ে ।


ঘন সবুজ কচি আমের থুতনিতে হাত দিয়ে আদর করছিল একটা প্রৌঢ় আমপাতা । গাছের প্রায়ান্ধকার গোড়ায়, আধভিজে উইপোকার মেটেরঙা দেউড়ি । মিহিন আবেগপ্রবণ বিকেল-বাতাস বেড়াতে বেরিয়েছে গোধুলী-বাতাসের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে । আকাশে দীঘল ফোলাফোলা মেঘ । অনেক দূরে, ওই দিকে, একাধটা ঠুনকো বিদ্যুতের অদৃশ্য আওয়াজ । এখন রূপসী মর্জির বিকেল । অল্পবয়সী খেটে-খাওয়া কয়েকটা কাক চলে গেল দক্ষিণ থেকে উত্তরে । একটু আগে সামনের ছাতিম গাছে যে-চড়াই পাখিগুলো স্হূল রঙ্গরসিকতায় মশগুল রেখেছিল নিজেদের, তারাও এখন ডানা গুটিয়া ঠোঁট গুঁজে চুপচাপ । রাস্তার ওপারে ধনী আর উদার কাঁঠালগাছ । রোদ্দুর বোধহয় গাছের ছায়া মাড়ায় না এ অঞ্চলে । চারিদিকের এমন অতীন্দ্রিয় জগতের আভাস পেয়ে ছোটোখাটো গোলগাল নুড়ির দল উদাসীন শুয়ে আছে কালভার্টের তলাকার ছিপছিপে নালার কিনার বরাবর ।


কালভার্টের ওপর বসে, ধূসরিত কাহিল পা ঝুলিয়ে, আনমনে এইসব দেখছিল অতনু । যে লজঝড়ে বাসটা পাটনা থেকে ভোর পাঁচটায় ছেড়েছিল, তা থেকে এই অজ দিগন্তে নেমে পড়েছে ও । সৌন্দর্য সৃষ্টির আকুতিতে মগ্ন আসন্ন বিকেল-গোধূলির স্নেহময় আকাশ, বাসের জানালায় থতমত বাতাস, বাধ্য করেছিল ওকে এইখানে নেমে পড়তে । সেই তখনই জড়সড়ভাব এসে গিয়েছিল স্হানীয় রোদ্দুরের । একটু পরেই কেয়ারি-করা অন্ধকার গজিয়ে উঠবে ওর চারপাশে, তখন পথ, চলার পথ, দেখা যাবে না বলে হাঁটতে আরম্ভ করবে ও, অতনু । জঙ্গলের কালচে সবুজ মহাফেজখানা পেরিয়ে, গ্রামটা ওইদিকেই ।


ময়লা বলতে যা বোঝায়, অতনুর গায়ের রঙ তার থেকে এক পোঁচ ফর্সা । দু-চোখ প্রায় সব সময় বরফের বুদবুদ, ভেতরে ভেতরে উসখুসে নদীর মুখচোরা স্রোত । গত অঘ্রাণে তেইশে পড়েছে । নোংরা জামা-কাপড় । টো-টো বেড়ানো চটজলদি পিচপথের ধূসর গন্ধমাখা কোলহাপুরি । হাতঘড়ি পরার অভ্যাস, চুড়ি-চুড়ি মনে হয় বলে, আর সময়ের বাদবিচার না-থাকায়, নেই ওর । এই বয়সেই চুলের কিছুটা চিলতে, ডান ঘেঁষে, পেকে গেছে, দুশ্চিন্তায় নয়, চিন্তাহীনতায় । কখনও যেচে আলাপ করে না, কারোর সঙ্গে অতনু । কম কথা বলে । অনেকক্ষণ টানা কথা বলতে পারে না । খেই হারিয়ে যায় । কথা বলতে-বলতে ওর মনে হয়, এঁর সঙ্গে এসব আলোচনা করার মানে হয় না । তরুণীদের এড়িয়ে চ

**********