
ক্যাকটাস
আশাপূর্ণা দেবী
বড় বেশি প্রয়োজনের সময় অপ্রত্যাশিতভাবে সেই প্রয়োজনীয় বস্তুটি হাতে এসে পড়া মানুষের ভাগ্যে দৈবাৎই ঘটে।
ভারতীর ভাগ্যে হঠাৎ সেই দৈবদুর্লভ ঘটনাটা ঘটে গেল। খবরটা পেয়ে ভারতী ভাগ্যের এই অযাচিত করুণায় আহ্লাদে যেন দিশেহারা হয়ে গেল।
আর ওই খবরের পর বাকি যতক্ষণ কলেজের কাজে আটকে থাকতে হলো তাকে, ততক্ষণ সব কাজের মধ্যে পরিকল্পনা চলতে লাগলো তার কোন ভাষায় আর কোন ভঙ্গিতে খবরটা পরিবেশন করবে গিয়ে শিশিরের কাছে।
কতক্ষণে করবে।
সত্যি বাড়ির চিন্তায় যখন অস্থির হয়ে যাচ্ছে ভারতীরা, নিত্যনতুন অপমানের জ্বালায়, গ্লানি ও তিক্ততায় মন ভরে উঠেছে, স্বামী-স্ত্রী দুজনের প্রতিটি ছুটির বারের কাজ হয়েছে বাড়ি দেখতে বেরোনো, এবং খবরের কাগজ খুলে সর্বপ্রথম পঠিতব্য বিষয় হয়েছে ‘বাড়ি ও জমি’র ‘কলাম’, সেই হেন সময় খবরটা যেন বিধাতার হাতের আশীর্বাদী ফুলের মতো।
অবশ্য ‘গৃহসমস্যা’ তাদের হবার কথা নয়, কারণ যে বাড়িটিতে ভাড়া আছে তারা, সে বাড়িটি অনেকাংশেই সুবিধাজনক। কিন্তু কিছুদিন থেকে বাড়িওয়ালারা আর ভারতীদের সুবিধাজনক মনে করছে না।
নিত্যবর্ধিত বাড়িভাড়ার আকাশছোঁওয়া উচ্চহারের খবরে খবরে ওদের মেজাজও আকাশে চড়েছে এই অনেক দিনের ভাড়াটেদের উপর।
অনেক দিনেরই।
ভারতীয় তখনও বিয়ে হয়নি, সেই আমল থেকে এবাড়িতে আছে শিশিররা, বিয়ে হয়ে এই বাড়িতেই বৌ সাজে এসে ঢুকেছে ভারতী। দেখেছে একতলায় বাড়িওয়ালা, দোতলায় শিশিররা। কিন্তু ‘বাড়িওয়ালা’ মাত্র নয়, নিতান্ত আত্মীয়ের মতোই।
শিশিরের মায়ের সঙ্গে বাড়িওয়ালা গৃহিণীর হৃদ্যতার শেষ ছিল না। শিশিরের মায়ের মৃত্যু হলে, তিনিই মা-মাসির মতো ওদের দেখেছেন, যত্ন করেছেন, ‘বৌমা বৌমা’ করে পাঁচবার খোঁজ নিয়েছেন। সুখে-দুঃখে একজন অভিভাবকের মতোই ছিলেন ওঁরা এদের।
কিন্তু কালের গতিকে, সেই ‘নিকটাত্মীয়ই’ অনাত্মীয়ের ভূমিকা অভিনয় করছেন। একসঙ্গে দু’দুটো তোলা উনুন জ্বেলে দিচ্ছেন ভারতীর শোবার ঘরের জানলা লক্ষ্য করে, রাত ন’টা বাজতে না বাজতেই সদর দরজায় তালাচাবি মেরে দিচ্ছেন, ভারতীদের কাপড়-জামা দোতলার বারান্দায় শুকোতে দেওয়া দেখলে ‘মাথায় ঠেকছে’ বলে তারস্বরে আপত্তি জানাচ্ছেন, ভারতীর ছেলের হাতের রবারের বলটা ছিটকে নিচের উঠোনে পড়লে সরাসরি রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন। এবং যখন তখন ভারতীদের কর্ণকুহর ‘তাক’ করে একে ওকে তাকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘আর যা কর তা কর ভাই, মরে গেলেও কখনো বাড়িতে ভাড়াটে বসিও না। ও এমন সর্বনেশে জাত নয়, একবার গেড়ে বসলে জীবনে আর উঠবে না। পুরুষানুক্রমে রয়ে যাবে।’ এমনি আরো অনেক কিছু।
ভাড়াটে বিতাড়ন কাণ্ডের কর্মসূচী অনুযায়ী যা যা করণীয়, তার সবটাই প্রায় করছেন ওঁরা, যা ভারতী বা শিশিরের কাছে মরণতুল্য।
বিশেষ করে ‘শুনিয়ে বলা’ কথাগুলো বড় দুষ্পাচ্য। কর্মগত অপমানের চাইতে, বাক্যগত অপমানটাই যেন অধিক মর্মবিদারী। অথচ তার মাত্রাটা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
কারণটা বোধ করি ওই জগৎ ব্রহ্মাণ্ডের সর্ববিধ মূল্যমান প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা। গত সপ্তাহের কাগজে বিজ্ঞাপন দেখা গেছে ‘দুইখানি ঘর ও রান্না ঘর, বাথরুম, দুইশত পঞ্চাশ—’ এ সপ্তাহে সেই বস্তুই ‘তিনশত পঁচিশ—’ পরবর্তী সপ্তাহে বোধ করি—তা সে যাক, মোটকথা, বরাবরের বন্ধু হঠাৎ শত্রুপক্ষ হয়ে দাঁড়ালে দুঃখের শেষ থাকে না। আর সে শত্রুর মতো নির্লজ্জ হতে বোধকরি চিরশত্রুও পারে না।
এই আজই সকালে হয়ে গেছে একপালা।
দোতলায় ঘণ্টু কী সূত্রে একটু বেশি দাপাদাপি করে ফেলেছিল, হঠাৎ নীচতলা থেকে গিন্নী কণ্ঠে মধু মেখে বলে উঠলেন, ‘বৌমা, অ বৌমা ছেলেকে একটু সামাল দাও মা, গরীবের জীর্ণ বাড়িখানা যে গুঁড়ো হয়ে গেল। ইহজীবনে খালিও তো পাব না কোনোদিন যে একবার মেরামত করিয়ে একটু শক্ত করে নেব।’
ভারতীর তখন কলেজে আসবার সময়, কথা বাড়াল না। পারতপক্ষে বাড়ায়ও না। শুধু বছর আষ্টেকের ছেলেটাকেই করুণ মিনতি জানিয়ে এলো দাপাদাপি না করতে।
কিন্তু আজ ঘণ্টুর স্কুলের কিসের যেন ছুটি, অথচ মা-বাবার ছুটি নেই, এহেন সুবর্ণ সুযোগ তার কিছু আর বেশি আসে না। অতএব ঘণ্টু যে মার মিনতি অগ্রাহ্য করে এবং ঝিকে থোড়াই কেয়ার করে যথেচ্ছাচার করে বেড়াবে সারাদিন, তাতে আর সন্দেহ কি!
কে জানে গিয়ে কী পরিস্থিতি দেখবে ভারতী।
আর আগে আগে? যখন ঘণ্টু আরো ছোট ছিল? ওই ওঁরাই ঘণ্টুকে সারাদিন নিজেদের কাছে রেখেছেন, নাইয়েছেন, খাইয়েছেন, ঘুম পাড়িয়েছেন!
হয়তো তখন ওঁদের ওই আগ্রহ আর আন্তরিকতাটুকুর সাহায্যেই কলেজের চাকরিটা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছিল ভারতীর। ওঁরাই কত আহ্লাদ করে বলেছেন, ‘তোমরাই ধন্য মেয়ে বৌমা! একালের মেয়েরা! এই সংসারের ছিষ্টি করছো, রাঁধছো বাড়ছো, আবার মোটা টাকা ঘরে আনছো! আমরা তো মিথ্যে মানুষ এটুকুও আর করব না?’
চাকা ঘুরে গেছে।
পালা বদল হয়েছে।
এখন বাতাসে কথার তীর ছোঁড়ার খেলা।
এখন ঘণ্টু বাড়ি থাকলে এই ধরনের তীর এসে কানের পর্দা ভেদ করে। ‘চললেন, না চললেন ব্যাগ দুলিয়ে, আঁচল উড়িয়ে, এখন ছেলের দৌরাত্মিতে মরুক পাড়ার লোক! অসহ্য এক জ্বালা হয়েছে বাবা!’
শালীনতাহীন পালিশহীন এই মন্তব্যগুলো তারাই করে, যারা ঘণ্টুকে ‘চাঁদের টুকরো’ বলে আদর করেছে, আর ঘণ্টুর সম্ভাবনাকালে ভারতীকে আচার খাইয়েছে এবং সতর্কতার বহুবিধ উপদেশ দিয়েছে।
হয়তো বা বিয়ের পর বৌ হয়ে আসা ভারতীর ক্রমবর্ধমান বিদ্যা ও তার ফলস্বরূপ একেবারে একটি কলেজের অধ্যাপিকা হয়ে বসার ইতিহাসটাও তাঁদের মনোভঙ্গের আরো একটা কারণ!
কিন্তু সে যাক, সেটা ভারতীর ব্যাপার নয়।
ভারতীর ব্যাপার হচ্ছে হঠাৎ গৃহসমস্যা সমাধানের এক সুবর্ণ সুযোগ এসে গেছে! সেটা হচ্ছে কর্তৃপক্ষ কলেজের হোস্টেল সুপারিন্টেন্ডেন্টের কাজটা ভারতীর উপর ন্যস্ত করাতে চাইছেন, যার ফলে সে বেশ উচ্চমানের একটি কোয়ার্টার্স পাবে।
কলেজটা পুরনো কিন্তু হোস্টেলের বিল্ডিং আনকোরা নতুন, আধুনিক ছাঁদের এবং আধুনিক সুখ-সুবিধার উপকরণমণ্ডিত।
মোটের মাথায় অতীব লোভনীয় সন্দেহ নেই।
প্রস্তাবটা শুনে পর্যন্ত দিশেহার হবারই মতো!
অবশ্য ‘ভেবে কাল উত্তর দেব’ বলেছে তখন, কিন্তু মনে জানছে ভাবাভাবির কিছু নেই, ও কাজ সে ভাল পারবে এ আস্থা আছে নিজের উপর। এ ধরনের কাজে প্রধান হচ্ছে তো ভাল ব্যবহার? অবশ্যই ফেল হবে না সে। তারপর ব্যবস্থাপনা!
আটকাবে না, ঠিক চালিয়ে নেবে।
বাড়ি ফেরার সময় ‘উত্তর দেবার’ আগেই ভারতী মনে মনে তার কর্মপদ্ধতির ছাঁচ গড়তে থাকে।
ফিরে দেখলে ঘণ্টু খেলতে বেরিয়ে গেছে, ঝি উনুন ধরিয়ে দুধ জ্বাল দিচ্ছে।
ঘুঁটে কয়লার উনুন।
দেখামাত্রই মনে পড়ল ভারতীর ওখানে গ্যাসস্টোভ! কী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, কী সহজ সুন্দর! পুরনো সংসারের ধারা আর অবশিষ্টাংশ নিয়েই সংসার করে এলো এতদিন ভারতী, নিজস্ব আধুনিক রুচি পদ্ধতির প্রয়োগ করতে পেল না কখনো, এবার ভাগ্য মুখ তুলে চেয়েছে!
ঝিকে বললো, ‘সারদা, ঘণ্টুকে দুধ না খাইয়ে ছেড়েছ কেন?’
সারদা অধ্যাপিকার মানমর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব মাত্র না নিয়ে ঝঙ্কার দিয়ে উঠলো, ‘বেশ বলেছ বৌদিদি, ছাড়লে কেন।’ তেমনি সুবোধ ছেলে যে তোমার ছাড়লে বেরোবে, না ছাড়লে ঘরে বসে থাকবে!’
‘তা হোক, দুধটা খাওয়া পর্যন্ত ধরে রাখার চেষ্টা করা উচিত ছিল তোমার। ওর ছুটি থাকলেই মুশকিল আমার। সারাদিন খুব দুষ্টুমী করেছে তো?’
‘দুষ্টুমী!’ সারদা আরো ঝঙ্কার দেয়, ‘ডাকাতি’ বলো। বাড়িওয়ালা গিন্নী তো ওপরে উঠে এসে যাচ্ছেতাই করে গেছে।’
এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়।
ভারতী শুনে লজ্জিত হয়, মনঃক্ষুণ্ণ হয়, ছেলেকে বকে। আজ মনে হলো, আশ্চর্য! ছোট বাচ্চা দৌরাত্ম্যি করবে না? তাই বলে তিনি ঠেলে উঠে এসে যাচ্ছেতাই করে যাবেন? এতো সাহস কেন? না, আমরা নিজের মানসম্ভ্রম রক্ষা করতে পারছি না, তেজ দেখিয়ে নাকের উপর দিয়ে চলে যেতে পারছি না, এই তো?
ঠিক আছে, দ্বিধার প্রশ্ন নেই, কালই উত্তর দিয়ে দেব।
ছটফট করতে থাকে শিশিরের ফেরার অপেক্ষায়।
আর একবার রিহার্সাল দিয়ে নেয় মনে মনে, কী ভাবে পরিবেশন করবে খবরটা।
একটু হেসে একটু বিব্রত ভাব দেখিয়ে—
হ্যাঁ, একটু হেসে, একটু বিপন্ন ভাব দেখিয়ে বলে ওঠে, ‘কলেজে তো আজ একটা ব্যাপার—’
শিশির হেসে বলে, ‘তোমাদের কলেজে তো রোজই ব্যাপার। হলো কি?’
‘না মানে অন্য কিছু না, আমার কাছেই একটা প্রস্তাব এসেছে।’
‘আরে বাবা, তুমি যে সেই গল্পের ‘আস্তে আস্তে ভাঙো’র মতো করছো! প্রস্তাবটা কি? বিলেত পাঠাতে চাইছে তোমায়?’
‘তোমার তো সব সময় আমাকে নিয়ে ঠাট্টা। শোনো মশাই, বলি, তাহলে। আমাকে উক্ত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী আবাসের পরিচালিকা করতে চাইছে।’
শিশির অবাক গলায় বলে, ‘তাই না কি? হঠাৎ তোমাকেই এমন যোগ্য ব্যক্তি মনে হলো যে?’
‘যোগ্যতা দেখেছে নিশ্চয় —’ ভারতী নিতান্ত তরুণীর ভঙ্গিতে ঘাড় দুলিয়ে হেসে হেসে বলে, ‘ভিতরে আছে গুণ! তুমিই শুধু দেখতে পাও না।’
‘তাই দেখছি। তা তুমি ফট করে হ্যাঁ করে আসোনি তো?’
করে অবশ্য আসেনি ভারতী, কিন্তু শিশিরের কথার সুরে হঠাৎ একটু বিরক্তি এলো তার। যেমন উৎফুল্ল হবার কথা, হল না তো! অবশ্য আসল আকর্ষণটা শোনেনি এখনও। মানে, জানা কথা হলেও মনে আসেনি নিশ্চয়। তবু বিরক্তিটা দমন করতে পারলো না। বললো, কেন, হ্যাঁ করে আসায় দোষের কি আছে?’
শিশির বুঝলো ভারতী চটেছে।
কিন্তু কেন কে জানে শিশির আজ আর তাতে ভয় খেল না, নিজেকে সামলে নিল না, বরং যেন মজা পেল। তবে কথা বললো গম্ভীরভাবে, না দোষের আর কি, তবে— কাজটা খুব সহজ নয়।’
‘তা শক্ত কাজেই তো আনন্দ!’
‘সে আলাদা! সে তোমার হয়তো শক্ত অঙ্ক কষায়। এটা ঠিক তা নয়! রীতিমতো গোলমেলে কাজ।’
ভারতী হেসে ওঠে, ‘নিজে গোলমেলে হলেই গোলমেলে। নিজে অনেস্ট থাকলে, ‘মাল’ নিয়ে ‘গোল’ না করলে, অসুবিধেটা কি?’
‘তা ভেবো না! মনে রেখো মেয়েগুলি এ যুগের ‘স্টুডেন্ট’! যাদের ইষ্টদেবতা হচ্ছেন অসন্তোষ, আর দীক্ষামন্ত্র হচ্ছে প্রতিবাদ!’
ভারতী দৃঢ় গলায় বলে, ‘এটাও যুগের একটা ফ্যাসান! এই স্টুডেন্টদের নিন্দে করা! তারা যা দেখছে তাই শিখছে। আমরা নিজেরাই বা কী এমন ধৈর্য স্থৈর্য সন্তোষ সভ্যতার আদর্শ ধরছি এদের সামনে? নিজেরা ‘শিক্ষিত দীক্ষিত অবিকৃত চিত্ত’ হয়ে দেখাতে পারলে বোঝা যেত আসল গলদ কোথায়। তা যাক গে, আমাদের মেয়েরা অমন নয়। আমায় মেয়েরা কী ভালবাসে!’
‘ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তনও ঘটে—’ শিশির হেসে ওঠে, ‘মাসীমা’ও তোমায় কী ভালবাসতেন। বৌমা বলতে অজ্ঞান হতেন!’
ভারতীও হাসে। বলে, হ্যাঁ, ও একখানি দৃষ্টান্তের পরাকাষ্ঠা আছে বটে! তা হলেও অফারটা আমি ছাড়ব না বাবা! ওর বিরাট আকর্ষণটি ছাড়া চলবে না! অন্তত আমাদের মাসীমার হাতে ছাড়াতে পারা যাবে, শুধু এই আনন্দেই। কাজটা নেওয়া মানেই—একটি সুন্দর সুদৃশ্য সুরম্য বাসভবন—’
হ্যাঁ, এইভাবেই রিহার্সাল দিয়ে রেখেছিল ভারতী! এতক্ষণে বলবার সুবিধে পেল। ভাবলো, এইবার আলো জ্বলে উঠবে শ্রোতার মুখে।
কিন্তু কই?
সে আশা কোনো এক অদৃশ্য দেয়ালে প্রতিহত হয়। শিশির বলে, যেন বিদ্রুপ মিশিয়ে বলে, ‘বাসভবনটা নিচ্ছ তাহলে?’
‘আরে! লোকটা বলে কি!’ ভা