
রাতের পাখি
আশাপূর্ণা দেবী
১ মৃত্যুর মন্থর পদধ্বনি
বহুদিন থেকে মৃত্যুর মন্থর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছিল দূরবর্তী বলদের গলার ঘণ্টাধ্বনির মতো। যেন নিয়ে যাবার গাড়ি আসছে প্রস্তুত হয়ে, সময় হাতে থাকার অলস মন্থরতায়।
হঠাৎ হঠাৎ কোনও এক সময় সে ধ্বনি অস্পষ্ট হয়ে গেছে, মনে হয়েছে বুঝি থেমে গেল। হয়তো ও গাড়ি আর আসবে না, ভুল রাস্তায় আসছিল ভেবে ফিরে গেছে। আবার হঠাৎ একদিন শোনা গেছে। সেই আওয়াজ, দ্রুত স্পষ্ট। যেন অনেক ক্ষণের শিথিলতার ক্রটি সামলে নিচ্ছে।
এরা তখন অনিবার্যের আশঙ্কায় সন্ত্রস্ত হয়ে উঠছে, ভয় পেয়েছে, দরজায় মুখ বাড়িয়ে দেখেছে, কিন্তু চাকার ধুলো ছাড়া আর কিছু চোখে পড়েনি।…
ক্রমশ এরা উদ্বিগ্ন হওয়ার অভ্যাসটা ছেড়েছে। রাত্রে উৎকর্ণ হয়ে থাকতে ভুলে গেছে। নিশ্চিন্ত জেনে নিয়েছে সকালে ঘুম ভেঙে উঠে চিরস্থায়ী ওই দৃশ্যটা দেখতে পাবেই। দেখতে পাবে, সামনের ওই ঘরটায় উঁচু পালঙ্কের উপর ফরসা ধবধবে বিছানায় বালিশে কনুই ঠেকিয়ে আধবসা হয়ে শুয়ে আছেন প্রিয়মাধব। দৃশ্যটা যেন অনন্তকালের পৃথিবীরই একটা অচ্ছেদ্য অংশ।
প্রিয়মাধব পালঙ্কের উপর আধবসা হয়ে শুয়ে আছেন। প্রিয়মাধবের সেই পালঙ্কের মাথার কাছের বাজুতে একখানা পাটকরা ফরসা তোয়ালে ঝোলানো আছে, আর প্রিয়মাধবের সামনে একটা নিচু গোল টেবিল আছে যার উপর থরে থরে সাজানো আছে শিশি বোতল কৌটো। প্রিয়মাধবের খাটের নীচের দিকে একটু তফাতে দেয়ালের গা ঘেঁষে একটা মাঝারি মাপের জালের আলমারি আছে, তার মাথার উপর প্রিয়মাধবের খাবারের প্লেট, গ্লাস, চামচ, ফিডিংকাপ, জল রাখবার কাঁচের জার সাজানো আছে, আর তার ভিতরে প্রিয়মাধবের মজুত করা খাদ্যবস্তু আছে। জানা কথা, ওটা হাতড়ালে আচার আমসত্ত্ব থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি অন্তত একশো জিনিস মিলতে পারে।
প্রিয়মাধবের পালঙ্কের ওধারে দুটো জানলার মাঝখানে একটা আলনা আছে, তার গায়ে প্রিয়মাধবের জামা কাপড় গেঞ্জি গোছানো আছে, কোণের কোনাচেগড়ন বুকসেলফটায় কয়েকখানা মোটা-সোটা ভারী বাঁধাই ইংরেজি বই আছে, যার মলাটের নামটা একসময় সোনার জলে লেখা ছিল, এখন বিবর্ণ আর অস্পষ্ট হয়ে গেছে।বই
এ ছাড়াও প্রিয়মাধবের ঘরে একটা ছোট্ট স্টিলের লকার’ আছে, যার চাবিটা এখনও প্রিয়মাধবের আয়ত্তে। আর একটা বেতের চেয়ার আছে, যেটায় তাঁর নার্স বসে। প্রিয়মাধব কত কত কাল যেন মাটিতে পা ঠেকাননি, তবু তাঁর খাটের পায়ের কাছে পাপোশের উপর এক জোড়া চটিজুতো সাজানো আছে।
প্রিয়মাধবের ঘরের এই দৃশ্যের পরিবর্তন নেই, ঘরের কোনও জিনিস এক ইঞ্চি এদিক-ওদিক করতে দেন না প্রিয়মাধব। শুধু খুব ভোরবেলায় এ-ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালে দেখা যায় ওঁর ওই ওষুধের টেবিলের কাছে একটা টুল পড়েছে। এবং তার উপর বড় একটা এনামেলের গামলা বসানো হয়েছে প্রিয়মাধবের মুখ ধোওয়ার জন্যে।
নার্স মুখ ধুইয়ে দিয়ে সেটা সরিয়ে নিয়ে যেতে এক মিনিট দেরি করলেই প্রিয়মাধব বিদ্রুপের গলায় বলেন, নার্স, এই দৃশ্যটা কি তোমার খুব সুন্দর বলে মনে হচ্ছে? নার্সের একটা নাম আছে, সেটা এমন কিছু দুরুচ্চাৰ্য নয়। নিজে সে অনেকবার বলেছে, আপনি আমায় নীহার বলেই ডাকবেন। প্রিয়মাধব সে অনুরোধ রাখেননি। ওই বিদ্রুপের ভঙ্গিতেই বলেছেন, চিরকাল তুমি আমার পরিচর্যা করবে এ গ্যারান্টি দাও তো নামটা মুখস্থ করার কষ্ট স্বীকার করি। ছমাস পরে আবার কে আসবে, আবার আমি তার নাম মুখস্থ করতে বসব, ঝুটমুট অত খাটতে পারব না।
নার্স অবশ্য চিরকালের গ্যারান্টি দেয়নি। অতএব নার্সই বহাল আছে। ছেলের কাছে এ গল্প করে হেসেছেন প্রিয়মাধব। বলেছেন, মেয়েমানুষ জাতটার এই এক দোষ বুঝলি, কিছুতেই কোনও একটা সম্পর্ক না পাতিয়ে স্বস্তি পায় না। যেই আমি নাম ধরে ডাকতে শুরু করব, ও-ও তক্ষুনি মেসোমশাই কি কাকাবাবু ডাকতে শুরু করবে নির্ঘাত। কী কাজ বাবা আমার অত ঝামেলায়?
প্রিয়মাধবের ছেলে অরুণমাধব অবশ্য ওই ডাকটাকে খুব একটা ঝামেলার ব্যাপার বলে ভাবেনি। নীহারের মতো একটি সভ্য-ভব্য ভদ্র মেয়ে যদি প্রিয়মাধবকে মেসোমশাই কি কাকাবাবু ডাকে, সেটা খুব একটা বিরক্তিকর বলেও মনে হয়নি তার। তবু সে বাবার কথার প্রতিবাদ করেনি, শুধু বাবার এও একটা বাতিক ভেবে মৃদু হেসেছিল।
এ ঘরে, নিজেদের দিকে তারা নীহারকে বাড়ির অতিথির মতোই স্নেহ সম্মান দেয়, তার সঙ্গে ভালভাবে কথা বলে, কিন্তু বাবার ঘরে নীহার সম্পর্কে নির্বিকার থাকতে হয়। অনেক সময় মিথ্যা ধমকের ভানও দেখাতে হয়। হয়তো বলতে হয়, এ কী? বিছানার চাদরটা কি আজ পালটানো হয়নি? ফ্রেশ দেখাচ্ছে না তো? অথবা, কী আশ্চর্য, ফলগুলো অমন খোলা ফেলে রেখেছেন কেন? এই এক গাফিলি আপনাদের!
এটা নীহারেরই শিক্ষা।
নীহারই বলে রেখেছে, বকবেন, ওঁর সামনে আমাকে খুব বকবেন। এটা ওঁর ওষুধের কাজ করবে।
অরুণমাধবের বউ উত্তরা অবাক হয়ে বলেছিল, কেন বলুন তো?
তাই হয়।নীহার হেসে বলেছিল, বেশি দিন বিছানায় পড়ে থাকতে থাকতে মানুষের মেজাজ তিক্ত হয়ে ওঠে। আর তার উপরই সব থেকে বেশি রাগ হয়, যে এই অসহায় অবস্থার সাক্ষী। অতএব সবাই মিলে তাকে বকছে গাল দিচ্ছে, এটা দেখতে ভাল লাগে।
উত্তরা নিশ্বাস ফেলে বলে, কী জানি বাবা!
নীহার হেসে বলে, আমরা জানি। দেখে দেখে অভ্যাস তো, তা ছাড়া পড়েও তো আছেন কম দিন নয়।
না, কম দিন নয়।
উত্তরার বিয়ের পর বছরখানেক মাত্র শ্বশুরকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে উত্তরা। আবার খুব বেশিরকমই দেখেছে। সেই বয়েসে তখনও যেন ইয়ংম্যান। ছেলের চাইতে এনার্জি বেশি, খাওয়া বেশি, কর্মক্ষমতা বেশি। শাশুড়ি ছিলেন, তাঁর সঙ্গে প্রেমের নিবিড়তাও কম দেখেনি। আদৌ কর্তা-গিন্নির মতো নয়, যেন তরুণ-তরুণী।
সহসা একদিন অকস্মাৎ ঘটে গেল বিপর্যয়। সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলেন প্রিয়মাধব। দুটো সিঁড়ি টপকাতে টপকাতে উঠে এসেই পড়লেন অজ্ঞান হয়ে। সহজে ভাঙল না।
তোলপাড় পড়ে গেল। ডাক্তারে বাড়ি বোঝাই হল, তাঁরা রায় দিলেন, কারণটা রক্তচাপ বৃদ্ধি। তলে তলে কখন শিরায় শিরায় প্রবাহিত রক্ত মস্তিষ্কের কোষে কোষে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে, আর নামতে পারেনি। কখন হয়েছে কে জানে সে খবর। প্রিয়মাধব নিজেও তো টের পাননি।
তদবধি প্রিয়মাধবের ওই পালঙ্কশয্যা।
ওই এক দৃশ্য।
শুধু তখন নীহারের জায়গায় ছিলেন শাশুড়ি সুমিতা। স্বামীসেবার এমন গভীর বেদনাময় রূপ কদাচ দেখা যায়। প্রতিটি মুহূর্তের সতর্কতা দিয়ে ঘিরে রাখতেন তিনি স্বামীকে, প্রতিটি পলক ফেলতেন উল্কণ্ঠার দৃষ্টি নিয়ে।
নিজের নাওয়া খাওয়া ঘুম গেল ভদ্রমহিলার। একটা সেবার যন্ত্রের মতো হয়ে যেতে লাগলেন ক্রমশ।
অরুণমাধব কত অনুযোগ করেছে, মা, তুমিও কি বিছানায় পড়তে চাও?
সুমিতা বলেছেন, পড়ে যদি উঠতে না হয় এক্ষুনি পড়তে চাই বাবা!
তা হলে তো তুমি খুব স্বার্থপর মা! বাবাকে যে এত সেবা করছ সবই ভুয়ো।
তুই তো আছিস সেবা করতে, বলতেন সুমিতা। আর বলতেন, আর ভুয়ো তো সবই রে, কোনটা ভুয়ো নয়? তুই ঠিকই দেখবি বরং—
মার উক্তিতে মাঝে মাঝেই এমন দার্শনিক স্পর্শ থাকত। অরুণ আমল দিত না। বলত, তোমার কাছে আমি? যাই বলল মা, নিজেকে এমন অযত্ন করাটা খুব অন্যায় হচ্ছে তোমার। বাবার জন্যেই। নিজেকে খাড়া করে রাখতে হবে তোমায়।
এ রকম কথায় হঠাৎ হঠাৎ ভারী অদ্ভুতভাবে হাসতেন সুমিতা। বলতেন, তাই তো রেখে এলাম রে এ-যাবৎ।
অরুণ মার ওই হাসি দেখে অবাক হত।
অরুণমাধব ভেবে পেত না, এ-যাবৎ খাড়া থাকবার মানেটা কী? বাবাই তো এত বেশি খাড়া ছিলেন যে যুবকপুত্র অরুণই যেন মূল্যহীন হয়ে পড়ত।
সুমিতা তাঁর ছেলের সাবধানবাণীতে কান দেননি। সুমিতা তিল তিল করে ক্ষয় করেছিলেন নিজেকে। প্রিয়মাধবের অসুখে পড়ার তিন বছরের মাথায় মারা গিয়েছিলেন সুমিতা।
খুব একটা কিছু অসুখ করল না, বিছানাতেও পড়লেন না বেশি দিন। দিন চার-পাঁচের জ্বরে মারা গেলেন। প্রিয়মাধবের ওঠবার ক্ষমতা ছিল না। প্রিয়মাধব পাথরের মতো বিছানায় পড়ে থাকলেন। পাশের খাট থেকে তাঁর চিরদিনের সঙ্গিনীকে আলতা-সিঁদুর পরিয়ে চিরদিনের মতো নিয়ে যাওয়া হয়।
উত্তরা তখনও প্রায় নতুন বউ-ই, অত কিছুই জানত না।
নিরুপায় হয়ে নিজের মাকে আনিয়েছিল শাশুড়ির অসুখের সময় থেকেই। তিনিই আলতা আনালেন, সিঁদুর আনালেন, চওড়া লাল পাড় গরদের শাড়ি আনালেন, আর সবাইকে ডেকে ডেকে বলতে লাগলেন, দেখুন সবাই, ভাগ্যটা দেখুন। ওই অনড় স্বামীকে রেখে সতীলক্ষ্মী স্বর্গে গেলেন।
অবশ্য যাদের শোনালেন, প্রায় সকলেই তারা পাড়াপড়শি বন্ধু। আত্মীয় খুব কমই আছে প্রিয়মাধবের, সুমিতার দিকে তো আদৌ ছিলই না। মা নেই বাপ নেই। একটা যমজ বোন ছিল, তাও অল্প বয়েসে বিধবা, সেও কোনকালে মারা গিয়েছিল। সুমিতার কাছেই নাকি মারা গিয়েছিল নমিতা। যমজের হিসেবে এক ঘণ্টার ছোট বোন সুমিতার। প্রিয়মাধব তখন চা বাগানের ম্যানেজার, আসামের এক চা-বাগানে থাকেন।
সুমিতা বলেছিল, শ্বশুরবাড়িতে নমিতার কষ্টের সীমা নেই। শাশুড়ি অপয়া বলে গঞ্জনা দেয়, আর দেওররা ওর বিষয়-ভাগ ঠকিয়ে নেবার তালে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে যন্ত্রণা দেয়। তুমি যদি ওর বিষয়-সম্পত্তির ব্যাপারটা বুঝেপড়ে দেওরদের থেকে আলাদা করে নিয়ে আমাদের সঙ্গে নিয়ে চলো, বেঁচে যায় বেচারা। কিছু যদি কমও পায়, তাই পাক। আমাদের তো অভাব নেই?
প্রিয়মাধব বলেছিলেন, আমরা নিয়ে যেতে চাইলে ওর শ্বশুরবাড়ি থেকে রাজি হবে কেন?
সুমিতা রাগ করেছিল।
বলেছিল, রাজি হবে কি হবে না সে কথাও ভাবতে হবে কেন? আছে কে সেখানে? শশুর না, ভাশুর না, পাজি দুটো দেওর আর নিষ্ঠুর এক শাশুড়ি। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়েই চলে আসবে। আমি ছাড়া আপন বলতে ওর কে আছে বলো?
বাপের বাড়ির দিকে টানের বলতে সুমিতারও তত আর কেউ ছিল না, বোন বলে খুব একটা মায়া ছিল।
নমিতার দেওররা নমিতাকে বিষয়ের ভাগ দেবার জন্যে উদগ্রীব ছিল না। সামান্য একটা থোক টাকা দিয়ে ওর ভাগটা লিখিয়ে নিয়েছিল। এবং বেপরোয়া গলায় হেসে প্রিয়মাধবকে বলেছিল, নিয়ে যান না মশাই, আমরা তো বেঁচে যাই। রাতদিন আমার বুড়ো মায়ের সঙ্গে অশান্তি করছেন।
প্রিয়মাধব রেগে বলেছিলেন, অশান্তি করছে নমিতা? অশান্তি করবার মেয়ে ও?
দেওর আরও অসভ্য হাসি হেসেছিল, দেখবেন গিয়ে কেমন মেয়ে। ঘর করে দেখবেন। ডাইনে-বাঁয়ে চিনির নৈবেদ্য নিয়ে চলেছেন যখন।
লোকটার ওই দাঁতের উপর একটা ঘুষি বসিয়ে সব কটা দাঁত ভেঙে দেবার ইচ্ছে সংবরণ করে চলে এসেছিলেন প্রিয়মাধব।
নমিতার যতদিন বিয়ে হয়নি, আর নমিতা যে কদিন সধবা ছিল, প্রিয়মাধব নিজেই এ-ঠাট্টা করতেন। হেসে হেসে বলতেন, তোমরা কদাচ দুজনে একরকম শাড়ি পোয়রা না বাপু! আমি হঠাৎ গুলিয়ে ফেলতে পারি। বলতেন, তোমাদের দুই বোনকে নিয়ে কোথাও যাওয়া আমার বিপদ, লোকে ভাববে ডাইনে-বাঁয়ে চিনির নৈবিদ্যি নিয়ে চলেছে লোকটা, বেড়ে ভাগ্যখানা তো!
কোথাও যাওয়া ব্যাপারটা সুমিতার সঙ্গেই হত নমিতার, কুমারী থাকতে, বিয়ে হয়েও। নমিতার উকিলবর বেজায় গম্ভীর গম্ভীর ছিল। তা ছাড়া এক ঘণ্টার দিদি হয়েও সুমিতা সত্যিই বড় বোনের মতো স্নেহময়ী ছিল। কোনও আমোদ-আহ্লাদ একা ভোগ করে সুখ পেত না।
সিনেমা-থিয়েটারে নিয়ে যাবে বলে নিজে গাড়ি ভাড়া করে গিয়ে নমিতার বরের অনুমতি আদায় করে নমিতাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসত। তখন প্রিয়মাধবের চা বাগানের চাকরিটা হয়নি। কলকাতাতেই কোথায় যেন কাজ করতেন।
অসম্ভব স্ফুর্তিবাজ, অসম্ভব প্রাণ-চঞ্চল, আর অসম্ভব শক্তিমান প্রিয়মাধব দুই বোনকে একসঙ্গে দুহাতে তুলে ফেলতে পারতেন কোমর ধরে।
নমিতা হাত পা ছুঁড়ে নেমে পড়ে বলত, দিদি না হয় আপনার বউ, ওকে বাঁদর-নাচ নাচাতে