রহস্যভেদ – আশালতা সিংহ

রহস্যভেদ – আশালতা সিংহ

রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়

রহস্যভেদ – আশালতা সিংহ

Books Pointer Iconরঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়
Books Pointer Iconuncategorized

Posted byকমলা কান্ত18-Aug-2025

Change color

রেল লাইনের ধারে খানিকটা পোড়ো জমি। একটা সরু রাস্তা এঁকে বেঁকে চলে গেছে ঝোপ ঝাড় জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। সেই রাস্তা দিয়ে সামান্য কিছুদূর গেলেই শৈলেন চৌধুরীর ছোট বাড়িখানি ছবির মত। সামনে একটুকরো বাগান। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুদৃশ্য বাড়ি। লোকে বাড়িখানা দেখলেই বলবে, একজন শিক্ষিত সুকুমার রুচি ভদ্রলোকের বাড়ি।এর বেশি আর কিছু তার মনে হবে না। কিন্তু শৈলেন চৌধুরীর ইতিহাস বড় ভয়ঙ্কর। তার এই সুন্দর বাড়ি এবং মনোরম বাগানের পিছনে যে কত নরহত্যা কত রাহাজানি, খুন এবং ডাকাতির কাহিনী জড়িত হয়ে আছে তার ইয়ত্তা হয় না। কিন্তু শৈলেন সাবধানী এবং হিসেবী ও অত্যন্ত বুদ্ধিমান। এ পর্যন্ত ওই সব উপায়ে যত টাকা সঞ্চয় করেছে, সে টাকাগুলো লাভজনক ব্যবসায়ে খাটিয়ে তার বেশ আয় হয়। আর এ পর্যন্ত পুলিশ হাজার চেষ্টা করেও তাকে ধরতে পারেনি। এমনকি শৈলেন চৌধুরীই যে নানা ছদ্মবেশে নানাস্থানে কত অপকীর্তি করে বেড়িয়েছে সে খবর পুলিশ জানে না। শৈলেন ভদ্রসমাজে মেলামেশা করে, মাঝে মাঝে কলকাতায় যেয়ে সিনেমা থিয়েটার দেখে আসে। কেউ জানে না যে ওই সুবেশ ভদ্রলোকটি কী করেছে! কত লোকের ধন অপহরণ করেছে, কত লোককে প্রাণে মেরেছে। কিন্তু মধ্যে মধ্যে কলকাতায় যেয়ে আমোদ প্রমোদ করে এলেও, থাকে সে কলকাতা থেকে কয়েক স্টেশন দূরে ছোট একটি মফঃস্বল শহরে। আর তার বাড়িটাও একেবারে ফাঁকায়—জনবিরল স্থানে। খানিকটা পতিত জমি পার হয়ে। তার বাড়ির আশেপাশে চারিদিকে কোথাও মনুষ্যের বসতি নাই।


আমরা যেদিনের কথা বলছি সেদিন আকাশে মেঘ করেছে। মেঘলা রাত্রি, চাঁদ নেই। চারিদিকে সূচিভেদ্য অন্ধকার। থেকে থেকে ঝোড়ো হাওয়া দিচ্ছে। শৈলেন রাত আটটার ট্রেনে কলকাতা যাবে। আজকের এই ঠাণ্ডা দুর্যোগের রাতে সে হয়তো বাড়ি ছেড়ে বার হতো না। কিন্তু বিশেষ দরকারে আজই তাকে যেতে হবে। দিনকতক আগে সে কতকগুলো জিনিস চুরি করেছিল। চোরাই সেই দামী মালগুলো সম্বন্ধে একটা যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। ট্রেনের তখনও দেরি ছিল, সবেমাত্র সাতটা বেজেছে, আর স্টেশন তো মাত্র তার বাড়ি থেকে মিনিট পাঁচেক রাস্তা। যাত্রার আয়োজন প্রস্তুত। বাইরে বসবার ঘরে তার বিছানা এবং বাক্স বাঁধা হয়ে রয়েচে। শৈলেনের একমাত্র চাকর রঘুবীর শহরে গেছে হাট করতে। হাটবারে সে হাটে যায় এবং একেবারে সপ্তাহের মত জিনিসপত্র কিনে নিয়ে আসে। রঘুবীর ছাড়া শৈলেনের সংসারে আর দ্বিতীয় প্রাণী নেই। রঘুবীরই তার চাকরের কাজ, খানসামার কাজ, রাঁধুনির কাজ সমস্তই করে। মাইনেটা কিছু বেশি লাগে বটে কিন্তু এতেই শৈলেনের সুবিধে। কারণ তার যা পেশা তাতে যতদূর সম্ভব একাকী ও নির্জনে থাকা চাই। মোটের উপর যে সন্ধ্যেতে আমাদের গল্পের শুরু সেদিন শৈলেনের বাড়ি একেবারে নির্জন। রঘুবীর সম্ভবত এ দুর্যোগের রাত্রিতে আর ফিরবে না। কাল সকালে আসবে। যদি বা ফেরে প্রায় তিন মাইল রাস্তা অতিক্রম করে হাটবাজার সেরে তার আসতে কোন্‌ না রাত দশটা এগারটা হবে। শৈলেন ট্রেনের অপেক্ষায় বাগানের গেটের সামনে পায়চারি করছিল। বৃষ্টি তখনও শুরু হয়নি। উদ্দাম ঝোড়ো হাওয়ার মাঝে ঘুরে বেড়াতে তার খুব ভাল লাগছিল। এমন সময় কে একটি পথিক গেটের সামনে এসে তাকে জিজ্ঞেস করলে, মশায়, স্টেশনে যাবার রাস্তাটা কোনদিকে বলে দিতে পারেন?


পথিকের চোখে চশমা। হাতে একটা ছাতা এবং চামড়ার ব্যাগ। লোকটি বাংলা ভাষাতেই কথা বললে বটে কিন্তু তার পরনে আগাগোড়া নিখুঁত সাহেবি পোশাক পরিচ্ছদ। মুখে পাইপ।


শৈলেন তার টর্চটা জ্বাললে। টর্চের আলোতে লোকটার চেহারা আগাগোড়া দেখেই চিনতে পারল। প্রায় মাস খানেক আগে কলকাতার এক বিখ্যাত জুয়েলারির দোকানে সে ছদ্মবেশে ডাকাতি করতে যায়, কিন্তু নানা কারণে বিশেষ কিছুই নিতে পারেনি, এ লোকটি সেই দোকানেরই ম্যানেজার। এবং সম্ভবত ওই চামড়ার সুবিপুল ব্যাগটির ভিতর এমন সব জিনিস ঠাসা আছে যার দাম হয়তো লক্ষ টাকারও অধিক। লোভে শৈলেনের চোখ দুটো জ্বলে উঠল। কিন্তু মুখে সে নিস্পৃহ সুরে বললে, আপনি স্টেশনে যাবেন? তা এই পোড়ো মাঠটা পেরিয়ে বাঁদিকে একটা রাস্তা গেছে, সেইটে ধরে বরাবর ডান হাতি গেলেই—


পথিক ত্যক্ত সুরে বললে, আর মশায় ঘণ্টা তিন চার ধরে ক্রমাগত ঘুরে ঘুরে হয়রান হয়ে গেছি। কতলোকে যে কত রকম রাস্তা বলছে! আমি প্রায় মারা যাবার যোগাড়। তার উপর সঙ্গের এই ভারী ব্যাগটি। আমি ওষুধের এজেন্ট কিনা, ব্যাগে ভর্তি নানা রকম ওষুধের নমুনা।


শৈলেন মনে মনে বললে, ওষুধের ভারে তোমার ব্যাগ ভর্তি না মাথা! বুঝেছি ব্যাপার। বিদেশ বিভূঁয়ে এসেছ, সঙ্গে যে বিশেষ মূল্যবান হীরা জহরত আছে তা কাউকে জানতে দিতে চাও না। বিশেষ করে এই মাসখানেক আগেই আমারই কল্যাণে যে ব্যাপারটি ঘটেছিল তোমাদের জুয়েলারির দোকানে!


কিন্তু মুখে সে অত্যন্ত বিনয় দেখিয়ে বললে,তাই তো, আপনি দেখছি বিদেশী লোক, এ অঞ্চলের পথ ঘাট মুখে বলে দিলেও চিনবেন না। আচ্ছা, আমাদের এ পাড়াগ্রাম অঞ্চলে হঠাৎ কি প্রয়োজনে আপনার আসা?


পথিক বললে, এখানকার জমিদার রামকান্ত বাবুকে তাঁর আদেশক্রমে আমি কয়েকটি ওষুধের নমুনা দেখাতে এনেছিলাম। কাজ হয়ে গেছে, তাই ফিরে যাচ্ছি। তাঁরা গরুর গাড়িতে আসতে বলেছিলেন, আমি সম্মতি হইনি। সঙ্গে লোক দিতে চাইছিলেন তাও ফিরিয়ে দিয়েছি। এখন দেখছি, ভাল কাজ করিনি।


শৈলেন মনে মনে বললে, আর ন্যাকা সাজতে হবে না। বুঝেছি সব ব্যাপারটা স্পষ্টই। জমিদার রামকান্তের দুই ছেলের এক সঙ্গে বিয়ে এই মাসে। বুড়ো নিজে দেশ ছেড়ে এক পা নড়তে পারে না, তাই তোমাদের ফরমাশ করেছিল দামী দামী গয়না নিয়ে এসে দেখাতে। ওই ব্যাগটাতে আছে সেই সব বস্তু।


মুখে সে বললে, আপনি কোন ট্রেনে কলকাতা যাবেন? আটটার ট্রেনে? তা এক কাজ করুন না কেন, আমার এই বসবার ঘরে হাত পা ছড়িয়ে খানিকক্ষণ আরাম করুন। আমিও আজ ওই আটটার ট্রেনে কলকাতা যাচ্ছি। বেশ দুজনে এক সঙ্গে স্টেশনে যাওয়া যাবে’খন। ট্রেনের এখনও ঘণ্টাখানেক দেরি রয়েছে। সে সময়টা ওয়েটিংরুমে অপেক্ষা করার চেয়ে আমার বাড়িতেই বসুন। অবশ্য যদি না আপনার আপত্তি থাকে। তাছাড়া স্টেশনের রাস্তা এই অন্ধকার ঝড়ের রাত্রিতে মুখে বলে দিলেও আপনি যখন চিনে নিতে পারবেন না।


একটুখানি অপেক্ষা করে পথিক রাজী হয়ে গেল। বস্তুত সে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল এবং এই অন্ধকার রাতে ব্যাগটা হাতে করে অনির্দিষ্টভাবে ভুল রাস্তায় ঘোরাঘুরি করা সমীচীন বলে বোধ করলে না।


দুজনে মিলে বসবার ঘরে এসে বসল। শৈলেন মিষ্টস্বরে জিজ্ঞেস করলে, ততক্ষণ আপনি এক পেয়ালা চা আর খানকতক বিস্কুট খাবেন কি? নিশ্চয়ই পথে বিপথে ঘুরে ঘুরে আপনি হয়রান হয়ে গেছেন।


পথিক অস্ফুট স্বরে দু’একবার বিনীত আপত্তি করল, কিন্তু স্পষ্টই বোঝা গেল, ক্লান্তির পরে চা ও বিস্কুট পেলে সে আরাম করেই খায়। তার কোনই আপত্তি নেই এই চমৎকার আতিথ্যের প্রস্তাবে। শৈলেন স্টোভ ধরিয়ে চা তৈরি করে এক পেয়ালা চা অতিথির সামনে ধরলে এবং আলমারি খুলে একটা ক্রীম্‌ক্রেকার বিস্কুটের টিন থেকে গোটাকতক বিস্কুট বার করে প্লেটে সাজিয়ে সামনে আগিয়ে দিল। এবং তারপর এক পেয়ালা চা নিজেও ঢেলে নিলে। কিন্তু বাইরে তার মুখে হাসি, কথাতে বিনয় এবং ব্যবহারে সৌজন্য ফেটে বার হলেও মনের ভিতর তার ভয়ানক একটা দ্বন্দ্ব চলছিল। উত্তেজনায় সমস্ত মাথা ঝাঁ ঝাঁ করছিল। ঠিক সেই সময় একটা মালগাড়ি স্টেশনে এসে লাগল। সেই শব্দে শৈলেন নিজের সঙ্কল্প স্থির করে নিলে। এই তো চমৎকার সুযোগ। বাড়িতে দ্বিতীয় প্রাণী নেই। রঘুবীরটা পর্যন্ত আজ হাট করতে শহরে গেছে। কাছাকাছি এক মাইলের মধ্যে কোন প্রতিবেশীর বাড়ি নেই। এখনই যদি সে ওই লোকটিকে খুন করে ফেলে, কেউ জানবে না। এক ভাবনা ছিল মেরে ফেলার পর মৃতদেহটাকে নিয়ে কি করবে। সঙ্গে সঙ্গে পুঁতে ফেলা তার একার চেষ্টাতে হওয়া অসম্ভব। আর এসব কাজে আজ পর্যন্ত সে কখনো সাথী ডাকেনি। যা কিছু করেছে, একাই করেছে। তাই আজও কেউ তার সন্ধান জানে না, তাই আজও সে ধরা পড়েনি। কিন্তু সে সমস্যার সমাধানও মিটে গেল ওই মালগাড়িটার শব্দে। এ লাইনে কখন কোন গাড়ি যায় সমস্তই শৈলেনের নখদর্পণে। আরও পনের মিনিট পরে আর একটা মালগাড়ি যাবে। তারপরে আসবে তাদের কলকাতা যাওয়ার ট্রেন। শৈলেন স্থির করলে লোকটাকে খুন করে লাইনের ওপর এমন জায়গায় ফেলে দিয়ে আসবে যে, কিছুক্ষণ পরেই যে দ্বিতীয় মালগাড়িটা আসবে সেটা যেন ওর মৃতদেহের উপর দিয়ে চলে যায়! লোকে ভাববে, লোকটা লাইন পার হতে যেয়ে অসাবধানে কাটা পড়েছে।


মনে মনে সে এই সমস্ত ভয়াবহ সঙ্কল্প করছিল কিন্তু মুখে তখন হাসি টেনে এনে পথিককে বলছে, আজ রাত্রির মত এমন ঠাণ্ডা অনেক দিন পড়েনি। হাড়ের ভিতর শুদ্ধ যেন কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আপনি আর এক পেয়ালা গরম চা নিন। ঠাণ্ডায় চা’টা লাগবে ভাল।


জুয়েলারির দোকানের ম্যানেজার তার সৌজন্যে প্রায় অভিভূত হয়ে উঠেছেন। এমন সময়ে শৈলেন উঠে দাঁড়িয়ে বললে, যদি কিছু মনে না করেন, মিস্টার রায়, তবে আমি আর একটা ওভার-কোট আমার শোবার ঘরের ড্রেসিং আলমারি খুলে বার করে নিয়ে আসি। এই একটা মাত্র পাতলা কোটে শীত যেন যাচ্ছে না।


ম্যানেজার মিঃ রায় বললেন, বিলক্ষণ, আমি কী মনে করব, আপনি স্বচ্ছন্দে যান, ওভারকোট পরে আসুন।


শৈলেনের কাছে পথিক তার নাম বলেছিল, বিনয় রায়। গায়ের কাপড়টা ভাল করে মুড়ি দিয়ে মিঃ রায় পকেট থেকে তামাকের কৌটো ও একরকম পাতলা কাগজ বার করে সিগারেট তৈরি করতে শুরু করলেন। তিনি কেনা সিগারেট খান না। এক রকম বড় বড় সিগারেট এইভাবেই নিজেই তৈরি করে নেন। শৈলেন ওভারকোট পরবার অছিলা করে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। কিন্তু বেরিয়ে এসে সে মোটেই ওভারকোট পরবার চেষ্টা করলে না। সোজা রান্নাঘরে এসে এক কোণে ঠেসানো একটা লোহার শাবল হাতে করে তুলে পরীক্ষা করে দেখতে লাগল। শাবলটা আকারে ছোট এবং ধারাল। এই দিয়ে একটা চোট মারতে পারলেই বিনয় রায় ফর্সা! এই সব চিন্তার সঙ্গে এরই পাশাপাশি আরও একটা চিন্তার ধারা তার মনে বয়ে যাচ্ছিল। কে যেন তার কানে কানে বলছিল, অমন করো না। একজন নিরপরাধ অতিথি, যে বিশ্বাস করে তোমার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে তাকে অমন করে হত্যা করো না। এমন তো জীবনে অনেকই দুষ্কার্য করেছ, আর নাই বা করলে। এক এক সময় তার ইচ্ছা। হতে লাগল ছুটে এ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তাহলে হয়তো খুনের এ নেশা থেকে পরিত্রাণ পায়! পায়ের জুতো জোড়া খুলে রেখে সে পা টিপে টিপে নিঃশব্দে বসবার ঘরের দুয়ারের কাছে এসে দাঁড়াল। তার দিকে পিছন করে বসে মিঃ রায় নিশ্চিন্ত মনে সিগারেট টানছেন। সারাদিন ঘোরাঘুরি ও হয়রানির পর এখানে নিশ্চিন্ত মনে বিশ্রাম করতে পেয়ে আরামে তাঁর সর্বাঙ্গ শিথিল হয়ে এসেছে। শৈলেন আরও নিঃশব্দে চুপি চুপি একেবারে তাঁর পিছনে এসে দাঁড়াল। রুদ্ধ নিশ্বাসে সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল, তার চোখগুলো জ্বলতে লাগল ধক্‌ ধক্ করে, হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এল। নাক দিয়ে নিশ্বাস নিলে পাছে নিশ্বাস পতনের মৃদু শব্দও কর্ণগোচর হয়, সেই ভয়ে সে মুখ দিয়ে শ্বাস ফেলছিল। এই অবস্থায় তাকে দেখলে জীবন্ত হত্যাকারীর বিভীষিকা পথিকের চোখের সুমুখে জ্বল জ্বল করে উঠত।


মিঃ রায় কিছুই টের পেলেন না। নিশ্চিন্ত নিরুদ্বেগে যেমন সিগারেট টানছিলেন তেমনই টানতে লাগলেন। শৈলেন একাজে এত সিদ্ধহস্ত এবং সে এত নিঃশব্দে এসে দাঁড়িয়েছিল যে কোন লেশতম শব্দ টের পাওয়াও সম্ভব নয়। আবার শৈলেন ধীরে ধীরে ফিরে গেল। এবারে সেই ছোট শাবলটা হাতে নিয়ে আস্তে আস্তে পিছনে এসে দাঁড়াল। হাতের রিস্টওয়াচটার দিকে চেয়ে দেখলে আর বেশি দেরি করলে চলবে না। ট্রেনের সময় প্রায় হয়ে এসেছে। মালগাড়িটা পেরিয়ে যেতে আর বড় বেশি দেরি নেই।


মিঃ রায়ের মাথা লক্ষ্য করে শাবলটা ছুঁড়ল। ছুঁড়বার সময় ঈষৎ শব্দ হল। সেই শব্দে মুখ ফিরিয়ে তাকিয়ে মিঃ রায় আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলেন এবং ছুটে এসে শৈলেনের একটা হাত চেপে ধরলেন। তিনি মাথা সরিয়ে নেওয়াতে লোহার শাবলটা লক্ষ্যচ্যুত হল। কেবল মাত্র মিঃ রায়ের মাথার একদিকটা খানিকটা কেটে সেটা সশব্দে যেয়ে মেঝের উপর পড়ল। তারপরে শৈলেনের আর ম্যানেজারে ধস্তাধস্তি আরম্ভ হল। দুজনে দুজনকে জাপটিয়ে ধরে ঘরের মেঝেতে একবার এদিক একবার ওদিক গড়াগড়ি যেতে লাগল। ম্যানেজা

**********