সেরা আশ্চর্য সেরা ফ্যানট্যাসটিক (প্রথম পর্ব)

সেরা আশ্চর্য সেরা ফ্যানট্যাসটি...

অদ্রীশ বর্ধন

সেরা আশ্চর্য সেরা ফ্যানট্যাসটিক (প্রথম পর্ব)

Books Pointer Iconঅদ্রীশ বর্ধন
Books Pointer Iconscience fiction

Change color

উৎসর্গ

কল্পবিজ্ঞানপ্রেমী সমস্ত পাঠকের উদ্দেশে

.

সম্পাদকের কথা

বিশ্বের প্রথম সায়ান্স-ফিকশন সিনে ক্লাব এই কলকাতায় সত্যজিৎ রায়ের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মূলে ছিল ভারতের প্রথম সায়ান্স-ফিকশন মাসিক পত্রিকা ‘আশ্চর্য!’ যার প্রথম প্রকাশ ১৯৬৩ সালে। ১৯৭৫-এ বেরয় ‘ফ্যানট্যাসটিক’। প্রথম পত্রিকার একাধিক নামাংকন করেছিলেন বিমল দাস। দ্বিতীয় পত্রিকার নামাংকন করেন সত্যজিৎ রায়। বিমল দাসও মেতে উঠেছিলেন নামাংকনের খেলায়। পত্রিকার চরিত্র প্রকাশ পেয়েছিল প্রতিটি নামাংকনে।

এই চরিত্র যে শুধু কল্পবিজ্ঞানেই সীমিত থাকবে না, ফ্যানট্যাসি এবং ভূতের গল্পও পত্রিকায় ছাপা হবে এবং সিনে ক্লাবে দেখানো হবে—তা জানিয়েছিলেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক সত্যজিৎ রায় এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রেমেন্দ্র মিত্র। ক্লাবের জেনারেল মিটিংয়েও তাঁদের এই নির্দেশ শোনা গেছিল।

এই দুই পত্রিকা থেকেই ৩০ বছরের গল্প উপন্যাস বাছতে গিয়ে তাই তাঁদের নির্দেশের কথা মনে রাখতে হয়েছে। ৩০ বছরে সমাদৃত হয়েছে এই সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত—আশা করা যায় এই সঙ্কলনেও তা হবে।

অদ্রীশ বর্ধন

বইমেলা

২৬ জানুয়ারি, ১৯৯৪

.

প্রকাশকের কথা

আসুন টাইম মেশিনে চড়ে বসা যাক।

গত শতকের ছয়ের দশকে বাংলা কল্পবিজ্ঞান চর্চা এক ‘আশ্চর্য!’ মাত্রা পায় তরুণ অদ্রীশের হাত ধরে। এমনকী, সায়েন্স ফিকশনের বঙ্গীয়করণ ঘটিয়ে তাকে কল্পবিজ্ঞান করে তোলাটাও তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। ভারতবর্ষের প্রথম কল্পবিজ্ঞানের পত্রিকা ‘আশ্চর্য!’ কয়েক বছরের আয়ুষ্কালে এক গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে। পৃথিবীর প্রথম সাই ফাই সিনে ক্লাবটিও গড়ে ওঠাটাও এই সময়ে। সত্যজিৎ-প্রেমেন্দ্রর মতো খ্যাতিমান লেখকদের পাশাপাশি তরুণ লেখকদের সঙ্গে করে নিয়ে পত্রিকাটি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন অদ্রীশ। কাজটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু অদ্রীশ চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলেন। অথচ আচমকাই এক অনভিপ্রেত বিচ্ছেদ তাঁর জীবনটাই বদলে দিল। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত অদ্রীশ বন্ধ করে দিলেন পত্রিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও তিনি ফিরে এসেছিলেন তাঁর স্বপ্নের কাছে। বছর কয়েক পরে চালু হল ‘ফ্যানট্যাসটিক’। পত্রিকা ও প্রকাশন একই নামে।

কাট টু ২০১৮। বাংলার প্রথম কল্পবিজ্ঞান-ফ্যান্টাসি বিষয়ক ওয়েব ম্যাগাজিন ‘কল্পবিশ্ব’ শুরু থেকেই পাঠকপ্রিয় হয়ে ওঠার পরে এই বছরই শুরু করল প্রকাশনাও। নতুন লেখা প্রকাশের পাশাপাশি পুরনো বইয়ের পুনর্মুদ্রণের ব্যাপারেও শুরু হয়েছিল চিন্তাভাবনা। আর সেই ইচ্ছেরই প্রথম প্রয়াস এই বই। ‘সেরা আশ্চর্য! সেরা ফ্যানট্যাসটিক’ কেবল ওই দু’টি পত্রিকার সেরা রচনার সংকলন মাত্র নয়। তা বাংলা কল্পবিজ্ঞানের স্বর্ণযুগের শ্রেষ্ঠত্বের এক আঁজলা উজ্জ্বল নমুনা। তবে প্রকাশের সময়ে বইয়ের আকার ও পাঠকের ক্রয়ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে দু’খণ্ডে প্রকাশ করার কথা ভাবা হল।

জুলে ভার্নকে নিয়ে লেখা সদ্যপ্রয়াত সাহিত্যিক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা, দু’টি দুর্দান্ত উপন্যাস, অসামান্য সব ছোটগল্প এবং অবশ্যই সত্যজিৎ রায়ের প্রবন্ধ ‘এস্‌ এফ’—এই দিয়েই সাজানো হল প্রথম খণ্ডটি। লেখক তালিকায় সত্যজিৎ রায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, লীলা মজুমদার, ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য, তারাপদ রায়, অদ্রীশ বর্ধন, অনীশ দেবের মতো নাম। এমন বই হাতে নিলেই যে কোনও পাঠকের মন ভালো হয়ে যাওয়ার কথা।

বইটি পুনঃপ্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছেন অদ্রীশ বর্ধন ও তাঁর পুত্র অম্বর বর্ধন। তাঁদের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

এক হারানো সময়ের উজ্জ্বল জলছাপ এই বইয়ের পাতায় পাতায়। যাঁরা সেদিনের তরুণ, তাঁরা নতুন করে রোমাঞ্চিত হবেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও মুগ্ধ হবে বাংলা কল্পবিজ্ঞানের অন্যতম সেরা এই রচনাগুলি পাঠ করে, এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।


জুলে ভার্ন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

গ্রহান্তরেও যাই বেড়াতে,

মিথ্যে না একরত্তি;

কাল যা ছিল কল্পনাতে,

আজকে সেটাই সত্যি।

কাল যা ছিল অবিশ্বাস্য,

শুনলে সবাই করত হাস্য,

এখন স্বীকার করছে সবাই

সে-সব কথার মার নেই।

শ্রেষ্ঠ গণক দেখছি রে ভাই

লেখক জুলে ভার্নে-ই।


প্রথম প্রকাশ: ফ্যানট্যাসটিক, সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩



বিদ্রূপ ব্ৰহ্মর ব্রহ্মাণ্ড – অদ্রীশ বর্ধন

এ গল্প যাকে নিয়ে তার শক্তি ছিল অনেক—অতিরিক্ত।


চেয়েচিন্তে একজন সেই শক্তির কিছুটা নিয়েছিল। প্রয়োজনের বেশি নিয়েছিল।


ঘাবড়াবেন না। গল্পের নাম করে রাজনীতির কচকচি আমি শোনাব না।


শক্তি যার ছিল, তার নাম বিদ্রূপ ব্রহ্ম। অপরজন তার ব্যাঙ্কার।


বিদ্রূপ ব্ৰহ্ম নামটি যেমন অদ্ভুত, লোকটিও তেমনি। বিদ্রূপ বৈজ্ঞানিক। থাকত ভারত মহাসাগরের একটা ছোট্ট দ্বীপে। একা।


গল্পের বৈজ্ঞানিকদের মতো বামনাবতার নয় বিদ্রূপ ব্রহ্ম। পাগলাটেও নয়। নিজের স্বার্থের জন্য সে কিছুই করত না। ব্যক্তিগত লাভের জন্য বিজ্ঞানকে সে হবি করেনি। বিদ্রূপ ব্রহ্ম কপট নয়, কুটিল নয়, মায়াবী নয়, কুহকী নয়; ধ্বংসের কল্পনা তার মগজের অতীত ছিল, যেমন ছিল বিনাশক চিন্তাধারা। বিদ্রূপ ব্রহ্ম নিয়মিত চুল কাটত, নখ কাটত, পরিষ্কার জামাকাপড় পরত এবং আর পাঁচটা সুস্থ মানুষের মতোই জীবনযাপন করত। বিদ্রূপ ব্রহ্মর মুখে ছিল ছেলেমানুষি ভাব; চাহনি ছিল মুনিঋষির দৃষ্টির মতো শুচিস্নিগ্ধ। মাথায় খাটো; তেলচুকচুকে নধরকান্তি চেহারা। বুদ্ধি-উজ্জ্বল মুখশ্রী, ধীমান কান্তি! জৈবরসায়ন বিদ্যা অর্থাৎ বায়োকেমিস্ট্রি ছিল ওর বিশেষ বিষয়। বিদ্রূপ ব্রহ্ম কেবল বিদ্রূপ ব্রহ্ম নামেই পরিচিত ছিল; নামের আগে ‘ডক্টর’ বা ‘প্রফেসর’ ছিল না। ঐ ভাবে কেউ ডাকতও না। বলত হয় ‘বিদ্রূপবাবু’ আর না হয় ‘ব্রহ্মমশাই’।


সব মিলিয়ে মানুষটা একটু বিদঘুটে সন্দেহ নেই। স্কুল কলেজ ইউনির্ভাসিটির ধার ধারত না বিদ্রূপ ব্রহ্ম। গ্রাজুয়েট সে নয় কারণ কলেজে সে পড়েনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠও মাড়ায় নি। কেন? বিদ্রূপ ব্রহ্ম দেখেছিল, কলেজ-ইউনির্ভাসিটির শিক্ষাদানের ধারা অতিশয় মন্থর-গতি। শুধু তাই নয়, পড়াশুনা ব্যাপারটাকে যেন একটা বাঁধাধরা ছকের জিনিস মনে করা হয় সেখানে। প্রফেসররা যা পড়ান, তার সবটাই যে তাঁরা জানেন, এমন অদ্ভুত ধারণা কিছুতেই মাথায় আনতে পারত না বিদ্রূপ ব্রহ্ম।


পাঠ্যপুস্তকের ক্ষেত্রেও একই ধারণা পোষণ করত সে। শ্রাবণের ধারাবর্ষণের মতো ঝমাঝম প্রশ্ন করে যেত। প্রশ্নগুলো যে কতখানি গোলমেলে এবং যে কোন পণ্ডিত-শ্রোতাকেও ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়ে দেবার পক্ষে যথেষ্ট—তা বুঝেও বুঝতে চাইত না, কাজেই ক্ষ্যামা দিত না। বিদ্রূপ ব্ৰহ্ম ডারউইনকে বলত উদ্ভট-মস্তিষ্ক দার্শনিক, স্যার জগদীশকে বলত কৌতূহলোদ্দীপক প্রবন্ধকার, আর আইনস্টাইনকে বলত সায়ান্স-ফিকশ্যনের আধুনিক পৃষ্ঠপোষক। তার সব কথাই ছিল এরকম চিমটিকাটা, বুদ্ধি-ঘুলিয়ে দেওয়া। শুনতে শুনতে শ্রোতা বেচারী হাঁসফাঁস করত, দম আটকে আসত। অমুক লোকের অনেক জ্ঞান আছে, এ কথা একবার শুনলেই হল। অমনি সেখানে দৌড়ে যেত মেশিনগানের মতো প্রশ্ন বর্ষণ করে বেচারীর দম বন্ধ করার উপক্রম করত। শ্রোতার জ্ঞান যদি আগে থেকে তার জানা থাকত, তাহলে একটাই প্রশ্নই জিজ্ঞেস করত বারবার—‘কি করে জানলেন বলুন তো?’ যে সব বিজ্ঞান মানব জাতির উন্নতির জন্য চেষ্টিত এবং বংশগতির নিয়ামক, বিশেষ করে সেই সব বিজ্ঞানের বিজ্ঞানীদের ধরে জেরা আর প্রশ্নবাণে বিপর্যস্ত করাই ছিল বিদ্রূপ ব্রহ্মর অতীব আনন্দের বিষয়। তাই কেউ তার সঙ্গ পছন্দ করত না। কেউ তার বন্ধু হতে চাইত না। কেউ তাকে চায়ের আড্ডায় ডাকত না। ব্ৰহ্ম বিনয়ী বটে, কিন্তু বৈঠকী নয়। তাই চালিয়াৎ না হয়েও নিঃসঙ্গ হল সে।


বিদ্রূপ ব্ৰহ্মর নিজের টাকা বলতে খুব সামান্যই ছিল। কুড়িয়ে বাড়িয়ে তাই দিয়ে দ্বীপটাকে লীজ নিল বিদ্রূপ। বানাল একটা ল্যাবরেটরী। আগেই বলেছি, বিদ্রূপ ব্রহ্ম বায়োকেমিস্ট অর্থাৎ জৈবরসায়নবিদ। শুধু জৈবরসায়ন নিয়ে পড়ে থাকা সম্ভব ছিল না তার পক্ষে। তাই নিজের এখ্‌তিয়ার ছেড়ে নাক গলিয়েছিল বহুবিধ ব্যাপারে।


ভিটামিন বি-ওয়ানকে স্ফটিক আকারে তৈরি করার পদ্ধতি আবিষ্কার করার ব্যাপারটা অবশ্য ওর কাছে তেমন কিছুই নয়। এ পদ্ধতির ফলে টন হিসেবে ভিটামিন বি-ওয়ান তৈরি করা যায় এবং দেদার মুনাফা থাকে। যদিও টন হিসেবে এ ভিটামিন উৎপাদন করার কথা এখনও কেউ ভাবতেও পারে না। যাই হোক, সামান্য এই গবেষণার ফলে প্রচুর টাকা রোজগার করে ফেলল বিদ্রূপ ব্রহ্ম। সেই টাকা দিয়ে দ্বীপটা কিনেই ফেলল। আটশ লোক খাটিয়ে ছ’বিঘে জমির ওপর আরও বড় ল্যাবরেটরী তৈরি করল। বিস্তর যন্ত্রপাতি আনাল এবং কিছু নিজে বানিয়ে নিল।


মোচার শুঁয়ো থেকে এক রকম নিদারুণ শক্ত সুতো উদ্ভাবন করল বিদ্রূপ। সেই সুতো দিয়ে এমন এক দড়ি বানাল, যা দামে যেমন সস্তা তেমনি শক্ত। জাহাজ বাঁধা যায়, ছেঁড়ে না। এই দড়ি দিয়ে বেড়া তৈরি করে ল্যাবোরেটরী ঘিরল। এ দিকে দেখতে দেখতে পৃথিবী জুড়ে কলা উৎপাদনের ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠল


শুধু মোচার সুতো তৈরির জন্য।


দড়ি কত যে শক্ত তা যাচাই করে দেখানোর জন্য বিদ্রূপ ব্রহ্মর সেই প্রদর্শনীর ঘটনা নিশ্চয় আপনার মনে আছে। নায়গ্রা জলপ্রপাতের ওপরে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিল সে। দড়ির একটা খুঁট বাঁধা ছিল এ তীরে, অপর খুঁট ও তীরে। মাঝখান থেকে ঝুলছিল একটা দশ-টন লরী। ছেঁড়া তো দূরের কথা, যে ইস্পাতের আঁকশিটার নিচে লরীটা ঝুলছিল, তার ঘষা লেগে দড়িটার একটা শুঁয়োও উঠে যায় নি। এরপর থেকেই গুনটানা থেকে শুরু করে জাহাজ বাঁধা পর্যন্ত সব কাজে লেড পেন্সিলের মতো সরু দড়ির রেওয়াজ হয়েছে। একটা বড়-সড় কাটিমেই গুটিয়ে রাখা যায় দড়িটা। সামান্য এই আবিষ্কার থেকে দেদার পয়সা করে ফেলল বিদ্রূপ ব্রহ্ম। কিনল একটা সাইক্লোট্রন মেশিন।


এরপর টাকা গোনাটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। কাজেই নোটের তাড়াগুলো আসত মোটামোটা বইয়ের আকারে। তা থেকে যৎসামান্য খরচ করত বিদ্রূপ ব্রহ্ম শুধু খাবার দাবার আর যন্ত্রপাতি কেনার জন্যে। কিন্তু কিছু দিন পরে এ সব খরচও বন্ধ হয়ে গেল।


ব্যাংকের টনক নড়ল। সীপ্লেনে লোক পাঠালো তারা বিদ্রূপ ব্রহ্ম এখনো বেঁচে আছে কি না দেখার জন্য। লোক গিয়ে দেখল বহাল তবিয়তে বেঁচে রয়েছে বিদ্রূপ ব্রহ্ম। দুদিন পরে ফিরে এল ব্যাংক প্রতিনিধি। দ্বীপের কাণ্ড কারখানা দেখে তার নাকি আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেছে।


কারণ, বিদ্রূপ ব্ৰহ্ম শুধু বেঁচেই নেই, রাশি রাশি খাবার তৈরি করছে। সিনথেটিক খাবার। অর্থাৎ ক্ষেতখামারের খাবার নয়—ল্যাবরেটরীতে তৈরি। পদ্ধতিটা না কি আশ্চর্যজনকভাবে সরল। অথচ খাবারের উৎপাদন বিস্ময়করভাবে প্রচুর। প্রয়োজনের অতিরিক্ত!


রিপোর্ট পেয়েই চিঠি লিখল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বিদ্রূপ ব্ৰহ্ম কি বিনা ক্ষেতে খাবার উৎপাদনের গোপন কৌশলটা ব্যাংককে লীজ দেবেন?


সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল বিদ্রূপ। লিখল, খুশী মনেই দেবে। সেই সঙ্গে দিল ফরমুলাটা। পুনশ্চ দিয়ে লিখল, খবরটা বাইরের জগতে পাঠানোর কথা মনেই ছিল না বিদ্রূপের। এ ফরমুলা যে কারো কাজে আসতে পারে, এ ধারণা না কি ওর মাথায় আসে নি।


ভাবুন দিকি কাণ্ডটা! বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধের বৃহত্তম সমাজ বিপ্লবের সে পুরোধা, যার সামান্যতম খামখেয়ালের ফলে কারখানাকৃষির সূচনা—সেই মানুষটা কিনা চিঠি লিখলেন এ ফরমুলা যে কারও কাজে আসতে পারে তা জানা ছিল না। ঐতিহাসিক সেই চিঠিটা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সোনার ফ্রেম দিয়ে বাঁধিয়ে রেখেছে।


ফলে, আরও টাকা আসতে লাগল বিদ্রূপের ভাঁড়ারে। না। ভুল বললাম। টাকা জমতে লাগল ব্যাংকের কোষাগারে। টাকা নিয়ে কোনো ভাবনাই ছিল না তার।


ব্যাংক প্রতিনিধি ঘুরে যাওয়ার মাস আষ্টেক পরেই নাকি সত্যিকারের কিছু কাজ করেছিল বিদ্রূপ। সামান্য একজন বায়োকেমিস্ট বই কিছু তো নয়, তাও নামের আগে ডক্টর খেতাব নেই। অথচ তার আবিষ্কারের খানিকটা তালিকা শুনলেই মাথা ঘুরে যাবে। যেমন

**********