সামান্য ঝুঁকি – অনীশ দেব

সামান্য ঝুঁকি – অনীশ দেব

রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়

সামান্য ঝুঁকি – অনীশ দেব

Books Pointer Iconরঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়
Books Pointer Iconthriller

Change color

অন্যান্য বার মায়ার কাছে এসে বড়জোর দু’দিন কি তিনদিন থেকেছি, তার বেশি নয়। কিন্তু এবারে একেবারে সাতদিনের প্রোগ্রাম। কারণ কী? না সিদ্ধার্থ সাতদিনের জন্যে দিল্লী যাচ্ছে। মায়া যে ভয়-টয় পেয়ে আমাকে সাতদিন থাকার জন্য নেমন্তন্ন করেছে তা নয়। বরং আমিই ওর জন্য দুশ্চিন্তায় পড়েছি। চার বছরের টনিকে নিয়ে একা থাকবে। যেখানে একটা পাগল খুনী খুনের নেশায় মত্ত হয়ে এই এলাকায় এলোপাতাড়ি খুন করে বেড়াচ্ছে! তার খুনের ধরন দেখে কাগজওয়ালারা তার নাম দিয়েছে ‘আয়রনম্যান’।


খবরের কাগজের অফিসের কাজ বড় ঝামেলার। এক সপ্তা দিনে ডিউটি তো পরের সপ্তায় রাতে। মেয়ে বলে আমাকে নিউজ এডিটর মোটেই খাতির করে না। লোকটার দয়া-মায়া বলে কিছু নেই। একেবারে পাষণ্ড। সেই জন্যেই বোধ হয় এই পাগল খুনীর রহস্য রিপোর্ট করার জন্যে আমাকে লাগিয়ে দিয়েছে


রোববার দিনটা আমার ছুটি থাকে। তাই সন্ধের দিকে মায়ার বাড়িতে গিয়েছিলাম। সিদ্ধার্থও বাড়িতেই ছিল। দরজা খুলে আমাকে দেখেই বলে উঠল, ‘দিদি, আজ রাতে খেয়ে যাবে—মুরগি এনেছি।’ তারপর ঘরের দিকে মুখ ফিরিয়ে চেঁচিয়ে বলল, ‘মায়া, তোমার গ্রেট এলডার সিস্টার এসেছে—’


সিদ্ধার্থ মুডে থাকলে দারুণ মজা করতে পারে। কিন্তু মাঝে মাঝে হঠাৎ হঠাৎ ওকে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখেছি। মায়া জিজ্ঞেস করলে বলে, ‘কিছু হয়নি।’ আজ আমার কপাল ভাল। ওকে দেখে মনে হচ্ছে মেজাজে আছে।


ডিনার টেবিলে বসে তারিয়ে তারিয়ে মুরগির হাড় চিবোচ্ছি, হঠাৎই সিদ্ধার্থ বলল , ‘দিদি, কাল আমি দিল্লী যাচ্ছি—বিকেলে ডিলাক্সে—’


আমি খাওয়া থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ক’দিনের জন্যে?’


‘সামনের সোমবার এসে যাব।’


‘সা-ত-দি-ন!’ আমি এত জোরে বলে উঠেছি যে, মায়ার পাশে বসা টনি চমকে উঠেছে, ওর হাত থেকে একটা আলুর টুকরো খসে পড়ে গেছে থালায়। আমি সেসব ভ্রুক্ষেপ না করে বললাম, ‘মায়া এ-বাড়িতে একা একা সাতদিন থাকবে।’


কথাটা বলেই মনে হল, এভাবে চেঁচিয়ে না উঠলেই ভাল হত। সিদ্ধার্থ কী মনে করল কে জানে। মায়ার কাছেই শুনেছি, মাঝে মাঝে ও যেরকম হঠাৎ করে মুখে কুলুপ এটে বসে পড়ে, তারপর ওর মেজাজ ফেরানোই এক ঝকমারি।


মায়া বোধ হয় একই ভয় করছিল। কারণ, লক্ষ্য করলাম, খেতে খেতেই ও আড়চোখে ওর ভালবাসার মানুষটিকে দেখল একবার। কিন্তু না, সিদ্ধার্থর মুখে আলতো হাসিটুকু লেগেই রইল।


সুতরাং হালকা হয়ে মায়া বলল, ‘কেন, টনি রয়েছে না! ও আমাকে বিপদে-আপদে বাঁচাবে।’


সেইরকমই বটে! চার বছরের বাচ্চা ছেলে, যে এখনও ভাল করে চাঁদ আর সূর্যের তফাত বুঝতে শেখেনি, সে বাঁচাবে তার মাকে!


আমার খাওয়া তখনও অচল, কপালে বোধ হয় বেশ কয়েকটা ভাঁজ পড়েছিল। সেটা লক্ষ্য করেই মায়া হয়তো হেসে বলল, ‘দিদি, তোর আবার একটু বেশি বেশি। নে, মন দিয়ে খা তো!’ তারপর সিদ্ধার্থর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুমি মিছিমিছি ভেবো না। আমার অত ভয়-টয় নেই।’


ব্যাপারটা ‘বেশি বেশি’ মোটেই নয়। অন্তত আয়রনম্যানের কীর্তিকলাপ যারা জানে তারা নিশ্চয়ই বুঝবে। গত দেড় মাসে আয়রনম্যান নামের এই পাগল খুনী মোট ছ’ছটা খুন করেছে। ভারী ধাতব কোনও অস্ত্র দিয়ে সে বীভৎসভাবে থেঁতলে দিয়েছে ছ’জন তরুণীর মাথা। আর ঘটনাস্থল থেকে চুরি গেছে তাদের কিছু অন্তর্বাস—অন্তত তাদের বাড়ির লোকেরা সেইরকমই বলেছে জবানবন্দিতে।


প্ৰথম খুনটা হয়েছিল মুরারিপুকুরের একটা ফ্ল্যাটবাড়িতে, দেড়মাস আগে। তারপর একে একে শ্যামবাজারে, মানিকতলায়, হাতিবাগান অঞ্চলে দুটো। আর শেষ দুর্ঘটনাটা ঘটেছে অরবিন্দ সেতুর কাছাকাছি—মাত্র দিন দশেক আগে।


মৃত তরুণীদের মধ্যে বেশ কয়েকটা মিল লক্ষ্য করা গেছে। তারা প্রত্যেকেই ঘোর যুবতী, সুন্দরী এবং বিবাহিত। খুনের সময় তাদের স্বামীরা কেউই বাড়িতে ছিল না। দুজন তো একেবারে কলকাতার বাইরেই গিয়েছিল—সিদ্ধার্থ কাল যেমন যাচ্ছে। আর খুনের সময় তারা কেউই টু শব্দটি করতে পারেনি।


খুনের কায়দাটা মোটামুটি একই। পাঁচিল টপকে কোনও কৌশলে দরজার ছিটকিনি খুলে খুনী ঘরে ঢুকেছে। অথবা, দরজায় আলতো টোকা দিয়ে মেয়েটিকে দরজা খুলতে প্ররোচিত করেছে। কারণ তিনটি খুনের ঘটনায় মৃতদেহ পাওয়া গেছে রক্তাক্ত বিছানায়। হয়তো শিকারকে ঘুমন্ত অবস্থাতেই খতম করেছে খুনী। আর অন্য তিনটে ঘটনায় মৃতদেহ পড়েছিল দরজার কাছেই, মেঝেতে। আর প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মেয়েগুলোকে যেন দুরমুশ পেটানো হয়েছে। তারা মারা যাওয়ার পর তাদের ঘর থেকে শায়া অথবা ব্রেসিয়ার, যাহোক কিছু একটা নিয়ে সরে পড়েছে খুনী।


কোনও খুনের ঘটনাতেই কোনও অচেনা হাতের ছাপ পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের ধারণা, খুনী গ্লাস ব্যবহার করেছে। তাছাড়া দু’জন মেয়ের একজনকেও খুনীর হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়নি। এ পর্যন্ত যে-একটিমাত্র সূত্র পুলিশ পেয়েছে সেটা হল একজন প্রত্যক্ষদর্শীর সন্ধান পাওয়া গেছে। একটি অকুস্থল থেকে সরে পড়ার সময় খুনীকে এক প্রৌঢ় ভদ্রমহিলা দেখে ফেলেছেন।


কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় মহিলা লোকটিকে দেখেছেন রাতেরবেলা, চাঁদের আলোয়, এবং পিছন থেকে। যে-মেয়েটি খুন হয় সে তার স্বামীর সঙ্গে মানিকতলায় একতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকত। সেই বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাটে থাকেন ওই সাক্ষী ভদ্রমহিলা। ঘটনার দিন রাতে বেড়ালের ঝগড়ায় তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। রাত তখন প্রায় আড়াইটে হবে। সামনের ঝুলবারান্দায় এসে দাঁড়াতেই একটি লোককে দেখতে পান তিনি। বাড়ির উঠোন পেরিয়ে চলে যাচ্ছিল সে। মহিলাটি এতই ভয় পেয়ে যান যে, চিৎকার করতেও পারেননি।


এই সাক্ষ্যে পুলিশের তেমন কোনও সুবিধে হয়নি। কারণ, শুধুমাত্র পোশাক-আশাক আর চেহারার আন্দাজই দিতে পেরেছেন তিনি। মহিলার কথামত, খুনীর পোশাক ছিল কালো অথবা গাঢ় নীল রঙের। ঢোলা জামা, চাপা প্যান্ট। হাতে ছোট একটা ব্যাগ ছিল। উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট আট-ন’ইঞ্চি, আর ওজন সত্তর কেজি মত হবে।


আমি কিছুটা সামলে নিয়ে ধীরে ধীরে বললাম, ‘মায়া, আমি কিন্তু সিরিয়াসলি বলছি। তুই-ই বল্‌, এখান থেকে অরবিন্দ সেতু, মানিকতলা কীই-বা এমন দূর!


মায়া বাঁ হাত দিয়ে কপাল থেকে চুল সরাল। তারপর টনির মুখে ভাত গুজে দিয়ে বলল, ‘আমাকে খুন করা অত সহজ নয়। ভুলে যাস না, আমি এখনও যোগ-ব্যায়াম করি।’


না, এ-কথাটা মিথ্যে নয়। মায়া ছোটবেলা থেকেই যোগব্যায়াম শেখে। তাছাড়া ওর গড়নটাও শক্তপোক্ত। কিন্তু আয়রনম্যানের শক্তির কাছে ওর শক্তি কতটুক।


সিদ্ধার্থ হেসে বলল, ‘এলডার সিস্টার, তুমি তোমার ইয়ংগার সিস্টারকে চেনো না। আমার গলায় ঝুলে পড়েছে, আমি জানি এ কী জিনিস। আয়রনম্যানের বাবারও ক্ষমতা নেই এই বস্তুটির গায়ে আঁচড় কাটে।’


মায়া কপট রাগ দেখিয়ে বলল, ‘ইয়ারকি না, হাতাহাতি লড়াই হলে তোমাদের মত অনেক ছেলেকে আমি ঘোল খাওয়াতে পারি—’


সিদ্ধার্থ মাথা ঝুঁকিয়ে সেলাম জানানোর ভঙ্গি করে বলল, ‘সেটা আমার চেয়ে কে আর ভাল জানে, ম্যাডাম। সেকথাই তো এলডার সিস্টারের মাথায় ঢোকাতে চেষ্টা করছিলাম।’


আমি অল্প হেসেই আবার সামলে নিলাম। বললাম, ‘ঠাট্টা নয়। যে-ভদ্রমহিলা খুনীকে দেখেছেন তিনি বলেছেন লোকটার চেহারা বেশ ভাল। এই সিদ্ধার্থর মতই হবে। তার সঙ্গে তুই কী করে—’


সিদ্ধার্থ খাওয়া শেষ করে জলের গেলাস তুলে নিয়েছিল। হাতের একটা ভঙ্গি করে বলল, ‘চেহারা আমার মত ! তাহলে তো বেচারার জেতার আর কোনও আশাই দেখছি না—’


মায়া আমার থেকে বছর পাঁচেকের ছোট। বরাবরই খুব লক্ষ্মী মেয়ে। আমার কথা বেশ শোনে। কিন্তু বিয়ের পরই যেন লায়েক হয়ে গেছে। তার ওপর আমি বিয়ে-টিয়ে করিনি বলে আমাকে আর আমলই দিতে চায় না। উলটে ও-ই যেন আমার গার্জেন হয়ে উঠতে চায়।


আমি খাওয়া শেষ করলাম চুপচাপ। সিদ্ধার্থ যেই টেবিল ছেড়ে উঠতে গেছে অমনি ওকে ডেকে বসালাম। সামনে ঝুঁকে পড়ে বেশ গম্ভীর মুখে বললাম, ‘সিদ্ধার্থ, তুমি তো জানো, আয়রনম্যানের কেসটা আমি রিপোর্ট করছি। আমাদের কাগজে যেসব খবর ছাপা হয়েছে সেগুলোই সব নয়। পুলিশমহলের রিকোয়েস্টেবেশ কিছু কর সব কাগজই চেপে গেছে। কারণ তাদের মনে হয়েছে, এই খবর ছাপা হলে গোটা নর্থ ক্যালকাটায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে। তার ওপর পলিটিক্যাল চাপ তো আছেই। এই ছ’টা খুন নিয়ে পুলিশের তরফে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। তা থেকে বলা যায়, আয়রনম্যান লোকটা শক্তিশালী, নৃশংস, আর ছিটকিনি কাটতে বা হুড়কো খুলতে এক নম্বরের ওস্তাদ। এমনকি দরকার হলে নিঃশব্দে জানলার গ্রিল কেটেও ঢুকে পড়ছে। এরকম একটা অবস্থায়—’


মায়া টনিকে নিয়ে টেবিল ছেড়ে উঠে গেল মুখ ধুতে। যাওয়ার আগে আমাকে আর সিদ্ধার্থকে একপলক দেখে নিল।


সিদ্ধার্থ কয়েক লহমা কী ভাবল। তারপর বিড়বিড় করে বলল, ‘কী যে করি, অফিসের ট্যুর, না-ও বলা যায় না—’


সিদ্ধার্থ টেবিল ছেড়ে উঠল। সেই সঙ্গে আমিও। মায়া টনিকে মুখ-টুখ মুছিয়ে নিয়ে আমাদের কাছে এল। বলল, ‘এবারে দিল্লীতে ইলেট্রনিক্সের নানা জিনিসপত্র দেখাবে। কী এক্সিবিশন আছে। তাই কোম্পানী থেকে ওকে পাঠাচ্ছে।’


টনি মায়ার আঁচল টানছিল আর ঘ্যানর ঘ্যানর করছিল। মায়া ‘আসছি’ বলে ওকে টেনে নিয়ে গেল শোয়াতে।


সিদ্ধার্থ হাত-মুখ ধুয়ে নিল। তারপর আমিও।


ডাইনিং স্পেসের একপাশে সোফা সেট পাতা। তার মুখোমুখি কিছুটা দূরে টিভি। সিদ্ধার্থ টিভি অন করে দিল। ইংরেজী খবর হচ্ছিল। আমরা দুজনেই সোফায় কিছুটা দূরত্বে বসলাম।


সিদ্ধার্থ বলল, এবারে দিল্লীতে ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচা্‌রার্স অ্যানুয়াল কনভেনশান হচ্ছে। সেই সঙ্গে নতুন নতুন প্রোডাক্টের এক্সিবিশান। আমাদের কোম্পানীও পাৱটিসিপেট করছে। আমার না গেলেই নয়। তাছাড়া…’


আমি জানি সিদ্ধার্থ কী বলবে। ও শুধু যে একটা ইলেকট্রনিক্স ফার্মের সেল্‌স অ্যান্ড সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার তা নয়, নিজেও টিভি-ভি.সি.আর, এসব সারানোর কাজ করে।


কোম্পানীর কাজে মাঝে মাঝেই ওকে দু-চারদিনের জন্যে বাইরে যেতে হয়। এবারের এক্সিবিশানে অনেক নতুন নতুন জিনিসও দেখতে পাবে। এ সুযোগ ছাড়া ওর পক্ষে মুশকিল। তবে সাতদিনটা বড্ড বেশি।


সিদ্ধার্থ টিভি-ভি.সি.আর. সারানোর সার্টিফিকেট কোর্স করেছে। ভেবেছিল এই লাইন নিয়েই ব্যবসা ফাঁদবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই চাকরিটা পেয়ে যায়। চাকরিটা ওর পছন্দ হওয়ায় মায়া সেটা আর ছাড়তে দেয়নি।


সব মিলিয়ে সিদ্ধার্থর যা আয় তাতে ওদের ছোট্ট সংসার দিব্যি চলে যায়। আড়াইজনের সংসারে কাজের লোক দুজন। একজন ঠিকে, আর একজন রাতদিনের খুকি। তবে সল্ট লেকের এই জায়গাটা এমনিতেই নির্জন। সেখানে মায়া, টনি আর বাচ্চা মেয়েটা থাকবে সাতদিন?


আমি আর থাকতে পারলাম না। লজ্জার মাথা খেয়ে বলেই বসলাম, সিদ্ধার্থ, তুমি কী মনে করবে জানি না। তবে এই সাতদিন আমি মায়ার কাছে থাকব।’


সিদ্ধার্থ টিভির দিক থেকে চোখ সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে একচিলতে হাসল। কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, ‘সে তত ভালই— তবে তোমার অসুবিধে হবে না তো?’


আমি বললাম, ‘রিপোটারদের সবই গা-সওয়া—’


এমন সময় মায়া ঘরে এসে ভুরু উচিয়ে জানতে চাইল, কী ব্যাপার?


ওকে আমার মতলব খুলে বললাম।


ও বলল, ‘বাড়িতে অসুবিধে হবে না?’


বাড়িতে লোক বলতে আমাদের বৃদ্ধ বাবা আর ছোট ভাই অলক। অলক চাকরি করে। এখনও ওর বিয়ে দেওয়া হয়নি, তবে চেষ্টা চলছে। সংসারের দিকে ওর খুব নজর। আমাকেও বেশ কয়েকবার বিয়ের পিড়িতে তোলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার জেদ ভাঙতে পারেনি। আমি জানি আমাকে কীরকম দেখতে। তাছাড়া বিয়ের বয়েসও পেরিয়ে গেছে।


মায়াকে বললাম যে, কোনও অসুবিধেই হবে না, কাল সন্ধের পরই আমি তল্পিতল্পা নিয়ে আসছি।


মায়া বলল, ‘তাহলে তো ভালই। আমি একটু ভরসা পাব। তবে তোর ভয় নেই রে, আয়রনম্যান আমাকে কিছু

**********