রম্যরচনা ৩৬৫

রম্যরচনা ৩৬৫

তারাপদ রায়

রম্যরচনা ৩৬৫

Books Pointer Iconতারাপদ রায়
Books Pointer Iconshort story

Change color

চুরিবিদ্যা

নাবালক বয়সে এ বিষয়ে একটি লেখা লিখেছিলাম। সম্ভবত সেটাই ছিল আমার প্রথম রম্যরচনা। এত বিষয় থাকতে ওই নিষ্পাপ বয়সে আমি কেন চুরিবিদ্যার উপরে আমার প্রথম গদ্যটি লিখেছিলাম সেটা যাঁর যেমন ইচ্ছে অনুমান করতে পারেন।


কিন্তু আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে। ওই লেখাটি লিখতে গিয়ে আমি প্রভূত আনন্দ পেয়েছিলাম। লিখতে লিখতে টের পেয়েছিলাম তস্করবৃত্তির প্রতি আমার একটা সহজাত টান রয়েছে। আজ এতদিন পরে ওই একই বিষয়ে আবার লিখতে বসে বুঝতে পারছি, টান যতটাই থাকুক, তখন আমি এ বিষয়ে প্রায় কিছুই জানতাম না। ইতিমধ্যে দীর্ঘ পঁচিশ বছরে সঙ্গদোষে এবং কালদোষে বহু বিখ্যাত তস্করের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে; অপর দিকে তস্করেরা এবং তস্করবান্ধব বহু কোতোয়াল সাহেবও আমার খুবই ঘনিষ্ঠ।


আমি আমার এই চুরিবিদ্যায় আপাতত শুধু খাঁটি চোরেদের কথা বলব, আসল ও আদি চোরের দুঃখের কথা। এর মধ্যে ঠগ-জোচ্চোর-প্রতারকদের টেনে আনব না, তার জন্য পরে কখনও সময় পেলে চেষ্টা করব।


চোর দুই রকম। একপুরুষের নতুন চোর অথবা বংশানুক্রমে বনেদি চোর-বংশের সন্তান।


এই একপরুষের নতুন চোরদেরই কষ্ট বেশি। আজকাল সিঁদকাঠি দুর্লভ যা দু’-একটা গভীর রাতের অন্ধকারে কামারশালার পিছনের ঝোপে লুকিয়ে থেকে মশার কামড় খেয়ে কিনতে হয় তারও দাম সাংঘাতিক। কিন্তু যাঁদের বাপ-ঠাকুরদা চোর ছিলেন, তাঁরা নিশ্চয় উত্তরাধিকারসূত্রে জার্মান স্টিলের সিঁদকাঠি পেয়েছেন, সে রকম আজকাল আর কোথায় পাওয়া যাবে? আর তা ছাড়া, এখনকার কাঁচালোহার সিঁদকাঠির উপর ঠিক নির্ভর করা যায় না। তিন ইটের গাঁথুনি দেয়ালের দুটো ইট মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খুলে ফেলেছেন এমন সময় সিঁদকাঠিটি গেল ভেঙে, তখন সব পরিশ্রমই মাটি। তবে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে আজ কিছুদিন হল এক দক্ষিণী চোর এসেছেন, তাঁর কাছে জানা গেছে মাদ্রাজ-মুম্বাইতে নাকি এখন স্টেনলেস স্টিলের সিঁদকাঠি পাওয়া যায়, সে যেমন সুন্দর দেখতে তেমনই মজবুত, দাম সামান্য বেশি। নতুন চোরেদের হয়তো এরপর থেকে সিঁদকাঠির সমস্যা থাকবে না।


কিন্তু অন্যান্য সমস্যা?


কালো হাফ প্যান্ট আর কালো স্যান্ডো গেঞ্জি পরে চুরি করতে যাওয়াই বহু পুরনো বিধি। কিন্তু কালো রংয়ের স্যান্ডো গেঞ্জি আজকাল একেবারেই পাওয়া যায় না, কেন যে গেঞ্জির কলগুলি এরকম গেঞ্জি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে পুলিশের কোনও যোগসাজস আছে কি না, বলা যায় না। অনেকে বাধ্য হয়ে সাদা গেঞ্জি কিনে দ্বিগুণ খরচ করে শালকরের কাছ থেকে কালো রং করিয়ে নিচ্ছেন। এতে শুধু পয়সা বেশি লাগছে তাই নয়, যে শালকরের কাছেই সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি কালো রং করতে দেওয়া হোক সে এমন মর্মভেদী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে যে, সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় যে সে সবই অনুমান করতে পারছে।


তবে কালো হাফপ্যান্টের ব্যাপারটা একটু কম জটিল। কালো হাফপ্যান্ট চেষ্টা করলে বাজারে অল্পবিস্তর পাওয়া যায়। কিছু কিছু বিদ্যালয়ে সাদা হাফশার্ট আর কালো হাফপ্যান্ট ইউনিফর্ম রয়েছে। আর নতুন যুগের অতিরিক্ত ভিটামিন ও প্রোটিনে এবং সচ্ছল জনকজননীর ব্যাপক স্নেহে আজকাল বহু বালকই অতি নাদুসনুদুস, তাদের ইউনিফর্মের প্যান্ট যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক তস্করকেই চমৎকার ফিট করে। একটা ছোট অসুবিধা রয়েছে যে প্যান্টের সঙ্গে ওই ইউনিফর্মের দোকান থেকে একটা সাদা হাফশার্ট এবং একজোড়া সাদা মোজাও কিনতে হয়।


এত খরচ না বাড়িয়ে হরিষা মার্কেটে অথবা কোনও মঙ্গলবার সময় করে হাওড়া হাটে গেলে শুধু কালো হাফপ্যান্টই সংগ্রহ করা যেতে পারে। একটা দুশ্চিন্তা থেকে যায়, অনেক সময় এসব প্যান্টের রং খুব কাঁচা থাকে। একবার ধুতে গেলে আর কালোত্ব থাকে না, কালো খড়ির গুঁড়োর মতো রং বেরয়, এমনিতে কাঁচা কিন্তু অন্য কোনও কাপড়-চোপড়ে লেগে গেলে সেখানে খুব পাকা, আর কিছুতেই উঠবে না।


চুরি করার তো সময়-অসময় নেই, স্থান-অস্থান নেই। একবার নতুন কালো হাফপ্যান্ট পরে একটা বাড়ির পিছনের রেনপাইপ ধরে ঝুলতে ঝুলতে একজন চোর গৃহস্থদের ঘুমানোর জন্য প্রতীক্ষা করছিলেন। এমন সময় প্রচণ্ড বৃষ্টি এল, বৃষ্টিতে ভিজে তার নতুন প্যান্ট থেকে কালো পিচ্ছিল এক তরল পদার্থ বেরতে লাগল। পিছল হয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর হাঁটু স্লিপ করতে লাগল, তিনি আর রেনপাইপ আঁকড়ে ধরে রাখতে পারলেন না, হড়কে নীচে পড়ে গেলেন।


আরেকবার আরেকজন ওইরকম একটা নতুন প্যান্ট একবার পরার পর কাচতে গিয়ে একপুকুর জল কালো করে ফেলেছিলেন। পাড়ার লোকেরা যেই বুঝতে পারল এটা তাঁরই কীর্তি, এই মারে কী সেই মারে!


আসলে এ ভাবে চলে না, চলতে পারে না। এই বত্তি থেকে ক্রমশ লোক সরে যাচ্ছে, নানা বাধা ও অসুবিধার জন্য এই প্রাচীন বিদ্যা ক্রমশ অবলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ধরা পড়া, মার খাওয়া অথবা জেলখাটা এগুলো সনাতন সমস্যা, যাকে ইংরেজিতে বলে নর্মাল প্রফেশনাল হ্যাজার্ড— এ তো থাকবেই, এ নিয়ে কোনও প্রকৃত চোর মাথা ঘামায় না।


কিন্তু চুরি করার পোশাক, সিঁদকাঠি— এগুলি হল আসল সমস্যা। তা ছাড়া, যেটা এখনও বলা হয়নি, গায়ে মাখা তেলের ব্যাপারটা আছে।


চুরি করতে গেলে গায়ে তেল মাখতেই হবে। এটা বহু পরীক্ষিত এবং সর্বসম্মত অতি পুরনো রীতি। দেহ তৈলাক্ত থাকার জন্য কত চোর যে আজ পর্যন্ত শেষমুহুর্তে রক্ষা পেয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই।


তেল যে খুব বেশি লাগে তা নয়। সারা শরীরে তেল মাখতে নেই, সেটা অনেক সময় ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তেল মাখতে হয় ঊর্ধ্বাঙ্গে, দুই হাতে কবজি পর্যন্ত, বিশেষ করে ঘাড়ে, গলায় ও পিঠে। আর আজকালকার নতুন যুগের চোরেরা যারা পুরনোদের মতো কদমছাঁট দেন না, মাথায় মজা করে বড় চুল রেখেছেন, তাঁদের মাথার চুলেও তেল মাখাতে হবে।


আগেকার দিনে পাওয়া যেত ক্রিম রঙের বিলিতি গ্রিজ। কী ভাল জিনিস ছিল সেটা, আর কী চমৎকার মৌচাক-মৌচাক গন্ধ বেরত গ্রিজটা দিয়ে। আর দামও ছিল বেশ ন্যায্য। যাঁরা পুরনো চোর তাঁদের মনে আছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে পর্যন্ত নিউমার্কেটে ম্যাকফারলন সাহেবের দোকানে ক্রিমরঙা গ্রিজের এক পাইন্ডের কৌটো পাওয়া যেত ঠিক দেড় টাকায়। প্যাঁচপ্যাঁচে ছিল না, গা কুটকুট করত না। খুব সুবিধা ছিল এই গ্রিজটায়।


আর আজকাল ওইরকম গ্রিজ কোথায় পাওয়া যাবে! একালের চোরেরা ওসব জিনিস জন্মেও চোখে দেখেননি। তাঁরা গায়ে মাখেন পোড়া মবিল-অয়েল, তারও দাম এক বাটি তিন টাকা। সাংঘাতিক কুটকুটে এবং বিষাক্ত দ্রব্য এটি। এই পোড়া মবিলের কল্যাণে শত সহস্র নিরপরাধ তস্করের টাকায় চর্মরোগের ডাক্তারদের বিশাল রমরমাও চলছে। প্রায় সব চোরের গায়ে ঘা-পাঁচড়া, কিছুতেই সারতে চায় না। আর চুরির পরে ওই তেল শরীর থেকে তোলা কম কঠিন নাকি!


এর মধ্যে যাঁরা শৌখিন কিংবা বড়লোক চোর আছেন, তাঁরা কেউ কেউ গায়ে হোয়াইট ভেসলিন মাখতে শুরু করেছেন, কিন্তু তারও দাম চড়তে চড়তে এক ছোট কৌটো চার টাকা-সাড়ে চার টাকায় পৌঁছেছে!


অবস্থা ক্রমশ এমন জায়গায় পৌছাচ্ছে যে চৌর্যবৃত্তির দিকে এখন নতুন লোককে আকর্ষণ করানো রীতিমতো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে আর পুরনো যাঁরা আছেন, জেলের বাইরে আছেন, তাঁরাও ক্রমশ এই রোমাঞ্চকর কাজে তাঁদের উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। যে উদ্দীপনা নিয়ে একদিন তাঁরা একটি সফল চুরির জন্য রাতের পর রাত অধীর প্রতীক্ষা করতেন এই দুর্দিনের বাজারে সেই উত্তেজনা আজ কোথায়!



নৈশকাহিনী

আমার এই নৈশকাহিনী রাত্রির কোনও ঘটনা নিয়ে নয়। আমার এই কাহিনীর বিষয়বস্তু হল নেশা।


আমার বিষয় অবশ্য ঠিক নেশা নয়, নেশার পরিমাপ নিয়ে এই আলোচনা। এক টিপ নস্যি, আড়াই প্যাকেট সিগারেট, তিন হেঁচকির জর্দা, সাত ছিলিম গাঁজা কিংবা চার পেগ হুইস্কি—একেক রকম নেশার সামগ্রীর মাপ হয় একেকভাবে—অন্তত এতকাল এই ছিল আমার সাবেকি ধারণা।


আমার সেই ধারণা গত রবিবার ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। যথারীতি রবিবার দিন বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। ফেরার পথে, তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে, হঠাৎ প্রায় বিনা নোটিশে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হল। জায়গাটা জগুবাবুর বাজারের কাছাকাছি, চারদিকে পাতাল রেলের গর্ত, কাদা-জল, লোহা-ইট। দৌড়নো দূরের কথা, এর মধ্যে তাড়াতাড়ি হাঁটাও বিপজ্জনক। একটু দূরেই ডি এন মিত্র স্কোয়ার, যা লোকমুখে বহুদিন হল গাঁজা পার্ক বলে পরিচিত। স্কোয়ারটি কয়েক বছর হল পাতাল রেলের দখলে, কিন্তু তার নাম বা নামকরণের কারণ এখনও বদলায়নি।


কোনও উপায় ছিল না। জলে ভিজে একেবারে চোপসানো অবস্থায় স্কোয়ারের সামনের ছাদ-ঢাকা, বাঁশের বেড়া দেওয়া পুরনো ঘরটার চাতালে যথাসাধ্য ছুটে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। বৃষ্টি ও বাতাসের হাত থেকে সামান্য রক্ষা পাওয়া গেল।


চাতালের এদিক-ওদিকে কয়েকটি চক্র বসেছে। আট-দশ জন করে একেকটি চক্র। নানা বয়সের, নানা চেহারার অনেক রকম লোক, সকলেই ঘাস খাচ্ছেন। ঘাস মানে ইংরেজি গ্রাস, গ্রাস মানে গাঁজা। মদের আড্ডর সঙ্গে গাঁজার আড্ডার পার্থক্য হল যে এখানে সকলেই নিঃশব্দ। নিঃশব্দে একজনের হাত থেকে অন্যের হাতে কলকে চলে যাচ্ছে, তিনি চার-পাঁচ টান দিয়ে পরের জনের হাতে তুলে দিচ্ছেন। রাস্তার মুচি, অফিসের বাবু, বাসের পকেটমার সকলে পাশাপাশি গোল হয়ে বসে। রসদ ফুরিয়ে গেলে, সঙ্গে সঙ্গে সবাই পয়সা দিয়ে আবার পুরিয়া এনে কলকে ভরে নিচ্ছে। সকলেই শিবনেত্র, কেউ কেউ সম্পূর্ণ চোখ বুজে আত্মস্থ, শুধু সময়মতো হাত উঠে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তীর কাছ থেকে কলকে গ্রহণের জন্য। বৃষ্টিভেজা বাতাস আমোদিত হয়ে উঠেছে গঞ্জিকাধূম্রের ঘন গন্ধে।


এখানে খুব বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে একা একাই নেশা হয়ে যাবে। অথচ বৃষ্টি আরও জোরে এসেছে এবং বাতাস অন্তত একশো কিলোমিটার বেগে বইছে। বাইরের ঝড় বৃষ্টি থেকে মাথা বাঁচিয়ে এবং গঞ্জিকাচক্রের ধোঁয়া থেকে নাক বাঁচিয়ে একটা পাশে কোনওরকমে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এমন সময়ে এক ভদ্রলোক আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন।


একটু আগেই ভদ্রলোককে দেখেছি নিমীলিত নয়নে খুব আয়েসের সঙ্গে দু’জন পাতাল রেলের মিস্ত্রির মাঝখানে বসে ধূমপান উপভোগ করছিলেন। তাঁর বোধহয় নেশা করা শেষ হয়েছে, এবার বাড়ি ফিরবেন বলে উঠে এসেছেন।


বৃষ্টির মধ্যে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকলে যা হয়, একটু পরেই আমাদের মধ্যে আলাপ শুরু হল। ভদ্রলোক নিজেই উপযাচক হয়ে আমার সঙ্গে আলাপ করলেন।


ভদ্রলোকের উপাধি ভুলে গেছি। যতদূর মনে পড়ছে নাম বলেছিলেন ভূপতি। ভূপতিবাবু মধ্যবয়সি, রোগা পাকাটে চেহারা। সামান্য ময়লা তাঁদের ধুতি ও আদ্দির পাঞ্জাবি গায়ে। দেখলেই বোঝা যায় উৎসব অনুষ্ঠানে এঁর পাঞ্জাবিতে গিলে করা থাকে এবং গলায় পাকানো চাদর থাকে। মোটামুটিভাবে কলকাতার আধা বনেদি পুরনো লোক। কথাবার্তায় প্রকাশ পেল শ’দেড়েক হাতে-টানা রিকশা ছিল ভূপতিবাবুর এই দু’-চার মাস আগেও। তার মধ্যে একটির মাত্র লাইসেন্স ছিল। সেই একটি লাইসেন্সেই দেড়শোটি গাড়ি চলত। এখন পুলিশের অত্যাচারে সত্তরটা রিকশা নিজেদের পুরনো বাড়ির উঠোনে লুকিয়ে ফেলেছেন। গোটা তিরিশেক রিকশা ভবানীপুর আর বালিগঞ্জ থানায় ধরে নিয়ে গেছে। দিনকাল ভাল যাচ্ছে না, তাই সময় পেলেই দুঃখ-চিন্তা ভুলতে এখানে এসে এক ছিলিম গাঁজা টেনে যান।


কিছুক্ষণ কথাবার্তার পরে, বৃষ্টি তখন একটু ধরে এসেছে, হাওয়ার বেগও বেশ কম, ভূপতিবাবু রাস্তায় নামলেন, আমিও নামলাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ভদ্রতার খাতিরে এমনি একটা প্রশ্ন, ‘বাড়ি যাচ্ছেন?’ ভূপতিবাবু একটু থেমে উত্তর দিলেন, ‘এই সন্ধ্যাবেলা বাড়ি যাব কি মশায়? ওই গলির মধ্যে ময়রার দোকানে একটু দুধ খেতে যাচ্ছি। গাঁজার সঙ্গে দুধটা দরকার।’ হঠাৎ ভূপতিবাবু কথা পালটিয়ে আমাকে বললেন, ‘আপনি বোধহয় ভাবছেন ভদ্রলোক গাঁজা খায় কী করে?’ আমি তাড়াতাড়ি বললাম, ‘না না, সে কী কথা!’ ভূপতিবার কিন্তু আমার দিকে এগিয়ে এলেন, বললেন, ‘দেখুন মশায়, আমাকে ভুল বুঝবেন না। সব রকম নেশা-ভাং করে দেখেছি, অনেক মদ খেয়েছি, নামকরা মাতাল ছিলাম আমি, ভবানীপুরের সব ডাকসাইটে মাতালেরা আমাকে দেখে লুকিয়ে পড়ত। কিন্তু গাঁজা, গাঁজার সঙ্গে কারও তুলনা হয় না।’

**********