শিহরণ

শিহরণ

দেবারতি মুখোপাধ্যায়

দিলাম

ভ্রাতৃসম

ধ্রুব (শুভদীপ ভট্টাচার্য)-কে৷


প্রকাশকের কথা

দেব সাহিত্য কুটীর থেকে এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হল দেবারতি মুখোপাধ্যায়-এর ‘৭ শিহরণ’ বইটি৷ এই বইটি লেখিকার সাতটি প্রাপ্তমনস্ক থ্রিলারের সংকলন৷ এখানে রয়েছে রুদ্ধশ্বাস সাতটি উপন্যাসিকা যেগুলির পরতে পরতে আঁকা হয়েছে রোমাঞ্চকর আতঙ্ক এবং উন্মোচিত হয়েছে বেশ কিছু অজানা সত্য, যেগুলি মানব মনের অন্ধকার অলিগলিতে হানা দিয়েছে৷ ছানবিন করে তুলে এনেছে বিচিত্র সব বিকৃতিকে৷ প্রতিটি উপন্যাসিকাতেই রয়েছে অপরাধী কিন্তু এরা কেউ তথাকথিত দাগি আসামী নয়৷ বরং, এখানে চারপাশের সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মনের অবচেতনে লুকিয়ে থাকা ক্লেদেরই খোঁজ করা হয়েছে৷


কোথাও কোথাও আবার উঠে এসেছে আদিম অরণ্যের কোনো বিলুপ্তপ্রায় উপজাতির-হাড়-হিম করা নানান প্রথা৷ কোনোটিতে উল্লেখিত হয়েছে অদ্ভুত কোনো অসুখের কথা৷ যার কবলে পড়ে মানুষ হয়ে উঠেছে ষড়রিপুকে অতিক্রম করে যাওয়া অপার্থিব কোনো সামাজিক কিছু প্রথার প্রভাব এবং সভ্য-অসভ্য জগতের সীমারেখা লীন হয়ে গেছে এই সংকলনের উপন্যাসিকাগুলিতে৷


প্রকাশক

কলকাতা বইমেলা

জানুয়ারি ২০১৯


.


মৌনমুখর


এক

চোট পেলে কি কেউ সেই আঘাত সহ্য করতে করতে ঘুমিয়ে পড়তে পারে? তাও আবার অবেলার ঘুম? আঘাতের তীব্রতাতেই তো ঘুম আসবে না৷ তন্দ্রার ছোট ছোট জালগুলো শক্ত হয়ে একে অপরের সঙ্গে জোড়ার আগেই যন্ত্রণার অনুভূতিতে সেই সূক্ষ্ম বাঁধনগুলো ছিঁড়ে যাবে৷


কিংশুক কিন্তু ওই অবস্থাতেই দিব্যি ঘুমোতে পারে৷ একটু আগেই সে অন্যমনস্ক হয়ে চলতে গিয়ে বাঁ পায়ে হোঁচট খেয়েছিল৷ খুব সামান্য হোঁচট নয়, বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুলের নখটা প্রায় উঠে আসার জোগাড় হয়েছিল৷ মুহূর্তখানেকের জন্য পাটাকে অসাড় মনে হয়েছিল ওর৷ কিছুক্ষণ চেপে ধরে থেকে বারবার জলের ঝাপটা দিয়ে প্রায় মিনিট পনেরো পরে ব্যথা একটু কমেছিল৷


তারপর একটা পাথরের ওপর বসে দূরের ঝিম ধরা সূর্য দেখতে দেখতে ও স্রেফ ঘুমিয়ে পড়েছিল৷ ঘুমের মধ্যে বেশ অনেকদিন পরে ছেঁড়া ছেঁড়া স্বপ্নে দেখছিল শিবাঙ্গীকে৷ শেষের দিকের দাম্ভিক পাত্তা না দেওয়া শিবাঙ্গী নয়, প্রথম দিককার উচ্ছল শিবাঙ্গী৷ সেই যেদিন দুজনে দুর্গাপুর থেকে ট্রেন ধরে বর্ধমানের কৃষ্ণসায়রে গিয়েছিল৷ শিবাঙ্গী একটা রঙিন প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়াচ্ছিল গোটা বাগানটায়, আর লাজুক মুখে পিঠে অফিসের ঢাউস ব্যাগ নিয়ে হাঁটলেও কিংশুকের মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সব সুখ বুঝি দলা পাকিয়ে ওর কাছেই এসে জমা হয়েছে…!


এখন কী একটা পোকা কামড়াতে ধড়মড়িয়ে ও ঘুম ভেঙে উঠে দেখল, সন্ধে প্রায় নেমে এসেছে৷ শীতের বিকেল, তায় এদিকটা একেবারে ফাঁকা, পাঁচটা বাজতে না বাজতেই চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে৷ কখনো-সখনো কোনো পথভোলা কুকুর ছাড়া এখন এখানে কেউ নেই৷


কিংশুক গলায় মাফলারটা ভালো করে বেঁধে উঠে দাঁড়াল৷ ও একাই এসেছিল৷ রোজই আসে৷ শীতে প্রায় শুকিয়ে থাকা বাঁকা নদীর দু’পাশে বালি আর নুড়িকাঁকর মেশানো চর, তার মাঝে মেলা বড় বড় পাথর ছড়ানো৷ সেরকম একটা পাথরের ঢিবির ওপরে গালে হাত দিয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ, উদাস চোখে আকাশপাতাল ভাবে৷ খুব ঘুম পেলে নরম ঘাসের ওপর চিত হয়ে শুয়েও পড়ে মাঝেমধ্যে৷


তারপর হঠাৎ একসময় ঝুপ করে সন্ধে নামে দূরের পিপুল গাছের পাতায় পাতায়৷ পাখিরা এদিক থেকে ওদিক ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে উড়ে যায়৷ নরম চাদরের মতো ধোঁয়াটে সাদা কুয়াশায় ঢেকে যেতে থাকে চারদিক৷ শেষে যখন মশার কামড়ে সারা শরীর জ্বলতে থাকে, তখন কিংশুক উঠে দাঁড়ায়৷ একটা চাপা নিঃশ্বাস ফেলে অন্ধকারে ছায়ামূর্তির মতো ফিরে যেতে থাকে গ্রামের দিকে৷


তার দৈনিক অবসরযাপনের সময় শেষ৷ এবার আবার অবসাদের জীবনে ফিরে যাওয়া৷ আবার সেই বাড়িতে গিয়ে নিত্যদিনের অভিযোগ শোনা, বাবার খকখক কাশি, ভাইবোনের অভাবক্লিষ্ট মুখ আর মায়ের মুখঝামটা খাওয়া৷


তবে এখনই সে বাড়ি যাবে না৷ এখন সে যাবে একটা টিউশনি পড়াতে৷ এমনিতে সারাদিন ধরে বাড়িতে গাদা গাদা টিউশনির ব্যাচ পড়ালেও প্রতিদিন দুপুর থেকে সে মুখিয়ে থাকে সন্ধের জন্য, তার সবচেয়ে শাঁসালো টিউশনিটার জন্য৷


পরক্ষণেই নিজেকে শুধরে নেয় কিংশুক৷ না, শুধু টাকার জন্যই নয় মোটেই, কিছুটা বাচ্চাটার জন্যেও৷ নাহলে ও ক্লাস এইট, নাইনের নীচে আজকাল পড়ায়ই না, খামোখা ওয়ানের একটা বাচ্চাকে পড়াতে রাজি হবে কেন? শুধুই কি গ্রামের সবচেয়ে মান্যগণ্য ব্যক্তি প্রোফেসর অনুপ বড়ুয়ার ছেলে বলে? নাকি এতগুলো টাকার জন্য? নাকি, ছোট থেকে ওর মতো গরিবগুর্বো অথচ মাথা ভালো ছেলেমেয়েদের অনুপ বড়ুয়া সাহায্য করে আসেন, সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে?


এই সবকটাই একটা না একটা কারণ, তবে গৌণ৷ মুখ্য কারণটা হল অনুপ বড়ুয়ার একমাত্র ছেলে সাড়ে ছয় বছরের তুতুনের মিষ্টি মুখ আর নিষ্পাপ কথাবার্তা৷ সত্যি বলতে কি, সারাদিনের অবসাদ, ক্লান্তি, হতাশা নিমেষে উধাও হয়ে যায় যখন বাচ্চাটা আধো আধো কচি গলায় নানারকমের প্রশ্ন করে৷ কিংশুক পায়ে ব্যথা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটলেও তুতুনের কথা মনে পড়তেই ওর ঠোঁটের কোণে একটা আলতো হাসি খেলে গেল৷ হাঁটতে হাঁটতে ও টের পেল শুধু বাঁ পা নয়, হাতের কবজির কাছটায় যেন ছিঁড়ে গেছে কিছুটা৷ আলো প্রায় কমে এসেছে, ও ভালো করে দেখতে চেষ্টা করেও বুঝতে পারল না, অথচ জায়গায় জায়গায় জ্বলছে বেশ৷


অনুপ স্যার বলেই দিয়েছিলেন, ‘‘আমি তো অত দেখতে পারি না৷ কলেজ, শিক্ষাসমিতি, গ্রামের নানা সভা সামলে সময়ও পাই না৷ যে যাই বলুক, আমি তো জানি, তুই একসময় এই বিহারপুর গ্রামের সবচেয়ে ব্রাইট স্টুডেন্ট ছিলি৷ যদি একটু ছোট ভাইপোটাকে সন্ধেবেলা সময় দিস…৷’’ তারপর একটু থেমে বলেছিলেন, ‘‘ওই সময়ে তোর ব্যাচের ইনকাম নিয়ে চিন্তা করিস না৷ সে আমি পুষিয়ে দেব৷ আমি শুধু চাইছি, এই ছোটবেলা থেকে ওর ভিতটা ভালো করে তৈরি হোক৷ শুধু বইয়ের পড়াশোনা নয়, নানা ধরনের জানা অজানা বিষয়ে৷ আমার মনে হয় তুই-ই সবচেয়ে ভালো পারবি৷’’


কিংশুক তখন নতমুখে বড়ুয়াবাড়ির বিশাল বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল৷ কথা সে চিরকালই কম বলে, শুধু একপাশে মাথা হেলিয়ে সম্মতি জানিয়েছিল, তারপর মৃদুকণ্ঠে বলেছিল, ‘‘কাল সন্ধে থেকে আসব তাহলে স্যার৷’’


ছ’মাস আগের সেই কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আবার অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল কিংশুক, ফলত আলগোছে একটা রাস্তার একটা নুড়িপাথরে একটু আগের ব্যথায় টাটিয়ে ওঠা বুড়ো আঙুলটা লাগতেই ও যন্ত্রণায় ‘উহ’ করে উঠল৷ কিন্তু তবুও থামল না, ঘড়িতে এর মধ্যেই ছটা পনেরো৷ তুতুন নিশ্চয়ই বইখাতা নিয়ে বৈঠকখানা ঘরে ওর অপেক্ষায় বসে আছে৷ আরো দেরি করলে মুশকিল৷ ও চলার গতি আরো বাড়িয়ে দিল৷


নদীর চর পেরিয়ে গ্রামের মধ্যে ঢুকে ও একটু থামল৷ দূরে সামন্তদের বিশাল বাড়িটা যেন অন্ধকারে দানবের মতো দাঁড়িয়ে আছে৷ এত বড় সাবেক আমলের বাড়ি, অথচ সাকুল্যে লোক থাকে হাতে গোনা৷ তবে এ আর আশ্চর্যের কী, কিংশুক ভাবল৷ ওদের এই গোটা বিহারপুর গ্রামটাই এখন প্রায় পরিত্যক্ত একটা পাড়াগাঁয়ে পরিণত হয়েছে৷ দুর্গাপুর শহর থেকে মাত্র ন’কিলোমিটার দূরে এই গ্রাম, আগে তবু লোকজন থাকত এখানে, বাসে করে কিংবা সাইকেলে চেপে চাকরি বা রোজগার করতে যেত দুর্গাপুরে৷ কিন্তু ইদানীংকালে বেশিরভাগ পরিবারই দুর্গাপুরে বা একেবারে কলকাতায় শিফট করে যাচ্ছে৷


ফলত এই বিহারপুর গ্রামটায় ছোট বড় পাকাবাড়িগুলো বলতে গেলে জনশূন্য হয়ে পড়ে থাকে৷


তবু তাদেরই মধ্যে যে ক’টা শিক্ষিত ভদ্র পরিবার এখনো বিহারপুরেই রয়ে গেছে, তাদের মধ্যে বড়ুয়াবাড়ি হল নামকরা৷ অনুপ বড়ুয়া এই চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছর বয়সেই দুর্গাপুর আর ই কলেজের প্রোফেসর, আর তাঁর বাবা শ্যামাকান্ত বড়ুয়া ছিলেন বিহারপুর গ্রামের একমাত্র প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার৷ শ্যামাকান্ত বড়ুয়ার মতো কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের একজোট প্রচেষ্টায় সেইসময় বিহারপুর গ্রামের তবু কিছুটা উন্নতি হয়েছিল৷ দুর্গাপুর থেকে ইলেক্ট্রিসিটি, টেলিফোনের লাইন সব এসে পৌঁছেছিল এখানে৷


তার ওপর একাত্তরের যুদ্ধের পর গ্রামের বাইরের দিকের দামোদরের চরে এসে ঘাঁটি গেড়েছিল পূর্ববঙ্গের কিছু সবহারানো মানুষ৷ তারাও সুখে দুঃখে মিলেমিশে ধীরে ধীরে বিহারপুরেরই মানুষ হয়ে উঠেছিল৷ কিন্তু গত কয়েকবছরে ক্রমাগত শহরে চলে যাওয়া বাড়তে থাকায় বিহারপুর এখন অনেক নির্জন হয়ে পড়েছে৷


ভাবতে ভাবতে কিংশুক আগুরিপাড়া দিয়ে দ্রুতপায়ে বড়ুয়াবাড়ির দিকে হাঁটছিল, হঠাৎ পেছন থেকে একটা চেনা গলায় ও চমকে তাকাল৷ রাস্তার টিমটিমে আলোয় দেখল ভোম্বল মোটরবাইক থেকে নেমে পাশে এসে ফ্যাকফ্যাক করে হাসছে, ‘‘কী রে কখন থেকে আলো ফেলছি৷ কোথায় যাচ্ছিস?’’


‘‘এই, অনুপস্যারের বাচ্চাটাকে পড়াতে৷’’ কিংশুক সহজ গলায় উত্তর দিল, ‘‘কবে এলি? দেখা করে আসবি চল স্যারের সঙ্গে৷’’


‘‘না ভাই৷ বেকার হ্যাজানোর টাইম নেই৷ আজই এসেছি৷’’ ভোম্বল ফস করে একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল, ‘‘তা ছাড়া আমার সঙ্গে অনুপদা’র তেমন কথা নেই এখন৷’’


ভোম্বল আগে অনুপস্যারকে এ অঞ্চলের সবার মতো ‘স্যার’ বলত, তবে দুর্গাপুরে থিতু হওয়ার পর থেকে ইদানীং অনেককেই দাদা বলা শুরু করেছে, সেটা লক্ষ করেছে কিংশুক৷ ও একটু অবাক হয়ে বলল, ‘‘কথা নেই! কেন?’’


‘‘আরে ভাই আর বলিস না৷ দুর্গাপুরের সাকসেস স্কুলের নাম তো শুনেছিস৷ লাখদুয়েক টাকা ডোনেশন তো লাগেই, সঙ্গে অ্যাডমিশন টেস্টেও পাশ করতে হয়৷ আমার ছেলেটার জন্য তিন অবধি দিতে তৈরি ছিলাম, কিন্তু টেস্টে চার নম্বর শর্ট হচ্ছিল৷ অনুপ বড়ুয়ার কত হোল্ড তো জানিসই দুর্গাপুরে, তার ওপর ওই স্কুলের ও হল অ্যাডভাইসরি কমিটির মেম্বার, একবার বললেই হয়ে যেত৷ মুখের ওপর বলে দিল, পারব না৷ ভাবতে পারিস? এদিকে নিজের ছেলেটা ড্যাং ড্যাং করে ভরতি হয়ে গেল৷ শালা নিজের গ্রামের লোকের জন্য যে এইটুকু করে না …৷’’


কিংশুকের পায়ের টনটন তো ছিলই, মাথার ভেতরটাও আচমকা দপদপ করতে শুরু করল ওর৷ বিহারপুর গ্রামে থেকে কেউ যদি বলে অনুপ বড়ুয়া গ্রামের লোকের জন্য কিছু করে না, তবে সেটা শুধু জলজ্যান্ত মিথ্যে নয়, অকৃতজ্ঞতাও বটে৷


ও কথা আর না বাড়িয়ে মাথা নেড়ে বলল, ‘‘আসি৷’’


কারও সঙ্গে বেশি কথা বলতে ভাল লাগে না৷ বিশেষ করে ভোম্বলজাতীয় লোকেদের সঙ্গে তো নয়ই৷


ভোম্বল কিন্তু ছাড়ার পাত্র নয়, বলতে লাগল, ‘‘আর তুই ওইটুকু বাচ্চাকে কী পড়াস?’’


‘‘ওই টুকটাক৷ জ্ঞানবিজ্ঞান, বাংলা অঙ্ক ইংরেজি, এইসব৷’’ কিংশুক এগোতে শুরু করল৷


‘‘অ! আমি একটু হাটতলার দিকে গেছিলাম৷ ছেলের বিকেলবেলা আবদার, নান্টুর দোকানের ঘুগনি খাবে৷ তাই আনতে গেছিলাম৷’’ ভোম্বল হাত নেড়ে বলল, ‘‘আজ তো আমাদের অফিসে ছুটি ছিল, তাই ভাবলাম ঘুরে আসি গ্রামে৷’’


কিংশুক কাষ্ঠ হেসে তাকিয়ে রইল৷ ওর নিজের মতো বেকারের কী বা ছুটি কী বা কাজ!


ভোম্বলের চেহারা অনেক চিকনাই হয়েছে৷ ওর গালের ওপর ভনভন করছে একটা মাছি৷


ভোম্বলের হঠাৎ কী যেন মনে পড়ে গেল, ‘‘ভালো কথা, রেলের গ্রুপ ডি’র ফর্ম ফিল আপ করেছিস ভাই? কাল তো পরীক্ষা৷’’


কিংশুক দায়সারা উত্তর দিল, ‘‘হ্যাঁ, ওই আর কি!’’


‘‘হ্যাঁ, ভালো করে পরীক্ষা দিবি৷ কারেন্ট অ্যাফেয়ারসটা ঠিকমতো পড়েছিস তো?’’ ভোম্বল আরো কাছে এসে বলল, ‘‘আর শোন, আমাদের বর্ধমান মিউনিসিপ্যালিটিতে সুইপারের পোস্ট বেরিয়েছে৷ আজই নোটিশ দেখলাম৷ তোর জন্য ফর্ম নিয়ে আসব পরের সপ্তাহে বাড়ি এলে৷ অ্যাপ্লাই করে দিবি, বুঝলি?’’


শীতের সন্ধে, তার ওপর মাফলারটা গলাতেই রয়ে গেছে, কানে মাথায় জড়ানো হয়নি৷ আর নদীর ধারটা কনকনে ঠান্ডা৷ কিংশুক টের পেল, ওর মাথা-ব্যথাটা এবার গলা

**********