
কালসন্ধ্যা
মনোজ সেন
অতীতের বিপ্লবী, পরে খ্যাতনামা আইনজ্ঞ আর সবশেষে সাংসদ, অশীতিপর চিত্তপ্রসাদ এখন অবসর নিয়ে আমাদের ক্লাবে দাবা খেলে সময় কাটাচ্ছেন।
চিত্তপ্রসাদের জীবনে বহু অবিশ্বাস্য রকমের ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে, যার কিছু কিছু গল্প অনেক চাপাচাপি করলে তিনি আমাদের বলেন। তবে এটা ঠিক যে সেগুলি এতই অসম্ভব রকমের বিস্ময়কর যে সেসব গল্প বলতে দ্বিধা হওয়াই স্বাভাবিক।
ক্লাবে ঢুকে নিদ্রাগত সদস্যদের দেখে অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে তাদের ছাতা দিয়ে খোঁচা মেরে বললেন, ‘উঠুন, উঠুন, একজন ইয়ংম্যান দুপুর বেলা ঘুমোয় না। আমাদের শাস্ত্রে বলেছে, দিবানিদ্রা ভয়াবহ।’
খোঁচা খেয়ে আমাদের ঘুমন্ত সদস্যরা টেবিলের ওপর তড়াক করে উঠে বসল। চিত্তপ্রসাদকে দেখে রেগে না-গিয়ে বরং অত্যন্ত পুলকিত হয়ে বলল, ‘আপনি এসে গেছেন। তাহলে তো আর দিবানিদ্রার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। শাস্ত্রের কথা ছাড়ুন। ওসব মান্ধাতার আমলের লেখা। সব বাজে উপদেশ। ওসব এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না। আপনি বরং ওই ভয়াবহ অংশটা থেকে একটা গল্প বলুন। আপনার দাবাড়ু বন্ধুরা কেউ আপত্তি করবে না।
দাবাড়ু প্রভাতকিরণবাবু ঘরের এককোণে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। মাথা নেড়ে আমাদের কথায় সম্মতি জানালেন।
দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে চিত্তপ্রসাদ বললেন, ‘আপনাদের ধারণা যে প্রাচীন লেখা সব অর্থহীন প্রলাপ, বিশ্বাসের অযোগ্য, তাই না? একসময় অবশ্য আমিও তাই ভাবতুম। আজ আর তা ভাবি না। তাহলে, কেন ভাবি না সেই গল্পই বলি, শুনুন।’
সে বছরটা ছিল ১৯৭৪ কী ১৯৭৫ সাল। আমি তখন দিল্লিতে। লোকসভার অধিবেশন চলছিল তখন। হঠাৎ ডাক এল খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে। আমি তো অবাক। যাহোক, গেলুম।
মন্ত্রীমহোদয়ের ঘরে দেখলুম প্রতিরক্ষামন্ত্রী আর একজন আর্মি ইউনিফর্মপরা মেজর র্যাঙ্কের অফিসারও বিদ্যমান। আমি তো আরও অবাক।
মন্ত্রীমহোদয় বললেন, ‘আমি একটা বিশেষ কারণে আপনাকে ডেকে পাঠিয়েছি। ব্যাপারটা গুরুতর, বিপদজনক এবং গোপনীয়। আশা করি, আপনাকে আমি বিশ্বাস করতে পারি।’
বললুম, ‘তা অবশ্যই পারেন। আপনি নিশ্চিন্তে আমাকে বলতে পারেন। তবে, মনে হচ্ছে ব্যাপারটা দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত। সেখানে বোধ হয় উকিল হিসেবে আমাকে আইনের বিষয়ে আমার মতামত জানাতে হবে। তাই কি?’
মন্ত্রীমহোদয় বললেন, ‘একেবারেই তা নয়। আমরা আপনাকে একটা অভিযানে পাঠাতে চাই।’
‘অভিযানে?’ আমি তো স্তম্ভিত। বলে কী? কোনো রকমে বললুম, অভিযানে, মানে এক্সপিডিশনে?’
মন্ত্রীমহোদয় মৃদু হেসে মাথা নেড়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, তাই বটে। এটা একটা অত্যন্ত গোপনীয় কাজ। হয়তো আমরা আপনাকে ভীষণ বিপদের মুখে পাঠাচ্ছি।’
বললুম, ‘বিপদের কথা আমি ভাবছি না। বিপদের মোকাবিলা করবার অনেক অভিজ্ঞতা আমার আছে। সেটা কোনো ব্যাপার নয়। আমি ভাবছি, আপনার হাতের মাথায় আর্মড ফোর্সেস উপস্থিত। তাদের বাদ দিয়ে আমার মতো একজন অসামরিক সাংসদকে পাঠাতে চাইছেন কেন?’
মন্ত্রীমশাই দেখলুম আমার অনেক খবরই রাখেন। আমার সাহস, নির্ভরযোগ্যতা আর দেশপ্রেম সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো কথা বলে বললেন, ‘আমাদের আপনাকে সবচেয়ে যোগ্য লোক বলে মনে হয়েছে। এই সমস্ত ব্যাপারটা অত্যন্ত গোপনীয়। আর আমরা জানি যে শত্রুর হাতে ধরা পড়লেও আপনি প্রাণ গেলেও মুখ খুলবেন না। পরাধীনতার সময়, পুরন্দরপুর ষড়যন্ত্রে ধরা পড়ার পর লাহোর জেলে আপনার ওপরে যে অমানুষিক অত্যাচার হয়েছিল, তার কথা আমরা জানি। তা ছাড়া, আর্মিও আপনার সঙ্গে যাবে, তবে একজন অফিসার।’
বলে আর্মি ইউনিফর্মপরা অফিসারটির দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, ‘ইনি মেজর অনিরুদ্ধ মিত্র, ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর গোয়েন্দাবিভাগ ‘আর্মি ইন্টেলিজেন্স কোর’-এর অফিসার। একজন দুঃসাহসী, কর্তব্যপরায়ণ, বহুবার পুরস্কৃত অফিসার। ওনাকে সব বলা আছে। উনি আপনাকে আজকেই সব বুঝিয়ে দেবেন। আপনি ওঁর সঙ্গে যান। পারলে আগামী সোমবারই রওনা হয়ে যাবেন আপনারা। টাকার কোনো অসুবিধে হবে না। আর মেজর মিত্র তিন-চারটে রাজস্থানি ডায়ালেক্টে অনর্গল কথা বলতে পারেন। কাজেই ভাষা বাবদেও আপনার কোনো অসুবিধা হবে না।’
বলে মন্ত্রীমশাই মাথা নীচু করে ফাইলে মনোনিবেশ করলেন। বুঝতে পারলুম, আলোচনা শেষ। ভদ্রলোক আমাকে ‘যাব না’ বলবার সুযোগ দিতে রাজি নন।
ইতিমধ্যে মেজর মিত্র উঠে দাঁড়িয়েছেন। ইশারায় বললেন, ‘আসুন আমার সঙ্গে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে বেরিয়ে অনিরুদ্ধর গাড়িতে যেতে যেতে আমাদের পরিচয়পর্ব সারা গেল।
আগেই বলেছি, মেজর অনিরুদ্ধ মিত্র ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর গোয়েন্দাবিভাগ আর্মি ইন্টেলিজেন্স কোর-এর অফিসার। বিরলকেশ, অনতিদীর্ঘ, চোখে চশমা, এই আপাতনিরীহ ভদ্রলোকটিকে অসামরিক পোশাকে দেখলে একবারও কারোর মনে হয় না যে, তিনি একজন দুঃসাহসী কর্তব্যপরায়ণ আর্মি অফিসার যিনি অনেক বার তাঁর কাজের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। বরং, তাঁকে একজন বিদগ্ধ অধ্যাপক বলেই মনে হয়।
সেটা অবশ্য খুব ভুল নয়। সৈন্যবাহিনীতে যোগ দেবার আগে তিনি একবছর অধ্যাপনাই করেছেন। তাঁর বিষয় ছিল প্রাচীন ইতিহাস এবং তা নিয়ে অবসর পেলেই এখনও পড়াশুনো করে থাকেন। তা, এতই যদি তাঁর ইতিহাসে আগ্রহ ছিল, তাহলে তিনি সৈন্যবাহিনীতে গেলেন কোন কর্মে? তার কারণ ভগ্নহৃদয়। সেই ইতিহাস অনিরুদ্ধর কাছ থেকে দফায় দফায় আমি জানতে পারি আমাদের অভিযানের সময় আর তারপরে দিল্লিতে ফিরে এসে।
অধ্যাপক তাঁর কলেজের সেকেন্ড ইয়ারের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী কল্যাণী চট্টোপাধ্যায়ের প্রেমে পড়েছিলেন। কফিহাউসে পকোড়া আর কোল্ডকফি সহযোগে সেটা অনেকদূর গড়িয়েও ছিল। কিন্তু তুবড়িটা হঠাৎ একদিন ফুস করে নিভে গেল। কারণ, কল্যাণীর বাবা, সেই সময়ের বিখ্যাত শিল্পপতি ভবানী চট্টোপাধ্যায় তাঁর মে-ফেয়ারের বাড়ি থেকে মার্সিডিস চড়ে বাগবাজারের রামময় সরকার লেনে এসে অনিরুদ্ধর বাবা অনিল মিত্রকে একগাদা যাচ্ছেতাই সব কথা বলে গেলেন। সেদিন বোঝা গিয়েছিল যে তেলে আর জলে কখনোই মিশ খেতে পারে না।
এই ঘটনার পরেই অনিরুদ্ধ সৈন্যদলে যোগ দিয়ে কলকাতার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করলেন।
এর পরে যা ঘটল, ভবানীবাবুর সেই খবরগুলো আমার জানা ছিল কিন্তু অনিরুদ্ধ এসব কিছুই জানতেন না। প্রথম পরিচয়ে আমিও তখন তাঁকে এসব কথা জানাইনি।
আশ্চর্য ব্যাপার, প্রায় সেই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ভবানী চাটুজ্জের বিশাল ব্যাবসার পতন আরম্ভ হল। এর মধ্যে কোনো আধিদৈবিক বিচার ব্যবস্থার হস্তক্ষেপ ছিল কি না জানি না, তবে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই তাঁর চ্যাটার্জি প্রিসিশন ইন্সট্রুমেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড নিলাম হয়ে গেল, মে-ফেয়ারের বাড়ি বিক্রি হয়ে গেল, ভবানীবাবু তিন বছরের জন্য জেলে গেলেন, সেখানেই হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হল আর সদ্য এমএ পাশ করে কল্যাণী রামপুরহাট গভর্নমেন্ট কলেজে অধ্যাপনার কাজ নিয়ে মা আর ভাইকে নিয়ে কলকাতা থেকে বিদায় নিল।
অফিসে পৌঁছে দুটো কোল্ডড্রিঙ্কের বোতল খুলে অনিরুদ্ধ বলল, ‘প্রথমে আপনাকে সমস্যাটা কী সেটা বলি। থর মরুভূমি সম্পর্কে আপনি কিছু জানেন?’
আমি বললুম, ‘থর মরুভূমি? না, প্রায় কিছুই জানি না।’
অনিরুদ্ধ বললেন, ‘তাহলে, সবার প্রথমে এই মরুভূমি সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলা দরকার।’
‘আমাদের অভিযান তবে ওখানেই, তাই তো?’
‘হ্যাঁ। তবে সে কথা পরে হবে। আগে থর মরুভূমি। সাতাত্তর হাজার বর্গমাইল জুড়ে এই মরুভূমির পঁচাত্তর ভাগ ভারতবর্ষে আর বাকি পঁচিশ ভাগ পাকিস্তানে। এই মরুভূমি শব্দটা আমাদের মনে যে ছবি তৈরি করে তা হল একটা বিশাল বালির সমুদ্র, গাছ নেই, পালা নেই, জন্তুজানোয়ার পোকামাকড় কিচ্ছু নেই, মানুষ তো নেইই। থর ঠিক এরকম নয়। বালির সমুদ্র ঠিকই কিন্তু জায়গায় জায়গায় ঝোপঝাড় তো আছেই, তা ছাড়া খেজরি ইত্যাদি নানারকম গাছও হয়। খেজরি কিন্তু খেজুর গাছ নয়। হরিণ, শেয়াল, নেকড়ে আরও নানা রকমের জন্তুজানোয়ার আছে। পোকামাকড়, সাপও আছে। যেসব জায়গায় গাছপালা ঝোপঝাড় গজায়, সেইসব জায়গায় মানুষের বসতি আছে। তাদের প্রধান জীবিকা পশুপালন আর ছোটোখাটো চাষ-আবাদ।’
‘পশুপালন? কী পশু, উট?’
‘শুধু উট কেন, ছাগল আছে, ভেড়া আছে, অনেকে গোরুও পালে।’
‘এরা কি বাঞ্জারা বা যাযাবর?’
‘এককালে হয়তো ছিল। এখন তারা মোটামুটি স্থায়ী বাসিন্দা। গাছের ডালপালা বা শুকনো ঝোপ কেটে এরা ঝুপড়ি মতন ঘর বানায়। এই ঘরে কোনো জানলা থাকে না, নীচু একটা দরজা থাকে। রোদের তাপ বাড়লে এর ভেতরে গ্রামের সবাই ঢুকে যায়, রাতটা বাইরেই শুয়ে কাটায়। আমাদের গন্তব্য এইরকমই একটা গ্রামে। তার নাম নাসারা। বারমের শহর থেকে প্রায় আঠারো মাইল দূরে গভীর মরুভূমির ভেতরে। ওখান থেকে পাকিস্তানের সীমান্ত প্রায় সাত মাইল।’
‘গভীর মরুভূমি মানে কী?’
‘মানে, মরুভূমি বলতে আমরা যা বুঝি, সেইরকম। চারদিকে শুধু বালি আর বালি। কেবল নাসারা গ্রামের চারপাশে কিছু গাছপালা আর চাষের খেত আছে। কাছাকাছি শহরে আসতে গেলে উটে চড়ে আসে।’
‘সেখানে লোক বাস করে কী করে? জল পায় কোত্থেকে?’
‘গ্রামটার উত্তর দিকে একটা লম্বাটে টিলা আছে, শ-দেড়েক ফুট উঁচু। সেটা দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটা লোক পাশ ফিরে শুয়ে আছে। সেই টিলাটার একপাশে গোটা তিনেক গুহা আছে। তাদের একটির ভেতরে একটা স্বাভাবিক কুয়ো আছে। সেটা কত গভীর তা কেউ জানে না। কিন্তু তার নীচে জল আছে। সেটা গ্রীষ্মকালেও শুকোয় না। তা ছাড়া, সারা বছরে যে সামান্য বৃষ্টি হয়, তার সমস্ত জল টিলার গা বেয়ে সেই কুয়োয় পড়ে। তখন জলস্তর অনেকটাই ওপরে উঠে আসে।’
‘অদ্ভুত তো!’
‘অদ্ভুত কিছু নয়। পৃথিবীর অনেক জায়গায় এরকম বহু ফর্মেশন দেখা যায়। আসলে কয়েক লক্ষ বছর আগে যখন গণ্ডোয়ানা ল্যান্ড তৈরি হচ্ছিল, তখন এই টিলাটা একটা আগ্নেয়গিরির অংশ ছিল। এই গুহাগুলি সেই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ আর কুয়োটা লাভার বাইরে বেরিয়ে আসবার পথ ছিল।’
‘বেশ, তারপর?’
‘গ্রামের লোক সেই কুয়োর জল খুব সাবধানে ব্যবহার করে। নিজেরা খায়, তাদের জন্তুজানোয়ারদের খাওয়ায়, সামান্য চাষবাসও করে, আর কোনো অবাঞ্ছিত লোককে সেই গুহায় ঢুকতে দেয় না। এমনকী গ্রামের ছেলেপুলেদেরও না। সেইজন্যে তারা নাসারা গ্রামে কোনো অতিথি এলে বিরক্ত হয়, তাকে ফেরত পাঠানোর জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।’
আমি হেসে বললুম, ‘সেটা অস্বাভাবিক নয়।’
অনিরুদ্ধ কিন্তু হাসলেন না। বললেন, ‘সেটা স্বাভাবিক হত, যদি সেটাই নাসারা গ্রামে বাইরের অতিথিকে ঢুকতে না দেবার একমাত্র কারণ হত। কিন্তু তা নয়। অন্য কোনো কারণও আছে। সেই কারণটাই খুঁজে বের করা আমাদের এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।’
‘অন্য কোনো কারণ যে আছে এবং সেটা একটা অত্যন্ত গুরুতর ব্যাপার— এরকম সন্দেহ আপনাদের হল কেন?’
অনিরুদ্ধ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, ‘চলুন, আমরা আমার কোয়ার্টার্সে যাই। সেখানে এই ধড়াচূড়ো ছেড়ে আমি সিভিলিয়ান পোশাক পরে নেব। তারপর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আপনাকে সব কথা বলব। মাঝখানে কোথাও কফি খেয়ে নেওয়া যাবে।’
আমি উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললুম, ‘ওই নাসারা গ্রামে আমরা যাব কী করে? হেলিকপ্টারে না কি?’
এইবার অনিরুদ্ধ হেসে উঠলেন। বললেন, ‘সেটাও রাস্তায় বলব।’
বুঝলুম ব্যাপার সত্যিই গুরুতর।
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে য