
দময়ন্তী সমগ্র ১
মনোজ সেন
সোফার ওপর চিন্তিত মুখে দময়ন্তী বসে ছিল। প্রায় সাড়ে আটটা বাজে, এখনও সমরেশের পাত্তা নেই। আজ প্রায় তিন বছর হল বিয়ে হয়েছে ওদের, কিন্তু খবর-টবর না দিয়ে এত দেরি সমরেশ কখনো করে না। একটি বিদেশি ফার্মের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সমরেশ দত্তগুপ্ত, রোজ সাড়ে ছ-টার মধ্যে বাড়ি ফেরে। চিন্তাগ্রস্ত মুখে টেলিফোন ডাইরেক্টরিটা খুলল দময়ন্তী। কাকে ফোন করা যায়? ফার্মের কোন সহকর্মীকে? এমন সময় দরজায় বেল বাজল।
দরজা খুলে দেখা গেল সামনেই মূর্তিমান আকর্ণবিস্তৃত হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই দীর্ঘাকৃতি, সুপুরুষ ও প্রচণ্ড ফুর্তিবাজ মানুষটির প্রতি দময়ন্তী কোনোদিনই বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারে না। কিছুক্ষণ রাগত চোখে তাকিয়ে থেকে তারপর হেসে ফেলল। জিজ্ঞেস করল, ‘এত দেরি হল যে? অফিসে কাজ পড়ে গিয়েছিল বুঝি?’
ব্যাগটা ধপ করে সোফার ওপর পেলে সমরেশ বলল, ‘আরে, না, না, অফিসের কাজ নয়। একটা ভয়ানক ব্যাপারে জড়িয়ে পড়েছিলাম— যাকে বলে রোমহর্ষক ঘটনা।’ বলে একটা খালি সোফার ওপর লম্বা হল।
দময়ন্তী ব্যাগটা তুলে নিয়ে বলল, ‘রোমহর্ষক ঘটনা আবার কী? কালকের চ্যারিটি ম্যাচের টিকিট পেয়েছ বুঝি? ওই করেই তো মাথাটি খেলে নিজের। অফিসের কাজে মন নেই, কোথায় মোহনবাগান, কোথায় মহামেডান স্পোর্টিং এই করে বেড়াচ্ছ।’
হাত নেড়ে সমরেশ বলল, ‘দাঁড়াও, দাঁড়াও, লেকচার পরে দিয়ো। আগে চা-টা কিছু আনো দিকি। তারপর বলছি। চ্যারিটি ম্যাচ নয়, তার চেয়ে অনেক সাংঘাতিক ব্যাপার, খুনোখুনি যাকে বলে।’
রান্নাঘরের ভেতর থেকে দময়ন্তী বলল, ‘খুনোখুনি! কে কাকে খুন করল আবার?’
সমরেশ বলল, ‘সব বলছি। হাত মুখটা ধুয়ে নিই আগে। পাড়ায় থাকো, অথচ কোনো খবরই রাখো না। কবে তোমার পাশে খুন হয়ে পড়ে থাকব, জানতেও পারবে না।’
দময়ন্তী বাথরুমে তোয়ালে রেখে এল। বলল, ‘থাক, খুব হয়েছে। তুমি যখন ঘুমোও, তখন তো বাড়িতে ডাকাত পড়লেও হুঁশ থাকে না।’
.
খাওয়ার টেবিলে বসে সমরেশ বলল, ‘শোনো এবার। ওই তেত্রিশ নম্বরে এক মাড়োয়ারি ভদ্রলোক থাকেন, জানো? নাম বোধ হয়, সুখলাল চামারিয়া বা ওই ধরনের কিছু। আরে, ওই যে লনওয়ালা একতলা বাড়িটা!’
দময়ন্তী বলল, ‘জানি। সুখলাল চামারিয়া নয়, মোতিলাল জাজোড়িয়া। কিন্তু তার সঙ্গে রোমহর্ষক ঘটনা আর তোমার দেরি হওয়ার সম্পর্কটা কোথায়?’
একগাল হাসল সমরেশ, ‘হুঁ, হুঁ, ওইখানেই তো সম্পর্ক। সেই ভদ্রলোক আজ দুপুর দুটো থেকে চারটের মধ্যে খুন হয়েছেন— তাঁর বৈঠকখানা ঘরে। জানো সেকথা?’
আঁতকে উঠল দময়ন্তী। বলল, ‘সে কী! খুন হয়েছেন কী গো? কে খুন করলে? তাঁকে তো এই কালকেও দেখলুম, রিকশা করে কোথায় যেন যাচ্ছেন।’
সমরেশ বলল, ‘সে তো কাল। আজ আর তাঁকে দেখতে পাবে না। এতক্ষণে বোধ হয় পুলিশ তাঁকে ভ্যানে তুলে নিয়ে গেছে।’
‘আহা, বেচারি!’ দময়ন্তী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘কোনোদিন আলাপ হয়নি। অথচ মনে হচ্ছে, যেন পরিচিতই ছিলেন। কিন্তু, তোমার দেরি হল কেন? সেখানে কি গোয়েন্দাগিরি করছিলে নাকি?’
‘আরে, না, না গোয়েন্দাগিরি-ফিরি নয়।’ সমরেশ বলল, ‘অনেক লোক ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিল, তাই আমিও দাঁড়িয়ে গেলুম। উঁকিঝুঁকি মারছিলুম, যদি কিছু দেখতে-টেখতে পাই।’
‘কিছু দেখলে?’
‘হ্যাঁ, দেখলুম। শুনলুমও অনেক।’
‘কী করে দেখলে? সে-বাড়ির সামনে তো বেশ খানিকটা কম্পাউন্ড। তোমায় ঢুকতে দিল পুলিশ?’
‘দেবে না মানে?’ সমরেশ বুক ফুলিয়ে বলল, ‘শুধু ঢুকতে দিল? আদর করে ডেকে নিয়ে গেল।’
‘বাজে কথা বোলো না।’ হাসল দময়ন্তী, ‘কেন? তোমাকে দেখে কি ওদের ব্যোমকেশ বক্সী বলে মনে হয়েছিল?’
‘না, ঠিক তা নয়। মানে, ব্যাপারটা হচ্ছে, আমি তো অফিস থেকে ফিরছিলুম। তেত্রিশ নম্বরের সামনে ভিড় দেখে দাঁড়িয়ে গেলুম। কে একজন বললে, ভেতরে নাকি কে খুন হয়েছে। শুনে কৌতূহল আরও বাড়ল। কম্পাউন্ডের সামনে তো লোহার শিকের দেওয়াল, কাজেই বাড়িটা সবই দেখা যায়। দেখি, বারান্দায় আমাদের শিবেনচন্দ্র দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছেন।’
দময়ন্তী জিজ্ঞেস করল, ‘শিবেন, মানে শিবেন সেন? তোমার সেই সিআইডি বন্ধু?’
সমরেশ বলল, ‘হ্যাঁ, সেই শ্রীমান। দেখে হাঁক মারলুম একটা। বেটা শুনতে পেয়েই এগিয়ে এল। ভিড়ের মধ্যে আমাকে দেখে একগাল হেসে এমনভাবে ”আয় আয়” বলে সম্বর্ধনা করল যেন নিজেরই বাড়ি। অবিশ্যি অনেক বছর বাদে দেখা, কাজেই আনন্দ হওয়া স্বাভাবিক। তারপর একথা-সেকথা বলতে বলতে একেবারে ভেতরে নিয়ে গেল আমাকে। আমি অবশ্য বলেছিলুম, তোদের ইনভেস্টিগেশনে অসুবিধে হবে না তো? ও বলল, ইনভেস্টিগেশন যা হবার হয়ে গেছে। এখন ফটো তোলা, মাপজোক এইসব হচ্ছে। তুই আয়, কোনো অসুবিধে হবে না।’
দময়ন্তী জিজ্ঞেস করল, ‘কী দেখলে ভেতরে ঢুকে?’
‘দেখলুম সে এক বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার! ভদ্রলোক বসবার ঘরের মেঝেয় মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন। বোধ হয় পালিয়ে খাবার ঘরের দিকে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তার আগেই খুনি তাঁর মাথায় মেরেছে ডান্ডা! মাথার পেছনটা রক্তে মাখামাখি, ঘরের মেঝেয়, খাবার ঘরের দরজায়, দেওয়ালে রক্ত আর রক্ত! দেখেই আমার কেমন গা ঘুলোতে লাগল, তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে এলুম।’
‘তারপর?’ দময়ন্তী আগ্রহব্যাকুল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।
‘বাইরেও বিশ্রী দৃশ্য! ও বাড়ির দারোয়ান সূর্যকান্ত সিং না কী যেন নাম— যে বেটার ভয়ে একটা মাছি পর্যন্ত ও বাড়ির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে পেত না, সে তার বিশাল কুম্ভকর্ণ মার্কা শরীর দুলিয়ে ভেউ ভেউ করে কাঁদছে। তার বন্দুকটাও আবার পুলিশে নিয়ে গেছে। তবে তার কান্নাটা মনিবের শোকে, না তার সর্বক্ষণের সঙ্গী বন্দুকটার শোকে, ঠিক বুঝতে পারলুম না।’
‘আর মোতিলালবাবুর যে একটা ভাইপো থাকত?’
‘একটা নয়, দুটো। তাদের একটা অজ্ঞান, তার মাথায় সবাই জল-টল দিচ্ছে; আর অন্যটাকে পুলিশ অ্যারেস্ট করেছে— সে পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে বসে আছে।’
দময়ন্তী বলল, ‘কিন্তু আমি তো জানতুম ওঁর একটাই ভাইপো। একদম বখাটে। রংচঙে জামাকাপড় পরে আর মেয়ে দেখলেই শিস দেয়।’
সমরেশ মিটমিট করে দময়ন্তীর দিকে তাকাল। বলল, ‘তোমাকে দেখেও দিয়েছিল নাকি? কিন্তু অপদার্থ পুলিশ তো সে বেটাচ্ছেলেকে অ্যারেস্ট করেনি, করেছে তার দাদাটাকে।’
‘দাদাটাকে কিন্তু কোনোদিন আমি দেখিনি। পাড়ায় ওরাই একমাত্র মাড়োয়ারি— নজরে পড়া উচিত ছিল।’
সমরেশ বলল, ‘না পড়াই স্বাভাবিক। কারণ উনি আগে এখানে ছিলেন না। বোম্বে থেকে মাসখানেক হল এসেছেন। এসেই বুড়োকে খতম করেছেন!’
দময়ন্তী বলল, ‘কিন্তু ওদের চাকরটা… রাজু? সে কোথায় ছিল?’
‘রাজু নাকি কাল রাত্রে ছুটি নিয়ে দেশে গেছে। বলে গেছে একমাস পরে ফিরবে। পুলিশ অবশ্য তারও খোঁজ করছে। তাদের সন্দেহ, খুনের সঙ্গে সে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না থাকলেও, খুনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তার অনেক খবর জানার সম্ভাবনা আছে। যাক, পুরো গল্পটা তো শোনো। ভারি ইন্টারেস্টিং!’
গলা ঝেড়ে সমরেশ শুরু করল, ‘আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে এক বর্ষণমুখর রহস্যময় নিশীথে এই কাহিনির গোড়াপত্তন। কেমন, বেশ রোমহর্ষক রোমহর্ষক শোনাচ্ছে, না?’
‘ইয়ার্কি থামাবে? ভালো করে বলো।’ ঝংকার দিল দময়ন্তী।
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, শোনো। দশ বছর আগে— অর্থাৎ যখন তুমি রীতিমতো ফ্রক পরে ঘুরে বেড়াও, তখন এই ভদ্রলোক তেত্রিশ নম্বরের বাড়িটি কিনে বসবাস শুরু করেন এ পাড়ায়। ভদ্রলোক অবিবাহিত, না বিপত্নীক— কেউ জানে না। তবে এসেছিলেন একা, সঙ্গে একটি বছর চোদ্দোর ভাইপোকে নিয়ে। তাঁর নিজের বয়স তখন প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। নাদুসনুদুস ভালোমানুষ গোছের চেহারা। নাকের নীচে একটা প্রজাপতি-গোঁফ ছিল। তিনি কীসের ব্যাবসা করতেন, কেউ তখন তা জানত না; কারণ অত্যন্ত অমিশুক ছিলেন। এই দশ বছরে পাড়ায় প্রায় কারোর সঙ্গেই কোনো বাক্যালাপ করেননি। ভোরবেলা বেরিয়ে যেতেন, সন্ধের পরে ফিরতেন। বাড়িতে থাকত তাঁর ভাইপো, চাকর রাজু আর আর সেই ভীমভবানী দারোয়ান। কালেভদ্রে দু-একজন লোক ছাড়া কেউ আসত না তাঁর বাড়িতে। রাজু বাজার করত, ঘরদোর পরিষ্কার করত, রান্নাবান্না করত, সামনের লন নিড়োত, বাগানে জল দিত আর মনিবের ভ্রাতুষ্পুত্রটিকে স্কুলে দিয়ে আসত, নিয়ে আসত। মোট কথা, রাজুই ছিল বাড়ির সকল কাজের কাজি। ভদ্রলোকের বোধ হয় ফুলের শখ ছিল। কারণ সামনের লনের চারদিকে সুন্দর বাগান করা হয়েছিল, তাতে নানা রকমের মৌসুমি ফুল লাগানো থাকত। কিন্তু ভদ্রলোককে কোনোদিন বাগান পরিচর্যায় দেখা যায়নি, যা করবার রাজুই করত। সে নানা রকমের ফুল লাগাত আর ভারি যত্ন-আত্তি করত।’
‘হ্যাঁ, আর সেইসব ফুলের একটারও নাম তুমি আজ পর্যন্ত শিখে উঠতে পারলে না!’ দময়ন্তী গঞ্জনা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল।
‘যাকগে, যাকগে, তার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার বিন্দুমাত্র যোগ নেই। তারপর শোনোই তো, গত দশ বছর যাবৎ ওই পরিবারটি প্রায় একইরকমভাবে জীবনযাপন করে আসছিল। পাড়ার কারোর সঙ্গে যোগাযোগ তো ছিলই না, এমনকী ওই শ্যামলালবাবুর সঙ্গে…’
‘শ্যামলাল আবার কে?’
‘আহা, ওই যে— যে ভদ্রলোক খুন হলেন।’
‘তিনি তো মোতিলাল!’
‘আরে ওই হল। সেই মোতিলালবাবুর সঙ্গে তাঁর পরিবারের বাকি লোকজনেরও যে বিশেষ যোগাযোগ ছিল তা মনে হয় না। তবে তাঁর চাকর, দারোয়ান এবং ভাইপোটি যে তাঁকে দুর্দান্ত ভয় বা ভক্তি করত, সে-বিষয়ে সন্দেহ নেই। মোট কথা, তাঁরা এতদিন প্রায় নিঃশব্দে ওই তেত্রিশ নম্বরে জীবন কাটিয়েছেন। ভাইপোটি বখে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বাড়িতে কোনোদিন উচ্চবাচ্য করত না সে। এতদিন এইভাবেই চলছিল। তারপর হঠাৎ মাসখানেক আগে বোম্বে থেকে দু-নম্বর ভাইপো খুড়োর ব্যাবসায় যোগ দিতে ধূমকেতুর মতো এসে উপস্থিত হল। আর ধূমকেতু উঠলে যে কী হয়, তা তো জানোই।
‘এই ভাইপো বাবাজীবনের আগমনের কয়েকদিন পরেই আশপাশের বাড়ির লোকেরা তেত্রিশ নম্বরে একটা অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করল। যা এর আগে কখনো হয়নি, তাই ঘটতে আরম্ভ করল। বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যেতে লাগল। এমনকী সেই চেঁচামেচি গভীর রাত্রি পর্যন্ত মাঝে মাঝে শোনা গেল। কী নিয়ে চেঁচামেচি, সেটা না বোঝা গেলেও তাতে অংশগ্রহণকারীরা যে খুবই উত্তেজিত থাকত, সে-ব্যাপারে সকলেই একমত ছিলেন। এরপর একদিন রাজুর চাকরি গেল।
‘পঁয়ত্রিশ নম্বরে থাকেন রাখাল সান্যাল— তাঁকে তুমি চেনো। রাখালদার স্ত্রী মীরা বউদি একদিন সকাল বেলা দরজা খুলে দেখেন, তাঁদের রোয়াকে রাজু শুয়ে, পাশে কয়েকটা বাক্স-প্যাঁটরা। ব্যাপার কী? জিজ্ঞাসাবাদ করাতে রাজু জানাল যে তার চাকরি গেছে। তারপর গজর গজর করতে করতে সে আরও জানাল যে তার চাকরি যাওয়ার মূলে ওই দু-নম্বর ভাইপো এবং তার সঙ্গে চালাকির ফল সে পাবে; কারণ সে সব ফাঁস করে দেবে। মীরা বউদি ফাঁস করার কথা শুনে একটু ইয়ে হয়ে পড়েন, যাকে বলে কৌতূহলাক্রান্ত। কিন্তু অধিক প্রশ্নবাণ ছোড়ার আগেই এক নম্বর ভাইপোকে আসতে দেখা যায় এবং তার রাজুদাদাকে বগলদাবা করে বাড়ি ফিরে যায়। এই ভাইপোর কথায় জানা যায় যে কর্তাই নাকি রাজুকে ডেকে পাঠিয়েছেন।
‘আর একটা পরিবর্তন দেখা গেল রামলাল… ইয়ে মোতিলালবাবুর ব্যবহারে। ভদ্রলোক বাতের রুগি ছিলেন। মাঝে মাঝে বাতের ব্যথা উঠলে অফিসে বা তাঁর কর্মস্থলে যেতেন না। বসবার ঘরে, যেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত খুন হলেন, সেই ঘরে জানলার পাশে চেয়ার টেনে বসে রাস্তার লোক চলাচল দেখতেন। ওই অবস্থায় বসে থাকতে তাঁকে অনেকেই দেখেছে। ইদানীং অফিসে যাওয়া তিনি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। প্রায়ই তাঁকে বসবার ঘরের জানলার সামনে বসে থাকতে দেখা যেত। সম্ভবত বাতের ব্যথাটা খুব ঘন ঘন উঠছিল আজকাল।
‘তারপর শেষের