
কর্নেল সমগ্র ৭
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
পাতাল গুহার বুদ্ধমূর্তি
কর্নেলের জার্নাল থেকে
হোটেল দ্য লেক ভিউ-এর ব্যালকনি থেকে বাইনোকুলারে সেই সেক্রেটারি বার্ডটিকে খুঁজছিলাম। সারস জাতীয় এই দুর্লভ পাখিকে বাংলায় বলা হয় কেরানি পাখি। কারণ, সহসা দেখলে মনে হয়, তার কানে যেন কলম গোঁজা আছে।
কাল বিকেলে হ্রদের তীর থেকে পাখিটাকে কয়েক মুহূর্তের জন্য দেখেছিলাম। বিস্তীর্ণ এই প্রাকৃতিক জলাশয়ের মধ্যিখানে একটা জলটুঙ্গি আছে। সেখানে ঘন জঙ্গল। পাখিটা একলা, নাকি তার সঙ্গী বা সঙ্গিনী আছে জানি না। তবে সে অতিশয় ধূর্ত তাতে কোন সন্দেহ নেই। এমন একটা দুর্গম জঙ্গলে সে তার ডেরা বেছে নিয়েছে।
এই হ্রদের নাম বৃটিশ আমলে ছিল ‘মুন লেক’। পরবর্তীকালে হয়ে উঠেছে। চন্দ্র সরোবর। আসলে এটি প্রাগৈতিহাসিককালের মৃত এক আগ্নেয়গিরির বিশাল ক্রেটার। চারদিকে ঘেরা উঁচু-নিচু পাহাড়। পর্যটন মন্ত্রকের তদারকে সম্প্রতি উত্তর এবং পূর্বদিকের পাহাড়ের গায়ে অনেক বাংলো, কটেজ, হোটেল, দোকানপাট–এমন কি একটি টাউনশিপও গড়ে উঠেছে। তবে সেই টাউনশিপটি ধনবানদের। অধিকাংশ সময় সেখানকার সুরম্য বাড়িগুলি খাঁ-খাঁ করে।
‘লেক ভিউ’ হোটেল হ্রদের পূর্বদিকের পাহাড়ের গায়ে এবং তীর থেকে। তার উচ্চতা অন্তত ষাট ফুট। এখান থেকে হ্রদের তীরে নেমে যাওয়ার জন্য একটি ঘোরালো এবং ঢালু পায়েচলা পথ আছে। বয়স্করা সে পথে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি নেন না। উঠে আসার প্রশ্ন তো ভোলাই যায় না। তবে আমার কথা আলাদা। আমার অতীত সামরিক জীবনের সব শিক্ষা এই এই বৃদ্ধ বয়সে চমৎকার কাজে লাগছে। দেখে নিজেই বিস্মিত হই।
তো বয়স্কদের জন্য পায়ে হেঁটে বা গাড়ি চেপে চন্দ্র সরোবরের বেলাভূমিতে যাওয়ার পথটি আছে এই হোটেলের পূর্ব দিকে। ওই দিকটায় পাহাড় অতি ধীরে ঢালু হতে হতে সমতলে নেমে গেছে। বাঁক নিতে নিতে সেই পথ তাই পশ্চিমে হ্রদসীমান্তে পৌঁছেছে।
যে কাহিনীটি এখানে বলতে বসেছি, তা স্পষ্ট করে তোলার জন্যই পটভূমি ও পরিবেশের চিত্রটি ঈষৎ বিস্তৃতভাবে আঁকার প্রয়োজন হল। আর একটা কথা। নিজের সামরিক জীবনের স্মৃতির খাতিরেই চন্দ্র সরোবরের বদলে মুন লেক নামটি আমার পছন্দ। আমার তরুণ বয়সে এই দুর্গম পার্বত্যহ্রদের তীরে একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল এবং সেই ঘাঁটিতে আমি কিছুদিন ছিলাম। শরৎকালের শুক্লপক্ষের রাতে যে বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখানে দেখেছিলাম, তা অবিস্মরণীয়। তৎকালেই বুঝেছিলাম এই হ্রদের নাম কেন মুন লেক দেওয়া হয়েছে।
মুন লেকের জলটুঙ্গিতে সেক্রেটারি বার্ডের খবর সম্প্রতি একটি ইংরেজি দৈনিকে বেরিয়েছিল। খবরটি পড়ে এখানে চলে এসেছি। নভেম্বরে পর্যটন মরশুম শুরু। হঠাৎ করে চলে আসার জন্য অগত্যা এই দোতলা হোটেলে উঠতে হয়েছে। নতুবা সরকারি বাংলো বা কটেজই আমার পছন্দ। সেখানে ভিড় ভাট্টা কম হয়।
ভোরে কুয়াশা ছিল। মুন লেকের তীরে সাড়ে আটটা অব্দি ঘোরাঘুরি করে পাখিটাকে দেখা এবং ক্যামেরায় টেলিলেন্স ফিট করে তার ছবি তোলার আশা ছেড়ে দিয়ে হোটেলে ফিরেছিলাম। তারপর দোতলার ব্যালকনিতে বসে কফি খেতে খেতে লক্ষ্য করেছিলাম, কুয়াশা সরে গিয়ে রোদ ছড়িয়েছে। তাই বাইনোকুলারে জলটুঙ্গিটা দেখছিলাম।
কিছুক্ষণ পরে আমাকে বোকা বানিয়ে পাখটা জলটুঙ্গির জঙ্গল থেকে সহসা উড়ে গেল। তার গতিপথ লক্ষ্য করতে গিয়ে একটা দৃশ্য দেখে একটু চমকে উঠলাম। মুন লেকের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পাহাড়ের চূড়ার কাছাকাছি ঝুলে থাকা একটা চাতালের প্রায় শেষপ্রান্তে এক যুবতী দাঁড়িয়ে আছে এবং এক যুবক ক্যামেরায় তার ছবি তোলার জন্য তাকে আরও পিছনে হটে যেতে ইশারা করছে। প্রতি মুহূর্তে আশঙ্কা করছিলাম, আর এক পা পিছিয়ে গেলেই যুবতীটি নীচের গভীর খাদে পড়ে প্রাণ হারাবে। একটা সাংঘাতিক বিপজ্জনক ঘটনা। ঘটতে চলেছে। অথচ এত দূর থেকে আমার কিছু করার নেই। ওরা এত নির্বোধ কেন বুঝি না।
সহসা যুবতীটি পিছু ফিরে দেখেই দ্রুত সরে গেল। আমার আশঙ্কার অবসান ঘটল। এবার দেখলাম, যুবতীটি হাত নেড়ে তার সঙ্গীকে কিছু বলতে বলতে চাতালের পেছনের ধাপ বেয়ে নামতে শুরু করেছে। বাইনোকুলারে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম তার মুখে রাগের আভাস। যুবকটি অবশ্য হাসতে হাসতে তাকে অনুসরণ করছিল। পাথরের ধাপগুলির নীচে পাহাড়টা ক্রমে ঢালু হয়ে সমতলে নেমেছে। ঢালু অংশটা ঘাস আর ঝোপঝাড়ে ঢাকা। কিছুক্ষণ পরে হ্রদের তীরে তাদের আবার দেখতে পেলাম। এতক্ষণে তাদের চিনতে পারলাম। এই হোটেলেই কাল রাতে তাদের দেখেছি। নববিবাহিত বাঙালি দম্পতি বলেই মনে হয়েছিল তাদের। সম্ভবত বিয়ের পর হনিমুনে এসেছে।
কিন্তু যে দৃশ্যটা একটু আগে দেখলাম, তা নিছক নির্বুদ্ধিতা, নাকি অন্য কিছু, এই খটকাটা আমার মনে থেকে গেল।
দশটায় নীচের ডাইনিং হলে নেমে গেলাম। মুন লেকের দিকের টেবিলগুলি ততক্ষণে আর খালি নেই। অগত্যা কোণের দিকে একটা খালি টেবিলে বসলাম। তারপর ব্রেকফাস্টের অর্ডার দিয়ে ডাইনিং হলের ভেতরটা খুঁটিয়ে দেখতে থাকলাম। আসলে আমি সেই দম্পতিকে খুঁজছিলাম।
একটু পরে দেখি, আমার উল্টো দিকে তিনটে টেবিলের পর জানালার ধারে ওরা বসে আছে। যুবতীর মুখে এখন অনুচিত ধরনের একটা গাম্ভীর্য। সে চুপচাপ খাচ্ছে। যুবকটি চাপা গলায় কথা বলে সম্ভবত তার মানভঞ্জনের চেষ্টা করছে। যুবকটির চেহারা অবশ্য তত স্মার্ট নয়। একটু বোকা বোকা ছাপ আছে। যদিও চুলের কেতা আর পোশাকে সে প্রচণ্ডভাবে একালীন।
ব্রেকফাস্টের পর কফির পেয়ালায় সবে চুমুক দিয়েছি, এমন সময় যুবকটি হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। তারপর তার সঙ্গিনীকে কিছু বলে ডাইনিং হল থেকে বেরিয়ে গেল। এখান থেকে হোটেলের লাউঞ্জ চোখে পড়ে। তাকে লাউঞ্জ পেরিয়ে যেতে দেখে বুঝলাম, সে বাইরে কোথাও চলে গেল।
যুবতীটি ঘড়ি দেখে নিয়ে জানালার দিকে মুখ ঘোরাল। তার হাতে চায়ের কাপ। খুব দেরি করে সে কাপে চুমুক দিচ্ছিল।
ইতিমধ্যে ডাইনিং হল ফাঁকা হয়ে গেছে। প্রকৃতি প্রেমিকরাই এখানে পর্যটনে আসে। নভেম্বরের পাহাড়ি শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে এখন রোদের উষ্ণতা দরকার। তাই এখন মুন লেকের তীরে ভিড় হওয়ার কথা। আমিও শিগগির বেরিয়ে পড়তে চাইছিলাম। সেক্রেটারি বার্ডটি যদি দৈবাৎ ফিরে আসে, আকাশপথে তাকে ক্যামেরাবন্দি করার সুযোগ পেতেও পারি।
কিন্তু মনে খটকা থেকে গেছে। তাই কফি শেষ করে চুরুট ধরিয়ে সোজা যুবতীটির কাছে চলে গেলাম এবং মুখে উল্লাস ফুটিয়ে বলে উঠলাম, হাই ডার্লিং! তুমি এখানে?
যুবতীটি দ্রুত ঘুরে আমার দিকে তাকাল। সে একটু হকচকিয়ে গিয়েছিল। সামলে নিয়ে বলল, আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারছি না।
মুখোমুখি চেয়ারে বসে সহাস্যে বললাম, ও ডার্লিং। এখনও তুমি ছোটবেলাকার মতোই দুষ্টু মেয়েটি হয়ে আছ। ওঃ! একবছর পরে তোমার সঙ্গে এখানে হঠাৎ এমন করে দেখা হয়ে যাবে কল্পনাও করিনি। বিয়ে করে ফেলেছ দেখছি। তারপর হনিমুনে আসা হয়েছে, তাই না?
সে বিরক্ত মনে বলল–দেখুন, আপনি ভুল করেছেন। আমি আপনাকে মোটেও চিনি না।
অনুরাধা। তুমি নিশ্চয় বাবা-মাকে না জানিয়ে বিয়ে করেছ! তাই
আমি অনুরাধা নয়। আপনি ভুল করছেন।
ভুল করছি? সে কি! অবাক হওয়ার ভঙ্গি করে বললাম, অনুরাধাকে চিনতে ভুল করব আমি–এ তো ভারি অদ্ভুত। বুড়ো হয়েছি। দাড়ি পেকে সাদা হয়ে গেছে। মাথায় টাক পড়েছে। সবই ঠিক। কিন্তু এখনও আমার দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ। চশমা পরার দরকার হয় না। আমি আমার ভাগনিকে চিনতে ভুল করব? সেই মুখ, সেই চোখ, সেই চেহারা। এমনকি কণ্ঠস্বরও এক এ কি করে হয়? না– তুমিই অনুরাধা।
আহ! বলছি আমি অনুরাধা নই।
তাহলে আমারই ভুল। কিন্তু
আপনি বাঙালি?
বিলক্ষণ। একেবারে ভেতো বাঙালি।
কাল রাতে আপনাকে এখানে দেখেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম আপনি বিদেশি ট্যুরিস্ট।
একটু হেসে বললাম, হ্যাঁ। এই ভুলটা অবশ্য অনেকে করে। কিন্তু আমার অবাক লাগছে, দুটি মেয়ের চেহারা আর কণ্ঠস্বর কিভাবে এক হয়!
আপনি কোথায় থাকেন?
কলকাতায়। বলে পকেট থেকে আমার নেমকার্ডটা বের করে তাকে দিলাম।
সে কার্ডটা পড়ে বলল, আপনি মিলিটারি অফিসার?
ছিলাম। এখন রিটায়ার্ড।
সে কার্ডটাকে আবার চোখ বুলিয়ে উচ্চারণ করল, কর্নেল নীলাদ্রি সরকার। নেচারিস্ট। নেচারিস্ট মানে?
প্রকৃতি প্রেমিক বলতে পারেন। প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ আমার একটা হবি। মুখটা একটু কাচুমাচু করে ফের বললাম, আই অ্যাম ভেরি সরি মিসেস
আমার নাম রাপ্তী সেন। আপনি আমাকে তুমি বলতে পারেন।
বলব। কারণ সত্যিই আমি অবাক হয়েছি। আমার ভাগনির সমবয়সী এবং অবিকল তার মতো দেখতে কোন মেয়েকে আপনি বলতে আমার বাধবে। যাই হোক, অনুরাধা যেমন আমাকে আঙ্কেল বলে ডাকত, তুমিও স্বচ্ছন্দে আঙ্কেল বলতে পারো।
রাপ্তী আমার নেমকার্ড আবার দেখতে দেখতে বলল, এটা আমি রাখতে পারি?
অবশ্যই পারো। তো রাপ্তী, তোমরা নিশ্চয় হনিমুনে এসেছ?
রাপ্তী তার হ্যান্ডব্যাগে কার্ডটা চালান করে দিয়ে আস্তে মাথা দোলাল।
কলকাতা থেকে? নাকি
কলকাতা থেকে।
হাসতে হাসতে বললাম, আমার এই দ্বিতীয় ভাগনির বরের প্রশংসা করা উচিত। তার রুচি আছে। হনিমুনের উপযুক্ত স্থান সে বেছে নিয়েছে। কারণ এই পাহাড়ি লেকের পুরনো নাম কি জানো? মুন লেক। তো তোমার বর ভদ্রলোককে দেখছি না? আলাপ হলে ভালো লাগত।
ও ওর এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেল। ফিরতে একটু দেরি হবে বলে গেল।
তোমরা কত নম্বরে উঠেছ?
দোতলায় ২২ নম্বর স্যুইটে। আপনি?
আমি ১৯ নম্বরে। উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, তা তুমি কি ওর জন্য এখানেই অপেক্ষা করবে? আমার মনে হচ্ছে, তোমার স্যুইট থেকে মুন লেক সরাসরি চোখে পড়ে। অবশ্য তুমি ইচ্ছে করলে এদিকের করিডর দিয়ে নেমে লেকের ধারে পৌঁছতে পারো। এখন রোদটা আরামদায়ক।
রাপ্তী উঠে দাঁড়িয়ে মৃদুস্বরে বলল, অচেনা জায়গায় একা ঘুরতে ইচ্ছে করে না। তাছাড়া তমাল ফিরে এসে আমাকে না দেখতে পেয়ে খুঁজতে বেরুবে।
তমাল? বাহ। বেশ সুন্দর নাম। তোমার নামটাও চমৎকার।
রাপ্তী ডাইনিং হল থেকে বেরিয়ে করিডরে গেল। তারপর দোতলার সিঁড়িতে উঠতে থাকল। তাকে অনুসরণ করছি আঁচ করে সে একবার ঘুরে আমার দিকে তাকাল। বললাম, লেকের ধারে বড্ড বেশি ভিড়। আমি আমার সিঙ্গল স্যুইটের ব্যালকনি থেকে মুন লেকের সৌন্দর্য দেখব। সেজন্য এই বাইনোকুলারই যথেষ্ট।
দোতলার করিডরে গিয়ে রাপ্তী একটু দাঁড়াল। কিছু বলবে মনে হল। কিন্তু বলল না। তাদের স্যুইটের দিকে পা বাড়াল।
একটু কেশে আস্তে ডাকলাম, রাপ্তী।
রাপ্তী পিছু ফিরে বলল, কিছু বলবেন?
আস্তে বললাম, প্রায় এক ঘণ্টা আগে বাইনোকুলারে তোমাদের দেখছিলাম। না–ঠিক তোমাদের দেখছিলাম বললে আবার ভুল হবে। লেকের জলটুঙ্গিতে একটা পাখি দেখছিলাম। পাখিটা হঠাৎ উড়ে গিয়েছিল। তার গতিপথ লক্ষ করার সময় হঠাৎ দেখি, তুমি একটা বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এবং তমাল তোমার ছবি তোলার চেষ্টা করছে। দৈবাৎ তুমি পেছনে না তাকালে কি ঘটত ভেবে শিউরে উঠেছিলাম।
রাপ্তী দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে হনহন করে চলে গেল।
একটু দাঁড়িয়ে থাকার পর নিজের স্যুইটে ফিরলাম। যখন ওকে কথাগুলি বলছিলাম, তখন ওর মুখের রেখায় কি একটা ভাব ফুটে উঠেছিল, স্মরণ করার চেষ্টা করলাম। আতঙ্ক মিশ্রিত ক্ষোভ, নাকি নিছক ক্ষোভ? অথবা আতঙ্ক এবং বিস্ময়? অবশ্য আমার ভুল হতেও পারে। কিন্তু খটকাটা থেকে গেল।
ব্যালকনিতে এখন জোরালো হিম বাতাসের উপদ্রব। টুপি আঁটো করে পরে অন্য একটা পুরু জ্যাকেট গায়ে চড়িয়ে ইজিচেয়ারে বসলাম। বাইনোকুলারে জলটুঙ্গির জঙ্গল খুঁটিয়ে দেখার পর উত্তরে পাহাড়ের গায়ে কটেজ এরিয়া দেখ