সুমিতার স্বপ্ন

সুমিতার স্বপ্ন

শক্তিপদ রাজগুরু

সুমিতার স্বপ্ন

Books Pointer Iconশক্তিপদ রাজগুরু
Books Pointer Iconshort story

Posted byবইয়ের জগৎ01-Sep-2025

Change color

সুমিতা হলঘরে বাবার ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। অফিসে বের হবে। ড্রাইভারও জানে এটা। এ বাড়ির অনেকেই জানে। সুমিতার ছোট বোন অমিতা বলে, তুই কি ওখানে দাঁড়িয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলিস দিদি?


সুমিতা হাসে। ছোট ভাই সুজিত বলে, দিদি আমাদের নামে বাবার কাছে নালিশ করে, আমরা দিদিকে কত জ্বালাতন করি।


সুমিতা বলে, তাই যদি জানিস, তবে জ্বালাতন করিস কেন? তোদের জ্বালাতে সত্যিই আমি জ্বলে পুড়ে মরছি রে। অমিতা তুই কলেজেও ঠিকমতো যাস না। বন্ধুবান্ধবদের সাথে কলেজ পালিয়ে ঘুরিস। সিনেমায় যাস। আর সুজিত তুইও যা করিস সব আমার কানে আসে। তোকে কলেজের পড়া শেষ করে এবার আমার সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। ওদিকে কারখানার এক্সটেনশন হচ্ছে। নতুন ইউনিট বসছে। আমি একা কতদিক সামলাই বল? তোদেরও এগিয়ে আসতে হবে। জানিস অমিতা, মেয়েরাও আজকাল অনেক প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে। তুইও অফিসের কাজ দেখাশোনা করবি। সুজিত বলে, ওসব যখন করার করব, এখন তো তুই আছিস, মামাবাবু আছে, পড়াশোনাটা করি।


সুমিতা বলল, সেটা ঠিকমতো করলে তো কথাই ছিল না, কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। সুজিত চুপ করে যায়, সেও জানে দিদির কাছে খবর দেওয়ার জন্য লোকও আছে, এতবড় প্রতিষ্ঠান যে চালায় তার চর-অনুচরও আছে তারাই সুজিত অমিতার সব খবর দিদির কাছে পৌঁছে দেয় ঠিক সময় মতো। তাই সুজিত, ব্যাপারটাকে আপাতত চাপা দেওয়ার জন্য বলে, ঠিক আছে। এখন থেকে দেখবি একদম মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছি।


সুমিতা বলে, তাই কর। আমি বাবার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে রোজ প্রার্থনা করব। জানিস বাবাকে কথা দিয়েছিলাম, ওর কারখানাকে আমি আরও বড় করব। ঠিকমতো চালাব। মা, ভাই-বোনকে সুখী করব। তোদের মনের মতো করে বড় করব। তোরা আমার মুখ রাখিস ভাই।


সুমিতার কণ্ঠস্বর আবেগে ভরে ওঠে, ভাই বোনকে সে কাছে টেনে নেয়। সে তাদের কাছে বড় দুর্বল, বড় বেশি আবেগপ্রবণ। ঘড়ির কাঁটা তখন দশটার ঘরে। বিদেশি ঘড়িটায় সাধারণ আর পাঁচটা ঘড়ির মতো ঢংঢং করে দশটা বাজছে। খেয়াল হয় সুমিতার। সে এই জগতে ফিরে আসে। বলে, ইস দশটা বেজে গেল। অফিসে যেতে হবে। তোরাও তৈরি হয়ে নে। ঠিক সময় কলেজে যাবি। কোনও ক্লাস মিস করবি না। সুজিত, তোকে ফিজিক্স অনার্স পেতেই হবে। কারখানার কাজ জানতে হলে বিজ্ঞানের এসব জ্ঞান থাকা দরকার।


সুমিতা বের হয়ে যায়। ওদিকে উর্দি পরা ড্রাইভার রাম সিংও তৈরি। সে জানে মেমসাহেবের মেজাজের কথা। প্রতিদিন সকালে সুমিতা আগে দেখে নেয় রাম সিংকে। তার বাবার আমলের ড্রাইভার রাম সিং। সুমিতাকে ছোট থেকেই দেখছে। তখনই দেখেছে ওই ছোট মেয়েটার একটা কঠিন ব্যক্তিত্বকে। সেটা বেড়েছে সুমিতার বয়সের সঙ্গে সঙ্গে। সুমিতা, রাম সিংকে যেন তার সন্ধানী দৃষ্টিতে জরিপ করে চলেছে। ওর সাদা পোশাকে ইস্ত্রি ঠিকঠাক আছে কিনা। পোশাকে ফাঁকি থাকলে লোকটা যে কাজেও ফাঁকি দেবে এ ধারণা সুমিতার। তাই রাম সিং সর্বদা পোশাক আর কাজে টিপটপ থাকে। গাড়িটাকেও ঝকঝকে করে রাখতে হয়। আর গাড়ি সামান্য গড়বড় করলে সেটাকে সে বদলে ফেলে। গাড়ি বদলাবার মতো ক্ষমতা তার আছে। সুজিত মটরবাইকে বেশি পছন্দ করে। কারণ, ওর মতে একটা গাড়ির চেয়ে একটা মটর বাইকে চাপলে তার মতো হ্যান্ডসাম ছেলে, মেয়েদের চোখে বেশি পড়বে। সেজন্য সে ওই মোটর বাইকেই বেশি ব্যবহার করে। যদিও সুমিতার আপত্তি সেখানেই কারণ, ওতে বিপদের ঝুঁকি থেকে যায়।


সুমিতা রাম সিংকে দেখে নিয়ে গাড়িতে ওঠে। সোজা অফিস যাবে। লাঞ্চের আগে পর্যন্ত অফিসের কাজকর্ম দেখে তারপর সপ্তাহে তিন দিন যায় তাদের ডানকুনির কারখানায়। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ থেকে যাবে দু’নম্বর ইউনিটে। ওখান থেকে কোনও পার্টি বা মিটিং থাকলে সেখান থেকে হয়ে অফিসে ফেরে। সেখানে কাজ চুকিয়ে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। তার সারাটা দিন কাটে কাজের মধ্যে।


সুমিতার জীবনে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই এই রুটিন চালু হয়েছে। সে এখন যেন একাই এক কঠিন যুদ্ধক্ষেত্রে নিঃসঙ্গ সৈনিকের মতো লড়াই করে চলেছে। তার আগে সুমিতার জীবনটা ছিল অন্য ছন্দ অন্য সুরে সুরময়।


সুমিতার বাবা বিধানবাবুর বাবার একটা ওষুধের কারখানা ছিল। তখনকার দিনে নামকরা ডাক্তার, তবে আয়ুর্বেদশাস্ত্র তার পড়া ছিল। ফলে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের সাথে তিনি ভারতের করিরাজিশাস্ত্রে উল্লিখিত বহু গাছ গাছড়া, মূল, ফুল, ফল থেকে বেশ কিছু কবিরাজি ওষুধের পেটেন্ট নিয়ে তিনি ওই সব ওষুধ তৈরির কাজ শুরু করেন। আর সে সব ওষুধের বিক্রি বাড়তে থাকে। বিশুদ্ধ ওই কবিরাজি ওষুধগুলোর পাশাপাশি কিছু অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ তৈরিও শুরু করেন। তারপর ডাক্তারি পাশ করে বিধানবাবু প্র্যাকটিসে না গিয়ে বাবার কারখানা দেখাশোনা করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেও বেশ কিছু কেমিষ্টদের আনিয়ে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি বসিয়ে অনেক ওষুধ তৈরি করার অনুমতি নিয়ে কারখানা বাড়ান। আর নিজেও বৈজ্ঞানিকভাবে মার্কেটিংয়ের কাজ শুরু করেন।


বাবা মারা যাওয়ার পর বিধানবাবু এই কারখানাকে আরও বড় করে তোলেন। তাদের তৈরি ওষুধের গুণগত মান বেশ উৎকর্ষ। তাই বাজারে তার চাহিদাও অনেক। বিধানবাবুর শ্যালক ভবদেববাবুও বিধানবাবুর কারখানাতে কাজ করেন। অনেকদিন থেকেই ভবদেববাবু রয়েছেন বিধানবাবুর সঙ্গে। সেই ছোট কারখানা যখন ছিল তখন বিধানবাবু ও ভবদেববাবু দু’জনে বিভিন্ন এলাকায় ডাক্তারদের কাছে ওষুধের অর্ডার আনতেন।


নিজেরাই কারখানাতে অন্যদের সাথে পরিশ্রম করে মাল উৎপাদন করতেন। এই ভাবে ক্রমশ আরও বড় বাজার দখল করেন আর বিধানবাবুও ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে এই কারখানাকে বাড়ান। একে জনপ্রিয় করে তোলেন। বিধানবাবুর স্ত্রী যখন মারা যান, সুমিতা তখন কলেজে পড়ছে। এমনিতে সুমিতা সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। অবসর সময়মতো বাবার সঙ্গে কারখানা ঘুরে দেখে। কোন মেশিনে কী তৈরি হয়, কোন ওষুধ কীভাবে তৈরি হয় এসমস্ত খবরও নেয়। ভবদেববাবু বলেন, বিধানদা তোমার মেয়ে কারখানার ব্যাপারে আমাদেরও টেক্কা দেবে।


বিধানবাবু ভবদেবকে বলেন, আজকালকার মেয়েদের এসব জানা দরকার যে, আমাদের পর তো ওদেরই এসব সামলাতে হবে। অমিতা, সুজিত তো ছোট। আর সুমিতা মেয়ে হলে কী হবে, ও আমার ছেলের মতো।


সুমিতা অবশ্য খেলাধুলায় চৌকস। এর মধ্যে নিজে গাড়ি চালাতে শিখেছে। মাঝে মাঝে ছুটির দিনে নিজের কারখানাতে চলে আসে।


কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরাও তাদের এই খুদে মনিবকে চেনে। তারাও চায় ছোট মেমসাব কারখানায় আসুন। সে বার বোনাসের দাবি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষও দেখা যায়।


অবশ্য বিধানবাবু এটা জানেন না। অফিসের কাজে তিনি দিল্লি-মুম্বাই-চেন্নাই-দক্ষিণ ভারতে ঘুরে বেড়ান। সেখান থেকে তাদের বহু কাঁচামাল আসে—তৈরি ওষুধও যায়। তাই ওদিকে প্রায়ই যেতে হয় বিধানবাবুকে। তিনি ওখানে দু’একবার সুমিতাকেও নিয়ে গেছেন।


দক্ষিণের গহন বনে, পর্বত ঘেরা উপত্যকায় সুন্দর শহরে গেছে সুমিতা। সেখানের এজেন্টদের সঙ্গে কথাও বলেছে। দেখেছে বহু কোম্পানি কবিরাজি গাছ-লতা-মূলের জোগানদারদের সঙ্গে বাবা কাজ নিয়ে বাইরে বাইরে ঘোরেন। কারখানা চালায় সুমিতার মামা ভবদেববাবু। তিনি মাঝে মাঝে নিজের প্রভুত্ব দেখাতে চান। তা নিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয়েছে।


শ্রমিকদের দাবি, কোম্পানি তাদের পরিশ্রমের দ্বিগুণ মুনাফা করেছে, তাই এবার তাদের বোনাসও কিছু বাড়াতে হবে। আর তাদের এই দাবি জানাতে ভবদেববাবুও জানিয়েছেন, বেশি বোনাস দেওয়া সম্ভব নয়। বিধানবাবু বাইরে। তিনি এসব খবর জানেন না। অবশ্য সুমিতার সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। সেদিন সুমিতা কারখানায় এসে দেখে, শ্রমিকদের তখন আন্দোলন চলছে পুরো দমে। কাজও বন্ধ হয়ে আছে কারখানায়।


সুমিতা ব্যাপারটা দেখে শ্রমিকদের দু-তিনজন নেতাকে তার ঘরে ডেকে এনে, ওদের বসিয়ে আন্দোলনের কারণটা জানতে চায়। শ্রমিকরাও সুমিতাকে চেনে। তারাই বলে, মেমসাহেব, ম্যানেজারবাবু আমাদের দাবি এক কথায় নাকচ করে দিয়েছেন। আমরা দেড় মাসের বোনাস চেয়েছি। আর ম্যানেজারবাবু আমাদের কোনও কথাই শোনেননি। বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলন শুরু করেছি।


সুমিতা নিজেও এবছরের ব্যালেন্সসিট দেখেছে। সে জানে যে, শ্রমিকদের অনেকেই সৎ, কাজে ফাঁকি দেয় না। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই আজ কারখানার এত উন্নতি। তাই এইটুকু দাবি করা তাদের পক্ষে অন্যায় নয়।


সুমিতা বলে, আমি মামাবাবুর সঙ্গে কথা বলেছি। দরকার হলে বাবার সঙ্গে আজই ফোনে চেন্নাইতে কথা বলে কাল আপনাদের জানাব। আমি বিশ্বাস করি আপনাদের দাবি কোনও অন্যায় দাবি নয়। এটা যাতে পূরণ হয় আমি সেই চেষ্টা করব। আপনারা আজ মিটিং বন্ধ রেখে দিন। কাল আপনাদের জানাব, তারপর যা ভাল বোঝেন করবেন।


শ্রমিক নেতারাও ওর কথা মানে। সুমিতা মাঝে মাঝে শ্রমিকদের কোয়ার্টারে যায়। শ্রমিকদের কলোনিতে গিয়ে ওদের পরিবার পরিজনের সঙ্গে কথা বলে। তাদের অভাব অভিযোগের কথাও শোনে। আগে কলোনিতে পানীয় জলেরও সুব্যবস্থা ছিল না। দু’একটা টিউবওয়েল ছিল যা থেকে সকলে ঠিকমতো জলও পেত না। তাই নিয়ে প্রায়ই নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি অশান্তির সূত্রপাত হত। সুমিতা একদিন এরকম পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল। শ্রমিকদের মধ্যে হইচই চলছে। সুমিতা সেই সব দেখে সাত দিনের মধ্যে ওখানে ডিপটিউবওয়েল, জলের ট্যাঙ্ক ইত্যাদি বানিয়ে দেয়, এখন আর জলের অভাব নেই কলোনিতে।


ওদের ওখানে একটা ছোট হাসপাতালও ছিল। কিন্তু সেখানে ডাক্তার বসত না। ওষুধপত্র ঠিকমতো পাওয়া যেত না। সুমিতা দেখে কোম্পানির খাতায় কলমে ডাক্তার ও ওষুধপত্রের জন্যে খরচ ঠিক হয়েছে, কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই টাকা কোথায় যায় তা জানা যায় না। সুমিতাই এবার ভবদেববাবুকে ওই নিয়ে প্রশ্ন করাতে ভবদেববাবুও যেন আকাশ থেকে পড়েন। তিনি বলেন, সেকি! আমি তো এসব জানতাম না। কেউ আমায় এসব কথা বলেওনি। এ তো খুবই অন্যায়, আমি দেখছি।


সুমিতা বলে, ও নিয়ে আপনি ভাববেন না। টাকাটা ঠিকমতো স্যাংশন করেছিলেন অথচ তা ঠিকমতো কাজে লাগানো হয়েছে কিনা তা আপনার জানা উচিত ছিল। এখন থেকে ওটা আমিই দেখব।


ভবদেববাবুও এই জেদি মেয়েটাকে সমীহ করেন। বলে, তাহলে তো ভালই হয় মা, বিধানদা তো বাইরের কাজে ব্যস্ত। একা আমি কারখানার লেবার প্রোডাকশন সামলাতে ব্যস্ত। এ সব দিকটা যদি তুমি দ্যাখো তাহলে তো খুব ভালই হয়।


সুমিতাই এবার কলোনিতে হাসপাতাল নতুন করে চালু করে। আর শ্রমিকরাও দেখে এই মেয়েটাই তাদের জন্য ভাবে। কলোনির প্রাইমারি স্কুলের অবস্থাও একইরকম। শিক্ষক আছে তিনজন অথচ আসে একজন। অন্যেরা আসেন মাঝে মাঝে। দুপুরে ছেলে-মেয়েদের খাবার দেওয়ার কথা। কিন্তু তাও ঠিকমতো দেওয়া হয় না। চাল, ডাল, আনাজ সব কিছুই কোনও অদৃশ্য হাতে পাচার হয়ে যায়। ছাত্ররা বলে, মাসে তিন কেজি করে চাল দেয় তাও পচা, খাওয়া যায় না। সুমিতা নিজে একদিন এসে দেখে চাল বিলির প্রহসন। সুমিতা নিজেই এবার স্কুলের হাল ফিরিয়েছে। এখন তিনজন শিক্ষককে রোজই আসতে হয়। আর ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যাও বেড়েছে। তারা খেতেও পাচ্ছে।


এ সমস্ত ঘটনাগুলো শ্রমিকদের মনে একটা নির্ভরতা এনেছে। এতদিন তাদের পাশে কেউ ছিল না। কোম্পানি পয়সা দিয়ে খালাস। শ্রমিক-মালিকদের মধ্যে কোন আত্মিক সম্পর্ক ছিল না।


বিধানসাহেব এখানে থাকলে তবু তিনি শ্রমিকদের খবর নিতেন। ভবদেববাবু এদিকে আসেন না। তার অনুগত কিছু লোকই এসব দেখাশোনা করে। তারাই এসব টাকাপয়সার হিসাব করত। সুমিতাই তাদের অত্যাচার থেকে শ্রমিকদের বাঁচিয়েছে। তাদের প্রাপ্য সুবিধা দিয়েছে। বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়ায়। তাই আজ বোনাসের ব্যাপারে সুমিতাকে ওই সব কথা বলতে দেখে শ্রমিকরা বলে, তাই হবে। আপনি বড় সাহেবের সাথে কথা বলুন। আমরাও চাই না আমাদের কারখানায় কোনও অশান্তি হোক। আমরা যে যার কাজে যাচ্ছি।


ভবদেবের চ্যালারা কারখানায় এইসব করছে। তারাই ভবদেবকে সব খবর দেয়। ওরা সুমিতা মেমসাহেবের উপর খুশি নয়। কারণ, ওদের রোজগারে টান পড়বে। সুমিতা কারখানায় এসে ক্রমশ ওসব খবর জেনে গেছে ওদের অনেক দুর্নীতি ফাঁস হয়ে গেছে। তারাই ভবদেবকে বলে, কালকে

**********