লিলি

লিলি

দেবারতি মুখোপাধ্যায়


উৎসর্গ

বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম

একনিষ্ঠ পাঠক ও শুভাকাঙ্ক্ষী

অগ্রজপ্রতিম

শ্রী সুগত চক্রবর্তীকে৷

.

ভূমিকা

এবারের কলকাতা বইমেলা উপলক্ষ্যে দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত হতে চলেছে আমার ছয়টি ছোট-বড় কাহিনির সংকলন ‘লিলি’৷ এতে রয়েছে ছয়টি প্রাপ্তবয়স্ক কাহিনি যার কিছু পূর্বে গ্রন্থিত ও কিছু অগ্রন্থিত৷ কয়েকটিকে ফেলা যায় উপন্যাসিকা গোত্রে, কয়েকটি শুধুই গল্প৷ এতগুলো কাহিনি থাকতেও এই সংকলনটির নামকরণ শুধু ‘লিলি’ কেন করা হল, তা পাঠকের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে৷ হয়তো আয়তনে ও বিষয়বৈচিত্র্যে লিলি সকলের চেয়ে স্বতন্ত্র, তাই সে এই প্রাধান্যের সুযোগ্য দাবিদার৷

সংকলনটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এই যে, এখানে কিছু গল্প তথাকথিত অলৌকিক, কিছু রোমাঞ্চকর, আবার কিছু একেবারেই সামাজিক৷ কিছু গল্প কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, কিছু গল্প অতটা না হলেও মানসিকভাবে পরিণত হওয়ার দাবি রাখে৷ সাধারণত এমন মিশ্র সংকলনের উদাহরণ বাংলা সাহিত্যে বিরল৷

তবু এদের সকলকে একমলাটে আনার একমাত্র কারণ হল, এই কাহিনিগুলোর প্রতিটিই বিষাক্ত৷ প্রতিটিই হানা দিয়েছে মানবমনের অন্ধকার অলিগলিতে, নির্দয়ভাবে অন্বেষণ করেছে মানুষের অবচেতনে লুকিয়ে থাকা বিষকে৷ হয়তো কখনো তা যুক্তির চৌকাঠ অতিক্রম করে, কখনো করে না৷ প্রতিটা কাহিনিতেই রয়েছে অপরাধী, কিন্তু তারা কেউই তথাকথিত দাগি আসামি নয়৷ বরং, আশপাশের সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মনের অবচেতনে লুকিয়ে থাকা বিষেরই খোঁজ করা হয়েছে গোটা সংকলনে৷

পাঠকের তৃপ্তিই লেখকের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার৷ তাই সেই অপেক্ষায় রইলাম৷

দেবারতি মুখোপাধ্যায়


লিলি

শীতের মধ্যরাত৷ বাড়ির পাশের গাছগুলোর পাতার ভাঁজে ভাঁজে নিকষঠান্ডা অন্ধকার জমাট বেঁধে রয়েছে৷ ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দে এগিয়ে চলা ছাড়া বিশ্বচরাচরে যেন আর কোনো স্পন্দন নেই৷ জানলার কাচের মধ্য দিয়ে দূরের ল্যাম্পপোস্টের ধূসর আলো এসে পড়েছে ঘরের মধ্যে৷ সৃষ্টি করেছে কেমন এক মায়াবী পরিবেশের৷


এইরকম পরিবেশে প্রচণ্ড ঠান্ডায় লেপের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকলে সেই সুখানুভূতির জাল ছিন্ন করে কারুরই সহজে ঘুম ভাঙে না৷ পাতলা হতে হতেও ঘুম আবার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে শরীরটাকে৷ যদি না যথেষ্ট পরিমাণে তাকে উৎপীড়ন করা হয়৷


অদম্য পালেরও সেটাই হচ্ছিল৷ অনেকক্ষণ ধরে একটা অস্বস্তি হচ্ছিল, অবাঞ্ছিত কোনো স্পর্শে তাঁর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছিল৷ নিদ্রাচ্ছন্ন অবস্থাতেও তিনি বারবার সেই অস্বস্তিটাকে দূরে ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছিলেন৷ সামান্য উশখুশ করে পাশ ফিরে আবার জড়িয়ে ধরছিলেন লেপের তলায় তাঁর একমাত্র সঙ্গী পাশবালিশটিকে৷


কিন্তু বেশ কয়েকবার এমন হওয়ার পর তাঁর ঘুমটা সত্যিই পুরোপুরি ভেঙে গেল৷ তিনি জেগে উঠলেন৷


আর জেগে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বেশ আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করলেন, লেপের তলায় তিনি যেন একা নন৷ পরিষ্কার অনুভব করতে পারলেন, তাঁর রাতপোশাকের মধ্যে কিলবিল করছে একজোড়া নরম হাত৷ বেপরোয়া পর্যটকের মতো সেই হাতদুটো বিচরণ করে চলেছে তাঁর শরীরের যত্রতত্র৷ নির্দ্বিধায় স্পর্শ করছে তাঁর বুক, পেট, নাভিমূল৷ আগ্রাসী নাবিকের মতো ক্রমশ যাত্রা করছে নীচের দিকে৷


গাঢ় ঘুম অসময়ে ভাঙলে কয়েক মুহূর্তের জন্য কেমন ঘোরের মধ্যে থাকে সবাই, বাস্তবে ফিরে আসতে সময় লাগে খানিকক্ষণ৷ অদম্য পালেরও সেটাই হচ্ছিল৷ ঘুম ভেঙে তিনি চুপচাপ শুয়েছিলেন৷ সাতপাঁচ না ভেবে চোখ বুজে উপভোগ করছিলেন লেপের তলার সেই উষ্ণ আদর৷


বহুদিন পর তাঁর মধ্যত্রিশের উপোসি শরীর যেন জেগে উঠছিল৷


নরম হাতদুটোর সঙ্গে একজোড়া নরম ঠোঁটেরও স্পর্শ পাচ্ছিলেন এবার তিনি৷ ঠোঁটদুটো তাঁর বুকে পাগলের মতো ঘষে চলেছিল পাপড়িদুটো, বুক থেকে ধীরে ধীরে সর্পিল গতিতে উঠে আসছিল তাঁর গলা বেয়ে৷ ঘাড়ের পেছনে কর্ণমূলের সামান্য নীচে ক্রমাগত ঘর্ষণে অদম্য পাল প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়ছিলেন৷


সুখানুভূতিতে একসময় নিজের অজান্তেই তাঁর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল, ‘‘আহ!’’


আর তাঁর আরাম শীৎকারেই বোধ হয় ঠোঁটদুটো আরো উৎসাহিত হয়ে পড়ল৷ সোজা এসে সে-দুটো চেপে বসল তাঁর ঠোঁটের ওপর, শুষে নিতে লাগল আশ্লেষে৷


আহ, কী মাদকতাময় একটা সুগন্ধ! প্রচণ্ড কর্ষণে নিজের ঠোঁটদুটো যেন ক্রমশই শুষ্ক হয়ে উঠছিল৷ তবু অদম্য চাইছিলেন এই অসম্ভব স্বর্গীয় মুহূর্ত যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়৷


ভেজা চুমুতে সুখসাগরে ভাসতে ভাসতে অদম্য কিছুক্ষণ পর চোখ খুললেন৷


আর তখনই তাঁর চটকাটা পুরোপুরি কেটে গেল৷ তাঁর মনে পড়ে গেল, ঘরে দ্বিতীয় ব্যক্তি কেউ নেই৷


থাকা সম্ভবও নয়৷ তাঁর এই তেরোতলার ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকেন৷


মনে হওয়ামাত্র তিনি বিস্ফারিত চোখে উঠে বসতে চেষ্টা করলেন৷ কিন্তু পারলেন না৷ ভেজা ঠোঁট আর দুটো হাত তখন তাঁর শরীরের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে৷


ঘরের মিশমিশে কালো অন্ধকারেও যেটুকু আবছা আলো বাইরে থেকে এসে পড়ছিল, সেই আলোয় শিহরিত অদম্য টান মেরে লেপটা সরিয়ে দিলেন গা থেকে৷ দেখলেন লেপের তলায় কেউ নেই৷ কাউকে দেখতে পাচ্ছেন না তিনি৷


অথচ তিনি এখনো স্পষ্ট অনুভব করতে পারছেন এক নারীশরীর তাঁকে নিয়ে রতিক্রিয়ায় মগ্ন৷ পরিষ্কার বুঝতে পারছেন একজোড়া যৌবনপুষ্ট নরম মাংসপিণ্ড নিষ্পেষিত হচ্ছে তাঁর রোমশ বুকে৷


কিন্তু না৷ তিনি আর উপভোগ করতে পারছেন না৷ ইন্দ্রিয়সুখও লুপ্ত৷ বরং ভয়ে, অবিশ্বাসে তাঁর শরীরের রোমকূপগুলো এখন খাড়া হয়ে উঠছে৷


তিনি প্রাণপণে চেষ্টা করছেন অদৃশ্য সেই শয্যাসঙ্গিনীর হাত থেকে রেহাই পেতে৷


কিন্তু পারছেন না৷


আতঙ্কে তাঁর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে৷ এই ঠান্ডাতেও কুলকুল করে ঘামতে ঘামতে তিনি অনুভব করলেন, কোনো নারীযোনিতে প্রবিষ্ট হচ্ছে তাঁর পুরুষাঙ্গ৷ সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই৷


ওহ! কী হিমশীতল সেই গহ্বর৷ যেন হাজার বছর ধরে তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছে সেই মৃত্যুশীতল উপত্যকা৷


প্রবল আন্দোলনের মাঝে কাঁপতে কাঁপতে তিনি জ্ঞান হারালেন৷


* * * *


শিয়ালদা স্টেশনের বাইরের উড়ালপুলকে বাঁ হাতে রেখে কয়েক মিনিট এগোলে ডানদিকে যে বেসরকারি নার্সিংহোমটা পড়ে, তার নাম সঞ্জীবনী৷


সেটা যেমনই ঘুপচি, তেমনই টিমটিমে আলোয় ম্রিয়মাণ৷ রিসেপশনে বসে থাকেন একজন চল্লিশোর্ধ্ব পৃথুলা মহিলা৷ শরীরের মেদের সঙ্গে সমানুপাতে বর্ধমান তাঁর মেজাজ৷ তাঁর খিটখিটে স্বভাবের দায়সারা উত্তরে হাতেগোনা যে কটা রুগি আসে, তারাও মানে মানে কেটে পড়ে৷ রিসেপশনের হলদে নিবু নিবু আলোয় তেলচিটে অপরিচ্ছন্ন সোফাগুলো ফাঁকাই পড়ে থাকে৷


বোঝাই যায়, প্রায় কয়েক দশক আগে খোলা এই সঞ্জীবনী এখন ‘আউটডেটেড’৷


ব্যতিক্রম শুধু মাসের প্রথম শনিবার৷ এই একটা দিন সঞ্জীবনী নার্সিংহোমের সামনে ভিড় যেন উপচে পড়ে৷ রিসেপশনের দুটো সোফায় রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলে জায়গা পাওয়ার; অগুনতি মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে অপেক্ষায়৷


দেশের প্রথম সারির মনোবিদ ডঃ সাম্য চট্টরাজ মাসের এই একটা দিন বসেন এখানে৷


ডঃ সাম্য চট্টরাজ এখন কর্মসূত্রে থাকেন মুম্বাইতে৷ সেখানে তাঁর প্রবল নামডাক৷ শোনা যায়, বলিউডের নামীদামি সব অভিনেতা তাঁর নিয়মিত পেশেন্ট৷ দেশের প্রতিটি শহরের অভিজাত সমস্ত হাসপাতাল মুখিয়ে থাকে তাঁর একটি চেম্বার পাওয়ার জন্য৷ সেখানে এত কিছুর পরে তিনি কলকাতায় রুগি দেখতে আসার জন্য এমন মুমূর্ষু একটি হাসপাতালকে কেন বেছেছেন, তা বড়ই আশ্চর্যের বিষয়৷


ডঃ চট্টরাজ মাসে এই একটি দিনই দুপুরের ফ্লাইটে কলকাতা আসেন, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সঞ্জীবনীতে রুগি দেখেন, তারপর এখান থেকেই সোজা চলে যান বিমানবন্দর৷ কলকাতার বহু হাসপাতালের বারংবার অনুরোধে ও প্রলোভনেও তিনি অন্য কোথাও বসেন না৷


আজও মাসের প্রথম শনিবার৷ সন্ধে থেকে সেই বিপুল ভিড়ের চাপ অনভ্যস্ত হাতে সামলে রিসেপশনিস্ট ভদ্রমহিলা বেশ বিধ্বস্ত, তাঁর চোখমুখেই তা প্রতীয়মান৷


এখন রাত প্রায় সাড়ে ন’টা৷ রিসেপশন প্রায় ফাঁকা৷ তাই শেষ রুগির যখন ডাক এল, ভদ্রমহিলা ক্লান্ত কর্কশ সুরে ব্যাজার মুখে বললেন, ‘‘আপনিই একান্ন নম্বর তো? ভেতরে যান৷’’


বাইরে রিসেপশনিস্ট ক্লান্ত হলেও ভেতরে ডাক্তারবাবু একইরকম সতেজ, ঋজু হয়ে বসে আছেন টেবিলের সামনে৷ অদূরে তাঁর ছোকরা সেক্রেটারি কলম বাগিয়ে অপেক্ষা করছে নতুন কেসের ডিটেইল লেখার জন্য৷


সামনে এসে বসা দুই ভদ্রলোককে একঝলক মেপে নিলেন ডঃ সাম্য চট্টরাজ, তারপর স্মিতমুখে বললেন, ‘‘আপনাদের মধ্যে কোনজন অদম্য পাল?’’


‘‘আমি!’’ চশমা পরা ভদ্রলোকটি গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন৷ তাঁর পরনে দামি স্যুট, চেহারা সামান্য ভারীর দিকে৷ উচ্চতা মাঝারি৷


‘‘নমস্কার৷’’ সাম্য চট্টরাজ তাকালেন দ্বিতীয় ভদ্রলোকের দিকে, ‘‘আর আপনি?’’


‘‘আমি ওর বন্ধু, ধীমান চক্রবর্তী৷’’


ডঃ সাম্য চট্টরাজের কাজের ভঙ্গিমা হল প্রথমেই তিনি সরাসরি রুগির সমস্যায় চলে যান না৷ এতো আর পেটের অসুখ নয় বা জ্বর সর্দি নয় যে ‘কী অসুবিধা’ বললেই রুগি হড়হড় করে বলতে শুরু করবে৷ মানুষের মনের ভেতর ঢুকতে গেলে আগে তার সঙ্গে সহজ হতে হবে৷ তার সংকোচ কাটাতে হবে৷ তাহলে রুগি নিজে থেকেই সমস্যাটা ডাক্তারের কাছে মেলে ধরতে কুণ্ঠাবোধ করবে না৷


এক্ষেত্রেও তাই হল৷ টুকটাক কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ডঃ চট্টরাজ জানতে পারলেন, এঁরা দুই বন্ধু৷ তাঁর রুগি ডঃ অদম্য পাল কেন্দ্রীয় সরকারি গবেষণা সংস্থায় কর্মরত এক জৈবরসায়নবিদ৷ থাকেন কলকাতাতেই৷ তাঁর বাল্যবন্ধু ধীমান চক্রবর্তী শিক্ষক, পড়ান শহরতলির এক স্কুলে৷


ধীমানই বেশি কথা বলছিলেন৷ অদম্য মিতবাক, টুকটাক হুঁ-হাঁ করছিলেন শুধু৷ চশমার লেন্সের মধ্য দিয়ে তাঁর কালো উজ্জ্বল চোখদুটো শুধু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল আশপাশ৷


ধীমান কথা বলতে বলতে বেশ গর্বিতমুখে বন্ধুর দিকে তাকালেন, ‘‘আপনি ওর নাম শুনেছেন কি না জানি না ডাক্তারবাবু, তবে অদম্য এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান বিজ্ঞানীদের মধ্যে একজন৷ কয়েকবছর আগে ওর এক আবিষ্কারে সারা দেশজুড়ে খুব হইচই পড়ে গিয়েছিল৷ আপনি হয়তো কাগজে পড়ে থাকবেন৷ ও একধরনের মাশরুম ব্রিড করেছে, যা খুব দ্রুত প্লাস্টিক খেয়ে ফেলতে পারে৷ বুঝতেই পারছেন, পৃথিবী এখন যেভাবে প্লাস্টিকে ছেয়ে যাচ্ছে, দূষণ মাত্রা ছাড়াচ্ছে, তাতে ওর এই আবিষ্কার কতটা গুরুত্বপূর্ণ৷’’


‘‘প্লাস্টিক খেয়ে ফেলতে পারে?’’ শুনে রীতিমতো অবাক হলেন ডঃ চট্টরাজ৷


‘‘হ্যাঁ৷’’ ধীমানবাবু সোৎসাহে বললেন, ‘‘অদম্যর আবিষ্কার করা ওই ফাঙ্গাসটার নাম পেস্টাওলোটিঅপসিস মাইক্রোস্পোরা৷ ওই হাইব্রিড ফাঙ্গাস পলিইউরিথিন খায়৷ আপনি নিশ্চয়ই জানেন ডাক্তারবাবু, প্লাস্টিক স্বাভাবিকভাবে পচে প্রকৃতিতে ডিকম্পোজ হতে অনেক সময় লাগে৷ আমরা যে সাধারণ পলিব্যাগ ব্যবহার করি, সেটা ডিকম্পোজ হতে সময় নেয় মোটামুটি এক হাজার বছর৷ প্লাস্টিক বোতল প্রায় পাঁচশো বছর৷ এইজন্য গোটা পৃথিবীতে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর জন্য অনেক গবেষণা চলছে৷ অদম্যর এই আবিষ্কারে তাই রাতারাতি খুব সাড়া পড়ে যায়৷ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ওকে তারপর অনেক সম্মাননাও দেওয়া হয়৷ আমি ছাপোষা মানুষ, বিয়ে-থাও করিনি, একটা স্কুলে ইংরেজি পড়াই৷ এমন বিখ্যাত বন্ধু পাওয়াই আমার কাছে গর্বের৷’’


‘‘বাহ! অসাধারণ!’’ ডঃ চট্টরাজ স্মিতমুখে তাকালেন ডঃ অদম্য পালের দিকে, ‘‘আপনি নিশ্চয়ই এটার পেটেন্ট নিয়েছেন?’’


এবারেও কথা বললেন ধীমান, ‘‘হ্যাঁ ডাক্তারবাবু৷ নানা আইনি জটিলতায় একটু দেরি হচ্ছিল৷ এখন সেসব মিটে গিয়েছে৷ আমেরিকার এক নামী কোম্পানি ওর থেকে পেটেন্ট কিনে নিচ্ছে৷

**********