
মেঘমল্লার
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
দশপারমিতার মন্দিরে সেদিন যখন সাপুড়ের খেলা দেখবার জন্য অনেক মেয়ে-পুরুষ মন্দির প্রাঙ্গণে একত্র হয়েছিল, তারই মধ্যে প্রদ্যুম্ন প্রথমে লোকটিকে দেখে।
সেদিন ছিল জ্যৈষ্ঠ মাসের সংক্রান্তি। চারিপাশের গ্রাম থেকে মেয়েরা এসেছিল দশপারমিতার পূজা দিতে। সেই উপলক্ষ্যে অনেক সাপুড়ে-গায়ক-বাজিকর মন্দিরে একত্র হয়েছিল; অনেক মালাকার নানা রকমের সুন্দর সুন্দর ফুলের গহনা গড়ে মেয়েদের কাছে বেচবার জন্য এনেছিল। একজন শ্রেষ্ঠী মগধ থেকে দামি রেশমি শাড়ি এনেছিল বেচবার জন্য। তারই দোকানে ছিল সেদিন মেয়েদের খুব ভিড়। প্রদ্যুম্ন শুনেছিল, জ্যৈষ্ঠ-সংক্রান্তির উৎসব উপলক্ষ্যে পারমিতার মন্দিরে একজন বিখ্যাত গায়ক ও বীণ-বাজিয়ে আসবেন। সে মন্দিরে গিয়েছিল তাঁরই সন্ধানে। সমস্ত দিন ধরে খুঁজেও কিন্তু প্রদ্যুম্ন তাঁকে ভিড়ের মধ্যে থেকে বার করতে পারেনি।
সন্ধ্যার কিছু পূর্বে মন্দিরের উঠোনে একজন সাপুড়ে অদ্ভুত অদ্ভুত সাপের খেলা দেখাতে আরম্ভ করলে, আর তারই চারিধারে অনেকগুলি কৌতুকপ্রিয়া মেয়ে জমে গেল। ক্রমে সেখানে খুবই ভিড় হয়ে উঠল। প্রদ্যুম্নও সেখানে দাঁড়িয়ে গেল বটে, কিন্তু তার মন সাপখেলার দিকে আদৌ ছিল না। সে ভিড়ের মধ্যের প্রত্যেক পুরুষমানুষকে মনোযোগের সঙ্গে লক্ষ করছিল, যদি চেহারায় ও হাবভাবে বীণ-বাজিয়ে ধরা পড়েন। অনেকক্ষণ ধরে দেখবার পর তার চোখে পড়ল একজন প্রৌঢ় ভিড়ের মধ্যে তার দিকেই চেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর পরনে অতিমলিন ও জীর্ণ পরিচ্ছদ। কী জানি কেন প্রদ্যুম্নের মনে হল, এই সেই গায়ক। প্রদ্যুম্ন লোক ঠেলে তাঁর কাছে যাবার উদ্যোগ করতে তিনি হাত উঁচু করে প্রদ্যুম্নকে ভিড়ের বাইরে যেতে ইঙ্গিত করলেন।
বাইরে আসতে প্রৌঢ় তাকে জিজ্ঞাসা করলেন— আমি অবন্তীর গাইয়ে সুরদাস, তুমি আমাকে খুঁজছিলে, না?
প্রদ্যুম্ন একটু আশ্চর্য হল। তার মনের কথা ইনি জানলেন কী করে?
প্রদ্যুম্ন সসম্ভ্রমে জানালে, হ্যাঁ, সে তাঁকেই খুঁজছিল বটে।
প্রৌঢ় বললেন— তুমি আমার অপরিচিত নও। তোমার পিতার সঙ্গে একসময় আমার যথেষ্ট বন্ধুত্ব ছিল। আমি কাশী গেলেই তোমার পিতার সঙ্গে দেখা না-করে আসতাম না। তোমাকে ছেলেবেলায় দেখেছি, তোমার বয়স তখন খুব কম।
—আপনি এখানে এসে কোথায় আছেন?
—নদীর ধারে একটা ভাঙা মন্দির আছে, জানো?
—হ্যাঁ জানি। ওখানে একজন সন্ন্যাসী পূর্বে থাকতেন না?
—তিনি এখনও ওখানেই আছেন। তুমি যেকোনো একদিন গিয়ে ওখানে আমার সঙ্গে দেখা করো। তুমি এখানে কোথায় থাকো?
—এখানকার বিহারে পড়ি, তিন বছর আছি। আপনি মন্দিরে কতদিন থাকবেন?
—সে তোমাকে বলব। তুমি এরই মধ্যে একদিন যেও।
প্রদ্যুম্ন প্রণাম করে বিদায় নিল।
.
সন্ধ্যা তখনও হয়নি; মন্দিরটা যে ছোটো পাহাড়ের উপর ছিল, তারই দু-পাশের ঢালু রাস্তা বেয়ে মেয়েরা উৎসব থেকে বাড়ি ফিরছিল। প্রদ্যুম্নের চোখ যেন কার সন্ধানে একবার মেয়েদের ভিড়ের মধ্যে ইতস্তত ধাবিত হল, পরেই সে আবার তাদের পিছনে ফেলে দ্রুতপদে নামতে লাগল। আচার্য শীলব্রত অত্যন্ত কড়া মেজাজের মানুষ, একেই তিনি প্রদ্যুম্নের মধ্যে অন্যান্য ছাত্রদের চেয়ে বেশি চঞ্চলতা ও কৌতুকপ্রিয়তা লক্ষ করে তাকে একটু বেশি শাসনের মধ্যে রাখতে চেষ্টা করেন; তার উপরে সে রাত করে বিহারে ফিরলে কি আর রক্ষা থাকবে?
বাঁক ফিরতেই বাঁ-পাশের পাহাড়ের আড়ালটা সরে গেল। সেখানে সেদিকটা ছিল খোলা। প্রদ্যুম্ন দেখলে দূরে নদীর ধারে মন্দিরটার চূড়া দেখা যাচ্ছে। চূড়ার মাথার উপরকার ছায়াচ্ছন্ন আকাশ বেয়ে ঝাপসা ঝাপসা পাখির দল ডানা মেলে বাসায় ফিরছিল। আরও দূরে একখানা সাদা মেঘের প্রান্ত পশ্চিম দিকের পড়ন্ত রোদে সিঁদুরের মতো রাঙা হয়ে আসছিল, চারিধারে তার শীতোজ্জ্বল মেঘের কাঁচুলি হালকা করে টানা।
হঠাৎ পিছন থেকে প্রদ্যুম্নের কাপড় ধরে কে ঈষৎ টানলে।
প্রদ্যুম্ন পিছন ফিরে চাইতেই যে কাপড় ধরে টেনেছিল তার চোখে কৌতুকের বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে কিশোরী, তার দোলনচাঁপা রঙের ছিপছিপে দেহটি বেড়ে নীল শাড়ি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরা। নতুন কেনা একছড়া ফুলের মালা তার খোঁপাটিতে জড়ানো।
প্রদ্যুম্ন বিস্ময়ের সুরে বলে উঠল— কখন তুমি এসেছিলে, সুনন্দা! আমি তোমাকে এত খুঁজলাম, কই দেখতে পেলাম না তো?
প্রথমটা কিশোরীর মুখ লজ্জায় লাল হয়ে উঠল, তারপরে সে একটু অভিমানের সুরে বললে— আমাকেই খুঁজতে যেন এখানে এসেছিলে আর কী! যত রাজ্যের সাপুড়ে আর বাজিকরদের মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে ঘুরছিলে, সে আর আমি দেখিনি!
—সত্যি বলছি সুনন্দা, তোমাকে খুঁজেছি। নামবার সময় খুঁজেছি, এর আগেও খুঁজেছি; তুমি কাদের সঙ্গে এলে?
এমন সময় দেখা গেল একদল মেয়ে পাহাড়ের উপর থেকে সেই পথে নেমে আসছে। সুনন্দার সেদিকে চোখ পড়তেই সে তখনি হঠাৎ প্রদ্যুম্নকে পিছনে ফেলে দ্রুতপদে নামতে লাগল।
পিছনেই একদল অপরিচিতা মেয়ে, এ অবস্থায় আর সুনন্দার অনুসরণ করা সংগত হবে না ভেবে সে প্রথমটা খানিকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল, তারপর হতাশা মেশানো ক্রোধে ঘাড় উঁচু করে সে সদর্পে লাফিয়ে লাফিয়ে পথ চলতে লাগল।
সন্ধ্যার ঈষৎ অন্ধকার কখন মিলিয়ে গিয়েছে, অন্ধকারটাই তরল থেকে তরলতর হতে হতে হঠাৎ কখন জ্যোৎস্নায় পরিণত হয়েছে— অন্যমনস্ক প্রদ্যুম্ন তা মোটেই লক্ষ করেনি। যখন তার চমক ভাঙল, তখন পূর্ণিমার শুভ্রোজ্জ্বল জ্যোৎস্না পথঘাট ধুইয়ে দিচ্ছিল। দূর-মাঠের গাছপালা জ্যোৎস্নায় ঝাপসা দেখাচ্ছিল। পড়াশুনো তার হয় কী করে? আচার্য পূর্ণবর্ধন ত্রিপিটকের পাঠ অনায়াত্ত দেখে তাকে ভর্ৎসনা করলেই বা কী করা যাবে? এরকম রাত্রে যে যুগে-যুগের বিরহীদের মনোবেদনা তার প্রাণের মধ্যে জমে ওঠে, তার অবাধ্য মন যে এইসব পরিপূর্ণ জ্যোৎস্নারাত্রে মহাকোটঠি বিহারের পাষাণ অলিন্দে মানসসুন্দরীদের পিছনে পিছনে ঘুরে বেড়ায়, এর জন্য সেই কী দায়ী!
দশপারমিতার মন্দিরে সন্ধ্যারতির ঘণ্টার ধ্বনি তখনও মিলিয়ে যায়নি। দূরে নদীর বাঁকের ভাঙা মন্দিরে ক্ষীণ আলো জ্বলে উঠল। উৎসব-প্রত্যাগত নর-নারীর দল জ্যোৎস্নাভরা মাঠের মধ্যে ক্রমে বহুদূরে অদৃশ্য হয়ে গেল। প্রদ্যুম্নের গতি আরও দ্রুত হল।
পথের পাশে একটা গাছ। গাছের নিকট যেতে প্রদ্যুম্নের মনে হল গাছের আড়ালে কেউ যেন দাঁড়িয়ে আছে। আর একটু এগিয়ে গাছের পাশে যেতেই তার অত্যন্ত পরিচিত কণ্ঠের হালকা মিষ্টি হাসির ঢেউয়ে সে থমকে দাঁড়িয়ে গেল;দেখলে গাছতলায় সুনন্দা দাঁড়িয়ে আছে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে চিকচিকে জ্যোৎস্নার আলো পড়ে তার সর্বাঙ্গে আলো-আঁধারের জাল বুনেছে। প্রদ্যুম্ন চাইতেই সুনন্দা ঘাড় দুলিয়ে বলে উঠল— আর একটু হলেই বেশ হত! গাছের তলা দিয়ে চলে যেতে অথচ আমায় দেখতে পেতে না!
সুনন্দাকে দেখে প্রদ্যুম্ন মনে মনে ভারি খুশি হল, মুখে বললে— না, তা আর দেখব কেন? ভারি ব্যাপারটা হয়েছে গাছতলায় লুকিয়ে! আর না দেখতে পেলেই বা কী? আমি তোমার ওপর ভারি রাগ করেছি, সুনন্দা, সত্যি বলছি।
সুনন্দা বললে— দোষ করবেন নিজে, আবার রাগও করবেন নিজে! সেদিন কি কথা বলেছিলেন মনে আছে? তা না, যত রাজ্যের সাপুড়ে আর বাজিকর, মাগো! ওদের কাছে যাও কী করে? এমন ময়লা কাপড় পরে! আমি ওদের ত্রিসীমানায় যাইনে।
প্রদ্যুম্ন বললে— তুমি বড়োমানুষের মেয়ে, তোমার কথাই আলাদা; কিন্তু কথাটা কী ছিল বলছিলে?
সুনন্দা বললে— যাও! আর মিথ্যে ভানে দরকার নেই। কী কথা মনে করে দেখো। সেই সেদিন বললে না?
প্রদ্যুম্ন একটুখানি ভেবে বলে উঠল— বুঝতে পেরেছি, সেই বাঁশি?
সুনন্দা অভিমানের সুরে বললে— ভেবে দেখো বলেছিলে কি না। আমি দুপুর বেলা থেকে মন্দিরে এসে বসে আছি! একে তো এলেন বেলা করে, তার ওপর— যাও!
প্রদ্যুম্ন এবার হেসে উঠল। বললে— আচ্ছা সুনন্দা, যদি তুমি আমায় দেখতেই পেয়েছিল, তো আমায় ডাকবে না কেন?
সুনন্দা বললে— আমি কি একা ছিলাম? দুপুর বেলায় আমি একা এসেছিলাম বটে, কিন্তু তখন তো আর তুমি আসনি? তারপর আমাদের গাঁয়ের মেয়েরা সব যে এল। কী করে ডাকব?
প্রদ্যুম্ন বললে— আচ্ছা ধরে নিলাম আমার দোষ হয়েছে, তবে তুমি যে বার বার সাপুড়ে আর বাজিকরদের কথা বলছ সুনন্দা; সাপুড়ে আর বাজিকরদের আমি খুঁজিনি। শুনেছিলাম অবন্তী থেকে একজন বড়ো বীণ-বাজিয়ে আসবেন! তুমি তো জানো, আমার অনেক দিন থেকে বীণ শেখবার বড়ো ইচ্ছা। তাই তাঁর সন্ধানে ঘুরছিলাম, তাঁর দেখাও পেয়েছি। তিনি এখনকার নদীর ধারের দেউলে থাকেন। ভালো কথা, তোমার বাবা কোথায়?
সুনন্দা বললে— বাবা তিন-চার দিন হল কৌশাম্বী গিয়েছেন মহারাজের ডাকে। প্রদ্যুম্ন হঠাৎ খুব উচ্চৈঃস্বরে হেসে উঠল, বললে— ওহো তাই! নইলে আমি ভাবছি এত রাত পর্যন্ত সুনন্দা কি—
সুনন্দা তাড়াতাড়ি প্রদ্যুম্নের মুখে নিজের হাত দু-টি চাপা দিয়ে লজ্জিত মুখে বললে— চুপ চুপ, তোমার কি এতটুকু কাণ্ডজ্ঞান নেই? এখুনি যে আরতি দেখে সব লোক ফিরবে!
প্রদ্যুম্ন হাসি থামিয়ে বললে— এবার কিন্তু তোমার বাবা এলে বলে দেবো নিশ্চয়। সুনন্দা রাগের সুরে বললে— দিও বলে। এমনি আমি মন্দিরে আরতি পর্যন্ত থাকি, তিনি জানেন। প্রদ্যুম্ন সুনন্দার সুগঠিত পুষ্পপেলব দক্ষিণ বাহুটি নিজের হাতের মধ্যে বেষ্টন করে নিলে, তারপর বললে— আচ্ছা থাক, বলে দেবো না। চলো সুনন্দা, তোমায় বাঁশি শোনাই, আমার সঙ্গেই আছে। সত্যি বলছি, তোমায় শোনাবার জন্যেই এনেছিলাম। তবে ওঁকে খুঁজছিলাম বীণাটা ভালো করে শিখব বলে।
নদীর ধারে এসে কিন্তু প্রদ্যুম্ন বড়ো নিরুৎসাহ হয়ে পড়ল। সে বাঁশি বাজালে বটে, কিন্তু সে যেন ভাসা-ভাসা। সুরের সঙ্গে তাতে তার প্রাণের কোনো যোগ রইল না। তারা দু-জনে নির্জনে আরও কতবার বসেছে, প্রদ্যুম্নের বাঁশি শুনতে সুনন্দা ভালোবাসত বলে প্রদ্যুম্ন যখনই বিহার থেকে বাইরে আসত, বাঁশিটি সঙ্গে আনত। প্রদ্যুম্নের বাঁশির অলস স্বপ্নময় সুরের মধ্যেদিয়ে কতদিন উভয়ের অজ্ঞাতে রোদভরা মধ্যাহ্ন গিয়ে সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এসেছে, কিন্তু দু-জনে এক হলে প্রদ্যুম্নের এরকম নিরুৎসাহ ভাব তো সুনন্দা আর কখনো লক্ষ করেনি!
কী জানি কেন প্রদ্যুম্নের বার বার মনে আসছিল সেই জীর্ণ পরিচ্ছদপরা অদ্ভুতদর্শন গায়ক সুরদাসের কথা। তাদের বিহারের কলাবিৎ ভিক্ষু বসুব্রতের আঁকা জরার চিত্রের মতোই লোকটা কেমন কুশ্রী, লোলচর্ম-শীর্ণদর্শন! পুরাতন পুথির ভুর্জপত্রের মতো ওর পরিচ্ছদের কেমন একটা অপ্রীতিকর মেটে লাল রং!
.
তার পরদিন সকালে প্রদ্যুম্ন নদীর ধারের ভাঙা মন্দিরে গেল। সেটার দেবমূর্তি বহুদিন অন্তর্হিত। সমস্ত গায়ে বড়ো বড়ো ফাটল, সাপখোপের বাস। নিকটবর্তী গ্রামবাসীরা সেদিকে বড়ো একটা কেউ আসত না। একজন আজীবক সন্ন্যাসী আজ প্রায় সাত-আট মাস হল সেখানে বাস করছেন। তাঁরই দু-চারজন অনুগত ভক্ত মাঝে মাঝে আসত-যেত বলে মন্দিরের পথ আজকাল অপেক্ষাকৃত ভালো আছে।
অর্ধ-অন্ধকার মন্দিরের মধ্যে প্রদ্যুম্নের সঙ্গে সুরদাসের সাক্ষাৎ হল। সুরদাস প্রদ্যুম্নকে দেখে খুব আনন্দ প্রকাশ করলেন, তারপর বললেন— চল, বাইরে গিয়ে বসি, এখানে বড়ো অন্ধকার।
বাইরে গিয়ে সুরদাস আলোতে প্রদ্যুম্নের মুখ ভালো করে দেখলেন, তারপর যেন আপন মনে বলতে লাগলেন— হবে, তোমার দ্বারাই হবে! আমি তা জানতাম।
প্রদ্যুম্ন সুরদাসের মূর্তি দূর থেকে দেখে যে অস্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেছিল, তাঁর নিকটে এসে কিন্তু প্রদ্যুম্নের সে ভাব কেটে গেল। সে লক্ষ করলে সুরদাসের মুখশ্রী একটু কুদর্শন হলেও প্রতিভাব্যঞ্জক।
সুরদাস বললেন— আমি ভাবছিলাম তুমি আজ আসবে। হ্যাঁ, তোমার পিতা তো একজন প্রসিদ্ধ গায়ক ছিলেন, তুমি নিজে কিছু শিখেছ?
প্রদ্যুম্ন লজ্জিত মুখে উত্ত