শিউলি

শিউলি

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

॥ ১ ॥

শরৎ এসে গেছে। নীল আকাশে সাদা মেঘের হাতি ভেসে যাচ্ছে শুঁড় তুলে। দক্ষিণের জমিতে ঝাঁকড়া একটা শিউলি গাছ। সবে ভোর হচ্ছে। আকাশ থেকে অন্ধকারের পাতলা সর সরে যাচ্ছে। দিন যে চোখ রগড়াচ্ছে। সেই পাতলা আলোয় শিউলিগাছের তলায় একটি ছেলে আর একটি মেয়ে ফুল কুড়োচ্ছে। দূরে ঝিরিঝিরি নিমগাছের ডালে একজোড়া দোয়েল খুব শিস দিচ্ছে। সবার আগে দোয়েল উঠে পড়ে। আকাশে দিনের আলোর একটা আঙুল পড়লেই হল। দোয়েল আর বিছানায় থাকতে পারে না। কাক তখনও ঘুমজড়ানো গলায় একজন আর একজনকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, ক’টা বাজল রে! ভোর কি হল! শালিকটালিক অনেক বেলায় ওঠে। কিছু মানুষের মতো। বেড-টি না পেলে বিছানা ছাড়তে পারে না। টিয়ারা অবশ্য বেশ ভোরেই ওঠে। উঠেই আকাশে দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ে জগিং করার জন্য। ভোরবেলাটা সব পাখিরই গান সাধার সময়। গুরুর নির্দেশ, ভোরবেলা খালি পেটে একঘন্টা গলা সাধবে। সূর্যের আলোর রং বেশ মিহিদানার মতো না হলে দিনের প্রথম ফলে ঠোকর মারা চলবে না। একমাত্র ব্যক্তিক্রম চড়াইপাখি। তারা উঠেই পাঠশালায় চলে যায় নামতা পড়তে। চড়াই গান সাধে না। অঙ্কে ভাল, তাই কেবল নামতা পড়ে।



জয় এইসব খবর খুব জানে। ছেলেটির নাম জয়, মেয়েটির নাম জয়া। জয়া জয়ের চেয়ে দু’ বছরের বড়। একজোড়া ভাই, বোন। ফুলের মতো সুন্দর। জয়ের একমাথা কোঁকড়া-কোঁকড়া চুল। বাঁশির মতো নাক। জয়ার গায়ের রং পদ্মফুলের মতো। চোখ দুটো নীল সরোবরের মতো। তাদের বাবা হলেন জেলার সদর হাসপাতালের বড় ডাক্তার। মা স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা। তারা যে-বাড়িটায় থাকে, সেটা একটা সুন্দর বাংলো। চারপাশে অনেকটা জায়গা। ইংরেজ আমলের তৈরি। ইংরেজ-ডাক্তাররা থাকতেন। সেইভাবেই তৈরি। উঁচু-উঁচু, বড়-বড় ঘর। খাওয়ার ঘর। বিশাল একটা রান্নাঘর একপাশে। ঢাকা বারান্দা দিয়ে জোড়া। দু’পাশে বড়-বড় দুটো বাথরুম। বসার ঘরে একটা ফায়ার প্লেস। সেকালে মনে হয় খুব শীত পড়ত। দক্ষিণের বারান্দায় দাঁড়ালে অনেক দূরের আকাশে একটা পাহাড় দেখা যায়। ভোরবেলা পাহাড়টার রং হয় গাঢ় নীল। দুপুরে জমাট কালো। সন্ধের আগে সোনালি হয়ে রাতের অন্ধকারে হারিয়ে যায়।


রোজ ভোরবেলা জয়া এসে জয়কে ডাকে, “ভাই, ওঠ। দ্যাখ, ভোর হচ্ছে।”


জয়া দিদিমার কাছে শোয়। জয় শোয় দাদুর কাছে। দাদু সারা বছর জানলা খুলে শোন। ঘরে যত আলো-বাতাস খেলবে তত শরীর ভাল থাকবে। সব জানলা খুলে শুলে ঠাণ্ডা লাগার ভয় থাকে না। একটা খুলে শুলে ঘর গরম-ঠাণ্ডা হয়ে সর্দি-কাশি হওয়ার ভয় আছে। দাদু বলেন, এর নাম ‘চিল’। দাদু বলেছেন, যারা খুব ভোরবেলা বিছানা ছাড়তে পারে, তারা মালিক হয়। কিসের মালিক? বিশাল বড় একটা দিনের মালিক। তাদের সূর্য দেরিতে অস্ত যায়। তার মানে? তারা অনেকদিন বাঁচে। যারা রোদ-চড়ার আগে স্নান করে নিতে পারে, তাদের কোনওদিন জ্বর হয় না। যারা ভোরবেলা শিশিরভেজা সবুজ ঘাসে পা রাখতে পারে, তারা প্রাণ পায়। প্রাণ মানে আনন্দ। আর যারা পাখির গান শোনে তারা ভগবানের কণ্ঠস্বর শুনতে পায়।



জয়া যেই ডাকে, “ভাই ওঠ, দ্যাখ, ভোর হচ্ছে।”


অমনই জয় চোখ মেলে তাকায়। ওই সময়টা ঘুম পাতলাই হয়ে আসে। ইচ্ছে করলে নিজেই উঠতে পারে। দিদির মিষ্টি গলায় ‘জয়’ ডাকটার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। মাথার কাছে বড় জানলায় দক্ষিণের আকাশ। ফলসার মতো রং। সরু সুতোর মতো আলোর চুল-ফাট। ধ্যানমগ্ন সেই পাহাড়। পিপারমেন্টের মতো সিরসিরে বাতাস। দাদু বলেছেন, “ঘুম থেকে ওঠার সময় নিজেকে ভাববে, তুমি একজন চিনা ছাত্র। তারা কী করে! বিছানা থেকে উঠেই, বিছানায় ক্যাঁত করে একটা ব্যাক-কিক ঝাড়ে। সারাদিন বিছানার সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক নেই। বিছানায় লাথি মারে কেন? বিছানা হল মানুষের শত্রু। মানুষ যতক্ষণ ঘুমোয়, ততক্ষণ সে মৃত। ঘুম হল, সাময়িক মৃত্যু। রোজ যদি কেউ আট ঘন্টা ঘুমোয়, তা হলে বছরে ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে দু’ হাজার ন’শো কুড়ি ঘন্টা। বছরের চারটে মাস ঘুমিয়েই কাটছে। তা হলে কেউ যদি সত্তর বছর বাঁচে, তার ঘুমেই চলে গেল তেইশটা বছর। গোটা একটা যৌবন। সেই কারণেই চিনারা বিছানায় লাথি মারে। জীবনে যাঁরা বড় হন, তাঁরা সকলেই নিদ্রাকে জয় করেন। নেপোলিয়ান ঘোড়ার পিঠেই সামান্য সময় ঘুমিয়ে নিতেন।” জয় বিছানাটাকে লাথি মারে না। দাদুর বিছানা। বিছানাটাকে সে প্রণাম করে। মনে-মনে বলে, “বিছানা, তুমি আমার জীবনের তেইশটা বছর কেড়ে নিয়ো না। আর আমার ঘুম তুমি ভাল-ভাল, মজার-মজার স্বপ্নে ভরে দাও।”



জয়ের দাদুর নাম শিবশঙ্কর। মহাদেবের মতোই চেহারা। প্রায় ছ’ ফুট লম্বা। অনেকটা গ্রিক দেবতার মতো দেখতে। বড় এঞ্জিনিয়ার ছিলেন। দেশ-বিদেশ অনেক ঘুরেছেন। অনেক বড়-বড় কাজ করেছেন। বড়-বড় সেতু তৈরি করেছেন। অনেক খেতাব, অনেক পুরস্কার পেয়েছেন কাজের জন্য। বনে-জঙ্গলে-পাহাড়ে গিয়ে কাজ করেছেন। বাঘ এসে তাঁবুর চারপাশ শুঁকে গেছে। পাগলা হাতি এসে খোঁটা উপড়ে দিয়েছে। গাছের গুঁড়ি ভেবে পাইথনের পিঠে বসেছেন। কুমির এসে তীরে বেঁধে রাখা ছাগল টেনে নিয়ে গেছে। পাহাড় থেকে নেমে এসেছে মহুয়া-মাতাল ভালুক। ক্যাম্প চেয়ারে ঘুমিয়ে থেকেছে। শেয়াল এসে স্যাণ্ডউইচ খেয়ে গেছে। মাথার বালিশের তলায় সাপ কুণ্ডলি পাকিয়ে সারা রাত শুয়ে গেছে। ব্রিজের উঁচু গার্ডার থেকে পাগলা নদীতে পড়ে গেছেন। বন্যায় বাঁধ ভেঙেছে। সারারাত জলের তোড়ে দাঁড়িয়ে বাঁধ মেরামত করেছেন। ভাই-বোনের চোখে দাদু একজন হিরো। প্রথম রাতে ঘন্টা-দুই বিছানায় বিশ্রাম করেন। তারপরেই নিজের টেবিলে গিয়ে বসেন। ব্যাঙের ছাতার মতো ছোট্ট একটা বিলিতি টেবিল ল্যাম্প আছে। ভেতর দিকে আয়না লাগানো। ছোট্ট বাল্বেও জোর আলো। সেই আলোটা জ্বেলে দাদু অঙ্ক কষতে বসেন। যত কঠিন, জটিল অঙ্ক। নিজের একটা জীবনকাহিনী লিখছেন, বন-জঙ্গল-নদী-পাহাড়। মাঝে-মাঝে জয় আর জয়াকে সেটা পড়ে শোনান। লেখাটা অসাধারণ হচ্ছে। কত কী জানা যায়! কী ভীষণ উত্তেজনা। একজন শিক্ষিত, সাহসী, চরিত্রবান মানুষের জীবনকথা। কখনও মাঝরাতে ছাঁত করে জয়ের ঘুম ভেঙে গেলে দেখেছে, দাদু পিঠখাড়া চেয়ারে বসে আছেন তার দিকে পিছন ফিরে, পাথরের মূর্তির মতো। একমাথা পাকা চুল। কত রাতে জয় দাদুকে স্বপ্নে দেখেছে। পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন দু’ হাত তুলে। জয়কে ডাকছেন, “কমরেড, উঠে এসো। এখানে আকাশ অনেক নীল। বাতাস অনেক হালকা। এখানে দাঁড়ালে পৃথিবীর শেষ দেখা যায়। ” জয় যতবার চেষ্টা করে কিছুতেই উঠতে পারে না। চিৎকার করে বলে, “দাদু, আমি পারছি না।” তখন পাহাড়ের মাথা থেকে ভেসে আসে কণ্ঠস্বর, “নিজের মনের হাত ধরো, ঠিক উঠতে পারবে। মনের চেয়ে বড় মই কিছু নেই।”



জয়ার ডাকে জয় যখন বিছানা ছেড়ে ওঠে, তখন শিবশঙ্কর বাংলোর পুব দিকের বাগানে একটা বেদির ওপর বসে থাকেন। ওদিকেই পাথর ছড়ানো রাস্তা। ময়াল সাপের মতো এঁকেবেঁকে স্টেশনের দিকে চলে গেছে। দু’পাশে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে ইউক্যালিপটাস, সেগুন আর দেবদারু। ঝলমলে রোদ উঠলে পথটা ছায়ায় ঢেকে যায়। পথের ঝাঁকে সাদা রঙের ছোট্ট একটা চার্চ। চূড়ার ওপর ঘন্টা দুলছে। আর কিছু দূরে একটা আশ্রম আছে। ভেতরে ছোটমতো একটা মন্দির। সেই মন্দিরে আছে জীবন্ত রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ। চার্চের দরজা। দরজাটা ঠেললেই টিংলিং করে ঘন্টা বাজে। ভেতরটা সুন্দর সাজানো। চমৎকার গন্ধ। বাহারি মোমবাতি, বাহারি কাগজ, যিশু খ্রিস্টের বই, পেনসিল, খাতা, কলম, ছবি আঁকার রং, তুলি, শিশুদের জামা, লজেন্স, চকোলেট সব পাওয়া যায়। শীতকালে ফুল বিক্রি হয়। বড়দিনের আগে ক্রিসমাস ট্রি। প্লাস্টার অব প্যারিসের নানারকম মূর্তি। ব্রোঞ্জের আইকন। দোকানে সব সময় সুন্দর চেহারার একজন নান থাকেন। জয় আর জয়া গেলেই তিনি বলেন, “ হ্যাল্লো গড্! হোয়াট ইউ ওয়ান্ট?” তাঁর শরীর থেকে আইভি লতার গন্ধ বেরোয়। চোখে ঝকঝকে সোনালি ফ্রেমের গোল চশমা। ফরসা মুখের সঙ্গে একেবারে মিশে থাকে। দোকানটা তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। চারপাশে তাকায়, মনে করে স্বপ্ন দেখছে। রাস্তাটা যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে, সেখানে একটা নদী আছে। নদীর নাম, সরলা।


জয়ের ঘরে স্বামী বিবেকানন্দের বড় একটা ছবি আছে। স্বামীজির মাথায় পাগড়ি। হাত দুটো বুকের ওপর ভাঁজ করে রাখা। মাথায় পাগড়ি। চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। মুখে লেগে আছে মৃদু হাসি। চোখ খুললেই জয় ছবিটা দেখতে পায়। শুনতে পায় স্বামীজি যেন বলছেন, “উত্তিষ্ঠিত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত। ওঠো, জাগো, জ্ঞানলাভ করো।” দাদু শিবশঙ্কর জয়কে ভাল-ভাল শ্লোক মুখস্থ করিয়েছেন। যেগুলো মনে-মনে আওড়ালেই বেশ বল পাওয়া যায়। শিবশঙ্কর বলেছেন, “জল যেমন ফোটাতে হয়, ফিল্টার করতে হয়, সেইরকম মনকেও ফোটাতে হয়, ফিল্টার করতে হয়। ভাল-ভাল চিন্তার মধ্যে দিয়ে মনকে নিয়ে যেতে হয়। চোখকে দেখাতে হয় সুন্দর দৃশ্য। কানকে শোনাতে হয় সুন্দর গান, সুন্দর কথা, সুন্দর শ্লোক। হাত দিয়ে স্পর্শ করতে হয় সুন্দর ফুল।”



জয় বিছানা থেকে নেমেই একটু হাত-পা ছুড়ে নেয়। দাদু কয়েকটা ফিগার শিখিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, “লক্ষ করে দেখবে, জীবজন্তু অনেকক্ষণ শুয়ে থাকার পর, যেমন ধরো, বেড়াল. কি কুকুর, যখন ওঠে তখন শরীরটাকে স্ট্রেচ করে। আড়মোড়া ভাঙে। দোয়েল পাখি ভোরবেলা লেজের ব্যায়াম করে। পিড়িক-পিড়িক করে লেজ নাচায়। মৌটুসি ফুলের মধু খাওয়ার নাম করে একই জায়গায় ভেসে থেকে খুব খানিক ডানার ব্যায়াম করে নেয়। ব্যাঙ হাইজাম্প প্র্যাকটিস করে। ফড়িং বাতাস সেলাই করে। যেন সুচ মুখে নিয়ে একবার এদিক যাচ্ছে, একবার ওদিক যাচ্ছে। প্রজাপতি হয়ে যাচ্ছে হালকা কাগজ। কাঠঠোকরা গাছের গুঁড়িতে ঠোঁটের হাতুড়ি ঠুকে ঘাড়ের ব্যায়াম করে নিচ্ছে। কাঠবেড়ালি দৌড় কম্পিটিশন করছে। সবাই সব কিছু করছে, মানুষ পড়ে আছে বিছানায়। অতি কষ্টে যাও-বা উঠল, ছেতরে পড়ল চেয়ারে। চা ছাড়া চলার শক্তি নেই। তারপরেই মুখের সামনে মেলে ধরবে খবরের কাগজ।”


জয় বেক বেণ্ড, ফ্রন্ট বেণ্ড, স্ট্রেচিং এইসব করে, চটপট মুখ ধুয়ে নেবে ; তারপরেই বাসী জামাকাপড় ছেড়ে দিদির সঙ্গে চলে যাবে বাগানের ঘাসে। এখন শরৎকাল। শিশিরে ঘাস ভিজে-ভিজে। ঘাসের ডগায় নীল-নীল নাকছবি ফুল। দিদির কচি কলাপাতা রঙের ফ্রকটা জয়ের ভীষণ ভাল লাগে। দিদির গায়ের রঙের সঙ্গে বেশ মিশে যায়। তারা দু’জনে শিউলি গাছের তলায় এসে দাঁড়ায়। দিদি ঠোঁটে আঙুল রেখে কোনওরকম শব্দ করতে বারণ করে। শিউলি ফুল ঝরে পড়ার নাকি একটা শব্দ আছে। দিদি শুনতে পায়। খুব ফিসফিসে শব্দ। বাতাসের মতো। ঝরে পড়ার সময় প্রতিটি ফুল বলে, “মা-আ, তোমার কোল থেকে আমি মাটির কোলে গেলুম।”



“দিদি, গাছ তখন কী বলে? হায়!”


“হায় বলবে কেন? গাছ বলে, আয় মা।”


“ফুলেরা কি সব মেয়ে?”


“ফুল, ফল, গাছ, এরা সব মেয়ে।”


“তুই শুনতে পাস, আমি কেন পাই না?”


“তুই তোর কানটাকে খাড়া কর। ঠিক শুনতে পাবি। গাছের সঙ্গে ফুলের কথা।”


জয় খুব চেষ্টা করে। দিদি কত কী শুনতে পায়, দেখতে পায়। দিদির গায়ে নাকি তারার আলো এসে পড়ে। সে নাকি আলপিন ফোটার মতো। চাঁদের আলোয় দিদির চুল ভিজে-ভিজে হয়ে যায়। জয় দেখেছে। মিথ্যে নয়। সত্যিই হয়। দিদি কচুপাতার ওপর শিশিরের ফোঁটাটাকে মুক্তোর মতো জমিয়ে দিতে পারে। দিদির মাথায় কোথা থেকে উড়ে এসে সাদা পায়রা বসে। কাঁধে এসে বসে ছিট-ছিট ঘুঘু। কাঠবেড়ালি হাত থেকে বাদাম খেয়ে যায়। একটুও ভয় পায় না। দিদি যখন শালিক পাখির ঝাঁকে গিয়ে দাঁড়ায় একটা পাখিও উড়ে যায় না। ক্যাঁচর-ম্যাচর করে দিদির সঙ্গে সমানে গল্প করে। জয়ের বেলায় এইসব হয় না। কেন হয় না! দিদি বলেছে, ভেতরে একটুও হিংসে থাকলে হবে না। একেবারে মাটির মানুষ হতে হবে।



শিউলি গাছের তলায় দিদি উবু হয়ে বসেছে। সবুজ ঘাসের সঙ্গে সবুজ ফ্রক মিশে গেছে। একমাথা কালো চুল। ফিসফিস করে শিউলি ঝরছে। ঝরে পড়ছে দিদির মাথায়, ঘাড়ে, পিঠে। এই সময় দিদিকে মনে হয় দেবী।


শিউলি গাছের তলাটা ফুলে-ফুলে সাদা। সবুজ ঘাস। সাদা ফুল। হলুদ বোঁটা। ফিনফিনে শিশির। সব মিলিয়ে সে এক কাণ্ড! হঠাৎ জয়া বলবে, “জয়, অনুমতি নিয়ে গাছটাকে খুব করে ঝাঁকা।”

<
**********