রায়হান

রায়হান

লুৎফর রহমান

রায়হান

Books Pointer Iconলুৎফর রহমান
Books Pointer Iconnovel

Posted byবেলা 08-May-2025

Change color

প্রথম পরিচ্ছেদ

মা বলিলেন–“আমেনা, ডোবা থেকে এক বদনা পানি নিয়ে এস তো মা।”

আমেনা বদনা হাতে লইয়া ডোবায় পানি আনিতে গেল এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ফিরিয়া আসিল।

মা বলিলেন–“লক্ষ্মী মেয়ে–চাঁদ মেয়ে। আচ্ছা, ঘর থেকে লবণ আর মরিচ নিয়ে এস দেখি।”

আমেনা দৌড়াইয়া গিয়া ঘর হইতে মরিচ ও লবণ লইয়া আসিল। হাটের দিন খোরশেদ যে মাছ আনিয়াছিল তাহারি কয়েকখানা অবশিষ্ট ছিল। আমেনার মা ঠিক করিলেন বেগুন আর সেই মাছ রান্না হইবে।


ওমেদপুরে মজিদ মিঞার স্ত্রী আজ তিন বৎসর হইল বিধবা হইয়াছেন। মজিদ মিঞা যখন মারা যান তখন তার বিধবা পত্নী নফিসার এক ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়ের নাম আমেনা। আমেনার বয়স এখন এগার–বড় লক্ষ্মী। শিক্ষার গুণে মেয়ে মার কথা অমান্য করতে জানে না।



পিতার মৃত্যুকালে খোরশেদের বয়স ছিল পনর। এখন তার বয়স আঠার হইয়াছে। ইংরেজি স্কুলে সেকেন্ড ক্লাসে পড়ে। উনুনে ফুঁ দিয়া নফিসা মেয়েকে আবার কহিলেন–তরকারি কখানা কুটে নাও তো মা!


আমেনা ঘাড় নাড়িয়া বেগুন কুটিতে বসিল। বেগুন কুটিতে কুটিতে আমেনা শিশুর সরলতায় জিজ্ঞাসা করিল–“ভাই কোথায় গিয়েছে, মা?”।


নফিসা বিরক্ত হইয়া কহিলেন–“জালেম, গিয়াছে আবদুল হামিদের কাছে। বইয়ের পড়া কোন্‌খানে তা নাকি তার মনে নাই। আবদুল হামিদের কাছে থেকে পড়া শুনে আসবে। স্কুল তো বাড়ি নয়, মাষ্টার মাও নয়, বোনও নয়। সেখানে তো আর দুরন্তপনা খাটে না। পড়া না করলে মাষ্টার বেত মারেন। সে ভয় তার আছে।”


মা যে পুত্রের উপর বিরক্ত ছিলেন সেটা মিথ্যা নয়। বাড়িতে তার দৌরাত্ম মাঝে মাঝে এত ভয়ানক হইত যে নাফিসাকে সেজন্য চোখের জল ফেলিতে হইত। ছোট বোন আমেনা দিনের মধ্যে অন্তত দুইবার ভাইয়ের হাতে কিল-চড় খাইত।


আমেনা কিল-চড় খাইয়াও ভাইয়ের উপর রাগিত না। খানিক কাঁদিয়া আবার সেই ভাইকে ভাই বলিয়া ডাক দিত। সেই ডাকে নির্ভরশীলতা কানায় কানায় মাখান।



পাড়ার ছেলেরা সেদিন সকালবেলায় ডোবায় বড়শি ফেলিয়া মাছ ধরিয়াছিল। আমেনা তাহা দেখিয়াছিল। যখন দুপুরবেলা, মা শুইয়াছিলেন, তখন সে চুপে-চুপে ভাইয়ের ছিপ লইয়া সেইখানে গেল। ইচ্ছা, সেও মাছ ধরিবে। বড়শিতে যে টোপ গাঁথিতে হয় তা সে জানে না। খালি বড়শি ফেলিয়া প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করিয়াও যখন সে দেখিল মাছ ধরে না তখন সে বিরক্ত হইয়া বড়শি ফেলিয়া বাড়ি ফিরিয়া আসিল। বড়শি চুরি করিয়া যে কী বিপদে পড়িতে হইবে তা সে একটুও তখন ভাবে নাই।


ইহারই মধ্যে খোরশেদ আসিয়া উপস্থিত। সন্ধ্যাবেলা, খোরশেদ পড়িতে না বসিয়াই জিজ্ঞাসা করিল–“মা, ভাত হয়েছে?”


নফিসা কহিলেন–“পড়া না করেই ভাত বাবা? খানিক পড়–ইত্যবসরে মায়ে-ঝিয়ে রান্না করে নিয়ে আসি।”


“ভাত কোন্ দুপুরে খেয়েছি, তার পর বিকেলে দুটো মুড়ি ছাড়া আর কিছু খাই নাই। ক্ষুধাপেটে কি পড়া যায়?”


“খেলেই পড়া হয় না। খালি পেটে খুব পড়া হয়।”


“তুমি কচু বোঝ কি না? শাস্ত্রে বলে মেয়ে মানুষের বুদ্ধি নাই–সেটা কি আর মিছে কথা?”



এই কথা বলিয়া খোরশেদ পড়িতে বসিল। মা পুত্রের কথায় উত্তর দিলেন না।


ইংরেজি বইটা খুলিয়া দুই একবার রিডিং পড়িয়া সে দেখিল ইংরেজি বড় সুবিধা বোধ হইতেছে না। বইখানা বিরক্তির সহিত বন্ধ করিয়া সে গ্রামার খুলিয়া বসিল। গ্রামারের পড়া ছিল কারকের অধ্যায়। ক্রিয়া কাহাকে বলে তাই যে বুঝিল না কারকের সে কি বুঝিবে? বিরক্ত হইয়া গ্রামার ফেলিয়া বাংলা পাড়িতে গেল। তাহাও সে অধিকক্ষণ পড়িতে পারিল না।


সহসা তাহার ইচ্ছা হইল, বড়শির ছিপখানা ঠিকমতো আছে কিনা একবার দেখিয়া আসে। অতঃপর ঘর হইতে বাহির হইয়া অন্ধকারে সে ছিপ হাতড়াইতে লাগিল।


ছিপ সেখানে ছিল না। দুপুরে ছিপ লইয়া আমেনা মাছ ধরিতে গিয়াছিল। ফেরত আনিতে তাহার মনে ছিল না।


যথাস্থানে ছিল না দেখিয়া খোরশেদ চিৎকার করিয়া কহিল–“কে আমার ছিপ নিয়েছে রে?” রান্নাঘরে আমেনা তখন বাটনা বাটিতেছিল। ভাইয়ের গলার কঠিন আওয়াজ শুনিয়া সে নোড়া ফেলিয়া মুহূর্তের মধ্যে মাকে না বলিয়াই অন্ধকারে বাহির হইয়া গেল।



পাছ ফিরিয়া নাফিসা ঝাপির ভিতর মসলা খুঁজিতেছিলেন। ফিরিয়া দেখিলেন–মেয়ে বাটনা ফেরিয়া বাহিরে গিয়াছে।


“ও মা-আমেনা” বলিয়া তিনি ডাকিলেন।


আমেনা উত্তর দিল না।


নফিসা আবার ডাকলেন–“আমেনা!”


তবুও আমেনা উত্তর দিল না।


একটু শঙ্কিত হইয়া নফিসা উনুনে ভাত ফেলিয়া বাহিরে আসিলেন।


সহসা ডোবার ধার হইতে আমেনা আর্ত ও ভীতস্বরে চীৎকার করিয়া ডাকিল–মা, মা!


অত্যন্ত ভীত হইলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যেমন চিৎকার করে, আমেনা ভয়ে তেমনি করিয়া চিৎকার করিতেছিল। সেই সময়ে রাস্তা দিয়া রায়হান যাইতেছিলেন। রায়হান চিৎকার করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কী হয়েছে? কী হয়েছে?



নফিসা প্রদীপ লইয়া বাহিরে দৌড়াইয়া গেলেন এবং দূর হইতেই ব্যগ্র আর্তস্বরে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কী হয়েছে? কী হয়েছে?” ততক্ষণে রায়হান আমেনার স্বর লক্ষ্য করিয়া দৌড়াইয়া ডোবার ধারে আসিয়া ভীত অর্ধ-মূৰ্ছিতা আমেনার সিক্ত-শীতল দেহ কোলে লইয়া নফিসার দিকে আসিতেছিল।


আমেনার বসন সিক্ত। ধীরে ধীরে তাহার নিশ্বাস পড়িতেছিল।


মেঝের উপর পাটি পাতিয়া মা মেয়েকে শোয়াইলেন। রায়হান পার্শ্বে বসিয়া বাতাস করিতে লাগিল। নফিসা আমেনার মুখের কাছে মুখ লইয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া ডাকিতে লাগিলেন–“মা আমেনা! মা আমেনা!”


কিয়ৎকাল পরে আমনো চক্ষু মেলিল। রায়হান জিজ্ঞাসা করিল–“কী আমেনা এমন করে চেঁচিয়ে উঠলি যে?”


বালিকা মৃদুস্বরে কহিল, দুপুরবেলা ভাইয়ের ছিপ নিয়ে ডোবায় ফেলে এসেছিলাম। ভাই এখন ‘ছিপ ছিপ’ করে চেঁচিয়ে উঠলো, তাই আনতে গিয়ে দেখলাম একটা সাদা মানুষ বাঁশঝাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে।”


খোরশেদ এতক্ষণ চুপ করিয়া তামাসা দেখিতেছিল। ছিপের সন্ধান পাইয়া সে বিরক্তির সহিত জিজ্ঞাসা করিল–“কিরে পাজি, তুই ছিপ নিয়েছিলি?”



নফিসা রুক্ষস্বরে বলিলেন–“পাজি, নচ্ছার, বের হ বাড়ি থেকে।” শুধু এই বলিয়াই তিনি নিরস্ত হইলেন না। তাহার পিঠে একটা চড় লাগাইয়া দিলেন।”


.


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ


রায়হানের বয়স পঁচিশের বেশি হইবে না। গ্রামের প্রান্তে তার একখানা দোকান। ছোটকালে পয়সার অভাবে ইংরেজি স্কুলে তার পড়া হয় নাই, যদিও জ্ঞানলাভের প্রতি তার বিপুল আগ্রহ ছিল। সেই যে বাল্যে ওস্তাদ সাহেবের পাঠশালায় সে প্রাইমারি পাশ করিয়াছিল, তারপর আর তার কোনো স্কুলে পড়া হয় নাই।


অনেক বৎসর পড়া ছাড়িয়া দিলেও, সে নজরের সম্মুখে যে বাঙালা বইখানা পাইত তাহাই আগ্রহের সঙ্গে পাঠ করিত। আত্মার সন্দেহ দিকটা চাপা পড়ে যাওয়াতে রায়হানের ব্যবহার, কথা ও স্বভাব দিন দিন অধিকতর মার্জিত হইয়া প্রকাশ পাইতেছিল। গ্রামে রাস্তার পার্শ্বে তাহার একখানা দোকান ছিল।



দোকানে চাল, ডাল, চিড়ে, মুড়ি, গুড়, সরিষার তৈল, আরও অনেক রকম জিনিস পাওয়া যাইত। ক্রেতাদের সঙ্গে তার ব্যবহার খুবই মধুর। তার অভ্যাস–একবার ছাড়া দুইবার কোনো জিনিসের দাম না বলা। সে কাহাকেও কোনো জিনিস বাকি দেয় না। প্রথমে ইহার জন্য অনেকে তার উপর অসন্তুষ্ট হইয়াছিল। কিন্তু সে কাহারও কথা শুনে নাই। এমন কি, গ্রামের অনেক ভদ্রলোক প্রথম প্রথম তার দোকান জোর করিয়া তুলিয়া দিবেন বলিয়াছিলেন, কিন্তু ভাগ্যে গ্রামের নসির মিঞা তার দিকে ছিলেন। নসির মিঞা মসজিদের ভিতর বলিয়া দিয়াছিলেন, গ্রামে দোকান থাকাতে সকলের পক্ষেই লাভ। বাকি লইলে দোকান থাকিবে না। নসির মিঞা গ্রামের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী লোক, অথচ অত্যাচারী নন।


কেউ কেউ সন্দেহ করিয়াছিল যে, সকলের সুবিধা নষ্ট করিয়া নসির নিজের সুবিধা করিয়া লইলেন। কিন্তু তিনি সে ধরনের লোক নন। তার ছেলে একদিন দোকানে বাকি জিনিস আনিতে গিয়াছিল–শুনিতে পাইয়া তিনি ছেলেকে মারিয়াছিলেন এবং ভর্ৎসনা করিয়াছিলেন। ক্রমশ রায়হানের অনেক মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী বন্ধু জুটে গেল। আবদুল হামিদ তাদের একজন। ইদানীং কেউ কোনো জিনিস তার দোকান হইতে ধারে লইত না। সকলেই বুঝিয়াছিল ধার করিয়া জিনিস লইলে সেই ছোট দোকানের ছোট প্রাণটি দুই দিনেই বাহির হইয়া যাইবে।


সন্ধ্যাবেলা রাজভাষাখানা একটু পড়িয়া দোকানের দুয়ার বন্ধ করিয়া রায়হান ভাত খাইতে বাড়ি যাইতেছিল। আবদুল হামিদের বাহির-বাড়ির উপর দিয়াই তাহার পথ।



জোছনার আলোকের মধ্যে দাঁড়াইয়া হামিদের বিধবা বোন করিমা একটু বড় পেয়ারা গাছের মাথার দিকে চাহিয়াছিলেন। করিমার বয়স পঁচিশ। বর্ণ উজ্জ্বল গৌর, বৈধব্যের অবহেলায় কিঞ্চিৎ স্লান ও নিষ্প্রভ, তবুও কোনো অপরিচিত মানুষ সে মুখের দিকে যদি চাহিত, সে স্তব্ধ হইয়া যাইত।


রায়হান করিমাকে একাকী বাহির-বাড়ির প্রাঙ্গণে দাঁড়াইয়া থাকিতে দেখিয়া মাথা নত করিয়া চলিয়া যাইতেছিল। করিমা ডাকিয়া কহিলেন,–রায়হান, তুমি বড় লাজুক এবং তার ফলে অভদ্র।”


রায়হান বলিলেন–“আপনি আমার বাল্যবন্ধু হলেও বয়সকে মেনে চলতে হবে।”


“ছিঃ! এরূপ কথা বলা অন্যায়। এস আমাদের বাড়ির ভিতর।” রায়হান করিমার সহিত বাড়ির ভিতর প্রবেশ করিল।


হামিদ তখন পড়িতেছিল। রায়হানকে দেখিয়া সে কহিল, “রায়হান, আমার বাংলা পড়াটা বুঝিয়ে দিয়ে যাও তো।”


করিমার মা হাফিজা সেখানে ছিলেন। পুত্রের ধৃষ্টতার বিরক্ত হইয়া তিনি কহিলেন, “হামিদ, কথা বলতে জান না।” হামিদ অপ্রস্তুত হইয়া চুপ করিয়া রহিল।



মৌলবী সাজেদ আলী রিটায়াড় পুলিশ ইন্সপেক্টর। শেষ বয়সের পুত্র হামিদ আহ্লাদে একটু বেয়াদব হইয়া পড়িয়াছিল।


হাফিজা রায়হানকে বসিতে বলিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন,–“দোকান কেমন চলছে বাবা?”


রায়হান সে কথার উত্তর না দিয়া কহিল–চাচি, হামিদ আমার এক বয়সের, অমন করে কথা বল্লেও বিশেষ দোষ হবে না।”


হাফিজা বলিলেন–“তুমি হচ্ছ করিমার বয়সের, যদি ও ওর বুয়াকে মানে তাহলে তোমাকেও মানতে হবে। সম্রম করে কথা না বলুক বাড়ির উপর মানুষ এলে বসতেও কি বলতে নেই? সোজাসুজি নাম ধরে নবাবের মতো হুকুম!”


হামিদকে একটু উৎসাহিত করিয়া তুলিবার জন্য রায়হান স্বইচ্ছায় তাহাকে খানিক বাংলা পড়াইয়া দিলেন। ঘরে পড়িয়া রায়হানের বাংলা ভাষার জ্ঞান জন্মিয়াছিল, সুতরাং অনায়াসে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র হামিদকে পড়াইতে সক্ষম হইলেন।


হাফিজা মেয়েকে বলিলেন–“রায়হানকে কিছু খেতে দাও।” তারপর একটু থামিয়া কহিলেন–“রায়হান, ছোটকালে তুমি এখানেই সারাদিন করিমার সঙ্গে খেলে খেলে কাটিয়ে দিতে।”



রায়হান আপত্তি করিলেন না।


করিমা ছোট একখানা কাঁসার থালায় কতকগুলি মুড়ি, কয়েকটা নারিকেলের নাড় –একটু হালুয়া এবং খানিকটা সর আনিয়া দিল।


মনের একটা দারুণ বেদনা, একটা ছোট চাপা দীর্ঘশ্বাসের আকারে করিমার বুকখানাকে সহসা কাঁপাইয়া গেল। তাহার উজ্জ্বল নীল চক্ষু একটু শিহরিয়া উঠিল। বাহিরে স্নিগ্ধ নীল ও উজ্জ্বল প্রকৃতির পার্শ্বে করিমার পেলব-গৌর দেহখানি স্বপ্নমাধুরী সৃষ্টি করিতেছিল। সে যখন দাঁড়াইল তখন বোধ হইতেছিল একখানা তরল, অতি সুন্দর কনক প্রতিমা জোছনার উপর দাঁড়াইয়া পৃথিবীর ললাটে একটা মাধুরীর টিপ কাটিয়া দিতেছে।


হাত ধুইয়া রায়হান বলিলেন–“চাচি! আবার এখনি আমাকে খেয়ে দোকানে যেতে হবে।”


হাফিজা বলিলেন–“আচ্ছা বাবা! তাহলে যাও।”


.


তৃতীয় পরিচ্ছেদ



বৈকালবেলা মৃদু মন্দ বাতাস বহিতেছিল।

**********