বিবর

বিবর

সমরেশ বসু

বিবর

Books Pointer Iconসমরেশ বসু
Books Pointer Iconnovel

Change color

পর্ব ১

কিংবা, আচ্ছা ব্যাপারটা কি এই রকম নাকি, যে, এক তুখোড় চতুর একগুয়ে জেদী আর অব্যৰ্থ শিকারী, একটা বাঘকে মারবার জন্যে, একটা বাঘকে ফাঁদে ফেলে মারবার জন্যে, যেন একটা নধর পুষ্ট ছাগলকে, রাতের অন্ধকারের বনে, গাছের তলায় বেঁধে রেখে দিয়েছিল। আর বাঘটা তার শিকারের ডাক শূনে, গন্ধে গন্ধে, পা টিপে টিপে এল, বন ঢুঁড়ে ঢুঁড়ে দেখল। দেখে, খেলতে আরম্ভ করল। বইয়েতে তো তাই লেখা থাকে, পাকা শিকারীদের অভিজ্ঞ বর্ণনায় সেইরকম অভিমতই ব্যক্তি হয়ে থাকে যে, একটু খেলা (বা র‍্যালা?) না হলে ঠিক শিকারের তৃপ্তি হয় না। অর্থাৎ পা টিপে টিপে একটু কাছে যাওয়া, আবার, পেছিয়ে আসা, প্রদক্ষিণ করা, প্রদক্ষিণ করতে দূরত্বটাকে কমিয়ে নিয়ে আসা, ওত্‌ পাতা এবং তারপরে এক লাফ। আর লাফ দেবার সঙ্গে সঙ্গেই…


আমার হাসি পেয়ে গেল। একটা চোখ বুঝে, আমি আয়নার দিকে তাকলাম। যেন সেই শিকারীকেই খুঁজলাম, বাঘ শিকারীকে, এবং এক্ষেত্রে যে তার কোন অস্তিত্বই নাই, তাই ভেবে আমি নিজেকেই কয়েকবার চোখ টিপলাম। ভেংচানোর মত হেসে, একটা খিস্তি করলাম, সেই অস্তিত্বহীন কল্পিত শিকারীর উদ্দেশ্যে। উপুড় হয়ে শোয়া অবস্থাতেই সিগারেটটা আমার ঠোঁটে ছিল। আর ঠিক খাট বরাবরই ড্রেসিং টেবিলের উপর আয়নাটা রয়েছে। রয়েছে, মানে রাখাই হয়েছে এমনভাবে, যেমন শুয়ে শুয়ে নিজেকে, নিজে এবং আর কেউ যদি থাকে তাকেও দেখা যায়। আর কেউ বলতে কি বোঝায়? ন্যাকা। নাক টিপলে দুধ গলে, আর কেউ বলতে কি বোঝায়, তুমি জানো না। ডবল ডেকার বাসের ভিড়ে বা চৌরঙ্গীর সিনেমার লরীতে, তুমি এক পলকে, একটি চোখে লাগা মেয়েকে, মনে মনে নগ্ন করে নিখুঁত করে দেখে নিতে পার, আর খাট বরাবর আয়নায়, তোমার কাছে, পাশে বা যে ভাবেই হোক, আর কেউ বলতে কি বোঝায় বা কী উদ্দেশ্য এবং কী ফন্দী ফিকির মনের ইচ্ছা হয়ে লুকিয়ে থাকে, তুমি তা জান না। অবলোকনের কী ঐশিয্যি রক্তকে ডেকে ডেকে তোলে, যার জনে, এ মার্কা বিদেশী ছবি দেখিবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে আগে থেকে এ্যাডভান্স টিকেট কাটো কিংবা ব্লু ফিলম্‌ দেখতে যাও গোপনে, তোমাল্‌ তা দানা নেই।


খচ্চর! একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে, হেসে আমি নিজেকেই আদর করে বললাম। এবং আয়নার প্রতিবিম্বেই নীতার শাম্পু করা রুক্ষ চুলের গোছার দিকে তাকালাম। যে-চুলের গোছা, একটু আগেই আমি বিলি কেটে কেটে, ঘাড়ু থেকে তুলে, ওর মাথার ওপর দিয়ে লুটিয়ে দিয়েছি। নীতাও উপুড় হয়ে রয়ছে। আমিই উপুড় করে দিয়েছি। ঠিক যেখানে ছিল, সেখানেই ঔপুড় করে দিয়েছি। ও আমার বুক ঘেঁষে কোল ঘেঁষে ছিল, এখনো তাই আছে। মুখটা আমার থেকে উলটো দিকে ফেরানো। আয়নার দূরত্বটা এমন জায়গায়, ওর পাশ ফেরানো চোখ বোজা ফর্সা মুখখানি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ওর সমস্ত দেহটাই দেখা যাচ্ছে। ওর মেদহীন সুগঠিত খোলা পিঠা, এত সুন্দর আর স্বাস্থ্যপূর্ণ, শিড়দাঁড়ার মাঝখানটা যেন দু পাশ থেকে ঢালু হয়ে নেয়ে এসে একটি তীক্ষ্ণ গভীর রেখায় আঁকা পড়েছে। নিটোল কোমল ফর্সা পিঠ জামা নেই। পিঠটা যেন ক্ৰমাগত ত্রিভুজের রেখায় কোমরের দিকে নেমে গেছে। তারপরে লাল নীল ছাপকা ছাপকা (রং-এর শাড়িটা রং-এর এটা কী ফ্যাশান, আমি জানি না।) আমিই কোমর থেকে ঢেকে দিয়েছি। দেওয়া উচিত, এরকম একটা চেতনার থেকে যে দিয়েছিলাম, তা আমি স্মরণ করতে পারছি না। হতে পারে, নিতান্ত চোখে দেখার অভ্যাসের দরুণই দিয়েছিলাম। শায়াটা তো লুটনোই রয়েছে খাটের এক পাশে, ব্লাউজ ব্রেসিয়ার যেখানে দলা পাকানো।


নীতা আমার বাঁ পাশে। ওর ভ্যান হাতটা মাথার পাশ দিয়ে ওপর দিকে এলানো, বাঁ হাতটা ওর বুকের কাছ ঘেঁষে কনুই মুড়ে রয়েছে। বাঁ হাতটা ওরকম না থাকলে ওর চব্বিশ পুষ্ট যৌবন (যৌবন বলতে আমি ওর সুউচ্চ সুগঠিত বুকের কথাই বলছি, আর এরকম কথা মনে হলেই আমার সন্ধিক্ষণের বয়সে, বেলেঘাটার মাসতুতো দাদার কাছে শোনা সেই গানের কলিটা নির্ঘাৎ মনে পড়বে, ও মালিনী তোর বাগানে জোড়া ডালিমে… ইত্যাদি। সম্ভবতঃ পাশ থেকে আরো উগ্র স্পষ্ট হয়ে উঠত। ওর গায়ে অলঙ্কারের বাহুল্য নেই। ডান হাতে একটা রুলি, বাঁ হাতে ঘড়ি।


আয়নার প্রতিবিম্বেই ওর দিকে আমি চোখ ফিরে তাকালাম। আলস্য মাখানো ভঙ্গীতে, শরীর দুলিয়ে দুলিয়ে হেসে, নীতাকেই যেন সাক্ষী মানলাম। কারণ, ঘণ্টা দেড়কে আগেই, কিংবা ঘণ্টা দুয়েক হবে বোধ হয়, আমরা দুজনেই আয়নাটার ছায়ায় দুজনে দুজনকে দেখছিলাম, আর বলাবলি করছিলাম। দেখেছ?


যা অসভ্য!

নীতি সলজ্জ হেসে বলছিল, চোখ বুঝে থাকছিল, যাতে আয়নাটার দিকে কোনরকমে চােখ না পড়ো মনে হয়েছিল, লজ্জাটা আসলে কামনার উদ্বেল হয়ে কুঁকড়ে যাওয়ার একটা প্রবণতায় ও ওরকম করছিল। অথবা যথেষ্ট সম্প্রতিভ সাবলীল হওয়া সত্ত্বেও মেয়েদের ওসব ব্যাপারে একটু লজ্জা-টজ্জা বেশী থাকে, বা কে জানে, হয়তো অবলোকনের থেকে, অনুভবের নেশায় গভীরভাবে ডুবেতেই ওরা বেশী ভালবাসে। জানি না বাবা অত সব। মোটের ওপর নীতা সলজ্জভাবে আয়নাটার দিকে চোখ না দেবার চেষ্টা করছিল। চেষ্টা করছিল, কারণ, দেখছিলাম, ওর চোখ জোড়াকে যেন আয়নাটা সুখীর মত হাতছানি দিয়ে ডাকছিল, এই ৷ এই নীতা, দ্যাখ দ্যাখ। আর সেই ডাক শুনে ও চকিতে চকিতে এক একবার আয়নার দিকে তাকিয়ে ফেলছিল এবং হাত দুটোকে শরীরের নানান অংশে রাখতে চাইছিল। ও তো বেশ্যা নয় যে, একটা বিক্ষুব্ধ ঘৃণায়, প্রায় চেতনাহীন শরীরটাকে আলোকিত ঘরে হাট করে খুলে ফেলে রেখে দিয়েছে, যেখানে অবলোকন বা অনুভূতি, এসবের কোন মূল্য বা তাৎপর্যই নেই। অবিশ্যি, এ সবই আমার ধারণা। যেমন সার্কাসের নেপথ্যে ম্যানেজারের গলা শোনা গেল, ওহে বীরেশ ক্লাউন, এই শেষ খেলাটায় তুমি একটা পাক মেরে এস গে। আজ্ঞে স্যার, নাকটা ল্যাজটা খুলে ফেলেছি যে? আবার লাগাও। আচ্ছা স্যার। তারপর নাক আর ল্যাজ লাগাতে লাগাতে মনে মনে বলতে লাগল, শুয়োরের বাচ্চা, ম্যানেজারগিরি ফলাতে এসেছে, শালা দু মাসের মাইনে দেয়নি, ভাল করে খেতে পর্যন্ত… এই বলে দাঁতে দাঁত পিষতে পিষতে হু-ক্‌ হু-ক্‌ ক ডাক ছেড়ে হাসতে হাসতে মঞ্চে যায়, এবং খেলা দেখিয়ে ফিরে আসে আর কী খেলা দেখিয়ে এল, মুহূর্তেই ভুলে যায়, কেবল বিক্ষোভটাই ভিতরে জমা হয়ে থাকল, অনেকটা সেইরকমের আমি বলছি।


যাকগে এসব কথা। আমার ধারণা দিয়ে কী হবে। মোটের ওপর বাজারের বেশ্যা এবং নীতা এক নয় বলে আমার বিশ্বাস, কারণ ওর জীবনেও নানান বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ইচ্ছে মতো, পুরুষ বন্ধর সংসর্গ করার উপায় আছে। এমন নয় কি যে, পুরুষে সংসর্গই হচ্ছে ওর জীবিকা। ভাল লাগার একটা ব্যাপার এখনো বোধ হত্ন আছে। অবিশ্যি এরকম মেয়েদেরই স্বৈরিণী বলে কিনা, আমি জানি না। স্বেচ্ছাচারিণী যাকে বলে। কারণ নীতা ওর ভাল লাটাকে স্বাধীনভাবে কাজে লাগিয়ে থাকে। যেমন আমি। আমিও ওর ভাল লাগা স্বাধীনতার কাজে লেগে থাকি। আমি নিজেও তাই নয় কি? ক নয়, তা জানি না। এ ক্ষেত্রে ভাল লাগার স্বাধীনতাকে কাজে লাগাতে পারলে কেউ কি ছেড়ে দেয়? কে স্বেচ্ছাচারী নয়? আমার তো মনে হয়, গোটা পৃথিবীটা বন্দী-স্বেচ্ছাচারীতে ভারাক্রান্ত।


কিন্তু দূর হ, পৃথিবীটা রসাতলে যাক। নীতার ভাল লাগার কথা ভাবছিলাম। ভাল লাগাটা আছে বলেই আয়নাটা বা ছায়াটা বা আমি, কোন কিছুই বোধ হয় ওর কাছে নিতান্ত প্রাণহীন নিরেট ছিল না।


নিজেদের না দেখবার জন্যেই যদি হবে তবে আয়নাটা ওখানেই রাখা, হয়েছে কেন?


আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম।


জানি না। ফাজিল!


সব মেয়েদের মতই নীতা ঠোঁট ফুলিয়ে হাসির ধমকে বলেছিল। তার মানেই, পুরোপুরি জানত। তাই, এখন আয়নাটার দিকে তাকিয়ে এসব কথা আমার মনে হওয়ায় নীতার দিকেই আমার চোখ পড়ল, ওকেই যেন সাক্ষী মানলাম। কয়েকবার সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে, বাঁ হাতটা ওর পিঠের ওপর রাখলাম।


বেশ দেখাচ্ছে এখন আমাকে, না? অল ওপন টেরেলিনের সার্টটার সব বোতামগুলোই খোলা। হার গুটানো। অলিভ গ্রীনের মুহরি নালী প্যাণ্টটা কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত কাপটি খেয়ে এঁটে আছে। আর অলিভ গ্রীনেরই মোজ। পয়েন্টেড টো ইটালিয়ান কালো জুতোসুদ্ধ পা দুটো আমার উঠে আছে। যে-চীনা মেকার জুতো জোড়া তৈরি করে দিয়েছিল সে বলেছিল, তোমার পকেটে আর ছুরি রাখতে হবে না। তার মানে ডগা এতই ছুঁচলো ও তীক্ষ্ণ যে ছুরির কাজ চলে যায়। চীনা আরো বলেছিল, ইপ ইউ শত্‌ এনিবোদি অন দি বেলি, তো বেলি পাত যায়েগা। বলে চোখ ঢেকে, সোনার দাঁত দেখিয়ে খুব রগুড়ে হাসি হেসেছিল। আয়নায় জুতোর তলার ছায়া পড়েছে। খুব একটা ধুলো ময়লা লেগে আছে কি জুতোর তলায়? আছে, তবে তেমন নয়। নীতা খুলতে বলেছিল জুতো জোড়া। ডানলোপিলোর গদীর ওপর এমন ধবধবে ফর্সা চাদর পাতা। খাটটাও তো সুন্দরই। ন্যাচরেল কলার নিচু বিলেতি ডিজাইনের খাটা মোজাইকের মেঝেতে তার একটা হালকা প্রতিবিম্ব পড়েছে। সর্বোপরি নীতা, যার সঙ্গে একই খাটে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলাম, সেও রূপসী বটে, যুবতী তো হাজারবার, এবং পোষাক পরিচ্ছদও যথেষ্ট ফাসানদুরস্ত।


ও বলেছিল জুতে খোল।


আমি বলেছিলাম, আবার জুতো খোল? থাকগে।


নীতা বলেছিল, বিছানাটা ময়লা হবে না?


কতটা আর হবে।

নীতা আর কিছু বলার আগেই আমি গদীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। নীতা একটু থমকে গিয়েছিল, ভুরু কুঁচকেছিল। বিরুক্তির লক্ষণ যাকে বলে। আমি অবিশ্যি একটু ঝোঁকে মাথায় ছিলাম। নীতাও, তবে আমি একটু বেশী ছিলাম, তাই ওর থমকানে। বা ভুরু কোঁচকানো ঝোঁকের ঠ্যালায় গায়েব করেছিলাম। বিকেলে কথা ছিল, প্রতিযোগিতামূলক একটা চাকরির ব্যাপারে একজনের জন্যে, পিছনের দরজার উমেদারিতে যাব রুবি দত্ত-এর কাছে। রুবি দত্ত-এর থেকে রুবী দেবীটাই বেশি উচ্চারিত হয় বর্তমান কলকাতায়। দেবী তো বটেই, কেউ কেউ তো কালী কেলকেত্তাওয়ালীও বলে। অর্থাৎ কলকাতেশ্বরী-ইয়বেঙ্গেশ্বরী বললেই বা ক্ষতি কী! আমার অবিশ্যি ঠাটেশ্বরী বলতে ইচ্ছে করে, বলিও মনে মনে। সেই রুবি দত্ত যদি সামনে দাঁড়ায় তবে অনেক পিছনের দরজার কুলুপই নিঃশব্দে খুলে যায়। ওই মেয়েলোকটিতে কী যাদু আছে জানি না, তবে তাকে ক্ষমতাবান ব্যক্তি ওর আঁচলে বাধা। অনেকে বলে, মাগী জাঁহাবাজ। জাঁহাবাজ স্ত্রীলোক হলেই যে কলকাতার ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের আঁচলে বাঁধা যান, তা আমি মানি না। বিদ্বেষপরায়ণ লোকেরা একটা যা হোক বিশেষন ব্যবহার করতে ভালবাসে। কানে শুনতে একটু যুতসই লাগলেই হল। তার কোন মানে-টানে দরকার নেই, নাকি? তা হলে, ডেসডেমোনিয়াও জাঁহাবাজ, তার রূপটা জাঁহাবাজ রূপ, কেন না, সে অতবড় একজন সেনপতিকে আঁচলে বেঁধেছিল। অবশ্যি রুবি দত্ত-এর সঙ্গে আমি ডেসডেমোনিয়ার তুলনা করছি না। তার আবার নিষ্টা পবিত্রতা সতীত্ব ইত্যাদি ছিল। আর রুবি দত্ত বিবাহিত, হাবুল দত্ত অর্থাৎ যত বদখত্‌ ব্যবসায় ঘুরে বেড়ানো, মদে ডুবে থাকা এবং তেএঁটে বদমাস বলে যার নাম আছে কলকাতায়, সেই লোকেন দত্ত-এর স্ত্রী সে। দৈহিক পবিত্রতা বা সতীত্বের মত কোন বোকামি বা বুজরুকির আগল তার নেই। এই তিরিশ বত্রিশ বছর বয়সেও রূপ যৌবন যথেষ্টই আছে, পেটে বিদ্যেও মন্দ নেই, সোসাইটি, কালচার ইত্যাদি সম্পর্কেও সচেতন, সন্দেহ নেই। যদিচ মাত্র এসব মূলধনেই ক্ষমতাবানদের আয়ত্ত করা যায় না। এ রকম অনেক আছে, অনেক ঘুরে বেড়াচ্ছে এই কলকাতায়। যারা রুবি দত্ত হতে চায়। কিন্তু হতে পারে না। আমার পাশে, এই নীতাও হয়তো তাই চাইত। কিন্তু হতে পারতো না। তা হলে রুবি দত্ত-এর নিশ্চই একটি কোন প্রতিভা আছে। প্রতিভা! কে জানে, ক্ষমতাবান লোকদের আয়ত্ত করার জন্যে, স্ত্রীলোকদের কোন প্রতিভার দরকার হয় কি না। না হলে, অন্যেরাও রুবি দত্ত হয়ে উঠতে পারে না কেন? আঁচলে বেশ ভারী চাবির গোছা তো সবাই বাঁধতে চায়।


এ ক্ষেত্রে প্রতিভাকে খাপ খেয়ে যাওয়া বলে কি না কে জানে। এই যেমন সেদিন শুনেছিলাম, মস্ত আইনজীবী হারাণ নেয়োগী নাকি (বোঝ, বিরাট আইনজীবীর নাম হারাণ নিয়োগী! আমার তো মনে হয়, একমাত্র কারখানার কেরাণী ক্ষান্তবালা পতিরই এ নাম হতে পারে।) বছরখানেক ধরে একটা মেয়েকে নিয়েই পড়ে আছে। মেয়ে মানে, এক্ষেত্রে উপপত্মীই বুঝতে হবে। মধ্যবয়স অতিক্রান্ত, বিবাহিত এইচ এন-এর (হারাণ নিয়োগী) বন্ধু এবং পরিচিত মহলে, এ ব্যাপারে সবাই থ মেরে গেছে। পক্ষকালে বা মাসে মাসে যে-লোকাটা মেয়ে বদলায়, নতুন নতুন চায়, সে বছর ধরে একটা মেয়েকে নিয়ে নাকি কাটিয়ে দিচ্ছে। বছরকাবারির জন্যে বিস্ময়, আর অন্য সময়ে লোকেদের জ্বালা। শুনলে, জ্বালা আমারও হয়। কার না হয়, তা জানি না। আর জ্বালা, মানেই তো, বদলী স্বাদের জন্যে সকলের জিভই লকলক করছে। তৃষ্ণা বুকেই শুকিয়ে যায়, কারুর অক্ষমতায়, কারুর

**********