দাশগুপ্ত ট্রাভেলস

দাশগুপ্ত ট্রাভেলস

দেবারতি মুখোপাধ্যায়

দাশগুপ্ত ট্রাভেলস

Books Pointer Iconদেবারতি মুখোপাধ্যায়
Books Pointer Iconnovel

Change color

শুধু আই টি সেক্টরের ব্যস্ত ইঞ্জিনিয়াররা নয়,

মধ্যমেধা ও মধ্যবিত্ত সমাজ যাদের ‘উন্মাদ’ আখ্যা দেয়,

যারা গতানুগতিকতাকে উপেক্ষা করে নিজেরা কিছু করতে চায়,

সেইসব ব্যতিক্রমী মানুষদের জন্য এই বই।


.


মুখবন্ধ

আই টি সেক্টরের অন্দরমহল। বর্তমান সময়ের শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা। ইঁদুরদৌড় থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে অন্ত্রেপ্রেন্যিয়র হওয়ার ব্যতিক্রমী স্বপ্ন। তরুণ প্রজন্মের চাওয়া—পাওয়া, অনুভূতি, হতাশা।


অনেক মানুষ। অনেক মুখ। প্রতিটি মুখের আড়ালে রয়েছে তাদের জীবনের ওঠাপড়া, সুখ দুঃখ। ভালোবাসা। সেই চলমান জীবনের অলিতেগলিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছে নানা অজানা অধ্যায়।


‘দাশগুপ্ত ট্রাভেলস’ নামটি মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রতীক, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক স্তর থেকে উঠে আসা নানা বয়সের মানুষের জীবনের জটিল অধ্যায়। বহুমাত্রিক স্তর নিয়ে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাস। ভরকেন্দ্রে রয়েছে যে তরুণী, সেই জিনিয়া দাশগুপ্ত নানা ঘটনার আবর্তের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে তার লক্ষ্যে। তার চলার বাঁকে ফুটে উঠেছে বর্তমান কর্পোরেট জগতের ভেতরের নানা প্রতিচ্ছবি। শুধু সে—ই নয়, অতন্দ্র, অম্বিকেশ, আলোকপর্ণা, অল্পা, যাদবচন্দ্রের মতো চরিত্ররা শেখায় বাঁচতে। দুঃখের কুয়াশা ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নতুন উদ্যমে আলোর মুখ দেখতে। বলে ‘চরৈবেতি’।


এই উপন্যাসের স্রষ্টা নিজে এমন এক দুর্লভ ব্যক্তি যিনি অতি অল্প বয়সে দেশের বেসরকারি আই টি জগৎ, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক সংস্থা এবং সরকারি প্রশাসনিক পদ, তিন ধরনের কর্মজগতেই কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ফলে, লেখকের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ সুলেখনীতে ‘দাশগুপ্ত ট্রাভেলস’ পাঠককে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াবে দেশ থেকে বিদেশে, কর্পোরেট জগতের অলিগলিতে। দাঁড় করাবে নানা অজানা সত্যের মুখোমুখি।


একান্ত সামাজিক কাহিনি হলেও প্রায় রহস্যপাঠের মতোই আমি আকৃষ্ট হয়েছি এই দীর্ঘ উপন্যাসের পর্ব থেকে পর্বান্তরে। লেখার মুনশিয়ানার প্রতিটি অধ্যায় অন্তে চড়েছে কৌতূহলের পারদ। পেয়েছি একাধারে কর্পোরেট জগৎ, সমাজ—জীবনের দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে ভ্রমণোপন্যাসের স্বাদ। আগ্রহী ও একনিষ্ঠ পাঠকের বিচারে এই উপন্যাস বর্তমান কর্পোরেট জগতের একটি সার্থক দলিল হিসেবে পরিগণিত হবে, এমন আশা করাই যায়।


বিশ্বদেব গঙ্গোপাধ্যায়


লেখকের জবাবদিহি

বহুদিন আগে প্রণম্য সাহিত্যিক শ্রীযুক্ত তারাপদ রায়ের একটি রম্যরচনা পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। কোনো একটি সংবাদপত্রের সাপ্তাহিকী কলামে প্রকাশিত হয়েছিল সেই নাতিদীর্ঘ সরস লেখাটি। পত্রিকার নাম, দিনক্ষণ কিছুই আর মনে নেই, কিন্তু স্মৃতির কোনো এক গুপ্ত প্রকোষ্ঠে সেই লেখাটি আজও রয়ে গিয়েছে।


সংক্ষেপে নিজের ভাষায় সেই রচনাটি আগে নিবেদন করি।


পার্কে দুই বৃদ্ধ প্রত্যহ প্রাতঃভ্রমণে যান। নিজেদের সুখ দুঃখ ভাগ করে নেন একে অন্যের সঙ্গে। এক বৃদ্ধের দুই মেয়ে, দু—জনেই বিবাহিতা। তিনি একদিন ভারাক্রান্ত মনে প্রাতঃভ্রমণের সঙ্গীটিকে বললেন, ‘মন ভালো নেই, ভায়া। বড়োজামাইটাকে নিয়ে চিন্তা নেই, খুব বড়ো চাকরি করে। মোটা মাইনে। কোম্পানি থেকে গাড়িও পায়। চিন্তা ছোটোজামাইকে নিয়ে। তার তো ব্যবসা। কোনদিন লাটে ওঠে তার ঠিক আছে?’


‘সেই তো!’ দ্বিতীয় বৃদ্ধ সম্মতি জানালেন, ‘ছোটোজামাই কোনো চাকরি পায়নি? আহা গো! ব্যবসার কোনো ভরসা আছে নাকি? আজ রাজা তো কাল ফকির।’


‘তবেই বলো। দিনরাত দুশ্চিন্তায় কাঁটা হয়ে থাকি। কী যে আছে ছোটোমেয়েটার কপালে!’


দ্বিতীয় বৃদ্ধ সমব্যথী সুরে বললেন, ‘তা, আপনার বড়োজামাই কোথায় চাকরি করে?’


প্রথম বৃদ্ধ সেই একইরকম দুঃখ দুঃখ মুখ করে বললেন, ‘ছোটোজামাইয়ের কোম্পানিতে।’


এটা নিছকই একটি রম্যরচনা হলেও বাঙালির ব্যবসাবিমুখতা সর্বজনবিদিত। ব্যবসার ঝুঁকি, নিরন্তর অনিশ্চয়তার চেয়ে সুখী বাঙালি পছন্দ করে ডিগ্রির পর ডিগ্রি নিয়ে বড়ো কোনো চাকরি এবং সুখে—শান্তিতে নিরুপদ্রব ঘরসংসার। সুধীপাঠক যদি এখনই আমার এই কথার প্রতিবাদ করেন, ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে ধরেন শোভারাম বসাক, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে হাল আমলের ‘বেরোলীন’—এর গৌরমোহন দত্ত, ‘শ্রীলেদার্স’—এর সুরেশ চন্দ্র দে কিংবা বন্ধন ব্যাঙ্কের চন্দ্রশেখর ঘোষের কথা, সেক্ষেত্রে আমি সবিনয়ে বলব, ব্যতিক্রম কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ নয়।


এখনও ক—জন অভিভাবক নিজের সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আমলা বা অধ্যাপক করতে চান, আর ক—জন নিজের ছেলে বা মেয়েকে নিশ্চিত চাকরির ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে নিজে কিছু করতে, স্বাধীন কোনো উদ্যোগ নিতে উদবুদ্ধ করেন, সেই তুলনা করলেই প্রভেদটা স্পষ্ট হবে। স্পষ্ট হবে বাঙালি সমাজে ‘Entrepreneur’ শব্দটির এখনও আড়ষ্ট অনিয়মিত আনাগোনা দেখেও।


‘দাশগুপ্ত ট্রাভেলস’ উপন্যাসে আমি মূলত এই প্রশ্নেরই অন্বেষণ করেছি। শুধু তাই নয়, তুলে ধরতে চেয়েছি এই প্রজন্মের অন্যতম কর্মক্ষেত্র ‘আই টি সেক্টর’—এর অন্দরমহলকে। আলোয় আনতে চেয়েছি নব্যপ্রজন্মের যুবক যুবতীদের জীবন, ভালো লাগা, স্বপ্ন, হতাশাকে। ঘটনাচক্রে আমি নিজে বেশ কিছুদিন আই টি দুনিয়ায় কাজ করেছি, সেখানকার কর্পোরেট আবহাওয়া সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। আর নিজে এখনও তিনের কোঠায় উপনীত হইনি, ফলে এই কাজের জন্য আমি খুব একটা ‘বুড়ো’ নই বলেই আমার বিশ্বাস।


এ ছাড়া দাশগুপ্ত ট্রাভেলসে রয়েছে এক উড়ানের গল্প। নানান চরিত্রের ভিড়ে ও নানান দেশের মাঝে মূর্ত হয়ে উঠেছে ‘জিনিয়া’ নামের লড়াকু মেয়েটি, যে কোনো কিছুর বিনিময়েই নিজের স্বপ্নপূরণের সঙ্গে আপোশ করেনি। তার চলার পথে এসেছে প্রতিকূলতা, বার বার সে হোঁচট খেয়েছে ব্যক্তিগত জীবনে, কর্মজীবনে। তবু ফিনিক্স পাখির মতোই বার বার ফিরে এসেছে সে, নতুনভাবে শুরু করেছে সংগ্রাম। সেই সংগ্রাম কোনো নারী হিসেবে নয়, সেই সংগ্রাম লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে।


এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অনেকে। জিনিয়া, অতন্দ্র, আলোকপর্ণা, যাদবচন্দ্র, অম্বিকেশ, আরও অনেকে। একেকটি চরিত্র একেকরকম সামাজিক স্তর থেকে হলেও, একেকরকম প্রজন্ম থেকে হলেও কোথাও একটা অদৃশ্য সুতো দিয়ে তাদের বাঁধার চেষ্টা করেছি আমি। বলার চেষ্টা করেছি, দিনের শেষে সবাই কোনো—না—কোনো লড়াই করে।


সফল হয়েছি কতটা, তা বলবেন পাঠক।


পরিশেষে বলি, পিকলুদা ও আলোকপর্ণার নিজেদের মধ্যে কথোপকথনের চারটি দ্বিপংক্তি কবিতার রচয়িত্রী আমি নই, আমার আত্মীয়া ও বন্ধু পিউ ভট্টাচার্য মুখার্জী। তার মতো করে কবিতায় রোমান্স ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা আমার নেই, তাই তার সাহায্য এই উপন্যাসকে সমৃদ্ধ করেছে।


গৌরচন্দ্রিকা আর দীর্ঘায়িত করে পাঠকের বিরাগভাজন হব না, উপন্যাস পাঠান্তে প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রইলাম।


দেবারতি মুখোপাধ্যায়


.


পাগল যে তুই, কণ্ঠ ভরে

জানিয়ে দে তাই সাহস করে।।

দেয় যদি তোর দুয়ার নাড়া

থাকিস কোণে, দিস নে সাড়া —

বলুক সবাই ‘সৃষ্টিছাড়া’, বলুক সবাই, ‘কী কাজ তোরে’।।


.


ট্রাফিক সিগনালে নিজের খেয়ালে বেজে চলেছে রবীন্দ্রসংগীত। সুচিত্রা মিত্রর অপরূপ কণ্ঠ নিখুঁত সুরের মূর্ছনায় চারপাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে সংগীতপ্রবাহ। সেই সুরলহরীতে অতিব্যস্ত পথচারীও মুহূর্তের জন্য মজে যাচ্ছে।


গ্রীষ্মের সকাল। ব্যস্ত কলকাতা শহর। শিয়ালদা স্টেশন থেকে বেরিয়ে কিছুটা এগোলেই ফ্লাইওভার।


সেই ফ্লাইওভারে ওঠার মুখে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল ট্যাক্সিটা। বেশ অনেকক্ষণ ধরে। সাধারণত এমন জায়গায় দাঁড়ালে ট্রাফিকে ডিউটিরত সিভিক ভলান্টিয়াররা ছুটে আসে। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে আজ তাদের দৃষ্টি এই গাড়ির ওপর পড়েনি।


ট্যাক্সিটার একটা বৈশিষ্ট্য আছে। কেউ সময় নিয়ে তাকালে চোখে পড়বে। কলকাতার চিরাচরিত ট্যাক্সির মতো এরও হলুদ গায়ের ওপর গাঢ় নীল রঙের বর্ডার। কিন্তু সেই নীল রঙের সরলরৈখিক বর্ডারের সঙ্গে সমান্তরালে আঁকা হয়েছে সূক্ষ্ম নকশা। অনেকটা আলপনার মতো। সেই আলপনা নীল বর্ডারের সঙ্গে পথ চলে আষ্টেপৃষ্ঠে মুড়ে ফেলেছে গোটা গাড়িটাকে। তাই দূর থেকে দেখলে গাড়িটাকে একটু অন্যরকম লাগে।


ফ্লাইওভারে ওঠার আগে যে স্টপেজ, তাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে অন্তত চল্লিশজন মানুষ। প্রত্যেকেই অপেক্ষা করছে বাসের জন্য। নানা রুটের ভিড়ে ঠাসা বাস আসছে মিনিটে দশটা করে। এসে স্টপেজে দাঁড়ানোমাত্র ধানের জমির পঙ্গপালের মতো লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ছে সেটার ওপর। কয়েক সেকেন্ডের ঠেলাঠেলি, কনডাক্টরের চিৎকার, মানুষের অসহিষ্ণুতা, তারপরই বাস ছেড়ে দিচ্ছে, উঠে যাচ্ছে ফ্লাইওভারের ওপর। ভেতরে চিঁড়েচ্যাপটা হওয়া মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দিয়ে হু হু করে ছুটছে।


রোজকার অফিস টাইমের চিরাচরিত দৃশ্য।


ট্যাক্সিটা স্টপেজ থেকে সামান্য এগিয়ে এমনভাবে দাঁড়িয়ে ছিল, যেন তার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। দেখলেই মানুষ চোখ ফিরিয়ে নেবে এই ভেবে, যে, নির্ঘাত গাড়িটা বিগড়েছে। অথবা ড্রাইভার বেপাত্তা।


নাহলে এই জায়গায় কোনো ফাঁকা ট্যাক্সি দেখলেই লোকজন হামলে পড়ে। কিন্তু এই ট্যাক্সিটা দাঁড়িয়ে আছে দেখেও অপেক্ষারত কোনো মানুষ এদিকে ভ্রূক্ষেপ করছিল না।


তাই স্টেশন থেকে সোজা বেরিয়ে আসা লম্বা রোগাটে গড়নের মেয়েটা যখন ট্যাক্সিচালকের সঙ্গে জানলা দিয়ে কয়েক সেকেন্ড কথা বলেই গাড়িতে ওঠার তোড়জোড় করতে লাগল, অনেকেই বিরক্ত ভঙ্গিতে তাকাল এদিকে।


ভাবখানা এমন, ‘কি আশ্চর্য! আমরা এতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, আর এ কোত্থেকে নাকের ডগা দিয়ে …!’


গরমকাল হলেও একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। গুঁড়ো গুঁড়ো বৃষ্টির ছাঁটে চওড়া রাস্তার অনেকদূর পর্যন্ত ঝকঝকে দেখাচ্ছে। কর্পোরেশন থেকে লাগানো দু-পাশের গাছগুলো একটু বেশিই সবুজ সতেজ হয়ে উঠেছে। ভিজে চুপচুপে বাস, অটো, রিকশাগুলো নিজেদের গতিতে ভিড়ভাট্টা সামলে চলছে ঠিকই, কিন্তু সবের মধ্যেই একটা খুশীর মেজাজ। এই প্যাচপেচে গরমে হঠাৎ বৃষ্টি, সবার মনে পুলক জাগানোই স্বাভাবিক। দু-একদিনের জন্য হলেও অসহনীয় গরম ভাবটা একটু কমবে।


মেয়েটা তড়িঘড়ি করে হাতের লম্বা লম্বা ফ্লেক্স ব্যানারের স্টিকগুলো একটার পর একটা ট্যাক্সির মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে সেগুলোকে এমন মমতার সঙ্গে ট্যাক্সির সিটে শোয়াতে লাগল, মনে হতে লাগল সে যেন কোনো শিশুকে সাবধানে ঘুম পাড়াচ্ছে।


তারপর কাঁধে ঝুলতে থাকা চামড়ার ভারী ব্যাগটা সামনে টেনে নিয়ে ধপ করে ট্যাক্সির এক কোণে বসে পড়ে বন্ধ জানলার কাচটা খুলে দিল।


ট্যাক্সি ড্রাইভার পাপ্পু সিং একবার অভ্যেসমতো একবার লুকিং গ্লাস দিয়ে প্যাসেঞ্জারকে দেখে নিল। প্যাসেঞ্জারকে একবার মেপে নেওয়াটা তার ডিউটির মধ্যে পড়ে। নাহলে পরে কখন কোথায় দরকার পড়বে, কেউ কি বলতে পারে?


এই তো, বছর দেড়েক আগেই ওর ট্যাক্সি চড়ে একটা ক্রিমিনাল শিয়ালদা স্টেশন এসেছিল। লোকটা নাকি কত কেজি রুপো নিয়ে পালাচ্ছিল। পুলিশ যখন এসে ওকে জিজ্ঞেস করল, ও এমন গড়গড়িয়ে লোকটার বর্ণনা দিয়েছিল, যে ওসিসায়েব অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। দু-বার পিঠও চাপড়ে দিয়েছিলেন খুশি হয়ে।


সেটা ওর তীক্ষ্ন পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার জন্যই তো। আর সেই ক্ষমতাটুকু না নিয়ে জন্মালে ওর লুকনো স্বপ্নটাও কখনো পূরণ হত না যে!


ওর এখনকার প্যাসেঞ্জার হলুদ রঙের কুর্তি আর সমুদ্রনীল জিনস পরা একটা মেয়ে। গায়ের রং শ্যামলা, চুলটা চুড়ো করে মাথার পেছনদিকে পনিটেল করা, সেটা দুলছে পিঠের নীচ পর্যন্ত। মাথার ওপরে এঁটে রাখা সানগ্লাস। চোখে মেঘলা দিনের আকাশের মতো ধোঁয়া ধোঁয়া কাজল টানা। ঠোঁটে কী একটা লাগিয়েছে, কোনো রং নেই, কিন্তু মনে হচ্ছে যেন ভেজা।


মে

**********