অমানুষ

অমানুষ

শক্তিপদ রাজগুরু

অমানুষ

Books Pointer Iconশক্তিপদ রাজগুরু
Books Pointer Iconnovel

Change color

—কি রে! ব্যস—এই! কিলিয়ার? যা শ্লা—

মধুসূদন চৌধুরী মুখটা বিকৃত করে খানিকটা ধেনো মদ গলায় ঢেলে কোঁক্ কোঁক্ শব্দে গিলছে। মদ গিললেও তার চোখ রয়েছে ওই দলা-পাকানো নোটগুলোর দিকে।

ওগুলো দেখে আদৌ খুশি হয়নি সে, এটা পানের দোকানদার গদাইও বুঝতে পারে। ওদিকে দোকানের বাঁশের মাচার ওপর বসে আছে পীতাম্বর। মহিম ঘোষালের লোক সে—ওর কাঠগোলাতে কাজ করে। টাকাটা মহিমবাবু তার হাত দিয়েই পাঠায় গদাইয়ের দোকানে। গদাইয়ের মারফত লেনদেন হয় এইখানেই। মহিম ঘোষাল আইনের চোখে একেবারে নিরপরাধ সাধু ব্যক্তি সেজে থাকে। ওই ভেক্‌টা তাকে প্রকাশ্যে নিতে হয়। কারণ, মহিম ঘোষাল এই অঞ্চলের অঞ্চল-প্রধান, মাতব্বর ব্যক্তি। সরকারি মহলে তার দহরম-মহরমের কথা সকলেরই জানা।


—সাধু! শালা খচ্চর কোথাকার! মনে মনে গজরায় মধুসূদন। মদের বোতলটা শেষ করে টাকাগুলো গদাইয়ের হাত থেকে নিয়ে বলে,–এই মাত্তর! মহিম কি সব একাই খাবে নাকি রে!


পীতাম্বর বসেছিল চুপ করে, ও বলে,


—ই খেপে আর বেশি নাকি লাভ হয়নি।


মধু ওর দিকে তাকাল। পীতাম্বরও আজকাল মাতব্বর হয়ে উঠেছে ওই মহিম ঘোষালের সঙ্গে থেকে থেকে।


মধু ওর কথায় অবাক হয়। এককালে পিতে ছিল তাদের কাছারির পাইক, লাঠি হাতে করে নায়েব মহিম ঘোষালের পেছনে পেছনে যেত জাবেদা খাতা বগলে। সেই দিনগুলোর কথা এখনও ভোলেনি মধুসূদন। আজ জমিদারি নেই, টিকে আছে কাছারিবাড়িটা, মেরামতের অভাবে নোনা হাওয়ায় চুন-বালি খসে পড়েছে। ছাদের কার্নিশে গজিয়ে ওঠা বটগাছগুলো আরও ডালপালা মেলে—শিকড়ের বাঁধনে সেই বাড়িখানাকে এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।


আর নায়েব মহিম ঘোষালের নতুন করে কারবার পত্তন করেছে। শাঁসে-জলে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। এখন এখানকার সে-ই অন্যতম মাতব্বর। বাইরের কারবার ছাড়াও অন্ধকারের ফলাও কারবার তার আছে, সেইদিনের জমিদার-বংশধর মধুসূদন আজ ওর সেই অন্ধকারের সঙ্গী হয়েছে


অন্য কোনো পথ না পেয়ে।


তার সেই কারবারের মোটা মুনাফা লোটে ওই সাধু-মহাজন মহিম ঘোষাল, তাতে ফোড়ন কাটে সেদিনের পাইক পীতাম্বর।


মধুসূদনের সারা মন জ্বলে ওঠে কি ব্যর্থতার অপমানে আর বঞ্চনায়, মহিম ঘোষাল তাকে ঠকায়। বোকা ভাবে।


পীতাম্বর বলে,—জমি-পত্তরের তেমন দর নাই কিনা!


মধুসূদন গর্জে ওঠে,


—অ্যাই পিতে! তোকে জ্ঞান দিতে কে বলেছে? বুঝব আমি মহিম ঘোষালের সঙ্গে। তুই ফ্যাচ্ ফ্যাচ্ করবি না।


পীতাম্বর চুপ করে গেল। মধু বলে—উনি ব্যাটা এলেন সর্দারি করতে! যা—


পীতাম্বর রেগে উঠেছে। কিন্তু জানে, ওকে কিছু বলার সাধ্য তার নেই। মধুকে ভয় করে না এ চাকলায় হেন ব্যক্তি নেই। পীতাম্বর রাগটা চেপেই সরে এল। মধুসূদনের মহিমের ওপর রাগ এখুনি তার ওপরই ফেটে পড়তে পারে। গদাইও জানে মধুর এই স্বভাবটাকে। তাই বলে,


—যাও গো পিতুদা, ওসব কথায় কাজ কি!


মধু চুপ করে বসে কী ভাবছে।


রাতের অন্ধকারের সেই কাজগুলোর ছবি ওর চোখে ভেসে ওঠে। দুস্তর গাঙ, রায়মঙ্গল— ছাপাকুপ্রা নদীর বিস্তার আর তুফান পার হয়ে রাতের অন্ধকারে পাকিস্তান থেকে মালপত্তর আনতে হয়। চারদিকে ওদের সাবধানি দৃষ্টি। জল-পুলিশের লঞ্চ ফেরে সন্ধানী আলো ফেলে। আদিম অরণ্য আর সেই তুফান-জাগা গাঙের বুক উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে সেই আলোয়। জানতে পারলে গুলি চালাবে। ঢেউ ফাটছে নদীর বুকে—জল আর জল! সীমা নেই। অতি বড়ো সাহসীরও বুক কেঁপে ওঠে। মধুসূদন সেই গাঙ পাড়ি দিয়ে ওদের চোখে ধুলো দিয়ে হাজার হাজার টাকার মাল আনে মহিম ঘোষালের গদিতে। মধু গজগজ করে,—শালা একাই সব খাবে! এতদিন ধরে খাচ্ছে—এখনও খাবে!


বেলা পড়ে আসছে। হাটের নিচে খালের বুকে আজ নৌকো আর লোকজনের ভিড় নেই। মধু দোকানের মাচায় বসল। কি ভাবছে। শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সামনের দিকে। দু-একটা নৌকো ভেসে চলেছে। ওপারের শস্য-রিক্ত খেতের ধারে দু-চারটে বাড়ি ভেড়ির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এদিকে হাটতলার ঘরগুলোর ওপাশে ধ্বংসপ্রায় কাছারিবাড়ির ওদিকে গাঙের ধারে মহিম ঘোষালের নতুন বাড়িটা চোখে পড়ে।


কাঠগোলা, লম্বা টিনের শেড রোদে চকচকে করছে—যেন মহিম ঘোষালের গৌরবেই ওরা ঝকঝকে হয়ে উঠেছে। আর মধু—ওই বট-অশ্বত্থ গাছ-জড়ানো কাছারিবাড়ির মতোই একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধ্যাত্তোর! মরুক গে মহিম!


কি সব আজে-বাজে কথা ভাবছে সে! নতুন একটা বোতল নিয়ে বসেছে। এলেম আছে, তাই মহিম ব্যাটা মাথা তুলেছে।


মহিম এককালে তাদের কাছারিতেই কাজ করত। মধু তখন ছোটো। ক্রমশ মহিম ঘোষালই টিকে রইল, ছত্রভঙ্গ হয়ে ছিটকে পড়ল চৌধুরী বংশ। মধুসূদন আজ বানে-ভাসা খড়কুটোর মতো আবাদের একটা হাটের ঘাটে পড়ে আছে। কথাটা ভাবলে তার রাগ হয়। মহিম ঘোষাল তার চোখের সামনে কোথায় উঠে গেছে। কারবার—ধানের ব্যাবসা, কাঠের চালানি কারবার তো আছেই, তাছাড়া আরও অনেক অন্ধকারের কারবার আছে। মধুসূদনও সেইসব খবর জানে, নিজেও সামান্য কিছু টাকার জন্য সেইসব অন্ধকারের ব্যাপারে জড়িয়ে আছে। গদাই পানওয়ালা মধুকে চুপ করে বসে থাকতে দেখে একটু ঘাবড়ে যায়। কারণ, এই টাকা পেয়ে মধু যে খুশি হয়নি আদৌ, তা বুঝতে পেরেছে সে। ওকে চটাতে সাহস নেই গদাইয়ের। তাই বোঝাবার চেষ্টা করে,


—টাকাটা নাও মাইরি মধুদা, পরে একদিন বলবে মহিমবাবুকে।


মধু কী ভেবে টাকাটা নিল। গজরায় সে,


—একদিন পেটিকে পেটি ফাঁক করে দোব, সেদিন বুঝবে তোদের ওই পেসিডেন! একা একা সব গেলা বের করে দোব।


মহিমবাবুর তাকে দরকার, তা মধুও জানে। বড়ো গাঙ পাড়ি দিয়ে বাদাবনের দিক থেকে মাল আনা অনেক হাঙ্গামার কাজ, তাদের আবার শহরেও নিয়ে গিয়ে পাচার করে আসতে হয়। এই লোকসান সে উশুল করে নেবে। বিরক্ত হয়ে মধু বলে,


—দে আর একটা বোতল। মেজাজটা খাট্টা হয়ে গেল।


এমন সময় খালের ভেড়ি থেকে নিমাই কনস্টেবলকে নেমে আসতে দেখে গদাই একটু ইতস্তত করে সেই লুকোনো দ্রব্যটি বের করতে। নিমাই কনস্টেবল এমনিতেই কড়াধাতের জবরদস্ত সেপাই। ও এখানকার পুরনো লোক, তাছাড়া কথাগুলোও ওর কেমন ত্যাড়া-বাঁকা। গদাই ওকে ভয় করে। মধু তাড়া করে,


—কই রে, দে? ব্যাটা যেন মহাদেব হয়ে গেল! মাল বার কর।


গদাই ফিসফিস করে গলা নামিয়ে বলে,


—নিমাই দারোগা আসছে যি গো!


নিমাইকে ওরা দারোগা বলে ঠাট্টা করে। অবশ্য নিমাই তাতে বরং খুশিই হয়, রাগে না।


খালের ধারে একটা শিরীষ গাছের ছায়া পড়েছে পড়ন্ত বেলায়। হাটতলা আজ ফাঁকা। সপ্তাহের দুটো দিন আবাদের এই হাটতলা জমজমাট হয়ে ওঠে লোকজন পসারির ভিড়ে। দূর-দূরান্তর থেকে ডিঙি বেয়ে পসারি আর খদ্দেরের দল এসে হাজির হয়।


আজ সেখানে লোকজন বিশেষ নেই। ভেড়ি বাঁধের নিচে সারবন্দি দরমার চালাগুলো ফাঁকা পড়ে আছে, দু-চারটে দোকান—তাতেও আজ খদ্দেরের ভিড় নেই। পারঘাটের যাত্রীর ভিড়ও কম। সব কেমন ছুটি ছুটির মতো লাগে।


নিমাইকে আসতে দেখে মধু বলে,


—ছুঁচোর গোলাম চামচিকে। যেমন তোর দারোগা আর তেমনি ওই নিমাই! দে তো বোতলটা। একটি কথা বললে ওটাকেও খালের জলে চুবিয়ে দোব। বড়ো বাড় বেড়েছে ওর।


অবশ্য মধুর পক্ষে ওসব কাজ অতি সোজা। গদাই তাই ঝঞ্ঝাট আর না বাড়াবার জন্যই বোতলটা বের করে দিল।


না দিয়ে উপায় নেই। ওদিকে নিমাইও এগিয়ে আসছে।


তাই গদাই বলে,


—একটু সামলে নাও মধুদা। নিমাই দারোগার শকুনের চোখ, বুঝলা?


গদাই সাবধানি লোক, তাই সবদিক দেখে-শুনে কাজ করে সে। মধু চটেই ছিল। তার রাগ সকলেরই ওপর। একদিন তার সামনে এখনকার রূপটা ছিল স্বতন্ত্র। শান্তি ছিল, শুদ্ধতা ছিল আর প্রাচুর্য ছিল। মধুসূদন সেদিন ভাবেনি দিনগুলো এত তাড়াতাড়ি বদলে যাবে, আর মানুষ এত লোভী হয়ে উঠবে। মহিম ঘোষালও বদলে গেছে, মায় ওই পাইক পীতাম্বরও আজ তাকে কথা শোনায়।


দেখেছে মধুসূদন চারিদিকে মানুষের লোভ আর নীচতা। সে কাউকে ঠকাতে চায়নি। কিন্তু সকলেই তাকে ঠকিয়েছে। ওই মহিম, বসিরহাটের অফিসের বাবুরা, হাটের মহাজন অনেকেই তাকে ঠকায়। আজও ঠকেই চলেছে সে। তাই মনে মনে সে কোথায় কঠিন আর বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে।


মধু বলে—হ্যাঁ, সবাই সব করেছে, বাকি আছে নিমে! ঠাণ্ডা করে দোব ব্যাটাকে এইবার। এ্যাই পদা—মাছ পেলি?


পদা কাদা মেখে ভূত হয়ে নেমে আসছে ডিঙি থেকে। লম্বা টিকটিকে চেহারা, আর কালো কুচকুচে গায়ের বর্ণ; চোখ-দুটো পিটপিট করছে পদার। মধুসূদনের ও নিত্যসঙ্গী। পদাও ধনেখালির অন্যতম হতভাগ্য একটি জীব। পদার নজর মধুর হাতের বোতলটার দিকে।


জোয়ারের সময় সরু খালগুলো জল ঠেলে ওঠে, তারই মধ্যে বেড়াজাল পেতে রাখে, ভাঁটার টানে জল নেমে যায়। পলিকাদার ওপর পড়ে থাকে পারশে, ভাঁওন, ভেটকির বাচ্চাগুলো।


পদা মাছের পেছনেই ছিল এতক্ষণ। ওই বস্তু দেখে বলে,


—একটু পেসাদ দেবে না গুরু? কাদায় জলে গা-হাত-পা কালিয়ে গেল মাইরি!


মধুর মেজাজ ভালো নেই। পদাও ছিল দলে। ওর হাতে কয়েকটা ময়লা নোট দিয়ে বলে,


—কিনে নে গা! বুঝলি, মহিমটা বড্ড ফাঁকি দিল।


পদা যা পায় তাতেই খুশি। ওরা কিছু করার জন্যই রাত-বিরেতে গাঙ পাড়ি দেয়। বিপদ সম্বন্ধে চেতনা-ভাবনাও নেই। তবু বলে সে,


—ও তো দেবেই গুরু। তাই বলি, টানা মালের কারবারে নিজেই নেমে যাও দুগ্‌গা বলে। ফাঁক থেকে মহিমকে পুজো দেওয়া কেন?


মধু জানে, মহিমকে চটানো নিরাপদ হবে না, বিশেষ করে এইসব কাজে। তাকেই পুলিশে ধরিয়ে দেবে! দিয়েছেও এর আগে। তাই মহিমের সব অত্যাচার সে বাধ্য হয়েই সহ্য করছে। কিন্তু জবাব সে দেবে একদিন। মহিমের জন্যই পদে পদে ঠকেছে মধু। ভেড়ির ঠিকাদারি করতে গিয়ে মহিমের কাছে ও ঠকেছে। নেশাটা ছুটে আসছে। গলা ভেজানো দরকার। তাই বলে পদাকে,


—মাছগুলো নিয়ে আয়। আর নে—টাকা নিয়ে যা। একটা ভালো বোতল আনবি। পদা দৌড়োল ভেড়ির ওপাশে বসতির দিকে।


গদাই মধুকে দেখছে। ওর চোখ-মুখের ভাব বদলে গেছে। অনেকদিন ধরেই দেখছে গদাই ওই মধুসূদনকে। তখন ওকে সবাই ডাকত মধুবাবু বলে।


তখনও কাছারির বোলবোলাও যাই-যাই করেও রয়ে গেছে বেশ। গদাইকে ওরাই হাটতলার ধারে এই গাঙের ঘাটের মুখে জায়গাটা দিয়েছিল। এইখানে দোকান, ঘর-বাড়ি ফেঁদে বসেছে গদাই লঞ্চঘাটের ওপরেই।


সেদিন মহিম ঘোষাল গুছিয়ে নিচ্ছে। মধুসুদন তখন সবে কৈশোর ছড়িয়ে যৌবনে পা দোব-দোব করছে। বলিষ্ঠ সুন্দর চেহারা। মাঝে মাঝে নৌকো নিয়ে খালের বুকে বেড়াতে যেত। হাটতলায় ঘুরে বেড়াত কাঁচি ধুতি, গিলে করা পাঞ্জাবি পরে। কোনো বেচাল দেখলে হাত চালাতেও দ্বিধা করত না সে। ছেলেবেলা থেকেই গোঁয়ার দুর্দান্ত।


মহিম ঘোষালই ওকে মদ ধরায়, আর সেই মদ ধরানোর দরকার ছিল তারই। এক-একটা লাট বেনামি করে নিয়েছে। আর যা জমিজিরেত ছিল এখানে-ওখানে, বাকি খাজনার দায়ে নিলাম করিয়ে নিজের নামে ডেকে নিয়েছে। মধু তখন হাওয়ায় উড়ছে। খালের বুকে পানসি ভাসিয়ে মদ গিলে ঘুরে বেড়ায়, বাদাবনে শিকারে যায়।


হঠাৎ সব তলিয়ে গেল কোনদিকে।


আজ মধুর নিজের বলতে সামান্য কিছু ধানি জমি আর দুটো পুকুর টিকে আছে। আর ওই ভাঙা কাছারিবাড়িটা। মহিম নায়েব আজ ধাপে ধাপে কোথায় উঠেছে।


মহিমের বাংলো থেকে রেডিওর সুর ভেসে আসে। ঝকঝকে রং-করা বাংলো। কয়েকটা ঝাউগাছ সবুজ স্নিগ্ধতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ওদিকে ধানকলের চিমনি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আকাশছোঁয়া চিমনিটা ওই মহিম ঘোষালের জয়ের প্রতীক।


গদাই মধুকে দেখে তাই দুঃখবোধ করে। আজ ভদ্রঘরের, জমিদার-বংশের ছেলে হয়ে সে করল না কিছুই মন দিয়ে।


গদাই বলে,—জানো যদি মহিমবাবু এমনিই লোক, ওসব রাতের কারবারে থাকো কেন মধুবাবু? বিপদের কা

**********