
নীলাম্বরের খিদে
দেবারতি মুখোপাধ্যায়
উৎসর্গ
ঐতিহ্য,
সবে আটমাস হল তুমি এই সুন্দর পৃথিবীতে এসেছ।
এখনও এই লেখাগুলো পড়ার মতো বড়ো তুমি হওনি, সোনা।
তুমি এখনও দাঁড়াতেই শেখোনি, আমার হাত দুটো ধরে
টলমল করো আর বড়ো বড়ো চোখ দুটো মেলে হাসো।
কিন্তু তুমি যখন বড়ো হবে, তখন প্রচুর গল্পের বই পড়বে।
মায়ের এই গল্পগুলোও তখনই পড়ো
আমি অপেক্ষা করব।
.
ভূমিকা
‘ছেলেভুলানো ছড়া’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘ভালো করিয়া দেখিতে গেলে শিশুর মতো পুরাতন আর কিছুই নাই। দেশ কাল শিক্ষা প্রথম অনুসারে বয়স্ক মানবের কত নতুন পরিবর্তন হইয়াছে, কিন্তু শিশু শতসহস্র বছর পূর্বে যেমন ছিল আজও তেমনি আছে।’ এই ‘অপরিবর্তনীয়’ প্রকৃতির কারণটি চিহ্নিত করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, ‘শিশু প্রকৃতির সৃজন। কিন্তু বয়স্ক মানুষ বহুল পরিমাণে মানুষের নিজকৃত রচনা।’
চার বা পাঁচ থেকে আট, বড়োজোর ন—বছর বয়সি মানুষদের আমরা ‘শিশু’ বলে মানি। তাদের জন্য রচিত সাহিত্যের মধ্যে সেজন্যই একটা শাশ্বত ঔজ্জ্বল্য থেকে যায়, যাতে নীতি, মূল্যবোধ, আনন্দ—এমন জিনিসগুলোর উপস্থিতি বেশি করে দেখা যায়।
কিন্তু সারল্যের সেই লক্ষ্মণরেখা পেরিয়ে বাইরের বড়ো, অনেকটাই কালো পৃথিবীতে যারা পা দিয়েছে, সেই কিশোরদের জন্য কেমন সাহিত্য রচিত হয়? কেতকী কুশারী ডাইসন—এর ভাষা ধার নিলে বলতে হয়, তাদের জন্য লিখতে গিয়ে সাহিত্যিক ইচ্ছে থাকলেও আর ‘সংস অফ ইনোসেন্স’ রচনা করতে পারেন না। তাঁর হাতে জন্ম নেয় ‘সংস অফ এক্সপিরিয়েন্স।’
এই বইয়ের তিনটি লেখাও তার ব্যতিক্রম নয়।
দেবারতি মুখোপাধ্যায় শুধুই এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যিকদের একজন নন। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে পাঠকদের কাছে পৌঁছে যাওয়া, নতুন পাঠকদের খুঁজে নেওয়া, রহস্যকাহিনির ধারায় নুতন এক অভিমুখ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা, অবলীলায় সাহিত্যের নানাধারায় বিচরণ, অভিনব প্লট পরিশ্রমলব্ধ লেখনি—এমন নানা কারণে সমকাল তাঁকে একটু আলাদা চোখে দেখে। হয়তো সেজন্যই তাঁর লেখার ভালোমন্দ বিচারের জন্য প্রযুক্ত হয় অন্যরকম মানদণ্ড।
এই ভৌতিক সংকলনে রয়েছে তিনটি কাহিনি। প্রথমটি উপন্যাস, নাম ‘নীলাম্বরের খিদে’। প্রথম প্রকাশ ‘শারদীয়া শুকতারা ২০১৯’—এ। দ্বিতীয় উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ‘শারদীয়া মায়াকানন ২০১৯’—এ। এবং সর্বশেষ বড়োগল্পটির প্রথম প্রকাশ ‘শারদীয়া কিশোরভারতী ২০১৯’—এ। তিনটি লেখাই প্রকাশের পর পাঠকের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত হয়।
শিশু সাহিত্যের আঙিনাতে দেবারতি—র পদসঞ্চার প্রথম থেকেই পাঠকের কাছে আকর্ষণ ও কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছিল। তাঁর এই বইয়ের তিনটি লেখা উদ্দিষ্ট পাঠক মূলত কিশোর—কিশোরীরা।
তাদের জন্য লিখতে বসেও তিনি স্বকীয়তা দেখিয়েছেন। কোনো গল্পে চিরাচরিত হ্যাপি—এন্ডিং—এর তোয়াক্কা না করে ঘটনাক্রম এগিয়ে গেছে অমোঘ, অলঙ্ঘ্য এক অন্ধকারের দিকে।
কোথাও অতীত অপরাধের দীর্ঘ ছায়ায় প্রথমে কালো, তারপরে ঘোর লাল হয়ে উঠেছে বর্তমান।
আবার কোথাও ব্যথিত ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস বদলে গেছে অঙ্কের আলোয়, যা দেখিয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ।
স্বল্প পরিসরে, অল্প কথায় দেবারতি আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন তাঁর ভুবনটিকে। সেখানে দুঃখ আছে, মৃত্যুও আছে। আছে হারানোর যন্ত্রণা আর ভয়। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে উঠে এসেছে সত্য।
একঝলকের জন্য হলেও ওই শব্দ—বাক্য—সংলাপের মধ্য থেকে জেগে উঠেছে গল্পের অনন্ত।
তার সন্ধান পাওয়ার জন্য আপনাকে আর অপেক্ষা করতে হবে না। পাতা ওলটান— ব্যস!
ঋজু গাঙ্গুলী
নীলাম্বরের খিদে
লোকটা দিব্যি উবু হয়ে বসে চায়ের পেয়ালায় সুড়ুত সুড়ুত করে চুমুক দিচ্ছিল, হঠাৎ আমার প্রশ্নে চোখদুটো তুলে তাকাল।
আমি লক্ষ করলাম ওর সামনের দাঁতদুটো স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই যেন বড়, ঠোঁটদুটো ফাঁক করলেই সেদুটো চোয়ালের দুদিক থেকে একরকম আগ বাড়িয়ে বেরিয়ে আসছে।
লোকটা কিছুক্ষণ সেভাবেই নিঃশব্দে হাসল, তারপর কেমন ঘ্যাসঘেসে গলায় খাঁটি বাংলাদেশি টানে বলল, ”রাজামশাই যে এখনও এইসব দেখছেন না, কী করে জানলেন কর্তা আপনি?”
আমি অস্বস্তিটা দূরে ঠেলে দিয়ে হেসে বললাম, ”হে হে, সেই আর কী! ইতিহাস তো এভাবেই চাপা পড়ে যায়, সাক্ষী থাকে পুরনো ইট,কাঠ, পাথর। ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে …!”
লোকটা আমাকে মাঝপথেই থামিয়ে দিল, আশপাশ একবার তাকিয়ে নিয়ে একনাগাড়ে বেজে যাওয়া সাপের বীণের মত অদ্ভুত ঝিমধরানো লয়ে বলল, ”ইতিহাস নয় কত্তা, জ্যান্ত মানুষ!”
মানুষ কথাটার শেষটা এমন একটা সাপের মত হিসহিস টান দিয়ে শেষ করল লোকটা, যে আমি এরপর আর কী বলব বুঝতে না পেরে ওর দিকে তাকালাম।
বেশভূষা দেখে একটু ছিটগ্রস্থ মনে হচ্ছে, কিন্তু তা অভাবের তাড়নাতেও হতে পারে ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন ভাবলাম, যেচে বাড়িতে ডেকে আনলাম, মাথার গোলমাল টোলমাল নেই তো?
এমনিতে লোকটাকে মাঝেমধ্যেই আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যেতে দেখতাম। একমুখ খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি, কোটরের অনেকটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া দুটো ঘোলাটে চোখ। অপরিচ্ছন্ন ঠোঁট, লম্বাটে গোলাকার মাথায় কেমন ধু ধু মরুভূমির বুকে দু-একটি পাতাবিহীন গাছের মত কয়েকগাছি কেশ তালগাছের মত খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
কিছু মানুষকে দেখলেই মনে হয় এ নামেমাত্র বেঁচে আছে, আসলে ভেতরে ভেতরে মরে গেছে অনেকদিন। এই লোকটাও যেন তেমনই। বারান্দা থেকে লক্ষ করতাম, সামান্য কুঁজো হয়ে লোকটা যখন হাঁটে, চোখের ভেতরের ধূসর নেত্রবলয়দুটো দিকশুন্য মরা মাছের মত তাকিয়ে থাকে সামনের দিকে। কয়েক পা করে হেঁটেই কুকুরের মত জিভ বের করে হাঁপায়। তারপর আমার বাড়ির দিকে একবার আলগোছে তাকিয়েই আবার হাঁটতে শুরু করে।
সেই তাকানোর মধ্যে অবশ্য সন্দেহের কিছু ছিলনা, আমার ভাড়া নেওয়া এই বাড়িটা গ্রামের একদম শেষপ্রান্তে, কাছেপিঠে কোন গৃহস্থ আবাস নেই। তাই রাস্তা দিয়ে চলার সময় কৌতূহলে এদিকে তাকানো কোন পথচারীর পক্ষে খুব স্বাভাবিক। তাছাড়া গ্রামের লোকেদের কৌতূহল একটু বেশিই হয়, খেয়াল করে দেখেছি।
লোকটাকে সাধারণত দেখতাম সকালবেলা, ন’টা দশটা নাগাদ। আর যখনই দেখতাম, ঊর্ধ্বাঙ্গে কোন পোশাক থাকতনা। নিম্নাঙ্গে শুধুমাত্র পাতলা সুতির একটা লুঙ্গি পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে পরা। পা-দুটো ভেজা, কপালে লম্বা সিঁদুরের একখানা তিলক। কাঁধের একদিক থেকে ঝোলে শতচ্ছিন্ন ভিজে গামছা।
দেখলেই মনে হয় কাছের কোন পুকুর থেকে স্নান সেরে ফিরছে। তিলক দেখে পুজোর কথাও মনে হয়। আমার বাড়ি শেষ হতেই ওদিকে শুরু হয়ে যাচ্ছে পরিত্যক্ত অরণ্য। সেখানে যে শুধুই আগাছা এবং বড়বড় গাছপালা রয়েছে তাই নয়, হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় করে খুঁজলে পুরাকালের কিছু ইট বা ভাঙা দুর্গের ধ্বংসাবশেষও চোখে পড়বে।
আর চোখে পড়বে অজস্র ছোট বড় পুকুর। কোনোটা মজে গিয়েছে, কোনোটায় এখনও জল টলটল করছে।
এখানে এসেছি ঠিক একসপ্তাহ হল। তবে এরমধ্যেই আমার কাজ বলতে গেলে পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। সকালে জলখাবার সেরে বেরিয়ে পড়ি, হাঁটা দিই সাইটের দিকে। সেখানে কুড়িজন স্থানীয় লোক নিয়ে আপাতত পরিষ্কার করার কাজ চলছে। ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে তাদের তদারক করি। কাজ শেষে যখন বাড়ি ফিরি, তখনও ব্যস্ততা থেকে রেহাই নেই, হেড অফিসের সঙ্গে ল্যাপটপে ইমেল চালাচালি চলে ঘনঘন। দুই দেশের যৌথ কাজ বলে কথা, আলোচনা হয় গোটা প্রজেক্টটার প্ল্যান, প্রোগ্রেস, বাজেট নিয়ে।
সকালে বেরনোর আগে যখন বাড়ির সামনের খোলা রোয়াকে একটু আয়েশ করে বসতে আসি, তখনই রোজ লোকটাকে খেয়াল করি। আশ্বিন মাস শেষ হতে চলেছে, শীত এখনও উঁকি না দিলেও বাতাসে ঠাণ্ডা ঝলক মাঝেমধ্যেই শিরদাঁড়ায় কাঁপুনি ধরায়।
সেখানে এই লোকটার কী শীতও করেনা?
আজ শুক্রবার, জুম্মাবার বলে এই তল্লাটে আজ সব ছুটি রয়েছে, শ্রমিকেরা কেউ কাজ করবে না। কাজেই আমারও ছুটি। গায়ে পাতলা একটা চাদর জড়িয়ে এসে বসেছিলাম বাইরের রোয়াকে। আমার চারবছরের পুরনো ভৃত্য ইকবাল বেশ বড় একখানা মাগ ভর্তি কফি দিয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে একগোছা স্যান্ডউইচ। আলু, গাজর এবং আরো নানারকম সবজী দিয়ে বানানো। স্যান্ডউইচে এক কামড় করে দিচ্ছিলাম আর উপভোগ করছিলাম বাইরের প্রকৃতিকে। শীতের আগমন না হতেই চারপাশের গাছগাছালিতে কেমন একটা ধূসর রঙ লেগেছে, দূরে পাখির কলতান শোনা যাচ্ছে বেশ জোরে। দেখতে দেখতে আমার ছোটবেলায় বড় হয়ে ওঠা বীরভূমের সেই গ্রামের কথাই মনে পড়ে যাচ্ছিল বারবার।
সত্যি, দেশ আলাদা হতে পারে, মানুষ দেশ ভেঙে দু-টুকরো করতে পারে, কিন্তু প্রকৃতি সেকথা শুনবে কেন? সে তো সবজায়গাতেই চিরন্তন, অবিনশ্বর।
এইসব যখন দার্শনিক কথা মনে মনে ভাবছি, ঠিক তখনই পেছনের জঙ্গলের দিক থেকে খকখক করে কাশতে কাশতে আসতে দেখেছিলাম লোকটাকে। বসে বসে একঘেয়ে লাগছিল, তাই ভাবলাম সেভাবে তো কারুর সঙ্গে এখানে পরিচয় হয়নি, এর সাথেই একটু আলাপ করা যাক।
কিন্তু এখন দেখছি কাজটা আহাম্মকের মতই করেছি। লোকটা নেহাতই বাজে বকে।
এটা বাংলাদেশের একটা প্রত্যন্ত গ্রাম। আমি ভারত সরকারের পুরাতত্ত্ব বিভাগের একজন আরকিওলজিস্ট। আমার আসল কাজের জায়গা হল কুচবিহারের দিনহাটা মহকুমার গোঁসানিমারি গ্রাম। গোঁসানিমারি গ্রামে প্রাচীন কামতা সাম্রাজ্যের প্রচুর ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। তখন অবশ্য সেই অঞ্চলের নামও ছিল কামতাপুর। ত্রয়োদশ শতকে পাল বংশের পতনের পর কামরূপ অর্থাৎ এখনকার আসামের কিছু অংশ, বাংলাদেশের উত্তরভাগ ও কুচবিহার দিনাজপুরের কিছুটা নিয়ে গড়ে উঠেছিল কামতা সাম্রাজ্য। বেশ কয়েকশো বছর ছিল এই সাম্রাজ্যের দাপট, তারপর বাংলার গৌড়ের সুলতান হুসেইন শাহ এসে গোটা সাম্রাজ্যকেই ধ্বংস করে দেন।
কুচবিহারের গোঁসানিমারি গ্রামে এখনও ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে কামতা সাম্রাজ্যের অনেক দুর্গ, রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ। ভারত সরকার গোটা অঞ্চলটাকেই এখন আরকিওলজিক্যাল সাইটে পরিণত করেছেন। সেখানেই গত চারবছর ধরে পোস্টেড ছিলাম আমি।
কিন্তু সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কামতা সাম্রাজ্যের যে অঞ্চলগুলো বর্তমানে বাংলাদেশে পড়ছে, সেখানেও অনুসন্ধানকার্য চালানো হবে। যেহেতু আমাদের মত ভারতীয় আরকিওলজিস্টদের কামতা সাইটগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই অভিজ্ঞতা রয়েছে, আমাদের কিছুজনকে বেছে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য। বাংলাদেশের আরকিওলজিস্টরাও অবশ্য আমাদের সাহায্য করবেন।
আমার ভাগ্যে পড়েছে কামতা সাম্রাজ্যের শেষ রাজা নীলাম্বরের দুর্গ, বসতভিটে ইত্যাদি। এগুলো সবই এখন বাংলাদেশে। বাংলাদেশের একেবারে উত্তরদিকে রংপুর নামে একটি জেলা রয়েছে, আমাদের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারের দিনহাটা থেকে সেই রংপুর মোটে ঘন্টা তিনেকের পথ। সেই রংপুর জেলারই পীরগঞ্জ উপজেলার এক গ্রামে এখন রয়েছি আমরা।
আমরা বলতে আমি, আমার আটবছরের মেয়ে নূপুর, ওকে সর্বক্ষণ দেখভাল করা বাসন্তীদি, আমার চাকর ইকবাল। আর রয়েছে মুকুন্দ। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এদেশীয় লোক হিসাবে মুকুন্দকে দেওয়া হয়েছে আমার সঙ্গে, যে এক্সক্যাভেশন চলার সময় স্থানীয় মানুষের মদত নিতে সাহায্য করবে, শ্রমিক জোগান দেবে আর আমার থাকার ব্যবস্থা করবে।
মুকুন্দ এদিককারই ছেলে, পুরাতত্ত্বের ওপর একটা সার্টিফিকেট কোর্স করে সে এখন রাজধানী ঢাকা শহরে পুরাবিভাগে কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে কাজ করে। ছেলেটা বেশ করিৎকর্মা, আমার ভারতীয় টাকা বাংলাদেশী মুদ্রায় ভাঙানো থেকে শুরু করে মোবাইলের নতুন কানেকশনের ব্যবস্থা, সব প্রথম দিনেই ঝটপট করে ফেলেছে।
গ্রামের এককোণে এই বাড়িটা তালাবন্ধ অবস্থায় পড়েছিল, বাড়িওয়ালা থাকে রংপুর শহরে। মুকুন্দই সব যোগাযোগ করে বাড়িটা ভাড়া নিতে সাহায্য করেছে। তবে অনেকবার বলা সত্ত্বেও সে নিজে আমাদের সঙ্গে থাকছেনা, এই বাড়ি থেকে মিনি