
উৎপীড়িতের প্রতিহিংসা – দীনেন্...
রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়
উৎপীড়িতের প্রতিহিংসা – দীনেন্দ্রকুমার রায়
| রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় | |
| horror |
Posted byপ্রিয়া দেব18-Aug-2025
Change color
১
সিপাহী-বিদ্রোহ তখন শেষ হইয়াছে। ইংরেজের প্রবল পরাক্রমে আত্মরক্ষায় অসমর্থ হইয়া বিদ্রোহীগণ শান্তভাব অবলম্বন করিয়াছে। কিন্তু ইংরেজের ক্রোধবহ্নি তখনও নির্বাপিত হয় নাই। অস্ত্রধারী সিপাহী-দেখিলেই ইংরেজ সৈনিকগণ তাহাদিগকে ধরিয়া আগুনে পোড়াইয়া মারিতেছে, কিংবা গাছে লটকাইয়া সঙ্গীনের আঘাতে উদর-বিদারণ-পূর্বক নিদারুণ প্রতিশোধ-পিপাসা প্রশমিত করিতেছে।
সিপাহী বিদ্রোহের বিভীষিকা তখনও দূর হয় নাই। এক একদিন এক-একটা নতুন হুজুগ উঠিয়া রণশ্রান্ত ইংরেজ-সৈনিকগণের হৃৎঙ্কম্প উপস্থিত করিতে লাগিল। এই সকল হুজুগ হয়তো সর্বৈব মিথ্যা। কিন্তু একদিনের হুজুগে আর কাহারও সন্দেহ রহিল না। একদিন সকালে জনরব উঠিল, —ছত্রভঙ্গ সিপাহীরা আবার জোট বাঁধিতেছে, টুপিওয়ালার গোঁফে আগুন লাগাইয়া দিবে, বেরেলী বিদ্রোহী সিপাহীদিগের প্রধান আড্ডা হইয়াছে। এই জনরব প্রচারের পর একদিন বেরেলীর ইংরেজ-দুর্গ হইতে আধ ডজন বন্দুক চুরি গেল। সকলে বুঝিল, ইহা নিরস্ত্র সিপাহীদিগেরই কাজ।
চারিদিকে হুলুস্থূল পড়িয়া গেল। ইংরেজ-সেনাপতির আদেশে বেরেলী দুর্গ হইতে দলে দলে অশ্বারোহী সৈন্য বন্দুকচোর সিপাহীদিগের সন্ধানে ছুটিল। কিন্তু চোর ধরা পড়িল না, তথাপি নিদোষ ব্যক্তিগণ চৌর্যাভিযোগে দণ্ডিত হইতে লাগিল। যিনি ফরিয়াদী, তিনিই বিচারক, সাক্ষী ইংরেজসৈন্য; অপরাধ সপ্রমাণ ও অপরাধীর প্রতি দণ্ডদান উভয়ই সমান উৎসাহের সহিত চলিতে লাগিল।
কিন্তু ইহাতে চুরির হ্রাস হইল না। বন্দুকচুরির সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। ক্রমে তাহা চতুর্দিকে সংক্রামিত হইয়া পড়িল, ইংরেজের উৎকণ্ঠার সীমা রহিল না। শেষে সেনাপতিগণ মন্ত্রণা করিয়া এক মিলিটারী কমিশন বসাইলেন। তাহার সভ্যসংখ্যা দশজন। কমিশনের সভাপতির প্রতি অপরাধীগণের সরাসরি বিচার করিয়া দণ্ডদানের ক্ষমতা প্রদত্ত হইল। এই সভাপতি মহাশয়ের নাম কাপ্তেন থরন্টন্।
১৮৫৮ খ্রীষ্টাব্দের জুলাই মাসের মধ্যভাগে একদিন অপরাহ্নে কাপ্তেন থরন্টন্ অশ্বারোহণে বায়ুসেবনার্থে সেনানিবাস হইতে বহির্গত হইবেন, এমন সময় একজন এডজুটান্ট একখানি আদেশপত্র তাঁহার স্বাক্ষরের জন্য লইয়া আসিল। মিঃ থরন্টন্ অশ্বগতি সংযত করিয়া তাঁহার সহকারী এডজুটান্টকে জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘এ কি?’
‘আবদুল গফুর নামক একজন মুসলমান সিপাহীর কোতলের পরওয়ানা। একজন সারজেন্ট তাহাকে পাহাড়ের উপর গ্রেপ্তার করিয়াছে।’
‘আসামীর জবাব কি?’
‘কোম্পানীর সৈন্য দেখিয়া সে তাহার হাতের বন্দুক তাড়াতাড়ি পাহাড়ের এক গুহার মধ্যে ফেলিয়া দিয়াছে। আসামী বলে, সে তাহার ভাই আবদুল আব্বাসের সঙ্গে দেখা করিতে যাইতেছে, তাহার কোন কু-মতলব নাই। আবদুল আব্বাস পাঞ্জাবে সওদাগরী করে, আজ কয়েকদিন এদেশে আসিয়াছে। আসামী আবদুল গফুরের এ কথায় বিশ্বাস করা যায় না। সে সরকারের বন্দুক চুরি করিয়া বিদ্রোহীদিগের সাহায্যের জন্য যাইতেছিল। তাহার প্রাণদণ্ড হওয়া উচিত।’— এই বলিয়া এডজুটান্ট নীরব হইল।
‘ঠিক কথা। বদমায়েসকে গুলি করিয়া পশুর মত হত্যা কর।’ কাপ্তেন অশ্বপৃষ্ঠ হইতেই অকম্পিতহস্তে হত্যার আদেশ লিপিবদ্ধ করিলেন।
অবিলম্বে এই আদেশ নির্বিঘ্নে প্রতিপালিত হইল।
২
যাহাদিগের চক্ষুর উপর এই হত্যা ব্যাপার সংসাধিত হইল, তাহাদের মধ্যে আবদুল গফুরের ভ্রাতা আবদুল আব্বাস একজন দর্শক ছিল। নীরবে সে তাহার ভ্রাতার শোচনীয় হত্যা সন্দর্শন করিল। তাহার শোকসন্তাপবিদ্ধ হৃদয়ের সমস্ত প্রবৃত্তি উজ্জ্বল হইয়া তাহার হৃৎপিণ্ডকে সবলে বিদলিত করিতে লাগিল, তাহার অশ্রুহীন চক্ষে প্রতিহিংসার অনল প্রজ্বলিত হইয়া উঠিল।
আবদুল আব্বাস তাহার ভ্রাতার গৃহে প্রবেশ করিয়া দেখিল, তাহার বিধবা ভ্রাতৃবধূ ধরাতলে পড়িয়া অশ্রুধারায় মৃত্তিকা সিক্ত করিতেছে, শিশুপুত্র দুইটি তাহাদের মায়ের কোলের কাছে পড়িয়া মাটিতে লুটাইতেছে। আবদুল দেখিয়া আত্মসম্বরণ করিতে পারিল না। এই অত্যাচারের প্রতিশোধ দানের জন্য ভীষণ প্রতিজ্ঞা করিয়া বসিল। গৃহে একটা পিস্তল ঝুলিতেছিল—পিস্তলটি কিছু পুরাতন ও মরিচা-ধরা। সেই পিস্তলে কাপ্তেনের প্রাণবধের জন্য সে কৃতসঙ্কল্প হইল।
ঠিক এই সময়ে একজন হিন্দু সন্ন্যাসী আবদুল গফুরের কুটীরে প্রবেশ করিলেন। সন্ন্যাসী প্রাচীন কিন্তু তাঁহাকে দেখিয়াই বুঝিতে পারা যায়, তাঁহার দেহে যুবজনোচিত সামর্থ্য বর্তমান। সন্ন্যাসীর নাম কি, তাহা কেহ জানিত না। কিন্তু হিন্দু-মুসলমান সকলেই তাঁহাকে সমভাবে ভক্তি করিত। মুসলমানেরা তাঁহাকে ফকির সাহেব বলিয়া ডাকিত, হিন্দুরা বলিত—স্বামীজি। কোম্পানীর নফরেরা তাঁহাকে কোন বিদ্রোহপরায়ণ ক্ষত্রিয়রাজার ‘পলিটিক্যাল স্পাই’ মনে করিয়া তাঁহার প্রতি তীব্র দৃষ্টি রাখিয়াছিল। কিন্তু কোন বিষয়েই তাঁহার ভ্রূক্ষেপ ছিল না। সংসারের সুখদুঃখ ও জাতিভেদের গণ্ডীর অনেক ঊর্ধ্বে তিনি বিচরণ করিতেন।
সন্ন্যাসী একবার তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে ভূম্যবলুষ্ঠিতা বিধবা ও তাহার রুদ্যমান সন্তানদ্বয়ের দিকে চাহিলেন। তাহার পর আবদুল আব্বাসকে আহ্বান করিয়া বলিলেন, ‘আব্বাস মিঞা, প্রতিহিংসার জন্য প্রস্তুত হইতেছ?’
আবদুল আব্বাস অবিচলিতভাবে বলিল, ‘যাহারা আমার নিরপরাধ ভ্রাতাকে অবিচারে হত্যা করিয়াছে, তাহাদের স্বহস্তে বধ করিয়া ভ্রাতৃশোক নিবারণ করিব। প্রাণ যায়, তাহাও স্বীকার।’ সে অবিচলিত উৎসাহের সহিত বন্দুক ঘষিতে লাগিল।
সন্ন্যাসী বলিলেন, ‘বৎস, শান্ত হও। অত্যাচারের দণ্ডবিধানের কতা স্বয়ং ভগবান, তোমরা যাহাকে খোদা বল, তিনিই। প্রতিদিন প্রচুর রক্তস্রোত প্রবাহিত হইতেছে, তুমি আর সে স্রোতের বৃদ্ধি করিও না। পরমেশ্বর তাঁহার কাজ করিবেন, অনুতাপে পাপীর হৃদয় দগ্ধ হইবে। রক্তপাত করিয়া আর তুমি তাহার অপেক্ষা কি অধিক দণ্ড বিধান করিবে।’
আবদুল আব্বাস দৃঢ়হস্তে বন্দুক চাপিয়া ধরিয়া সন্ন্যাসীর মুখের উপর স্থির দৃষ্টি সংস্থাপন পূর্বক বলিল, ‘ফকির সাহেব, আপনি হিন্দু, তাই হিন্দুর মত পরামর্শ দিয়াছেন। কাফেরের প্রাণবধেই মুসলমানের পরম পুণ্য, তাহাই মুসলমানের পরম ধর্ম। আমি সেই ধর্ম পালন করিব, আপনি বাধা দিবেন না।’
সন্ন্যাসী বলিলেন, ‘আব্বাস মিঞা, তোমার এই ক্রোধের জন্য আমি তোমাকে অপরাধী করিতে পারি না। কিন্তু হিন্দু-মুসলমান সকল ধর্মের উপর এক ধর্ম আছে তাহা পরমেশ্বরের হস্তে আত্মসমর্পণ। আমি নিশ্চয়ই বলিতে পারি, তুমি এই হিন্দু সন্ন্যাসীর অনুরোধ রক্ষা করিলে কখনো কর্তব্যচ্যুত হইবে না। আমি কাহাকেও কখনো অন্যায় অনুরোধ করি নাই।’
আব্বাস মিঞা বন্দুক হাতে করিয়া কতক্ষণ কি ভাবিল, তাহার পর বলিল, ‘আমরা সকলে আপনাকে পীরের ন্যায় মান্য করি, কখনো আপনার অবাধ্য হই নাই, আজও হইব না। প্রতিজ্ঞা করিলাম, এ হস্ত শত্রু-শোণিতপাতে বিরত হইবে। কিন্তু প্রতিশোধস্পৃহায় হৃদয় জ্বলিয়া যাইতেছে। কতদিনে এ অন্যায় অত্যাচারের প্রতিফল প্রদত্ত হইবে?’
সন্ন্যাসী একবার আকাশের দিকে চাহিলেন তখন সন্ধ্যা হইয়াছিল। সেই স্তব্ধ সান্ধ্য আকাশে নবোদিত তারকার দিকে তীক্ষ দৃষ্টি স্থাপন করিয়া তিনি ক্ষণকাল কি চিন্তা করিলেন। তাহার পর দূরবর্তী বনভূমির দিকে চাহিয়া স্বপ্নাবিষ্টের ন্যায় বলিলেন, ‘এক বৎসরের মধ্যে’।
বন্দুকটা যেখানে ঝুলান ছিল কক্ষমধ্যে প্রবেশপূর্বক আবদুল আব্বাস সেখানেই ঝুলাইয়া রাখিল। তাহার পর ধীরে ধীরে বাহিরে দেখিল, সেই সন্ধ্যার অন্ধকারে সন্ন্যাসী অন্তর্হিত হইয়াছেন।
৩
রাত্রি আটটা। কাপ্তেন থরন্টন্ তাঁহার শয়নগৃহের বারান্দায় পদচারণ করিতেছেন। তাঁহার মন আজ চিন্তাপুর্ণ। আজ হঠাৎ তাঁহার মনে হইয়াছে, এই যে তিনি ক্ষমতাদর্পে অন্ধ হইয়া প্রতিনিয়ত মনুষ্যবধের আদেশ প্রদান করিতেছেন, ইহা তাঁহার পক্ষে কতদূর সঙ্গত বা বৈধ হইতেছে, তাহা কি কোনদিন ভাবিয়া দেখিয়াছেন? কতকগুলি অসহায় দুর্বল মনুষ্যকে ধরিয়া তিনি তাহাদিগের বধের আদেশ দান করিতেছেন, কিন্তু তাহাদের কতটুকু অপরাধ আছে, তাহারা সত্যই অপরাধী কি না, তাহার কি কোনদিন প্রমাণ গ্রহণ করিয়াছেন? তিনি ক্ষমতা লাভ করিয়াছেন বলিয়াই তাঁহার দায়িত্ব বিস্মৃত হইবার কিছুমাত্র অধিকার নাই। তিনি তাঁহার এই ব্যবহারে বৃটিশ রাজমহিমাই যে কলঙ্কিত করিতেছেন তাহা নহে, তাঁহার কর্তব্যজ্ঞান ও মনুষ্যত্বকে পর্যন্ত অবজ্ঞাত করিতেছেন। —এ সকল চিন্তা আজ প্রথম তাঁহার মনে উদিত হইয়াছে। তিনি মনের মধ্যে কিঞ্চিৎ অস্বচ্ছতা, কিছু কষ্ট অনুভব করিতে লাগিলেন।
একজন দেশীয় অশ্বারোহী সৈনিকযুবা সহসা তাঁহার সম্মুখে আসিয়া দণ্ডায়মান হইল। সে মিলিটারী প্রথায় কাপ্তেন সাহেবকে অভিবাদন করিয়া তাঁহার হস্তে গালামোহর করা নীলবর্ণের লেফাফা-মোড়া একখানা পত্র প্রদান করিল। কাপ্তেন থরন্টন্ যদি সে সময় একবার তাহার মুখের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত করিতেন, তাহা হইলে দেখিতে পাইতেন, তাহার মুখ মলিন ভীতি-বিস্ময়সমাকুল, তাহার সর্বাঙ্গ থরথর করিয়া কাঁপিতেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে জ্বলন্ত গোলা অগিস্রোতের ন্যায় সবেগে ছুটিয়া আসিতে দেখিলেও তাহার মনের ভাব হয়তো এরূপ হইত না, আজ সহসা তাহার এ ভাব কেন?
কিন্তু সেদিকে লক্ষ্যপাত মাত্র না করিয়া মিঃ থরন্টন্ লেফাফার গালামোহর ভাঙিয়া পত্রখানি টানিয়া বাহির করিলেন। দেখিলেন, নীলবর্ণের চিঠির কাগজ, ভিতরে ইংরেজীতে এই কয়টি কথা মাত্র লিখিত।
‘১৮৫৮ সালের ১৭ই জুলাই আবদুল গফুর নিহত হইয়াছে।
১৮৫৯ সালের ১৭ই জুলাই কাপ্তেন থরন্টন্ প্রাণত্যাগ করিতে হইবে। পাপের প্রায়শ্চিত্তের আর এক বৎসর মাত্র বিলম্ব।’
পত্রের নিচে একটা স্বাক্ষর, অতি অস্পষ্ট স্বাক্ষর। তাহা কাহার হস্তাক্ষর, কাপ্তেন সাহেব বহু চেষ্টাতেওতাহা নির্ণয় করিতে পারিলেন না।
কাপ্তেন থরন্টন্ ভ্রুকুঞ্চিত করিয়া পত্রবাহী পদাতিককে জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘কে এই পত্র আনিয়াছে?’
‘আবদুল গফুর, একজন মুসলমান সিপাহী।’ ভগ্নস্বরে পদাতিক এই উত্তর দিল।
‘অসম্ভব! আবদুল গফুরের প্রাণদণ্ড হইয়াছে।’
‘হাঁ খোদাবন্দ, যাহাদের গুলিতে আবদুল গফুরের প্রাণ বাহির হইয়াছে, আমি তাহাদের মধ্যে একজন। তাহার প্রাণদণ্ডের পর যখন তাহার মৃতদেহ পর্বতগুহায় নিক্ষিপ্ত হয়, তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু আমি আমার চক্ষুকে অবিশ্বাস করিতে পারি না। আবদুল গফুর এই কেল্লার ভিতর আসিয়া স্বহস্তে আমাকে এই পত্র দিয়া গিয়াছে।’
কাপ্তেন থরন্টন্ কুসংস্কারান্ধ লোক ছিলেন না। সুতরাং তিনি স্থির করিলেন, পদাতিকের নিশ্চয়ই কোনরকম চক্ষের দোষ ঘটিয়াছে। তথাপি একটা অজ্ঞাত ভয়ে ক্ষণকালের জন্য তাঁহার হৃদয় বিকম্পিত হইল। সংক্ষিপ্ত ও সর্বপ্রকার বাহুল্যবর্জিত ভাষায় লিখিত পত্রখানি প্রেতলোকের এক অপরিজ্ঞাত রহস্যময় ইঙ্গিতের ন্যায় তাঁহার বোধ হইল। কিন্তু তিনি ইংরেজ গবরমেন্টের একজন সাহসী কাপ্তেন, স্বহস্তে অনেক সিপাহী বধ করিয়াছেন। এক সপ্তাহের মধ্যেই এই অপ্রীতিকর পত্রের কথা তিনি সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হইলেন।
৪
কাপ্তেন থরন্টনের স্ত্রী বিবি থরন্টন্ তখন আগ্রায় ছিলেন। ১৬ই আগস্ট রাত্রে কাপ্তেন সাহেব বেরেলী হইতে স্ত্রীকে দেখিবার জন্য আগ্রায় আসিলেন। স্ত্রীর নিকট হইতে এক জরুরী পত্ৰ পাইয়া হঠাৎ তাঁহাকে আগ্রায় চলিয়া আসিতে হয়। ১৭ আগস্ট প্রভাতে কাপ্তেন সাহেব দুগ্ধফেননিভ শয্যায় সুখসুপ্তিমগ্ন ছিলেন। পূর্বদিনের পথশ্রমে তাঁহার শয্যাত্যাগে কিছু বিলম্ব হইল। বেলা প্রায় আটটার সময় তিনি শয্যাত্যাগ করিয়া মশারির বাহিরে আসিতেই, বিবি থরন্টন্ তাঁহার হস্তে একখানি পত্র দিলেন। পত্রখানি সেই পূর্বের পত্রের মত নীল লেফাফায় আঁটা। পত্রখানি দেখিয়াই সহসা কাপ্তেনের মুখ পাংশুবর্ণ ধারণ করিল। কম্পিত হস্তে মেমসাহেবের নিকট হইতে পত্র লইয়া রুদ্ধ নিশ্বাসে তিনি তাহা খুলিয়া ফেলিলেন। দেখিলেন, পত্রের ভাষা ও নামস্বাক্ষর অবিকল পূর্বের ন্যায়। প্রভেদের মধ্যে এই পত্রে লেখা আছে, ‘পাপের প্রায়শ্চিত্তের আর এগার মাস মাত্র বিলম্ব।’