

গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
Author
গৌরকিশোর ঘোষ: সংক্ষিপ্ত জীবনী
**গৌরকিশোর ঘোষ** (২০ জুন ১৯২৩ – ১৫ ডিসেম্বর ২০০০) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি সাংবাদিক, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক এবং সমাজচিন্তক। তিনি তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলার **হাট গোপালপুর** গ্রামে (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন হরেন্দ্রনাথ ঘোষ এবং মাতা প্রমীলা ঘোষ। দেশভাগের পর তিনি কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং সমাজ-রাজনীতির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ গড়ে ওঠে।
কর্মজীবনে গৌরকিশোর ঘোষ **সত্যযুগ**, **আনন্দবাজার পত্রিকা** এবং **আজকাল**-সহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বাংলা সংবাদপত্রে সাংবাদিক ও সম্পাদকীয় লেখক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর লেখনী ছিল নির্ভীক, যুক্তিনিষ্ঠ ও মানবতাবাদী। ১৯৭৫ সালে ভারতে জরুরি অবস্থা (Emergency) জারির সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি এবং স্মৃতিকথা রচনা করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা, রাজনৈতিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং ব্যঙ্গরসের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে **‘জল পড়ে পাতা নড়ে’**, **‘প্রেম নেই’**, **‘দেশ-মাটি-মানুষ’**, **‘আমার পৃথিবী’**, **‘মানুষের কথা’**, **‘গল্পসমগ্র’** এবং **‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’** বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাংবাদিকতায় তিনি **‘রূপদর্শী’** ছদ্মনামেও লিখতেন।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের জন্য গৌরকিশোর ঘোষ **আনন্দ পুরস্কার**, **সাংবাদিকতা বিষয়ক বিভিন্ন সম্মাননা** এবং **রামন ম্যাগসেসে পুরস্কার** (১৯৮১, সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সৃজনশীল যোগাযোগকলা বিভাগে) লাভ করেন। ১৫ ডিসেম্বর ২০০০ সালে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নির্ভীক সাংবাদিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
## তথ্যসূত্র
১. বাংলা উইকিপিডিয়া – **গৌরকিশোর ঘোষ**:
Reader favourites
Popular books
Collections
প্রতিবেশী
এই দাহ