
মলয় রায়চৌধুরী
Author
মলয় রায়চৌধুরী-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
মলয় রায়চৌধুরী (২৯ অক্টোবর ১৯৩৯ – ২৬ অক্টোবর ২০২৩) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং সাংবাদিক। তিনি ১৯৬০-এর দশকের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী সাহিত্য আন্দোলন 'হাংরি আন্দোলন' বা 'হাংরিয়ালিজম'-এর প্রধান প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
তিনি বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণ করলেও তার আদি নিবাস ছিল কলকাতার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারে। শৈশব কেটেছে পাটনার ইমলিতলা ঘেটোতে, যেখানে দলিত হিন্দু ও শিয়া মুসলমানদের সহাবস্থান তার চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি স্থানীয় ক্যাথলিক স্কুল ও রামমোহন রায় সেমিনারিতে শিক্ষা লাভ করেন। পরে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে গ্রামীণ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ হিসেবে রিজার্ভ ব্যাংক ও নাবার্ডে চাকরি করেন।
হাংরি আন্দোলন ও সাহিত্যকর্ম
১৯৬১ সালে তার ভাই সমীর রায়চৌধুরী, শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও দেবী রায়ের সাথে মিলে তিনি 'হাংরি আন্দোলন' শুরু করেন। এই আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক মূল্যবোধ ও সামাজিক রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
তার সাহিত্যকর্মের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার (১৯৬৩): এই কবিতার জন্য তিনি অশ্লীলতার অভিযোগে গ্রেফতার হন এবং ৩৫ মাস আইনি লড়াইয়ের পর ১৯৬৭ সালে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে নির্দোষ ঘোষিত হন। এই মামলা তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 'জখম', 'শয়তানের মুখ', 'ডুবজলে যেটুকু শ্বাস', 'নামগন্ধ', 'কৌণপের লুচিমাংস', 'মাথা কেটে পাঠাচ্ছি যত্ন করে রেখো'।
অনুবাদ: তিনি অ্যালেন গিন্সবার্গের 'হাউল', আর্থার র্যাম্বোর 'নরকে এক ঋতু', বোদল্যারের কবিতা এবং জঁ জেনের রচনা বাংলায় অনুবাদ করেন।
আধুনিক পর্যায়: ১৯৯৫ সাল থেকে তার লেখায় 'আধুনান্তিক' বা পোস্টমডার্নিস্ট ধারা লক্ষ্য করা যায়।
পুরস্কার ও সম্মাননা
তিনি ২০০৩ সালে ধর্মবীর ভারতীর 'সূর্যের সপ্তম ঘোড়া' উপন্যাসের অনুবাদের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাব বজায় রেখে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়া তিনি একাধিক লিটল ম্যাগাজিন পুরস্কারও ফিরিয়ে দেন।
জীবনাবসান
দীর্ঘদিন মুম্বইয়ে বসবাসকারী এই কবি ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর, তার ৮৪তম জন্মদিনের তিন দিন আগে প্রয়াত হন।
তথ্যসূত্রঃ বাংলা ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া
Reader favourites
Popular books
Collections
ঔরস
জঙ্গলরোমিও
লাবিয়ার মাকড়ি