
রূপোর চাবি
অনিল ভৌমিক
১
পরিষ্কার আকাশ। বাতাসও বেগবান। ফ্রান্সিসদের জাহাজ দ্রুতগতিতে চলেছে সমুদ্রের ঢেউ ভেঙে। জাহাজের পালগুলো ফুলে উঠেছে। কাজেইদাঁড় টানতে হচ্ছেনা। ভাইকিংরা ডেকের এখানে-ওখানে শুয়ে বসে আছে। গোল হয়ে বসে ছক্কা-পাঞ্জা খেলছে। আর। একদল বসে নিজেদের মধ্যে দেশবাড়ির গল্প করছে। সকলের মধ্যেই বেশ একটা ছুটির মেজাজ।
ফ্রান্সিসদের কেবিনঘরে ফ্রান্সিস বিছানায় আধশোয়া হয়ে আছে। মারিয়া সেলাই ফেঁড়াইয়ের কাজ করছে বিছানায় বসে।
হ্যারি কেবিনঘরে ঢুকল। ওকে দেখে ফ্রান্সিস উঠে বসল। হ্যারি বিছানায় বসতে বসতে বলল, ফ্রান্সিস, এবার কী করবে?
–তোমরা সবাই তো দেশে ফেরার জন্যে আকুল। কাজেই ফ্লেজারকে বলেছি উত্তরমুখো চালাও। ফ্রান্সিস বলল।
সে তো হলো, হ্যারি বলল, কিন্তু কোথায় এলাম, আমাদের দেশই বা কত দূরে কিছুই বুঝতে পারছি না।
মারিয়া বলল, দেখ হ্যারি, আমার যা জ্ঞানগম্যি তাতে বুঝেছি আমরা জিব্রলটার প্রণালী পার হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে পড়েছি।
–সেটা বুঝলে কী করে? ফ্রান্সিস বলল।
-খুব সহজে। লক্ষ্য করলে বুঝবে গত কদিন জাহাজের দুলুনি খুব বেড়ে গেছে। ভূমধ্যসাগর অঞ্চলটা অনেক শান্ত। তাই জাহাজের দুলুনি খুব বেশি ছিল না। মারিয়া বলল।
–তাহলে রাজকুমারী, আমরা কি স্পেনের কাছাকাছি এসেছি? হ্যারি বলল।
–আমার তো তাই মনে হচ্ছে। তবে এই এলাকায় কোনো দ্বীপ নেই। ডাঙা পেলেই। বুঝবো কোনো দ্বীপ নয়, স্পেনে এসেছি। মারিয়া বলল।
ফ্রান্সিস বলল, একবার চলো তো ফ্লেজারের কাছে যাই। ও কী বলে শুনি।
হ্যারি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, চলো।
মারিয়া ওর সেলাই-ফোঁড়াইয়ের জিনিসপত্র একটা চামড়ার থলিতে রাখতে রাখতে বলল, আমিও যাবো। সূর্যাস্ত দেখবো।
তিনজনে একটু পরেই ডেক-এ উঠে এলো। চলল জাহাজচালক ফ্লেজারের কাছে। ফ্লেজার হুইলে হাত রেখে সামনে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিল। ফ্রান্সিস বলল, ফ্লেজার, আমরা কোথায় এলাম সেটা কিছু আন্দাজ করতে পেরেছো?
–আমরা ভূমধ্যসাগর থেকে বেরিয়ে এসেছি এটা বুঝতে পারছি। কিন্তু ডাঙার দেখা না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই বোঝা যাবে না। ফ্লেজার বলল।
–এখন তো তাহলে শুধু জাহাজ চালিয়ে যাওয়া। হ্যারি বলল।
–হ্যাঁ। ফ্লেজার বলল, উত্তর দিকটা ঠিক রেখে জাহাজ চালিয়ে যাওয়া। হ্যারি বলল।
ফ্লেজারের সঙ্গে কথা বলে তিনজনে ফিরে এসে রেলিং ধরে দাঁড়াল। পশ্চিম দিকে তখন সূর্য অস্ত যাচ্ছে। সূর্যের আলোর গভীর কমলা রঙ মাঝ আকাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। এবং রং সূর্য অস্ত যাওয়ার পরেও রইল। তারপর আস্তে আস্তে রঙ মুছে গেল। সন্ধ্যা নেমে এলো।
সেদিন ভোর ভোর সময়ে নজরদার পেড্রোর চড়া গলা শেনা গেল, ডাঙা, ডাঙা দেখা যাচ্ছে। যে ভাইকিংরা ডেকে শুয়েছিল তারা উঠে বসল। একজন ছুটল ফ্রান্সিস হ্যারিকে খবর দিতে।
একটু পরেই ফ্রান্সিস আর হ্যারি ডেক-এ উঠে এলো। পেছনে মারিয়াও এলো। ওরা রেলিং ধরে দাঁড়াল। ভোরের নরম রোদে উত্তরদিকে দেখা গেল একটা বন্দর। বেশ কয়েকটা জাহাজ নোঙর করে আছে। জাহাজগুলোতে নানা রঙের বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়ছে।
ফ্রান্সিস বলল, হ্যারি, আমরা বন্দরে জাহাজ ভেড়াবো না। এখানেই নোঙর করবো। শুধু শাঙ্কো নৌকোয় চড়ে বন্দরে যাবে। এটা কোন্ দেশের কোণ বন্দর, লোকজন কেমন–এসব জেনে আসবে।
ফ্রান্সিসরা কথা বলছে, তখনই দুই রাঁধুনি ভাইকিং ফ্রান্সিসদের কাছে এলো। বলল, খাদ্য আর জল ফুরিয়ে এসেছে। এই বন্দর থেকেই খাদ্য আর জল নিতে হবে। নইলে কখন ঝড়বৃষ্টিতে জাহাজ কোণদিকে চলে যাবে। আবার কোনো বন্দর পাওয়া যাবে কিনা কে জানে।
ফ্রান্সিস একটু ভেবে বলল, কথাটা ঠিক। তখন অনেক ভাইকিং বন্ধু ফ্রান্সিসকে ঘিরে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে ডাকল। বলল, শাঙ্কো, তুমি একা নৌকোয় চড়ে বন্দরে যাও। সব জেনে এসো। যথেষ্ট খাদ্য আর জল পাবো কিনা সেটাও জেনে এসো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই শাঙ্কো তৈরি হয়ে নিল। দড়ির মই বেয়ে নৌকোয় নেমে নৌকো ছেড়ে দিল। শাঙ্কো শুধু ছোরাটা জামার নীচে নিয়েছে। তলোয়ার নিতে ফ্রান্সিস মানা করেছে। তাই তলোয়ার নেয়নি।
ততক্ষণে ঘরঘর শব্দে নোঙর ফেলা হয়েছে। ফ্রান্সিসদের জাহাজ থেমে রইল। সমুদ্রের বড়ো বড়ো ঢেউয়ের ধাক্কায় দুলতে লাগল।
রেলিং ধরে ফ্রান্সিসরা অপেক্ষা করতে লাগল।
কিছুক্ষণ পরে দুরেশাঙ্কোর নৌকো আসছে দেখা গেল। ফ্রান্সিস তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে শাঙ্কোর নৌকোর দিকে তাকিয়ে রইল। ভাবতে লাগল, আমাদের বিপদ হতে পারে এমন কিছু হলে শাঙ্কো নিশ্চয়ই নৌকোয় উঠে দাঁড়িয়ে সঙ্কেত করবে। কিন্তু দেখা গেল শাঙ্কো আস্তে আস্তে ঢেউয়ের ধাক্কা বাঁচিয়ে নৌকো চালিয়ে আসছে।
জাহাজে নৌকো বেঁধে শাস্কো দড়ির মই বেয়ে ডেকে উঠে এলো। ভাইকিং বন্ধুরা এ ওকে ঘিরে দাঁড়াল। একুট হাঁপাতে হাঁপাতে শাঙ্কো বলল, এটা স্পেনের দক্ষিণ ভাগ। # বন্দরটার নাম ক্যামেরিনাল। এখানকার রাজার নাম গার্সিয়া। এখানে যথেষ্ট খাদ্য আর জল পেতে কোনো অসুবিধা নেই। রাজার যোদ্ধারা কেউ কেউ আমাকে দেখেছে। বুঝেছে আমি বিদেশি। তবু কিছু বলেনি।
এবার ফ্রান্সিস বলল, শাঙ্কো তুমি বিস্কো আর রাঁধুনি বন্ধুদের নিয়ে যাও। খাদ্য-জল আনার জন্যে বস্তা-পীপে সব নাও। সঙ্গে যে নৌকোটা নেবে সেটাতেই থাকবে এসব।
কিছুক্ষণের মধ্যেই শাঙ্কোরা একটা নৌকোয় চড়ে অন্য একটা নৌকো দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে ক্যামেরিনাল বন্দরের দিকে চলল।
দুপুরের একটু আগেই শাঙ্কোরা ফিরে এলো। খাদ্য-জল সব রসুইঘরের পাশে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হলো। ফ্রান্সিস মনে মনে বলল, যাক–কয়েক মাসের জন্যে নিশ্চিন্ত।
দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর ভাইকিং বন্ধুরা ফ্রান্সিসের কাছে এলো। বলল, ফ্রান্সিস, এখানে পড়ে থেকে শুধু দেরিই হবে। জাহাজ বিকেলেই ছেড়ে দিতে বলো।
ফ্রান্সিস বলল, ঠিক আছে। ফ্লেজারকে গিয়ে বলো আমি বলেছি বিকেলে জাহাজ ছেড়ে দিতে।
বন্ধুরা খুশিতে ছুটল ফ্লেজারকে কথাটা বলতে।
সূর্যাস্ত হবার আগেই জাহাজের নোঙর তোলা হলো। ভাইকিংরা পালের দড়িদড়া ঠিক করল। জোর বাতাসে পালগুলো ফুলে উঠল। জাহাজ পূর্ণবেগে বড়ো বড়ো ঢেউ ভেঙে চলল।
তীরভূমির কাছ দিয়েই জাহাজ চলল।
দু’দিন পরেই জাহাজ এলো কাদিজ বন্দরে। এখন ফ্রান্সিসরা অনেকটা নিশ্চিন্ত। ওরা কাদিজ বন্দরের জাহাজঘাটায় জাহাজ নোঙর করল। কাদিজ বেশ বড়ো বন্দর। অনেক জাহাজ জাহাজঘাটা নোঙর করা আছে।
ফ্রান্সিস ডেক-এ দাঁড়িয়েছিল। বিস্কো ফ্রান্সিসের কাছে এলো। বলল, এই কাদিজ বন্দর বেশ বড়ো। এখানে জাহাজ মেরামতি করা যাবে।দুদিন থেকে আমাদের জাহাজের মেরামতির কাজটা সেরে নাও। এখনও এই জাহাজে চড়ে আমাদের অনেক দূরে যেতে হবে।
বেশ তাই করো, ফ্রান্সিস বলল।
দু’দিন মেরামতির কাজটাজ চলল। সেদিন সন্ধেবেলা মারিয়া বলল-চলো কাদিজ নগরবন্দরটা দেখে আসি।
–অচেনা অজানা জায়গা–এখানে যাওয়া কি ঠিক হবে? ফ্রান্সিস বলল।
–আমরা তো একটু ঘোরাঘুরি করবো। তারপর রাত বেশি হওয়ার আগেই চলে আসবো। মারিয়া বলল।
–ঠিক আছে চলো। দিনরাত শুধু সমুদ্রের জল দেখে দেখে তোমার একঘেয়ে লাগারই কথা। চলো শাঙ্কোকেও নিয়ে যাবো। তুমি তৈরি হয়ে নাও। আমি শাঙ্কোকে ডাকতে যাচ্ছি।
মারিয়া ওর ভাঙা আয়নাটা নিয়ে বসল। নিজের মুখ দেখে বুঝল–ওর মুখের দুধে আলতার রং এখন তামাটে হয়ে গেছে। মাথার চুলও জট পাকাচ্ছে। মারিয়া আয়না রেখে চলল পোশাক বের করতে। নিজের গাউনটা বের করল আবার ফ্রান্সিসের পোশাকটাও বড়ো চামড়ার বাক্স থেকে বের করল। গাউনটা পরল। গাউনটা একটু ঢিলে লাগল। বুঝল ওর জাহাজী জীবন ওর শরীর রোগা করে দিয়েছে। কিন্তু এসব ভেবে আর কী হবে। মারিয়া চুল আঁচড়াতে বসল।
ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে নিয়ে কেবিন ঘরে এলো। মারিয়ার সাজের বহর দেখে মুখ টিপে হাসল। কিন্তু কিছু বলল না। এই সাজ পোশাক নিয়ে রসিকতা করলে মারিয়া মনে দুঃখ পাবে। ফ্রান্সিস চুপ করে রইল।
মারিয়ার সাজগোজ শেষ হল। এবার মারিয়া ফ্রান্সিসের নতুন পোশাকটা বের করল। বলল–এই পোশাকটা পরো। ফ্রান্সিস বলল–কী পাগলামো! আমরা কিনাচের আসরে যাচ্ছি নাকি?
-না–তোমাকে আজ নতুন পোশাক পরতে হবে। মারিয়া বলল।ফ্রান্সিস বলল– কি কাণ্ড!
–না কোনও কথা শুনবো না–তোমাকে পরতেই হবে। মারিয়া বলল।
–ঠিক আছে। তুমি যখন অত করে বলছো। পোশাকটা দাও। ফ্রান্সিস বলল।
মারিয়া ফ্রান্সিসের পোশাকটা দিল। ফ্রান্সিস নিজের পোশাকের ওপরেই নতুন পোশাকটা পরল। মারিয়া ভাঙা আয়নাটা ফ্রান্সিসের মুখের সামনে ধরল। বলল দ্যাখো–তোমাকে কী সুন্দর দেখাচ্ছে। ফ্রান্সিস আয়নাটায় মুখ দেখল।
–মুণ্ডু। ফ্রান্সিস মারিয়াকে আয়নাটা ফিরিয়ে দিল। এবার শাঙ্কো বলল–ফ্রান্সিস তাহলে আমিও নতুন পোশাকটা পরে আসি।
–বেশ তো–ফ্রান্সিস বলল।
মোটামুটি একটু ফিটফাট হয়ে ফ্রান্সিস, মারিয়া আর শাঙ্কো জাহাজ থেকে নেমে এলো।
ওরা দেখল রাস্তায় লোকজনের খুব একটা ভিড় নেই। ফ্রান্সিসরা একটু এগিয়েই একটা ছোটো দুর্গ দেখল। দুর্গ ঘিরে পাথরের দেয়াল। তার বাইরে পরিখা। দুর্গের সদর দরজায় ওরা এলো। চার-পাঁচজন সৈন্য পাহারা দিচ্ছে। কাঠের বিরাট দরজা বন্ধ।
ওরা দুর্গার চারদিকে একবার ঘুরে এলো ফ্রান্সিস লক্ষ্য করল দক্ষিণ দিকের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। দুতিন জায়গায়। জোরে কয়েকটা ধাক্কা দিলে ওখানকার পাথুরে দেয়াল সবটা না হলেও কিছু অংশে ধস নামবে। দেয়ালের ঐ জায়গাগুলো সুরক্ষিত নয়।
সদর দেউড়ির সামনে পরিখার ওপর কাঠের সেতু। ফ্রান্সিস বলল–চলো একটু খোঁজ-খবর নেওয়া যাক। সেতু পার হয়ে ওরা সদর দরজার কাছে এলো।
তখনই একজন লম্বা মতো সৈন্য চড়া গলায় বলে উঠল–তোমরা কারা! ওখানেই থাকো। দরজার কাছে আসবে না। ফ্রান্সিস বলল–আমরা জাতিতে ভাইকিং। জাহাজে দেশ-বিদেশ বেড়িয়ে বেড়ানোই আমাদের কাজ। আমরা দুৰ্গটা দেখছি।
–তা দেখো তবে পাহারাদার সৈন্যদের ফাঁকি দিয়ে দুর্গে ঢোকার চেষ্টা করবে না। সেরকম কিছু করতে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত। লম্বামতো লোকটা বলল।
ফ্রান্সিস বুঝল ঐ লম্বামতো লোকটিই দলনেতা। ফ্রান্সিস একটু এগিয়ে দলনেতার কাছে গেল। বলল–এই দুর্গা কার? কে থাকে এই দুর্গে?
–এই দুর্গে থাকেন এখানকার আলতোয়াইফ–মানে রাজা গার্সিয়ারের প্রতিনিধি। দলনেতা বলল।
–ও। ফ্রান্সিস মুখে শব্দ করল।
দুর্গ দেখার পর এলো সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকায়। বেশি ভিড়। গাড়ি ঘোড়া চলছে।
ফ্রান্সিস বলল–চলো কিছু খাওয়া যাক। একটা খাবার দোকানে ওরা ঢুকল। বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দোকানটি। দোকানদার ফ্রান্সিসদের দেখে এগিয়ে এলো। হেসে বলল– আসুন–আসুন। ফ্রান্সিসরা বলল।
ফ্রান্সিস মারিয়াকে বলল–বলো কী খাবে?
মারিয়া বলল-মিষ্টি পিঠে আর পাউরুটি কেটে দিন। দোকানদার বলল–দুধ থেকে একটা বিশেষ মিষ্টি আমরা তৈরি করি। আপনাদের দেব? অনেক লোক আমাদের এই বিশেষ খাবারটি খেতে আসে।
–দিন তাহলে। শাঙ্কো বলল।
কিছু পরে কাঠের লম্বা টেবিলে পাতা পেতে খেতে দেওয়া হল। ফ্রান্সিসরা খেতে লাগল। মারিয়া খেতে খেতে দোকানদারকে বলল–সত্যি আপনার এই খাবারটা বেশ খাওয়ার মতো। আরো দুটো দিন। আমাদের তিনজনকেই। খাবার দেওয়া হল। খাবার খেয়ে তিনজনই খুশি।
খেতে খেতে ফ্রান্সিস দোকানিকে ডাকল। দোকানি এগিয়ে এলো। ফ্রান্সিস বলল– এখানে দেখবার মতো কী আছে?
-দুৰ্গটা দেখেছেন? দোকানদার বলল।
–হ্যাঁ দেখেছি। তবে বাইরে থ