সিয়োভোর রত্নভান্ডার

সিয়োভোর রত্নভান্ডার

অনিল ভৌমিক

সিয়োভোর রত্নভান্ডার

Books Pointer Iconঅনিল ভৌমিক
Books Pointer Iconthriller

Posted byবিথি শর্মা03-Jul-2025

Change color

সিয়োভোর রত্নভান্ডার

ফ্রান্সিসদের জাহাজ পূর্ণগতিতে চলেছে। জাহাজের পালগুলো বেগবান হাওয়ায় ফুলে উঠেছে। মোটামুটি উত্তর দিক ধরে জাহাজ চলছে। জাহাজচালক ফ্লেজারের লক্ষ্য স্বদেশে ফেরার। ডেক ধোওয়া মোছা সেরে ভাইকিংদের হাতে যথেষ্ট সময়। কারন দাঁড়ও বইতে হচ্ছে না বেশ খুশির মেজাজে ভাইকিংরা।

রাতের খাওয়া সেরে ডেক-এ নাচগানের আসর বসায়। ফ্রান্সিস ওদের উৎসাইই দেয়। আসরে মারিয়াকে নিয়ে আসে। নাচের আসরে দুজনে নাচেও। মারিয়া খুশি মনে এসব দেখে। হাসে। যা মারিয়া খুশি। ফ্রান্সিস নিশ্চিন্ত হয়।

সিনাত্রা সুরেলা কন্ঠে দেশের চাষীদের ভেড়াপালকদের গান গায়। দ্রুত লয়ের বিয়ের বাসরের গানও গায়। আসর জমে ওঠে। কাঠের ডেকে থপ থপথপ্ পা ঠুকে ভাইকিংরা নাচে। শাঙ্কো খালি জীপে বাজায়। এভাবেই রাতের আসর জমে ওঠে।

মাঝে কয়েকদিন বাতাস পড়ে গিয়েছিল। তখন ভাইকিংদের ব্যস্ততা। পাল খাটাবার কাঠের কাঠোমোয় উঠে পাল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে যথাসাধ্য হাওয়া লাগাতে চেষ্টা করে। অনেকে দাঁড় ধরে গিয়ে দাঁড় টানে। তখন আর নাচের আসর বসে না। তখন শুধু কাজ। ছক্কাপাঞ্জা খেলা বন্ধ। সবাই ব্যস্ত। নাচগানের আসর আর বসে না। জাহাজের চলার বেগ বাড়াবার জন্যে চেষ্টা চলে। দেশে ফিরে যাচ্ছে এই চিন্তা উৎসাহ জোগায়।

দিনকয়েক পরে বাতাসের বেগ বাড়ে। জাহাজ চলে দ্রুত গতিতে। আবার আনন্দ ভাইকিংদের মনে। জাহাজের কাজ কমে যায়। অবসর। আবার নাচ গানের আসর বসে। নেচে গেয়ে খুশির সময় কাটায় ওরা।

জাহাজ পুণগতিতে চলছে। কিন্তু ডাঙার দেখা নেই। এভাবেই দিন দশেক কাটল। ভাইকিংরা চিন্তায় পড়ে–পথ হারালাম না তো?

রাতে ফ্রান্সিসরা ডেকে উঠে আসে। অনুজ্জ্বল চাঁদের আলোয় চারিদিকে তাকায় যদি ডাঙ্গার দেখা পাওয়া যায়। ওপরের দিকে তাকিয়ে নজরদার পেড্রোকে বলে ঘুমিয়ে পড়ো না। নজর রাখো। পেড্রো মাস্তুলের ওপরে নিজের গলা চড়িয়ে বলে– কিচ্ছু ভেবো না। ঠিক নজর রাখছি। হ্যারিও ডেকে উঠে আসে। ফ্রান্সিস বলে হারি– চিন্তার কথা। এখনও ডাঙ্গার দেখা পাচ্ছি না।

–ঠিক ডাঙ্গার দেখা পাওয়া যাবে। আট দশদিন কেটেছে মাত্র। কয়েকদিনের মধ্যেই ডাঙ্গার দেখা পাওয়া যাবে। তাছাড়া খাদ্য জল সব মজুত আছে। আরোও কিছুদিনের জন্যে নিশ্চিন্ত। জাহাজ চলুক। হ্যারির কথা শুনে ফ্রান্সিসের উদ্বিগ্ন মন শান্ত হয়। ও কিন্তু শুধুমাত্র হ্যারির সঙ্গেই এসব কথা বলে। অন্য বন্ধুদের সঙ্গে। এসব কথা বলে না। তাহলে মারিয়াও উদ্বিগ্ন হবে। সেটা মারিয়ার শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক হবে।

দিন কয়েক পরের কথা। সেদিন শেষরাতে মাস্তুলের ওপর থেকে পেড্রো চেঁচিয়ে বলল–ভাইসব সাবধান জলদস্যুদের জাহাজ। এদিকেই আসছে। ফ্রান্সিসকে খবর দাও। সবাই তৈরী হও। সামনে লড়াই।

ডেকের ওপর কয়েকজন বন্ধুদের সঙ্গে শাঙ্কোও ঘুমিয়ে ছিল। পেড্রোর উঁচু গলায় কথায় ওর ঘুম ভেঙে গেল। ছুটে জাহাজের রেলিংয়ের ধারে গেল। কিছুটা উজ্জ্বল চাঁদের তালোয় দেখল একটা জাহাজ দ্রুত গতিতে ওদের জাহাজের দিকে আসছে। জলদস্যুদের ক্যারাভেল জাহাজ।

শাঙ্কো আর একমূহুর্তে দেরি করল না। সিঁড়ির দিকে ছুটল। নিচে নামতে নামতে গলা চড়িয়ে বলতে লাগল–ভাইসব–তৈরী হও–তৈরী হও। একটা জলদসুদের জাহাজ আসছে। লড়াই। অস্ত্র নাও।

ফ্রান্সিসের কেবিনঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে শাঙ্কো চেঁচিয়ে বলল-ফ্রান্সিস জলদস্যুদের জাহাজ আসছে শিগগির এসো।

ফ্রান্সিসসের ঘুম ভেঙে গেল। এক লাফে বিছানা থেকে নামল। বিছানার তলা থেকে তরোয়াল বের করল। ছুটে গিয়ে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল।

ততক্ষনে জাহাজে সাজো সাজো রব পড়ে গেছে। ভাইকিংরা অস্ত্রঘর থেকে তরোয়াল বের করে ডেক উঠে আসতে লাগল।

অল্পক্ষনের মধ্যেই খোলা তরোয়াল হাতে ডেকএ এসে জড়ো হল সবাই। সবাই দেখল জলদস্যুদের জাহাজের ডেক-এ খোলা তরোয়াল হাতে জলদুস্যরা দাঁড়িয়ে। মাথায় কালো কাপড়ের ফট্টি। গাল অব্দি জুলপি মোটা গোঁফ। জলদস্যুর দল ভেবেছিল নিঃশব্দে জাহাজ দখল করবে। কিন্তু যখন দেখল ফ্রান্সিসরা ওদের দেখে ফেলেছে তখন ওরা : লড়াইয়ের জন্য তৈরী হল।

জলদস্যুদের জাহাজটা ফ্রান্সিসদের জাহাজের গায়ে এসে লাগল। জলদস্যুরা তরোয়াল উঁচিয়ে লাফ দিয়ে ফ্রান্সিসদের জাহাজে উঠতে লাগল। ফ্রান্সিসরা ওদের প্রথম আক্রমণ করল। শুরু হল লড়াই। জলদস্যুরা ফ্রান্সিসদের চেয়ে সংখ্যায় কম। তবে ওরা তো নৃশংস আর নিভীক। ওদের প্রাণেরও মায়া নেই। ওরা জানে মানুষ মেরে ফেলতে। কাজেই ওরা প্রথম উন্মাদের মত তরোয়াল চালাতে লাগল। দুজন ভাইকিং আহত হয়ে ডেক-এ পড়ে গেল। কয়েকজন ভাইকিং থমকে গেল। ফ্রান্সিস উচ্চকণ্ঠে ধ্বনি তুলল–ও–হো–হো। এই ধ্বনি লড়াইয়ের ধ্বনি। মন্ত্রের মত কাজ হল। ভাইকিংরা নতুন উদ্যমে লড়াই চালাতে লাগল। কয়েকজন জলদস্যুকে আহত করল ওরা। ফ্রান্সিস নিপুনহাতে তরোয়াল চালিয়ে ঘুরে ঘুরে লড়াই করতে লাগল।

একজন জলদস্যু মারা গেল। দু’তিনজন আহত হল।

এমন সময় জলদস্যুদের ক্যাপ্টেন তাদের জাহাজের ডেক-এ এসে দাঁড়াল। সে গভীর মনোযোগ দিয়ে লড়ই দেখতে লাগল। অল্পক্ষণের মধ্যেই বুঝল–ভাইকিংরা তরোয়াল চালনায় যথেষ্ট দক্ষ। জলদস্যুরা হেরে যেতে লাগল। ক্যাপ্টেন গলা। চড়িয়ে বলে উঠল-লড়াই থামাও। সবাই চলে এসো। জলদস্যুরা লড়াই করতে করতে নিজেদের জাহাজে পালাতে লাগল।

ফ্রান্সিসও গলা চড়িয়ে বলল–যে কটাকে পারো আহত করো। জাহান্নামে যাক সব। ভাইকিংরা নতুন উদ্যমে জলদস্যুদের আক্রমন করল। এবার জলদস্যুরা বুঝল লড়াই করতে গেলে বাঁচার আশা নেই। ওরা দ্রুত লড়াই থামিয়ে নিজেদের জাহাজের ডেক লাফিয়ে লাফিয়ে উঠে পড়তে লাগল।

কিছুক্ষণের মধ্যেই লড়াই শেষ। নিহত আহত জলদস্যুরা ফ্রান্সিসদের জাহাজের ডেকএ পড়ে রইল। ফ্রান্সিস বলে উঠল–এগুলোকে জলে ফেলে দাও। ভাইকিংরা সব কটা জলদস্যুকে সমুদ্রের জলে ছুঁড়ে ফেলল।

জলদস্যুদের জাহাজের মুখ ঘুরল। আস্তে আস্তে জলদস্যুদের ক্যারাভেল জাহাজটা মাঝ সমুদ্রের দিকে চলে যেতে লাগল। লড়াইয়ে বিজয়ী ভাইকিংরা ধ্বনি তুলল ও–হো–হো।

জলদস্যুদের হাত থেকে বাঁচা গেছে এই ভেবে ফ্রান্সিস স্বস্তির শ্বাস ফেলল। গলা চড়িয়ে ডাকল–পেড্রো? পেড্রো নিজের জায়গা থেকে মুখ বাড়িয়ে বলল কী বলছো? অনেক ধন্যবাদ, তোমাকে। সময়মত জানানি দিয়েছে। ফ্রান্সিস বলল।

তখন ভোর হয়েছে। ভোরের নিস্তেজ আলো পড়েছে সমুদ্রে জাহাজে নির্মেঘ আকাশে।

ফ্রান্সিসদের জাহাজ চলল।

দিন কয়েকের মধ্যেই ডাঙা দেখা গেল। সেদিন ভোরে মাস্তুলের ওপর থেকে নজরদার পেড্রো গলা চড়িয়ে বলে উঠল–ভাইসব বাঁদিকে ডাঙ্গা দেখা যাচ্ছে– ডাঙ্গা। ডেক-এ ঘুম ভেঙে শাঙ্কো বসেছিল। ছুটল ফান্সিসকে খবর দিতে। একটু পরেই ফ্রান্সিস ডেক-এ উঠে এল। ডানদিকে তাকিয়ে দেখল একটা খাঁড়িরমত। তার এ পাশে গভীর বন। ওপাশে পাহাড়। বুঝতে পারল না-এটা কোন দ্বীপ না দেশের অংশ। এপাশে একটা ঘাটমত দেখা গেল। এদিকে সমুদ্র গভীর। বড় বন্দর নয়। তবে জাহাজ ভেড়ানো থাকে।

হ্যারি এসে ওর পাশে দাঁড়াল। ওকে ফ্রান্সিস এসব কথা বলল। হ্যারি বলল দেখা যাক জাহাজ ভেড়ানো যায় কিনা। ফ্লেজারের কাছে চলো। দু’জনে জাহাজ চালক ফ্লেজারের কাছে এল।

–ফ্লেজার –ফ্রান্সিস বলল–বুঝতে পারছি না এটা কোন দ্বীপ না দেশের অংশ। যাহোক তুমি দেখো জাহাজ তীরে ভেড়ানো যায় কিনা।

জাহাজ ততক্ষণে তীরের কাছে চলে এসেছে। ফ্লেজার বলল-তীরের কাছে জল গভীর। জাহাজ তীরে ভেড়ানো যাবে। ফ্লেজার আস্তে আস্তে জাহাজটা তীরে ভেড়াল।

দেখা গেল বালিয়াড়ির পরেই বনভূমি। টানা বনভূমি চলে গেছে। বসতির চিহ্নমাত্র নেই।

হ্যারি ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল–কী করবে?

–এখনই এখানে নামবো। দেখি মানুষজনের দেখা পাই কিনা। ফ্রান্সিস বলল,

–কিন্তু এ তো গভীর বন। এখানে মানুষজন কোথায় পাবে? হ্যারি বলল।

মনে হচ্ছে বনের ওপাশে বসতি আছে। এখন নেমে গিয়ে সেটা দেখাত হবে। ফ্রান্সিস বলল।

একটু পরেই ফ্রান্সিসরা সকালের খাবার খেয়ে নিল। এবার ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে ডেকে পাঠাল। শাঙ্কো আসতে বলল–শাঙ্কো–সিনাত্রা আর তুমি তৈরী হয়ে নাও। আমরা নামব।

-এখনই? শাঙ্কো জানতে চাইল।

–হ্যাঁ দিনে দিনেই দেখব সব। মনে হচ্ছে এই বনভূমির ওপারে লোকজনের বসতি এলাকা পাব। ফ্রান্সিস বলল।

–বেশ। চলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই ফ্রান্সিস শাঙ্কো আর সিনাত্রা তৈরী হল। শাঙ্কো আর সিনাত্রা কাঠের পাটাতন পাতল তীরভূমি পর্যন্ত। পাটাতন দিয়ে তিনজন নেমে এল। বেলাভূমি পার হয়ে বনের মধ্যে ঢু। সেই অদ্ভুত গাছের জঙ্গল। গাছের পাতা প্রায় গোল। মোটা ভারী পাতা। শক্ত ডাল। অন্য গাছও রয়েছে। কিন্তু এরকম গাছের সংখ্যাই বেশি। এই গাছগুলো বেশ উঁচু। ডালগুলো দেখে মনে হল বেশ শক্ত।

হঠাৎই ওরা দেখল গাছের মধ্যে ঘর। গাছের চারটে ডালের মধ্যে ডাল কেটে বেড়ামত। তাতে দরজা। ঘরের মাথায় শুকনো লম্বাটে ঘাসের ছাউনি। এরকম তিন চারটে ঘর দেখল ওরা। তাহলে এখানকার বাসিন্দারা একরম ঘরেই থাকে। অবাক কান্ড! ঘরগুলো থেকে গাছের ডাল থেকে তৈরি মই লাগানো। ঐ মই বেঁধেই ওঠানামা।

ফ্রান্সিসরা ততক্ষণে দাঁড়িয়ে পড়েছে। একটা ঘর থেকে একজন বাদামি রঙের পুরুষ মুখ বাড়িয়ে ফ্রান্সিসদের দেখেই ই ই করে মুখে জোরে শব্দ করল। সঙ্গে সঙ্গে অন্য ঘরগুলো থেকে পুরুষরা হাতে গাছের ডাল কেটে তৈরী বর্শা নিয়ে মই বেয়ে দ্রুত নেমে আসতে লাগল। মই বেয়ে ওঠা নামায় ওরা অভ্যস্থ। কাজেই ফ্রান্সিসরা পালিয়ে আসার সুযোগ পেল না। ততক্ষণে বর্শা হাতে যোদ্ধারা ঘিরে ধরেছে। ফ্রান্সিস দু’হাতে ওপরে তুলে চীৎকার স্পেনীয় ভাষায় বলে উঠল–আমরা বন্ধু। তোমাদের শত্রু নই। যোদ্ধারা আর বর্শা ছুঁড়ে মারল না।

–পালিয়ে গেলে হত। শাঙ্কো মৃদুস্বরে বলল।

–এখন আর সম্ভব নয়। পালাতে গেলে আহত হব। বর্শা বুকে ঢুকে গেলে মরেও যেতে পারি। তার চেয়ে দেখা যাক এরা আমাদের নিয়ে কি করে। ফ্রান্সিস মৃদুস্বরে বলল।

একজন যোদ্ধা এগিয়ে এসে ফ্রান্সিসের গায়ে বর্শা খোঁচা দিল। ফ্রান্সিস ফিরে তাকাল। যোদ্ধা ওকে সামনের জঙ্গলের দিকে হাঁটতে ইঙ্গিত করল। ফ্রান্সিস রেগে গেল। কিন্তু কিছু বলল না। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে লাগল। শাঙ্কো আর সিনাত্রাও চলল।

কিছুদূর যেতে দেখা গেল চারপাঁচটা গাছের গায়ে শুকনো লতার ডালমত। সমস্ত জায়গাটতেই লতার জাল। ফুট পাঁচেক উঁচু। সেই যোদ্ধাটি এগিয়ে গেল। জালির গায়ে গাছের ডাল কেটে দরজামত বানানো। যোদ্ধাটি দরজা দিয়ে ফ্রান্সিসদের ভেতরে ঢুকতে ইঙ্গিত করল। ফ্রান্সিসরা একে একে ঢুকলো। ওপরের ডাল মাথায় লেগে যাচ্ছে। তিনজনে বসে পড়ল। ফ্রান্সিস দেখল আরোও তিনজন বন্দী ঐ জালঘরে আগে থেকেই রয়েছে। জালঘরের মেঝে বালিভরা। তার ওপর শুকনো ঘাস বিছানো। ফ্রান্সিস শুয়ে পড়তে পড়তে বলল–শাঙ্কো এরকম বিচিত্র কয়েদঘর আর কোনদিন হয়ত দেখবো না।

-হ্যাঁ। মনে হচ্ছে আমরা যেন জীবজন্তু। ফাঁদে ধরা পড়েছি।

–আমাদের মেরে ফেলবে না তো? সিনাত্রা ভয়ার্তস্বরে বলল।

সময় সুযোগ মত পালাবো। কিচ্ছু ভেবো না। শাঙ্কো বলল। যোদ্ধাটি দরজাটা শুকনো লতা দিয়ে বাঁধল। শাঙ্কো যোদ্ধাটিকে ইঙ্গিত ওদের সর্দার আছে কিনা জানতে চাইল। যোদ্ধাটি মাথা দোলাল। একজন যোদ্ধাকে পাহারাদার রেখে অন্য যোদ্ধারা চলে গেল।

ফ্রান্সিস মাথা তুলে চারিদিক এবার দেখে নিল। দেখল চারদিকেই গভীর জঙ্গ ল। সেই মোটা ভারিপাতার গাছের সংখ্যাই বেশি।

ফ্রান্সিস শুয়ে বসে সময় কাটাতে লাগল। দুপুর নাগাদ কয়েকজন যোদ্ধাকে নিয়ে একজন লম্বামত লোক জালঘরের দরজার সামনে এল। পাহারাদার তাকে দেখে ডান হাত তুলে নামল। ফ্রান্সিস বুঝল এই লোকটাই গোষ্ঠীপতি। ফ্রান্সিস এই। গোষ্ঠিপতির জন্যেই সাগ্রহে অপেক্ষা করছিল। গোষ্ঠীপতি ভাঙা ভাঙা স্পেনীয় শব্দে বলল–পরিচয়?

–আমরা বিদেশী ভাইকিং। জাহাজে চড়ে জাহাজ ঘাটায় এসেছি। ফ্রান্সিস বলল। গোষ্ঠীপতি মোটামুটি বুঝল। কিন্তু সত্যি বলে মেনে নিল না। দুপাশে মাথা নেড়ে বলল–ওরাইকাবু–একসঙ্গে শাস্তি।

–কী শাস্তি? শাঙ্কো বলে উঠল। গোষ্ঠীপতি এতক্ষণে একটু হাসল। বলল– দেখবে।

–কিন্তু আমাদের শাস্তি দেবেন

**********