
দর্পণের মুখ – রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়
রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়
দর্পণের মুখ – রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়
| রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় | |
| thriller |
Posted byপ্রিয়া দেব05-Aug-2025
Change color
সতীশকে আমি এড়িয়ে যেতেই চেয়েছিলাম, কিন্তু পারলাম না। তার আগেই ও আমাকে ধরে ফেলল। ধরে ফেলল মানে দেখে ফেলল। এবং দেখামাত্রই যেন পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের মুখোমুখি হয়ে গেছে হঠাৎ, এমনি মুখভঙ্গি করে বলে উঠল, ‘বাবু, আপনি এখানে?’
কোন কারণ ছিল না, তবু ধরা পড়ে যাওয়ার লজ্জা ঢাকার জন্যে কিনা কে জানে, মুখখানা আমার স্বতঃই একবার ও-সির শুন্য চেয়ারের সামনে টেবিলের ওপর কাগজপত্রগুলোর দিকে ঘুরে গেল। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে সতীশের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললাম, ‘এসেছি—এসেছি একটা কাজে।’
থানারই কেউ-একজনের মত গলায় সতীশ বলে উঠল, ‘কিন্তু বড়বাবু তো বেরিয়ে গেলেন।’ ‘জানি। আমাকে একটু অপেক্ষা করতে বলে গেলেন—এখুনি ফিরে আসবেন।’
‘বড়বাবুর সঙ্গে আপনার বুঝি আগে থেকেই চেনা-জানা আছে?’
সতীশের এই অহেতুক গায়ে-পড়া ভাবটা আমার ভাল লাগল না মোটেই। তবু ভদ্রতার খাতিরে নিজেকে যথাসম্ভব সংযত রেখেই জবাব দিলাম, ‘না, আজই প্রথম আলাপ হল।’
পাছে ঘরের মধ্যে সতীশ ঢুকে পড়ে এবং আমার কাছে দাঁড়িয়ে কোনরকম পরিচিতির সুযোগ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে, বিশেষ করে থানার আর-পাঁচজন অধস্তনের সামনে, সেই আশঙ্কায় সতীশকে ডিঙিয়ে আমি বেরিয়ে এলাম বাইরের ঘরটাতে। ঘরের পাখাটা যে ঘুরতেই থাকল, বেরিয়ে আসার সময় তাড়াতাড়িতে সেটা বন্ধ করতে পর্যন্ত খেয়াল রইল না আমার।
ধুলো-বালির আস্তরণ-পড়া পুরোন আমলের ভারী ভারী কাঠের আলমারি আর টেবিল-চেয়ার-বেঞ্চে ভর্তি ঘরখানায় তখন হিজিবিজি মানুষের এলোমেলো গলায় যেন একটা বিচ্ছিরি কলরোলের সৃষ্টি হয়েছে। ওধারের টেবিলে দুটো লোককে নিয়ে একজন সাব-ইন্সপেক্টর তখন খুবই চেঁচামেচি করছিলেন। লোক দুটো বোধ হয় দাগী আসামী। কোমরে দড়ি জড়িয়ে দুজনকে একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এধারে, একটা বেঞ্চের সামনে একজন ফিরিওলার সঙ্গে সিগ্রেট নিয়ে বচসা করে চলেছে একজন কনস্টেবল। একজন দেবে না, আরেকজন নেবেই। কোণের দিকে একটা টেবিলে ডায়েরী লিখতে ব্যস্ত একজন সাব-ইন্সপেক্টর, সামনেই তাঁর গেঞ্জি-গায়ে বসে এক ভদ্রলোক উত্তেজিত ভঙ্গিতে একনাগাড়ে বকে চলেছেন। ভদ্রলোকের পাশেই কিশোর বয়সের একটি ছেলে রক্তাক্ত কপাল নিয়ে কাতর। সঙ্গে ওরই বয়সী কি দু-এক বছরের এধার-ওধার আৱো জনাতিনেক ছেলে। ঘটনাটা হয় পাড়াসংক্রান্ত, কিংবা পারিবারিক। ভদ্রলোকের পেছনে, কিছুটা তফাতে একজন কনস্টেবল সমেত ময়লা থান-পরনে কৃশকায়া এক মহিলা, কোন বাড়ির কাজের লোক বোধ হয়, কাঁদো-কাঁদো মুখে দাঁড়িয়ে। দায়টা বাসনচুরির হলেও হতে পারে, কিংবা লকআপ থেকে জুয়াড়ী ছেলেকে খালাস করা।
জানলা দিয়ে পশ্চিমের চড়া রোদ এসে পড়েছিল টেবিলে, কিছুটা মেঝেয়। সাব-ইন্সপেক্টরের সিগারেটের ধোঁয়ায় গরাদের ছায়াগুলো রোদটাকে যেন সমান্তরাল রেখায় খণ্ড খণ্ড করে দিয়েছে। ধুলো উড়ছে, মাছিও এক-আধটা, পাখার হাওয়ায় গরম নিশ্বাস। এক কথায় সমস্ত পরিবেশটাই কেমন যেন অস্বস্তিকর, মাথা ধরে যাওয়ার মত। এই গুমোট থেকে খানিক হালকা হওয়ার জন্যে সদর-ফটকের দিকে এগোতে যাচ্ছি, ওধারের টেবিল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর ভদ্রলোক চড়া গলা খাদে নামিয়ে বলে উঠলেন, ‘আপনি যেন চলে যাবেন না স্যার, বড়বাবু এখুনিই এসে পড়বেন।’
সস্মিত মুখে আমিও জবাব দিলাম সঙ্গে সঙ্গে, ‘না, না, যাইনি কোথাও, এখানেই আছি।’
আড়চোখে একবার দেখে নিলাম সতীশকে। আমার পেছন পেছন এসে খানিকটা তফাতে থেমে পড়ে একজন কনস্টেবলের সঙ্গে ফিসফিস করে কিসব কথা বলছে। সতীশ যতই অবাক হোক না কেন, আমি কিন্তু এখানে তাকে দেখে একটুও আশ্চর্য হলাম না। মাসে মাসে এক-আধবার তাকে আসতেই হয় এখানে। আসতে হয় বটে, তবে কোন আসামী হিসেবে নয়। না গুণ্ডা-আইনের, না বোমাবাজির, ছিনতাই কিংবা চুরি-ডাকাতির। সে বয়সও আর ওর নেই। সতীশ এখানে আসে একটা বিশেষ কারণে, যে-কারণ জানেন এখানকার বড়বাবু এবং তারই অধস্তন কয়েকজন মাত্র কর্মচারী। এখানে আসলেই সতীশের বুক-পকেটটা চুপসে যায় বটে, কিন্তু বুকটা ফুলে ওঠে খুব। একটু আড়ালে গিয়ে ফিসফাস দু-চারটে কথা হয় বড়বাবুর সঙ্গে, অধস্তনরা চোখ বড় বড় করে কান খাড়া করে শোনে, তারপর তাদের কাছ থেকে অভয় পেয়ে সে যখন থানার বাইরে বেরিয়ে আসে, চিন্তার কোন ভাঁজই তার কপালে থাকে না। জীবনযাত্রার সঙ্গে মসৃণ হয়ে যায় সব কিছু।
বাইরে থানার কম্পাউন্ডে একটা গাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালাম। একধারে পুরোন ভাঙাচোরা রিক্সার সার, আরেক দিকে একটা ধুলোকাদা মাখা কোন্ মান্ধাতা আমলের মোটরগাড়ি দোমড়ানো-মোচড়ানো অবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। ওধারে খোলা জায়গাটায় ভুঁড়িওলা একজন হিন্দুস্থানী পৈতে-বার-করা খালি গায়ে মাটির ওপর ঠুকে ঠুকে খাটিয়া থেকে ছারপোকা ঝাড়ছে। আর, তারই সামনে দাঁড়িয়ে তারই এক দেশোয়ালী ভাই বাঁ-হাতে খৈনি ডলতে ডলতে একদৃষ্টে চেয়ে আছে সেদিকে।
চেয়ে আমিও ছিলাম, তবে চেয়েই ছিলাম। মন ছিল অন্য দিকে। ভাবছিলাম গতকালের ঘটনাটা। অর্থাৎ হঠাৎ কেমন বোকা বনে যাওয়ার ব্যাপারটা। অথচ আমি জন্মেছি কলকাতায়, মানুষ হয়েছি কলকাতায়, এবং অধুনা-কলকাতার হালচালও আমার অজানা নয়। তবু হঠাৎ কোথা দিয়ে যে কি ঘটে গেল, বুঝতেই পারলাম না। ঘড়ি খুইয়ে, টাকা-পয়সা ঘুচিয়ে যখন বাড়ি ফিরলাম, মনে হল আমি যেন আর আমাতে নেই। গিয়েছিলাম বিয়েবাড়ির একটা নেমন্তন্ন সারতে। কথায় কথায় ফিরতে রাত হয়ে গেল। রাস্তার মোড়ে এসে অনেকক্ষণ দাঁড়ালাম, কিন্তু বাস আসার কোন লক্ষণই যখন দেখলাম না, ভাবলাম চৌমাথার মোড়ে যাই, কোন-না-কোন গাড়ি পাবই। তখন রাত সাড়ে এগারটা প্রায়, ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে, পথে কোন লোক-চলাচল নেই বললেই চলে। হেঁটে গেলেও অনেকটা, তার ওপর বৃষ্টিতে ভিজতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই একখানা রিক্সা করলাম এবং সেই রিক্সাই যখন অন্ধকার রেলব্রিজের তলা দিয়ে চলেছে, হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ার মত তিনদিক থেকে কালো অন্ধকারের চেয়েও কালো তিনটে ছায়া বেরিয়ে এসে ঘিরে ধরল রিক্সাখানাকে। তাদের একজনের হাতে একখানা ছুরি, একজনের হাতে একটা লাঠি, বাকীজনের শূন্য হাত আমার ঘড়িওলা কব্জিটা ধরে।
‘টুঁ শব্দটি করেছ কি একদম খতম!’
‘ঘড়িটা চটপট খুলে ফেললা গুরু!’
‘পকেটে কি আছে, বের করো তো চাঁদু!’
রিক্সাওলার হতভম্ব মুখের দিকে তাকিয়ে তিনজনেরই আদেশ শিরোধার্য করে নিলাম। এবং বলা বাহুল্য, নিঃস্ব পকেট আর রিক্ত কব্জি নিয়ে যে কি বিমূঢ় আচ্ছন্নতার মধ্যে বাড়ি ফিরলাম, তা অবর্ণনীয়। টাকা-পয়সা আমার বিশেষ কিছু ছিলও না, চিন্তাও করি না আমি তার জন্যে, কিন্তু ঘড়িটা আমার বিয়ের যৌতুক এবং বেশ দামীও বটে।
পরদিন অফিসে গিয়ে আমার এক রিপোর্টার বন্ধু নিখিলেশকে সমস্ত ঘটনাটা খুলে বললাম। শুনেই নিখিলেশ বললে, ‘থানায় একটা ডায়েরী করিয়েছিস?’
‘থানায় ডায়েরী করিয়ে কি লাভ বল? শুধু শুধু হয়রান হওয়া।’
‘নাঃ, তুই দেখছি এখনও সেই ভাল মানুষ প্রফেসরই রয়ে গেছিস। শুধু শুধু হয়রান হতে যাবি কেন? তুই সংবাদপত্রের একজন রিপোর্টার, তুই তো জানিস, রিপোর্টারদের পুলিশে কি-চোখে দেখে। তোর মাল খোয়া গেছে জানলে, পুলিশ নিশ্চয়ই চেষ্টা করবে উদ্ধার করতে। আর, পুলিশ পারে না হেন কাজ আছে নাকি?’
‘কিন্তু’
আমাকে থামিয়ে দিয়ে নিখিলেশ ফের বলে উঠল, ‘আচ্ছা, দাঁড়া, দাঁড়া, আমিই দেখছি চেষ্টা করে। ডি-ডি-র স্ন্যাচিং-এ আমার এক ইন্সপেক্টর বন্ধু আছে। অলোক—অলোক সান্যাল। দেখি, তাকে পাই কিনা।’
বাঁ হাতে ফোনের রিসিভারটা তুলে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ডায়াল করতে শুরু করল নিখিলেশ। একবার, দুবার, তিনবার। চারবারের বার অলোককে কানেকশানে পেয়েই কথা বলতে আরম্ভ করল সে। গড়গড় করে ঘটনাটা বিবৃত করবার পর, ওপার থেকে অলোক সান্যাল কি বললেন জানি না, তবে মুখের কাছ থেকে রিসিভারটা সরিয়ে নিখিলেশ আমায় জিজ্ঞেস করলে, ‘ছোঁড়াগুলোকে দেখলে তুই চিনতে পারবি?’
বললাম, ‘সবাইকে পারব না, তবে যে ছেলেটি আমার পকেট হাতড়ে টাকা-পয়সাগুলো বের করেছিল, তাকে বোধ হয় চিনতে পারব। কেননা, অন্ধকার হলেও মুখটা তার খুবই চেনা-চেনা মনে হয়েছিল আমার।’
রিসিভারটা আবার মুখের কাছে ধরল নিখিলেশ। জানাল খবরটা। তারপর খানিক চুপ থেকে সেটা নামিয়ে রেখে বলল, ‘তুই এক কাজ কর। ঘন্টাখানেকের মধ্যে তুই চলে যা একবার লোকাল থানায়। আগে একটা ডায়েরী করিয়ে দিবি, তারপর সোজা গিয়ে দেখা করবি ও-সি-র সঙ্গে।’
এক ঘণ্টায় হল না, হেস্টিংসে একটা রিপোর্টিংয়ের কাজ সেরে থানায় পৌঁছতে পৌঁছতে আমার প্রায় ঘন্টা দুই লেগে গেল। বাইরের ঘরে সাব-ইন্সপেক্টরের কাছে ডায়েরী লেখাবার জন্যে প্রসঙ্গটা পারতেই তিনি বেশ সম্ভ্রমের সঙ্গেই বলে উঠলেন, ‘ও, আপনিই সেই মিস্টার চ্যাটার্জি? বসুন—বসুন…আচ্ছা, বসতে হবে না, আপনি একেবারে সোজা ওই সামনের ঘরে বড়বাবুর কাছে চলে যান। উনি আপনার জন্যেই অপেক্ষা করছেন।’
বুঝলাম, লালবাজার থেকে ইতিমধ্যেই এখানে খবর পৌঁছে গেছে।
মিস্টার ও-সি-র আপ্যায়নেও কোন ত্রুটি পেলাম না। বেশ আন্তরিকতার সঙ্গেই সমস্ত ঘটনাটা একবার আমার মুখ থেকে নিজের কানে শুনে নিলেন তিনি। তারপর সবেমাত্র কিছু বলতে যাবেন, এমন সময় টেলিফোনটা হঠাৎ বেজে উঠল। প্রচণ্ড বিরক্তির সঙ্গে রিসিভারটা কানে তুলে নিলেন তিনি, কথা বললেন কিছুক্ষণ, তারপর একসময় বেশ উত্তেজিত ভাবেই দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, ‘আচ্ছা, আমি এখুনি আসছি।’ রিসিভারটা ঝনাৎ করে নামিয়ে রেখে আমার দিকে তাকিয়ে ঈষৎ লজ্জিত গলায় বললেন, ‘আপনি দয়া করে একটু বসুন স্যার, আমি এখুনি ঘুরে আসছি। একটা জরুরী কেস আছে। দিনকাল যা হয়েছে, একটা বেলা যায় না, যেদিন কোন-না-কোন গণ্ডগোল—’
কথা শেষ না করেই ভদ্রলোক চেয়ারের পাশ থেকে সরে এলেন এবং দরোয়াজাকে ইশারা করে কি বলে দ্রুতপায়ে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। ব্যস্ত মানুষ ও-সি তাঁর সীট ছেড়ে উঠে দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক সৌজন্যে আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং তাঁকে অনুসরণ করে দৃষ্টিটা আমার ঘরের দরজাগোড়ায় পৌঁছতেই হঠাৎ যেন আটকে গেল।
সেই পরিচিত চেহারা। গায়ে নীল হাফশার্ট, পরনে আধময়লা খাটো ধুতি, পায়ে টায়ারের চপ্পল। মাথায় ছোট করে ছাঁটা কাঁচা-পাকা কোঁচকানো চুল, গালে দিন তিন-চারের জমা দাড়ি, মুখে নিরীহ নিস্পৃহ ভাব, কিন্তু চোখজোড়ায় চারদিকে নজর রাখা দৃষ্টি। শরীরটা ইদানীং প্রচণ্ড রকম ভেঙে গেলেও চিনতে সতীশকে আমার এতটুকুও অসুবিধে হল না।
একটা সময় ছিল যখন সতীশের সঙ্গে আমার প্রতিদিন দুবেলা দেখা হত। কিন্তু আজ বছর তিনেক হল ওর সঙ্গে আমার কোন যোগাযোগ নেই। না, কোন ঝগড়া বা বাকবিতণ্ডা তার সঙ্গে আমার হয়নি, একজনের হয়ে সালিশী মানতে গিয়ে সতীশের ব্যবহারটা আমার কাছে এমনই অশোভন আর অশালীন ঠেকেছিল যে বাধ্য হয়ে আমি তার কাছ থেকে দূরে সরে এসেছি। ঘটনার দিন কয়েক পরে, পরপর ক’দিন সে আমার বাড়িতে হানা দিয়েছিল অবশ্য, জানি না, নিজের ভুল বুঝে ক্ষমা চাইতে, নাকি একজন বাঁধা খদ্দের হাতছাড়া হবার সম্ভাবনায়, কিন্তু আমি দেখা করিনি বা দেখা করার কোন প্রয়োজনও বোধ করিনি।
সতীশের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বন্ধুত্বের নয়, পরিচিতের। তার আদি পরিচয় সে খবরের কাগজের একজন হকার, আর আমি তার একজন নিয়মিত খদ্দের। দীর্ঘকালের আনাগোনায় যা হয়, অর্থাৎ ভদ্র সম্পর্ক, ঠিক তাই ঘটেছিল, তার বেশি কিছু নয়। শুনেছি, ছেচল্লিশের দাঙ্গার পর সে যখন একেবারে নিঃস্ব অবস্থায় কলকাতায় চলে আসে, তখন নাকি খুবই দুরবস্থার মধ্যে দিন কেটেছে তার। তারপর একদিন সামান্য কিছু টাকা সংগ্রহ করে সে শুরু করে দেয় খবরের কাগজ বেচার ব্যবসা। এবং তাই থেকেই একদিন অকুল পাথার থেকে সে তার বুড়ো বাবা-মা আর ছোট ছোট দুটো ভাইকে ডাঙায় এনে তোলে। তবে আমার সঙ্গে যখন আলাপ, তখন তার বাবা-মা দুজনেই স্বর্গে গেছেন, ছোট ছোট ভাই দুটোও বড় হয়ে আলাদা হয়ে গেছে। সতীশ তখন বিবাহিত এবং দুটি সন্তানের জনক। এবং একটি রমরমা বইয়ের দোকানের মালিক।
সতীশের দোকানটা একেবারে চৌমাথার মোড়ে। বাজারের কোণায়, ট্রাম এব