টুনি মেম

টুনি মেম

সৈয়দ মুজতবা আলী

টুনি মেম

Books Pointer Iconসৈয়দ মুজতবা আলী
Books Pointer Iconshort story

Posted bySmita Biswash14-Jun-2025

Change color

বেশি দিনের কথা নয়, হালের। পড়িমড়ি হয়ে শেয়ালদায় আসাম লিঙ্কে উঠেছি। বোলপুরে নাবব। কামরা ফাঁকা। এককোণে গলকম্বল মানমুনিয়া দাড়িওয়ালা একটি সুদর্শন ভদ্রলোক মাত্র। তিনি আমার দিকে আড়নয়নে তাকান, আম্মো।

একসঙ্গেই একে অন্যকে চিনতে পারলুম।

আমি বললুম, খান না রে?

সে হাকল, মিতু না রে?


যুগপৎ উল্লম্ফন, ঘন ঘন আলিঙ্গন। পাঠশালে পাশাপাশি বসতুম। তার পর এই তিরিশটি বছর পরে দেখা। প্রথম উচ্ছ্বাস সমাপ্ত হলে জিগ্যেস করলুম, তুই এ রকম বদখদ দড়ি-দাঁড়া রেখেছিস কেন?


খানটা ওই পাঠশালার যুগেও ছিল হাড়ে টক শয়তান। প্রশ্ন শুধালে ইহুদিদের মতো পাল্টা প্রশ্ন জিগ্যেস করে, উত্তরটা এড়িয়ে যায়। শুধাল, দাঁড়া কারে কয়?


হাঁড়ি বড় সাইজের হলে হাঁড়া হয়, গাড়ি গাড়া। দাড়ি হিন্দি-উর্দুতে স্ত্রীলিঙ্গ!–কিন্তু দাঁড়া পুংলিঙ্গ। তোরটা দাড়ি নয়, দাঁড়া।


অবশ্য অস্বীকার করিনে, তাকে দেখাচ্ছিল গত শতাব্দীর ফরাসি খানদানিদের মতো। খানের রঙ প্যাটপেটে ফর্সা। গায়ে প্রচুর পাঁঠার রক্ত। শুধালুম, তা তোর পাকিস্তান ছেড়ে এই না-পাক দেশে এসেছিস কী করতে?


আজমিরের খাজা মুঈন-উদ-দীন চিশতির কাছে মানত করেছিলুম, বাবার আশীর্বাদে আল্লা যদি আমাকে এসৃপি-তে প্রোমোশন করেন তবে বাবার দরগা দর্শনে যাব, ভালো-মন্দ যা আছে তাই দিয়ে শিরনি চড়াব। সেই সেরে ফিরছি। এই নে প্রসাদি-গোলাপের পাপড়ি।


আমি মাথায় ছুঁয়ে বললুম, ও! তুই বুঝি পুলিশে ঢুকেছিলি?


বলল, হ্যাঁ, সাব-ইন্সপেকটর হয়ে।


আশ্চর্য হয়ে শুধালুম, বলিস কী রে? আর এরই মধ্যে এসপি।


প্রসাদির পাপড়ি মাথায় ঠেকিয়ে বলল, খাজা মুঈন-উদ-দীন চিশতির দোওয়া আর হিন্দুদের কৃপায়!


হিন্দুদের কৃপায়!


হ্যাঁ ভাই, তেনাদেরই কেরপায়। তেনারা যদি পূর্ব বাঙলার পুলিশের ডাঙর ডাঙর নোকরি ছেড়ে ঝেঁটিয়ে পশ্চিম বাঙলা আর আসামে না চলে যেতেন তা হলে আমি গণ্ডায় গণ্ডায় প্রমোশন পেতুম কী করে? তারা থাকলে হয়তো অবিচার করে আমাকে দু একটা না-হক প্রোমোশন দিত, কিন্তু একদম দিনকে রাত, রাতকে দিন তো করা যায় না। আর তুই তো বিশ্বাস করবিনে– তুই চিরকালই সন্দেহপিচাশ, যে কটি হিন্দু রয়ে গেল তারা গণ্ডায় গণ্ডায় না হোক জোড়ায় জোড়ায় প্রোমোশন পেয়েছে। জানিস, মণ্ডল সিভিল সার্জন হয়েছে?


আমি ভিরমি যাই আর কি। গাড়ল ফোঁড়াটি পর্যন্ত কাটতে জানত না।


খান বলল, সব তো শুনলি। তোর বইও আমি দু চারখানা পড়েছি। আচ্ছা বল তো, এসব বানিয়ে বানিয়ে লিখিস, না কিছু কিছু দেখা-শোনার জিনিস, অভিজ্ঞতার বস্তু?


কিছুটা বানিয়ে, কিছুটা অভিজ্ঞতা থেকে।


তাজ্জব! অমি তো ভাই বিস্তর খুন-খারাবি দেখলুম। এক-একটা এমন যে, আস্ত একখানা উপন্যাস হয়। কিন্তু তারই রিপোর্ট লিখতে গেলে আমার তালুর জল আর নিবের কালি শুকিয়ে যায়। কী করে যে তুই লিখিস।


আমি বললুম, আমাকেও যদি সুদ্ধমাত্র ফ্যাক্টের ভিতর নিজেকে সীমাবদ্ধ করে লিখতে হত তা হলে আমার রিপোর্টটা হত তোর চেয়েও ওঁচা। কল্পনা এসে উৎপাত করত। তা সেকথা যা গো আমার দিনকাল বড্ডই খারাপ যাচ্ছে প্লটের অপর্যাপ্ত অনটন। সম্পাদক মিঞা আবার গল্পই চান, ইলসট্রেট করবেন। বল না একটা।


দাড়ির ভিতর দিয়ে আঙুল চালাতে চালাতে বলল, কোনটা বলি, কেসগুলো তো মাথার ভিতর আবজাব করছে। আচ্ছা দাঁড়া, ভেবে নিই।


এমন সময় সিগনেল অভাবে ট্রেন খামোকা মাঝপথে দাঁড়াল। খান বাইরের দিকে তাকিয়ে বলল, এরা কী জাত রে?


তাকিয়ে দেখি, মিশকালো সাঁওতাল মেয়ে তার ওপর মেখেছে প্রচুর তেল। শাড়ির উপর বেঁধেছে গামছা, উত্তমাঙ্গে চোলিফোলি কিছু নেই, নিটোল দেহ, সুডোল ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষেরটা বোঝা গেল পরিষ্কার, কারণ, হাতদুটি যতদূর সম্ভব উঁচু করে পলাশ ফুল পাড়বার চেষ্টা করছিল খোঁপায় গুজবে বলে। হলদে পলাশ। এ অঞ্চলে লালের তুলনায় ঢের কম। কী জানি, মেয়েটা হয়তো ভেবেছে, লাল-কালোর চাইতে হলদে-কালোর কন্ট্রাস্টে খোলতাই বেশি।


বললম, সাঁওতাল। হ্যাঁ, আমাদের দেশে অতদুর ওরা পৌঁছয়নি। কিংবা হয়তো ছিল এককালে। কাল যে-রকম হিন্দু পুব বাঙলা ছেড়ে চলে এল, এরা হয়তো পরশু।


খান দেখি, আমার কথায় বিশেষ কান দিচ্ছে না। আপন মনে কী যেন ভাবছে। ওস্তাদ গাওয়াইয়া যে-রকম গান শুরু করার পূর্বে হঠাৎ কেমন যেন আনমনা হয়ে যান। তখন বিরক্ত করতে নেই।


গাড়ি ছাড়ল। একটু কাছে এসে বলল, ওই কালো মেয়ে আরেকটি মেয়ের কথা আমার স্মরণে এনে দিল। তার রঙ ছিল এর চেয়েও কালো। কিন্তু সে কী কালো! সব রঙের অভাবে নাকি কালো হয়! হ্যাঁ তাই; কোনও রঙই সাহস করে তার শরীর চড়াও করতে পারেনি। আমি তাকে দেখেছিলুম তার শারীরিক মানসিক চরম দুরবস্থায়। তবু চোখ ফেরাতে পারিনি। হিন্দুরা কেন যে কালী কালী করে তখন বুঝতে পেরেছিলুম।


গাড়ি বর্ধমানে এসে থামল। বর্ধমানে আমি গত সাত বছর ধরে অর্ডার দিয়ে কখনও কেলনারের কাছ থেকে চা-আণ্ডা পাইনি। কাজেই ফর সেফটিস সেক প্রথমেই ভাঁড়ের চা কিনে রাখলুম। বিস্তর ছুটোছুটি করে কিছু-কিঞ্চিতের জোগাড় হল। স্থির করলুম, বোলপুরে খানকে একটা পুরা পাক্কা খানা তুলে দেব। সেখানকার গোসাই আমাকে নেকনজরে দেখে।


গাড়ি ছাড়তে খান বলল, আমি তখন আব্রুগড়ে। এসৃআই– আমরা বাঙলায় লিখি এছাই। রোজ থানায় বসে ভাবি, ইয়া আল্লা, চাকরির এ দুস্তর দরিয়া পেরিয়ে কবে গিয়ে এমন মোকামে পৌঁছব যেখানে হরহামেশা পয়সাটা-আধলাটার হিসাব না করতে হয়। ঘুষ খেতে তখনও শিখিনি–


আমি শুধালুম, এখন শিখেছিস? তা—


বললে, হ্যাঁ, তবে সে অন্য ধরনের। পরে তোকে বুঝিয়ে বলব।


আব্রুগড় বড় মনোরম জায়গা। অনেকটা শিলঙের মতো উঁচু-নিচুতে ভর্তি, টিলাটালার টক্কর। কোন্ এক সায়েব নাকি মালয় না, কোথা থেকে কৃষ্ণচূড়া এনে এখানে পুঁতে দেয়। এখন শহরটা আগাপাশতলা তাই দিয়ে ভর্তি। শহরটা এমনিতেই সবুজ, তার ওপর এল গোলমোরের কালো সবুজ আর তার মাঝখানে ফুটে ওঠে বাড়িগুলোর পোড়া লালের টাইলের ছাদ।


চতুর্দিকে অজস্র চা-বাগান আর তেলের খনি। সায়েব-সুবো, বেহারি-মারওয়াড়িতে শহরটা গিসগিস করছে। আর খাস আসামিদের তো কথাই নেই তারা বড়, বড় সরল। আব্রুগড়ের বটতলাতে চার আনা দিয়ে মিথ্যে সাক্ষী পাওয়া যেত না। আমাদের দেশে আকছারই যা যায়। এখন কী অবস্থা তা অবশ্য জানিনে।


বড়কর্তা বলেছিলেন, কিছু একটা জবরদস্ত নতুন না করতে পারলে কুইক প্রোমোশন হয় না। জবরদস্ত নতুন করবটাই-বা কী? এখানে খুন-খারাবি হয় অত্যল্প। উঠোনই নেই তো আমি নাচি কী করে!


তাই থানায় বসে বসে পুরনো দিনের খাতাপত্র দেখি, ফাইল পড়ি। সেইটেই একদিন লেগে গেল কাজে। পরে বলছি।


আমার চেনা এক রাজমিস্ত্রি আমায় রাস্তায় দাঁড় করিয়ে একদিন বলল, মোল্লাবাজারের পিছনে উঁচু টিলার উপর যে খালি বাঙলো আছে তার বাবুর্চিখানার ভিত মেরামত করতে গিয়ে সে একটা লাশ আবিষ্কার করেছে– ঠিক লাশ নয়, কঙ্কালই বলা যেতে পারে– পচা ছেঁড়া কম্বল জড়ানো।


রক্তের সন্ধান পেয়ে বললুম, তুমি ওখানে যাও। হঠাৎ যেন আবিষ্কার করেছ এই ভাব করে আমাকে খবর পাঠাও।


তা না হলে পরে প্রমাণ করতে হবে, ওটা সত্যই সেখানে ছিল, বাইরের থেকে এনে কেউ চাপায়নি।


জিনিসটা যে খারাবি, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বাবুর্চিখানার নিচে কম্বলৈ জড়ানো পোঁতা কঙ্কাল! এখানে কস্মিনকালেও কোনও গোরস্তান ছিল না–টিলার ঢালুর দিকে কতটুকু জায়গা যে, ওখানে মানুষ গোরস্তান বানাতে যাবে। তা হলে এটা নিশ্চয়ই খুনের ব্যাপার। শুধু খারাবি নয়, খুন-খারাবি।


আমি বললুম, সাক্ষাৎ শার্লক হোমস।


শুধলে, সে আবার কে?


আমি প্রথমটায় হকচকিয়ে পরে সামলে নিয়ে বললুম, তুমি এগোও; আমি আর রসভঙ্গ করব না।


বলল, প্রথম রক্তের সন্ধান পেয়ে আমি যেন হন্যে হয়ে উঠলুম। সমস্ত রাত ঘুম হল না। মাথার ভিতর ঘুরছে, কত রকম নর-হত্যার ছবি, যেন স্বয়ং পাঁচকড়ি দে সেগুলো এঁকে যাচ্ছেন, আর দীনেন্দ্রকুমার রায় আপন হাতে রঙ গুলে দিচ্ছেন। বেবাক লালে লাল।


আমি বললুম, রসভঙ্গ করতে হল। অপরাধ নিসনি। হোমস্ হল বিলিতি অরিন্দম।


খান বলল, তাই বল। কিন্তু তুই ভাবিসনে, তোকে একটা রগরগে খুনের কাহিনী শোনাতে যাচ্ছি মাত্র। এতে আছে বড় দুঃখের কথা। বড় বিষাদ বেদনা। স্বর্গ আমি দেখিনি, কিন্তু স্বর্গচ্যুত হতভাগ্য একজনকে আমি দেখেছি। সে দৃশ্য আর কারও দেখবার দরকার নেই।


কী বলছিলুম? হ্যাঁ। ভোর হতে-না-হতেই আমি থানায় এসে উপস্থিত। কিন্তু মূর্খের মতো আমি রাজমিস্ত্রিকে বলে রাখিনি, সে কখন আসবে। সে যদি এসে ফিরে যায়; কিংবা কেসটা হাতছাড়া হয়ে যায়!


আজ হাসি পায়। রাতদুপুরে এখন যদি জমাদার এসে খবর দেয়, পদ্মার চরে ডাকাতিতে পাঁচটা চরুয়া আর তিনটে ডাকাত মারা গিয়েছে, আমি তা হলে পাশবালিশ জাবড়ে ধরে বলি, যা-যা, দি করিসনি!


রাজমিস্ত্রি হেলেদুলে বেলা প্রায় বারোটায় এলেন আমাকে আষ্ট ঘণ্টা দগ্ধানোর পর।


যেন সদ্য এইমাত্র ফার্স্ট ইনফর্মেশন পেয়েছি, এরকমধারা মুখের ভাব করে দুটি কনস্টেবল সঙ্গে নিয়ে অকুস্থলের দিকে রওনা দিলুম। গিয়ে দেখি অত্যন্ত কুস্থান, অর্থাৎ অকুস্থানই বটে।


আমি বললুম, ওই মলো। অকুস্থান হয়েছে আরবি, ওয়াকেয়া, অর্থাৎ ঘটনা আর স্থান নিয়ে।


খান বলল, থাক্ থাক্‌, আর বিদ্যে ফলাতে হবে না। অকুস্থলের হালটা ভালো করে শোন।


তিন বছর ধরে বাঙলোটায় বসতি ছিল না বলে বাবুর্চিখানার দোর-জানালা চুরি গিয়েছে, ঘরটা পড়ো-পড়ো। কে এক নতুন সাহেব আসবে বলে ওটার ভিত মেরামত করতে গিয়ে বেরিয়েছে একটা কঙ্কাল, পচা কম্বলে জড়ানো। মাথার চুল ছাড়া আর সব পচে মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। আমি নয়া শিকারির মতো সন্তর্পণে এগোলুম বলে খুলির ভিতর মাটির মধ্যে পেয়ে গেলুম একটা বুলেট– তখন ভালো করে তাকিয়ে দেখি, খুলির পিছনের দিকে একটা ওই সাইজের গর্ত।


আব্রুগড়ে গণ্ডায় গণ্ডায় স্পেশ্যালিস্ট নেই যে, আমায় তদ্দণ্ডেই বাৎলে দেবে, ব্যাপারটা কী, অন্তত এই যে কঙ্কাল, এর লাশটা কবে মাটিতে পোঁতা হয়েছিল। শহরের অ্যাসিস্টেন্ট সার্জন আমাদেরই জেলার ধীরেন সেন! তাঁকে ধরে এনে শুধালুম। বললেন, অন্তত তিন বছর। বিচক্ষণ লোক। রায়টা দিলেন কঙ্কাল উপেক্ষা করে, কম্বলটা উত্তমরূপে পরখ করে।


তা হলে প্রশ্ন, তিন বছর পূর্বে ওই বাঙলোয় থাকত কে– যার সময় ঘটনাটা ঘটেছিল?


খবর পাওয়া গেল, আইরিশম্যান পেট্রিক ও’হারা সাহেব। সে এখন কোথায়? জেলে। কেন? সে-কথা জেনে কি পুলি-পিঠের নেজ গজাবে?


আমার মন ক্ষণে এদিকে ধায়, ক্ষণে ওদিকে ধায়। বন্ধ ঘরে আগুন লাগলে মানুষ যেমন মতিচ্ছন্ন হয়ে ক্ষণে এ-দরজায়, ক্ষণে ও-জানালায় ধাক্কা দেয়– কোনও একটাও ভালো করে একাগ্রমনে খোলবার চেষ্টা করে না– আমার হল তাই। কোনও একটা ক্লু পাঁচ মিনিটের তরেও ঠিকমতো ফলোআপ করতে পারিনে।


এখন জ্ঞানগম্যি হয়েছে ঢের। এখন বুদ্ধি হয়েছে বলে বুঝেছি যে, এসব রহস্য সমাধান বুদ্ধির কর্ম নয়। রুটিনের ঘানিতে সবকিছু ফেলে দিতে হয়। তেল বেরিয়ে আসবেই আসবে, সমস্যা সমাধান হবেই হবে।


যে-কাজ আজ পাঁচ মিনিটে করতে পারি, তখন লেগেছিল এক হপ্তা। ততদিনে প্রশ্নগুলো মোটামুটি সামনে খাড়া করে নিয়েছি :


(১) লোকটা কে?


(২) এটা খুন তো?


(৩) কে খুন করল?


(৪) কার বন্দুকের গুলি?


কঙ্কাল থেকে মানুষ শনাক্ত অসম্ভব না হলেও বড়ই কঠিন। তন্ন তন্ন করেও আঙটি-টাঙটি, বাঁধানো দাঁত, ডেন্টিস্টের কোনও প্রকারের কেরানি কিছুই পাওয়া গেল না। ব্লাঙ্কো!


আমি তো এ শহরে এসেছি মাত্র কয়েক মাস হ

**********