
তিন ভুবনের পারে
সমরেশ বসু
পর্ব ১
এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে, যেন সেদিনের কথা। অবিশ্যি সেদিন ছাড়াই বা কী। সাকুল্যে আট বছরও হয়নি। যদিও, কারুর জীবনে আট বছর আট যুগ, কারুর জীবনে আট বছর আট পল, মুহূর্ত মাত্র। জীবনের বেগ যেখানে ছুটিয়ে নিয়ে চলেছে, তা সেই বেগ যে-কোনওরকমেই হোক, সেখানে আট বছর সময়ের হিসেবে সামান্য। সরসীর জীবনেও আট বছরটা তেমনি। জীবনের বেগটা এই আট বছরের মধ্যে, শুধু যে বাইরের দিকে ছুটিয়েছে, তা নয়। বরং বাইরেটাকে অনেকখানি ছোট করেই দেখা যায়। কারণ সেখানে ছিল জীবনধারণের নিতান্ত নিয়মে বাঁধা প্রাত্যহিকতা। তেমন একটা গ্লানি যদিও বোধ করেনি সেই বাঁধাধরা নিয়মতান্ত্রিকতায়, তবু কখনও কখনও শুষ্ক বোঝা বলে মনে হয়েছে বইকী।
আসল বেগটা ছিল সরসীর মর্মে। বেগ ছিল ওর প্রাণে, জীবনের সকল স্বপ্নের মূলে। আরও গভীর করে বলতে গেলে, বলতে হয়, বেগ ছিল ওর রক্তে। জীবন ও যৌবন, একত্রে সফল করে তোলার সাধনা, কত জনের ভাগ্যে জুটেছে। প্রতিটি ধাপে ধাপে, তাকে সার্থক করে তোলার অমন সুখের ব্যথা সুখের যাতনা কজনেই বা ভোগ করেছে। না, ব্যথা ভাবছে কেন সরসী, যাতনা ভাবছে কেন। প্রতিটি ধাপের সার্থকতা তাকে তো গভীর আনন্দই দিয়েছে। আট বছরের প্রতিটি মুহূর্তের সংগ্রাম ও উত্তেজনা তো তাকে কোনও ব্যর্থতার মুখোমুখি নিয়ে যায়নি। তবে কেন ব্যথা ভাবে সরসী, যাতনা ভাবে। আট বছরের প্রতিটি দিনে ও মুহূর্তে, সে যা চেয়েছে, তা-ই হয়েছে। এই সার্থকতার পিছনে যে কষ্ট ছিল, তাকে কষ্ট বলে কেউ ভাবে নাকি। মিন্টুকে, ছেলেকে যে সে জন্ম দিয়েছে, এখন ছেলের মুখ দেখে কি একবারও সেই শারীরিক কষ্টের কথা মনে হয়। ব্যথা ও যাতনা, হাসপাতালের আটচল্লিশ ঘণ্টার সেই দূঃসহ কষ্টের কথা, চোখের ওপরে, বুকে পাষাণভার চাপিয়ে যেন অন্ধকার মৃত্যু নেমে আসছিল, সে কথা কি এখন একবারও মনে হয়। এখন যেন মনে হয়, মিন্টুর কচি কোমল মুখ,নতুন দাঁতের দুষ্টু পবিত্র উজ্জ্বল হাসিটুকুই সব। আর সবকিছুই মিথ্যা।
না, যাতনা নয়, ব্যথাও নয়, আট বছরের অতীত, সরসীর সফল স্বপ্নের সুখ। সার্থক হয়েছে বলেই তো, আট বছর আটটি পল মাত্র মনে হয়। মনে হয়, এই ঘরে, এই খাটের পাশে দাঁড়িয়ে সে দেখেছিল, বন্ধুদের ডাক শুনেই সুবীর লাফিয়ে উঠেছিল বিছানা থেকে। চিৎকার করে জবাব দিয়েছিল, যাই, তোরা বাইরের ঘরে বোস।
বলেই সে নতচোখের কোণ দিয়ে চকিতে একবার সরসীর দিকে দেখে নিয়েছিল। সরসী ওর দিকেই স্থিরচোখে তাকিয়ে ছিল। সুবীর আড়ষ্ট হয়ে উঠেছিল। আর সেই আড়ষ্টতাকে ঝেড়ে ফেলবার জন্যেই যেন, কপালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া চুলের গুচ্ছে একটা ঝাঁকানি দিয়ে নিয়েছিল। বুক-খোলা শার্টের বোতামগুলো ছিল ভোলা। পায়জামা ময়লা কোঁচকানো। বাইরের ধুলোবালি-ময়লা তখনও হাতে-পায়ে লেগে। তাড়াতাড়ি আলমারির পাল্লা খুলে, তাসের বাকস বের করে, পা বাড়িয়েছিল বেরিয়ে যাবার জন্যে।
সরসী ওর ডাক নাম ধরে ডেকে উঠেছিল, মন্টু, আজ খেলতে যেও না। আমি ওদের বারণ করে দিয়ে আসছি।
সুবীর রাগে ফেটে পড়েছিল। বলেছিল, তুমি বারণ করলে কী হবে, আমি নিজেই তো ওদের আসতে বলেছি। পাঁচ দিন তো একদম বসিনি। আজ আমি একটু খেলবই।
সরসী চোখ নামায়নি। স্থিরচোখে তাকিয়েছিল। সুবীরও তাকিয়েছিল। কয়েক মুহূর্ত পরেই, ভুরু সিদুরের টিপ কাঁপিয়ে সরসী হেসেছিল নিঃশব্দে, অনুনয়ের হাসি। বলেছিল, লক্ষ্মীটি, বোঝ না কেন, আজ ওদের ফিরে যেতে বলে। তুমি নিজেই বলেছিলে, ইংরেজির নোটটা আজ যেমন করেই হোক, তুমি তুলবেই তুলবে। জান তো, পরীক্ষার আর বেশিদিন বাকি নেই।
কিন্তু সুবীর মোটেই নরম হয়নি, বরং পা দাপিয়ে প্রায় চিৎকার করে উঠেছিল, এঃ, কোথাকার মাস্টারনি এলেন, উনি আমাকে এখন পরীক্ষার পড়া পড়াতে বসাবেন। খেলতে আমি যাব, দেখি তুমি কী করো।
তুমি জান, আমি কিছুই করব না। আমার চেয়ে তুমিই ভাল জান, না পড়লে তুমি ফেল করবে।
করি করব। পৃথিবীতে সবাই কিছু লেখাপড়া শিখে দিগজ হবার জন্যে জন্মায়নি। তুমি দয়া করে আমার পেছনে অষ্টপ্রহর ফ্যাক ফ্যাক কোরো না।
সরসী গম্ভীর দৃঢ় গলায় বলেছিল, তা আমি করব মন্টু, যতক্ষণ এ বাড়িতে আছি, এঘরে আছি, ততক্ষণ আমি চুপ করে থাকব না। তাতে তুমি আমাকে মাস্টারনি বলল, আর যা খুশি বলো।
সরসীর অনমনীয়তায় সুবীরের রাগ পড়েনি, বরং আরও নির্দয় হয়ে উঠেছিল। যা খুশিটা আবার শুনলে কোথায়, মাস্টারনিকে মাস্টারনি বলব না তো, মেথরানি বলব নাকি?
সুবীর যত বাধা পাচ্ছিল, ততই সরসীকে অপমান করার জন্যে রাগে অন্ধ হয়ে উঠছিল। সরসী সে কথা বুঝতে পারছিল, তবু, কিছুতেই ক্ষমা করতে পারেনি, চুপ করে সরে যেতে পারেনি। তার মুখে রক্ত ছুটে এসেছিল। বলেছিল, তোমার ভাষা যেরকম ইতরের মতো, তাতে যা খুশি তুমি তা-ই বলতে পারো। তবু আমি বলব, আই এ পরীক্ষা তুমি যদি এবার দিতে চাও, তা হলে এখন তোমার তাস-পাশা নিয়ে থাকলে চলবে না। তোমাকে পড়তে বসতে হবে। কিন্তু তুমি কচি খোকা নও যে তোমাকে ধরে ধরে পড়তে বসাতে হবে। তোমার যা ইচ্ছে তাই করো।
সুবীর চেঁচিয়ে উঠেছিল, তাই যাচ্ছি। তুমিই কথা বলাচ্ছ আমাকে।
সুবীরের সেই উগ্র মূর্তির দিকে চেয়ে সরসী গলা নামিয়ে বলেছিল, বেশ, তা হলে তাই যাও, চেঁচিও না।
সুবীর চেঁচিয়ে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল। তার আগেই সরসী গম্ভীর দৃঢ় গলায় বলে উঠেছিল, যাও, আর কথা বাড়িও না, তুমি খেলতে যাও।
দুচোখে আগুন জ্বেলে দুপ-দাপ শব্দে সুবীর চলে গিয়েছিল। যদিও সে জানত, সুবীরের পক্ষে আর খেলা সম্ভব ছিল না, তার সে মেজাজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তার প্রমাণ, তাসের পেটি ছুঁড়ে ফেলার শব্দ শুনতে পেয়েছিল সরসী। এবং এ কথাও জানত, সুবীরের বন্ধুরা, সুবীরের চিৎকার শুনে, ঘটনা অনুমান করে, আগেই পলাতক। তবু অপমানে ও দুঃখে, সরসীর চোখে তখন কান্না উথলে উথলে উঠেছিল। আলনা থেকে কোনওরকমে একটা পাতলা স্কার্ফ টেনে নিয়ে, গায়ে জড়িয়ে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিল। বেরিয়ে পড়ার সময় টের পেয়েছিল, বাইরের অন্ধকার ঘরে সুবীর একলা বসে ফুঁসছিল। পিছন থেকে ঠাকুরের ডাক শুনতে পেয়েছিল সরসী, মা, রাতের রান্নার ব্যবস্থা
সবটুকু শোনবার জন্যে অপেক্ষা করেনি সে। রাস্তায় বেরিয়ে রিকশায় উঠেছিল। অথচ তখন কোনও বান্ধবীর বাড়ি যাবার মতো মনের অবস্থা ছিল না ওর। আধ ঘণ্টা কেবল পথে পথে ফিরেছিল। আর ভেবেছিল,কেন আমি এমন আশা করি, সুবীরের মতো ছেলে লেখাপড়া করবে। এই ভাবনার ভূত কেন আমি ঘাড় থেকে নামাতে পারি না। যার চিরটা জীবন কেটেছে রকে, মাঠে ঘাটে, ইয়ার্কি আর আড্ডা মেরে নিচু ধরনের ছেলেদের সঙ্গে, যার নিজের কোনও ইচ্ছে নেই, আত্মসম্মানবোধ নেই, তাকে কেমন করে শিক্ষিত ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন করে তুলবে সে। এখনও যে তার অশ্লীল ভাষা ভঙ্গি কিছুই বদলাতে পারেনি, এখনও যে রকে বসতে পেলে ঘরে ফিরতে চায় না, তাকে লেখাপড়া শেখাবে সরসী! অসম্ভব! ঈশ্বর সরসীকে এই আশার বিলাসিতা থেকে মুক্তি দিক।
কিন্তু আধঘণ্টার বেশি সরসী বাইরে থাকতে পারেনি। তার মন পড়ে ছিল বাড়িতে। কী জানি। বাড়ি গিয়ে হয়তো দেখবে সুবীর বেরিয়ে গিয়েছে। আধঘণ্টা বাদে যখন সে বাড়ি ফিরেছিল, দেখেছিল শোবার ঘরে আলো। সুবীর পড়ছিল। তন্ময় হয়ে পড়ছিল, ওর ঠোঁটের কোণে ছিল সিগারেট। কপালের ওপর অবিন্যস্ত চুলের গোছায়, ওর চোখে ছায়া পড়েছিল। নিঃশব্দ পায়ে এসে সরসী দরজায় দাঁড়িয়েছিল, সুবীর টের পায়নি। সরসী দেখেছিল, নতুন শীত, তবু সুবীরের বুকের বোতাম তেমনি খোলা। পায়জামার একদিকে হাঁটু অবধি গোটানো। কোনও খেয়াল নেই। ছাইদানিতে কোনওদিনই ছাই ফেলতে শেখেনি, নোংরা করেছে নিজেরই চারপাশ। টেবিলটাও বাদ যায়নি। কতদিন বারণ করেছে। সরসী, পড়াশুনোর সময় যেন সুবীর বিড়ি-সিগারেট না খায়। কিন্তু বারণ শোনেনি। শুনবে না, হয়তো শোনা সম্ভবও নয়, এ কথা পরে মনে হয়েছে সরসীর। বরং কোনও কিছুতে মনোযোগ দিতে হলে, সুবীরের ধূমপান অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে।
টেবিল-ল্যাম্প জ্বেলে, পিছন ফিরে পড়ছিল সুবীর। ওর ছায়াটা বড় হয়ে পড়েছিল দরজার কাছে, সেই ছায়ান্ধকারে দাঁড়িয়ে সুবীরের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে, সরসীর সমস্ত ক্ষোভ ও উদ্বেগ দূর হয়ে যাচ্ছিল। আস্তে আস্তে হাসি ফুটে উঠেছিল ওর মুখে, খুশির হাসি শুধু নয়, করুণ বিষণ্ণ ও মমতায় চোখে জল আসছিল। অবাধ্য দুরন্ত দুর্মুখ নির্দয় সুবীরকে তখন যেন চেনা যাচ্ছিল না। ঠোঁট নেড়ে নেড়ে নিঃশব্দ উচ্চারণে ও পড়ছিল, আর পেনসিল দিয়ে মাঝে মাঝে লিখছিল। সবকিছুই মনে রাখবার এই পদ্ধতি সরসীই ওকে শিখিয়েছিল। কিছুটা করে পড়া, তারপর নিজের থেকে, মনে আছে কিনা দেখবার জন্যে না-দেখে লেখা। সুবীর যে গভীরভাবে ডুবে গিয়েছিল, ওর মুখ-চোখ-বসার ভঙ্গি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। ফাঁকিবাজি বলতে যা বোঝায়, তা ওর মধ্যে একটুও ছিল না। মন না চাইলেই বিদ্রোহ করে বসত। বেচারি! কোথায় তখন বাইরের ঘরে গরম চায়ের পেয়ালায় ঝড় উঠত, হার্টস-ক্লাবস-ডায়মন্ডসের হাঁক-ডাকে সরগরম হয়ে উঠত, তার বদলে, ওকে ইন্টারমিডিয়েটের ইংরেজির নোট নিয়ে বসতে হয়েছিল। তাও কিনা, সারাদিন এক কারখানার ডিপার্টমেন্টের কেরানিবৃত্তির পরে। সে সময়ে, স্বাভাবিক ভাবেই ওর পাওয়ানা ছুটি, একটু আড্ডা, একটু বিশ্রাম।
কিন্তু কী করবে সরসী। পড়া ও পরীক্ষা, সরসীর ইচ্ছা ছিল বটে, স্বপ্ন ও সাধও বলা যায়, সিদ্ধান্ত সুবীরেরই। যে পড়বে, তার সিদ্ধান্ত না থাকলে, পড়া শুরু করা সম্ভব ছিল না। যদিচ, সরসী জানত, সুবীরের সিদ্ধান্তের পিছনে, সরসীর ইচ্ছাই কাজ করেছিল বেশি। তা ছাড়া, সুবীরের একটা সাময়িক আবেগও ছিল। কিন্তু অপরের ইচ্ছা, নিজের আবেগ, এই দুয়ে মিলে কখনও কেউ কষ্টের ও ধৈর্যের কোনও কাজের সংকল্পে অটল থাকতে পারে না। সুবীরও পারেনি। ওর সমস্ত অতীতটা তখন ওর বর্তমানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধিয়ে বসেছিল। তার জন্যে, সুবীরকে সবসময় দোষ দিতে পারেনি। ও যে সাহস করে পড়া শুরু করতে চেয়েছিল, সেটাই তো আশ্চর্যের। সতেরো বছর বয়সে যে কোনওরকমে থার্ড ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাস করে সরস্বতাঁকে বিসর্জন দিয়ে বসেছিল, তারপরে রকবাজি আচ্ছা এবং নিতান্ত বাড়ির তাড়নায় কারখানার ডিপার্টমেন্টের কেরানির কাজ করতে গিয়েছিল, সে যে পঁচিশ বছর বয়সে বিসর্জিত সরস্বতাঁকে আবার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবে, সে সিদ্ধান্ত আবেগের হলেও সাহসের বইকী।
কিন্তু অতীত ছেড়ে কথা কয় না। দীর্ঘদিনের অভ্যাস, জীবনধারণের রীতিপ্রণালী একদিনেই ছেড়ে যায় না। সেজন্যে সবসময়ে সুবীরকে সে দোষ দিতে পারেনি। কিন্তু, সুবীর ওর পুরনো অভ্যাসগুলোর সঙ্গে সজ্ঞানে লড়তে রাজি ছিল না। অথচ, তা ছাড়া কোনও উপায়ও ছিল না। তাই নিরুপায় হয়ে সরসীকে ভিন্ন মূর্তি ধারণ করতে হত। ওকে সিদ্ধান্তে অটল রাখবার জন্যে, ওর সমস্ত বিদ্রোহ, দুর্ব্যবহার ও কটু কথার সামনে, সরসীকেও অটল থাকতে হত। কান্না এবং অভিমান নিরর্থক ছিল, কেননা, সুবীরের মতো দুর্জয় ছেলেকে তা দিয়ে ফেরানো সম্ভব ছিল না।
কতদিন, কতদিন আগের কথা সে সব? বছর গুনতিতে আট বছর বটে, কিন্তু সরসীর মনে হয়, এই সেদিন, এই তো সেদিনের কথা! ওই যে দিগবিজয়ী ভদ্রলোক বাইরের ঘরে গায়ে শাল জড়িয়ে তাঁর বিশিষ্ট পণ্ডিত বন্ধুদের সঙ্গে রহস্যালাপে মুগ্ধ, আর্ট ও ফিলজফির নানান দুরূহ সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত, যিনি এখন বিদগ্ধ, শ্রদ্ধেয়, খ্যাতিমান, তিনি কি সেই ডাক নামের মন্টু নন? সরসীর এই শোবার ঘরেই কোণের ওই টেবিলে যে অবাধ্য বিদ্রোহী যুবকটি ইংরেজির নোট নিয়ে বসত, বিড়ি-সিগারেটের ছাইয়ে ঘর ময়লা করত, কটু কথায় ঝগড়া করত, ইনি কি সেই মানুষটিই নন?
কত তফাত, অথচ এই তো যেন সেদিনের কথা, এখনও সমস্ত ঘটনা ছবির মতো ভাসছে। স্পষ্ট ছবির মতো, সরসী দেখতে পাচ্ছে, সুবীর মাথা নিচু করে, পিছন ফিরে পড়ছিল। আর সরসীর ক্ষুব্ধ বুকে তখন করুণ মমতার অনুভূতি ঘনিয়ে এসেছিল। সে আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে পিছন ফিরে অন্য ঘর দিয়ে রান্নাঘরে গিয়েছিল। ঠোঁটে আঙুল চেপে, ঠাকুরকে জোরে কথা বলতে বারণ করেছিল। দেখেছিল ঠাকুর ভাত বসিয়ে দিয়েছে উনুনে। কাছে ডেকে, চুপি চুপি তাকে পয়সা দিয়ে বাজারে