
কিরীটী অমনিবাস ১৫
নীহাররঞ্জন গুপ্ত
কিরীটি অমনিবাস ১৫ (পঞ্চদশ খণ্ড) – নীহাররঞ্জন গুপ্ত
মিত্র ও ঘোষ পাবলিসার্স প্রাঃ লিঃ
প্রথম প্রকাশ : ফাল্গুন ১৩৯২
প্রথম ‘মিত্র ও ঘোষ’ সংস্করণ : ভাদ্র ১৩৯৯
তৃতীয় মূদ্রণ : শ্রাবণ ১৪০৮
প্রচ্ছদ : আশু বন্দ্যোপাধ্যায়
.
.ভূমিকা
আমার কবুল করতে দ্বিধা নেই যে ধরনের লেখা নিয়ে নিজেকে আমি নিয়োজিত করে রেখেছি তাতে উত্তেজনাপূর্ণ রহস্য-রোমাঞ্চের আতঙ্ক ভয় উৎকণ্ঠা বিস্ময় কৌতূহল আমাকে তেমন টানে না, বর্তমানে ইলেকট্রনিক সমাজ-সভ্যতায় মানুষের রক্তকণিকায় এমনিতেই টেক্স ও উত্তেজনা হৃৎপিণ্ডে রক্তবাহী শিরা আটকে ধরেছে, তার ওপর এই কাল্পনিক আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তাকে মৃত্যুর সীমায় নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সাহিত্যের একটা বৈশিষ্ট্য, কল্পনাই এর জন্য দায়ী, কোলরিজ যে অর্থে কল্পনাকে ব্যাখ্যা করেছেন, বীভৎস উৎকণ্ঠা আতঙ্ক মৃত্যুভয়ের মধ্যেও একটা আনন্দ আসে। এই কারণেই মানুষ যে-কোনও সাহিত্য পড়ে, কিছু না কিছু আনন্দ পায়। ‘ক্রিস্টাবেল’ কবিতায় নিশীথ রাত্রির রহস্যময় বিভীষিকায় মনের জটিল অনুভূতি প্রকাশের মধ্যেও মানসিক সত্যের কথা সুন্দরভাবে বলেছেন তিনিঃ Perhaps it’s pretty to force together thoughts to all unlike each other; to mutter and mock a broken charm, to dally with wrong that does no harm. ক্ষতি না করবার জন্যে আনন্দ হয় ঠিকই, কিন্তু রক্তের মধ্যে বায়ুর গতি ঢুকে আমাদের সত্তাকে নতুন কিছু দেয়। এই নতুন কিছু আস্বাদের জন্যে লোভ মানুষের চিরকালের।
না, আমি সূক্ষ্ম বুদ্ধির বড়াই করি না, সরলতাকে বোকামি বলে উড়িয়ে দিয়ে আমার গর্ববোধ হয় না;বাংলা দেশে মার্কস্ না পড়ে বিকৃত মার্ক্সিস্টদের সমাজসচেতনতার ভণ্ডামি আমার নেই, বরং জটিল অপমনস্তত্ত্বের মধ্যে, অপরাধমূলক সাহিত্যে যৌনবাসনার বিকৃত অস্বাভাবিকতার মধ্যে আমাদের যুগের ভেতরে কদর্য গ্লানিই দেখতে পাই, এর মূলে আছে, সামাজিক অর্থনৈতিক বৃত্তিগত অসাম্য বিরোধ ও বিশৃঙ্খলা, এই বিশৃঙ্খলার গভীরে কোথাও হয়তো আদিম মানুষের রক্তপিপাসু প্রতিহিংসা-প্রবৃত্তি ইনস্টিংক্টের মধ্যে লুকিয়ে আছে; এ ঠিক পুরাণে বর্ণিত নর-পশুর মিলনে গঠিত শরীরের মতো, ওপরটা মানুষের, নীচের অংশ পশুর। রবীন্দ্রনাথ যেমন কল্পনা করেছিলেন প্রকৃতি-প্রীতির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে, সেই ব্যাখ্যা ডারউইনের অনুসারে ক্রাইম রচনার ক্ষেত্রেও উল্লেখ করা যায়, বহু বছর আগে মানুষের সঙ্গে পশুর ভেদ ছিল না, পশু থেকেই মানুষের উদ্ভব, কিন্তু সেই পশু-সত্তা তার ভেতরে আছে। আছে বলেই পশুর মতো স্বার্থপরতায় নিজের লোভে যুক্তিবিন্যস্ত সমাজ-নিয়মকে সে ভেঙে ফেলতে চায়। আরিস্টটলের ভাষায় মানুষ যুক্তি-সমন্বিত জানোয়ার। এই জাতীয় সাহিত্যে যে অপরাধ করে তার মধ্যে জানোয়ারই প্রধান, জানোয়ারকে খুঁজে যে বার করে তার মধ্যে মানুষের যুক্তি, যে যুক্তি স্বচ্ছ অপাপবিদ্ধ, ঐশিতার সঙ্গে তুলিত, সমাজকে দেখায় কোন রোগে সে আক্রান্ত। অপরাধকারী পশুর মধ্যেও দুর্বলতা থাকে, এই দুর্বলতা মানবিক, এই মানবিক দুর্বলতাই মানুষের যুক্তির সঙ্গে একাত্ম হয়; তাই গোয়েন্দা তাদের খুঁজে বের করতে পারে। অপরাধ গ্রীক নাটক থেকে শুরু করে একালের মার্ডার ইন্ দ্য ক্যাথেড্রালের মধ্যেও আছে। রাস্তার মোড়ে রথের ওপর নিজের পিতাকে হত্যা করেছিল ওয়েদিপাউস এবং সেই রহস্য উদ্ঘাটিত করতে গিয়েই তার নিজের জীবনে ট্র্যাজেডি নিয়ে এসেছে। এখানেও ক্রাইম-সাহিত্যের মতো হত্যা, হত্যাজনিত রহস্য, পাপে লিপ্ত হওয়া, রহস্য-উন্মোচনের কথা আছে : আগামেননকে হত্যা করায় অপরাধ ও পাপ, সেই সঙ্গে ষড়যন্ত্রের রহস্য জড়িত; লেডি ম্যাকবেথের হত্যায়ও অপরাধ ও পাপ সংশ্লিষ্ট; তবু এগুলি অপরাধমূলক সাহিত্য নয়। ক্রাইম-লিটারেচারের অপরাধী তার অপরাধকে লুকিয়ে রাখে, অপরাধের বোধকে লুকিয়ে রাখবার শক্তির মধ্যেই তার চরিত্রের দৃঢ়তা; পাপ ও তার জন্যে কোনও অনুতাপ নেই; কিন্তু গ্রীক সাহিত্য বা শ্রেষ্ঠ সাহিত্য অপরাধের সঙ্গে পাপবোধের দ্বন্দ্ব ও বিরোধজনিত জটিলতাকে তুলে ধরে বুদ্ধি ও হৃদয়ের উত্তর্ষে নিয়ে গিয়ে বিশ্বসত্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়-ক্রাইম-সাহিত্য এই পর্যায়ে ওঠে না বলেই নিম্নস্তরের, উপভোগের, আমাদের, যেমন উত্তেজনামূলক ইন্দ্রিয় আমাদের সুখ দেয়! দ্বিতীয়ত, এই সাহিত্য যুক্তির শবব্যবচ্ছেদ করে জীবন্ত ঘটনা ও চরিত্রের ক্রিয়া অতীত হয়ে যাবার পর। সাহিত্যে আমরা জীবন্ত মানুষকে দেখতে চাই, শবকে নয়, তার ব্যবচ্ছেদের মধ্যে বরং একটা জুগুপ্সা আছে, অনেকে শবব্যবচ্ছেদের বীভৎসতা সহ্য করতে পারে না। কিন্তু শব ব্যবচ্ছেদ তো করে ডাক্তার হবার জন্যে ছাত্রেরা, বোগ পরীক্ষা ও ভেতরের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবনের জন্যে, জানবার জন্যে;জানলে রোগ সম্বন্ধে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়, কারণ সম্বন্ধে নিশ্চিত অবহিত হলে ওষুধ দিয়ে রোগ সারানো ডাক্তারের পক্ষে সহজ হয়। তাই হোমিওপ্যাথিতেও এখন শবব্যবচ্ছেদ রীতি গৃহীত। কোনান ডয়েল যেমন পরিচ্ছন্ন পোশাকের অন্তরালে ভিক্টোরীয় মানুষের অন্তরের গ্লানি পাপ অপরাধকে ফুটিয়ে তুলেছেন স্বচ্ছ বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা দিয়ে, যে মানুষের অপরাধ ও পাপ উপনিবেশের শাসনের অত্যাচারে ভারতবর্ষে প্রকট হয়েছিল, তেমনিভাবে সমাজে মানুষের রোগ ও অপরাধকে খুঁটিয়ে দেখানো ক্রাইম-সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য বলে আমি মনে করি। তৃতীয়ত, সন্দেহকে মূলধন করেই এই সাহিত্য এগোয় উৎকণ্ঠা ও কৌতূহলে; কিন্তু সন্দেহ তো জীবনের মূল নয়।
২.
ক্রাইম-সাহিত্যের ক্রাইম সম্বন্ধে সচেতন করে তোলাও আরেকটা দিক। ক্রাইম-প্রবণতা জাগতেই পারে, কিন্তু তাকে নিবৃত্তি করবার উপায়ই এই সাহিত্যের সামাজিক উদ্দেশ্য। সুতরাং ক্রাইম-সাহিত্যে নৈতিকতা, সমাজতত্ত্ব, অর্থনীতি, সমাজ-প্রশাসন, নৃতত্ত্ব, লিগ্যাল মেডিসিন, মানসবিকৃতির লক্ষণ ও কারণ, আইনগত শিক্ষা, দণ্ডবিধান আরও সব উপাদান এমনভাবে জড়িয়ে থাকে, তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। কিন্তু এসবের মূলে থাকে মানবিকতা ও সহানুভূতি। ডয়েলের শার্লস্ হোম উৎকেন্দ্রিক কোকেনসেবী রূঢ়ভাষী হওয়া সত্ত্বেও তার সহানুভূতি ও মানবিকতা জীবনবোধকে উন্নত করেছে; ব্যোমকেশের ক্ষেত্রে করেছে প্রেম, কিরীটীর ক্ষেত্রে করেছে সর্বজনীন জীবনবোধ। হয়তো দৃষ্টিভঙ্গির তারতম্য থাকতে পারে, কেউ মনে করে নিষ্ঠুরতা মানুষের স্বভাবে ও খেয়ালখুশিতে; কারও মনে অপরাধের দায়িত্ব সমাজের পরিবেশেদারিদ্র্য, বাপ-মায়ের ভাঙা জীবন, কু-পরিবেশ এর জন্যে দায়ী। কিন্তু অপরাধ সাহিত্যের একটা বড় দিক হল এই যে, অপরাধীদের অধিকারের সঙ্গে সমাজের অধিকারের বিরোধের জটিলতার সামঞ্জস্য-যে লেখক এই সামঞ্জস্য দেখাতে পারেন তিনি বড়, তিনি শুধু হত্যা ও অপরাধের গোয়েন্দা নয়, জীবনের অনুসন্ধানী, মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা শিশির ঋতুতে নবোদম কচি পাতার মতো।
৩.
শবব্যবচ্ছেদে যেমন অনুসন্ধান চলে দেহের অস্থিমজ্জায় শিরায় স্নায়ুতে, কোষে কোষে, তেমনি ঘটে-যাওয়া কাহিনীর অনুসন্ধানের মধ্যে দিয়ে মানুষের চিন্তা ও ভাবনার রহস্য উদঘাটনই এর উপায়। কার্যকারণ শৃঙ্খলার প্রতি গভীর বিশ্বাসই এর পরমা ভক্তি। দেশ ও কালের ঐক্য সূত্রের সঙ্গে জড়িত গতি; যখন কারণ থেকে কার্য বা কার্য থেকে কারণ অনুসন্ধানের প্রশ্ন ওঠে, তখন দেশ ও কালের মধ্যে বস্তু থেকে শক্তির উদ্ভবে গতির ধারা লক্ষ্য করা যায়; এই গতিময়তা যেমন জগৎ ও জীবনের লক্ষণ, অপরাধ-সাহিত্যেরও মূল কথা; তাই প্লটের অ্যাকশনের মধ্যে। দিয়ে এই নিরন্তর গতিময়তা বিপর্যয় ও আবিষ্কারে উৎকণ্ঠা আতঙ্ক ভয়কে জাগিয়ে পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। কার্যকারণের মধ্যে সময়ের কোনও বিরাম নেই, কেননা সময়ই গতিকে পূর্ণ করে তুলেছে। কার্যকারণে বিশ্বাসী মানুষ মাত্রই জানে কারণের সঙ্গে কার্যের পরিমাণ এক, কমও নয় বেশিও নয়, আপেক্ষিকতা বর্জিত, গুণের দিক থেকে অব্যবহিত, নিঃশর্ত পরিণামী কার্যে অনিবার্য। কারণের মধ্যে যেখানে বহুধা উপাদান এসে জোটে, সেখানে অনিবার্যত অদৃশ্য। তবে একথাও স্বীকার্য, যেখানে কার্যকারণের ব্যাপারটা যান্ত্রিক, সেখানে কার্যের সঙ্গে কারণের পরিমাণ এক; কিন্তু যেখানে জৈবিক ও রাসায়নিক সেখানে পরিমাণ প্রায়ই আলাদা হয়ে যায়। দুই উপাদান যখন একত্র মিলিত হয়, তখন দুই উপাদানের অনেক ধর্ম উধাও। অনেক সময় চাপা থাকে, তাকে খুঁজে বার করা যায় না, এই পারস্পরিক মিশ্রণে উপাদানের ধর্মের ভিন্নতায় ও বিভিন্নতায় কৌতূহল ও রহস্য জাগে। অপরাধ-সাহিত্যিকেরা এই সুযোগই নেয়, কারণ মানুষ যন্ত্র নয়, জৈব ঐক্যের রাসায়নিকতা তার সমগ্রতায়। এরই ফলে কম শক্তিশালী লেখক এই শাখায় কারণের বহুধা এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, উত্তেজনা আতঙ্ক ভয় কৌতূহল কারণের সঙ্গে যুক্ত হয় না বলে বিশ্বাসযোগ্য হয় না; আবার মানুষকে রাসায়নিক জৈব ঐক্যের বিস্ময় মনে করে অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিকতাকে প্রাধান্য দেয়। রসায়নে জৈব ঐক্যের মধ্যে উপাদানের ধর্ম লুকিয়ে থাকলেও বিজ্ঞানী তাকে খুঁজে বার করতে চেষ্টা করে এবং প্রায়শ সমর্থ হয়। ভুললে চলবে না, অপরাধ-সাহিত্য বিজ্ঞানেরই শাখা। বিজ্ঞানী যেমন অণু ভাঙতে ভাঙতে মূলে পৌঁছুবার সময় রহস্য ও বিস্ময়ে মুগ্ধ হন, তেমনি বিপদের ঝুঁকি নিতেও তার আতঙ্কের উৎকণ্ঠার শেষ নেই।
রহস্য উপন্যাস এবং ক্রাইম উপন্যাস এক নয়; যদিও ক্রাইমের মধ্যে রহস্য নিহিত। সত্যজিৎ রায়ের উপন্যাসে কিছু হত্যার কাহিনী থাকলেও শিশু-ভোলানো রহস্য ও অ্যাডভেঞ্চারই মুখ্য স্থান অধিকার করে আছে; তবে ভাষার দৃঢ়তা ও ঋজুতা, কথ্য শব্দকে মুচড়ে ও নিঙড়ে তার থেকে নতুন তাৎপর্য বার করবার চেষ্টা ও সার্থকতা, প্লট বয়নের রহস্যময় বিস্ময়কারিতার মধ্যে উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের সৃষ্টি, মনস্তত্ত্বের নিগূঢ়তায় পৌঁছাবার চেষ্টা–তার গল্পগুলিকে স্বাদিষ্ট করে তুলেছে। ইংরেজিতে তিনটি শব্দ ব্যবহৃত হয় : ক্রাইম, দেলি (delit) এবং কন্ট্রাভেশ। এর মধ্যে ক্রাইমই হচ্ছে মারাত্মক অপরাধ, মৃত্যুই এর শাস্তি; দেলি হচ্ছে জেল-খাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিন্তু মৃত্যু নয়;সমষ্টি বা ব্যক্তির অধিকার ও নীতির লঙ্ঘন করা হয় যেখানে, সেখানেই এই দেলি অপরাধযোগ্য বলে স্বীকৃত। অপরাধ-স্পৃহা নয়, কিন্তু আইনে নিষিদ্ধ কার্যের প্রতি যদি কোন ব্যক্তির প্রবণতা দেখা যায়, তবে তাকে বলা যায় যে আইন লঙ্ন করছে।
কিন্তু গোয়েন্দা গল্পে, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সত্যান্বেষণে ক্রাইমই হচ্ছে তার বড় রাস্তা। মৃত্যুর কারণ ঘটাবার ইচ্ছায় কোনও কার্যের দ্বারা কেউ যদি মৃত্যু ঘটায় কারও অথবা শরীরের আঘাত ঘটাবার কারণের ইচ্ছা থেকে কেউ কোনও কাজ করে, শরীরের যে আঘাত মৃত্যুর কারণ ঘটাতে পারে, তাহলে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য মনুষ্য-হত্যার অপরাধ করে। এই হচ্ছে পেনাল কোডের আইন। তাহলে দেখা যাচ্ছে, কারণই বড় কথা, সেই কারণের সঙ্গে ইচ্ছা ৰা। সচেতনতা এবং ইচ্ছা বা সচেনতার সঙ্গে বাস্তবের কার্য জড়িত। এই কারণেই ডিটেকটিভ বা গোয়েন্দা কার্যকারণ বাদে বিশ্বাসী। ঐ তার উপায়। হত্যাকারী হত্যার শিকার খোঁজে নিজের। বা দলের স্বার্থে; গোয়েন্দা নিহত শিকারের সূত্র ধরে কারণের মূলে পৌঁছোয় শিকারীর দুর্বলতার চিহ্নকে অনুসরণ করে। সুতরাং গোয়েন্দা বা ডিটেকটিভ হত্যাকারীর শনি, শনি যেমন মানুষের নৈতিক দুর্বলতার রন্ধ্রপথে ঢুকে তার জীবনকে বিপর্যস্ত ও মৃত্যুমুখে নিয়ে যায়, গোয়েন্দার কাজও তাই। যে-সব গোয়েন্দা কাহিনীতে গোয়েন্দাকাহিনীর মধ্যে হত্যাকারী ও গোয়েন্দার জীবনমরণ যুদ্ধের পরিস্থিতির বর্ণনা ও ঘটনা এড়িয়ে যায়, তা বিশেষ আস্থা আনতে পারে না; গোয়েন্দা যেন দেবতা, তাকে ছোঁয়া যায় না, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, এরকম মনোভাব গোয়েন্দা কাহিনীর পক্ষে অস্বাস্থ্যকর। হত্যাকারী নায়ক বটে, নায়কের শত্রুর সঙ্গে গোয়েন্দা জড়িত বলে দুই শত্রুর মুখোমুখি লড়াই না ঘটলে জীবনযুদ্ধের সংগ্রামের দিকটা লেখক এড়িয়ে যান। আর গোয়েন্দার বিচার ও সিদ্ধান্তের ওপরই লেখকের জীবনদর্শন ব্যাখ্যাত হয়ে থাকে।
গোয়েন্দা কাহিনীতে প্রায়শ দেখা যায় সরকারী গোয়েন্দা বা পুলিস কর্মচারী ভাড়ামির পর্যায়ে চিত্রিত তাদের স্কুলবুদ্ধির সঙ্গে ভুল দেহের সংযোগে;তারা যাকে ধরে, হাতকড়া পরায়, জেলে পাঠায়, অধিকাংশ স্থলে নির্দোষ। এর একটা কারণ হতে পারে, হত্যাকারীর সঙ্গে পুলিস কর্মচারীদের হিস্যার যোগ; অন্য কারণটি গূঢ়তর, পুলিশী শাসন-ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য সমাজের শান্তিরক্ষা;তাই ক্রাইমের মধ্যে অ্যাকশনের ওপর জ