
মতি নন্দী
Author
মতি নন্দী-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
মতি নন্দী (১০ জুলাই ১৯৩১ – ৩ জানুয়ারি ২০১০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার এবং ক্রীড়া সাংবাদিক। তিনি বাংলা সাহিত্যে 'ক্রীড়া উপন্যাস' বা স্পোর্টস ফিকশনের এক অনন্য নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
তিনি উত্তর কলকাতার তারক চ্যাটার্জি লেনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা চুনীলাল নন্দী শৈশবেই মারা যান। মতিনন্দী স্কটিশ চার্চ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪৮) এবং মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ থেকে বাংলায় অনার্সসহ বি.এ (১৯৫৭) পাস করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমাও অর্জন করেছিলেন।
কর্মজীবন ও সাংবাদিকতা
মতিনন্দী দীর্ঘদিন আনন্দবাজার পত্রিকা-র ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৬৯-১৯৯৪)। তিনি ১৯৮০ সালের মস্কো ও ১৯৮৪ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং দিল্লি এশিয়ান গেমস কভার করেন। বাংলা ক্রীড়া সাংবাদিকতায় তিনি একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, যেখানে তিনি শুধু খেলার খবর নয়, খেলোয়াড়ের মানবিক দিকগুলোও তুলে ধরতেন।
সাহিত্যকর্ম ও অবদান
১৯৫৭ সালে 'দেশ' পত্রিকায় তার প্রথম গল্প 'ছাদ' প্রকাশিত হয়। তার সাহিত্যকর্মের মূল উপজীব্য ছিল খেলাধুলা, খেলোয়াড়দের সংগ্রাম এবং সমাজের নিম্নবিত্ত শ্রেণীর জীবনযাত্রা।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সাদা খাম (১৯৯০): এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৯১ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।
কোনি: একজন মহিলা ক্রীড়াবিদের সংগ্রামকাহিনী অবলম্বনে রচিত এই উপন্যাসটি ১৯৮৪ সালে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয় (পরিচালক: তপন সিংহ)।
স্টপার ও স্ট্রাইকার: কিশোর ও তরুণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলাভিত্তিক উপন্যাস।
অবিনাশের সাড়ে আটচল্লিশ, গোলাপ বাগান, উভয়ত সম্পূর্ণ।
বুড়ো ঘোড়া: তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
পুরস্কার ও সম্মাননা
আনন্দ পুরস্কার (১৯৭৪)
সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৯১) - 'সাদা খাম' উপন্যাসের জন্য।
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০০৮) - সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য।
মরণোত্তর তার সম্মানে মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব তাদের 'সেরা ক্রীড়া সাংবাদিক' পুরস্কারের নাম পরিবর্তন করে 'মতিনন্দী পুরস্কার' রাখে।
২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি কলকাতায় প্রয়াত হন এই কিংবদন্তি লেখক।
তথ্যসূত্রঃ বাংলা ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া
Reader favourites
Popular books
Collections
শবাগার
জলের ঘূর্ণি ও বকবক শব্দ
মতি নন্দী কিশোর সাহিত্য সমগ্র ১ম খণ্ড
নায়কের প্রবেশ ও প্রস্থান