সূর্য কাঁদলে সোনা

সূর্য কাঁদলে সোনা

প্রেমেন্দ্র মিত্র

সূর্য কাঁদলে সোনা

Books Pointer Iconপ্রেমেন্দ্র মিত্র
Books Pointer Iconshort story

Posted byকাব্য রচিত01-Nov-2025

Change color

১)

অর্থাৎ তস্য তস্য!

কে বললেন?

না, শ্রীঘনশ্যাম দাস নয়, মর্মরের মতো মস্তক যাঁর মসৃণ, ইতিহাসের অধ্যাপক সেই শিবপদবাবুই উক্তিটি করলেন ঈষৎ ব্যঙ্গের সুরে।

এ উক্তির প্রতিবাদ স্বয়ং শ্রীঘনশ্যাম দাসের কণ্ঠেই শোনা গেল উদার সহিষ্ণুতার সুরে।

না, তস্য তস্য নয়, ইনি সেই অনন্য অদ্বিতীয় ঘনরাম!

ঘনরাম! মেদভারে হস্তীর মতো যিনি বিপুল সেই সদাপ্রসন্ন ভবতারণবাবু বিস্ফরিত চক্ষে জিজ্ঞাসা করলেন মানে আপনার সেই আদিপুরু:, ঘনরাম দাস, যিনি সেই পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্ক আবিষ্কার করেছিলেন—

আর ছেলেবেলাতেই ভারতবর্ষের পশ্চিম উপকূলের সমুদ্রে পোতুর্গিজ বোম্বেটেদের লুঠ করা, জ্বালিয়ে দেওয়া তাম্রলিপ্তির সদাগরি জাহাজ থেকে রক্ষা পেয়েও ধরা পড়ে প্রায় অর্ধেক যৌবন পর্যন্ত পোর্তুগালে স্পেনে এবং পরে এখন যা আমরা কিউবা আর মেক্সিকো বলে জানি, সেই দুই দেশে ক্রীতদাস হয়ে কাটিয়ে ওই মাষ্টা আবিষ্কারের পুরস্কারস্বরূপ দাসত্ব থেকে মুক্তি পেলেও নিজের বংশের ধারায় ওই চরম গ্লানি ও পরম গৌরবের অধ্যায় চিরস্মরণীয় করে রাখবার জন্যে দাস পদবিই গ্রহণ করেছিলেন।—সদাপ্রসন্ন ভবতারণবাবুর অসমাপ্ত বাক্যটি একদমে ময়দানের মনুমেন্ট-মুখো মিছিলের মতো এই বাক্যস্রোতে পূরণ করে শ্রীঘনশ্যাম দাস যখন থামলেন তখন উপস্থিত আর সকলের বিশেষ্য বিশেষণ ক্রিয়া ক্রিয়ার বিশেষণ কনজাংশন প্রিপোজিশন কা কর্ম ক্রিয়া ইত্যাদির জট থেকে গদ্যাংশ উদ্ধার করে তাৎপর্যে পৌঁছোতে হিমসিম খাওয়া গলদঘর্ম অবস্থা।

মর্মর-মসৃণ শিরোদেশের শিবপদবাবুই প্রথম বোধহয় চরকি-পাক থেকে মাথাটি স্থির করতে পেরে জিহ্বা সঞ্চালনে সক্ষম হলেন। বললেন, কিন্তু আপনার সে ঘনরাম দাস তো টেনচটিটলান-বিজয়ে কর্টেজ-এর কীর্তিকেও কানা করে আতলান্তিকের এপারে ওপারে বাহাদুরকা খেল দেখিয়ে স্বাধীনতার সনদ নিয়ে দেশে ফিরে গেছলেন?

শিবপদবাবুর গলার সুরে ঠাট্টার খোঁচাটা আগের চেয়েও একটু বেশি তীক্ষ্ণ।

তা তীক্ষ্ণ হওয়ার আর দোষ কী!

অমন মোক্ষম সময়ে মুখের কথা কেড়ে নিলে কার মেজাজ আর ঠিক থাকে!

এমনিতেই শ্রীঘনশ্যাম দাস উপস্থিত থাকলে আর কারও কোনও মৌ-কা বড় একটা মেলে না। তাতে অমনভাবে আসরটা জমিয়ে তোলার পর ওই একটা বিদঘুটে ফোড়ন কেটে সব ফাঁসিয়ে দেওয়া।

না, শিবপদবাবু আজ সত্যিই মনে মনে খুব বেশিরকম চটেছেন।

ঘনশ্যাম দাসের ফোড়নে যদি ঝাঁঝ থাকে, তাহলে তাঁর টিপ্পনিতেও কী জ্বালা শিবপদবাবু বুঝিয়ে দেবেন।

আজকের বেয়াদপিটা কিছুতেই তিনি ক্ষমা করতে রাজি নন। দাসমশাই রোজ তো নিজেই আসর মাত করেন, আজ একটু ধৈর্য ধরে তিনি শুনতে পারতেন না!

শিবপদবাবু আজেবাজে গল্প তো ফাঁদেননি। শুরু করেছিলেন নীল নদের উৎস আবিষ্কারের আশ্চর্য রোমাঞ্চকর কাহিনী। একদিনে সে উৎস তো আবিষ্কার হয়নি, আবিষ্কারের অভিযান সাফল্যের আনন্দে এক একবার যেখানে এসে থেমেছে, দেখা গেছে নীল নদের উৎপত্তির রহস্য তারও চেয়ে দূর দুর্ভেদ্য যবনিকার আড়ালে গোপন।

সে রহস্য-যবনিকা সরিয়ে দিতে কত রকমের মানুষই না এগিয়ে এসেছে।

নেহাত মূৰ্থ গোঁয়ার বেপরোয়া গোছের বাউণ্ডুলে যেমন তেমনই আবার এমন জ্ঞানী-গুণী-পণ্ডিত-গোছের বিচক্ষণ মানুষও এসেছে যাদের কাছে এই অজানা উৎস-সন্ধান আধ্যাত্মিক সাধনারই শামিল।

এই সন্ধানী পর্যটকদের মধ্যে রিচার্ড বার্টন-এর মতো বিচিত্র অদ্ভুত মানুষেরও দেখা মেলে। অসামান্য পণ্ডিত, জীবন-রসিক, সকল রকম নকল গণ্ডি-ভাঙা যে বিদ্রোহী, এক হিসেবে নেহাত মুখ গরিব ইতরদের জমায়েত থেকে সভ্য আরব জগতেরই ভুলে-যাওয়া, হেলায় পায়ে-ঠেলা, কল্পনার উধাও-ডানা-মেলা আরব্য উপন্যাসের মতো গল্প-সাহিত্যের একটি বিরল মুকুটমণি চিনে উদ্ধার করে এনেছিলেন, আসল জহুরির চোখ আর খাঁটি জীবন-পিপাসীর কলজের জোরের বিশেষত্বে, নিজের যুগের মাথা-ছাড়ানো সেই রিচার্ড বাটন-এর মতো মানুষ ভেতরকার কী প্রেরণায় কী তাগিদে অজানা আফ্রিকার অন্ধকার গভীরে অতবড় দুঃসাহসী অভিযানে বেরিয়ে টাঙ্গানায়িকা হ্রদ আবিষ্কারের উপলক্ষ হয়েছিলেন, শিবপদবাবু নাটকীয়ভাবে জবাব দেবার জন্যে নিজেই সে প্রশ্নটা তুলে ধরেছিলেন।

হয়তো দেনার দায়ে!

এতক্ষণের বক্তৃতার ফুয়ে ফাঁপানো-ফোলানো রংবাহারদার বেলুনটাকে যেন চোখের ওপর ওই বিদ্রূপের আলপিনের খোঁচায় ফুস করে ফেঁসে চুপসে যেতে দেখা গেল।

কে বললে কথাটা?

কে আর! ওই পাকাকাঠে করাত-চালানো অদ্বিতীয় গলা একমাত্র শ্রীঘনশ্যাম দাসের ছাড়া আর কারওই হতে পারে না।

তাঁকে সশরীরে ঠিক শিবপদবাবুর পিছনেই মুখে তাঁর সেই মার্কামারা করুণা আর অবজ্ঞা-মেশানো হাসিটি আর হাতে চিরন্তন অবিচ্ছেদ্য ছড়িটি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল।

কখন তিনি এসে দাঁড়িয়েছেন, কেউ যে লক্ষ করেননি, শিবপদবাবুর গল্প জমাবার সূর্য কাঁদলে সো না

আংশিক সাফল্য তা থেকে অন্তত প্রমাণিত হয়।

এখন তাঁকে দেখে সবাই কেমন একটু লজ্জিত হয়ে তাঁকে জায়গা দেবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন।

কুম্ভের মতো উদরদেশ যাঁর স্ফীত, সেই ভোজন-বিলাসী রামশরণবাবু কেমন করে অমন ত্বরিৎবেগে তাঁর পাশে দাসমশাইকে জায়গা দেবার ব্যবস্থা করে ফেললেন সেটি একটি দর্শনীয় বস্তু।

শ্রীঘনশ্যাম দাস কর্তৃক অলংকৃত এই সান্ধ্য-সভাটি আমাদের করুণ আত্মছলনায় একদা হ্রদ নামে অভিহিত ও বর্তমানে সরোবরে সংকুচিত হয়েও সম্মানিত একটি জলাশয়ের এক প্রান্তে বেদিকা-বেষ্টিত নাতি-বৃহৎ একটি বৃক্ষের তলায় প্রায় নিয়মিতভাবে যে বসে, এ সংবাদ দাসমহাশয়ের অনুরক্ত মহলের কারও বোধহয় অজানা নয়।

দাসমশাই আসন গ্রহণ করাতে মস্তক যাঁর মর্মর-মসৃণ, সেই শিবপদবাবু আর সকলের মতো অমন কৃতার্থ বোধহয় হতে পারলেন না। তাঁর কণ্ঠের ঈষৎ ক্ষুব্ধ তিক্ততাতেই তা বোঝা গেল।

দেনার দায়ে মানে? শিবপদবাবু রুদ্ধস্বরে জিজ্ঞাসা করলেন।

মানে, দাসমশাই নিজের সংক্ষিপ্ত উক্তি বিস্তারিত করলেন, সহজ সরল অর্থে যা হয় তা-ই। খাতক হয়ে উত্তমর্ণের ভয়ে দেশান্তরী হতে গিয়ে ভূগোলের সীমা বিস্তৃত করার দৃষ্টান্ত অতীতে একেবারে বিরল নয়। তা ছাড়া দেনার দায় না থাকলে প্রৌঢ় এক পর্যটক চার শতাব্দী আগেকার সংকীর্ণ পৃথিবীকে মরণ-পণ দুঃসাহসে প্রসারিত করে সে-যুগ এ-যুগ নিয়ে বোধহয় সর্বকালের সমৃদ্ধতম দেশ আবিষ্কারে উৎসাহী হতেন কি না বলা যায় না। অন্তত কল্পনার স্বর্ণলঙ্কাকেও হার মানানো সত্যিকার সোনায় বাঁধানো এক বাস্তব রূপকথার দেশ আবিষ্কারের গৌরব একজন দেনদারের। সে দেনদার আবার দেনার দায়ে কারারুদ্ধও হয়েছিলেন সেভিল-এ। সেদিন কারাগার থেকে তাঁকে উদ্ধার করবার জন্য একজন যেন ভোজবাজিতে সেভিল-এ উদয় হয়েছিল। তা না হলে পৃথিবীর হয়তো কল্যাণই হত, কিন্তু যোড়শ শতাব্দীকে বিদ্যুৎ-চকিত করা একটি আবিষ্কার তখনকার ইউরোপীয় সভ্যজগতের হৃদস্পন্দন অত দীর্ঘকাল অমন দ্রুত করে তুলত না।

মেদভারে যিনি হস্তীর মতো বিপুল সেই সদাপ্রসন্ন ভবতারণবাবু যেন দাসমশাই-এর কথা শেষ হবার জন্যে মুখ বাড়িয়ে ছিলেন। দাসমশাই থামতেই তিনি নিজেই যেন ধন্য হবার ব্যাকুল উৎসাহে গদগদ স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, সেই ভোজবাজিতে যিনি উদয় হয়েছিলেন, তিনি কে? আপনার কেউ নিশ্চয়ই? ঠাকুরদার ঠাকুরদা তস্য ঠাকুরদা গোছের কেউ, কেমন?

না, পিতামহ কি অতিবৃদ্ধ প্রপিতামহও নয়-বলে সহিষ্ণুভাবে শুরু করে দাসমশাই আর বক্তব্যটা শেষ করতে পারলেন না।

শিবপদবাবু তাঁকে সে সুযোগ না দিয়েই ব্যঙ্গভরে বলে উঠলেন, বুঝেছি বুঝেছি! অর্থাৎ তস্য তস্য!

এর পর এ সভায় উত্তর প্রত্যুত্তর কীভাবে কোথায় গিয়ে থেমেছে তা আগেই বলা হয়েছে।

তাঁর আদিপুরুষ ঘনরাম দাসের দাসত্বশৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে যাওয়ার বৃত্তান্ত যে দাসমশাই-এর মুখ থেকেই শোনা একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিবপদবাবু যদি তাঁকে একটু বিব্রত করতে চেয়ে থাকেন সে আশা তাঁর কিন্তু পূর্ণ হল না।

আদি পুরুষের দুঃখ স্মরণ করেই যেন বিষণ্ণ সুরে দাসমশাই বললেন, না, স্বাধীন হয়ে আর দেশে ফিরতে পারলেন কই? দাসত্ব থেকে মুক্তি আর দেশে ফেরা তখনও তাঁর ভাগ্যে নেই।

তার মানে, আপনার আদিপুরুষ সেই ঘনরাম দাস ক্রীতদাস হয়েই রইলেন? স্ফীতোদর রামশরণবাবু নীল নদের উৎস-আবিষ্কারকদের জীবনের রহস্য রোমাঞ্চের কথা অনায়াসে ভুলে গিয়ে ঘনরাম দাসের জন্য উদ্বিগ্ন ও কাতর হয়ে উঠলেন—কিন্তু তিনি তো স্বয়ং কর্টেজ-এর ছাড়পত্র পেয়েছিলেন!

স্পেনের সম্রাট বুঝি তা মানলেন না? এ ক্রুদ্ধ সমালোচনা শোনা গেল সদাপ্রসন্ন ভবতারণবাবুর কণ্ঠে। ভবতারণবাবুর বিপুল মেদবহুল হাতের কাছে থাকলে স্পেনের সে সম্রাটের কী দুর্দশাই যে হত তা পরের কথাতেই বোঝা গেল—এ সব সম্রাটের কী হওয়া উচিত, জানেন?

দাসমশাইকে তাড়াতাড়ি ভবতারণবাবুকে শান্ত করতে হল তাঁর ভ্রান্ত ধারণাটুকু সংশোধন করে।

না, না, সম্রাটের কোনও দোষ নেই। বোঝালেন দাসমশাই, সম্রাটের হাতে পড়লে তাঁর নিজের হুকুমনামা দেওয়া কর্টেজ-এর ছাড়পত্র নিশ্চয়ই তিনি স্বীকার করতেন। কিন্তু ঘনরাম তাঁর ছাড়পত্র সম্রাটকে দূরে থাক, সেভিল-এর বন্দরের কাউকেও দেখাবার সুযোগ পাননি!

কেন? কেন? সে ছাড়পত্রের হল কী? প্রায় সমস্বরে প্রশ্ন করলেন রামশরণ ও ভবতারণবাবু। শিবপদবাবু শুধু তখনও নীরব।

যা হল তা বড় জঘন্য, দার্শনিক নির্লিপ্ততা রাখার যেন বৃথা চেষ্টা করে বললেন শ্রীঘনশ্যাম দাস, মানুষ সম্বন্ধে তাতে হতাশই হতে হয়। কল্পনার নয়, বাস্তবের স্বর্ণলঙ্কা আবিষ্কারের কাহিনী কিন্তু সে কুৎসিত ঘটনার বিবরণটুকু ভূমিকা হিসেবে আগে না জানালে দুর্বোধ অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

তার মানে ঘনরাম দাস স্বাধীন থাকলে ওই আপনার সত্যিকার স্বর্ণলঙ্কা আর মুখের ঘোমটা খুলত না?

শিবপদবাবুর কথাগুলো এখনও বেশ বাঁকা। কিন্তু দাসমশাই সহিষ্ণুতার অবতার। পিন-ফোটানোেটা যেন পালক-রোলানোর মতো নিয়ে হাসিমুখে বললেন, স্বর্ণলঙ্কা কত দিনে কীভাবে তাহলে আবিষ্কৃত হত তা হয়তো ঠিক বলতে পারব না। কিন্তু স্বাধীন থাকলে ঘনরাম দাস সেভিল-এর বন্দরে জাহাজের গারদ ভেঙে বেরিয়ে সমুদ্রে নিশ্চয় ঝাঁপ দিতেন না, একদিন পশ্চিমের নতুন মহাদেশে বন্ধুত্বের আদর্শ হিসেবে যাঁর নাম লোকের মুখে মুখে ফিরবে সেই দিয়েগো দে আলমাগলোর জাহাজে লুকিয়ে তাঁকে আবার আতলান্তিক পার হতে হত না, তখনকার সবচেয়ে আজগুবি এক অভিযানে লোকসানের পর লোকসানেও টাকা ঢেলে যাবার মন্ত্র নতুন মহাদেশের সবচেয়ে বড় গুপ্ত মহাজন গ্যাস্পার দে এসপিনোসার কানে দেবার কেউ থাকত না, আসল হর্তাকর্তাদের মন বিষিয়ে দিয়ে অভিযান মূলেই মুড়িয়ে দেবার জন্যে সব কিছুই কালিমেড়ে দেখানো বিবরণ গোপনে পাঠাবার সত্যিকার শয়তানি চালাকি তাহলে কেউ ধরে সাবধান করে দিত না, দশ বছরের মধ্যে স্পেনকে ঐশ্বর্য আর গৌরবের শিখরে যে তুলবে, তখনও অজ্ঞাত অখ্যাত দেনার দায়ে দেউলে আধবুড়ো একটি মানুষকে যেমন কারাগার থেকে উদ্ধার তেমনই এ যুগের স্বর্ণলঙ্কার ভবিষ্যতের চরম সংকটের দিনে ভাগ্যের পাশার দান উলটে দিতে ক্লান্টুর ওপর কোরাকেন্ধুর পালক গোঁজার ফন্দি কারও মাথায় আসত না।

কী বললেন? শিবপদবাবুই প্রথম তাঁর সন্দিগ্ধ বিস্ময় জ্ঞাপন করলেন, লাটুর ওপর কার কেন্ধু না কী!

লাট্ট নয়, ক্লান্টু! ধৈর্য ধরে বোঝালেন ঘনশ্যাম দাস, উচ্চারণটা জিভে আনা একটু শক্ত। ক্লান্টু হল একরকম নানারঙের ভাঁজ-দেওয়া পাগড়ি গোছের উষ্ণীষ, বাস্তবের স্বর্ণলঙ্কার অধীশ্বররা যা পরতেন।

আর, ওই কার কী কেঁউকু যা বললেন? মেদভারে বিপুল ভবতারণবাবু উদগ্রীব হয়ে জানতে চাইলেন।

কার কী কেঁউকু কি কেংকু নয়,, করুণাভরে সংশোধন করে দিলেন দাসমশাই, কথাটা হল কোরাকেন্ধু। কোরাকেন্ধু ছিল দুনিয়ার দুষ্প্রাপ্যতম পাখি। বোখারা সমরকন্দের সন্দিগ্ধ সমৃদ্ধতম বাদশার হারেমের সেরা সুন্দরীর চেয়ে কড়া পাহারায় সকলের চোখের আড়ালে তাদের পালন করা হত। সত্যিকার স্বর্ণলঙ্কার অধীশ্বরের মাথার উষ্ণীষ ক্লান্টু-তে গোঁজা হত তার দুটি পালক।

আপনার আদিপুরুষ ঘনরাম ওই কোরাকেন্ধ

**********